Blog

  • প্রা’ণ বাঁ’চাতে ৮ তলায় উঠেন কলেজছাত্র, সেখান থেকে ফেলা হয় লিফটের গ’র্তে

    প্রা’ণ বাঁ’চাতে ৮ তলায় উঠেন কলেজছাত্র, সেখান থেকে ফেলা হয় লিফটের গ’র্তে

    কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) মারধরের পর ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

    এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় মামলা করেছেন নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেপ্তার করেছে।

    নিহত আশফাক কবির নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। সে বাকলিয়া ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থাকত।

    মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আশফাককে জোর করে নিয়ে যান।

    একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয় এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যায়; কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ওপর তলায় উঠে আশফাককে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

    নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

    গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ বলেন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান

    খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান

    প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। 

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। 

    এর আগে, বিকেল ৪টার দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয় এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা, জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত আছেন। 

    এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া, ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন, মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

    এছাড়া, স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো, মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

    স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

  • যে ভি’টামিনের অভাবে অতিরিক্ত ঘুম পায়, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অভাবে অতিরিক্ত ঘুম পায়, জেনে নিন

    অতিরিক্ত ঘুম বা সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা অনেকের কাছেই সাধারণ সমস্যা বলে মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে শরীরে শক্তি উৎপাদন কমে যায়, ফলে ঘুমঘুম ভাব, অবসাদ ও মনোযোগহীনতা দেখা দেয়।

    কোন ভিটামিনের অভাবে বেশি ঘুম পায়?

    ১. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): শরীরের স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি১২। এর অভাবে—

    সবসময় ঘুম পেতে পারে
    দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা দেখা দেয়
    মনোযোগ কমে যায়

    চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা) তৈরি হয়, যা ক্লান্তি বাড়ায়।

    ২. ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, শরীরের শক্তি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে—

    অতিরিক্ত ঘুম
    শরীর ব্যথা
    মানসিক অবসাদ

    অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি কম থাকলে দিনের বেলায় ঘুমঘুম ভাব বাড়ে।

    ৩. ভিটামিন বি৬ (Vitamin B6): এটি মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি হলে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বিঘ্নিত হয় এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দেয়।

    কেন এমন হয়?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভিটামিন শরীরে এনার্জি মেটাবলিজম বা শক্তি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঘাটতি হলে কোষ পর্যায়ে শক্তি কম তৈরি হয়, ফলে শরীর বিশ্রাম চায়—যা অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

    কী বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ (এনআইএইচ)-এর তথ্য অনুযায়ী:

    ভিটামিন বি১২ ও ডি-এর ঘাটতি বিশ্বব্যাপী খুব সাধারণ
    ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ঘুম এই ঘাটতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ
    বিশেষ করে যারা রোদে কম যান বা নিরামিষ খাদ্য বেশি খান, তাদের ঝুঁকি বেশি
    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    যদি—

    প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগে
    কাজের মাঝেও ঘুম পায়
    সঙ্গে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা থাকে

    তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয় করা হয়।

    প্রতিকার কী?
    পুষ্টিকর খাবার (ডিম, মাছ, দুধ, মাংস)
    পর্যাপ্ত রোদে থাকা (ভিটামিন ডি-এর জন্য)
    চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট

    সতর্কতা

    নিজে নিজে ভিটামিন খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত ভিটামিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই গ্রহণ করা উচিত।

    অতিরিক্ত ঘুম সবসময় অলসতার লক্ষণ নয়—এটি শরীরের ভিটামিন ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা নিলে সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

  • প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ শিগগিরই

    প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ শিগগিরই

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

    মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে সিলেট অঞ্চলের কেন্দ্রসচিবরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। 

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকের ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদের মামলা জটিলতা নিরসনের চেষ্টা চলছে।

    দ্রুতই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি ‘পুল’ গঠন করা হচ্ছে, শিক্ষক সংকট থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের পার্ট-টাইম শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানো হবে।

    সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষার কারণে সাধারণ পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক ‘মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র’ নির্মাণ করবে সরকার। বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান দুটি বছর ঝরে যাচ্ছে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে বড় বাধা।

    তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার গুণগত মান ও সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছি।

    প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠদানের মান নিশ্চিত করা যায়। আমি সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, আপনারা নিজ নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড নিয়ে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই তদারকি করুন।

    নকলের বর্তমান ধরন সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এখন আর আগের মতো সনাতন পদ্ধতিতে নকল হয় না, এখন ডিজিটাল নকলের ভ্যারিয়েন্ট এসেছে। শিক্ষক যদি ক্লাসে না পড়ান, তবেই শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেয়। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এই ব্যাধি দূর করতে হবে।

    এ সময় পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের আরো আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

  • কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির সম্পর্কে যা জানা গেল

    কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির সম্পর্কে যা জানা গেল

    পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া একজনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিভিন্ন আইডি, ফেসবুক পেজ থেকে ওই কৃষকের একাধিক ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তোলা হয়।

    দাবি করা হয়, ওই কৃষক একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি, দলীয় পরিচয়ে পেয়েছেন কৃষক কার্ড।

    আলোচিত ওই ব্যক্তির নাম কবির হোসেন। কালের কণ্ঠ খোঁজ নিয়ে জেনেছে, তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে। তিনি পেশায় আসলেই একজন কৃষক।

    নিজের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ভিডিও কননেন্টও তৈরি করেন কবির হোসেন।

