Blog

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের আনন্দের একটি অংশ। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে খেলা দেখা, পতাকা উড়িয়ে উচ্ছ্বাস করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে ম্যাচ উপভোগ করা—সবকিছুতেই থাকে আলাদা অনুভূতি। কিন্তু সেই প্রিয় দলই যখন হেরে যায়, তখন অনেক সমর্থকের মনেও নেমে আসে হতাশা।

    কেউ খাওয়া-দাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ বারবার খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দেখে আফসোস করতে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো দলকে ভালোবাসার কারণে মানুষের সঙ্গে সেই দলের এক ধরনের আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই দলের জয় যেমন আনন্দ দেয়, পরাজয়ও তেমন কষ্ট দেয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, ফুটবল আনন্দের জন্য। তাই প্রিয় দল হেরে গেলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠাও জরুরি। জেনে নিন মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়—

    ১. নিজের অনুভূতিকে সময় দিন

    ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রিয় দলের হার কষ্ট দিলে সেই অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। কিছু সময় নিজের মতো থাকুন। আবেগকে সময় দিলে ধীরে ধীরে মন হালকা হয়ে আসে।

    গোলের পথে ফুটবল বাতাসে হঠাৎ বাঁক নেয় কেন

    ২. মনে রাখুন, এটি শুধু একটি খেলা

    ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এখানে জয়-পরাজয় দুটোই আছে। বড় বড় দলও কখনো না কখনো হারে। তাই মনে রাখতে হবে, একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার জীবন বা ব্যক্তিগত সাফল্য নির্ধারণ করে না।

    ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থাকুন

    দল হারার পর নানা ধরনের মন্তব্য, বিদ্রূপ বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেখা যায়। এগুলো বারবার দেখলে মন আরও খারাপ হতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে দূরে থেকে বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ভালো।

    ৪. বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন

    মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা অনেকটা স্বস্তি দেয়। একই দলের সমর্থক বন্ধুদের সঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মজা-ঠাট্টাকে হাসির সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য নয়।

    ৫. ম্যাচের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন

    হারের পর আমরা সাধারণত ভুল বা ব্যর্থতার কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু পুরো ম্যাচে নিশ্চয়ই কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল। প্রিয় খেলোয়াড়ের সুন্দর খেলা, অসাধারণ রক্ষণ বা দলের লড়াইয়ের বিষয়গুলোও মনে করার চেষ্টা করুন।

    ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন

    খেলা শেষ হয়ে গেছে, তাই বারবার সেটি ভেবে মন খারাপ না করে অন্য কাজে ব্যস্ত হন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া বা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দিলে হতাশা কমে আসে।

    ৭. নতুন স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকুন

    একজন সত্যিকারের সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই সব শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ আছে, নতুন সুযোগ আছে। তাই আশা হারানো যাবে না।

    ফুটবলের আসল সৌন্দর্য কোথায়?

    ফুটবলের আনন্দ শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, গোলের মুহূর্তে উল্লাস করা, উত্তেজনা ভাগ করে নেওয়া কিংবা হারার পরও দলের পাশে থাকা—এসব অনুভূতিই ফুটবলকে বিশেষ করে তোলে।

    প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু একজন সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই ভালোবাসাই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা করে তুলেছে।

  • ভিনিসিউস থাকার পরও ব্রুনোর পেনাল্টি নেয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

    ভিনিসিউস থাকার পরও ব্রুনোর পেনাল্টি নেয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

    নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ১৪ মিনিটে মাতেউস কুনিয়া পেনাল্টি এনে দিয়েছিলেন ব্রাজিলকে। ধারণা করা হয়েছিল, সেলেসাওদের হয়ে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসবেন তারকা উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়র। কিন্তু অবাক করে দিয়ে ভিনিসিউসের বদলে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েসকে। তার ধীরগতির রান-আপ ও স্টাটার-স্টেপে নেওয়া শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওর্ইয়ান নিলান্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধে ব্রুনোকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এই অর্ধে ইনজুরি টাইমে ব্রাজিল যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন বদলি হিসেবে নামা নেইমার আরেকটি স্পটকিক নিয়ে সেটি সফলভাবে জালে জড়ান। সেখানেও ভিনিসিউসকে পেনাল্টি নিতে দেখা যায়নি।

    শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিয়েছে । ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে  কোচ আনচেলত্তি জানান, পেনাল্টি নেওয়ার ক্রম নির্ধারণে তারা পরিসংখ্যান (স্ট্যাটস) ব্যবহার করেছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করেছি, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দেরও, আমাদের খেলোয়াড়দেরও। সেলেসাও দলে সেরা পেনাল্টি টেকার ছিলেন রাফিনিয়া।’

     

    চোটের কারণে ম্যাচটি খেলতে পারেননি বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড।

    আনচেলোত্তি আরও বলেন, ‘যারা উপলব্ধ ছিল, তাদের মধ্যে সেরা ছিলেন নেইমার, তারপর ইগর থিয়াগো, এরপর ব্রুনো গিমারায়েস এবং তারপর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। আমরা ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হয়েছে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে উপযুক্ত ছিলেন।’

    সে সময় নেইমার ও ইগর থিয়াগো দুজনই বেঞ্চে ছিলেন।

    ভিনিসিউস ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনচেলোত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় ৯টি পেনাল্টির মধ্যে ৬টি সফলভাবে রূপান্তর করেছিলেন।

    জাতীয় দলের হয়ে অবশ্য তার পেনাল্টি রেকর্ড খুব শক্তিশালী নয়। ব্রাজিলের হয়ে তিনি দুটি পেনাল্টি নিয়েছেন, যার মধ্যে একটি গোলে পরিণত করতে পেরেছেন। অন্যটি তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আনচেলোত্তির অধীনেই মিস করেছিলেন।

    আনচেলোত্তির ছেলে ও সহকারী কোচ দাভিদে আনচেলত্তি বাবার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

     

    তিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি আগেই নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ছিল, যেমনটা আমরা সব ম্যাচেই করি। কে পেনাল্টি নেবে, তা আমরা ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিই। এটি কোচিং স্টাফের সিদ্ধান্ত। পেনাল্টি মিস করা ফুটবলেরই অংশ, আর আজ সেটাই ঘটেছে।’

    মজার বিষয় হলো, বলের দখল মাত্র ৩৪ শতাংশ থাকলেও ম্যাচে অধিকাংশ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল। তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি ছিল ব্রাজিলের সবচেয়ে কম বল দখলের ম্যাচ, তবুও সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
     

  • যে ৭ ভু’লে বিশ্বকাপ থেকে বি’দায়ঘণ্টা বাজল ব্রাজিলের

    যে ৭ ভু’লে বিশ্বকাপ থেকে বি’দায়ঘণ্টা বাজল ব্রাজিলের

    নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের বিপক্ষে ১-২ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ভর করে শেষ আটে পা রাখল নরওয়ে। কিন্তু পরিসংখ্যান আর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বলছে, প্রতিপক্ষের কৃতিত্ব যেমন আছে, এই বিদায়ের পেছনে ব্রাজিলের নিজেদের ভুলও নেহায়েত কম নয়।

    কী সেসব ভুল? চলুন দেখে নেওয়া যাক—

    ১. রক্ষণাত্মক মানসিকতা
    প্রায় পুরো ম্যাচে ব্রাজিল রক্ষণাত্মক ঢঙে খেলেছে, বল দখলে এগিয়ে থাকা নরওয়েকে চাপে না ফেলে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় থেকেছে। এই কৌশল একেবারেই কার্যকর হয়নি। বরং দলটিকে সারাক্ষণ প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে যে সাহসী, আক্রমণাত্মক ব্রাজিলের প্রত্যাশা ছিল, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
    ২. পেনাল্টি নষ্ট করার মাশুল
    ম্যাচের প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারেস, যিনি স্টাটার-স্টেপ রান-আপ নিয়ে শট নেন এবং নরওয়ের গোলরক্ষক ইয়োরিয়ান নাইল্যান্ডকে হার মানাতে পারেননি। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপে পেনাল্টি মিস করলেন। যা বলে দেয়, চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যে দলটির ঘাটতি এখনো কাটেনি।

    ৩. তারুণ্যনির্ভর আক্রমণে ধার না থাকা
    বদলি হিসেবে নেমে এনদ্রিক একটি সহজ সুযোগ পেয়েও বল বাইরে মেরেছেন, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঝেমধ্যে ঝলক দেখালেও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন। 

    ৪. হালান্ডকে মার্কিং করতে ব্যর্থতা
    নরওয়ের দুটি গোলই এসেছে হালান্ডের পা ও মাথা থেকে। একবার ফাঁকায় দাঁড়িয়ে বল জালে জড়িয়েছেন, আরেকবার হেডে। দুই ক্ষেত্রেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগ তাকে ঠিকমতো নজরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে এভাবে বারবার একা ছেড়ে দেওয়া রীতিমতো রক্ষণের আত্মহত্যার শামিল।

    ৫. চাপের মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তার অভাব
    শেষ দিকে দেরিতে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নেইমারের গোল সমতায় ফেরানোর আশা জাগালেও, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের শরীরী ভাষায় ছিল দ্বিধা আর অস্বস্তি। বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর যে মানসিক দৃঢ়তা দরকার হয়, কাতারের পর এবারও তার ঘাটতি স্পষ্ট হলো।

    ৬. মাঝমাঠের ব্যর্থতা
    ব্রাজিল এই ম্যাচে বলের দখল নিয়ে ছিল মোটে ৩৭ শতাংশ সময়ে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে ছিল না একেবারেই। এমন পরিস্থিতিতে পড়ার পেছনে দায়ী ছিল তাদের মাঝমাঠ। কাসেমিরো আর ব্রুনো গিমারেসরা বল পায়ে নিয়ন্ত্রণই নিতে পারেননি খেলার। যার খেসারত দিতে হয়েছে নরওয়ের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে।

    ৭. নেইমারের অনুপস্থিতি
    প্রশ্নটা উঠতেই পারে, নাম্বার টেন রোলে থাকা পাকেতা যখন ছিটকে গেলেন, তখন তো নেইমারকেই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ব্রাজিলের! সেই তাকে কি না বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি! তিনি থাকলে আর যাই হোক প্রথমার্ধের পেনাল্টিটা মিস নাও হতে পারত। সেটা হয়ে গেলেই তো স্কোরলাইনটা ২-২ হতে পারত। কিংবা কে জানে, ম্যাচটা অন্যরকম হতে পারত কি না!

    সব মিলিয়ে, প্রতিভার কমতি ছিল না ব্রাজিলের স্কোয়াডে। কমতি ছিল সাহসী পরিকল্পনা, নিখুঁত ফিনিশিং আর চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখার সামর্থ্যে। প্রতিপক্ষের প্রশংসার আগে, নিজেদের ভুলগুলো নিয়েই এখন আত্মসমালোচনা করার সময় এসেছে সেলেসাওদের।

  • ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জি’তবে কে, জানালো সু’পার ক’ম্পি’উটার

    ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জি’তবে কে, জানালো সু’পার ক’ম্পি’উটার

    বিশ্বকাপের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার মিশনে নামা ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা নরওয়ে। রোববার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরের স্নায়ুযুদ্ধ জমিয়ে তুলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

    পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’-র সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজার বার এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি সিমুলেশন (কাল্পনিক ম্যাচ) করেছে। আর সেই কম্পিউটারাইজড ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরাই।
     

    অপ্টার সুপার কম্পিউটারের চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা সিংহভাগ–৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে আর্লিং হল্যান্ডের নরওয়ের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বাকি ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর আভাস রয়েছে।

    তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক-না কেন, সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল এগিয়ে আছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। আর ইতিহাস গড়ে নরওয়ের শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ মাত্র ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচে যে দলই জিতবে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে।
     

