Blog

  • সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় তুলে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। শেষ আটের লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেসিরা। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে সামনে রেখে আকাশি-নীলদের একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। বরং আগের ম্যাচের মূল কাঠামোই ধরে রাখতে চান প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ দিকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচে দলের খেলার ধরন নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফ। তাদের বিশ্বাস, ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনাই আধিপত্য দেখিয়েছে। তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থতা এবং রক্ষণে কিছু ভুলের কারণে ম্যাচটি কঠিন হয়ে উঠেছিল।

    এ কারণে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে দুটি পজিশনে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। ডান প্রান্তের ডিফেন্ডার হিসেবে নাহুয়েল মোলিনা নাকি গঞ্জালো মন্টিয়েল খেলবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া স্ট্রাইকার হিসেবে আলভারেসের বদলে লাওতারো সুযোগ পাবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    শেষ ষোলোর ম্যাচে মোলিনা ও আলভারেস প্রত্যাশামতো খেলতে পারেননি। অন্যদিকে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ প্রভাব ফেলেছেন মন্টিয়েল ও লাওতারো। বিশেষ করে লাওতারো দ্বিতীয় গোলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তৃতীয় গোলেও নিখুঁত অ্যাসিস্ট করেন। ফলে শেষ মুহূর্তে একাদশে পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

    আগামী দুই অনুশীলনে বিভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করে দেখবেন স্কালোনি। এরপরই তিনি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষণা করবেন। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুটি পরিবর্তনের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ

    এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মোলিনা/গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার; লিওনেল মেসি এবং হুলিয়ান আলভারেস/লাওতারো মার্তিনেজ।

  • পাঁচ নদীর পানি বি’পৎসী’মার ওপরে, সাগরে স’তর্কসং’কেত

    পাঁচ নদীর পানি বি’পৎসী’মার ওপরে, সাগরে স’তর্কসং’কেত

    উজানের ঢল ও নিম্নচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে দেশের নদ-নদীর পানির বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

    শুক্রবার (১০ জুলাই) পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রের প্রকাশিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

    চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে কোথায় কত বৃষ্টি হবে, বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উজানে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

    কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

    তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

    বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে, ৪৩টিতে কমছে এবং পাঁচটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, উজান ও দেশের ভেতরে বৃষ্টির প্রবণতা আগামী কয়েক দিনের নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ : কোন বিষয়ে কত নম্বর, চূড়ান্ত হলো সিদ্ধান্ত

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ : কোন বিষয়ে কত নম্বর, চূড়ান্ত হলো সিদ্ধান্ত

    ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কাঠামো ও মানবণ্টন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। গত ৫ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। আজ বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে এই কাঠামো পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ এর প্রস্তাবিত কাঠামো সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

    জানা গেছে, পঞ্চম শ্রেণির এই বৃত্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরের হবে এবং এর জন্য শিক্ষার্থীরা সময় পাবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়োগমূলক এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরীক্ষা মূলত বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং যৌথভাবে প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং কোনো বিকল্প প্রশ্ন থাকবে না।

    কোন বিষয়ে কত নম্বর?

    জানা গেছে, বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে। যেখানে মোট ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এর মধ্যে কবি ও কবিতার নামসহ কবিতার প্রথম ৮ পঙ্ক্তি লিখনের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শব্দার্থ লিখন, বাক্য গঠন, শূন্যস্থান পূরণ, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, বিপরীত বা সমার্থক শব্দ লিখন, ভাষারীতি পরিবর্তন বা পদ নির্ণয়, অনুচ্ছেদ পড়ে প্রশ্ন তৈরিকরণ বা বিরামচিহ্ন প্রয়োগ, যুক্তবর্ণ বিভাজন, এককথায় প্রকাশ এবং ফরম পূরণ বা আবেদনপত্র লিখনের প্রতিটিতে ৫ নম্বর করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ৮ নম্বর, বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্নের জন্য ১৫ নম্বর, মূলভাব লিখনের জন্য ৫ নম্বর এবং রচনা লিখনের জন্য ১২ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ইংরেজি বিষয়েও ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাঠ্যবই (ইংলিশ ফর টুডে) থেকে একটি এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরে থেকে একটি টেক্সট বা ডায়ালগ দেওয়া থাকবে। সিন টেক্সট থেকে শব্দ মেলানো বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ে ৫ নম্বর, বাক্য গঠনে ৫ নম্বর এবং ৬টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ১৮ নম্বর থাকবে। আনসিন টেক্সট থেকে শূন্যস্থান পূরণে ৫ নম্বর এবং ৩টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য ৯ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। গ্রামার ও রাইটিং অংশে পার্টস অব স্পিচ বা টেন্স পরিবর্তনে ৫ নম্বর, সাফিক্স-প্রিফিক্স বা আর্টিকেলে ৬ নম্বর, ডব্লিউএইচ কোশ্চেন তৈরিতে ৫ নম্বর, শব্দ বা বাক্য রিঅ্যারেঞ্জ করায় ৭ নম্বর এবং ক্যাপিটালাইজেশন ও পাংচুয়েশনে ৫ নম্বর থাকবে।

    এছাড়া ফরম পূরণ বা সময়-সংখ্যার শূন্যস্থানে ৫ নম্বর, ভার্বের সঠিক রূপে ৫ নম্বর এবং লেটার, অ্যাপ্লিকেশন বা ইমেইল রাইটিং ও শর্ট কম্পোজিশনের প্রতিটিতে ১০ নম্বর করে বরাদ্দ করা হয়েছে।

    গণিত পরীক্ষায় সংক্ষিপ্ত ও যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন থাকবে। ১০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ১০ নম্বর, ১০টি শূন্যস্থান পূরণে ১০ নম্বর এবং ১৬টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নে ১৬ নম্বর থাকবে। ৪ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত যোগ্যতাভিত্তিক ৮টি বড় সমস্যা থাকবে, যার প্রতিটির মান সমান এবং মোট নম্বর ৬৪। এর মধ্যে চার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সমস্যা, লসাগু ও গসাগু, সাধারণ ও দশমিক ভগ্নাংশ, শতকরা, গড়, পরিমাপ, জ্যামিতি (চিত্র অংকন ও বৈশিষ্ট্য) এবং উপাত্ত বিন্যস্তকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ৪ থেকে ৯ নম্বর প্রশ্নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে অবশ্যই সমাধান করে দেখাতে হবে, শুধু উত্তর লিখলে কোনো নম্বর পাওয়া যাবে না।

    প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই দুটি বিষয় মিলে যৌথভাবে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে, যেখানে প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৫০ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে। উভয় বিষয়ের প্রশ্ন কাঠামো ও মানবণ্টন একই রকম করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নে ৫ নম্বর, ৫টি শূন্যস্থান পূরণ বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়ে ৫ নম্বর, ৪টি মিলকরণ প্রশ্নে ৪ নম্বর, ৬টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্নে ১২ নম্বর এবং ৪টি বিস্তৃত উত্তর প্রশ্নে ২৪ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে।

  • ফিফা থেকে বড় অ’ঙ্কের আ’র্থিক পুর’স্কার নিয়ে দেশে ফিরছে মি’শর

    ফিফা থেকে বড় অ’ঙ্কের আ’র্থিক পুর’স্কার নিয়ে দেশে ফিরছে মি’শর

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলেও এবারের আসর থেকে বড় আর্থিক প্রাপ্তি নিয়ে দেশে ফিরছে মিশর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে প্রায় ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা) পুরস্কার পেতে যাচ্ছে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করেছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচে একসময় ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। তবে শেষ দিকে লিওনেল মেসিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় মোহাম্মদ সালাহদের। 

    তবুও এবারের বিশ্বকাপ মিশরের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল অভিযান হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে জয় তুলে নেয় দলটি। এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় দাপট দেখিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।

    ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন কয়েকটি রেকর্ডও গড়েছে মিশর। বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে তারা। পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোল করার কীর্তিও গড়েছে মিশরীয়রা।

    মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বড় অর্জন এসেছে। ফিফার বর্তমান প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক ব্যয়ের জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফেডারেশন পেয়েছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলোতে ওঠার পুরস্কার হিসেবে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে ফিফার কাছ থেকে মিশরের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি এই আর্থিক প্রাপ্তিও ভবিষ্যতে দেশটির ফুটবল উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

  • এক ম্যাচ নি’ষেধা’জ্ঞার ঝুঁ’কিতে মেসি

    এক ম্যাচ নি’ষেধা’জ্ঞার ঝুঁ’কিতে মেসি

    এমএলএস-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় উপযুক্ত বা অনুমোদিত মেডিকেল কারণ ছাড়া অল-স্টার ম্যাচে অংশ না নিলে, পরবর্তী লিগের জন্য তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। খবর বোলাভিপ-এর।

    গত বছরও অত্যধিক ক্লান্তির কারণে অল-স্টার গেম থেকে ছুটি নেওয়ায় মেসি এবং তার ইন্টার মায়ামি সতীর্থ জর্দি আলবাকে এক ম্যাচের এমএলএস নিষেধাজ্ঞা পোহাতে হয়েছিল।

    চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এরই মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে, যেখানে তারা সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টে ৮ গোল নিয়ে মেসি দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যেন লিওনেল মেসির আরেকটি ইতিহাস লেখার মঞ্চ হয়ে উঠেছে। এবারের বিশ্বকাপে তিনি গড়েছেন একের পর এক নতুন কীর্তি, যেগুলোর অনেকগুলোই হয়তো দীর্ঘদিন অক্ষত থাকবে। লিওনেল মেসির সামনে এখন জাস্ট ফন্টেইনের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার সুযোগ। বিশ্বকাপের শেষ ১৬ পর্ব শেষে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মিসরের বিপক্ষে ভলি থেকে গোল করে তার গোল সংখ্যা ৮ এ পৌঁছেছে।

    এখন মেসির সামনে ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের রেকর্ড। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে ফন্টেইন এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোল করেছিলেন। সেই রেকর্ড ভাঙতে মেসির প্রয়োজন আর ৫ গোল। সামনে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য তিনটি ম্যাচ রয়েছে—কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল। 

    এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলে চারবারই ম্যাচসেরা হয়েছেন মেসি। গোলদাতার তালিকায় তার সবচেয়ে কাছাকাছি রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের এরলিং হালান্ড, দুজনেরই গোল ৭টি। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের গোল ৬টি। এরা সবাই এখনে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার দৌড়ে রয়েছেন।

  • ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ১১ মৃ’ত্যু, হাইকোর্টে রিট

    ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে ১১ মৃ’ত্যু, হাইকোর্টে রিট

    ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।

    তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।

    ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

    তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।

    ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

    সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

    ১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

  • ফ্যান চালালে মাসে কত টাকা বি’দ্যুৎ খরচ হয় জেনে নিন

    ফ্যান চালালে মাসে কত টাকা বি’দ্যুৎ খরচ হয় জেনে নিন

    গরমের তীব্র তাপদাহে পুড়ছে দেশ। গরম কমাতে আমরা অটোম্যাটিকভাবেই ফ্যানের সুইচ অন করে দিই। আসলে এই তীব্র গরমে ফ্যান না চালিয়ে উপায়ও নেই। ঘর ঠান্ডা রাখা কিংবা ভাপসা ভাব দূর করতে মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র ভরসাই ফ্যান। তবে ফ্যানে আরাম মিললেও মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন, ‘এত বিল কেন? ফ্যান কি সত্যিই এত বিদ্যুৎ খরচ করে?’

    আসলে খুব সহজ এক হিসাব করলেই বোঝা যায় প্রতিদিন চালানো ফ্যানটি মাসে ঠিক কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং তার বিপরীতে কত টাকা গুনতে হচ্ছে। আজকের লেখায় সেই সহজ হিসাবই ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো, যেন আপনি নিজেই সহজে ফ্যানের খরচ নির্ণয় করতে পারেন।

    ফ্যানের বিদ্যুৎ খরচ নির্ণয়ের পদ্ধতি

    .সাধারণত একটি সিলিং ফ্যান ৭০ ওয়াট থেকে ১০০ ওয়াটের হয়। ধরুন, আপনার ফ্যান ৭০ ওয়াটের।

    .প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুৎ ব্যবহার = ৭০ ওয়াট = ০.০৭ কিলোওয়াট (১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট)

    .যদি দিনে ১০ ঘণ্টা ফ্যান চালান, তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার = ১০ × ০.০৭ = ০.৭ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (ইউনিট)

    .বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট = ৭ টাকা ৫০ পয়সা (৭.৫০ টাকা)

    .দৈনিক খরচ = ০.৭ × ৭.৫০ = ৫.২৫ টাকা

    .মাসে (৩০ দিন) খরচ = ৫.২৫ × ৩০ = ১৫৭.৫ টাকা (প্রায় ১৫৮ টাকা)

    অন্য একটি উদাহরণ

    আপনার ফ্যান যদি ১০০ ওয়াটের হয়,

    .দৈনিক ব্যবহার (১০ ঘণ্টায়) = ১০ × ১০০ ওয়াট = ১০০০ ওয়াট-ঘণ্টা = ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা

    .মাসে (৩০ দিনে) ব্যবহার = ১ × ৩০ = ৩০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (৩০ ইউনিট)

    .মাসিক খরচ = ৩০ × ৭.৫০ = ২২৫ টাকা

    খেয়াল রাখুন

    এই হিসাব সম্পূর্ণ নির্ভর করে ফ্যানের পাওয়ার (ওয়াট) এবং বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দামের উপর। বর্তমানে বাজারে অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ হয় এমন আধুনিক ও এনার্জি সেভিং ফ্যান পাওয়া যায়, যেগুলোর মাসিক খরচ আরও কম হতে পারে।

    সুতরাং, আপনার ফ্যানের শক্তি (ওয়াট) এবং দৈনিক চালানোর ঘণ্টা জানা থাকলেই আপনি সহজেই মাসিক বিদ্যুৎ খরচ নির্ণয় করতে পারবেন।

     
    উল্লেখ্য,  একটি ৭০ ওয়াটের ফ্যান যদি দিনে ১০ ঘণ্টা চালানো হয়, তাহলে মাসে খরচ হবে প্রায় ১৫৮ টাকা। আর ১০০ ওয়াটের ফ্যান চালালে প্রায় ২২৫ টাকা। এই সহজ হিসাব আপনাকে আপনার বিদ্যুৎ বিল বুঝতে সাহায্য করবে এবং বাজেট পরিকল্পনায় সাহায্য করবে।
     

  • ফি’ফার নতুন নি’য়মে সু’বিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনাসহ যে ৪ দল

    ফি’ফার নতুন নি’য়মে সু’বিধা পাচ্ছে আর্জেন্টিনাসহ যে ৪ দল

    বিশ্বকাপে শীর্ষ দলগুলোর লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন ড্র কাঠামো চালু করেছে ফিফা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রণীত এই নিয়মের প্রভাব দেখা যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে। নতুন ব্যবস্থায় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলকে ড্রয়ের দুই ভিন্ন অংশে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে তারা নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করলে সেমিফাইনালের আগে পরস্পরের বিপক্ষে না পড়ে।

    সে সময় ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল স্পেন, দ্বিতীয় স্থানে আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স এবং চতুর্থ স্থানে ইংল্যান্ড। সেই অনুযায়ী স্পেন ও আর্জেন্টিনাকে ড্রয়ের দুই ভিন্ন অংশে রাখা হয়। একইভাবে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকেও বিপরীত অংশে রাখা হয়।

    তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। চার দলকেই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে হতো। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে। স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—চার দলই গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

    ফলে শেষ আটের লড়াইয়ে চার দল চারটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্সের সামনে মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী নরওয়ে।

    ফিফার এই ড্র কাঠামোর মূল লক্ষ্য টুর্নামেন্টের শুরুর দিকেই শীর্ষ দলগুলোর মুখোমুখি লড়াই এড়িয়ে শেষ দিকে আরও বড় ও আকর্ষণীয় ম্যাচ নিশ্চিত করা। একই ধরনের সিডিং পদ্ধতি টেনিসের গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ড্রয়েও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

    একই র‍্যাঙ্কিংভিত্তিক কাঠামো সম্প্রতি ক্লাব বিশ্বকাপেও প্রয়োগ করা হয়েছিল। ওই আসরে ফাইনালে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি।

    বর্তমান সমীকরণ অনুযায়ী, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল জিততে পারলে সেমিফাইনালে দেখা যেতে পারে দুইটি হাইভোল্টেজ লড়াই—স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড।

  • এবার সুখ’বর পেলেন মি’সর কোচ

    এবার সুখ’বর পেলেন মি’সর কোচ

    এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখেছে মিসর। প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে জয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমবার জয় পেয়েছিল নকআউটেও। কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারুণ লড়াই করেছিল আফ্রিকার দলটি। যদিও বিতর্কিত ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও হেরেছিল ৩-২ গোলের ব্যবধানে।

    মিসরের এমন সাফল্যের পেছনে বড় অবদান দলটির প্রধান কোচ হোসাম হাসানের। ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের চেহারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন তিনি। এবার সেটার পুরস্কার পেলেন হোসাম হাসান। নতুন করে তার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)। বুধবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির ফেডারেশন।

