Blog

  • রা’তে ঘু’ম আসছে না? একজোড়া মো’জাই হতে পারে সহজ স’মাধান

    রা’তে ঘু’ম আসছে না? একজোড়া মো’জাই হতে পারে সহজ স’মাধান

    বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করা বা অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য একজোড়া সাধারণ মোজা হতে পারে কার্যকর সমাধান। শুনতে কিছুটা অপ্রচলিত মনে হলেও, ঘুমের আগে পা উষ্ণ রাখার এই অভ্যাসের পেছনে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পা উষ্ণ রাখলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, যা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে এবং দীর্ঘসময় নিরবচ্ছিন্ন ঘুমে সহায়তা করে।

    ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুমের প্রক্রিয়ার সঙ্গে শরীরের মূল তাপমাত্রার (কোর টেম্পারেচার) ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমাতে শুরু করে। পা উষ্ণ রাখলে হাত ও পায়ের রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ভাসোডিলেশন’। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ প্রান্তীয় অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, যা মূল তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। ফলে মস্তিষ্ক দ্রুত ঘুমের সংকেত পায়।

    ‘জার্নাল অব ফিজিওলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিছানায় মোজা পরার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ছয়জন তরুণের ওপর পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, মোজা পরে ঘুমালে অংশগ্রহণকারীরা স্বাভাবিকের চেয়ে গড়ে ৭.৫ মিনিট আগে ঘুমিয়ে পড়তে সক্ষম হন। এছাড়া তাদের মোট ঘুমের সময় প্রায় ৩২ মিনিট বৃদ্ধি পায় এবং রাতে হঠাৎ জেগে ওঠার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মোজা ব্যবহারের ফলে ঘুমের সামগ্রিক দক্ষতা প্রায় ৭.৬ শতাংশ উন্নত হয়েছে।

    পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজা পরার কারণে অংশগ্রহণকারীদের পায়ের তাপমাত্রা গড়ে ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছিল। গবেষকরা জানান, উষ্ণ পা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বাইরে ছড়িয়ে দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা ঘুমের স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষণাটি অল্প সংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হওয়ায় এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

    তা সত্ত্বেও, যারা রাতে পা ঠান্ডা থাকার কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন বা দেরিতে ঘুমানোর সমস্যায় রয়েছেন, তাদের জন্য আরামদায়ক মোজা ব্যবহার একটি কার্যকর ঘরোয়া কৌশল হতে পারে। প্রাচীন এই অভ্যাসটি যে কেবল আরামদায়ক নয় বরং এর পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, তা এই গবেষণার মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো।

  • আপনার ফো’ন হা’রিয়েছে? সু’রক্ষা’য় এখনই করুন এই ৫ কা’জ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    আপনার ফো’ন হা’রিয়েছে? সু’রক্ষা’য় এখনই করুন এই ৫ কা’জ, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার মতো বিরক্তিকর পরিস্থিতি এই যেযেন একেকটি ছোটখাটো দুঃস্বপ্ন, কারণ আমাদের পুরো দুনিয়াটাই ওই ছোট্ট যন্ত্রটির ভেতর বন্দি থাকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ছবি বা জরুরি চ্যাট। এমন বিপদে পড়লে ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যা আপনার গোপনীয়তা এবং অর্থ-কড়িকে সুরক্ষিত রাখবে।

    সিম কার্ডটা সবার আগে বন্ধ করুন: ফোন হারানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটা লক করিয়ে দিন। কারণ, ওই নম্বরের ওটিপি হাতে পেলে হ্যাকাররা আপনার সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট মুহূর্তেই কবজা করে নিতে পারে। পরে দরকার হলে একই নম্বর দিয়ে নতুন সিম তুলে নেওয়া যাবে।

    ব্যাংক ও পেমেন্ট অ্যাপগুলো সুরক্ষিত করুন: আপনার ব্যাংকগুলোকে ফোন করে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং ইউপিআই পরিষেবাগুলো সঙ্গে সঙ্গে সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বলুন। ফোনে থাকা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডগুলোর তথ্য যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, তাই সেগুলোও ব্লক করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    দূর থেকেই ফোনটা লক করে দিন: আপনার ফোনটি যদি অ্যান্ড্রয়েড হয়, তবে গুগলের ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ ব্যবহার করুন, আর আইফোন হলে অ্যাপলের আইক্লাউড সার্ভিস দিয়ে ফোনটিকে রিমোটলি লক বা রিসেট করে ফেলুন। এতে ফোনটা যার হাতেই যাক না কেন, আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো অন্তত সুরক্ষিত থাকবে।

