Blog

  • জ্বা’লানি তেলের অবৈ’ধ মজুতের তথ্য দিলেই পুরস্কার

    জ্বা’লানি তেলের অবৈ’ধ মজুতের তথ্য দিলেই পুরস্কার

    দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এখন থেকে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।


    শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ তদারকি করতে ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। অবৈধ মজুতদারি বন্ধে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সচেতন নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    এদিকে অবৈধ মজুতদারি রুখতে মাঠপর্যায়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুত করা আনুমানিক ৬ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে।

    মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প ও সংশ্লিষ্ট তেল কারবারিরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারির আওতায় রয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

  • কালোজিরার আ’শ্চর্যজনক ৭ উপকারিতা, ব্যবহারের নিয়ম জানালেন বিশেষজ্ঞ চি’কিৎসক

    কালোজিরার আ’শ্চর্যজনক ৭ উপকারিতা, ব্যবহারের নিয়ম জানালেন বিশেষজ্ঞ চি’কিৎসক

    নাইজেলা স্যাটিভা উদ্ভিদের বীজ বা কালোজিরা হচ্ছে ওষধি ও এক ধরনের মশলাজাতীয় উদ্ভিদ। ওষধি হিসেবে সেই প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে এর তেল। হজম প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্নভাবে শরীরকে সহায়তা করে কালোজিরা।

    উপাদানটির প্রধান কার্যকারিতা মূলত থাইমোকুইনোন থেকে আসে, যা জৈব-সক্রিয় যৌগ এবং এর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহবিরোধী ও জীবাণুবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অলোক চোপড়া বলেন, কালোজিরার তেল বা কালোজিরা প্রকৃতির অন্যতম শক্তিশালী প্রতিকার।

    এ চিকিৎসক বলেন, কালোজিরা আকারে ছোট হলেও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ব্যাপক শক্তিশালী। বিপাকক্রিয়াকে সহায়তা ও প্রদাহের ভারসাম্য রক্ষা থেকে শুরু করে অন্ত্র, ত্বক ও হরমোনের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে কাালোজিরা। তাহলে এই তেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নেয়া যাক-

    বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো করে:
    কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহারে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে এবং খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে। আবার বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে এবং ক্ষুধা কমিয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

    প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ:
    কালোজিরার তেল শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এটি আর্থ্রাইটিস ও হাঁপানির মতো রোগের ক্ষেত্রে উপকারী। কালোজিরায় থাইমোকুইনোন রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।

    রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
    থাইমোকুইনোন একটি প্রাকৃতিক রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী হিসেবে কাজ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যা অটোইমিউন রোগ বা আর্থ্রাইটিসের মতো গাঁটের ব্যথায় আক্রান্তদের জন্য উপকারী। নিয়মিত কালোজিরার তেল ব্যবহারে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে।

    অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা:
    পেট ফাঁপা ও হজমের অস্বস্তি রোধে ঐতিহ্যগতভাবে কালোজিরার তেল ব্যবহার হয়ে আসছে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের মতো সমস্যায় উপকার পেতে অনেকেই এই তেল ব্যবহার করেন।

    হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা:
    গবেষণায় দেখা গেছে, কালোজিরার তেল হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। যা পিসিওএস’র মতো হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য উপকারী।

    অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর:
    কালোজিরার তেলে প্রচুর পরিমাণ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিন্টে রয়েছে। যা কোষকে ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমে যেতে পারে।

    ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য:
    এই তেলের প্রদাহবিরোধী ও জীবাণুরোধী গুণের জন্য এটি ব্রণ, একজিমা ও শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসায় বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো করে।

    এছাড়াও কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহারে চুল শক্তিশালী হয় এবং এর বৃদ্ধিতে সহায়তার পাশাপাশি খুশকি ও মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। এবার তাহলে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. অলোক চোপড়ার পরামর্শ অনুযায়ী এই তেল ব্যবহারের উপায় জেনে নেয়া যাক-

    ব্যবহারের উপায়:
    অভ্যন্তরীণ সহায়তা: বিপাকক্রিয়াকে সচল রাখার জন্য এবং প্রদাহ কমাতে খাবারের পর আধা থেকে এক চা চামচ পরিমাণ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা।

    মধু দিয়ে: হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সকালে মধুর সঙ্গে কালোজিরা মিশিয়ে খেতে পারেন।

    গরম পানি: ভালোভাবে শোষণ ও সহনশীলতার জন্য একটু হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে তারপর খেতে পারেন।

    বাহ্যিক ব্যবহার: অন্যসব তেলের সঙ্গে মিশিয়ে পাতলা করে ব্রণপ্রবণ বা প্রদাহযুক্ত জায়গায় দিতে পারেন।

    চুল মজবুত করতে: চুলের শক্তি বাড়াতে ও মজবুত করার জন্য মাথার ত্বকে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করবে।

  • ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু হতে পারে, থাকবে যেসব সুবিধা

    ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু হতে পারে, থাকবে যেসব সুবিধা

    জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান পরিস্থিত মোকাবেলায় সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তা করছে সরকার। জ্বালানি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজও শুরু করেছে।

    জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে তেলের চাহিদা মেটাতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে।

    সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না।

    ‌এক্ষেত্রে কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে।

    তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ফুয়েল কার্ড কি

    ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়। 

    ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা

    সহজ পেমেন্ট

    এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়।

    খরচ নিয়ন্ত্রণ

    কম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে।

    নিরাপত্তা

    কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।

    সময়ের সাশ্রয়

    কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
     

  • ‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে যেসব সুবিধা, জেনে নিন

    ‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে যেসব সুবিধা, জেনে নিন

    দেশের কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করছে সরকার। প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমে প্রথম ধাপে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষক এই কার্ড পাচ্ছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আট বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য মোট আট কোটি ৩৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    আগামী ১ বৈশাখ এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি কৃষক পরিবার একটি করে কৃষক কার্ড পাবে। তবে নির্ধারিত শ্রেণির কৃষক—ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, তাঁরা জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা হারে অনুদান পাবেন।

    এই অর্থ দিয়ে সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ এবং মৎস্য ও গবাদি পশুর খাদ্য সংগ্রহ করা যাবে। শস্য উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্য চাষি ও প্রাণিসম্পদ খামারিরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।

    যে সুবিধা পাবেন কৃষকরা
    কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের আওতায় একজন কৃষক প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে—ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক সংগ্রহ, সরাসরি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি, সাশ্রয়ী সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ, প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য এবং রোগবালাই দমন-সংক্রান্ত পরামর্শ।

    সোনালী ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট, পস মেশিনে লেনদেন
    কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা সরাসরি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয় নিশ্চিত হয়।

    সরকারি তথ্য মতে, প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১১টি ব্লকে ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের তালিকা করা হয়েছে। আগামী চার বছরে এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তালিকায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। পঞ্চগড় সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, টাঙ্গাইল সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কৃষকরা প্রাথমিকভাবে এ কার্ড পাচ্ছেন।

    কৃষি ভর্তুকি ও উপকরণ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২১ হাজার ১৪ জন কৃষকের চূড়ান্ত তালিকা করা হলেও প্রাথমিক বাজেট প্রণয়নের সময় ২৫ হাজার কৃষককে বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী এ খাতে ছয় কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    এ ছাড়া অতিরিক্ত আরো দুই হাজার কৃষকের জন্য কার্ড প্রস্তুতের পরিকল্পনা রয়েছে। ২৭ হাজার কার্ড মুদ্রণের জন্য ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের সম্মানি বাবদ রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

    মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুল হাসান বলেন, প্রতিটি তালিকাভুক্ত কৃষকের জন্য সোনালী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার পাশাপাশি একটি ডেবিট কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডে থাকা সরকারি সহায়তার অর্থ (যেমন আড়াই হাজার টাকা) কেবল নির্ধারিত ডিলারের পস মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এতে সহায়তার অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ থাকবে না এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

    একই সঙ্গে কার্ডটি সাধারণ ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। কৃষক নিজের অর্থ জমা রাখলে তা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন। ফলে গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটবে এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়বে।

    এই ব্যবস্থায় বড় কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যা কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

  • আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’, পাবেন যে সুবিধা

    আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’, পাবেন যে সুবিধা

    জ্বালানি তেলের সংকট ও পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা। এমন পরিস্থিতির সমাধানে সব গাড়ির জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ জন্য কাজও শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। 


    ওই বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শিগগির শেষ না হলে বাংলাদেশের মতো দেশকে অনেক খেসারত দিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে আসবে এবং তেলের জন্য অনেক মূল্য দিতে হবে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ দাম বাড়াতে পারবে না।

    তাই তেলের অপচয় এবং মজুত রোধে ফুয়েল কার্ড চালুর বিকল্প নেই। সেই কার্ড দিয়ে মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাস তার পরিবহণের চাহিদা অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ জন্য থাকবে একটি কিউআর কোড। সেই কোড দিয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নেওয়া যাবে। তবে এটি চালু করতে সময় লাগবে।

    ফুয়েল কার্ড কি

    ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিটকার্ড হলো- পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড, যা সাধারণত কোম্পানি বা গাড়ির মালিকরা ব্যবহার করে থাকেন। এটি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মতো কাজ করে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানি খরচ ট্র্যাকিং, নিয়ন্ত্রণ এবং নগদবিহীন লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়। 

    ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:

    সহজ পেমেন্ট

    এটি ব্যবহার করে চালকরা সহজেই ফিলিং স্টেশনে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন এবং প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড রাখা যায়।

    খরচ নিয়ন্ত্রণ

    কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এটি ডিজিটালভাবে জ্বালানি ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান করে।

    নিরাপত্তা

    কার্ডটি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা চুরি বা অপব্যবহার রোধ করে।

    সময়ের সাশ্রয়

    কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা কমে এবং এককালীন চালান পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।

  • পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, যা জানা গেল

    পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা, যা জানা গেল

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি প্রায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র জ্বালানির সংকট। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।

    ফলে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। এ জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে।

    ২০২৪ সালে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ। এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয়ের খবরে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে।

    এছাড়া, চলমান মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৃষ্টি এখন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বেলা ৩টায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করা হবে। এবারের প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল এই বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

    বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে।

    ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতখানি সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই নতুন বেতন কাঠামো এখনই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে।

    এদিকে, দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি বৃদ্ধি করবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপের মুখে নতুন করে অভ্যন্তরীণ এই আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ নিতে পারে।

    গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থ সচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।

  • টানা এক মাস প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খেলে কী পরিবর্তন ঘটে শ’রীরে, জেনে নিন

    টানা এক মাস প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খেলে কী পরিবর্তন ঘটে শ’রীরে, জেনে নিন

    কিশমিশ বা শুকনো আঙুর আমাদের পরিচিত এক পুষ্টিকর খাবার। এটি প্রাকৃতিক মিষ্টি, ফাইবার ও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। অনেকে ক্ষীর, পায়েস, সেমাই বা বিরিয়ানিতে কিশমিশ ব্যবহার করেন। কেউ আবার সরাসরি খেতেও ভালোবাসেন। তবে শুকনো অবস্থায় খাওয়ার থেকে ভিজিয়ে খাওয়া হলে এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষণ করতে পারে শরীর।

    আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ চিকিৎসা কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাসকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম, এক মাস ভেজানো কিশমিশ খাওয়া হলে শরীরে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, তা তুলে ধরেছে। এ ব্যাপারে তাহলে জেনে নেয়া যাক।

    কেন ভেজানো কিশমিশ ভালো

    কিশমিশ ভিজিয়ে রাখলে এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনির ঘনত্ব কিছুটা কমে যায়। পাশাপাশি এর খোসা নরম হয়ে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সহজে শরীরে শোষিত হয়। এতে হজম প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হয় এবং পুষ্টি গ্রহণের হার বাড়ে।

    একমাসা টানা ভেজানো কিশমিশ খেলে কী পরবর্তন হয় শরীরে:

    হজম ক্ষমতা উন্নত হয়: কিশমিশে থাকা ডায়েটারি ফাইবার প্রাকৃতিক রেচক হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, অন্ত্রের গতি স্বাভাবিক থাকে এবং পেটের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: কিশমিশ পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা রক্তনালী শিথিল করে ও শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখে। একমাস নিয়মিত খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

    রক্তাল্পতা কমায়: কিশমিশে প্রচুর আয়রন ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিন বাড়ায় এবং রক্তাল্পতার কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি ও দুর্বলতা কমায়।

    রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিকেল ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে সংক্রমণ বা ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যায়।

    ত্বক ও লিভারের উপকারে আসে: ভেজানো কিশমিশের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্ত পরিশোধনে সাহায্য করে। রক্ত পরিষ্কার থাকলে ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আসে, বলিরেখা কমে এবং লিভার ডিটক্স প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

    খাওয়ার উপায়: প্রতিদিন রাতে ৮-১০টি কিশমিশ একটি ছোট পাত্রে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে খালি পেটে কিশমিশগুলো চিবিয়ে খান এবং ভেজানো পানিটুকু পান করুন। তাতেই কার্যকরী ফল দেখতে পাবেন।

  • ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

    ব্রাজিলকে হারাল ফ্রান্স

    বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে হওয়া ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে ব্রাজিল। পঞ্চম মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন রাফিনহা। তবে ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য নিতে শুরু করে ফ্রান্স।

    খেলার ৩২ মিনিটে উসমান দেম্বেলের নিখুঁত পাস ধরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

    প্রথমার্ধে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। তবে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায় না তারা। এই আক্রমণের মাঝেই ৫৫তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ওয়েজলিকে ফাউলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় ডায়ট উপামেকানোকে। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স।

    ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। মাইকেল ওলিসের চমৎকার থ্রু পাস ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন একিটিকে।

    ৭৮তম মিনিটে ব্যবধান কমায় ব্রাজিল। ফ্রি-কিক থেকে তৈরি আক্রমণে ক্যাসিমিরোর বল কাটব্যাক করলে শট নেন লুইস এইহিক, আর মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে বল জালে পাঠান ব্রেমার।

    শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে ফ্রান্সকে চাপে রাখে ব্রাজিল, কিন্তু সমতায় ফিরতে পারেনি।

  • দুই দিন ম্যানেজ করলেই এপ্রিলে টানা ৫ দিনের ছুটি

    দুই দিন ম্যানেজ করলেই এপ্রিলে টানা ৫ দিনের ছুটি

    ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি কাটিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার মাঝেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দারুণ এক সুখবর অপেক্ষা করছে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে মাত্র দুই দিনের ছুটি ম্যানেজ করতে পারলেই এপ্রিলে টানা পাঁচ দিনের একটি মিনি ভ্যাকেশন উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 

    আগামী ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর ঠিক পরেই বুধবার ও বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ এপ্রিল যদি ছুটি নেওয়া সম্ভব হয়, তবেই কেল্লাফতে! কারণ এর পরপরই শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক নিয়মিত ছুটি। অর্থাৎ মঙ্গল থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন পরিবার বা প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর মোক্ষম এক সুযোগ মিলছে এই এপ্রিলেই।

    যারা ঈদের ছুটিতে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেননি, তারা এখনই এই সুযোগটি কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সেরে ফেলতে পারেন।

  • পে স্কেলের নতুন ভরসা ১১ জুন

    পে স্কেলের নতুন ভরসা ১১ জুন

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর মধ্যেই বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয়ের খবরে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে। চলমান ইরান সংকট ও বৈশ্বিক উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

    তবে সব অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশার চোখ এখন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করা হবে। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বাজেটে বহুল প্রতীক্ষিত পে স্কেলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

    দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপের মুখে নতুন করে অভ্যন্তরীণ এই আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ নিতে পারে।

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে।

    বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতখানি সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই নতুন বেতন কাঠামো এখনই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সরকার পে স্কেল ইস্যুটি রিভিউ করার ঘোষণাও দিয়েছে।