বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কোর মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ছয়ে, আর ধারাবাহিক উন্নতিতে থাকা মরক্কো সাত নম্বরে অবস্থান করছে। যদিও সবশেষ দেখায় মরক্কোর কাছে হেরেছিল সেলেসাওরা।
এবার ফিফা বিশ্বকাপে রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এ দুদলের লড়াই। গ্রুপপর্বের শুরুতেই এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দুই দলের জন্যই হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস গড়ার বড় সুযোগ, আবার চাপেরও বড় পরীক্ষা।
মরক্কোর ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তন ও উন্নতি দেখা গেছে, তা বিশ্ব ফুটবলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাদের এখন ‘আফ্রিকার নতুন ব্রাজিল’ বলেও সম্বোধন করছে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয় মরক্কোর জন্য। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছে—একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচসহ দুটি প্রীতি ম্যাচে। ইতিহাস বলছে, লড়াইটা বরাবরই সমান তীব্র, যেখানে ব্রাজিল দুবার জয় পেয়েছে, আর মরক্কো একবার ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।
প্রথমবার ব্রাজিল ও মরক্কোর দেখা হয় প্রায় তিন দশক আগে। সময়টা ছিল ১৯৯৭ সালের অক্টোবর। বেলেমে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেদিন শেষ মুহূর্তের ঝাঁজে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল; মারিও জাগালোর দল ১০ মিনিট বাকি থাকতে দেনিলসনের গোলের সৌজন্যে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
এর প্রায় এক বছর পর আবারও মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তবে এবার দৃশ্যপট ছিল আরও বড়—বিশ্বকাপের মঞ্চ। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে বোর্দোতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। সেটিই আজ পর্যন্ত ব্রাজিল ও মরক্কোর একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক লড়াই হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতেই। সেই সময়ই গোলের সূচনা করেন আইকনিক স্ট্রাইকার রোনালদো। এরপর রিভালদো ও বেবেতোর আঘাতে পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সেই আসরেই ব্রাজিল ফাইনালে পৌঁছালেও শেষ হাসি হাসে স্বাগতিক ফ্রান্স, শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায় সেখানেই।
প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরক্কো নেয় সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ! ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ টাঙ্গিয়ারে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা—সোফিয়ানে বউফালের গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরান মিডফিল্ডার কাসেমিরো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড়ে ৭৯তম মিনিটে আবদেলহামিদ সাবিরির গোল মরক্কোকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের স্মরণীয় জয়।

Leave a Reply