    আইএমইআই নম্বর ব্লক করুন: ফোন ফিরে পাওয়ার আশা না থাকলে তার আইএমইআই নম্বরটি ব্লক করে দিন । এটি করা হলে ফোনটি যেকোনো মোবাইল নেটওয়ার্কে পুরোপুরি ব্লক বা অকেজো হয়ে যায়, ফলে চোরেরা ডিভাইসটি আর কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবে না।

    পুলিশে একটা জিডি রাখুন: ফোনটি যদি চুরি হয়ে গিয়ে থাকে, তবে অবশ্যই নিকটস্থ থানায় গিয়ে দ্রুত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অভিযোগ করে রাখুন। ভবিষ্যতে যদি ফোনটির অপব্যবহার করে কোনো বেআইনি কাজ করা হয়, তখন পুলিশের এই লিখিত অভিযোগটি আপনার আইনি সুরক্ষার বড় প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে।

  • এসএসসিতে ফে’ল করা শি’ক্ষার্থীদের জন্য সু’খবর

    এসএসসিতে ফে’ল করা শি’ক্ষার্থীদের জন্য সু’খবর

    সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র কোনোভাবেই বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

    তিনি বলেন, আগের সরকার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকরভাবে ভাবেনি। তবে বর্তমান সরকার এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

    সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

    মাহদী আমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা বইয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি।’

    তিনি বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত জিপিএ ও সঠিক ফলাফল পেয়েছে।

    মাহদী আমিন আরও বলেন, পরীক্ষার ফল ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা ও ফলাফল সামনে আনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ফলাফলের কারণে মূলধারার শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের বিকল্প দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • ও’জন নি’য়ন্ত্রণে চাইলে এই ৭টি খা’বার কমান, বিক’ল্প জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    ও’জন নি’য়ন্ত্রণে চাইলে এই ৭টি খা’বার কমান, বিক’ল্প জানালেন পু’ষ্টিবি’দ

    ওজন কমানোর জন্য সবসময় কঠোর ডায়েট বা পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমানোই হতে পারে কার্যকর উপায়।

    নিজের ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা থেকেই এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ সুদীক্ষা। ৮৯ কেজি থেকে ৭৫ কেজিতে ওজন কমানোর পর তিনি নিয়মিত নিজের অভিজ্ঞতা ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তিনি এমন সাতটি পরিচিত খাবার ও পানীয়ের তালিকা দিয়েছেন, যেগুলো ওজন কমানোর সময় সীমিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি এসব খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্পও জানিয়েছেন তিনি।

    ১. চিনিযুক্ত পানীয়

    কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস কিংবা অতিরিক্ত চিনি দেয়া পানীয় খুব সহজেই শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে। কিন্তু এসব পানীয় সাধারণত দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে পারে না। পুষ্টিবিদ সুদীক্ষার মতে, অতিরিক্ত চিনি শরীরে চর্বি জমা এবং সাময়িক পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বিকল্প হিসেবে লেবু-পানি, ডাবের পানি বা গ্রিন টি বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে ডাবের পানিতেও প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি থাকে, তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

    ২. সাদা পাউরুটি

    সাদা পাউরুটি সাধারণত পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এতে পূর্ণশস্যের তুলনায় আঁশ কম থাকে। ফলে এটি খাওয়ার পর দ্রুত আবার ক্ষুধা লাগতে পারে। সুদীক্ষার পরামর্শ, সাদা পাউরুটির পরিবর্তে হোল-হুইট বা মাল্টিগ্রেইন ব্রেড বেছে নেয়া যেতে পারে। সকালের নাশতায় ওটসও ভালো বিকল্প হতে পারে।

    ৩. চিপস ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস

    চিপস, চানাচুরসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত স্ন্যাকসে ক্যালরি ও লবণের পরিমাণ বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে সাময়িকভাবে পানি ধরে রাখতে পারে, যার ফলে মুখ বা শরীর কিছুটা ফোলা মনে হতে পারে। তাই ক্ষুধা পেলে প্যাকেটজাত খাবারের বদলে ভাজা মাখানা, ভাজা ছোলা বা পরিমাণমতো বাদাম খেতে পারেন।

    ৪. ফাস্টফুড ও বার্গার

    বার্গার, ফ্রাই, পিজ্জা বা অন্যান্য ফাস্টফুডে অল্প পরিমাণ খাবারেই তুলনামূলক বেশি ক্যালরি থাকতে পারে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা সহজ হয়। ওজন কমানোর সময়ে বাইরে থেকে ফাস্টফুড কেনার পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি খাবার বেছে নেয়া ভালো। যেমন ঘরে তৈরি স্যান্ডউইচ, পনিরের র‍্যাপ বা হোল-হুইট র‍্যাপ। এতে উপকরণ ও পরিমাণ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    ৫. আইসক্রিম

    আইসক্রিমে যোগ করা চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ বেশ বেশি হতে পারে, বিশেষ করে বড় পরিবেশন খেলে। তাই ওজন কমানোর সময় প্রতিদিন আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে ফলের সঙ্গে গ্রিক ইয়োগার্ট, হিমায়িত কলার স্মুদি কিংবা অল্প পরিমাণ ডার্ক চকলেট বেছে নিতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে আইসক্রিম একেবারেই খাওয়া যাবে না। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে।

    ৬. অ্যালকোহল

    অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় থেকেও শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হতে পারে। পাশাপাশি এটি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও বাড়াতে পারে। বিকল্প হিসেবে লেবু দেয়া স্পার্কলিং ওয়াটার বা ইনফিউজড পানি পান করা যেতে পারে। তাজা ফলের রসও নেওয়া যায়, তবে তাতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো।

    ৭. প্রক্রিয়াজাত মাংস

    সসেজ, সালামি, বেকনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংসে লবণ বা সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে সাময়িক পানি ধরে রাখতে পারে এবং এর ফলে পেট ফাঁপা বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। এসব খাবারের পরিবর্তে ডিম, গ্রিলড চিকেন, টোফু বা পনির বেছে নেওয়া যেতে পারে।

    পুষ্টিবিদ সুদীক্ষার পরামর্শের মূল বিষয় হলো ওজন কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি খাবারকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে কত ক্যালরি গ্রহণ করছেন, কতটা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকছেন এবং খাদ্যাভ্যাস কতটা নিয়মিত এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

  • না’রী-পু’রুষের কার কতটুকু পা’নি পা’ন করা উ’চিত? জেনে নিন

    না’রী-পু’রুষের কার কতটুকু পা’নি পা’ন করা উ’চিত? জেনে নিন

    আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। তবে ‘প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করতে হবে’— এই বহুল প্রচলিত নিয়মটি আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু আসলেই কি সবার জন্য পানির চাহিদা একই?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘হেলথলাইন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন মানুষের প্রতিদিন ঠিক কতটুকু পানি পান করা উচিত তা মূলত তার ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

    আমেরিকার স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিন’-এর একটি গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা জানান, পানির এই প্রয়োজনীয়তা মূলত বয়স, লিঙ্গ, দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম এবং বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়।

    আসুন জেনে নেওয়া যাক, আমাদের শরীরে পানির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং নারী-পুরুষের কার দৈনিক কতটা পানি পান করা উচিত।

    কার কতটুকু তরল বা পানি প্রয়োজন?

    ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন-এর সুপারিশকৃত পর্যাপ্ত গ্রহণের মাত্রা (Adequate Intake বা AI) অনুযায়ী বয়স ও লিঙ্গভেদে তরল গ্রহণের দৈনিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো—

    ১. প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ (১৯ বছর বা তার বেশি)

    পুরুষ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ৩.৭ লিটার (বা ১৩১ আউন্স) তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে খাবার বা পানীয় বাদে অন্তত ১৩ কাপ (বা ১০৪ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে।

    নারী: একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর দৈনিক সামগ্রিকভাবে প্রায় ২.৭ লিটার (বা ৯৫ আউন্স) তরল প্রয়োজন। যার মধ্যে অন্তত ৯ কাপ (বা ৭২ আউন্স) পানি সরাসরি তরল পানীয় থেকে আসতে হবে।

    উল্লেখ্য, আমাদের দৈনিক মোট তরল চাহিদার একটি বড় অংশ কিন্তু আমরা যে খাবার খাই (যেমন ফলমূল ও শাকসবজি), তা থেকেও আমাদের শরীর পেয়ে থাকে।‌

    ২. অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদায়ী মায়েদের বিশেষ চাহিদা

    গর্ভধারণ বা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ে শরীরে তরলের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীর দৈনিক অন্তত ৮০ আউন্স বা ১০ কাপ পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর স্তন্যদায়ী মায়ের জন্য দৈনিক প্রায় ১০৪ আউন্স বা ১৩ কাপ পানি পান করা প্রয়োজন।

    ৩. শিশু ও কিশোর-কিশোরী

    শিশুদের পানির চাহিদা তাদের বয়সের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়—

    ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৪০ আউন্স বা ৫ কাপ পানি।

    ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ৫৬ থেকে ৬৪ আউন্স বা ৭ থেকে ৮ কাপ পানি।

    ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী: দৈনিক ৬৪ থেকে ৮৮ আউন্স বা ৮ থেকে ১১ কাপ পানি।

    কখন পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে?

    আপনার স্বাভাবিক দৈনন্দিন চাহিদার বাইরেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পানির পরিমাণ বাড়াতে হতে পারে—

    ব্যায়াম বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম: আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তবে আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ (এসিই)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যায়াম শুরু করার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে ১৭ থেকে ২০ আউন্স এবং ব্যায়ামের ঠিক আগে ও পরে আরও ৮ আউন্স পানি পান করা উচিত। যদি ব্যায়াম এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে, তবে তরল গ্রহণের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে।

    উষ্ণ আবহাওয়া ও উচ্চতা: অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,২০০ ফুটের বেশি উঁচুতে অবস্থান করলে শরীরে পানির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

    অসুস্থতা: আপনার যদি জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হয়, তবে শরীর দ্রুত পানি হারায়। এই সময়ে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি এবং প্রয়োজনে ইলেকট্রোলাইইট সমৃদ্ধ খাবার স্যালাইন বা পানীয় পান করা উচিত।

    কেন পানি পান করা এত জরুরি?

    আমেরিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর মতে, শরীরের প্রতিটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সচল রাখতে পানি অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। পানি পানের মূল উপকারিতাগুলো হলো:

    শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে বজায় রাখা।

    হাড়ের জয়েন্ট বা সংযোগস্থলগুলোকে পিচ্ছিল ও সুরক্ষিত রাখা।

    মেরুদণ্ড এবং অন্যান্য সংবেদনশীল টিস্যুকে সুরক্ষা দেওয়া।

    প্রস্রাব, ঘাম ও মলত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য দূর করা।

    এছাড়াও, ২০১৮ সালের একটি গবেষণার দীর্ঘ পর্যালোচনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বৃহত্তম অঙ্গ অর্থাৎ ত্বক সুস্থ, সতেজ এবং আর্দ্র থাকে।

    কম বা বেশি পানি পানের ঝুঁকি

    সীমার চেয়ে কম কিংবা বেশি উভয় প্রকার পানি পানই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—

    পানিশূন্যতা: শরীর যখন গ্রহণের চেয়ে বেশি পানি বা তরল হারায়, তখন ডিহাইড্রেশন ঘটে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখ ও জিব শুকিয়ে যাওয়া, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া (শিশুদের ক্ষেত্রে), অল্প বা গাড়ো প্রস্রাব হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি এবং মেজাজের পরিবর্তন। তীব্র ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে শিরায় স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

    হাইপোনাট্রেমিয়া: খুব দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত হ্রাস পেতে পারে, যা হাইপোনাট্রেমিয়া বা ‘ওয়াটার ইনটক্সিকেশন’ নামে পরিচিত। এর ফলে মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, ক্লান্তি, বমি ভাব, পেশির টান এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা কোমা হতে পারে। সাধারণত শিশু, ছোট গড়নের মানুষ এবং ম্যারাথন দৌড়বিদদের মতো অ্যাথলেট যারা দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের পর দ্রুত অতিরিক্ত পানি পান করেন, তাদের এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

    সহজেই হাইড্রেটেড থাকার কিছু টিপস

    ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে এই সহজ অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন—

    ১. পানিযুক্ত খাবার গ্রহণ: তরমুজ, পালংশাক, শসা, সবুজ ক্যাপসিকাম, ব্লুবেরি, ফুলকপি, মুলা ও সেলারির মতো পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখুন।

    ২. বোতল সঙ্গে রাখুন: জিমে, অফিসে বা ভ্রমণের সময় সবসময় নিজের সঙ্গে পানির বোতল রাখার অভ্যাস করুন।

    ৩. তরল বা পানীয়ের বৈচিত্র্য: শুধু সাধারণ পানিই নয়; চিনি ছাড়া দুধ, চা বা ব্রথ (ঝোল) থেকেও শরীরে পানির চাহিদা পূরণ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত সোডা, জুস বা অ্যালকোহল জাতীয় চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।

    ৪. পানিতে ভিন্ন স্বাদ যোগ করুন: সাধারণ পানির একঘেয়েমি দূর করতে পানিতে কিছুটা তাজা লেবু বা কমলার রস চিপে নিতে পারেন।

  • নতুন পে স্কে’ল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

    নতুন পে স্কে’ল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে

    দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে সরকারি চাকরিজীবীদের। নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে।

    সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন হলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। এরপর প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। 

    পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে যেভাবে
    নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থসংস্থান।

    নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগের হিসাবেও বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ অতিরিক্ত ব্যয়ের বড় অঙ্ক উঠে এসেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতন ১৪ হাজার ৪ কোটি, কর্মচারীদের বেতন ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি এবং বিভিন্ন ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা।

    পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।

     

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কার্যকর করা হবে। এর আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছিল।

    কিন্তু তাতে অনেক কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে বিদ্যমান কাঠামোয় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে কারও কারও বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, নতুন বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করলে প্রকৃত সুবিধা খুব কম হতে পারে। পরে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের দিকে যায় সরকার।

    গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর থেকেই গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিজীবীরা। তবে এটি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক অর্থনীতিও জড়িত। 

    সরকারের বর্তমান লক্ষ্য সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা। সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসের বেতন পুনর্নির্ধারণ করে বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

  • ফ্যা’মিলি কা’র্ড পাচ্ছেন না ৮ শ্রেণির মা’নুষ

    ফ্যা’মিলি কা’র্ড পাচ্ছেন না ৮ শ্রেণির মা’নুষ

    দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে সমন্বিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এ নীতিমালার মাধ্যমে আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হলো।

    নতুন এ নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ৮ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে সুবিধার বাইরে রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রায় ২ কোটি নারী পরিবার প্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের লক্ষ্যভুক্ত দরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারসমূহের খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবনধারণের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা হবে।

    এতে আরো বলা হয়েছে, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬-এ একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক ‘সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।

    এর মূল দর্শন হলো- “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক”। এ দর্শনের আলোকে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারসমূহকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

    নীতিমালায় বলা আছে, বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি একক ও ডিজিটাল পরিচিতির আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে ‘ওয়ান-আইডি’ হবে এ কর্মসূচির মূল ভিত্তি। এটি কেবল একটি পরিচিতি নম্বর নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও সুসংহত ডেটা গভর্ন্যান্স কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

    আট শ্রেণির মানুষ পাবেন না ফ্যামিলি কার্ড

    নীতিমালায় ফ্যামিলি কার্ডের নগদ সহায়তা প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে একটি ‘নেগেটিভ লিস্ট’ বা বহির্ভূত তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কোনো একটি থাকলে ব্যক্তি বা পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। 

    ১. সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবে না।

    ২. পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে তিনি সুবিধার বাইরে থাকবেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না।

    ৩. পরিবারের মনোনীত নারী প্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণ করলে ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারী এ শর্তের বাইরে থাকবেন।

    ৪. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে সুবিধা মিলবে না। একইভাবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে। 

    ৫. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রোলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।

    ৬. পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে তিনি এ কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না।

    ৭. পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা হলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধার জন্য যোগ্য হবে না। 

    ৮. বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি বা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধার বাইরে থাকবে।

    একাধিক সরকারি সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই

    ফ্যামিলি কার্ডধারী মনোনীত নারী পরিবার প্রধান একই সময়ে অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সমজাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অধীনে আর্থিক, খাদ্য বা অন্য কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না।

    কোনো নারী প্রধান আগে থেকেই টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট বা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির সুবিধা পেয়ে থাকলে তার আগের সুবিধা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ যাচাইয়ের মাধ্যমে বাতিল বা স্থগিত করা হবে।

    একইভাবে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা সমজাতীয় সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণকারী নারী প্রধান ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা নেওয়ার সময় আগের সুবিধা রাখতে পারবেন না।

    তবে মনোনীত নারী প্রধান ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রচলিত নিয়মে অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

  • পে স্কে’ল নিয়ে বড় সু’খবর

    পে স্কে’ল নিয়ে বড় সু’খবর

    দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামীকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।

    অনুমোদন পেলে এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটি নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

    নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সচিব কমিটি মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।

    কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর করার ঘোষণা আগেই দেওয়া হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

    বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের জন্য নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে সরকার।

    ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন-নিট খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বাড়তি অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।

    বর্তমান অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়। গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। তবে চূড়ান্ত বেতনহার, ভাতা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।

  • নতুন পে স্কে’লে ১ম থেকে ২০তম গ্রে’ডে কার বে’তন কত?

    নতুন পে স্কে’লে ১ম থেকে ২০তম গ্রে’ডে কার বে’তন কত?

    নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা প্রকাশ হয়েছে। এতে ২০টি গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারিত রাখা হয়েছে। এরপর ২য় গ্রেডে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪র্থ গ্রেডে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    ৫ম গ্রেডে মূল বেতন ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা এবং ৭ম গ্রেডে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ৮ম গ্রেডে প্রস্তাবিত মূল বেতন ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা এবং ৯ম গ্রেডে ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা।

    ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, ১১তম গ্রেডে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ ছাড়া ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা, ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা এবং ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    ১৭তম গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। 

    তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর কোনো অঙ্ককে নিশ্চিত বেতন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।  

  • ২ স’প্তাহ টানা ডি’ম খে’লেই আসবে বড় ৩ প’রিব’র্তন

    ২ স’প্তাহ টানা ডি’ম খে’লেই আসবে বড় ৩ প’রিব’র্তন

    ডিম যেন খাবারের পাতের অন্যতম প্রধান উপাদান। কোনো তরকারি নাই, ডিম ভাজি করি। হালকা খিদে লেগেছে—ডিম সেদ্ধ খাই। সকালে ভাজি, দুপুরে ডিমের ঝোল, রাতে ডিমভুনা মাসের শেষের হিসাব মেলানো থেকে শুরু করে দ্রুত পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন, সব ক্ষেত্রেই ভরসার নাম ডিম। 

    দাম তুলনামূলক কম, রান্না সহজ, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে প্রতিদিন ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে? নাকি শরীরের জন্য আরও উপকার হয়? পুষ্টিবিদদের মতে, একটানা ১৪ দিন ডিম খেলে যে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসকে বিষয়টি বিস্তারিত জানিয়েছেন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি।

    ১. চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো পুষ্টি উপাদান চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকের মতে, নিয়মিত ডিম খেলে বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

    ২. মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী

    ডিমে প্রচুর কোলিন থাকে, যা স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে অনিয়মিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে পরিমিত ডিম খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।

    ৩. স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল

    ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির মতে, ডিম শরীরের ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূত হয় এবং সারাদিন শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।  যারা ডিম খান না, তাদের জন্য ডা. শেঠি টোফুকে ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। টোফুতেও উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে।