Blog

  • ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ১১ মৃ’ত্যু, হাইকোর্টে রিট

    ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ১১ মৃ’ত্যু, হাইকোর্টে রিট

    ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।

    তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।

    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

    তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।

    ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

    সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

    ১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

  • ফ্যান চালালে মাসে কত টাকা বি’দ্যুৎ খরচ হয় জেনে নিন

    ফ্যান চালালে মাসে কত টাকা বি’দ্যুৎ খরচ হয় জেনে নিন

    গরমের তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দেশ। গরম কমাতে আমরা অটোম্যাটিকভাবেই ফ্যানের সুইচ অন করে দিই। আসলে এই তীব্র গরমে ফ্যান না চালিয়ে উপায়ও নেই। ঘর ঠান্ডা রাখা কিংবা ভাপসা ভাব দূর করতে মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র ভরসাই ফ্যান। তবে ফ্যানে আরাম মিললেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, ‘এত বিল কেন? ফ্যান কি সত্যিই এত বিদ্যুৎ খরচ করে?’

    আসলে খুব সহজ এক হিসাব করলেই বোঝা যায় প্রতিদিন চালানো ফ্যানটি মাসে ঠিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং তার বিপরীতে কত টাকা গুনতে হচ্ছে। আজকের লেখায় সেই সহজ হিসাবই ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো, যেন আপনি নিজেই সহজে ফ্যানের খরচ নির্ণয় করতে পারেন।

    ফ্যানের বিদ্যুৎ খরচ নির্ণয়ের পদ্ধতি

    .সাধারণত একটি সিলিং ফ্যান ৭০ ওয়াট থেকে ১০০ ওয়াটের হয়। ধরুন, আপনার ফ্যান ৭০ ওয়াটের।

    .প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ ব্যবহার = ৭০ ওয়াট = ০.০৭ কিলোওয়াট (১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট)

    .যদি দিনে ১০ ঘণ্টা ফ্যান চালান, তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার = ১০ × ০.০৭ = ০.৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট)

    .বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট = ৭ টাকা ৫০ পয়সা (৭.৫০ টাকা)

    .দৈনিক খরচ = ০.৭ × ৭.৫০ = ৫.২৫ টাকা

    .মাসে (৩০ দিন) খরচ = ৫.২৫ × ৩০ = ১৫৭.৫ টাকা (প্রায় ১৫৮ টাকা)

    অন্য একটি উদাহরণ

    আপনার ফ্যান যদি ১০০ ওয়াটের হয়,

    .দৈনিক ব্যবহার (১০ ঘণ্টায়) = ১০ × ১০০ ওয়াট = ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা

    .মাসে (৩০ দিনে) ব্যবহার = ১ × ৩০ = ৩০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (৩০ ইউনিট)

    .মাসিক খরচ = ৩০ × ৭.৫০ = ২২৫ টাকা

    খেয়াল রাখুন

    এই হিসাব সম্পূর্ণ নির্ভর করে ফ্যানের পাওয়ার (ওয়াট) এবং বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দামের উপর। বর্তমানে বাজারে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন আধুনিক ও এনার্জি সেভিং ফ্যান পাওয়া যায়, যেগুলোর মাসিক খরচ আরও কম হতে পারে।

    সুতরাং, আপনার ফ্যানের শক্তি (ওয়াট) এবং দৈনিক চালানোর ঘণ্টা জানা থাকলেই আপনি সহজেই মাসিক বিদ্যুৎ খরচ নির্ণয় করতে পারবেন।

     
    উল্লেখ্য,  একটি ৭০ ওয়াটের ফ্যান যদি দিনে ১০ ঘণ্টা চালানো হয়, তাহলে মাসে খরচ হবে প্রায় ১৫৮ টাকা। আর ১০০ ওয়াটের ফ্যান চালালে প্রায় ২২৫ টাকা। এই সহজ হিসাব আপনাকে আপনার বিদ্যুৎ বিল বুঝতে সাহায্য করবে এবং বাজেট পরিকল্পনায় সাহায্য করবে।
     

  • ফি’ফার নতুন নি’য়মে সু’বিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনাসহ যে ৪ দল

    ফি’ফার নতুন নি’য়মে সু’বিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনাসহ যে ৪ দল

    বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন ড্র কাঠামো চালু করেছে ফিফা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রণীত এই নিয়মের প্রভাব দেখা যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। নতুন ব্যবস্থায় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের দুই ভিন্ন অংশে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে তারা নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করলে সেমিফাইনালের আগে পরস্পরের বিপক্ষে না পড়ে।

    সে সময় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল স্পেন, দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স এবং চতুর্থ স্থানে ইংল্যান্ড। সেই অনুযায়ী স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ড্রয়ের দুই ভিন্ন অংশে রাখা হয়। একইভাবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও বিপরীত অংশে রাখা হয়।

    তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। চার দলকেই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হতো। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—চার দলই গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফলে শেষ আটের লড়াইয়ে চার দল চারটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের সামনে মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী নরওয়ে।

    ফিফার এই ড্র কাঠামোর মূল লক্ষ্য টুর্নামেন্টের শুরুর দিকেই শীর্ষ দলগুলোর মুখোমুখি লড়াই এড়িয়ে শেষ দিকে আরও বড় ও আকর্ষণীয় ম্যাচ নিশ্চিত করা। একই ধরনের সিডিং পদ্ধতি টেনিসের গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ড্রয়েও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

    একই র‍্যাঙ্কিংভিত্তিক কাঠামো সম্প্রতি ক্লাব বিশ্বকাপেও প্রয়োগ করা হয়েছিল। ওই আসরে ফাইনালে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি।

    বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলে সেমিফাইনালে দেখা যেতে পারে দুইটি হাইভোল্টেজ লড়াই—স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড।

  • এবার সুখ’বর পেলেন মি’সর কোচ

    এবার সুখ’বর পেলেন মি’সর কোচ

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে মিসর। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমবার জয় পেয়েছিল নকআউটেও। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করেছিল আফ্রিকার দলটি। যদিও বিতর্কিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও হেরেছিল ৩-২ গোলের ব্যবধানে।

    মিসরের এমন সাফল্যের পেছনে বড় অবদান দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি। এবার সেটার পুরস্কার পেলেন হোসাম হাসান। নতুন করে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন।

    এক বিবৃতিতে ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা জানান, ‘অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সানন্দে অনুমোদন করেছে।’

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ কোচকে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছাড়াই এবারের বিশ্বকাপে মিসরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে আর তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি ফেডারেশন।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তার হাত ধরে দলটি ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে।

    এবারের বিশ্বকাপে এসে যেন তিনি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফারাওদের। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় মিসর।

    পরবর্তীতে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল দলটি। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হোসাম হাসানের রণকৌশল ছিল দেখার মতো। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    কোচ হওয়ার আগে হোসাম হাসান নিজেও ছিলেন মিসরের ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯টি গোল করে তিনি এখনো দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতা এবং মাঠের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েই তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে রেখে দিল মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    মিসর ফুটবল দল হোসাম হাসান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

  • মি’সরের অ’ভিযো’গ না’কচ করলো ফিফা

    মি’সরের অ’ভিযো’গ না’কচ করলো ফিফা

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের হারের পর রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্কে এবার মুখ খুলেছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ভিএআরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের আইন অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবারের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে মিসর ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার পুরো রেফারিং দলকে বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

    মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান আরও এক ধাপ এগিয়ে ইঙ্গিত দেন, আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাত দেখানো হয়েছে।

    তিনি বলেছিলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক।’

    এই বিতর্কের মধ্যেই ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তব্যে কোলিনা বলেন, ‘রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা এই খেলায় নেই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    রেফারিংয়ে বাইরের প্রভাবের অভিযোগও সরাসরি নাকচ করে দেন কোলিনা।

    তার ভাষায়, ‘ফিফার রেফারিংয়ে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতিও নয়।’

    মিসরের অভিযোগের মূল বিষয় ছিল ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রথমত, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মারওয়ান আতিয়ার ফাউলের কারণে তাদের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়। পরে অবশ্য মিসর আবারও গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

    এ ছাড়া যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে হামদি ফাথিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করেছিলেন বলে দাবি করে মিসর। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহকে হুলিয়ান আলভারেজ ফেলে দিলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলে তারা।

    এসব অভিযোগের জবাবে কোলিনা বলেন, ভিডিও রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, মারওয়ান আতিয়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে ফাউল মানেই ফাউল। সেটি যতই সামান্য মনে হোক না কেন, যদি রেফারি মাঠে সেটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘গোল হওয়ার আগে আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কোনো ফাউল না থাকলে ভিএআর রেফারিকে সেটিই জানায়। কিন্তু প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা ফাউল। অন্যদিকে একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটি ফাউল নয়।’

    সালাহর পেনাল্টির দাবি প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, রেফারি ও ভিএআর দুজনই ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

    তার মতে, ‘মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে যা হয়েছে, সেটি স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ছিল। তাই সেখানে পেনাল্টি দেওয়ার কোনো কারণ ছিল না।’

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি আরেকটি ঘটনায়ও আলোচনা তৈরি হয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি পরে প্রত্যাহার করে ফিফা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলার পরই সেই সিদ্ধান্ত আসে। তবে কোলিনা জোর দিয়ে বলেছেন, ফিফার রেফারিং প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে পরিচালিত হয় না।

  • আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে তু’মুল বিত’র্কের পর মুখ খু’লল ফিফা

    আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে তু’মুল বিত’র্কের পর মুখ খু’লল ফিফা

    মাঠের খেলায় লড়াইটা হয়েছে অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলো থেকে প্রায় বিদায়ই করে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ মিসর। তবে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় ৩-২ গোলের।

    তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বিতর্কিত ঘটনার জন্যই ম্যাচটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত, রেফারির ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এমনকি মিসর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে।

    পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। তখন চুপ ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। অবশেষে মুখ খুলেছে তারা। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানাল ফিফা।

    বিবৃতিতে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কোনো পক্ষকে ইচ্ছাকৃত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

    এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, বড় ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হলে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা জরুরি। সেই কারণে তিনি নিজেই ঘটনাটি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষায়, ‘ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তিনি দশবারেরও বেশি দেখেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থামিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ভিএআর টিমের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও রিপ্লেও খতিয়ে দেখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কোনো দলকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সত্য যাচাই করতেই এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    ফিফা সভাপতির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চেয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে এবং ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি কেন মিসরের সমর্থকেরা হতাশ। একইসঙ্গে এটাও বুঝতে পারি, কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মনে করেন সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে– এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন।’

    ফিফা কোনো পক্ষকে খুশি করতে চায় না জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফার দায়িত্ব কোনো একটি পক্ষকে খুশি করা নয়। বরং খেলার আইন সবার জন্য সমানভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ফিফার মূল লক্ষ্য।’

    রেফারিং বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তগুলো আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো রেফারি বা সিদ্ধান্তই পর্যালোচনার বাইরে নয়।

    ফুটবলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলে আবেগ ও বিতর্ক থাকবে। তবে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহিতাই খেলাটির প্রতি বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।’

  • মি’শরকে অ’ন্যায়ভা’বে হা’রিয়ে দেওয়া হয়েছে: মামদানি

    মি’শরকে অ’ন্যায়ভা’বে হা’রিয়ে দেওয়া হয়েছে: মামদানি

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ গোলের নাটকীয় হারের পর শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। ম্যাচটিতে মিশরের বিপক্ষে যাওয়া বেশ কিছু রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলবিশ্ব যখন উত্তাল, ঠিক তখনই এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। 

    বুধবার (৮ জুলাই) তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মিশর যোগ্যতার কারণে নয়, বরং ‘স্বজনপ্রীতি’ বা পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে হেরেছে। 

    এদিন মূলত নিউইয়র্ক সিটির বাস পরিষেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ নামক একটি নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মামদানি। কিন্তু নিজের শহরের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে যাতায়াত সময় বাঁচানোর সুফল বোঝাতে গিয়ে তিনি মিশরের এই হৃদয়বিদারক পরাজয়ের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। 

    জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা যদি কাজে যাওয়ার জন্য বাসে যাতায়াত করেন, তবে কিছুটা সময় বাঁচবে। ছয় মাসের মধ্যে আপনারা বাসে ২৪ ঘণ্টা কম ব্যয় করবেন। আর এক বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে আপনারা যাতায়াতের সময় থেকে দুই দিনেরও বেশি সময় বাঁচাতে পারবেন।’ 

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই বেঁচে যাওয়া সময় মানে পরিবারের সঙ্গে সকালের নাস্তা করা। এর মানে আপনার বাচ্চার লিটল লিগ খেলায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো সময় পাওয়া। এর মানে ঘুমানোর সময়ে বাড়ি ফিরতে পারা। আর সবকিছুর ওপরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে এই বিষয়ে একমত হওয়া যে—গতকাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, এর অর্থ হলো নিউইয়র্কবাসীদের কাছে তাদের মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া।’ 

    কী ঘটেছিল সেই বিতর্কিত ম্যাচে?

    ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট অনফিল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। 

    অনেকেরই দাবি, ম্যাচের কিছু নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্তে রেফারি আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন। 

    সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধে। মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার ঠিক পরেই ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হস্তক্ষেপ করে। রেফারি ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, গোল হওয়ার ১০ সেকেন্ডেরও বেশি সময় আগে মিশরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    যদিও এর কয়েক মিনিট পরেই মিশর আরেকটি বৈধ গোল করে ঠিকই ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ে ৩ গোলের লিড পেয়ে গেলে আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ত। 

    ম্যাচের এই নাটকীয় মোড় এবং শেষ মুহূর্তের হারে মিশরীয় শিবিরের ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, দলের এক তারকা সরাসরি দাবি করেন—এই বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বা পূর্বনির্ধারিত ছিল। 

    ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আর্জেন্টিনা ফুটবল দল জোহরান মামদানি

  • তুমুল বি’তর্কের মধ্যে ফিফার ন’তুন ঘোষণা, মি’সরের জন্য বড় সুখবর

    তুমুল বি’তর্কের মধ্যে ফিফার ন’তুন ঘোষণা, মি’সরের জন্য বড় সুখবর

    চলতি ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিদায়ের শঙ্কা তৈরি করেছিল মিসর। মেসিদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিয়ে আলোচনায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

    যদিও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তবুও এবারের বিশ্বকাপে মিশরের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার প্রাইজমানি থেকে রেকর্ড ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে যাচ্ছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    এবারের আসরে ইতিহাসও গড়েছে মিসর। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় দলটি। পাশাপাশি একক কোনো বিশ্বকাপ আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে তারা।

    আক্রমণভাগেও ছিল মিসরের সেরা পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে ফারাওরা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র ও একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে।

     

    বর্তমান প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য মিসর পাচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করায় তাদের প্রাপ্তি ১০ মিলিয়ন ডলার, আর শেষ ষোলোতে ওঠার কৃতিত্বে যোগ হয়েছে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো একক আসর থেকে মিশরের সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কার।

  • রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে রেফারিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, অসাধারণ রেফারিং হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিখুঁত ছিল। আপনারাই বলুন, কোন সিদ্ধান্তটি রেফারি ভুল নিয়েছেন? প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।’

    বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগের মুহূর্ত। মিশরের দাবি, বক্সের ভেতরে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পা সালাহর পায়ে লাগার আগে বলে স্পর্শ করেছিল। এছাড়া ম্যাচের প্রথমদিকে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়, কারণ সেই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

    নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন মেসি। পেনাল্টি মিস করার হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর এক ধরনের তৃপ্তি পেয়েছি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর খুব রাগ হয়েছিল। যেভাবে শট নিয়েছি, সেটা একেবারেই ঠিক ছিল না। মনে হচ্ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি দলকে হতাশ করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর আমার জন্য ভালো কিছুই লিখে রেখেছিলেন। সমতা ফেরানোর গোলটি করতে পেরে যে স্বস্তি ও আনন্দ পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

    আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই জয়ের দাবিদার ছিল বলেও মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

    তার ভাষায়, ‘যদি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্র আরও আগেই বদলে যেত। কারণ, আমরা তখনও ভালো খেলছিলাম, এমনকি ওরা এগিয়ে যাওয়ার পরও। আমরা বেশ কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজের সুযোগগুলো তার উদাহরণ। তাদের গোলরক্ষকও অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। আমার বিশ্বাস, এই দলটি জয়েরই যোগ্য ছিল। তাই আমি খুবই খুশি।’

  • দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে (যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড) আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মাঠের বাইরের একটি খবর পেয়েছে, যা পরিস্থিতি কিছুটা বদলে দিয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় পেলেও লিওনেল স্কালোনির দলকে আবারও পেছনে ফেলেছে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ফরাসিরা।

    এই ফলাফলের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৫.৮৬, আর আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ১ হাজার ৯২৫.১৫। দুই দলের ব্যবধান এতটাই কম যে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যাচের ফল অনুযায়ী ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে এবং আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—দুই দলই এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছে।

    শুধু পরিসংখ্যানগত দিক থেকেই নয়, শীর্ষস্থান হারানোর বিষয়টি অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে। ফুটবলে ফিফা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে একটি কৌতূহলজনক তথ্য রয়েছে—বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে দল র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকে, তারা কখনোই বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে পারেনি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতির পর শীর্ষস্থান দখল করেছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের আগের প্রীতি ম্যাচগুলোর ফল এবং স্পেনের ড্রয়ের কারণে তারা এগিয়ে যায়। ওই সময় ফ্রান্স ও স্পেন ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দুই স্থানে। এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে আর্জেন্টিনা।

    অন্যদিকে, ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় এবং স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। এসব ফলাফলে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারায়। আর্জেন্টিনা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগের শেষ দুই ম্যাচ জিতে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করে।

    তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফ্রান্স আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে এবং আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। যদিও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নগণ্য।

    মজার বিষয় হলো, এই পরিবর্তন প্রতি চার বছর পরপর আলোচিত একটি কুসংস্কারকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনোই সেই অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই এক নম্বর স্থান হারানো নিঃসন্দেহে পরিসংখ্যানগতভাবে ভালো খবর নয়, তবে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক হয়তো বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না।