Blog

  • ডা’য়াবে’টিস রো’গীরা পা’য়ের যে ল’ক্ষণগুলো ভুলেও অ’বহেলা করবেন না

    ডা’য়াবে’টিস রো’গীরা পা’য়ের যে ল’ক্ষণগুলো ভুলেও অ’বহেলা করবেন না

    ডায়াবেটিস হলে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে নজর দিলেই হয় না। চোখ, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্রের পাশাপাশি পায়ের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে পায়ে অনুভূতি কমে যায় এবং ছোটখাটো আঘাতও অনেক সময় টের পাওয়া যায় না।

    একটি ছোট ফোসকা বা কাটা জায়গা থেকে শুরু হয়ে পরে সংক্রমণ ও বড় ধরনের ক্ষত তৈরি হতে পারে। রক্ত চলাচল কম থাকলে সেই ক্ষত শুকাতেও সময় লাগে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের সামান্য পরিবর্তনও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

    ডায়াবেটিসে পায়ের সমস্যা কেন হয়?

    ডায়াবেটিসজনিত পায়ের সমস্যার পেছনে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো স্নায়ুর ক্ষতি বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, অন্যটি হলো পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়া।

    দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন পায়ে ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া, ব্যথা কিংবা অবশভাব দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পায়ের অনুভূতি এতটাই কমে যায় যে কেটে গেলেও বা ফোসকা পড়লেও তা বোঝা যায় না।

    অন্যদিকে ডায়াবেটিসে পায়ের রক্তনালির সমস্যাও হতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

    ছোট ক্ষতই বড় সমস্যার কারণ হতে পারে

    ধরা যাক, নতুন জুতা পরার কারণে পায়ে ছোট একটি ফোসকা হয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ব্যথা অনুভূত হলে মানুষ সেটি বুঝতে পারেন এবং জুতা বদলে ফেলেন বা ক্ষতটির যত্ন নেন।

    কিন্তু ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ক্ষতি থাকলে সেই ফোসকা থেকে ব্যথা নাও হতে পারে। ফলে দিনের পর দিন ক্ষতটি জুতার সঙ্গে ঘষা খেতে থাকে। পরে সেখানে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে।

    রক্ত চলাচলও কম থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হয়। চিকিৎসা না করলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    যে লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হবেন

    ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন পা পরীক্ষা করার অভ্যাস করা ভালো। বিশেষ করে নিচের পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে কি না খেয়াল করুন-

    পায়ে কাটা বা ক্ষত

    ফোসকা

    পায়ের ত্বক ফেটে যাওয়া

    অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক

    মাড়ি বা শক্ত চামড়ার মতো অংশ তৈরি হওয়া

    পায়ের নখের রং বা গঠনে পরিবর্তন

    পা ফুলে যাওয়া

    ত্বকের রং বদলে যাওয়া

    ক্ষত থেকে রক্ত বা তরল বের হওয়া

    দুর্গন্ধ

    পায়ে ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা ঝিনঝিন

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া

    পায়ের তাপমাত্রায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    এসবের কোনো একটি দেখা দিলেই বড় কোনো সমস্যা হয়েছে, এমন নয়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    পা অবশ হয়ে গেলে আরও সতর্ক

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির লক্ষণ হতে পারে। তখন গরম, ঠান্ডা বা ব্যথার অনুভূতিও কমে যেতে পারে।

    এ কারণে খালি পায়ে হাঁটলে কাচের টুকরা, পাথর, কাঁটা বা অন্য কোনো ধারালো জিনিসে পা কেটে গেলেও অনেকে বুঝতে পারেন না। গরম মেঝে বা অন্য কোনো উৎস থেকে পুড়ে গেলেও তা সঙ্গে সঙ্গে টের নাও পাওয়া যেতে পারে।

    তাই ডায়াবেটিস থাকলে ঘরের ভেতরেও খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    পায়ের আলসার হলে অবহেলা নয়

    ডায়াবেটিসে পায়ের ত্বকে দীর্ঘদিন না শুকানো খোলা ক্ষতকে ফুট আলসার বলা হয়। এগুলো সাধারণত পায়ের এমন জায়গায় তৈরি হতে পারে যেখানে জুতা বা অন্য কোনো পৃষ্ঠের সঙ্গে বারবার চাপ বা ঘর্ষণ হয়।

    ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো এক সময়ে পা বা পায়ের আঙুলে আলসার হতে পারে। এসব ক্ষত থেকে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। গুরুতর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে কখনো কখনো আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলার প্রয়োজনও হতে পারে। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে এমন গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমানো যায়।

    পা লাল, ফুলে ও গরম হলে সতর্ক

    পায়ের কোনো একটি অংশ হঠাৎ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা অন্য পায়ের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

    ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর সমস্যার সঙ্গে এমন লক্ষণ দেখা দিলে Charcot foot নামের একটি জটিলতার কথাও চিকিৎসক বিবেচনা করতে পারেন। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পায়ের হাড় ও জোড়ার গঠনে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    তাই পা ফুলে গেলে বা অস্বাভাবিক গরম ও লাল হয়ে গেলে নিজের মতো করে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    পায়ের ত্বক কীভাবে পরিষ্কার রাখবেন?

    প্রতিদিন পা পরিষ্কার করা দরকার। তবে খুব গরম পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। হালকা গরম পানিতে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

    বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকানো জরুরি। পায়ের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আঙুলের মাঝখানে ময়েশ্চারাইজার না দেওয়াই ভালো, কারণ সেখানে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন

    ডায়াবেটিস থাকলে পা পরীক্ষা করার জন্য আলাদা করে বেশি সময় লাগে না। প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দিলেই প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো ধরা সম্ভব।

    পায়ের ওপরের অংশ, নিচের অংশ এবং আঙুলের মাঝখান দেখুন। পায়ের তলায় ভালোভাবে দেখতে আয়না ব্যবহার করতে পারেন। নিজে দেখতে অসুবিধা হলে পরিবারের কাউকে সাহায্য করতে বলুন।

    কাটা, ফোসকা, লালভাব, ফোলা, ত্বক ফেটে যাওয়া বা নখের পরিবর্তন দেখা গেলে বিষয়টি নজরে রাখুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    নখ কাটার সময়ও সতর্কতা দরকার

    পায়ের নখ খুব ছোট করে বা কোণাকুণি করে কাটলে নখ মাংসের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে। তাই নখ সোজা করে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    নখ যদি খুব মোটা বা হলুদ হয়ে যায় কিংবা নিজে কাটা কঠিন হয়, তাহলে চিকিৎসক বা পায়ের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া ভালো।

    শক্ত চামড়া বা কড়া নিজে কাটবেন না

    পায়ের পাতায় কড়া বা শক্ত চামড়া হলে অনেকে ব্লেড, কাঁচি বা বাজারে পাওয়া কড়া ওঠানোর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। ডায়াবেটিস থাকলে এভাবে নিজে কড়া কাটার চেষ্টা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

    সামান্য কেটে গেলেও তা সহজে শুকাতে নাও পারে এবং সংক্রমণ হতে পারে। তাই কড়া বা শক্ত চামড়ার সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

    জুতা বাছাইয়েও সতর্ক থাকুন

    ডায়াবেটিস থাকলে খুব টাইট বা খুব ঢিলা জুতা ব্যবহার করা উচিত নয়। জুতা যেন পায়ে চাপ না দেয় এবং ঘষা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    জুতা পরার আগে ভেতরে কোনো পাথর, কাচের টুকরা বা অন্য কোনো বস্তু পড়ে আছে কি না দেখে নিন। মোজা খুব টাইট হওয়াও এড়িয়ে চলা ভালো।

    নতুন জুতা ব্যবহার শুরু করলে পায়ে কোথাও ঘষা লাগছে কি না নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

    পা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন না

    অনেকে পায়ের ব্যথা বা ক্লান্তি কমাতে দীর্ঘ সময় পানিতে পা ডুবিয়ে রাখেন। ডায়াবেটিস থাকলে এ অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

    পা দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে পানির তাপমাত্রা বেশি হলে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে, বিশেষ করে পায়ে অনুভূতি কমে গেলে।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি

    পায়ের যত্নের পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ওষুধ গ্রহণ, খাবারের নিয়ম এবং শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখা দরকার।

    কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    পায়ে ছোট ক্ষত হলেও ডায়াবেটিস থাকলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ক্ষত শুকাচ্ছে না, পা ফুলে যাচ্ছে, ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে, ক্ষত থেকে পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হচ্ছে কিংবা ব্যথা ও জ্বালাপোড়া বাড়ছে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    পায়ের কোনো অংশ কালচে বা বেগুনি হয়ে যাওয়া, তীব্র ফোলা, দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষত, অনুভূতি হারিয়ে যাওয়া, জ্বর বা দ্রুত শারীরিক অবনতির মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

    ডায়াবেটিসে পায়ের যত্নের সহজ নিয়ম

    পায়ের সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলতে পারেন-

    প্রতিদিন পা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

    পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।

    খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না।

    খালি পায়ে হাঁটবেন না।

    পায়ের মাপ অনুযায়ী আরামদায়ক জুতা ও মোজা ব্যবহার করুন।

    পায়ে কড়া বা শক্ত চামড়া নিজে কাটবেন না।

    পায়ের নখ সোজা করে কাটুন।

    ক্ষত, ফোসকা বা ফাটল হলে অবহেলা করবেন না।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

    নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে পা পরীক্ষা করান।

    ডায়াবেটিসের যত্ন বলতে শুধু রক্তে শর্করা মাপা বা ওষুধ খাওয়াকে বোঝায় না। প্রতিদিন পায়ের দিকে নজর রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    কারণ পায়ের একটি ছোট ক্ষত, ফোসকা বা ফাটলও স্নায়ুর ক্ষতি ও রক্ত চলাচলের সমস্যার কারণে বড় আকার নিতে পারে। আবার অনেক সময় অনুভূতি কমে যাওয়ায় সমস্যাটি শুরু হওয়ার সময় বোঝাও যায় না।

    তাই প্রতিদিন কয়েক মিনিট পা পরীক্ষা করুন, আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন, খালি পায়ে হাঁটবেন না এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শুরুতেই সমস্যা শনাক্ত করা গেলে গুরুতর জটিলতা এড়ানোর সুযোগ অনেক বেশি।

    সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

  • ফ্যা’টি লি’ভারের যে ৫ লক্ষণ অ’বহে’লা করবেন না, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভারের যে ৫ লক্ষণ অ’বহে’লা করবেন না, জেনে নিন

    ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বেশিরভাগ সময় নীরবে বিকশিত হয়। অনেকের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে, কিন্তু বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। এ কারণেই এই অবস্থাটি কখনও কখনও অলক্ষ্যে বাড়তে পারে। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে লিভারের ক্রমাগত ক্ষতি এমন কিছু লক্ষণ বা স্বাস্থ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে যা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই সতর্ক সংকেতগুলো আগেভাগে শনাক্ত করতে পারলে গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার আগেই আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন।

    ১. ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি এবং দুর্বলতা

    অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত বোধ করা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কম সুস্পষ্ট লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি হলো মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এর একটি প্রধান সতর্ক সংকেত, যা পূর্বে NAFLD নামে পরিচিত ছিল।

    লিভারের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন যা সাধারণ বিশ্রামেও ভালো হয় না। আপনার কাছে দৈনন্দিন কাজগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তিকর মনে হতে পারে অথবা কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই আপনার শক্তির মাত্রা কমে গেছে বলে লক্ষ্য করতে পারেন।

    তবে ক্লান্তির অনেক কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত ঘুম, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং পুষ্টির অভাব। তাই শুধুমাত্র ক্লান্তি থাকলেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ গুরুতর আকার ধারণ করেছে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।

    ২. পেটের উপরের ডান অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি

    লিভার পাঁজরের নিচে, পেটের উপরের ডান অংশে অবস্থিত। জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তি এই অংশে অস্বস্তি, চাপ বা হালকা ব্যথা অনুভব করতে পারেন। লিভার বড় হয়ে গেলে বা এতে প্রদাহ হলে এমনটা হতে পারে।

    দীর্ঘস্থায়ী বা বাড়তে থাকা অস্বস্তি উপেক্ষা করা উচিত নয়, বিশেষ করে যদি আপনার আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ধরা পড়ে থাকে। একই সঙ্গে এই স্থানের ব্যথার আরও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে পিত্তথলি এবং হজমের সমস্যা অন্যতম।

    ৩. চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

    ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া, যা জন্ডিস নামে পরিচিত, এটি একটি গুরুতর লক্ষণ। লিভার আর কার্যকরভাবে বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করতে না পারলে এটি হতে পারে। বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ পদার্থ যা লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ার ফলে তৈরি হয়।

    সাধারণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জন্ডিস একটি সাধারণ লক্ষণ নয় এবং এটি লিভারের গুরুতর কর্মহীনতা বা লিভার-সম্পর্কিত অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি আপনি আপনার চোখ বা ত্বক হলুদ হতে দেখেন, বিশেষ করে গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে মলের সঙ্গে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    ৪. পা, গোড়ালি বা পেটে ফোলাভাব

    লিভারের গুরুতর রোগ শরীরের তরল এবং প্রোটিন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করলে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। গোড়ালি এবং পায়ের চারপাশে ফোলাভাব লক্ষ্য করতে পারেন। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে পেটে তরল জমা হতে পারে, যার ফলে পেট অনেকটা ফুলে ওঠে। এটি অ্যাসাইটিস নামে পরিচিত।

    এই উপসর্গগুলোর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা। কিন্তু যাদের লিভারের রোগ আছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন বা বাড়তে থাকা ফোলাভাবের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। হঠাৎ পেট ফুলে যাওয়াকে শুধুমাত্র ওজন বৃদ্ধি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

    ৫. সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাত

    একটি সুস্থ লিভার রক্ত ​​জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন লিভারের গুরুতর ক্ষতি হয়, তখন শরীরের এই প্রোটিনগুলোর কিছু তৈরি করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে সহজে কালশিটে পড়তে পারে বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে রক্তপাত হতে পারে।

    তাই কারণ ছাড়া বা ঘন ঘন কালশিটে পড়া, নাক দিয়ে রক্ত ​​পড়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক রক্তপাতের বিষয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

    এই উপসর্গগুলো থাকলেই যে ফ্যাটি লিভারের অবস্থা গুরুতর হয়ে গেছে তা নয়, তবে এগুলোকে উপেক্ষা না করে খতিয়ে দেখা উচিত।

  • বদলে গেছে জ’মির নামজা’রির নি’য়ম, নী’তিমা’লায় যা আছে

    বদলে গেছে জ’মির নামজা’রির নি’য়ম, নী’তিমা’লায় যা আছে

    নিজের কেনা অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা পাওয়ার পর রেজিস্ট্রেশনের মতোই সরকারি রেকর্ডে মালিকানা নথিভুক্ত করতে নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। কারণ নামজারি ছাড়া জমি ক্রয়-বিক্রয়, দান, এমনকি খাজনা দেওয়া সম্ভব নয়।

    সম্প্রতি নামজারি প্রক্রিয়ায় বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়মে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ভাগ-বাটোয়ারা না হলে কোনো আলাদা খতিয়ান হবে না, বরং একই খতিয়ানে সবার নাম যৌথভাবে থাকবে। 

    এ ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের যৌথ নামজারির জন্য আলাদা করে কোনো বণ্টননামা দলিলের প্রয়োজন নেই। তবে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে বা পৃথকভাবে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে চাইলে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কেবল যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ যথেষ্ট হলেও জমি ভাগ করে আলাদা আলাদা খতিয়ান চাইলে লাগবে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা।

    এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই নিয়মের মাধ্যমে বিশেষ করে ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ‘আগে যৌথ, পরে আলাদা’ নীতি চালু হয়েছে। এতে সরকারি রেকর্ডে প্রকৃত মালিকের নাম নিশ্চিত করা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া, যৌথ নামজারির বাধ্যবাধকতা ওয়ারিশদের মধ্যে স্বচ্ছতা আনবে এবং নামজারি ছাড়া জমি বিক্রি বন্ধ হলে অবৈধ দখলও কমবে বলে তারা মনে করছেন।

    মূলত, অন্য কারও কাছ থেকে কিনে কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি জমির মালিকানা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেবল জমির রেজিস্ট্রেশন করলেই কাজ শেষ হয় না, নামজারির মাধ্যমে সরকারি রেকর্ডে জমির নতুন মালিকের নামও নথিভুক্ত করতে হয়। 

    বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেই নামজারির আবেদন করা যায়। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি করা হয়।

    এক্ষেত্রে জমি নামজারি করা না হলে বেশকিছু সমস্যা তৈরি হতে পারে। যেমন— মালিকানার ঝুঁকি তৈরির শঙ্কা রয়েছে এবং রেকর্ডে নাম না থাকলে অবৈধ দখলদার কিংবা অন্য ওয়ারিশ জমির দাবি করতে পারে।

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন আইনে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি রেজিস্ট্রি, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা দিতে গেলেও খতিয়ান হতে হবে নিজ নামে।

    নামজারির নিয়মে এসেছে বেশকিছু পরিবর্তন

    ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে থাকা পরিবর্তিত নিয়ম এখন থেকে কার্যকর করা হয়েছে, যেখানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ওয়ারিশদের ‘সবার নাম একসঙ্গে’ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগে বাবা মারা গেলে পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে কেউ একজন নিজের নামে আলাদা নামজারি করে নিতে পারতেন। তবে, এখন থেকে সেটি আর হবে না।

    নতুন নিয়মে, মৃত ব্যক্তির সব ওয়ারিশের নাম একসঙ্গে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথভাবে নামজারি করতে হবে। যেটি ‘কো-শেয়ারার’ হিসেবে দেখানো হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। কোনো ওয়ারিশ যদি বাদ পড়ে, তবে আবেদন নামঞ্জুরও হতে পারে।

    এছাড়া, শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদনও এখন আর নামঞ্জুর করা যাবে না। নতুন নিয়মে ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারের কাছ থেকে নিতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    পৃথক খতিয়ানের জন্য যা লাগবে

    অংশীদাররা যখন পৈতৃক কিংবা যৌথ মালিকানাধীন কোনো সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে যার যার অংশ বুঝে নেন এবং সেটি সরকারিভাবে নিবন্ধন করান, তখন সেই লিখিত চুক্তিপত্রকে রেজিস্টার্ড বণ্টননামা বলা হয়। এক্ষেত্রে ওয়ারিশরা যদি নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন, তাহলে আলাদা আলাদা খতিয়ান করা যাবে। তবে এতেও একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তা হলো- ‘নিবন্ধিত বণ্টননামা’ বা ‘আপস-বণ্টননামা দলিল’ থাকতে হবে।

    অর্থাৎ, এখন থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির দুটি পথ। এর মধ্যে একটি হলো যৌথ নামজারি বা সবাই মিলে এক খতিয়ানে নাম উঠবে। যেখানে প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যাও উল্লেখ থাকবে। অথবা পৃথক নামজারি- নিবন্ধিত বণ্টননামা অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নামে আলাদা খতিয়ান পাবেন।

    নামজারি ছাড়া হবে না রেজিস্ট্রেশন

    আগে অনেক সময় নামজারি ছাড়াই জমি ক্রয়-বিক্রয় হতো। তবে নতুন আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া কোনো জমি কেনা-বেচা, দান কিংবা হেবা করা যাবে না। এতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক।

    এক্ষেত্রে, আগে নামজারি করা থাকলে নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, কারও জমি ২০১৫ সালে নামজারি করা থাকলে, তার নতুন করে নামজারির প্রয়োজন নেই। সহজ কথায়, যাদের নামজারি আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং খতিয়ান সঠিক আছে, তাদের নতুন করে নামজারি করতে হবে না।

    তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পুরোনো রেকর্ডগুলো ডিজিটাইজড হয়েছে কি-না, সেটি অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ডিজিটাল সিস্টেমে রেকর্ডগুলো নথিভুক্ত না থাকলে ভবিষ্যতে খাজনা বা জমি বিক্রিতে সমস্যা হতে পারে।

    ভূমি মন্ত্রণালয় জমির নামজারির আবেদন জমা হওয়ার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে চায়। এ ক্ষেত্রে আবেদন করতে দলিলের কপি বা রেজিস্ট্রি দলিল, আগের খতিয়ানের কপি ও দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত ফি-এর রসিদ প্রয়োজন হবে। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে কিংবা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সময় বেশি লাগতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মের বড় ৩টি সুফল দেখছেন। প্রথমত, এর ফলে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণা কমবে। একজন সব জমি নিজের নামে করে নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকারি রেকর্ড আপডেট হবে। জমির প্রকৃত মালিক কে, সেটি সহজেই জানা যাবে এবং তৃতীয়ত, জমি সংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা কমবে। কারণ, যৌথ নাম থাকায় অংশীদারদের সবাই খতিয়ানে স্বীকৃতি পাচ্ছেন।

    তবে নতুন এই নিয়মের কারণে মাঠপর্যায়ে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, অনেক পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকেন অথবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই, ফলে সবার কাগজ একসঙ্গে জমা দেওয়া কঠিন হওয়ায় ওয়ারিশ খুঁজে বের করাও জটিল হতে পারে। আবার আলাদা খতিয়ান করতে হলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও সময়ের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়াও কম সময়ে এই প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করতে ভূমি অফিসের চ্যালেঞ্জও বাড়বে। এ জন্য ৪৫ দিনে প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি করতে হলে তহশিল অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের জনবল বাড়াতে হবে।

    ভূমি আইনজীবীদের ভাষ্য, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ নিশ্চিতের জন্য নতুন এই নিয়ম ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে এটি নারী ওয়ারিশদের অধিকার রক্ষায় সহায়ক হবে।

    জমির নামজারির ক্ষেত্রে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, জমি ক্রয়ের পর দলিল রেজিস্ট্রির ৯০ দিনের মধ্যেই নামজারির আবেদন করা উচিত। আর ওয়ারিশি জমি হলে পরিবারের সঙ্গে বসে, সবাই মিলে যৌথ নামজারি করা যেতে পারে। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে বণ্টননামা করে আলাদা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

  • ফ্যা’টি লি’ভারে ক্ষু’ধা পেলে কী খা’বেন, জানুন বি’শেষ’জ্ঞের প’রামর্শ

    ফ্যা’টি লি’ভারে ক্ষু’ধা পেলে কী খা’বেন, জানুন বি’শেষ’জ্ঞের প’রামর্শ

    বর্তমানে ফ্যাটি লিভার একটি খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং ওজন বৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। অনেকেই মনে করেন, ফ্যাটি লিভার হলে শুধু মূল খাবারের দিকেই নজর দিলেই হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, খাবারের মাঝখানে কী ধরনের স্ন্যাকস খাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস শুধু ক্ষুধা মেটায় না, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ওজন কমাতে এবং লিভারের ওপর চাপ কমাতেও সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য নিচের ৭টি স্ন্যাকস ভালো বিকল্প হতে পারে।

    বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ

    কাঠবাদাম, আখরোট, সূর্যমুখীর বীজ, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিড স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও আঁশের ভালো উৎস।

    এসব খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও সরবরাহ করে। তবে ভাজা বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদামের পরিবর্তে কাঁচা বা ড্রাই-রোস্টেড বাদাম খাওয়াই ভালো।

    পনির বা মোজারেলা চিজ

    কম চর্বিযুক্ত পনির বা মোজারেলা চিজে থাকে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম।

    হালকা ক্ষুধা লাগলে কয়েক টুকরো পনির বা মোজারেলা চিজ সহজেই খেতে পারেন। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

    অ্যাভোকাডো

    অ্যাভোকাডোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা রক্তের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন ইসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রচুর আঁশ, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে সহায়ক হতে পারে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেতে পারেন।

    প্লেইন টক দই

    চিনি ছাড়া টক দই প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা লিভারের স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

    এর সঙ্গে ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি বা সামান্য বাদাম মিশিয়ে খেলে পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।

    সবজির স্টিকস ও হুমাস

    শসা, গাজর বা সেলারি ছোট ছোট টুকরো করে হুমাসের সঙ্গে খেতে পারেন।

    এই খাবারে রয়েছে প্রচুর আঁশ ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

    সিদ্ধ ডিম

    সিদ্ধ ডিম সহজলভ্য এবং উচ্চমানের প্রোটিনের উৎস।

    একটি সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে সামান্য লবণ ও গোলমরিচ ছিটিয়ে খেলে এটি স্বাস্থ্যকর ও পেট ভরানো একটি স্ন্যাকস হতে পারে।

    স্টিম করা এডামামে

    এডামামে বা কাঁচা সয়াবিনে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, আঁশ এবং বিভিন্ন উপকারী পুষ্টি উপাদান।

    এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট খুব কম থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিনের কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভারে চর্বি জমা কমাতে এবং প্রদাহ হ্রাসে ভূমিকা রাখতে পারে।

    ফ্যাটি লিভারে স্ন্যাকস বেছে নেওয়ার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

    চিনি ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

    চিপস, কুকিজ, কেক, সফট ড্রিংকস ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।

    প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে এমন খাবার বেছে নিন।

    পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

    নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকেও গুরুত্ব দিন।

    ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ নয়, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবারের মাঝখানে ক্ষুধা পেলে জাঙ্ক ফুডের বদলে পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নিলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে কারও যদি ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকে, তাহলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    সূত্র: এনডিটিভি

  • পা’য়ে বারবার টা’ন ধরছে, যে ৫ কারণ হতে পারে দা’য়ী

    পা’য়ে বারবার টা’ন ধরছে, যে ৫ কারণ হতে পারে দা’য়ী

    হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরে শক্ত হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শুরু হলো তীব্র ব্যথা। অনেক সময় রাতে ঘুমের মধ্যেও এমনভাবে পায়ে টান ধরে যে ঘুম ভেঙে যায়। সাধারণত কিছুক্ষণ পর টান ছেড়ে যায়, কিন্তু ওই সময়ের ব্যথা বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে।

    পায়ে টান ধরলেই অনেকেই ধরে নেন, শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে। পানিশূন্যতা অবশ্যই পেশিতে টান ধরার একটি কারণ হতে পারে। বিশেষ করে গরমে বেশি ঘামলে শরীর থেকে পানি ও বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। তবে সব ধরনের পেশিতে টানের জন্য শুধু পানিশূন্যতাকে দায়ী করা ঠিক নয়। পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার, দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকা, স্নায়ুর সমস্যা, রক্ত চলাচলে সমস্যা, কিছু রোগ ও ওষুধের কারণেও এমন হতে পারে।

    পায়ে টান ধরলে আসলে কী হয়

    পায়ের কোনো পেশি হঠাৎ অনিচ্ছাকৃতভাবে শক্ত হয়ে গেলে তাকে পেশিতে টান বা লেগ ক্র্যাম্প বলা হয়। সাধারণত পায়ের পেছনের পেশি বা কাফে এটি বেশি দেখা যায়। তবে উরু কিংবা পায়ের পাতাতেও টান ধরতে পারে।

    বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পেশিতে টান গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ নয় এবং কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে তা কমে যায়। তবে যদি নিয়মিত এমন হতে থাকে, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা থাকে বা অন্য কোনো উপসর্গের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    অতিরিক্ত পরিশ্রম ও পেশির ক্লান্তি

    হঠাৎ বেশি হাঁটা, দৌড়ানো, ব্যায়াম করা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে পায়ের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যায়াম না করার পর হঠাৎ কঠিন ব্যায়াম শুরু করলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি বাড়ে।

    একইভাবে সারাদিন শারীরিক পরিশ্রমের পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিলেও পেশি ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। গবেষণায় পেশির ক্লান্তি ও অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ক্র্যাম্পের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

    তাই ব্যায়াম বা ভারী কাজের আগে শরীরকে প্রস্তুত করা এবং পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া

    পানিশূন্যতা পায়ে টান ধরার পরিচিত কারণগুলোর একটি। বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় বেশি ঘাম হলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, সোডিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেকট্রোলাইটও বেরিয়ে যায়।

