Blog

  • ফ্যা’টি কি’ডনি কী ও কেন হয়, এই ল’ক্ষণগুলো দেখলে স’তর্ক হোন

    ফ্যা’টি কি’ডনি কী ও কেন হয়, এই ল’ক্ষণগুলো দেখলে স’তর্ক হোন

    ফ্যাটি লিভারের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু কিডনিতেও অতিরিক্ত চর্বি জমার বিষয়টি নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়। কিডনির চারপাশে বা কিডনির টিস্যুর সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি জমার বিষয়টি বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    তবে ফ্যাটি কিডনি শব্দটি সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। শরীরে অতিরিক্ত চর্বি, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

    তাই কিডনিতে চর্বি জমার কথা কোনো পরীক্ষা বা স্ক্যানে জানা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে এর কারণ ও কিডনির কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে যাচাই করা জরুরি।

    ফ্যাটি কিডনি বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণভাবে কিডনির ভেতরে বা আশপাশে অতিরিক্ত চর্বি জমাকে ফ্যাটি কিডনি বলা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি ফ্যাটি লিভারের মতো একটি একক ও সুস্পষ্ট রোগের নাম নয়। অতিরিক্ত ওজন বা বিপাকীয় সমস্যার কারণে কিডনির চারপাশে চর্বি জমতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে কিডনির টিস্যুতেও অস্বাভাবিক চর্বি জমার বিষয়টি দেখা যেতে পারে।

    এ কারণে শুধু কিডনির চারপাশে চর্বি দেখা গেছে বলেই কিডনি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কিডনির কার্যক্ষমতা বুঝতে রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা, রক্তচাপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইমেজিংয়ের ফল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

    কেন কিডনিতে চর্বি জমতে পারে?

    ফ্যাটি কিডনির সঙ্গে কয়েকটি বিপাকীয় ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে-

    অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা

    ইনসুলিন প্রতিরোধ

    টাইপ ২ ডায়াবেটিস

    উচ্চ রক্তচাপ

    রক্তে অতিরিক্ত চর্বি

    শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

    সাম্প্রতিক গবেষণায় কিডনির চারপাশে জমা চর্বি এবং দুর্বল বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার সঙ্গে কিডনির চারপাশে চর্বি জমার প্রবণতাও বেশি দেখা যেতে পারে।

    ফ্যাটি কিডনির লক্ষণ কী?

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিডনির চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকলেই যে স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা দেবে, এমন নয়। অনেক সময় এটি অন্য কোনো পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

    তবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

    শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে পা ও গোড়ালিতে ফোলা

    প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন

    প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা

    অস্বাভাবিক ক্লান্তি

    ক্ষুধা কমে যাওয়া

    বমি বমি ভাব

    রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া

    এসব লক্ষণ শুধু ফ্যাটি কিডনির কারণে হয় না। কিডনির বিভিন্ন রোগেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ জানা জরুরি।

    ফ্যাটি কিডনি কি কিডনির ক্ষতি করতে পারে?

    কিডনির চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকা এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। তবে অতিরিক্ত ওজন ও বিপাকীয় সমস্যাগুলো কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    বিশেষ করে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিডনির চারপাশের অতিরিক্ত চর্বি ও দুর্বল বিপাকীয় স্বাস্থ্যের মধ্যেও এমন সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা চলছে।

    তাই ফ্যাটি কিডনি নিয়ে উদ্বেগের মূল বিষয় শুধু চর্বি নয়, এর সঙ্গে থাকা বিপাকীয় ঝুঁকিগুলোও।

    কীভাবে বোঝা যায় কিডনি ঠিকমতো কাজ করছে কি না?

    কিডনির স্বাস্থ্য যাচাই করতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকটি পরীক্ষা করতে পারেন।

    সেরাম ক্রিয়েটিনিন: রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দেখে কিডনির ফিল্টার করার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

    eGFR: কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব।

    প্রস্রাবের পরীক্ষা: প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন আছে কি না, তা কিডনির ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে।

    রক্তচাপ: দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতির বড় ঝুঁকি।

    প্রয়োজনে আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্য ইমেজিং পরীক্ষাও করা হতে পারে। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

    ফ্যাটি কিডনি কমানোর চিকিৎসা কী?

    ফ্যাটি কিডনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো এর সঙ্গে সম্পর্কিত কারণ ও বিপাকীয় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা।

    ওজন বেশি হলে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাবার, রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও প্রয়োজন।

    তবে নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। কিডনির সমস্যা থাকলে কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    খাবারের দিকে কীভাবে নজর দেবেন?

    কিডনি ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত চিনি, অতিরিক্ত লবণ এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো। শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, ডাল, স্বাস্থ্যকর প্রোটিন ও পরিমিত পরিমাণে ফলসহ সুষম খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের খাদ্যতালিকা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই কিডনি রোগ ধরা পড়লে সাধারণ কোনো ডায়েট অনুসরণ না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    নিয়মিত ব্যায়াম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা স্থূলতা, ইনসুলিন প্রতিরোধ ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটা বা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করা শরীরের ওজন ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    তবে কিডনির রোগ ইতিমধ্যে ধরা পড়লে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    কিডনি নিয়ে কোনো অস্বাভাবিক রিপোর্ট এলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা বা আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

    পা বা শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ফেনাযুক্ত প্রস্রাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    ফ্যাটি কিডনি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিডনির চারপাশে চর্বি জমা মানেই কিডনি বিকল হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এটি অনেক সময় স্থূলতা ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পরিবর্তন। তাই রিপোর্টে এমন কোনো তথ্য এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিডনির কার্যক্ষমতা এবং ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও ওজনের মতো ঝুঁকিগুলো পরীক্ষা করা বেশি জরুরি।

    স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • ফো’নে সহজেই যেভাবে চা’লু করবেন স্টা’রলিং’কের মো’বাইল সে’বা

    ফো’নে সহজেই যেভাবে চা’লু করবেন স্টা’রলিং’কের মো’বাইল সে’বা

    মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ শেষ হয়ে গেলেও এবার ফোনে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালু হওয়ায় দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায়ও মোবাইল ফোনে সীমিত যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার পথ খুলেছে।

    এই সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা বা বিশেষ যন্ত্র কিনতে হবে না। প্রযুক্তিসমর্থিত ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটি চালু আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

    আলাদা অ্যাপ লাগবে?

    না। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই। বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সেবা বা নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংসও হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    কখন স্যাটেলাইটে যাবে ফোন?

    প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সুবিধাজনক, কারণ ভবন, পাহাড় বা অন্য কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেবা পাওয়া যাবে- এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, স্যাটেলাইট কাভারেজ, অবস্থান এবং অপারেটরের সেবার শর্তের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।

    প্রথম মাসে বাড়তি খরচ নেই

    সেবা চালুর প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলালিংক।

    দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    কী ধরনের কাজ করা যাবে?

    এই সেবার মূল উদ্দেশ্য প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে সীমিত যোগাযোগ সুবিধা দেওয়া। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল এবং দুর্যোগের সময় এটি কাজে আসতে পারে।

    স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অ্যাপ, মেসেজিং ও লোকেশনভিত্তিক কিছু সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে প্রচলিত ৪জি বা ৫জি মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা আশা করা ঠিক হবে না।

    স্যাটেলাইট ডিশের প্রয়োজন নেই

    বাংলালিংকের এই সেবা প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো নয়। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত মোবাইল ফোনই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে। ফলে বাড়ি বা অফিসে আলাদা কোনো ডিশ বসানোর প্রয়োজন নেই।

    অন্য অপারেটরের গ্রাহকরা কি পাবেন?

    এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সেবাটি বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। অন্য অপারেটরের সিম ব্যবহারকারীরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই শুধু ফোরজি ফোন থাকলেই যে স্টারলিংকভিত্তিক সেবা ব্যবহার করা যাবে, তা নয়। বাংলালিংক সিম, সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা-তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ।

    সংযোগ না এলে কী করবেন?

    ফোনে ফোরজি সুবিধা থাকলেও স্যাটেলাইট সংযোগ না এলে প্রথমে ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি আপনার নম্বরে সক্রিয় আছে কি না দেখা যেতে পারে। এসব ঠিক থাকার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ ও ব্যবহারের শর্ত জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • দু’র্গাপূ’জা উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘো’ষণা করে প্র’জ্ঞা’পন জা’রি

    দু’র্গাপূ’জা উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘো’ষণা করে প্র’জ্ঞা’পন জা’রি

    আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ (বুধবার, ৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    এর আগে ২২ অক্টোবর কর্মদিবস হিসেবে নির্ধারিত ছিল। তবে দুর্গাপূজার ছুটি পুননির্ধারণ করে ওই দিনটিও ছুটির আওতায় আনা হয়েছে। ফলে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিনদিন সরকারি ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচদিনের ছুটি ভোগের সুযোগ পাবেন।

    প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ছুটির ধারাবাহিকতা তৈরি হওয়ায় আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকবে।

    তবে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলো এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা ছুটির বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

    এ ছাড়া হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন। জরুরি কাজের সাথে সম্পৃক্ত অফিসগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যক্রম চালু থাকবে।

    ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

    বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি কার্যকর করার বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস।

  • যারা ভু’লেও পেঁ’পে খা’বেন না, জেনে নিন

    যারা ভু’লেও পেঁ’পে খা’বেন না, জেনে নিন

    পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হিসেবে পেঁপের বেশ সুনাম রয়েছে। ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ থাকায় নিয়মিত ফলের তালিকায় পেঁপে রাখতে পারেন অনেকেই। বিশেষ করে পাকা পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে।

    তবে পেঁপে সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের মতো উপাদানের কারণে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

    অবশ্য পেঁপে খেলেই এসব মানুষের সমস্যা হবে—এমনটা নয়। বরং বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থায় বেশি পরিমাণে কিংবা কাঁচা পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    যাদের সতর্ক থাকা ভালো

    ১. যাদের পেঁপেতে অ্যালার্জি আছে

    পেঁপেতে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ২. যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি রয়েছে

    কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্সজাত উপাদান থাকে। যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে খাওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

    ৩. যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান

    কিছু ক্ষেত্রে পেঁপে বা পেঁপের নির্দিষ্ট উপাদান ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে বেশি পরিমাণে পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    ৪. গর্ভাবস্থায় যারা কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে খেতে চান

    কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। পাকা পেঁপে নিয়ে একই সতর্কতা প্রযোজ্য—এমনটি সরাসরি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    ৫. যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে

    পেঁপেতে থাকা খাদ্যআঁশ ও প্যাপেইন হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের পেটের অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।

    ৬. যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে

    মূল প্রতিবেদনে হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড কম সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রে পেঁপে নিয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পেঁপের কিছু উপাদান থাইরয়েডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
    তবে এই বিষয়ে প্রমাণ সীমিত এবং পাকা পেঁপে সাধারণ খাবারের পরিমাণে খেলে থাইরয়েডের রোগীদের সমস্যা হবেই, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে পেঁপে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজে থেকে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

    বিশেষ করে লেভোথাইরক্সিনসহ থাইরয়েডের ওষুধ নিয়মিত খেলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত। ওয়েব মেডও বেশি পরিমাণে পেঁপে লেভোথাইরক্সিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    পেঁপে কি সবার জন্য ক্ষতিকর?

    একেবারেই নয়। সুস্থ মানুষের জন্য পাকা পেঁপে সাধারণ খাদ্য হিসেবে খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। মূল প্রতিবেদনে পেঁপের পুষ্টিগুণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
    সমস্যা মূলত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থায় অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে। তাই পেঁপেকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার কোনো নির্দিষ্ট রোগ থাকলে নিজের মতো করে বেশি পরিমাণে খাওয়াও ঠিক নয়।

    পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য মনে রাখুন

    পেঁপে নিয়ে সতর্কতার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এটি পাকা নাকি কাঁচা। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে পাকা পেঁপে সাধারণত ফল হিসেবে খাওয়া হয়। তাই কাঁচা পেঁপে নিয়ে সতর্কতার তথ্যকে সরাসরি পাকা পেঁপের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

    পেঁপে খাওয়ার পর অ্যালার্জি হলে কী করবেন?