    এক বিবৃতিতে ইএফএ সভাপতি হ্যানি আবু রিদা জানান, ‘অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালনা পর্ষদ প্রধান কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সানন্দে অনুমোদন করেছে।’

    স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন চুক্তির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত ফারাওদের ডাগআউটে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ কোচকে। অবশ্য আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছাড়াই এবারের বিশ্বকাপে মিসরের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিশ্বকাপের আগে আর তার সঙ্গে নতুন করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ায়নি ফেডারেশন।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন এনেছেন ৫৯ বছর বয়সী এই কোচ। তার হাত ধরে দলটি ২০২৫ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে সেমিফাইনাল খেলার গৌরব অর্জন করে।

    এবারের বিশ্বকাপে এসে যেন তিনি এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফারাওদের। গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ গোলের দারুণ জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় তারা। এরপর বেলজিয়াম ও ইরানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়ে ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় মিসর।

    পরবর্তীতে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিল দলটি। শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হোসাম হাসানের রণকৌশল ছিল দেখার মতো। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের।

    কোচ হওয়ার আগে হোসাম হাসান নিজেও ছিলেন মিসরের ফুটবলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। খেলোয়াড়ি জীবনে ১৭৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৬৯টি গোল করে তিনি এখনো দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের জায়গাটি ধরে রেখেছেন। তার সেই অভিজ্ঞতা এবং মাঠের পারফরম্যান্সকে সম্মান জানিয়েই তাকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ীভাবে রেখে দিল মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

    মিসর ফুটবল দল হোসাম হাসান ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

  • মি’সরের অ’ভিযো’গ না’কচ করলো ফিফা

    মি’সরের অ’ভিযো’গ না’কচ করলো ফিফা

    বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের হারের পর রেফারিং নিয়ে ওঠা বিতর্কে এবার মুখ খুলেছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচে ভিএআরের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ফুটবলের আইন অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবারের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে মিসর ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তার পুরো রেফারিং দলকে বিশ্বকাপ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়।

    মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান আরও এক ধাপ এগিয়ে ইঙ্গিত দেন, আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাত দেখানো হয়েছে।

    তিনি বলেছিলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক।’

    এই বিতর্কের মধ্যেই ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তব্যে কোলিনা বলেন, ‘রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই ফুটবলের অংশ। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো জায়গা এই খেলায় নেই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে না। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি সৃষ্টি করে, যা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

    রেফারিংয়ে বাইরের প্রভাবের অভিযোগও সরাসরি নাকচ করে দেন কোলিনা।

    তার ভাষায়, ‘ফিফার রেফারিংয়ে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতিও নয়।’

    মিসরের অভিযোগের মূল বিষয় ছিল ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রথমত, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মারওয়ান আতিয়ার ফাউলের কারণে তাদের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়। পরে অবশ্য মিসর আবারও গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

    এ ছাড়া যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে হামদি ফাথিকে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ফাউল করেছিলেন বলে দাবি করে মিসর। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহকে হুলিয়ান আলভারেজ ফেলে দিলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তোলে তারা।

    এসব অভিযোগের জবাবে কোলিনা বলেন, ভিডিও রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, মারওয়ান আতিয়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে ফাউল মানেই ফাউল। সেটি যতই সামান্য মনে হোক না কেন, যদি রেফারি মাঠে সেটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।’

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘গোল হওয়ার আগে আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কোনো ফাউল না থাকলে ভিএআর রেফারিকে সেটিই জানায়। কিন্তু প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা ফাউল। অন্যদিকে একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটি ফাউল নয়।’

    সালাহর পেনাল্টির দাবি প্রসঙ্গে কোলিনা বলেন, রেফারি ও ভিএআর দুজনই ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

    তার মতে, ‘মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে যা হয়েছে, সেটি স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ ছিল। তাই সেখানে পেনাল্টি দেওয়ার কোনো কারণ ছিল না।’

    আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি আরেকটি ঘটনায়ও আলোচনা তৈরি হয়। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি পরে প্রত্যাহার করে ফিফা।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলার পরই সেই সিদ্ধান্ত আসে। তবে কোলিনা জোর দিয়ে বলেছেন, ফিফার রেফারিং প্রক্রিয়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে পরিচালিত হয় না।