Blog

  • প্রথম ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের গ্রুপ চিত্র: এগিয়ে যেসব দল

    প্রথম ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপের গ্রুপ চিত্র: এগিয়ে যেসব দল

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল নিজেদের প্রথম ম্যাচ শেষ করেছে। এখনো টুর্নামেন্টের পথ অনেক লম্বা হলেও, এক ম্যাচ শেষে কে কোন অবস্থায় আছে তা দেখে নেয়া যাক।

    গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া জয় দিয়ে শুরু করে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়া প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে রয়েছে।

    গ্রুপ ‘বি’তে চার দলের শুরু হয়েছে সমতায়। কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া হার্জেগোভিনা—সবাই একটি করে পয়েন্ট পেয়েছে। গোল ব্যবধানেও দলগুলোর অবস্থান কাছাকাছি।

    গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিল ও মরক্কো ড্র করায় দুই দল এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। তবে হাইতিকে হারিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে আছে স্কটল্যান্ড।

    গ্রুপ ‘ডি’তে বড় জয়ে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়াও জয় তুলে নিয়ে দুইয়ে আছে। একইভাবে গ্রুপ ‘ই’তে জার্মানি ও আইভরি কোস্ট জয় দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

    গ্রুপ ‘এফ’তে সুইডেন এগিয়ে, আর নেদারল্যান্ডস ও জাপান সমান পয়েন্টে রয়েছে। গ্রুপ ‘জি’ ও ‘এইচ’–এ চার দলের মধ্যেই পয়েন্টের লড়াই সমানে চলছে।

    গ্রুপ ‘আই’তে ফ্রান্স ও নরওয়ে দারুণ শুরু করেছে। গ্রুপ ‘জে’তে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে। গ্রুপ ‘কে’তে কলম্বিয়া এগিয়ে থাকলেও পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো সমতায় আছে। গ্রুপ ‘এল’তে ইংল্যান্ড ও ঘানা প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে।

    এক ম্যাচ শেষে এখনো অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। তবে শুরুতেই যারা জয় পেয়েছে, তারা নকআউট পর্বের দৌড়ে কিছুটা বাড়তি সুবিধা নিয়ে পরের ম্যাচে নামবে।

  • বল ছুঁয়েছেন মাত্র ২৫ বার, গোলে কোনো শটই নিতে পারেননি রোনালদো

    বল ছুঁয়েছেন মাত্র ২৫ বার, গোলে কোনো শটই নিতে পারেননি রোনালদো

    ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই নতুন ইতিহাস লিখলো ডিআর কঙ্গো। শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করলো মধ্য আফ্রিকার দেশটি। পুরো ম্যাচে কোনো শটই নিতে পারেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যেন তিনি মাঠেই ছিলেন না।

    বুধবার (১৭ জুন) টেক্সাসের হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মুখোমুখি হয় দুই দল।

     

    এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে পর্তুগালের আধিপত্য দেখা যায়। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটের মাথায় পেদ্রো নেতোর বাম দিক থেকে ভাসানো নিখুঁত ক্রসে জোয়াও নেভেস হেড করে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কর্নার থেকে ডান দিক দিয়ে আসা বল ফার পোস্টে পেয়ে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। সেই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করেছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। তবে তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর কোনো দলই আর গোল করতে পারেনি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

     

    ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এই ম্যাচে মাঠে থাকলেও জ্বলে উঠতে পারেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদো।

     

    ম্যাচে মোট ২৫ বার বলে টাচ করলেও ২১টি সহায়ক পাস দেন রোনালদো। যার মধ্যে ১৬টিই ছিল ব্যাক পাস। দুইবার ফুট শট নিলেও সেগুলো ছিল গোলবারের বাইরে। গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোনালদোর এমন পারফরম্যান্সে হতাশ পর্তুগাল ভক্তরা।

     

    তবে বাজে পারফরম্যান্স করলেও এদিন লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—ছয়টি বিশ্বকাপেই মাঠে নামলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

  • পর্তুগাল হেরেও যেতে পারতো : রোনালদো

    পর্তুগাল হেরেও যেতে পারতো : রোনালদো

    আফ্রিকান প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ষষ্ঠ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। বড় ব্যবধানে জয়ের আভাস দিয়েছিল তারা। কিন্তু জোয়াও নেভেসের ওই গোলের পর আর লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেনি ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা। বরং হাফটাইমের আগে কঙ্গোর ঐতিহাসিক গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পর্তুগালকে।

    পুরো ম্যাচে বিবর্ণ ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অথচ সিআরসেভেনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় ছিল তার ভক্ত-সমর্থকরা। তাদের তিনি হতাশ করেছেন ৯০ মিনিটে মাত্র তিনটি শট নিয়ে। ম্যাচ শেষে তিনিও হতাশ, দলের পারফরম্যান্সও তার কাছে অস্বস্তিকর ছিল।

    তবে এই ড্রয়ের পরও সান্ত্বনা খুঁজছেন রোনালদো। কারণ কঙ্গোর কয়েকটি আক্রমণে হারের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল পর্তুগাল শিবিরে। ম্যাচের পর হিউস্টন স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে ৪১ বছর বয়সী তারকা বললেন, ‘আমরা যে যথেষ্ট করিনি, তা নয়। এটাই ফুটবল। পর্তুগালের সুযোগ ছিল ম্যাচটি জেতার, কিন্তু হেরেও যেতে পারতো।’

    পর্তুগালের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের ফল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও মন্তব্য করেছেন রোনালদো। আসন্ন ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ়প্রতিজ্ঞা তার, ‘আমরা এমন শুরু চাইনি, কিন্তু এটাই শেষ নয়। আমাদের মনোবল ধরে রাখতে হবে এবং পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।’

  • ‘মেসির পেছনে সময় নষ্ট করা অর্থহীন’ বলা আলজেরিয়া কোচ ম্যাচ শেষে যা বললেন

    লিওনেল মেসিকে ম্যান-মার্কিং বা আটকানোর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা নেই বলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মন্তব্য করেছিলেন আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ। তিনি বলেছিলেন, আমি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়কে আটকানোর জন্য ছক কষি না। একজন ব্যক্তির জন্য পুরো দলকে প্রস্তুত করা অর্থহীন। 

    বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে গেছে আলজেরিয়া। একাই তিন গোল করে রেকর্ডবুক তছনছ করে দিয়েছেন মেসি। হারের পর মেসির প্রশংসা করলেও আলজেরিয়ার কোচের আক্ষেপ, তাদের নিজেদের ভুলেই মেসির কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল।

    ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেটকোভিচ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের সময় আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি, ফলে তার জন্য গোল করাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তবে ম্যাচের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে ক্ষমতা মেসির আছে, তা দিয়ে তিনি যে কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে রূপ দিতে পারেন।’

    নিজের খেলোয়াড়দের দুর্বলতা নিয়ে পেটকোভিচ বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দেওয়া আমার স্বভাব নয়। তবে আমি মনে করি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অবলীলায় শট নেওয়ার সুযোগ দিয়ে আমরা বেশ কিছু বড় ভুল করেছি। এই হারের জন্য আমরা নিজেদেরই দায় দিতে পারি, তবে এখন আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

    পুরো দল মেসির জন্য খেলে জানিয়ে আলজেরিয়া কোচ আরও বলেন, ‘মেসি এমন একটা বাড়তি সুবিধা পান যেখানে পুরো আর্জেন্টিনা দল তার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে খেলে এবং তাকে সাহায্য করে। বছরের পর বছর, বা বলা ভালো কয়েক দশক ধরে তিনি অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে চলেছেন। আজ আর্জেন্টিনা মোট ১০টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই ছিল মেসির।’

    প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে আলজেরিয়ার পরের ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে ২২ জুন। এরপর ২৮ জুন তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া।

  • আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ

    আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি: আলজেরিয়া কোচ

    বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার একটি অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান ছিল। শিরোপা জয়ের পরের আসরে প্রথম ম্যাচে কখনোই জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি তারা। ফলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ছিল বাড়তি উদ্বেগ। ম্যাচে আলজেরিয়া ৩-০ গোলে হেরে যায়, যেখানে আর্জেন্টিনার হয়ে দারুণ পারফর্ম করেন লিওনেল মেসি। মেসির হ্যাটট্রিকেই দাপুটে জয় পায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে পেটকোভিচ স্বীকার করেন, শুরুতেই দেওয়া কিছু ভুলের কারণেই মেসির জন্য গোল করা সহজ হয়ে যায়।

    তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের সময় আমরাই মেসিকে সুযোগ করে দিয়েছি, ফলে তার জন্য গোল করাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তবে ম্যাচের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে ক্ষমতা মেসির আছে, তা দিয়ে তিনি যে কোনো কঠিন কাজকে খুব সহজে রূপ দিতে পারেন।’

    নিজ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়কে দোষ দেওয়া আমার স্বভাব নয়। তবে আমি মনে করি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের অবলীলায় শট নেওয়ার সুযোগ দিয়ে আমরা বেশ কিছু বড় ভুল করেছি। এই হারের জন্য আমরা নিজেদেরই দায় দিতে পারি, তবে এখন আমাদের এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে এবং এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

    আর্জেন্টিনা দলের খেলার ধরন নিয়েও মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মেসি এমন একটা বাড়তি সুবিধা পান যেখানে পুরো আর্জেন্টিনা দল তার জন্য জীবন দিয়ে খেলে এবং তাকে সাহায্য করে। বছরের পর বছর, বা বলা ভালো কয়েক দশক ধরে তিনি অবিশ্বাস্য সব কীর্তি গড়ে চলেছেন। আজ আর্জেন্টিনা মোট ১০টি শট নিয়েছিল, যার মধ্যে ৭টিই ছিল মেসির।’

    আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ জানিয়েছিলেন যে তিনি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে আলাদা করে থামানোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করেন না। তার মতে, একজন খেলোয়াড়কে আটকাতে পুরো দলকে আলাদাভাবে প্রস্তুত করা কার্যকর নয়।

    আলজেরিয়ার পরবর্তী ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে ২২ জুন এবং এরপর ২৮ জুন তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার। পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয় ছাড়া বিকল্প নেই তাদের হাতে।

  • মেসির অবসর প্রসঙ্গে যা বললেন আর্জেন্টিনার কোচ

    মেসির অবসর প্রসঙ্গে যা বললেন আর্জেন্টিনার কোচ

    ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে বড় জয় উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, মাঠের বাইরের কিছু ব্যক্তিগত জটিলতার কারণে গত কয়েক দিন তার জন্য সহজ ছিল না।

    মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রাতেই তাকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বর্তমানে মেসির বয়স ৩৮ বছর। পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলে তার বয়স হবে ৪২। ফলে জাতীয় দলের জার্সিতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

    সেই প্রসঙ্গ টেনে স্কালোনি বলেন, ‘যেদিন সে (মেসি) ফুটবল ছেড়ে দেবে, আমরা সবাই তাকে খুব মিস করব।’

    আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে মেসি বলেছেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। ওদের দলে দ্রুতগতির এবং আক্রমণাত্মক অনেক খেলোয়াড় আছে। আমরা যদি তাদের বলের দখল বেশি দিতাম, তাহলে তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত। বল ছাড়া আমরা ভালোভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছি এবং শুরুতেই গোল পাওয়ায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছি।’

    তবে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে পুরো ম্যাচ খেলতে পারেনি বলেও মনে করেন মেসি। তিনি বলেম, ‘প্রথমার্ধটা আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচগুলো সব সময়ই কঠিন হয়। গত বিশ্বকাপ থেকেও আমরা সেটা শিখেছি।’

    ‘এই বিশ্বকাপে কোনো দলই কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না। প্রতিটি দলই সুসংগঠিত, ভালোভাবে প্রস্তুত এবং নিজেদের খেলার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে। এটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি বিশ্বকাপ।’-যোগ করেন তিনি।

  • হ্যাটট্রিকের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরে যা বলেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ

    হ্যাটট্রিকের পর মেসিকে জড়িয়ে ধরে যা বলেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ

    লিওনেল মেসির জাদুকরী হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তার নৈপুণ্যের প্রশংসায় ভাসালেন খোদ আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনিই। তিনি স্বীকার করেন, ‘এলএমটেন’ যেদিন ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, সেদিন এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে ফুটবল বিশ্বে।

    রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকের পর লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ। খেলা শেষে আমি ওকে জড়িয়ে ধরেছি, একটা চুমু দিয়েছি এবং বলেছি আমি ওকে কতটা ভালোবাসি। কারণ, এর বাইরে ওকে নতুন করে বলার মতো কোনো ভাষা আমার জানা নেই। মেসি শুধু গোল করে না, মাঠে সে যা ছড়িয়ে দেয়, তা অবিশ্বাস্য।’

    তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন সে ফুটবলকে বিদায় জানাবে, সেদিন আমরা সবাই তাকে ভীষণভাবে মিস করব। তাই এখন আমাদের কাজ হলো তার খেলা উপভোগ করা।’

    বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৬ গোল করে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করা মেসির এই কীর্তিকে অবশ্য মোটেও বিস্ময়কর মনে করছেন না স্কালোনি। তার ভাষায়, ‘আমি এটা আশা করিনি, এমন নয়। গত দুই দশক ধরে সে একই ধারাবাহিকতায় অসাধারণ সব কাজ করে যাচ্ছে। শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকরাই নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বই মেসির জাদু দেখতে চায়।’

    অন্যদিকে, ৩-০ গোলের জয় এলেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না বলে মন্তব্য করেন আর্জেন্টাইন কোচ। স্কোরলাইন ম্যাচের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফলাফল দেখে হয়তো মনে হতে পারে ম্যাচটা সহজ ছিল, কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল বেশ কঠিন ও জটিল একটি লড়াই।

    টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়, আর আলজেরিয়াও যথেষ্ট শক্তিশালী দল। প্রতিপক্ষ ভালো খেললে আমাদের রক্ষণাত্মক হতে হয়। ফুটবল একার খেলা নয়; সবসময় বলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা সম্ভব হয় না। তবে আমাদের দলের খেলোয়াড়রা যখন যে দায়িত্ব পায়, সেটি শতভাগ নিষ্ঠা ও আত্মনিবেদন দিয়ে পালন করে।’

  • সু’পারকম্পি’উটারের বিশ্লেষণে উঠে এলো কোন দল জিতবে বিশ্বকাপ

    সু’পারকম্পি’উটারের বিশ্লেষণে উঠে এলো কোন দল জিতবে বিশ্বকাপ

    ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে ফুটবলবিশ্বে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সুপারকম্পিউটার বিশ্লেষণ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের ম্যানেজমেন্ট স্কুলের গবেষকদের তৈরি এই মডেল জানিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ইংল্যান্ড ও স্পেন—যেখানে শিরোপা জয়ের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে এগিয়ে রাখা হয়েছে স্পেনকে।

    গবেষকদের দাবি, উন্নত মেশিন লার্নিংভিত্তিক এই সিস্টেম খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা, দলের সমন্বয়, ইনজুরি পরিস্থিতি, ফিটনেস এবং প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণসহ একাধিক ভেরিয়েবল ব্যবহার করে ফলাফল পূর্বাভাস দেয়। এক হাজার সিমুলেশন চালিয়ে প্রতিটি দলের সম্ভাব্য পথ, নকআউট পর্বে অগ্রগতি এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ২৬.১ শতাংশ, যা তালিকার শীর্ষে। এরপর রয়েছে ইংল্যান্ড ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৩.৫ শতাংশ, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ১২.৪ শতাংশ এবং পর্তুগালের ১০.৬ শতাংশ।

    পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইংল্যান্ড গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠতে পারে। শেষ ষোলোতে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে ডিআর কঙ্গো ও মেক্সিকোর নাম উঠে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং সেমিফাইনালে পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে।

    স্কটল্যান্ডের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে এবং শেষ ষোলোতে ওঠার সম্ভাবনা ১১.৮ শতাংশ।

    গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল। সিমুলেশন অনুযায়ী দুজনই গড়ে ৫.২টি করে গোল করতে পারেন।

    গবেষণার সহ-প্রধান ড. বেঞ্জামিন হোমস জানান, ইউরো ২০২৪-এর পর মডেলটি আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে এখন ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা, ম্যাচের কৌশল, আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তিনটি স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    তিনি বলেন, বাজিকরদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল রেখে স্পেনই ফেভারিট অবস্থানে রয়েছে। তবে নরওয়ে এখানে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে উঠে এসেছে, যার শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৩.৬ শতাংশ।

    অন্য একটি পৃথক গবেষণায় ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্লেষণেও স্পেনকে সামান্য ব্যবধানে ফেভারিট হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানি কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও স্পেন এগিয়ে রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টুর্নামেন্টে ফেভারিট দলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা সাধারণত সীমিত থাকে, ফলে অপ্রত্যাশিত কোনো দলও বড় সাফল্য পেতে পারে।

    সব মিলিয়ে সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাস বিশ্বকাপের আগে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—প্রযুক্তির হিসাব কি মাঠের বাস্তবতাকে ধরতে পারবে, নাকি আবারও ফুটবলই প্রমাণ করবে শেষ কথা খেলা নিজেই?

    সূত্র: ডেইলি মেইল

  • আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার আগের দেখায় কার জয় বেশি! দেখেনিন পরিসংখ্যান

    আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়ার আগের দেখায় কার জয় বেশি! দেখেনিন পরিসংখ্যান

    বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের ২৭ নম্বরে থাকা আফ্রিকানদের বিপক্ষে ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচ তারা খেলবে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে।

    স্বাভাবিকভাবে দুই দলের হেড টু হেড নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যে খুব বেশি দেখা হয়নি। এটি হবে এই দুই দলের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো দেখা। এর আগে ২০০৭ সালে তারা মুখোমুখি হয়েছিল। ভেনিজুয়েলায় অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকার মাত্র কয়েক দিন আগে—যে আসরে ব্রাজিলের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    ২০০৭ সালের ৫ জুন, আলফিও বাসিলের অধীনে আর্জেন্টিনা দল বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। সেটি ছিল এমন এক স্কোয়াডের চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক ম্যাচ, যেখানে রবার্তো আয়ালা, সেবাস্টিয়ান ভেরন ও রোমান রিকুয়েলমের মতো অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি লিওনেল মেসি ও ফার্নান্দো গ্যাগোর মতো প্রতিভাবান তরুণরা ছিলেন।

    সেদিন বিকেলে আলবিসেলেস্তেরা মাঠে নেমেছিল গোলপোস্টে রবার্তো আবোনদানজিয়েরি, রক্ষণভাগে গ্যাব্রিয়েল মিলিতো, রবার্তো আয়ালা, নিকোলাস বুরদিসো এবং হাভিয়ের পিনোলাকে নিয়ে। মাঝমাঠে ছিলেন হাভিয়ের জানেত্তি, ফার্নান্দো গ্যাগো ও এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো। আর আক্রমণভাগে ছিলেন লিওনেল মেসি, কার্লোস তেভেজ ও ডিয়েগো মিলিতো।

    ম্যাচের মাত্র দেড় মিনিটের মাথায় তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনার খাতা খোলেন। তবে আলজেরিয়াও দ্রুত জবাব দেয়। নয় মিনিট পর সমতা ফেরান আনথার ইয়াহিয়াহ। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই মাজিদ বুঘেরা আফ্রিকান দলটিকে এগিয়ে নেন।

    তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল—প্রথমটি মেসির এবং দ্বিতীয়টি ক্যাম্বিয়াসোর। তাতে কোকোর (কোচ বাসিল) দল আবারও লিড পায়। এরপর ৭৩ মিনিটে মেসির আরেকটি গোলে দলের জয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পনেরো মিনিট বাকি থাকতে বেলহাদজ একটি গোল শোধ করে আলজেরিয়ার হারের ব্যবধান কিছুটা কমান।

    উনিশ বছর পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জে’এর উদ্বোধনী ম্যাচে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। লিওনেল স্কালোনির দল শিরোপা ধরে রাখার মিশনটি দারুণভাবে শুরু করতে চাইবে, অন্যদিকে ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ তাদের গতিময় আক্রমণ ও ফরোয়ার্ডদের দুর্দান্ত টেকনিক্যাল দক্ষতা দিয়ে চমক দেখানোর চেষ্টা করবে। আর ১৯ বছর আগের সেই ৪-৩ ব্যবধানে লড়াকু হার নিশ্চয় অনুপ্রেরণা দেবে আলজেরিয়াকে। 

  • নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা!

    নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা!

    বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা। হাইতির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এখনও চিকিৎসক দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

    ব্রাজিল দলের মেডিকেল বিভাগের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে চিকিৎসা ও ফিটনেস পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। তবে এখনো তিনি পুনরুদ্ধারের পরবর্তী ধাপ, অর্থাৎ মাঠে ফেরার প্রস্তুতির ট্রানজিশন পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে হাইতির বিপক্ষে তার মাঠে নামার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে হতাশাজনক সূচনা করেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচেও দলের বাইরে ছিলেন নেইমার। আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট হওয়ায় তার অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা ও আলোচনা দুটোই হয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজনকে ছাড়া সেই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।