Blog

  • নতু’ন ক্লা’বে যো’গ দিলেন বিশ্বকাপ মা’তানো কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক

    নতু’ন ক্লা’বে যো’গ দিলেন বিশ্বকাপ মা’তানো কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষক

    রূপকথার বিশ্বকাপ অভিযান এবার ভোজিনিয়াকে নতুন ঠিকানায় এনে দিলো। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বমঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কাড়ার পর চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) ক্লাবটির সভাপতি আনিবাল মোসা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভোজিনিয়া কোলো কোলোর খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিনি চিলিতে আসবেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।’

    সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রি এজেন্ট হিসেবে থাকা ভোজিনিয়া শিগগিরই চিলিতে যাবেন। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন তিনি। এরপর এস্তাদিও মনুমেন্তালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোলো কোলোর সঙ্গে ১৮ মাসের চুক্তি করেছেন ভোজিনহা।

    আসল নাম জোসিমার দিয়াস হলেও ফুটবল বিশ্বে তিনি পরিচিত ভোজিনিয়া নামেই। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেকে শেষ ৩২-এ নেওয়ার পথে গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। অতিরিক্ত সময়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় নবাগত দলটি।

    তবে বিদায়ের আগেই নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসেন ভোজিনিয়া। দুই ফাইনালিস্ট স্পেন এবং আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বিশ্বকাপের আলো কেড়ে নেন। অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

    জানা যায়, ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া পেশাদার ক্যারিয়ারে আরও এক বা দুই মৌসুম খেলতে চান। সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি এমন একটি দল চাই, যারা আমার খেলোয়াড়ি দক্ষতাকে মূল্যায়ন করবে, শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য কিনবে না।’ সে সময় তার ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জনও উঠেছিল।

    বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে ভোজিনিয়ার জনপ্রিয়তাতেও। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৫০ হাজারেরও কম। বিশ্বকাপ শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখে। এখন সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো কোলোর জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় মুখ ভোজিনিয়া নতুন দল পাওয়ার ঘোষণা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন লিখেছেন, ‘তার কারণে কত শিশু যে গোলরক্ষক হতে চাইবে! এটি দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’ এমনকি ইংরেজ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামও এই চুক্তির পোস্টে মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘দ্য বেস্ট।’

  • যেসব ভি’টামিনের অ’ভাবে রাতে ঘুম কম হয়, জেনে নিন

    যেসব ভি’টামিনের অ’ভাবে রাতে ঘুম কম হয়, জেনে নিন

    প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানো শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী। সুস্থ থাকতে দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। তবে আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। এর পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরে নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি।

    আসুন জেনে নেই কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

    ভিটামিন সি: ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে এবং ভালো ঘুম আনে। পালং শাক, ফুলকপি, সাইট্রাস ফল যেমন— কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির ভালো উৎস।

    ভিটামিন বি-৬: এ ভিটামিন অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে। কলা, গাজর, পালং শাক, আলু, ডিম, চিজ, মাছ এবং গোটা শস্যদানায় প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

    ভিটামিন বি-১২: এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রাণিজ প্রোটিন এবং দুধজাতীয় খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।

    ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘুমে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অ্যানিমিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়। সূর্যালোক ছাড়াও আপনি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ ও ফলের রস থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

    ভিটামিন ই: এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কোষের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

    ভিটামিন-ই ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি এবং টমেটো থেকে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।

    সূত্র: স্বাস্থ্য ও জীবনধারাবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট

  • প্রতিদিন ২ কোয়া রসুন খাওয়ার ৩৪ টি উপ’কারিতা, জেনে নিন

    প্রতিদিন ২ কোয়া রসুন খাওয়ার ৩৪ টি উপ’কারিতা, জেনে নিন

    কাঁচা রসুন খাওয়া অনেকেই একেবারে পছন্দ করেন না। মুখে দুর্গন্ধ হওয়ার ভয়ে অনেকেই কাঁচা রসুনের কাছ থেকে দূরেই থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় কাঁচা রসুনের স্বাস্থ্য উপকারিতা অনেক বেশি। বিশেষ করে নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা দূর করতে কাঁচা রসুনের জুড়ি নেই। ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সাইন্সের গবেষণায় রসুনের এইসকল গুণাবলী প্রকাশ পায়। আজ জেনে নিন রসুনের এমনই অসাধারণ কিছু গুণাবলী সম্পর্কে। জেনে নিন প্রতিদিন মাত্র ২ কোয়া রসুন খাওয়ার উপকারিতা। ১) হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় কাজ করে। কোলেস্টেরল কমায়। এতে করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। ২) শিরা উপশিরায় প্লাক জমতে বাঁধা প্রদান করে। রক্ষা করে শিরা উপশিরায় মেদ জমার মারাত্মক রোগ অথেরোস্ক্লেরোসিসের হাত থেকে। ৩) উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা দূর করে।

    ৪) গিঁট বাতের সমস্যা থেকে রক্ষা করে। ৫) ফ্লু এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। ৬) অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দেহে খারাপ ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ, জন্ম এবং বংশবিস্তারে বাঁধা প্রদান করে। ৭) যক্ষ্মা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ৮) দেহের বিভিন্ন অংশের পুঁজ ও ব্যথাযুক্ত ফোঁড়ার যন্ত্রণা কমায়। ৯) যৌনমিলনের অসাবধানতা বশত রোগ ট্রিকোমোনিয়াসিসের হাত থেকে রক্ষা করে। ১০) হজমশক্তি বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। ১১) কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ১২) গলব্লাডার ক্যান্সার মুক্ত রাখে। ১৩) স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। ১৪) রেক্টাল ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করে। ১৫) প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। ১৬) পরিপাকতন্ত্রের নানা সমস্যা দূর করে। ১৭) ইষ্ট ইনফেকশন দূর করে। ১৮) শিরা উপশিরায় জমাট বাঁধা রক্ত ছাড়াতে সহায়তা করে। ১৯) ক্ষুধামন্দা ভাব দূর করে।

    ২০) দেহের অভ্যন্তরীণ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং কৃমি ধ্বংস করে। ২১) চোখে ছানি পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ২২) হাতে পায়ে জয়েন্টের ব্যথা দূর করে এবং বাতের ব্যথা সারায়। ২৩) ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ২৪) স্টাফিলোকোক্কাস ইনফেকশন দূর করে। ২৫) দাঁতের ব্যথা সারাতে সহায়তা করে। ২৬) ব্রণ সমস্যা দূরে রাখে। ২৭) আঁচিলের সমস্যা সমাধান করে। ২৮) দাদ, খোস-পাঁচড়া ধরণের চর্মরোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ২৯) চামড়ায় ফোসকা পড়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়। ৩০) রসুনের ফাইটোনসাইড অ্যাজমা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ৩১) দীর্ঘমেয়াদী হুপিং কাশি ও ব্রঙ্কাইটিসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ৩২) ঘুম না হওয়া, অনিদ্রা রোগ মুক্ত রাখে। ৩৩) ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। ৩৪) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    সতর্কতাঃ

    ১) দিনে ২ কোয়ার বেশি কাঁচা রসুন খাওয়া যাবে না। রান্নায় রসুন ব্যবহার হলেও দিনে মাত্র ২ কোয়া রসুন খাওয়া যায়। ২) রসুনে অ্যালার্জি কিংবা কোনো বিশেষ কারণে রসুন খাওয়া বন্ধ থাকলে তাদের রসুন না খাওয়াই ভালো। ৩) অতিরিক্ত রসুন খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ, বমিভাব হতে পারে। সূত্রঃ হেলথডাইজেস্ট

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে খাওয়ার পরও বারবার ক্ষু’ধা লাগে? জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে খাওয়ার পরও বারবার ক্ষু’ধা লাগে? জেনে নিন

    খাবার খাওয়ার অল্প সময় পরই আবার ক্ষুধা লাগা বা সারাক্ষণ কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছা করা অনেকের কাছেই স্বাভাবিক মনে হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। 

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অনেক ক্ষেত্রে হিডেন হাঙ্গার বা লুকানো ক্ষুধার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, শরীর পর্যাপ্ত ক্যালরি পেলেও প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাবে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে শুধু ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলেই হয় না। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ সমানভাবে প্রয়োজন। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

    ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভিটামিনের ভূমিকা
    ক্ষুধা ও তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে শরীরের বিভিন্ন হরমোন কাজ করে। এর মধ্যে লেপটিন মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর পর্যাপ্ত খাবার পেয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি লেপটিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে তৃপ্তির অনুভূতি কমে গিয়ে বারবার ক্ষুধা লাগতে পারে।

    ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিতে কী হতে পারে
    ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি সরাসরি ক্ষুধা বাড়ায় এমন শক্ত প্রমাণ না থাকলেও, এর অভাবে অনেকের মিষ্টি, চকলেট বা উচ্চ-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ক্লান্তি, পেশিতে টান, অবসাদ এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    বি-ভিটামিনের অভাবেও বাড়তে পারে ক্ষুধা
    ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স শরীরে কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনকে শক্তিতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১, বি৩, বি৬, বি৯ (ফোলেট) এবং বি১২-এর ঘাটতি হলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় এই শক্তির ঘাটতিকে শরীর অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হিসেবে প্রকাশ করে, ফলে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে।

    আয়রনের ঘাটতিও হতে পারে কারণ
    শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়রনের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে, যার ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় শরীর দ্রুত শক্তি পাওয়ার জন্য বেশি খাবারের চাহিদা অনুভব করতে পারে।

    অন্য রোগের লক্ষণও হতে পারে
    বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগা শুধু পুষ্টির ঘাটতির কারণেই হয় না। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় থাইরয়েড (হাইপারথাইরয়েডিজম) বা অন্যান্য বিপাকজনিত সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে। তাই নিয়মিত এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

    যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন
    প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভিটামিন ডি-এর জন্য প্রতিদিন কিছু সময় সকালের রোদে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।

    খাওয়ার পরও যদি নিয়মিত ক্ষুধা লাগে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে কারণ শনাক্ত করা উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরে লুকিয়ে থাকা পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা নিয়মিত দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • পদত্যাগের পরেও যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগের পরেও যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

    অবশেষে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব ছেড়ে দিলেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধানে তিনি আজীবন অবসরভাতাসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিভাবে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণের বিষয়টি জনসম্মুখে আনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বলেন, অসুস্থতাজনিত কারণে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

    যেসব সুবিধা পাবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

    দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করলে অথবা অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন করলে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন।

    এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। পাশাপাশি দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও দেওয়া হবে।

    আইন অনুযায়ী, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং সরকার নির্ধারিত সীমার মধ্যে এর বিল পরিশোধের সুবিধাও পাবেন।

    এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমপর্যায়ের চিকিৎসাসেবা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধাও ভোগ করবেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

    বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তিনিই একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। বিভিন্ন মহলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তার অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে, সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও তাকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

    মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটল। 

    রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে জেলা ও দায়রা জজ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তিনি পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল তিনি ভারতে যান এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে পাবনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন।

  • রাষ্ট্রপতি কে হবেন’—প্রশ্নের জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি কে হবেন’—প্রশ্নের জবাবে যা বললেন মির্জা ফখরুল

    রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের ইস্যুতে গুজবে কান না দিতে আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কে হবেন তা সময় হলেই জানতে পারবেন।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স আয়োজিত বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    সাংবাদিকেরা মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চান, রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে। তিনি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন?

    জবাবে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ এই নীতিনির্ধারক বলেন, রাষ্ট্রপতির কথাটা গুজব দিয়ে কিছু বলা যাবে না। অপেক্ষা করেন, সময় হলেই জানতে পারবেন।

    অনুষ্ঠান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ জিহাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবাইদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তা ছিলেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাক খান।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

    মন্ত্রী জানান, তিনি কোনো পেশাদার বিশ্লেষক নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও মানুষের প্রত্যাশাকে উপলব্ধি করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

    তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। 

    সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    মন্ত্রী বলেন, শিল্প উন্নয়ন, কৃষিখাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

  • রাষ্ট্রপতি পদে যাকে যোগ্য মনে করেন আসিফ নজরুল

    রাষ্ট্রপতি পদে যাকে যোগ্য মনে করেন আসিফ নজরুল

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। 

    এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    তবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে কে যোগ্য ব্যক্তি? তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    তার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।

    আসিফ নজরুল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি ছিলেন সন্তানসম একজন। বিএনপিতে উপযুক্ত আরও কেউ কেউ আছেন। 

    উল্লেখ্য, গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

    শুক্রবার বিকালে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। 

    এর আগে মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

    পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এ অবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

  • পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

    পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন মো. সাহাবুদ্দিন

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রে আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই তারিখে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর রয়েছে। পাঠকদের জন্য পদত্যাগপত্রটি হুবহু তলে ধরা হলো—

    সম্মানিত স্পিকার
    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
    শেরে বাংলা নগর, ঢাকা।
    বিষয়: রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ।
    শ্রদ্ধাভাজনেষু, জনাব, আসসালামু আলাইকুম।
    আমি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করি এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করি। অতঃপর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে।
    নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সরকার পরিচালনা করছে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। আমার সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোন সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
    আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরিক্ষায় Autonomic Neuropathy নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন।
    এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।
    ধন্যবাদান্তে
    মো. সাহাবুদ্দিন
    ২৪/০৭/২০২৬
    রাষ্ট্রপতি

  • রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি দু-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।

    রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করা এক সিনিয়র সচিবের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

    সূত্র জানায়, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

    দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে দলের বাইরের গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে এ পদে মনোনয়ন দেওয়ার। তবে দলের একাধিক নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে দলীয় নেতৃত্বের অভিজ্ঞ কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

    এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে যেসব নাম আলোচনায় আসছে, সেগুলো মূলত অনুমাননির্ভর। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কেউ কিছু জানেন না বলে ওই সূত্র দাবি করেছে।

    বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা, সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গে সাংবিধানিক ভারসাম্য রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা—এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে।

    উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন। সর্বশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

  • রাষ্ট্রপতির প’দত্যা’গ ই’স্যুতে যা বললেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতির প’দত্যা’গ ই’স্যুতে যা বললেন স্পিকার

    রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। 

    সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি।

    শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্পিকার। 

    স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে এ সময়ে দেশে কী ঘটেছে বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে তার জানা নেই। দেশে ফিরে এখন বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি জানান, মূলত চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ব্যাংককে গিয়েছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের আগেই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ায় দুদিন আগে দেশে ফিরে এসেছেন।

    তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী কী ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন স্পিকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে তাকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।

    অন্তর্বর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়েও সংবিধানের বিধান তুলে ধরেন স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি পদত্যাগ করলে স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।