    সুপার কম্পিউটারের হিসাব বাদ দিলেও ইতিহাসের পাতা ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অবিশ্বাস্য। নিজেদের শেষ ১০টি শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯টিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এই মঞ্চে তাদের সবশেষ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা।

    অন্যদিকে নরওয়ের জন্য নকআউট পর্বের স্বাদ একদমই নতুন। গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে আর্লিং হল্যান্ডের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে তারা, যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে নরওয়ের প্রথম কোনো জয়। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে নকআউট খেললেও দুবারই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

    দুই দলই অবশ্য বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে এই পর্বে এসেছে। আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয় পেতে হয়েছে ব্রাজিলকে। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। এরপর ম্যাচ শেষের ঠিক আগমুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির করা দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

    ওই ম্যাচে মার্তিনেল্লির গোলের জোগানদাতা ছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট (গোলে সহায়তা)। আর এর মাধ্যমেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের এক অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছেন গিমারায়েস। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে তার চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড আছে কেবল পেলের; ১৯৭০ সালের বিখ্যাত বিশ্বকাপে পেলের অ্যাসিস্ট ছিল ৬টি।

    পেলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা গিমারায়েস আর ছন্দে থাকা মার্তিনেল্লিদের নিয়ে ব্রাজিল কি পারবে সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করতে? নাকি হল্যান্ডের নরওয়ে তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা–তার উত্তর মিলবে আজ রাতের মাঠের লড়াইয়েই।

  • নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হে’রে বি’দায় নেবে ব্রাজিল’

    নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হে’রে বি’দায় নেবে ব্রাজিল’

    রোববারের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিল নয়, বরং বেশি চাপে থাকবে ব্রাজিলই, এমনটাই মনে করেন ক্যেতিল রেকডাল। ১৯৯৮ সালে চার বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়ে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনিই।

    রয়টার্সকে রেকডাল বলেন, ‘রোববার সবচেয়ে বেশি চাপে থাকবে ব্রাজিলই।’ তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর নকআউট পর্বে ফেরাটাই নরওয়ের জন্য এই টুর্নামেন্টকে সফল করে তুলেছে, কিন্তু ব্রাজিলের জন্য জয় ছাড়া অন্য কিছুই জাতীয় লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

    কাগজে-কলমে এই লড়াই একপেশেই মনে হয়, পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপরীতে ছাব্বিশ বছর পর নকআউটে ফেরা নরওয়ে। তবে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়ে একবারও নরওয়েকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল। আর ১৯৯৮ সালের সেই ম্যাচটি এখনও নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি।

    মার্শেইয়ের স্তাদ ভেলোদ্রমে ১৯৯৮ সালে ৮৯ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন রেকডাল, যা আগেই বাছাই নিশ্চিত করা ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে নরওয়েকে নকআউট পর্বে পৌঁছে দিয়েছিল। তার বিশ্বাস, সেই ফলাফল আর নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের এই না জেতার রেকর্ড এখনও প্রতিপক্ষের মনের কোথাও একটা জায়গায় রয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, ‘সেই ভয়টা সবসময়ই থেকে যাবে, এই আতঙ্ক যে তারা আবারও নরওয়ের কাছে হোঁচট খেতে পারে।’

    আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড ও আন্তোনিও নুসাকে নিয়ে গড়া নরওয়ের নতুন প্রজন্মের কাছে ১৯৯৮ সাল কোনো বোঝা নয়, বরং শুধুই ইতিহাস বলে মনে করেন রেকডাল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না হালান্ড আর ওডেগার্ড ১৯৯৮ সালে নরওয়ের ব্রাজিলকে হারানোর কথা ভাবছে। নিজেদের পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমকক্ষ মনে করার জন্য তাদের অতীতের ভূতের দরকার নেই, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের একদম শীর্ষে তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতাই তাদের সেটা শিখিয়ে দিয়েছে।’

    রেকডাল মনে করেন, ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বর্তমান প্রজন্ম আটাশ বছর আগে ফ্রান্সে শেষ ষোলোতে ওঠা নরওয়ে দলের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।

    তার মতে ব্রাজিলই এগিয়ে থাকবে ফেভারিট হিসেবে, তবে নরওয়ের আক্রমণভাগ আরেকটি অঘটনের সুযোগ করে দিতে পারে। হালান্ড এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড। ওদিকে ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা আর নুসার গতি ১৯৯৮ সালের সেই সুশৃঙ্খল, পাল্টা আক্রমণনির্ভর দলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এক হুমকি তৈরি করছে।

    বর্তমানে নরওয়ের শীর্ষ লিগের ক্লাব আলেসুন্দ এফকের কোচ এবং বিশ্বকাপ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করা রেকডাল স্টুডিও থেকেই দেখবেন, তাকে জাতীয় নায়ক বানানো সেই ফলাফল আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে কি না নরওয়ে।

    তার ভবিষ্যদ্বাণী স্পষ্ট, ‘নরওয়ে দুই-এক গোলে জিতবে। ফুটবলে ইতিহাস নিজে নিজেই ফিরে আসে। আসলেই এটা প্রায়ই ঘটে।’

  • শেষ ১৬–এর সূচি চূড়ান্ত, কে কার প্রতিপক্ষ, দেখেনিন

    শেষ ১৬–এর সূচি চূড়ান্ত, কে কার প্রতিপক্ষ, দেখেনিন

    কানসাস সিটিতে কলম্বিয়া বনাম ঘানার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শেষ হলো চলমান বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এর লড়াই। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ঘানাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে রাউন্ড অব ১৬–তে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হলো শেষ ১৬–এর লাইনআপ।

    রাউন্ড অব ৩২ থেকে বাদ পড়ল ১৬ দল। অর্থাৎ ৪৮ দল নিয়ে নতুন ফরম্যাটের বিশ্বকাপে টিকে আছে আর মাত্র ১৬টি দল। এই ১৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে রাউন্ড অব সিক্সটিনের লড়াই।

    আজ (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে কানাডা বনাম মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে রাউন্ড অব সিক্সটিন পর্বের লড়াই। রাতেই আরেক ম্যাচে ফ্রান্স খেলবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে।

    আগামী ৭ জুলাই রাতে সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া ম্যাচ দিয়ে শেষ হবে শেষ ১৬ পর্বের খেলা।

     

    শেষ ষোলোর পূর্ণাঙ্গ সূচি দেয়া হলো–

    ৪ জুলাই (রাত ১১টা); হিউস্টন স্টেডিয়াম: কানাডা–মরক্কো

    ৪ জুলাই (রাত ১১টা); ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম: প্যারাগুয়ে–ফ্রান্স

    ৫ জুলাই (রাত ২টা); নিউজার্সি স্টেডিয়াম: ব্রাজিল–নরওয়ে

    ৬ জুলাই (ভোর ৬টা); মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম: মেক্সিকো–ইংল্যান্ড

    ৬ জুলাই (রাত ১টা); ডালাস স্টেডিয়াম: পর্তুগাল–স্পেন

    ৭ জুলাই (ভোর ৬টা); সিয়াটল স্টেডিয়াম: যুক্তরাষ্ট্র–বেলজিয়াম

    ৭ জুলাই (রাত ১০টা); আটলান্টা স্টেডিয়াম: আর্জেন্টিনা–মিসর

    ৭ জুলাই (রাত ২টা); বিসি প্লেস: সুইজারল্যান্ড–কলম্বিয়া

  • কেপ ভার্দে নাকি আর্জেন্টিনা কে জিতবে? ভবি’ষ্যদ্বা’ণী সুপার ক’ম্পিউ’টারের

    কেপ ভার্দে নাকি আর্জেন্টিনা কে জিতবে? ভবি’ষ্যদ্বা’ণী সুপার ক’ম্পিউ’টারের

    ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার লড়াইয়ে শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নেয়া কেপ ভার্দে। কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেবারিট হলেও বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।
     
    পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারও আর্জেন্টিনাকেই এগিয়ে রাখছে। ম্যাচের আগে ২৫ হাজারবার সিমুলেশন চালিয়ে তারা দেখেছে, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ। কেপ ভার্দের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৬.৮ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১২.৩ শতাংশ।

    অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকার বিবেচনায় নিলে আর্জেন্টিনার পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা ৮৯.৪ শতাংশ, যেখানে কেপ ভার্দের সম্ভাবনা মাত্র ১০.৬ শতাংশ।
     
    চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুই দলই অপরাজিত। গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় লিওনেল স্কালোনির দল। জিওভানি লো সেলসোর ফ্রি-কিক, লাউতারো মার্তিনেজের পেনাল্টি এবং বদলি হিসেবে নেমে লিওনেল মেসির গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেদের।

    অন্যদিকে স্পেন, সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে নিয়ে কঠিন গ্রুপে তিনটি ম্যাচই ড্র করে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অভিষেকেই অপরাজিত থেকে নকআউটে ওঠা প্রথম দল হিসেবে ২০০২ সালের সেনেগালের পর ইতিহাস গড়েছে তারা।
     
    জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়েছেন লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হয়েছেন তিনি। এই সাত ম্যাচে মেসির গোল ১১টি। এ ছাড়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে মেসি পাঁচ গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে মোট নয়টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন।

    অন্যদিকে, কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। দলটির ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া চলতি বিশ্বকাপে দুটি ক্লিন শিট রেখেছেন। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক ক্লিন শিট রাখা গোলরক্ষকদের তালিকায় তিনি জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তি পিটার শিলটন ও দিনো জফের পাশে।

    এটি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ইতিহাসের প্রথম মুখোমুখি লড়াই। বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের শেষ সাতটি ম্যাচ জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে আফ্রিকান দলের কাছে প্রথম ধাক্কা খেয়েছিল তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে অভিষেকেই নকআউট পর্বে বর্তমান চ্যাম্পিয়নের মুখোমুখি হওয়া ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল কেপ ভার্দে।

  • বি’শ্বকাপ জ’য়ে চার ফে’বারিটের নাম জানালেন ব্রাজিলিয়ান কিং’বদ’ন্তি রোনাল্ডো

    বি’শ্বকাপ জ’য়ে চার ফে’বারিটের নাম জানালেন ব্রাজিলিয়ান কিং’বদ’ন্তি রোনাল্ডো

    নকআউট পর্ব শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই নিয়েও আলোচনা জমে উঠেছে। কে এগিয়ে, কোন দল সবচেয়ে বড় দাবিদার এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনাল্ডো নাজারিও। তার চোখে এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী চারটি দল হলো ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও জার্মানি (ইতোমধ্যে জার্মানি বিদায় নিয়েছে)। তবে একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক সময়ে ছন্দে ফিরতে পারলে ব্রাজিলও শিরোপা জয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

    জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচের আগে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো বলেন, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে এসে শক্তির বিচারে কয়েকটি দল অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তার মতে, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা ও স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ফুটবল খেলছে। আর জার্মানি (ইতোমধ্যে জার্মানি বিদায় নিয়েছে) এমন একটি দল, যারা বড় আসরে কখনোই অবহেলার সুযোগ দেয় না। এই চার দলই ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

    তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তির কথা বললেও নিজের দেশের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী রোনাল্ডো। তার বিশ্বাস, ব্রাজিলের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে নেইমারের পারফরম্যান্সের ওপর। দীর্ঘ সময় ইনজুরিতে থাকার পর ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে ফিরেছেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরেছেন তিনি।

    রোনাল্ডোর মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে নেইমারের মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আর কোনো ফুটবলারের নেই। তিনি বলেন, নেইমার এখন পুরোপুরি ফিট এবং চিকিৎসকদের অনুমতিও পেয়েছেন। তাই নকআউট পর্বে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে সমালোচকদের জবাব দেয়ার সুযোগ তার সামনে রয়েছে।

    নিজের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করেছেন ব্রাজিলের দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। ২০০২ বিশ্বকাপের আগে গুরুতর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানোর স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, বড় চোটের পর আবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে আসা কতটা কঠিন, তা তিনি খুব ভালো করেই জানেন। সেই কারণেই নেইমারের প্রত্যাবর্তন তাকে রোমাঞ্চিত করছে। রোনাল্ডোর ভাষায়, নেইমারের আর কাউকে কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। তবে নিজের সেরা ফুটবল খেলতে পারলে তিনি আবারও সবাইকে ভুল প্রমাণ করতে পারবেন।

    যদিও এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত পারফর্মার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চার গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে রয়েছেন এবং আক্রমণভাগে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে রোনাল্ডো মনে করেন, ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত ফর্মের সঙ্গে যদি নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা যোগ হয়, তাহলে ব্রাজিলের আক্রমণ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই এখন বাঁচা-মরার লড়াই। এমন সময়ে ব্রাজিলের সামনে যেমন কঠিন প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা ‘হেক্সা’ জয়ের স্বপ্নও। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডো।

  • কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় দুঃ’সং’বাদ পেল আর্জেন্টিনা

    কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় দুঃ’সং’বাদ পেল আর্জেন্টিনা

    বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কারটা মাঠের বাইরেও পেয়ে গেল ফ্রান্স। নকআউট পর্বে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দুই নম্বরে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২ তে নিজেদের ম্যাচের আগেই এটি লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য বড় ধাক্কা।

    সম্প্রতি হালনাগাদ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে ফিফা। সেখানে ১৯১৬.২৪ পয়েন্ট নিয়ে এক নম্বরে উঠে এসেছে ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার সংগ্রহ ১৯০৭.৪০ পয়েন্ট। ১৮৭৯.৫৮ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে স্পেন।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফ্রান্স ছিল তিন নম্বরে। তখন তাদের রেটিং ছিল ১৮৬৯.৪৩ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয় এবং শেষ ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে হারানোর সুবাদে ধারাবাহিকভাবে রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়েছে ফরাসিরা। শুধু সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের জন্যই তারা পেয়েছে ৯.৪ রেটিং পয়েন্ট। সব মিলিয়ে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৯১৬.২৪, যা শীর্ষে ফেরার জন্য যথেষ্ট হয়েছে।

    অন্যদিকে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল হিসেবে আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টের আগে তাদের পয়েন্ট ছিল ১৮৭৪.৮১। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় পেলেও শেষ ৩২-এর ম্যাচ এখনো খেলেনি লিওনেল মেসিদের দল। ফলে ফ্রান্সের অতিরিক্ত পয়েন্ট অর্জনের পর দ্বিতীয় স্থানে নেমে যেতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

    আগামী শনিবার (৪ জুলাই) রাউন্ড অব ৩২’র ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। তবে সেই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে না স্কালোনির দল। কারণ, ফিফার রেটিং পদ্ধতিতে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা বিবেচনা করে পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় থেকে রেটিং পয়েন্ট কম পাওয়া যায়। আবার অপ্রত্যাশিত হার হলে বড় ধরনের পয়েন্ট কাটা যায়।

    বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত ফ্রান্সই ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে তারা তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। সেই সুযোগে আর্জেন্টিনা উঠে আসে এক নম্বরে, স্পেন ছিল দুইয়ে। বিশ্বকাপে টানা জয়ের ধারায় আবারও হারানো সিংহাসন ফিরে পেল ফরাসিরা।

    র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশেও এসেছে কয়েকটি পরিবর্তন। ১৮৪০.৪৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে ইংল্যান্ড। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল উঠে এসেছে পাঁচ নম্বরে। গ্রুপ পর্বে শতভাগ সাফল্যের পর শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৯.৭৩ রেটিং পয়েন্ট যোগ করেছে সেলেসাওরা। তাদের মোট পয়েন্ট এখন ১৮০৪.৯২।

    এক ধাপ করে উন্নতি হয়েছে মরক্কো ও নেদারল্যান্ডসের। মরক্কো এখন ছয়ে এবং নেদারল্যান্ডস সাতে। যদিও শেষ ৩২ এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে ডাচরা। অন্যদিকে তিন ধাপ পিছিয়ে আট নম্বরে নেমে গেছে পর্তুগাল।

    সবচেয়ে বড় অগ্রগতি করেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। চার ধাপ এগিয়ে তারা উঠে এসেছে নবম স্থানে। বেলজিয়াম রয়েছে দশ নম্বরে।

    ফিফার রেটিং এখন আগের তুলনায় আরও গতিশীল। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ম্যাচ চলাকালীন গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেটিংয়ের হিসাব রিয়েল-টাইমে হালনাগাদ হচ্ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ আগের মতোই রয়েছে ১৮১তম স্থানে।

    র‍্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্যও আবার সামনে এসেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে কোনো দল এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এবার সেই পরিসংখ্যান বদলাতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের বাকি পথ পেরোনোর পর।

    ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০
    ১. ফ্রান্স: ১৯১৬.২৪ পয়েন্ট।
    ২. আর্জেন্টিনা: ১৯০৭.৪০ পয়েন্ট।
    ৩. স্পেন: ১৮৭৯.৫৮ পয়েন্ট।
    ৪. ইংল্যান্ড: ১৮৪০.৪৬ পয়েন্ট।
    ৫. ব্রাজিল: ১৮০৪.৯২ পয়েন্ট।
    ৬. মরক্কো: ১৭৮৮.৮৬ পয়েন্ট।
    ৭. নেদারল্যান্ডস: ১৭৭৫.৫৪ পয়েন্ট।
    ৮. পর্তুগাল: ১৭৬৪.৮৬ পয়েন্ট।
    ৯. মেক্সিকো: ১৭৫৪.৩০ পয়েন্ট।
    ১০. বেলজিয়াম: ১৭৩৫.৪১ পয়েন্ট।

  • সেনেগালের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?

    সেনেগালের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের রাউন্ড অব ৩২-এ বেলজিয়াম ও সেনেগালের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ আটে উঠেছে বেলজিয়াম। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে দেওয়া একটি বিতর্কিত পেনাল্টি, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে তুমুল বিতর্ক।

    ম্যাচের ১২০তম মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারা বক্সের ভেতরে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে থামাতে স্লাইড ট্যাকল করেন। প্রথমে রেফারি সাইদ মার্তিনেজ কোনো ফাউলের সিদ্ধান্ত দেননি। পরে ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টি দেন। সেই পেনাল্টি থেকেই আসে ম্যাচের নির্ধারণী গোল।

    রেফারির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল মনে করেন, এটি পেনাল্টি হওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি রয় কিন বলেন, পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি কিছুটা কঠোর ছিল। পাশাপাশি রেফারি মনিটর দেখতে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও দৃঢ়তা থাকা উচিত ছিল।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করেন সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। খেলোয়াড়দের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই পেনাল্টিই আমাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   

    ম্যাচে দীর্ঘ সময় আধিপত্য ধরে রেখেছিল সেনেগাল। হাবিব দিয়ারা ও ইসমাইলা সারের গোলে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমান্স গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। পরে অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া বিতর্কিত পেনাল্টিতে জয় নিশ্চিত করে ইউরোপের দলটি।

    হারের হতাশা প্রকাশ করে থিয়াও বলেন, ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু ফুটবল ৮৫ মিনিটের খেলা নয়। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরে এসেছে এবং আমরা সেই চাপ সামলাতে পারিনি।

    এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পোর্টিং নিউজ’ রেফারির সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওভারহেড ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় লামিন কামারার ট্যাকল টিলেমান্সের পায়ের খুব কাছ দিয়ে যায় এবং সামান্য সংস্পর্শও হয়ে থাকতে পারে। ভিএআর প্রটোকল অনুসারে কোনো খেলোয়াড়কে অবৈধভাবে বাধা দেওয়া হলে তা ফাউল হিসেবে গণ্য হয়। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই মার্তিনেজ পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।