    স্থানীরা জানান, কবির ১৯৯২ সালের এসএসসি পরীক্ষা দেন। তবে অকৃতকার্য হয়ে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে চলে যান। প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে কৃষিকাজ শুরু করেন।

    নিজে একটি সেচ মেশিন কিনেছেন, যার মাধ্যমে নিজের জমি এবং অন্যের জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন।

    কৃষিকাজের পাশাপাশি কবির ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে ছবি-ভিডিও করে প্রচার করেন। সেই সুবাদে তিনি এলাকায় পরিচিত মুখ।

    কৃষক কবির হোসেন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করেছেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান।

    তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কবির হোসেন একজন কৃষক। সেচ মেশিন পরিচালনা করেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। তার দলীয় পদ-পদবি নেই।’

    কবিরের পাশের গ্রামের বাসিন্দা রিফাত ইসলাম বলেন, ‘কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল কবির হোসেন কাকার যে ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি। আর এই ছবিগুলো দেখে অনেকেই ভাবছেন তিনি অনেক ধনী মানুষ এবং কৃষক নন। তিনি আমার পাশের গ্রামের মানুষ, উনি নিজের কৃষিজমি চাষ করেন এবং কৃষিজমিতে পানি সেচ দেওয়ার একটা মেশিন চালান।’

    গতকাল কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কবির হোসেন বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ‘এতদিন কৃষকদের রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি ছিল না। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তারা এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন।’

    এদিকে আলোচনা শুরু হওয়ার পর নিজের ফেসবুকে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন কবির কৃষক। এসব ভিডিওতে নিজের কৃষিকাজের প্রমাণ দেন তিনি।

    এক ভিডিওতে কবির হোসেন বলেন, ‘কৃষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ায় আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। সত্যিকার অর্থে আমি একজন কৃষক মানুষ। যারা আমাকে ভাইরাল করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

  • জ্বা’লানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

    জ্বা’লানি সাশ্রয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

    বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে দেশেও দেখা দিয়েছে এর প্রভাব। জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার একের পর এক নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমাতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন সভা, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সশরীরে সভা আয়োজন পরিহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব/সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক ও সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে জ্বালানি তেলের সাশ্রয় করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন ও কার্যকরভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

    এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রাম (যেমন; সভা, কর্মশালা, প্রশিক্ষণ)-এ মাঠ পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীদের ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভাগীয় পর্যায়ের প্রোগ্রামে জেলা পর্যায় থেকে এবং জেলা পর্যায়ের প্রোগ্রামে উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ ভার্চুয়াল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

    একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত সশরীরে সভা আয়োজন পরিহার করতে হবে যাতে যানবাহনের জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। 

    পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।

  • সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের বড় সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।

    আজ বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান,  ‘ই-হেলথ কার্ড’বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

    দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না? হলে কবে নাগাদ তা করা হবে? চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

    চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

    চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই সেখানে জড়ো হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    অবরুদ্ধ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, পরীক্ষিত দোসরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী, এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। একই সঙ্গে তারা স্লোগান দিতে থাকেন, আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান। 

    পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

    জানা গেছে, এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

    তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।

    সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর কখনো বিএনপির আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।

  • দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ

    দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার বন্ধ

    অপরিশোধিত তেল সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কারখানাটিতে শেষ পরিশোধন কার্যক্রম হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুজন কর্মকর্তা।

    এদিকে দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশস্ত করেছে জ্বালানি বিভাগ।

    ইআরএল কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন এবং অপরিশোধিত তেলের চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক (মজুদ ট্যাংকের তলানিতে জমে থাকা অপরিশোধিত তেল) তুলেও পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

     

    কর্মকর্তার আরো জানায়, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে থাকে। তবে ক্রুড সংকটের কারণে গত মাস থেকেই পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছিল। গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে।

    বিপিসির তথ্য মতে, দেশে প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

    এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়।

    প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরবর্তী আমদানি চালান দেশে আসার কথা রয়েছে।

    সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ইআরএল কর্তৃপক্ষকে।

  • সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

    সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

    দেশের লাখো চাকরিপ্রার্থীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে এক বিশাল নিয়োগের মহোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে শূন্য থাকা প্রায় ৫ লাখ পদে জনবল নিয়োগের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় ও পিএসসির জোর প্রস্তুতি

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শূন্যপদের তালিকা ও নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে কমিশন তাদের পরিকল্পনা সরকারকে জানিয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী আশ্বস্ত করেছেন যে, দ্রুততম সময়ে এবং কঠোর নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এই নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হবে।

    স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড নিয়োগ

    সবচেয়ে বড় চমক আসছে স্বাস্থ্যখাতে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুধু স্বাস্থ্য খাতেই এক লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

    বাজেট ও আর্থিক বরাদ্দ

    এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া সফল করতে সরকার বড় ধরনের আর্থিক সংস্থানও নিশ্চিত করেছে। মোট ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই কর্মযজ্ঞ চলবে, যার সিংহভাগ চলতি অর্থবছরের শেষ চার মাসেই খরচ করা হবে। বাকি অর্থ আগামী অর্থবছরের শুরুতেই ছাড় দেওয়া হবে।

    শূন্যপদের বিস্তারিত চিত্র

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ খালি রয়েছে।

    এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ৬৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৭ হাজার এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শূন্য পদ রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই মেগা নিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা দেশের শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য এক ঐতিহাসিক আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য হবে এবং দেশের প্রশাসনিক গতিশীলতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।