Blog

  • ঠা’ণ্ডা-কা’শি কমাতে আ’দা কীভাবে ব্য’বহার করবেন? জেনে নিন

    ঠা’ণ্ডা-কা’শি কমাতে আ’দা কীভাবে ব্য’বহার করবেন? জেনে নিন

    বহুকাল আগে থেকেই রোগ নিরাময়ে আদার ব্যবহার হয়ে আসছে। আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এটি ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যা কমাতে উপকারী।

    আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিটক্সিক ও অ্যান্টিফাঙাল উপাদান। ঘাম ও তাপ তৈরি করার মাধ্যমে এটি হালকা জ্বর কমাতেও কাজ করে। প্রাকৃতিক অ্যানালজেসিক ও ব্যথানাশক প্রকৃতি থাকার কারণে এটি ব্যথা ও প্রদাহ কমিয়ে গলাব্যথা কমাতে উপকার করে। এটি শ্লেষ্মা সরিয়ে ফুসফুসকে পরিষ্কার করে।

    ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে আদা কীভাবে ব্যবহার করবেন?

    ১. ঠাণ্ডা ও কাশি কমাতে দিনে কয়েকবার আদা খেতে পারেন।

    ২. দুই কাপ পানির মধ্যে এক চা চামচ আদা গুঁড়া ও এক চা চামচ আদা কুচি দিয়ে সেদ্ধ করুন। এই পানীয়টি দিয়ে ভাপ নিন। এতে ঠাণ্ডা কমতে সাহায্য হবে।

    ৩. এ ছাড়া কিছু কাঁচা আদা চিবাতে পারেন। আদার জুস বা আদা-চা পান করতে পারেন কফ কমানোর জন্য।

    ৪. ঠাণ্ডা থেকে রেহাই পেতে বুক ও পিঠে আদার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।

  • পে’শিতে টা’ন পড়ে কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    পে’শিতে টা’ন পড়ে কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর মধ্যে ভিটামিন ‘ই’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাট-দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। তবে শরীরে এর ঘাটতি সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না।

    নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা বা পুষ্টি শোষণে জটিলতা থাকলে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক সময় ঘাটতির লক্ষণগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা, চুল পড়া কিংবা ত্বকের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। তাই কোন লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং খাবারের মাধ্যমে কীভাবে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

    পেশির দুর্বলতা ও টান ধরা

    ভিটামিন ‘ই’ আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশির কোষগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

    পেশিতে টান পড়া

    ভিটামিন ‘ই’ স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এর তীব্র ঘাটতি হলে কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

    দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

    হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব

    দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় । যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এ ছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

    চোখের সমস্যাও হতে পারে

    ভিটামিন ‘ই’ চোখের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিনের তীব্র ঘাটতিতে দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চোখ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তাই এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ত্বক ও চুলের পরিবর্তন

    ভিটামিন ‘ই’ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে কাজ করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়ে যায়, চামড়া অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং অকালেই মুখে বলিরেখা ও কালচে ছোপ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে চুলের ফোলিকল ও মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ই’ সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল ঝরতে শুরু করে এবং হাতের নখ ভঙ্গুর বা পাতলা হয়ে খুব সহজেই ভেঙে যায়।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব

    ভিটামিন ‘ই’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি থাকলে ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই ঘন ঘন সর্দি, কাশি বা ইনফেকশন দেখা দেয়।

    অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি

    ভিটামিন ‘ই’-এর তীব্র ঘাটতি হলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে।

    যেসব খাবারে মিলবে ভিটামিন ‘ই’

    ভিটামিন ‘ই’ পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সুষম খাদ্য খাওয়া। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ ও বিভিন্ন বাদামে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। পরিমাণমতো এসব খাবার নাশতা বা খাবারের সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

    উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যেও ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। সূর্যমুখী তেল, সয়াবিন তেল ও অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল এর উৎস। তবে তেল যেহেতু ক্যালরিসমৃদ্ধ, তাই প্রয়োজনের বেশি খাওয়া উচিত নয়।

    পালং শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি এবং অ্যাভোকাডো থেকেও ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

     সাপ্লিমেন্ট কি
    সাধারণভাবে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবার খেলে আলাদা করে ভিটামিন ‘ই’ সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কিছু ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মেডিকেল নিউজ টুডে

  • হা’ত-পা অ’বশ ও ঝিঁ’ঝি ধ’রার সম’স্যা যে ভি’টামিন ঘা’টতির ল’ক্ষণ

    হা’ত-পা অ’বশ ও ঝিঁ’ঝি ধ’রার সম’স্যা যে ভি’টামিন ঘা’টতির ল’ক্ষণ

    ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি একটি পরিচিত পুষ্টিজনিত সমস্যা। তবে অনেকেই শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে তা বুঝতে পারেন না। কারণ এর উপসর্গগুলো অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হতে পারে অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। তাই সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলো সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কয়েকটি অবহেলিত উপসর্গ তুলে ধরেছেন। 

    তিনি বলেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তবে ঝিনঝিন করা, জিহ্বার পরিবর্তন, ক্লান্তি, চিন্তাভাবনায় সমস্যা বা হাঁটার সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি নিশ্চিত করা সম্ভব। 

    মসৃণ ও ব্যথাযুক্ত জিহ্বা

    সাধারণত জিহ্বার উপরিভাগ কিছুটা খসখসে থাকে। এর কারণ হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাপিলা, যার মধ্যে স্বাদ গ্রহণের কুঁড়ি থাকে। কিন্তু জিহ্বা অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, চকচকে, লাল বা ব্যথাযুক্ত হয়ে গেলে তা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব

    স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ভিটামিনের ঘাটতিতে শরীরের প্রান্তীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাত-পায়ে দীর্ঘসময় ঝিনঝিনি, সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা অবশভাব অনেক সময় বি১২-এর ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

    চিকিৎসকরা বলেন, স্নায়ুর মাইলিন আবরণ স্বাভাবিক রাখতে বি১২ প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে বিশেষ করে পা থেকে শুরু করে অবশভাব বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি রক্তের অন্যান্য উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এসব স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    অকারণ ক্লান্তি

    লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতেও ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। ফলে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা স্বাভাবিক কাজ করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

    স্মৃতির সমস্যা

    সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিক স্নায়ু সংকেত আদান-প্রদানেও বি১২ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, চিন্তার গতি ধীর হওয়া, ভুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি কিংবা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অ্যানিমিয়া না থাকলেও এসব উপসর্গ হতে পারে।

    ভারসাম্যহীনতা ও হাঁটতে সমস্যা

    ভিটামিন বি১২-এর দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোন অবস্থানে রয়েছে, সে সম্পর্কে মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া স্নায়ুপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের মতে, এতে হাঁটার সময় অস্থিরতা, বারবার হোঁচট খাওয়া, অন্ধকারে হাঁটতে অসুবিধা কিংবা পা ফেলে চলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।

    তবে এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলেই যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

  • একাদশ শ্রেণিতে ভ’র্তির নী’তিমা’লা প্র’কাশ

    একাদশ শ্রেণিতে ভ’র্তির নী’তিমা’লা প্র’কাশ

    সারা দেশের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের কলেজ ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।

    নীতিমালা দেখতে ক্লিক করুন এখানে

    নীতিমালায় বলা হয়, কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের ৯৩% আসন সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে; যা মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ১% এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ১% সহ মোট ২% আসন মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সংরক্ষিত থাকবে।

    নীতিমালার তথ্য, যদি আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হয় সেক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। আবেদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্তৃক দপ্তর প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজস্ব দপ্তরের প্রধান হলে সেক্ষেত্রে তাঁর একধাপ উপরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার ভর্তির জন্য ৫% আসন সংরক্ষিত থাকবে।

    মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যাদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র/গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদ যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে উক্ত আসনে ভর্তি করতে হবে। কোন অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না।

  • ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার স’ময়সূ’চি ঘো’ষণা, শু’রু যেদিন থেকে

    ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার স’ময়সূ’চি ঘো’ষণা, শু’রু যেদিন থেকে

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী বছরের ১৪ মার্চ তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হবে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

    বিগত কয়েক বছরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

    তবে করোনাভাইরাসের কারণে বিগত সরকারের চালু করা সেই নিয়মে ছেদ ঘটে।

    এর আগে ২৫ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত, জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত, জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে প্রচুর মানুষের ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ধরা পড়ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, খাবার নির্বাচনে সামান্য সচেতনতা লিভারের ফ্যাট কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে — বিশেষ করে প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত তেল।

    ফ্যাটি লিভার হলো এমন অবস্থা, যখন লিভারের কোষে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে এটি হয়। প্রাথমিকভাবে উপসর্গ না থাকলেও সময়ের সঙ্গে লিভারে প্রদাহ, কোষ ক্ষয় এবং সিরোসিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে সঠিক খাবার তেল নির্বাচন খুব জরুরি।

    এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।

    তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী তেল হলো অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল। এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে চর্বি জমা কমায় এবং লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    আরিফ ইকবাল আরও জানান, সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিতভাবে নিরাপদ। এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম, ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ কমে এবং চর্বি জমার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

    তবে সরিষা, নারিকেল বা পাম তেল অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ এসব তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি, যা লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ায় এবং ফ্যাটি লিভারের অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।

    তবে তেল যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। সেই সঙ্গে ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা, নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।

  • মা’ত্র ৬০ দি’নে নি’র্মূল হবে ফ্যা’টি লি’ভার, খা’দ্য তালিকায় রাখুন ৫ খা’বার

    মা’ত্র ৬০ দি’নে নি’র্মূল হবে ফ্যা’টি লি’ভার, খা’দ্য তালিকায় রাখুন ৫ খা’বার

    আজকের ব্যস্ত জীবনধারা এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল আমাদের শরীরের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করছে। অফিসের কাজ, ঘরে বসে প্রযুক্তি ব্যবহার, আর খাদ্যাভ্যাসে জাঙ্কফুডের বৃদ্ধি; এসব মিলিয়ে লিভারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা এখন ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। অথচ লিভার আমাদের শরীরের বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ এবং টক্সিন নিঃসরণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঙ্গের যত্ন না নিলে শরীরের স্বাস্থ্য দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

    বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডায়েট ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা অবলম্বন করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তারা বলছেন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে লিভারের ফ্যাট গলানো যায়। তাই খাদ্যতালিকায় যদি প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি এমন খাবার রাখা হয়, তবে ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    চলুন জেনে নিই, কোন পাঁচটি খাবার লিভারের যত্নে বিশেষ কার্যকর—

    ১. গ্রিন টি

    গ্রিন টিতে আছে ক্যাটেচিন, যা লিভারের ফ্যাট কমাতে সহায়ক। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মলিকুলার সায়েন্সসে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সারাতে গ্রিন টি দারুণ কার্যকর। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি নিয়মিত খেলেই লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    ২. বিটের রস

    বিটের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক যৌগ লিভারের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। লিভারে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে বিটের রস সহায়ক।

    ৩. হলুদ

    হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এটি লিভারসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। নিয়মিত খাবারে হলুদ রাখলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।

    ৪. শাকসবজি

    মৌসুম অনুযায়ী তাজা শাকসবজি খান। যেমন এই সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, বিনস, ক্যাপসিকাম। এগুলো লিভারের প্রদাহ কমায়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় সহায়ক।

    ৫. রসুন

    রসুনে আছে সালফার সমৃদ্ধ যৌগ, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে এবং লিভারের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। নিয়মিত রসুন খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    মোটকথা, সঠিক খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচটি খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব।

    সূত্র : এই সময়

  • ফ্যা’টি লি’ভারের ল’ক্ষণ ও মু’ক্তির উপায়, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভারের ল’ক্ষণ ও মু’ক্তির উপায়, জেনে নিন

    ফ্যাটি লিভার ‘হেপাটিক স্টেটোসিস’ নামেও পরিচিত। যকৃতে চর্বি জমা হলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলে। লিভারে অল্প পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিকের কাছ থেকে চলুন জেনে নেই ফ্যাটি লিভার কেন হয়, এর লক্ষণ এবং কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে খুব সহজেই এই ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

    ফ্যাটি লিভার সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার এবং আরেকটি হলো নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার।

    অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সাধারণত যাদের অ্যালকোহল পান করার করার অভ্যাস আছে নিয়মিত, তাদের হয়ে থাকে৷

    নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি, কার্বোহাইড্রেট, প্রসেসড ফুড, মুখরোচক খাবার বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। ডায়াবেটিক বা রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি থাকলেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে৷ আবার একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর অনেকে বংশগত কারণেও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন।

    আমাদের দেশের মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারেন না যে লিভারে ফ্যাট জমলে তা গুরুতর আকার নেয়। ফ্যাটি লিভার থেকে প্রথমে হেপাটাইটিস বা লিভারের প্রদাহ হয়। এরপর তা লিভার সিরোসিসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে শুরুতেই ফ্যাটি লিভারের লক্ষণগুলো জানতে পারলে অনেক গুরুতর সমস্যার সমাধান হতে পারে।

    ঝুঁকিতে আছেন যারা-

    ● টাইপ টু ডায়াবেটিস আছে যাদের

    ● মেনোপজ শুরু হয়েছে এমন নারীদের

    ● স্থূলতা আছে যাদের

    ● শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের বেশি

    ● দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যারা

     ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ-

    ● অনিয়ন্ত্রিত বা অনিয়মিত খাদ্যাভাসের ফলে লিভারের ওপর চাপ পড়ে। ফলে হজমে সমস্যা হয় ও খাবারে অরুচি চলে আসে।

    ●  খাবার সময় বমি বমি ভাব হতে পারে

    ●  অনেক সময় পেট ফুলে যেতে পারে

    ●  পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুলে যেতে পারে

    ●  হঠাৎ করেই ওজন কমে যেতে পারে

    ●  ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হলে মাথাব্যথা, ডিপ্রেশন বা মন খারাপ এসবও হতে পারে

    যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে-

    ● অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে যারা আক্রান্ত আছেন, তাদের প্রথমেই অ্যালকোহল গ্রহণ করা বন্ধ করতে হবে।

    ● আপনার যদি দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস থাকে বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেই অভ্যাস পরিহার করতে হবে। ঘন দুধের তৈরি খাবার বা ফুলক্রিম মিল্ক খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

    ● ফ্যাটি লিভার দূর করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

    ●ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আপনার হজমে সাহায্য করবে, ক্ষুধাটাকে দমিয়ে রাখবে এবং আপনার পেট অনেক বেশি সময় পর্যন্ত ভরা থাকবে৷ তাই খাদ্যতালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

    ● বিভিন্ন রঙের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। যেমন – বিটরুট, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, শিম, বরবটি, ব্রকলি ইত্যাদি। এছাড়াও আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় শাক পাওয়া যায়। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যেকোনো একটি দেশীয় শাক।

    ● অনেকেই ভেবে থাকেন ফ্যাটি লিভার হলে প্রোটিন গ্রহণ একদমই কমিয়ে দিতে হবে। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। আপনাকে অবশ্যই উন্নত মানের প্রোটিন খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন – যে মাছটি খাচ্ছেন সেই মাছের একেবারে চর্বির অংশটি বাদ দিয়ে খেতে হবে। অনেকেই মুরগির চামড়া খেতে পছন্দ করেন, তবে ফ্যাটি লিভার হলে অবশ্যই মুরগি চামড়া ছাড়িয়ে খেতে হবে৷ আপনি মাঝেমধ্যে গরুর মাংস খেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে চর্বির অংশটি বাদ দিয়ে শুধু সলিড ১ বা ২ টুকরো মাংস খেতে পারবেন ১ বেলা।

    ● আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি সেদ্ধ ডিম রাখতে পারেন। ডেইরি প্রোডাক্টের এর মধ্যে খেতে পারেন টক দই, নন ফ্যাট মিল্ক।

    ● এছাড়াও দেশীয় মৌসুমী বিভিন্ন ফল আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন।

    ●  খাবার তৈরিতে তেলের ব্যবহার কমাতে হবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাজাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

     

  • সকালে খালি পে’টে চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার উ’পকা’রিতা, জেনে নিন 

    সকালে খালি পে’টে চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার উ’পকা’রিতা, জেনে নিন 

    প্রতিদিন সকালের শুরুতেই এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড- স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই অভ্যাস। ক্ষুদ্র এই বীজে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন খনিজ।

    তবে খালি পেটে খেলেই যে অন্য সময়ের তুলনায় বাড়তি কোনো জাদুকরী উপকার মিলবে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চিয়া সিড খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন সকালের খাবারে চিয়া সিড?

    চিয়া সিডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এর উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ টেবিল চামচ বা ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে প্রায় ১১ গ্রাম খাদ্যআঁশ, ৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ৭ গ্রাম অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে। একই পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো খনিজও পাওয়া যায়।

    পানিতে ভিজলে চিয়া সিডের চারপাশে জেলির মতো স্তর তৈরি হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পেটে কিছুটা বেশি সময় ধরে তৃপ্তির অনুভূতি দিতে পারে। উচ্চমাত্রার আঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর?

    সকালে চিয়া সিড খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে- ফলে অতিরিক্ত নাশতা বা খাবার গ্রহণ কমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু চিয়া সিড খেলেই ওজন কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    হার্ভার্ডের পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিয়া সিডকে কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গবেষণায় চিয়া সিড একাই ওজন, রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বা রক্তে শর্করার ওপর নির্দিষ্ট বড় ধরনের উপকার করে- এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটি উদ্ভিদভিত্তিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী?

    চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা ALA-এর ভালো উৎস। ওমেগা-৩ হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চিয়া সিডের ALA-কে মাছের EPA ও DHA-এর সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ শরীরে ALA থেকে EPA ও DHA তৈরির প্রক্রিয়া সীমিত।

    মায়ো ক্লিনিক হেলথ সিস্টেমের নিবন্ধেও চিয়া সিডকে খাদ্যআঁশ ও ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধটির লেখক রোমি লন্ড্রে, RDN, CD জানান, খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ কী?

    হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের চিকিৎসক ও প্রধান মেডিকেল এডিটর ডা. হাওয়ার্ড ই. লিওয়াইন জানান, চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ ALA ওমেগা-৩-এর একটি উৎস। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওমেগা-৩ শরীরের কোষীয় কার্যক্রম ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।

    অন্যদিকে, মায়ো ক্লিনিকের ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনিয়া গাই বলেন, সাধারণত চিয়া সিড গুঁড়া করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই; গোটা বীজও খাওয়া যায়। তিনি সকালের সিরিয়াল, সালাদ বা স্মুদিতে চিয়া সিড যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে কীভাবে খাবেন?

    চিয়া সিড সরাসরি শুকনো অবস্থায় বেশি পরিমাণে না খেয়ে পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া সুবিধাজনক। কারণ বীজটি তরল শোষণ করে ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, বিশেষ করে খাদ্যআঁশের পরিমাণ হঠাৎ বাড়ালে।

    সকালে ভেজানো চিয়া সিডের সঙ্গে টকদই, ওটস, দুধ বা ফল যোগ করে পুষ্টিকর নাশতা তৈরি করা যায়। এতে শুধু চিয়া সিডের ওপর নির্ভর না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    উল্লেখ্য, চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩-এর কারণে এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে। তবে “খালি পেটে চিয়া সিড খেলেই ওজন কমবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে বা সব রোগ দূর হবে”- এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অতিরঞ্জিত।

    স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সামগ্রিক জীবনযাপনের সঙ্গে চিয়া সিডকে যুক্ত করলেই এর পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

  • দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রে’ন টি’উমা’র হয়? যা বলছেন ক্যা’নসা’র বি’শেষ’জ্ঞ

    দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রে’ন টি’উমা’র হয়? যা বলছেন ক্যা’নসা’র বি’শেষ’জ্ঞ

    মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করা কিংবা বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার থাকলে তা থেকে ব্রেন টিউমার হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য এই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে? এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসক ডা. সানি জৈন।

    মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন কি ক্যানসার সৃষ্টি করে?

    ডা. সানি জৈনের মতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে ব্রেন টিউমার হয়। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগ হয় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের মাধ্যমে। এটি এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন। তবে সব ধরনের রেডিয়েশন শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়।

    মোবাইলের সব রেডিয়েশন কি এক?  

    রেডিয়েশনকে সহজভাবে বুঝতে হলে এর শক্তির মাত্রা ও শরীরে প্রভাবের ধরন দেখতে হয়। আয়োনাইজিং রেডিয়েশন যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মির শক্তি অনেক বেশি। এগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএনএতে পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে তা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, মোবাইল ফোন ও টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন হলো নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এর শক্তি আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় অনেক কম। ডা. জৈনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তির ডিএনএ ভেঙে দেয়ার মতো ক্ষমতা নেই।

    তাহলে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলেও কি চিন্তার কারণ নেই?

    বর্তমান গবেষণার ভিত্তিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ব্রেন টিউমারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বড় আকারের গবেষণাগুলোতেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের একটি নিশ্চিত কারণগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন গবেষণায় এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা হয়নি। তবে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তাই বিজ্ঞানীরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন।

    মোবাইল টাওয়ারের নিচে বা পাশে থাকলে কি ঝুঁকি বেশি?

    শুধু বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার আছে বলেই ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনও প্রমাণ নেই। অনেক সময় মানুষ মনে করেন, টাওয়ার যত কাছে, রেডিয়েশন তত বেশি এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও তত বেশি। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। টাওয়ারের অবস্থান, অ্যান্টেনার দিক, দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় মিলিয়ে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এক্সপোজার নির্ধারিত হয়।

    সবশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী মোবাইল টাওয়ারের কাছে বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ বলা যায় না। তাই এ নিয়ে ভাবনার কি কিছু নেই।  

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস