Blog

  • ২৩ সেপ্টেম্বর ছু’টি, তবে যেসব চা’করি’জী’বীরা পাবেন না

    ২৩ সেপ্টেম্বর ছু’টি, তবে যেসব চা’করি’জী’বীরা পাবেন না

    আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সারা দেশে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে। এ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি থাকলেও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দিনটি সাধারণ ছুটি নয়। ফলে সরকারি ও বেসরকারি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।

    সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম মুসলিম পর্বের একটি ঐচ্ছিক ছুটি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় সব ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে এদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ছুটি পাবেন।

    এদিকে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অধীন ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) বোর্ড, ময়মনসিংহ দেশের পিটিআইগুলোতে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে। পূর্বনির্ধারিত ২৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি পালন করা হবে।

    চাকরিজীবীদের জন্য যা প্রযোজ্য

    সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। তাই দিনটি তাদের নিয়মিত কর্মদিবস হিসেবে গণ্য হবে।

    তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে ভোগ করতে পারবেন।

    ব্যাংক-বীমা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা

    ব্যাংক, বীমা, করপোরেট অফিসসহ বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও ২৩ সেপ্টেম্বর সাধারণ ছুটি নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা করলে তা ভিন্ন বিষয়।

  • জেনে নিন নতুন পে-স্কে’লে বেতন হি’সাব করার স’হজ নিয়ম

    জেনে নিন নতুন পে-স্কে’লে বেতন হি’সাব করার স’হজ নিয়ম

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকে বকেয়া অর্থ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গেই পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ১ জুলাই থেকে কার মূল বেতন কত হবে। একই গ্রেডে থাকা সবার বেতন যে এক হবে না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। ৩০ জুন পর্যন্ত পাওয়া মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নির্ধারিত বেতনক্রমের ভিত্তিতে ‘পে ফিক্সেশন’ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপনে পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত বিধান দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর প্রতিটি গ্রেডের বিপরীতে ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট বেতনক্রম দেওয়া হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রেখেই নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, যা ২০তম গ্রেডের জন্য। আর গ্রেড ১-এ সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। তবে মন্ত্রিপরিষদ, মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিব বাদে।

    শুধু গ্রেড জানলেই হবে না
    নতুন বেতন স্কেলে একজন চাকরিজীবীর বেতন কত হবে, তা নির্ধারণে শুধু গ্রেড জানলেই হবে না। প্রজ্ঞাপনে ‘বর্তমান বেতন’ বলতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী পাওয়া বেতনকে বোঝানো হয়েছে। ফলে ৩০ জুন তার মূল বেতন কত ছিল, সেটিও জানতে হবে।

    একই গ্রেডের দুই কর্মকর্তার নতুন বেতনও এক নাও হতে পারে। একজন যদি ওই গ্রেডে কয়েক বছর ধরে থেকে একাধিক বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পেয়ে থাকেন এবং অন্যজন সম্প্রতি ওই গ্রেডে যোগ দিয়ে থাকেন, তাহলে ৩০ জুন তাদের মূল বেতন ভিন্ন হবে। ফলে নতুন বেতনও ভিন্ন অঙ্কে নির্ধারিত হতে পারে।

    প্রজ্ঞাপনে প্রতিটি গ্রেডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক বেতনের ধাপ রাখা হয়েছে। তাই কোনো গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক বেতন যে অঙ্কে নির্ধারণ করা হয়েছে, ওই গ্রেডে বর্তমানে কর্মরত প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন মূল বেতন সেই অঙ্ক হবে না।

    দুই পদ্ধতিতে হবে বেতন নির্ধারণ
    নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত দুটি পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। প্রথম পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারী যদি বর্তমান বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পান, তাহলে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।

    উদাহরণ হিসেবে, ৩০ জুন কোনো কর্মচারী যদি ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন এবং তিনি ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী হন, তাহলে নতুন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ২১ হাজার ৯০০ টাকা তার নতুন মূল বেতন হবে।

    অর্থাৎ পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন থাকলে নতুন বেতন স্কেলেরও প্রারম্ভিক ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে, কোনো কর্মচারীর মূল বেতন যদি বর্তমান বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে প্রথমে বর্তমান বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্য জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে।

    যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর যদি ওই অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকে, তাহলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

    এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার বর্তমান বেতন স্কেলের ধাপ হলো ১২,৫০০-১৩, ১৩০-১৩, ৭৯০…৩০, ২৩০ টাকা।

    এখন ১ জুলাই থেকে ওই কর্মচারীর জন্য অনুরূপ নতুন বেতন স্কেল হলো ২৫,০০০-২৬,৩০০…৬০,৫০০ টাকা।

    এখন হিসাবটি হবে এভাবে— বর্তমান বেতন স্কেলে প্রাপ্ত মূল বেতন থেকে একই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের বেতন বিয়োগ দিলে পার্থক্য হবে: ১৩,৭৯০-১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা।

    অতএব জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে এই ১২৯০ টাকা যোগ করতে হবে। হিসাবটি হবে ২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা। কিন্তু নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকার কোনো ধাপ নেই। তাই পরবর্তী উচ্চতর ধাপ অর্থাৎ ২৬ হাজার ৩০০ টাকা তার নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।

    তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের মূল নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিবের ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড ১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও সমমর্যাদার পদের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ দুটি পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না। তাদের মূল বেতন নির্ধারিত হওয়ায় তা আর বাড়বে না।

  • কা’শি ছাড়াই ফু’সফু’সের রো’গের ই’ঙ্গিত দিতে পারে শ’রীরের এই পরিবর্তনগুলো, জেনে নিন

    কা’শি ছাড়াই ফু’সফু’সের রো’গের ই’ঙ্গিত দিতে পারে শ’রীরের এই পরিবর্তনগুলো, জেনে নিন

    ফুসফুসে কোনো সমস্যা হলে কাশি হবেই, এমন ধারণা অনেকের। তাই কাশি না থাকলে অনেকে ধরে নেন ফুসফুস ভালো আছে। কিন্তু বাস্তবে সব ধরনের ফুসফুসের রোগের শুরুতে কাশি দেখা যায় না। কখনো শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, বুক ভার লাগা বা দৈনন্দিন কাজের সময় আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে যাওয়াই হতে পারে প্রথম সতর্ক সংকেত।

    কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে শরীরের পরিবর্তনগুলোও প্রথম দিকে খুব সামান্য মনে হতে পারে। বয়স বাড়ার স্বাভাবিক পরিবর্তন বা শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণ ভেবে অনেকে এসব লক্ষণ এড়িয়ে যান। অথচ নতুন কোনো শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নেওয়ার ধরন বদলে গেলে তার কারণ খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

    কাশি না থাকলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে

    ফুসফুসের সমস্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট। হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা সামান্য কাজ করার পর আগের তুলনায় বেশি হাঁপিয়ে গেলে সেটিকে শুধু বয়স বা শরীরের ফিটনেসের অভাব বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    বিশেষ করে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই শ্বাসকষ্ট হলে বা সময়ের সঙ্গে সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অ্যাজমা, COPD, ফুসফুসের ফাইব্রোসিসসহ বিভিন্ন ফুসফুসের রোগে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

    সামান্য কাজেই আগের চেয়ে বেশি ক্লান্তি

    আগে যে কাজ সহজেই করতে পারতেন, এখন সেই কাজ করলেই যদি অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে, বিষয়টি খেয়াল করুন। ফুসফুস শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ফুসফুসের কার্যক্ষমতায় সমস্যা হলে শারীরিক পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

    তবে ক্লান্তি শুধু ফুসফুসের রোগের লক্ষণ নয়। রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, হৃদ্‌রোগসহ আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে কারণটি পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

    বুক ভার বা অস্বস্তি

    বুকে চাপ, ভারী লাগা বা অস্বস্তিকেও অবহেলা করা ঠিক নয়। কিছু ফুসফুসের রোগে বুকের অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বাড়লে বা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    তবে বুকের ব্যথা শুধু ফুসফুসের সমস্যার জন্য হয় না। হৃদ্‌রোগসহ আরও গুরুতর কারণ থাকতে পারে। হঠাৎ তীব্র বুকব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

    শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ

    শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো বা শোঁ শোঁ শব্দ হলে সেটিকে wheezing বলা হয়। শ্বাসনালি সরু হয়ে গেলে এমন শব্দ হতে পারে। অ্যাজমা ও COPD-এর মতো রোগে এটি দেখা যায়।

    নতুন করে এমন শব্দ শুরু হলে বা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ শ্বাসনালিতে কোনো ধরনের বাধা বা সংকোচন আছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ

    ঘন ঘন ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হলেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে বারবার এমন সংক্রমণ হতে পারে।

    বিশেষ করে একই ধরনের সমস্যা বারবার হলে শুধু প্রতিবার ওষুধ খেয়ে উপসর্গ কমানোর বদলে এর পেছনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী কারণ আছে কি না, তা চিকিৎসকের মাধ্যমে খুঁজে দেখা দরকার।

    অকারণে ওজন কমে যাওয়া

    খাবার বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে, সেটি নজরে রাখুন। কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যেতে পারে।

    তবে অকারণে ওজন কমার পেছনে ক্যানসার ছাড়াও থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, হজমের সমস্যা বা অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তাই এই লক্ষণ দেখলেই কোনো নির্দিষ্ট রোগ ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    আঙুলের ডগা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

    কিছু দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগে আঙুলের ডগা ও নখের আকৃতিতে পরিবর্তন হতে পারে। একে clubbing বলা হয়। এতে আঙুলের ডগা তুলনামূলক চওড়া ও গোল হয়ে যেতে পারে এবং নখের আকৃতিতেও পরিবর্তন দেখা যায়।

    এটি ফুসফুসের নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তবে এমন পরিবর্তন নতুন করে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কাশির সঙ্গে রক্ত এলে দেরি নয়

    কাশি না থাকলেও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে, তবে কাশি হলে তার সঙ্গে রক্ত আসা বিশেষভাবে গুরুত্বের বিষয়। ফুসফুস বা শ্বাসযন্ত্রের অন্য অংশ থেকে রক্ত আসতে পারে এবং এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

    কাশির সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে কারণ নিজে থেকে অনুমান না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কারা বেশি সতর্ক থাকবেন

    ধূমপান ফুসফুসের রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তবে শুধু ধূমপায়ীরাই যে ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হন, তা নয়। পরোক্ষ ধূমপান, বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে ধুলো বা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ এবং কিছু জেনেটিক কারণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    তাই ধূমপান না করলেও দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসযন্ত্রের অন্য অস্বাভাবিক পরিবর্তন থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

    ফুসফুস ভালো রাখতে কী করবেন

    ফুসফুস সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ধূমপান না করা। যারা ধূমপান করেন, তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া যেকোনো বয়সেই উপকারী। পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং বায়ুদূষণের সংস্পর্শ কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।

    নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও ফুসফুসের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    কাশি না থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়

    ফুসফুসের রোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও দীর্ঘদিন কাশি থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে শুরুতে প্রধান সমস্যা হতে পারে শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া। কিছু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণও স্পষ্ট নাও হতে পারে।

    তাই নতুন বা বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট, বুকের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বারবার শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ কিংবা কাশির সঙ্গে রক্তের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব লক্ষণ থাকলেই ফুসফুসের গুরুতর রোগ হয়েছে এমন নয়, তবে কারণটি দ্রুত জানা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ থাকে।

    সূত্র: এই সময় অনলাইন

  • আ’ঙুর না কি’শমিশ, স্বা’স্থ্যগু’ণে কোনটি এ’গিয়ে? জেনে নিন

    আ’ঙুর না কি’শমিশ, স্বা’স্থ্যগু’ণে কোনটি এ’গিয়ে? জেনে নিন

    আঙুর মিষ্টি ও মৌসুমি ফল। বয়সভেদে প্রায় সবাই এ ফল খেতে পছন্দ করেন। অন্যদিকে কিশমিশ হলো আঙুর শুকিয়ে তৈরি করা শুকনো ফল। মিষ্টি স্বাদের কারণে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন ও খাবারে কিশমিশ ব্যবহার করা হয়। তবে স্বাস্থ্যগুণের দিক থেকে আঙুর ও কিশমিশের মধ্যে কোনটি এগিয়ে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

    আঙুর নাকি কিশমিশ?

    আঙুরে প্রায় ৮০ শতাংশ পানি থাকে। অন্যদিকে কিশমিশে পানির পরিমাণ মাত্র ১৫ শতাংশ। আঙুরের তুলনায় কিশমিশে প্রায় তিন গুণ বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

    তবে ভিটামিনের দিক থেকে আঙুর এগিয়ে। এতে ভিটামিন কে, ই, সি, বি১ ও বি২ রয়েছে। কিশমিশে এসব ভিটামিন তুলনামূলক কম পরিমাণে থাকে।

    আঙুর ও কিশমিশের ধরন

    বাজারে বিভিন্ন ধরনের আঙুর ও কিশমিশ পাওয়া যায়। আঙুরের মধ্যে সবুজ, কালো ও লাল জাত বেশি পরিচিত। লাল আঙুরে রেসভেরাট্রল নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই উপাদান রক্তচাপ কমাতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

    একইভাবে কিশমিশের মধ্যেও সোনালি, সবুজ ও কালো ধরনের কিশমিশ পাওয়া যায়। সোনালি কিশমিশকে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলা হয়। কারণ এতে অন্যান্য ধরনের কিশমিশের তুলনায় ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি থাকে।

    ক্যালরির দিক থেকে কে এগিয়ে?

    নামাজের সময়সূচী

    যারা ওজন কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের জন্য ফল গুরুত্বপূর্ণ। আঙুরে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম এবং এতে প্রচুর আঁশ রয়েছে। আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে।

    রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কি সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়?

    অন্যদিকে কিশমিশে আঙুরের তুলনায় ক্যালরি অনেক বেশি। আঙুর শুকানোর সময় এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও চিনি ঘনীভূত হয়, যার ফলে ক্যালরির পরিমাণও বেড়ে যায়।

    আধা কাপ কিশমিশে প্রায় ২৫০ ক্যালরি থাকে। একই পরিমাণ আঙুরে ক্যালরি থাকে মাত্র ৩০।

    বাড়তি পুষ্টি চাইলে কিশমিশ

    কিশমিশ আঁশ, পটাশিয়াম, আয়রন ও প্রয়োজনীয় খনিজের ভালো উৎস। এতে টারটারিক অ্যাসিড নামের একটি উপাদানও রয়েছে, যার প্রদাহবিরোধী গুণ রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    গবেষণায় দেখা গেছে, টারটারিক অ্যাসিড অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং অন্ত্রে থাকা উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

    ত্বকের যত্নে আঙুর

    আঙুরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রয়েছে। এই দুটি পুষ্টি উপাদান ত্বকের কোষকে সতেজ রাখতে এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষায় সহায়তা করে।

    ত্বকের কালো দাগ ও বলিরেখা কমাতেও আঙুর ব্যবহার করা হয়। এ কারণে বিভিন্ন ঘরোয়া উপায় ও ফেসপ্যাকে আঙুর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

  • পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশভা’ব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশভা’ব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে গেল। কখনো আবার পায়ে শুরু হলো ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া। এমন অস্বস্তিতে অনেকেরই রাতের ঘুম নষ্ট হয়। যারা এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তারাই জানেন হঠাৎ পায়ে টান বা ব্যথা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো তা সামান্য অস্বস্তির কারণ হয়, আবার কখনো ব্যথা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এসব সমস্যা হয়তো শুধু পেশি বা হাড়ের কারণে হচ্ছে। তবে সব ক্ষেত্রে কারণটি এমন নাও হতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে বারবার খিঁচুনি, ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি যেমন ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এ বিষয়ে কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন।

    পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ত উপস্থিতি প্রয়োজন। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে পেশিতে খিঁচুনি, দুর্বলতা, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    তাহলে কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে পায়ের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে?

    ভিটামিন ডি

    শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশি ও হাড়ে ব্যথা এবং পেশির দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পেশিতে টান বা খিঁচুনিও হতে পারে।

    বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডির ঘাটতি পেশির দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এতে চলাফেরায় সমস্যা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    ভিটামিন বি১২

    লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পা ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিন করা, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি বেশি হলে ভারসাম্য রাখতে সমস্যা, দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন

    শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি, পায়ে জ্বালাপোড়া বা অন্যান্য স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি গুরুতর হলে পেশির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে এবং হাঁটাচলায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ভিটামিন ই

    শরীরে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ঘাটতি হলে স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে পেশির দুর্বলতা, শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা এবং সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া বা চলাফেরায় সমন্বয়ের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।

    আয়রন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

    আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতার অনুভূতিও হতে পারে।

    এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট। পেশির সংকোচন ও শিথিলতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে এসব উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে খিঁচুনি বা টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    পায়ে মাঝেমধ্যে টান ধরা সবসময় কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতির লক্ষণ নয়। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে।

    তবে পায়ে বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে টান ধরা, ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে সমস্যা কিংবা ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

    নিজে থেকে ভিটামিন বা খনিজের সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে আগে ঘাটতি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া ভালো। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • ৩০-এর পরেই হা’ড়ের ক্ষ’য় শুরু, শ’ক্ত রাখতে প্রতিদিন যা খা’বেন, জেনে নিন

    ৩০-এর পরেই হা’ড়ের ক্ষ’য় শুরু, শ’ক্ত রাখতে প্রতিদিন যা খা’বেন, জেনে নিন

    বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকায় সামান্য আঘাতেও হিপ বা কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে ৫০ বছরের পর হিপ ফ্র্যাকচারের পেছনে অস্টিয়োপোরোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চিকিৎসকদের কেউ কেউ এ ধরনের গুরুতর হিপ ফ্র্যাকচারকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে ‘হিপ অ্যাটাক’ বলেও উল্লেখ করেন। তাই হাড়ের ক্ষয়কে অবহেলা না করে আগেভাগেই ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    অস্টিয়োপোরোসিস হলে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়। ফলে হাড় ভেতর থেকে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং সামান্য আঘাত, পড়ে যাওয়া বা দৈনন্দিন চাপেও ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে।

    চিকিৎসকেরা সাধারণত কয়েকটি কারণকে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন—

    বয়স বৃদ্ধি: বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। সাধারণত ৩০–৩৫ বছরের পর থেকেই হাড়ের ক্ষয় ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে।

    মেনোপজ: নারীদের মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায়। হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখতে এই হরমোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি না থাকলে হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

    কীভাবে বুঝবেন অস্টিয়োপোরোসিস হয়েছে?
    অস্টিয়োপোরোসিস অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ধীরে ধীরে এগোয়। তাই শুধু গাঁটে গাঁটে ব্যথা হলেই অস্টিয়োপোরোসিস হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

    চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, হাড়ের ঘনত্ব নির্ণয়ে ডেক্সা (DEXA) স্ক্যান করা হয়। এই পরীক্ষায় টি-স্কোরের মাধ্যমে হাড়ের ঘনত্ব মূল্যায়ন করা হয়। টি-স্কোর -২.৫ বা তার কম হলে সাধারণত অস্টিয়োপোরোসিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    তবে প্রয়োজন না থাকলে নিজে থেকে ডেক্সা স্ক্যান বা ক্যালশিয়াম-ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট শুরু না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই পরীক্ষা ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

    হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দুধ, দই ও ছানা ক্যালশিয়ামের ভালো উৎস। যাঁদের দুধে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সয়া মিল্ক বা টোফুর মতো বিকল্প খাবার বেছে নিতে পারেন।

    এ ছাড়া বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি, যেমন পালংশাক, নটে শাক, বিনস, বাঁধাকপি, ব্রকোলি ও কড়াইশুঁটিও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমও গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত।

    বিশেষ করে অল্প বয়সে মেনোপজ হয়েছে এমন নারীদের হাড়ের স্বাস্থ্যের বিষয়ে বাড়তি সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    হাড়ের ক্ষয় রোধে জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং মদ্যপান নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পুষ্টি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।

    মনে রাখবেন: অস্টিয়োপোরোসিস অনেক সময় নীরবে এগোয়। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, মেনোপজ বা অন্য ঝুঁকির কারণ থাকলে নিজের মতো করে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

  • ২৩ সেপ্টেম্বর স’রকারি ছু’টি পা’বেন না যারা

    ২৩ সেপ্টেম্বর স’রকারি ছু’টি পা’বেন না যারা

    আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উদযাপিত হবে। দিনটি উপলক্ষে দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা ছুটি থাকলেও সাধারণ কর্মজীবী ও সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি কোনো সাধারণ ছুটি নয়।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে ছুটির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

    ২৩ সেপ্টেম্বর যাদের অফিস খোলা থাকবে

    পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক দিনের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে এই দিনে কোনো সরকারি বা সাধারণ ছুটি থাকবে না।

    দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বেসরকারি অফিস-আদালতের কার্যক্রম যথারীতি খোলা থাকবে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি : ২৩ সেপ্টেম্বর বন্ধ থাকার পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের যথারীতি ক্লাসে ও কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।

    ঐচ্ছিক ছুটিতে টানা ৪ দিনের অবকাশের সুযোগ

    সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ছুটির পর ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) শুধু এক দিন নিয়মিত কর্মদিবস। এর পরপরই ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারী যদি ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) ঐচ্ছিক ছুটি নেন, তবে তিনি ২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিনের দীর্ঘ অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় দেখা গেছে, আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) শুভ মধু পূর্ণিমা পড়েছে। তবে দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শনিবার) হওয়ায় আলাদা কোনো সরকারি বন্ধের প্রয়োজন হচ্ছে না।

  • শি’শুর উ’চ্চতা কত ব’য়স পর্যন্ত বাড়ে, বৃ’দ্ধি ঠি’কমতো না হলে কী করবেন?

    শি’শুর উ’চ্চতা কত ব’য়স পর্যন্ত বাড়ে, বৃ’দ্ধি ঠি’কমতো না হলে কী করবেন?

    বয়স অনুপাতে শিশুর উচ্চতা সঠিক নিয়মে বাড়ছে কি না তা জেনে নেওয়া জরুরি। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, তার সন্তান কিছুই খায় না। তাই বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা দুইটাই কম। আবার উল্টোটাও হয়। বয়স অনুপাতে ওজন অনেক বেশি, অথচ উচ্চতা সে অনুযায়ী বাড়েনি। ওজন আর উচ্চতার মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। বয়সভেদে নির্দিষ্ট ওজন ও উচ্চতা হয়। শিশু সেই মাপকাঠির আওতায় আছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে।

    বিজ্ঞাপন

    উচ্চতা বৃদ্ধির হার ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা। ছেলেদের সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। বয়ঃসন্ধির সময় (১৩ থেকে ১৬ বছর) উচ্চতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। তবে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে তা কমতে থাকে ও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই অনুপাতের উনিশ-বিশ হতেই পারে। জোর দিতে হবে শিশুর সার্বিক বৃদ্ধির দিকে। এর জন্য সুষম ডায়েট ও শরীরচর্চা জরুরি।

    অনেক সময় বয়স বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে শিশুর উচ্চতা বাড়ে না। এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে, গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি হতে পারে অথবা শরীরে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও জিঙ্কের ঘাটতি থাকলেও হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধি ঠিকমতো হতে পারে না। ছোট থেকে থাইরয়েডের সমস্যা বা কিডনির রোগ থাকলেও বাড়বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সমস্যা যেমনই হোক না কেন সঠিকভাবে খাবার খাওয়া ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অভ্যাস করালে শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হবে।

    উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক কিছু ব্যায়াম

    স্কিপিং

    এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দড়ি নিয়ে লাফানোর অভ্যাস করা ভালো। এতে ওজনও ঠিক থাকবে এবং কাফ মাসলের ব্যায়াম হবে। ফলে উচ্চতা বাড়বে।

    ঊর্ধ্ব তাড়াসন

    প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। পায়ের পাতার মধ্যে দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। দুই হাত তুলে, কনুই ভাঁজ করে নিয়ে যেতে হবে মাথার পেছন দিকে। এবার দুই হাতের আঙুল একসঙ্গে জড়ো করতে হবে। এরপর শ্বাস নিতে নিতে হাত দুইটি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করতে হবে। হিল জুতা পরার মতো পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে উপর দিকে তুলতে হবে। মাটির সঙ্গে শুধুমাত্র আঙুলের অংশ স্পর্শ করে থাকবে। মাথা তুলে উপরের দিকে দেখতে হবে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকতে হবে। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য খুব ভালো ব্যায়াম এটি।

    বাটারফ্লাই পোজ

    ছোটদের জন্য খুব ভালো স্ট্রেচিং। মেঝেতে বসে দুই পায়ের পাতা সামনাসামনি জুড়ে রাখতে হবে। এবার দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা ধরে হাঁটু ওঠা-নামা করতে হবে। ১০ সেট করে তিনবার করতে হবে এই ব্যায়াম। নিয়মিত অভ্যাসে পায়ের জোর বাড়বে, কাফ মাসলের ব্যায়াম হবে। শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে, গ্রোথ পেইন বা বৃদ্ধিজনিত ব্যথায় ভুগবে না শিশু।

    শশঙ্গাসন

    যোগা ম্যাটের উপরে নামাজের মতো হাঁটু গেড়ে বসে পিঠ সোজা রাখতে হবে। দুই হাত হাঁটুর ওপর থাকবে। পায়ের পাতা যেন আরামদায়ক অবস্থায় থাকে। পিঠ সোজা থাকবে। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত কানের পাশ দিয়ে যতটা সম্ভব উপরের দিকে তুলতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর ঝুঁকিয়ে হাঁটুর সামনে মাথা ঠেকাতে হবে, দুই হাত সামনে ছড়ানো থাকবে প্রণামের ভঙ্গিতে। পরে হাত নিয়ে যেতে হবে গোড়ালির পাশে। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

    সূত্র : আনন্দবাজার

  • চি’নিতে পিঁ’পড়া? জেনে নিন দূর করার উপায়

    চি’নিতে পিঁ’পড়া? জেনে নিন দূর করার উপায়

    চিনি রান্নাঘরের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। মিষ্টি যেকোনো খাবার তৈরিতে এর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এর পাত্র খোলা রাখলে দ্রুত পিঁপড়ার উপদ্রব হতে পারে। একবার চিনিতে পিঁপড়া ঢুকে গেলে অনেকেই মনে করেন যে এটি ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় পিঁপড়া তাড়াতে এবং আবার ফিরে আসা রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এখানে কিছু সহজ উপায় দেওয়া হলো যেগুলো ব্যবহার করলে চিনি থেকে পিঁপড়া দূর করা সহজ হবে-

    ১. তেজপাতা ব্যবহার করুন

    চিনির পাত্রের ভিতরে বা চারপাশে কয়েকটি তেজপাতা রাখুন। এর তীব্র প্রাকৃতিক গন্ধ পিঁপড়াদের দূরে রাখতে এবং আপনার সঞ্চিত চিনিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তেজপাতাগুলো সম্ভব হলে ধুয়ে ও শুকিয়ে তারপর চিনির ভেতরে রাখুন। এর ফলে তেজপাতায় লেগে থাকা ধুলো-ময়লা পেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

    ২. লবঙ্গ রাখুন

    লবঙ্গের একটি তীব্র গন্ধ আছে যা পিঁপড়ারা অপছন্দ করে। চিনির পাত্রে কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে তা পিঁপড়াদের প্রবেশ রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। লবঙ্গগুলো ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। বরং একই লবঙ্গ আপনি নতুন করে চিনি ভর্তি করার সময় তার ভেতরে রেখে দিতে পারেন। আবার চাইলে সেগুলো চা তৈরি কিংবা অন্যান্য রান্নায় যোগ করতে পারেন।

    ৩. শুকনা মরিচ রাখুন

    চিনির পাত্রের কাছে বা সংরক্ষণ ক্যাবিনেটে কয়েকটি আস্ত শুকনা মরিচ রাখুন। এর ঝাঁঝালো গন্ধ পিঁপড়াদের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। তবে অবশ্যই তা শিশুদের নাগালের বাইরে রাখবেন। নয়তো তা শিশুর জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

    ৪. লেবুর টুকরা রাখুন

    এটি অবশ্য চিনির পাত্রের ভেতরে নয়, আপনাকে রাখতে হবে তার আশেপাশে। অর্থাৎ আপনি যে পাত্রে চিনি রাখছেন তার কাছাকাছি কোথাও এক টুকরা লেবু রেখে দিতে পারেন। লেবুর তীব্র গন্ধ পিঁপড়াদের তাড়াতে এবং সংরক্ষণ এলাকা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

    ৫. রোদে চিনি শুকিয়ে নিন

    যদি আপনি ইতিমধ্যে চিনি সংরক্ষণ করে থাকেন এবং পিঁপড়াও সেখানে উপস্থিত হয়ে থাকে, তবে তা একটি পরিষ্কার ট্রেতে ছড়িয়ে দিন এবং কিছুক্ষণের জন্য সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখুন। তাপ পিঁপড়াদের সরে যেতে উৎসাহিত করে, ফলে চিনি থেকে তাদের আলাদা করা সহজ হয়।

  • এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, স্বামী-স্ত্রীর তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তথ্যের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভিন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঠিকতা প্রমাণে সরকারি নথিপত্র জমা দিতে হয়।

    নাম সংশোধনে যেসব কাগজ লাগে

    নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ, যা প্রযোজ্য
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে
    সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ, যদি থাকে
    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব নথির পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।

    বাবা-মায়ের নাম সংশোধন

    বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি বা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    শিক্ষাগত সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বাবা-মায়ের এনআইডি
    ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাসনদ
    পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল, করের রশিদসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।

    জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    ভাই-বোনদের এনআইডি
    ওয়ারিশ সনদ
    কাবিননামা
    পাসপোর্ট
    ড্রাইভিং লাইসেন্স
    সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদন
    সার্ভিস বুক, এমপিও শিট বা অফিসের প্রত্যয়নপত্র
    অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বই
    মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ
     

    স্বামী-স্ত্রীর তথ্য সংশোধন বা সংযোজন

    স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি
    সন্তানের জন্মসনদ বা এনআইডি, যদি থাকে
    সন্তানের শিক্ষাসনদ

    দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু সনদ অথবা তালাকনামা এবং দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হলফনামা, ওয়ারিশ সনদ, বিদ্যুৎ বিল বা করের রশিদসহ অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

    জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    লিঙ্গ সংশোধন
    ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২)
    মেডিকেল সনদ
    সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র
     

    জন্মস্থান সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
     

    পেশা সংশোধন

    নিয়োগপত্র, চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে
    পেশাসংক্রান্ত সনদ
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
    দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন সংশোধন
    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন
    মেডিকেল সনদ
    রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন
    রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট
     

    স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন

    ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বিদ্যুৎ বিল
    চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট নম্বর

    টিআইএন নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: টিআইএন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি।

    ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি।

    পাসপোর্ট নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি।

    এনআইডি সংশোধনের আবেদন কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে?

    নির্বাচন কমিশন সংশোধনের আবেদন সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করে—

    ‘ক’ ক্যাটাগরি: সাধারণ ও স্বল্প জটিল সংশোধন
    ‘খ’ ক্যাটাগরি: তুলনামূলক বেশি যাচাই প্রয়োজন
    ‘গ’ ক্যাটাগরি: জটিল সংশোধন, অধিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন
    ‘ঘ’ ক্যাটাগরি: সর্বোচ্চ জটিলতার আবেদন, বিস্তৃত তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন

    বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান তথ্য ও সংশোধিত তথ্যের পার্থক্যের মাত্রা অনুযায়ী আবেদন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে।

    যা মনে রাখা জরুরি

    এনআইডি সংশোধনের সময় যে তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করা হবে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যত বেশি সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তা তত বেশি সহায়ক হতে পারে।

    আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। একই তথ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি থাকলে সংশোধন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই বা সময় লাগতে পারে।