    ইলেকট্রোলাইট শরীরের পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম বা সোডিয়ামের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হলে কিছু মানুষের পেশিতে টান বা খিঁচুনি হতে পারে।

    তবে পায়ে টান ধরলেই নিজের ইচ্ছায় পটাশিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। শরীরে কোন খনিজের ঘাটতি আছে কি না, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।

    দীর্ঘ সময় বসে বা একই অবস্থায় থাকা

    অনেকক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকা, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকা কিংবা পা একই অবস্থায় রাখার কারণেও পেশিতে টান ধরতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে পায়ের পেশি নিষ্ক্রিয় থাকে এবং রক্ত চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে।

    অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা একটানা দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস থাকলে মাঝেমধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করা এবং হালকা হাঁটাচলা করা উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময়ের নিষ্ক্রিয়তা পায়ে ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    স্নায়ু বা রক্ত চলাচলের সমস্যা

    পায়ে বারবার টান ধরার পেছনে স্নায়ুর সমস্যাও থাকতে পারে। মেরুদণ্ডের কোনো অংশে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়লে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে।

    আবার পায়ের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল কমে গেলেও ব্যথা বা পেশিতে টান দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা টান শুরু হয় এবং বিশ্রাম নিলে কমে যায়, এমন হলে রক্ত চলাচলের সমস্যা আছে কি না তা চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    কিছু রোগ ও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

    বারবার পায়ে টান ধরার সঙ্গে কিছু শারীরিক সমস্যারও সম্পর্ক থাকতে পারে। যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, কিডনির অসুস্থতা, লিভারের রোগ এবং কিছু স্নায়ুর সমস্যা পেশিতে ক্র্যাম্পের কারণ হতে পারে।

    এ ছাড়া কিছু ওষুধের কারণেও পেশিতে টান ধরতে পারে। বিশেষ করে কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধ এবং কোলেস্টেরল কমানোর কিছু ওষুধের সঙ্গে পেশিতে ব্যথা বা ক্র্যাম্পের সম্পর্ক পাওয়া যায়।

    কোনো নতুন ওষুধ শুরু করার পর যদি হঠাৎ পায়ে নিয়মিত টান ধরতে শুরু করে, তাহলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসককে বিষয়টি জানানো উচিত।

    রাতে পায়ে টান ধরার কারণ কী

    অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে টান ধরার সমস্যা রাতে বেশি হয়। একে সাধারণভাবে রাতের পেশির ক্র্যাম্প বলা হয়। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কাফের পেশি শক্ত হয়ে গিয়ে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে।

    এর নির্দিষ্ট কারণ সব সময় পাওয়া যায় না। পেশির ক্লান্তি, দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় থাকা, বয়স বাড়া এবং কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

    টান ধরলে তখন কী করবেন

    পায়ে হঠাৎ টান ধরলে প্রথমে যে পেশিতে টান ধরেছে সেটি ধীরে ধীরে প্রসারিত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। কাফে টান ধরলে পা সোজা করে পায়ের পাতার আঙুল নিজের শরীরের দিকে ধীরে টেনে আনা যেতে পারে।

    হালকা হাতে আক্রান্ত পেশিতে মালিশ করলেও আরাম পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে গরম সেঁক পেশিকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত কিছুক্ষণ পর ক্র্যাম্প নিজে থেকেই কমে যায়।

    তবে জোর করে পেশি টানবেন না। ব্যথা বাড়লে থেমে যেতে হবে।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    মাঝেমধ্যে পায়ে টান ধরলে সাধারণত খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু নিয়মিত বা ঘন ঘন এমন হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

    বিশেষ করে নিচের সমস্যাগুলো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো-

    বারবার পায়ে টান ধরা

    টান ধরার পর দীর্ঘ সময় ব্যথা থাকা

    পায়ে দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা

    পায়ে ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া থাকা

    হাঁটার সময় বারবার পায়ে ব্যথা বা টান ধরা

    পা ফুলে যাওয়া

    পায়ের ত্বকের রং বদলে যাওয়া

    নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর সমস্যা দেখা দেওয়া

    পায়ে টান ধরার সঙ্গে যদি হঠাৎ পা ফুলে যায়, তীব্র ব্যথা হয়, পা লাল বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ রক্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

    কীভাবে পায়ে টান ধরা কমানো যায়

    পায়ে টান ধরা পুরোপুরি বন্ধ করার নিশ্চয়তা নেই। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

    পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করা এবং দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় না থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শুরুতে হালকা ওয়ার্মআপ করা এবং শেষে পেশি স্ট্রেচ করা ভালো। গরমে বেশি ঘাম হলে শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হচ্ছে কি না সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পায়ে টান ধরাকে সব সময় শুধু পানিশূন্যতা বা ক্লান্তির সমস্যা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একবার বা দুবার এমন হওয়া সাধারণ বিষয় হতে পারে। কিন্তু বারবার হলে শরীরের অন্য কোনো সমস্যার সংকেত কি না, সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

    সূত্র:হেল্থলাইন

  • মি’টার নেই, নেই বি’দ্যুৎ সং’যোগ; মি’টার সং’যোগের আবেদন করায় এসেছে বি’দ্যুৎ বি’ল

    মি’টার নেই, নেই বি’দ্যুৎ সং’যোগ; মি’টার সং’যোগের আবেদন করায় এসেছে বি’দ্যুৎ বি’ল

    মিটার নেই, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ; মিটার সংযোগের আবেদন করায় এসেছে বিদ্যুৎ বিল

    মিটার নেই, বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি। অথচ গ্রাহকের নামে এসেছে ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল। নতুন মিটারের জন্য আবেদন করার পর সংযোগ দেওয়ার আগেই এমন বিল পাওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার। মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর আগেই বিল তৈরির ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়।
    ভুক্তভোগী শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাসায় দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরও একটি মিটার সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেন। কিন্তু নতুন মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই তার নামে ৬৯২ টাকা পরিশোধের জন্য একটি বিল এসেছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই কিভাবে বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
    সরেজমিনে দেখা যায়, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাসায় চারটি মিটার রয়েছে। নতুন মিটার স্থাপনের জন্য একটি ওয়্যারিং বোর্ডও তৈরি করা হয়েছে। তবে তার নামে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এসেছে। এর মধ্যে নতুন মিটারের নামে আগস্ট মাসের বিল ৬৯২ টাকা।
    মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই বিল আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সংযোগই যেখানে দেওয়া হয়নি, সেখানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল কীভাবে তৈরি হলো? বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
    মিটার ও সংযোগ ছাড়াই কীভাবে বিল তৈরি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান বলেন, নিমাই সরকারের সঙ্গে কথা বলেই বিল করা হয়েছে। তবে মিটার বা সংযোগ না থাকলেও বিল করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ভুল হয়ে গেছে।
    জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে। তবে মিটার ও সংযোগ না থাকা অবস্থায় কীভাবে গ্রাহকের নামে বিল তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
    জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনও বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, মিটার বা সংযোগ ছাড়া কীভাবে বিল আসে, তা আমার জানা নেই। উনাদের যারা নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন।

  • শ’রীরে ভি’টামিন ডি কমে গেলে যে ৮ ল’ক্ষণ দেখা দিতে পারে

    শ’রীরে ভি’টামিন ডি কমে গেলে যে ৮ ল’ক্ষণ দেখা দিতে পারে

    সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, হাড় বা শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হচ্ছে কিংবা পেশিতে দুর্বলতা অনুভব করছেন? এসব সমস্যার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও একটি সম্ভাব্য কারণ। বিশেষ করে দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটানো, সূর্যের আলো কম পাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় ভিটামিন ডি-এর উৎস কম থাকলে এই ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে এটি প্রয়োজন। পেশি, স্নায়ু এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজেও ভিটামিন ডি ভূমিকা রাখে।

    তবে শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলেই সব ক্ষেত্রে একই ধরনের উপসর্গ দেখা যাবে, এমন নয়। অনেক সময় ঘাটতি থাকলেও স্পষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিত হওয়ার বদলে প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ৮টি সম্ভাব্য লক্ষণ

    হাড়ে বা শরীরে ব্যথা: দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও খনিজায়ন ব্যাহত হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতি অস্টিওম্যালেশিয়া বা হাড় নরম হয়ে যাওয়ার সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত, যার অন্যতম লক্ষণ হাড়ে ব্যথা।

    তবে শরীর বা কোমর ব্যথা হলেই যে ভিটামিন ডি কমেছে, তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের ব্যথার আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।

    অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে ক্লান্তি ও দুর্বলতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি দীর্ঘদিন শরীর দুর্বল লাগে বা স্বাভাবিক কাজ করতেই বেশি ক্লান্তি হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। তবে ক্লান্তির কারণ হিসেবে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপসহ আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে।

    পেশির দুর্বলতা: ভিটামিন ডি পেশির স্বাভাবিক কাজের জন্যও প্রয়োজন। গুরুতর ঘাটতিতে পেশির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে পেশির শক্তি কমে যাওয়া ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির সঙ্গে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সম্পর্ক রয়েছে।

    শিশুদের হাড়ের সমস্যা: শিশুদের জন্য ভিটামিন ডি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে রিকেটস হতে পারে। এতে হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে যায় এবং হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

    সহজে হাড় ভেঙে যাওয়া: ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ঘাটতি হাড়ের দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    বারবার অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা: রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজেও ভিটামিন ডি ভূমিকা রাখে। তবে ঘন ঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ হলেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি রয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে গবেষণা থাকলেও উপসর্গটি একা ভিটামিন ডি ঘাটতির নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়।

    মেজাজ খারাপ বা অবসাদ: ভিটামিন ডি-এর মাত্রা এবং বিষণ্নতার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে ভিটামিন ডি কম থাকলেই যে বিষণ্নতা হবে, এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই দীর্ঘদিন মন খারাপ, আগ্রহ কমে যাওয়া বা অবসাদের মতো সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিন ডি-এর ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    পেশিতে টান বা খিঁচুনি: ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। গুরুতর ঘাটতির ক্ষেত্রে পেশিতে খিঁচুনি বা টানসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    কেন ভিটামিন ডি কমে যেতে পারে?

    শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পাওয়া। ত্বকে সূর্যের অতিবেগুনি বি রশ্মি পড়লে শরীর নিজেই ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তবে বয়স, ত্বকের ধরন, পোশাক, ভৌগোলিক অবস্থান, ঋতু এবং সূর্যালোক পাওয়ার পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয় এতে প্রভাব ফেলে।

    যারা খুব কম বাইরে বের হন, শরীরের বেশির ভাগ অংশ সবসময় ঢেকে রাখেন, বয়স্ক ব্যক্তি, স্থূলতা রয়েছে এমন মানুষ এবং কিছু ধরনের হজম বা শোষণজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ভিটামিন ডি ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    রোদে দাঁড়ালেই কি ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ হবে?

    ভিটামিন ডি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস হলো সূর্যের আলো। তবে সবার জন্য সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ১৫ থেকে ৩০ মিনিট রোদে দাঁড়ানোর মতো একটি সার্বজনীন নিয়ম নেই। কতক্ষণ সূর্যের আলো প্রয়োজন তা ব্যক্তিভেদে এবং পরিবেশভেদে পরিবর্তিত হয়।

    এ ছাড়া অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। তাই ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় রোদে পুড়ে থাকা ঠিক নয়।

    খাবার থেকে কীভাবে ভিটামিন ডি পাবেন?

    খাবারে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন ডি-এর উৎস খুব বেশি নয়। চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং কিছু মাশরুমে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভিটামিন ডি যুক্ত বা ফোর্টিফায়েড দুধ ও কিছু খাদ্যপণ্য থেকেও এটি পাওয়া সম্ভব।

    তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিমসহ পুষ্টিকর খাবার রাখা উপকারী। তবে শুধু খাবার দিয়ে গুরুতর ভিটামিন ডি ঘাটতি পূরণ করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে।

    কতটা ভিটামিন ডি প্রয়োজন?

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৬০০ আইইউ বা ১৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন। ৭১ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রয়োজন ৮০০ আইইউ বা ২০ মাইক্রোগ্রাম।

    তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং ভিটামিন ডি-এর রক্তের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক আলাদা মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন।

    ঘাটতি থাকলে কি সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে?

    প্রয়োজনে চিকিৎসক ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় ঘাটতি ধরা পড়লেই নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি ক্যাপসুল বা স্যাশে খাওয়া উচিত নয়।

    ভিটামিন ডি অতিরিক্ত গ্রহণ করলেও শরীরে সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন ডি রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে বমি বমি ভাব, বমি, দুর্বলতা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও প্রস্রাব, পানিশূন্যতা এবং কিডনিতে পাথরের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হওয়া বা হৃদ্‌স্পন্দনে অস্বাভাবিকতাও দেখা দিতে পারে।

    তাই ৬০০০ বা ৬০,০০০ আইইউ-এর মতো উচ্চমাত্রার ডোজ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। নির্দিষ্ট ঘাটতি বা চিকিৎসাজনিত প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ ও সময়কাল ঠিক করতে হবে।

    ভিটামিন ডি পরীক্ষা কীভাবে করা হয়?

    শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানতে সাধারণত রক্তে ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি বা 25(OH)D পরীক্ষা করা হয়। NIH-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ ng/mL বা তার বেশি মাত্রা বেশির ভাগ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হয়, আর ১২ ng/mL-এর নিচের মাত্রা ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে পরীক্ষার ফল ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাগত পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

    ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, শরীরের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে ঘাটতি মোকাবিলা করা যায়।

    তবে ক্লান্তি, শরীর ব্যথা, পেশির দুর্বলতা বা চুল পড়ার মতো সাধারণ কোনো উপসর্গ দেখেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা

  • লি’ভারের সম’স্যা আছে কিনা জা’নিয়ে দেবে পা, জেনে নিন ল’ক্ষণসমূহ

    লি’ভারের সম’স্যা আছে কিনা জা’নিয়ে দেবে পা, জেনে নিন ল’ক্ষণসমূহ

    লিভার শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং এর কর্মক্ষমতা কমে গেলে আপনার শরীর বিভিন্নভাবে সংকেত দিয়ে থাকে। অবাক হলেও সত্যি—  লিভারের সমস্যার প্রাথমিক কিছু লক্ষণ পায়ের পাতা কিংবা পায়ের মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে। 

    লিভার যখন প্রোটিন (অ্যালবুমিন) তৈরি করতে পারে না, তখন রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে টিস্যুতে জমা হয়। এর ফলে পায়ের পাতা, গোড়ালি কিংবা পায়ে পানি জমে ফুলে যায়, যাকে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়।

    লিভারে সমস্যা হয়েছে তা বোঝা যাবে পায়ের পাতা দেখে? কোন লক্ষণগুলো একেবারেই অবহেলা করা ঠিক নয়? তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো— 

    পা ও গোড়ালিতে ফোলাভাব, পায়ের তলায় তীব্র চুলকানি, পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন করা, ত্বকের রঙ পরিবর্তন (হলদেটে ভাব), স্পাইডার অ্যানজিওমাস এবং পায়ের নিচে লাল বা বাদামি দাগ দেখা দেবে।

    সাধারণত রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা বা লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের কারণে পায়ের নিচে ছোট লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিতে পারে। চোখ যেমন মনের আয়না, ঠিক তেমনই স্বাস্থ্যের আয়না হতে পারে পায়ের পাতা। দেহের অন্য যে কোনো অংশের থেকে পায়েই রয়েছে সবচেয়ে বেশি স্নায়ু। সারা দেহের অসংখ্য স্নায়ু এসে শেষ হচ্ছে পায়ের পাতায়। পায়ের পাতা চোখের আড়ালে থাকলেও শরীরের অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। ঠিক যেমন লিভার।

    আর লিভার হলো— শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রোটিন উৎপাদনে, শরীর থেকে দূষিত পদার্থ নিষ্কাশনে লিভারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হলে তার প্রভাব পড়ে সমগ্র শরীরেই। রক্ত সঞ্চালনও বিঘ্নিত হয়। ফলে পায়ের পাতাতেও তার কিছু প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। 

    এ বিষয়ে চিকিৎসক অনুজ পাহুজা বলছেন, অনেক সময় সাধারণ কিছু উপসর্গও ইঙ্গিতবাহী হয়। পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া নানা সমস্যার ইঙ্গিতবাহী। হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস থাকলে এমনটা হয়। তবে কখনো কখনো তা লিভারের সমস্যার দিকেও ইঙ্গিত করতে পারে। একে বলা হয় ‘পেডাল এডিমা’। লিভার অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন ঠিকমতো তৈরি করতে না পারলে কখনো কখনো এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

    আর নখ হলুদ হয়ে যাওয়া, ত্বক হলদেটে দেখানোও লিভারের অসুখের ইঙ্গিত দেয়। জন্ডিস হলে সাধারণত ত্বক ও নখ হলুদ হয়ে যায়। চোখও হলুদ দেখায়। প্রাকৃতিক আলোয় এই রঙের তফাত ভালেঅ করে বোঝা যায়।

    এ ছাড়া ঘন ঘন পায়ের পাতা চুলকাচ্ছে? ত্বকের সংক্রমণ যেমন কারণ হতে পারে, ঠিক তেমনই লিভারের অসুখের ইঙ্গিতবাহীও হতে পারে এই উপসর্গ। একে বলা হয় কোলেস্ট্যাটিক প্রুরিটাস, লিভারের অসুখের জন্যই পায়ের পাতা চুলকাতে থাকে। রক্তে বাইল সল্ট বা পিত্ত লবণ জমে গেলে এমনটা হতে পারে। এটি অনেক সময় লিভারের অসুখের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

  • পু’রুষ’দের নী’রব ঘা’তক ‘প্রো’স্টেট ক্যা’নসা’র’, যে ৩টি ল’ক্ষণ অ’বহেলা করলেই বি’পদ!

    পু’রুষ’দের নী’রব ঘা’তক ‘প্রো’স্টেট ক্যা’নসা’র’, যে ৩টি ল’ক্ষণ অ’বহেলা করলেই বি’পদ!

    বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, যা মূলত সামাজিক লজ্জা এবং রোগ লুকিয়ে রাখার মানসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। 

    ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের একটি হয়ে উঠেছে প্রোস্টেট ক্যানসার। বিশেষ করে দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোতে এই রোগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

    সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, জাতীয় অনকোলজি রেজিস্ট্রিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি পুরুষের ক্ষেত্রে রোগটি একদম শেষ পর্যায়ে (মেটাস্ট্যাটিক স্টেজ) গিয়ে ধরা পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ সেখানে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে শুরুতেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। 

    সাধারণত ডায়াবেটিস, মেটাবলিক সিন্ড্রোম বা হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক সচেতনতা থাকলেও, পুরুষদের দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি এখনো উপেক্ষিত রয়ে গেছে। 

    ৪৫ বছর পার হওয়ার পর প্রস্রাবের অভ্যাস বা যৌন স্বাস্থ্যের যেকোনো পরিবর্তনকে বেশিরভাগ পুরুষই ‘বয়স বাড়ার সাধারণ লক্ষণ’ বলে উড়িয়ে দেন। চিকিৎসকদের মতে, এই ভুল ধারণার কারণেই রোগীরা সঠিক সময়ে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেশটির শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকেরা এই ট্যাবু ভেঙে পুরুষদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি বিজ্ঞানসম্মত গাইডলাইন দিয়েছেন। 

    প্রোস্টেটের ৩টি বিপজ্জনক লক্ষণ 

    ফোর্টিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ইউরোলজি এবং রোবোটিক ইউরোলজিক্যাল সার্জারির প্রধান ও পরিচালক ডক্টর বিক্রম শর্মা বলেন, ‘পুরুষেরা চিকিৎসকদের কাছেও প্রস্রাব বা যৌন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে দ্বিধা করেন। এই নীরবতাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাকে পিছিয়ে দেয়।’ 

    তীব্র গরমে স্বস্তি ও সুস্থতার চাবিকাঠি শসা

    তিনি মূলত ৩টি প্রধান লক্ষণের দিকে নজর দিতে বলেছেন:

    ১. রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া 

    রাতে ঘুমানোর পর বারবার প্রস্রাবের জন্য জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘নকচুরিয়া’ বলা হয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যার প্রথম এবং অন্যতম প্রধান লক্ষণ। অনেকেই এটিকে রাতে বেশি পানি খাওয়া বা বয়স বাড়ার স্বাভাবিক ফল মনে করেন। 

    চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যাটি মূলত ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাজিয়া’ বা প্রোস্টেটের স্থানীয় টিউমারের কারণে হতে পারে। 

    ইউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, এর ফলে ঘুম ভেঙে যায়, যা সারাদিনের কাজের ক্ষতি করে এবং মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গেলে তা মূত্রনালীকে সংকুচিত করে ফেলে, ফলে মূত্রথলিকে দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ করতে হয়। একপর্যায়ে মূত্রথলির দেয়াল সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সামান্য প্রস্রাব জমলেই তীব্র বেগ অনুভূত হয়। এটি ক্যানসার নাকি সাধারণ টিউমার—তা কেবল একজন ইউরোলজিস্টই নিশ্চিত করতে পারেন।

    ২. দুর্বল, ধীর বা থেমে থেমে প্রস্রাব হওয়া

    একটি সুস্থ মূত্রথলি খুব সহজেই এবং তীব্র গতিতে একবারে খালি হয়ে যায়। কিন্তু যদি প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়, প্রস্রাব শুরু করতে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় বা শেষ হওয়ার পর ফোঁটা ফোঁটা পড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে মূত্রনালীর স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

    চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: দ্য জার্নাল অব ইউরোলজি-তে প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী তথ্য অনুসারে, প্রোস্টেটের প্রতিবন্ধকতার কারণে মূত্রথলিতে দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে বারবার ইউটিআই বা প্রস্রাবের ইনফেকশন, মূত্রথলিতে পাথর এবং কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এই লক্ষণ অবহেলা করলে মূত্রথলির পেশি চিরতরে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

    ৩. হঠাৎ বা ক্রমাগত যৌন অক্ষমতা 

    ক্যানসারের ভয়, নপুংসকতা বা অপারেশনের আতঙ্কে পুরুষেরা স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করাতে চান না। চিকিৎসকদের মতে, যৌন অক্ষমতা বা ইডি-কে কেবল মানসিক সমস্যা বা হার্টের রোগ ভেবে ভুল করা যাবে না; এটি প্রোস্টেটের মারাত্মক ক্ষতির সংকেত হতে পারে। 

    চিকিৎসকের ব্যাখ্যা: প্রোস্টেট গ্রন্থিটি পুরুষাঙ্গের উত্থানের জন্য দায়ী সূক্ষ্ম স্নায়ু এবং রক্তনালীগুলোর খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে প্রোস্টেটে টিউমার বা তীব্র প্রদাহ হলে রক্ত সঞ্চালন এবং স্নায়ুর সংকেত ব্যাহত হয়। ডক্টর বিক্রম শর্মা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে যৌনশক্তি বাড়ানোর ওষুধ খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে মূল সমস্যা বা টিউমারের বৃদ্ধি আড়ালে পড়ে যায় এবং সংকট আরও ঘনীভূত হয়। 

    কেন ৪৫ বছরের পর নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি?

    ভারতে প্রোস্টেট চিকিৎসার উন্নত সুযোগ থাকলেও, রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো পুরুষের মানসিক জড়তা। ডক্টর শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। ৪৫ বছর পার হলেই, বিশেষ করে যাদের পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শে পিএসএ পরীক্ষা করা উচিত।’ 

    একটি সাধারণ পিএসএ রক্ত পরীক্ষা এবং ডিআরই-এর মাধ্যমেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব। 

    প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে আক্রান্তদের ৫ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রোস্টেটের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে উন্নত রোবোটিক সার্জারি বা আধুনিক থেরাপির কার্যকারিতাও সীমিত হয়ে পড়ে। 

    তাই শরীর কোনো সংকেত দিলে তা লুকিয়ে না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পুরুষদের জীবন রক্ষা করতে। 

    সূত্র: এনডিটিভি

  • শ’রীরের এই ৫ ল’ক্ষণ হতে পারে ক্যা’ন্সারে’র আগাম ইঙ্গিত, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    শ’রীরের এই ৫ ল’ক্ষণ হতে পারে ক্যা’ন্সারে’র আগাম ইঙ্গিত, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    আমাদের শরীর কিন্তু হঠাৎ করেই রোগে আক্রান্ত হয় না। অনেক সময় বিভিন্ন সংকেত পাঠায় আর আমরা সেটা বুঝতেই পারি না।

    এমনকি অনেক সময় নীরব সংকেতগুলোই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায় হঠাৎ ওজন কমছে, সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে, মাঝেমধ্যে জ্বর আসছে কিংবা এমন কোনো ব্যথা হচ্ছে যার কারণই বুঝতে পারছেন না। অনেক সময় আমরা এসবকে কাজের চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা সাময়িক শারীরিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু শরীরের কিছু পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে সেটিকে একেবারে উপেক্ষা করাও ঠিক নয়।

     

    ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও আমাদের শরীর বিভিন্ন সংকেত পাঠায়। জনস হপকিন্স মেডিসিনের এক প্রতিবেদনে এমন কিছু লক্ষণ উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর দ্রুত শনাক্তকরণ চিকিৎসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে—  

    কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া

    খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় কোনো পরিবর্তন না এনেও যদি হঠাৎ ওজন কমতে থাকে, বিষয়টি নজরে রাখা দরকার।

    বিশেষ করে কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কেজি বা তার বেশি ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। অনেক কারণেই ওজন কমতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। তাই ইচ্ছাকৃত নয় এমন ওজন কমাকে দীর্ঘদিন অবহেলা না করাই ভালো।

    বিশ্রামের পরও ক্লান্তি

    সারা দিন কাজ করার পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক।

    কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রচণ্ড ক্লান্তি থেকে যায় তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার শরীরের পুষ্টি ও শক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে স্বাভাবিক কাজ করতেও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। তবে রক্তস্বল্পতা, ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপসহ আরো অনেক কারণেও এমন ক্লান্তি হতে পারে।

    বারবার জ্বর

    সর্দি-জ্বর বা সংক্রমণের কারণে জ্বর হওয়া খুবই সাধারণ। সাধারণত কারণটি সেরে গেলে জ্বরও কমে যায়। তবে কোনো স্পষ্ট সংক্রমণের লক্ষণ ছাড়াই যদি বারবার জ্বর আসে, বিশেষ করে রাতে জ্বর হওয়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ঘাম হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিছু ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে এমন পুনরাবৃত্ত জ্বরের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    কারণ ছাড়াই শরীর ব্যথা

    শরীরের কোথাও ব্যথা হওয়া মানেই ক্যান্সার নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যথার পেছনে অন্য কারণ থাকে। কিন্তু কোনো ব্যথা যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে, বারবার ফিরে আসে কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং এর স্পষ্ট কারণ জানা না যায়, তাহলে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিউমার আশপাশের অঙ্গ বা টিস্যুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যথা তৈরি করতে পারে। আবার রোগ শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লেও ব্যথা দেখা দিতে পারে।

    ত্বক বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন

    ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। তাই ত্বকের নতুন বা অস্বাভাবিক পরিবর্তনও কখনো কখনো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে জন্ডিসের মতো পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। পাশাপাশি শরীরের কোনো তিলের আকৃতি বা রঙ বদলে গেলে সেটিও নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে তিলটি যদি দুই পাশে অসমান হয়, কিনারা অনিয়মিত হয়, রঙ পরিবর্তন করে বা আরো গাঢ় হয়ে যায়, আকারে বড় হতে থাকে কিংবা নতুন করে বাড়তে থাকে তাহলে চিকিৎসকের কাছে দেখানো জরুরি।

    এই পাঁচটি লক্ষণ মানেই যে ক্যান্সার বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তবে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এমন চলতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে। কারণ সময়মতো চিকিৎসা নিলে বড় রোগও ভালো হয়।