    পেঁপে খাওয়ার পর মুখ বা গলায় চুলকানি, ত্বকে র‍্যাশ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। ল্যাটেক্স অ্যালার্জির গুরুতর প্রতিক্রিয়ায় অ্যানাফাইল্যাক্সিস হতে পারে।

    পেঁপে পুষ্টিকর ফল হলেও সবার শরীরের জন্য একইভাবে উপযুক্ত নাও হতে পারে। গর্ভবতী নারী, ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তি, কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারকারীদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    তবে শুধু কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা আছে বলেই পেঁপে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য, খাওয়ার পরিমাণ এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • এইচএসসির ফ’ল প্রকাশের স’ম্ভাব্য সময় জা’না গেল

    এইচএসসির ফ’ল প্রকাশের স’ম্ভাব্য সময় জা’না গেল

     
    এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী নভেম্বরের ৭ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

    মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি এ তথ্য জানান।

    অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফলাফল প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পরীক্ষা শেষ করতে কিছুটা দেরি হলেও ওই অঞ্চলের ফলাফল প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।

    এ বছর সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

    ফল প্রকাশের তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হবে।

  • ২৩ সেপ্টেম্বর ছু’টি, তবে যেসব চা’করি’জী’বীরা পাবেন না

    ২৩ সেপ্টেম্বর ছু’টি, তবে যেসব চা’করি’জী’বীরা পাবেন না

    আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সারা দেশে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকলেও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দিনটি সাধারণ ছুটি নয়। ফলে সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।

    সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলিম পর্বের একটি ঐচ্ছিক ছুটি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে এদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছুটি পাবেন।

    এদিকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অধীন ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) বোর্ড, ময়মনসিংহ দেশের পিটিআইগুলোতে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে। পূর্বনির্ধারিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি পালন করা হবে।

    চাকরিজীবীদের জন্য যা প্রযোজ্য

    সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। তাই দিনটি তাদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে।

    তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে ভোগ করতে পারবেন।

    ব্যাংক-বীমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা

    ব্যাংক, বীমা, করপোরেট অফিসসহ বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা করলে তা ভিন্ন বিষয়।

  • জেনে নিন নতুন পে-স্কে’লে বেতন হি’সাব করার স’হজ নিয়ম

    জেনে নিন নতুন পে-স্কে’লে বেতন হি’সাব করার স’হজ নিয়ম

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকে বকেয়া অর্থ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গেই পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ১ জুলাই থেকে কার মূল বেতন কত হবে। একই গ্রেডে থাকা সবার বেতন যে এক হবে না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নির্ধারিত বেতনক্রমের ভিত্তিতে ‘পে ফিক্সেশন’ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর প্রতিটি গ্রেডের বিপরীতে ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট বেতনক্রম দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রেখেই নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, যা ২০তম গ্রেডের জন্য। আর গ্রেড ১-এ সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তবে মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিব বাদে।

    শুধু গ্রেড জানলেই হবে না
    নতুন বেতন স্কেলে একজন চাকরিজীবীর বেতন কত হবে, তা নির্ধারণে শুধু গ্রেড জানলেই হবে না। প্রজ্ঞাপনে ‘বর্তমান বেতন’ বলতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পাওয়া বেতনকে বোঝানো হয়েছে। ফলে ৩০ জুন তার মূল বেতন কত ছিল, সেটিও জানতে হবে।

    একই গ্রেডের দুই কর্মকর্তার নতুন বেতনও এক নাও হতে পারে। একজন যদি ওই গ্রেডে কয়েক বছর ধরে থেকে একাধিক বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন এবং অন্যজন সম্প্রতি ওই গ্রেডে যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে ৩০ জুন তাদের মূল বেতন ভিন্ন হবে। ফলে নতুন বেতনও ভিন্ন অঙ্কে নির্ধারিত হতে পারে।

    প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি গ্রেডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক বেতনের ধাপ রাখা হয়েছে। তাই কোনো গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক বেতন যে অঙ্কে নির্ধারণ করা হয়েছে, ওই গ্রেডে বর্তমানে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন সেই অঙ্ক হবে না।

    দুই পদ্ধতিতে হবে বেতন নির্ধারণ
    নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রথম পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারী যদি বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পান, তাহলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    উদাহরণ হিসেবে, ৩০ জুন কোনো কর্মচারী যদি ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন এবং তিনি ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী হন, তাহলে নতুন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২১ হাজার ৯০০ টাকা তার নতুন মূল বেতন হবে।

    অর্থাৎ পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন থাকলে নতুন বেতন স্কেলেরও প্রারম্ভিক ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারীর মূল বেতন যদি বর্তমান বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

    যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর যদি ওই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার বর্তমান বেতন স্কেলের ধাপ হলো ১২,৫০০-১৩, ১৩০-১৩, ৭৯০…৩০, ২৩০ টাকা।

    এখন ১ জুলাই থেকে ওই কর্মচারীর জন্য অনুরূপ নতুন বেতন স্কেল হলো ২৫,০০০-২৬,৩০০…৬০,৫০০ টাকা।

    এখন হিসাবটি হবে এভাবে— বর্তমান বেতন স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন থেকে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ দিলে পার্থক্য হবে: ১৩,৭৯০-১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা।

    অতএব জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে এই ১২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। হিসাবটি হবে ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তার নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।

    তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সমমর্যাদার পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ দুটি পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না। তাদের মূল বেতন নির্ধারিত হওয়ায় তা আর বাড়বে না।

  • কা’শি ছাড়াই ফু’সফু’সের রো’গের ই’ঙ্গিত দিতে পারে শ’রীরের এই পরিবর্তনগুলো, জেনে নিন

    কা’শি ছাড়াই ফু’সফু’সের রো’গের ই’ঙ্গিত দিতে পারে শ’রীরের এই পরিবর্তনগুলো, জেনে নিন

    ফুসফুসে কোনো সমস্যা হলে কাশি হবেই, এমন ধারণা অনেকের। তাই কাশি না থাকলে অনেকে ধরে নেন ফুসফুস ভালো আছে। কিন্তু বাস্তবে সব ধরনের ফুসফুসের রোগের শুরুতে কাশি দেখা যায় না। কখনো শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, বুক ভার লাগা বা দৈনন্দিন কাজের সময় আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে যাওয়াই হতে পারে প্রথম সতর্ক সংকেত।

    কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে শরীরের পরিবর্তনগুলোও প্রথম দিকে খুব সামান্য মনে হতে পারে। বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিবর্তন বা শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণ ভেবে অনেকে এসব লক্ষণ এড়িয়ে যান। অথচ নতুন কোনো শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নেওয়ার ধরন বদলে গেলে তার কারণ খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

    কাশি না থাকলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে

    ফুসফুসের সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা সামান্য কাজ করার পর আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে গেলে সেটিকে শুধু বয়স বা শরীরের ফিটনেসের অভাব বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    বিশেষ করে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হলে বা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাজমা, COPD, ফুসফুসের ফাইব্রোসিসসহ বিভিন্ন ফুসফুসের রোগে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

    সামান্য কাজেই আগের চেয়ে বেশি ক্লান্তি

    আগে যে কাজ সহজেই করতে পারতেন, এখন সেই কাজ করলেই যদি অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে, বিষয়টি খেয়াল করুন। ফুসফুস শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় সমস্যা হলে শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

    তবে ক্লান্তি শুধু ফুসফুসের রোগের লক্ষণ নয়। রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, হৃদ্‌রোগসহ আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে কারণটি পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

    বুক ভার বা অস্বস্তি

    বুকে চাপ, ভারী লাগা বা অস্বস্তিকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। কিছু ফুসফুসের রোগে বুকের অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বাড়লে বা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    তবে বুকের ব্যথা শুধু ফুসফুসের সমস্যার জন্য হয় না। হৃদ্‌রোগসহ আরও গুরুতর কারণ থাকতে পারে। হঠাৎ তীব্র বুকব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

    শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ

    শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো বা শোঁ শোঁ শব্দ হলে সেটিকে wheezing বলা হয়। শ্বাসনালি সরু হয়ে গেলে এমন শব্দ হতে পারে। অ্যাজমা ও COPD-এর মতো রোগে এটি দেখা যায়।

    নতুন করে এমন শব্দ শুরু হলে বা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ শ্বাসনালিতে কোনো ধরনের বাধা বা সংকোচন আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ

    ঘন ঘন ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে বারবার এমন সংক্রমণ হতে পারে।

    বিশেষ করে একই ধরনের সমস্যা বারবার হলে শুধু প্রতিবার ওষুধ খেয়ে উপসর্গ কমানোর বদলে এর পেছনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে খুঁজে দেখা দরকার।

    অকারণে ওজন কমে যাওয়া

    খাবার বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে, সেটি নজরে রাখুন। কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যেতে পারে।

    তবে অকারণে ওজন কমার পেছনে ক্যানসার ছাড়াও থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, হজমের সমস্যা বা অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তাই এই লক্ষণ দেখলেই কোনো নির্দিষ্ট রোগ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    আঙুলের ডগা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

    কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আঙুলের ডগা ও নখের আকৃতিতে পরিবর্তন হতে পারে। একে clubbing বলা হয়। এতে আঙুলের ডগা তুলনামূলক চওড়া ও গোল হয়ে যেতে পারে এবং নখের আকৃতিতেও পরিবর্তন দেখা যায়।

    এটি ফুসফুসের নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তবে এমন পরিবর্তন নতুন করে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কাশির সঙ্গে রক্ত এলে দেরি নয়

    কাশি না থাকলেও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে, তবে কাশি হলে তার সঙ্গে রক্ত আসা বিশেষভাবে গুরুত্বের বিষয়। ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রের অন্য অংশ থেকে রক্ত আসতে পারে এবং এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

    কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে কারণ নিজে থেকে অনুমান না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কারা বেশি সতর্ক থাকবেন

    ধূমপান ফুসফুসের রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তবে শুধু ধূমপায়ীরাই যে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হন, তা নয়। পরোক্ষ ধূমপান, বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে ধুলো বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এবং কিছু জেনেটিক কারণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    তাই ধূমপান না করলেও দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসযন্ত্রের অন্য অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

    ফুসফুস ভালো রাখতে কী করবেন

    ফুসফুস সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ধূমপান না করা। যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া যেকোনো বয়সেই উপকারী। পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং বায়ুদূষণের সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

    নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও ফুসফুসের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    কাশি না থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়

    ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও দীর্ঘদিন কাশি থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে শুরুতে প্রধান সমস্যা হতে পারে শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া। কিছু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণও স্পষ্ট নাও হতে পারে।

    তাই নতুন বা বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ কিংবা কাশির সঙ্গে রক্তের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ থাকলেই ফুসফুসের গুরুতর রোগ হয়েছে এমন নয়, তবে কারণটি দ্রুত জানা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ থাকে।

    সূত্র: এই সময় অনলাইন

  • আ’ঙুর না কি’শমিশ, স্বা’স্থ্যগু’ণে কোনটি এ’গিয়ে? জেনে নিন

    আ’ঙুর না কি’শমিশ, স্বা’স্থ্যগু’ণে কোনটি এ’গিয়ে? জেনে নিন

    আঙুর মিষ্টি ও মৌসুমি ফল। বয়সভেদে প্রায় সবাই এ ফল খেতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে কিশমিশ হলো আঙুর শুকিয়ে তৈরি করা শুকনো ফল। মিষ্টি স্বাদের কারণে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও খাবারে কিশমিশ ব্যবহার করা হয়। তবে স্বাস্থ্যগুণের দিক থেকে আঙুর ও কিশমিশের মধ্যে কোনটি এগিয়ে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

    আঙুর নাকি কিশমিশ?

    আঙুরে প্রায় ৮০ শতাংশ পানি থাকে। অন্যদিকে কিশমিশে পানির পরিমাণ মাত্র ১৫ শতাংশ। আঙুরের তুলনায় কিশমিশে প্রায় তিন গুণ বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

    তবে ভিটামিনের দিক থেকে আঙুর এগিয়ে। এতে ভিটামিন কে, ই, সি, বি১ ও বি২ রয়েছে। কিশমিশে এসব ভিটামিন তুলনামূলক কম পরিমাণে থাকে।

    আঙুর ও কিশমিশের ধরন

    বাজারে বিভিন্ন ধরনের আঙুর ও কিশমিশ পাওয়া যায়। আঙুরের মধ্যে সবুজ, কালো ও লাল জাত বেশি পরিচিত। লাল আঙুরে রেসভেরাট্রল নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই উপাদান রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

    একইভাবে কিশমিশের মধ্যেও সোনালি, সবুজ ও কালো ধরনের কিশমিশ পাওয়া যায়। সোনালি কিশমিশকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলা হয়। কারণ এতে অন্যান্য ধরনের কিশমিশের তুলনায় ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি থাকে।

    ক্যালরির দিক থেকে কে এগিয়ে?

    নামাজের সময়সূচী

    যারা ওজন কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের জন্য ফল গুরুত্বপূর্ণ। আঙুরে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম এবং এতে প্রচুর আঁশ রয়েছে। আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে।

    রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কি সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়?

    অন্যদিকে কিশমিশে আঙুরের তুলনায় ক্যালরি অনেক বেশি। আঙুর শুকানোর সময় এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও চিনি ঘনীভূত হয়, যার ফলে ক্যালরির পরিমাণও বেড়ে যায়।

    আধা কাপ কিশমিশে প্রায় ২৫০ ক্যালরি থাকে। একই পরিমাণ আঙুরে ক্যালরি থাকে মাত্র ৩০।

    বাড়তি পুষ্টি চাইলে কিশমিশ

    কিশমিশ আঁশ, পটাশিয়াম, আয়রন ও প্রয়োজনীয় খনিজের ভালো উৎস। এতে টারটারিক অ্যাসিড নামের একটি উপাদানও রয়েছে, যার প্রদাহবিরোধী গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, টারটারিক অ্যাসিড অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং অন্ত্রে থাকা উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

    ত্বকের যত্নে আঙুর

    আঙুরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। এই দুটি পুষ্টি উপাদান ত্বকের কোষকে সতেজ রাখতে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষায় সহায়তা করে।

    ত্বকের কালো দাগ ও বলিরেখা কমাতেও আঙুর ব্যবহার করা হয়। এ কারণে বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় ও ফেসপ্যাকে আঙুর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

  • পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশভা’ব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশভা’ব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে গেল। কখনো আবার পায়ে শুরু হলো ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া। এমন অস্বস্তিতে অনেকেরই রাতের ঘুম নষ্ট হয়। যারা এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তারাই জানেন হঠাৎ পায়ে টান বা ব্যথা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো তা সামান্য অস্বস্তির কারণ হয়, আবার কখনো ব্যথা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এসব সমস্যা হয়তো শুধু পেশি বা হাড়ের কারণে হচ্ছে। তবে সব ক্ষেত্রে কারণটি এমন নাও হতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে বারবার খিঁচুনি, ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি যেমন ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এ বিষয়ে কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন।

    পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ত উপস্থিতি প্রয়োজন। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে পেশিতে খিঁচুনি, দুর্বলতা, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    তাহলে কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে পায়ের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে?

    ভিটামিন ডি

    শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশি ও হাড়ে ব্যথা এবং পেশির দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পেশিতে টান বা খিঁচুনিও হতে পারে।

    বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডির ঘাটতি পেশির দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এতে চলাফেরায় সমস্যা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    ভিটামিন বি১২

    লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পা ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিন করা, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি বেশি হলে ভারসাম্য রাখতে সমস্যা, দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন

    শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি, পায়ে জ্বালাপোড়া বা অন্যান্য স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি গুরুতর হলে পেশির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে এবং হাঁটাচলায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ভিটামিন ই

    শরীরে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ঘাটতি হলে স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে পেশির দুর্বলতা, শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা এবং সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া বা চলাফেরায় সমন্বয়ের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।

    আয়রন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

    আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতার অনুভূতিও হতে পারে।

    এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট। পেশির সংকোচন ও শিথিলতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে এসব উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে খিঁচুনি বা টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    পায়ে মাঝেমধ্যে টান ধরা সবসময় কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতির লক্ষণ নয়। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে।

    তবে পায়ে বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে টান ধরা, ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে সমস্যা কিংবা ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

    নিজে থেকে ভিটামিন বা খনিজের সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে আগে ঘাটতি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া ভালো। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    সূত্র: নিউজ ১৮