Blog

  • বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে গোলের ক্ষেত্রে অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মূল ম্যাচে (নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে তার গোলসংখ্যা ৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

    এই রেকর্ডে মেসির সঙ্গে আছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের মূল খেলায় কোনো ফুটবলারই পেনাল্টি থেকে ৪টির বেশি গোল করতে পারেননি।

    বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেসির চারটি পেনাল্টি গোলই এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ওই টুর্নামেন্টে তিনি সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

    ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মূল ম্যাচে মেসি মোট ৬টি পেনাল্টি নিয়েছেন।

    সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলসংখ্যাতেও তিনি অন্যতম শীর্ষ স্কোরার। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তার গোলসংখ্যা ১৩। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪টি, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৭টি, ২০০৬ ও ২০১৮ সালে ১টি করে গোল করেন তিনি। শুধু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গোল পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

  • ব্রা’জিলকে নিয়ে বি’স্ফো’রক মন্তব্য মার্টিনেজের

    ব্রা’জিলকে নিয়ে বি’স্ফো’রক মন্তব্য মার্টিনেজের

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত এই ‘কাতার বিশ্বকাপ নায়ক’ এবার মাঠের বাইরেই করলেন চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী—তার মতে, এবারও বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল।

    সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য নকআউট চিত্র এঁকে দেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

    মার্টিনেজের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তার মতে, ম্যাচটি গড়াবে টাইব্রেকারে এবং সেখানেই শিরোপা ধরে রাখবে লিওনেল মেসির দল।

    উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগেও আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের বিষয়ে একই ধরনের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছিলেন মার্টিনেজ, যা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়।

    তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং মেক্সিকো।

    তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেক বিশ্লেষকের শিরোপা প্রত্যাশী তালিকায় থাকা এই দলটিকে শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার কাছে বিদায় নিতে হবে বলে মনে করেন মার্টিনেজ।

    সম্ভাব্য নকআউট চিত্র

    ফ্রান্স হারাবে নরওয়েকে
    ব্রাজিল হারাবে জাপানকে
    জার্মানি জয় পাবে তুরস্কের বিপক্ষে
    নেদারল্যান্ডস হারাবে যুক্তরাষ্ট্রকে
    মেক্সিকো হারাবে দক্ষিণ কোরিয়াকে
    ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে

    এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, ব্রাজিল হারাবে মেক্সিকোকে, জার্মানি জয় পাবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ডকে বিদায় করবে কলম্বিয়া।

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারাবে বলে ধারণা দিয়েছেন মার্টিনেজ, অন্যদিকে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী—২০২১ কোপা আমেরিকার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা।

    বিতর্ক ও আলোচনায় ভবিষ্যদ্বাণী

    মার্টিনেজের এই পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের আগেও তার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য বাস্তবে পরিণত হওয়ায় এবারও ভক্তদের একাংশ এই ভবিষ্যদ্বাণীকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তবে বাস্তবতা কী হবে, তার উত্তর দেবে মাঠের ফুটবলই—সময়ই তা নির্ধারণ করবে।

  • ফুটবল ভক্তদের বিশ্বকাপের এই পাঁচ ম্যাচ দেখতেই হবে, দেখে নিন কোন কোন ম্যাচগুলো

    ফুটবল ভক্তদের বিশ্বকাপের এই পাঁচ ম্যাচ দেখতেই হবে, দেখে নিন কোন কোন ম্যাচগুলো

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ঠাসা সূচি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়ানো এবারের আসরে ম্যাচ সংখ্যাও বাড়ছে আগের চেয়ে। গ্রুপপর্বেই অনুষ্ঠিত হবে ৭২টি ম্যাচ। এত সংখ্যক ম্যাচের ভিড়ে কিছু ম্যাচ শুরু থেকেই আলাদা করে নজর কাড়ছে।

    দলগুলোর শক্তিমত্তা, তারকা খেলোয়াড় ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তেমন পাঁচটি ম্যাচ বাছাই করেছে।  

    ব্রাজিল–মরক্কো: শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা

    আগামী ১৪ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন যাত্রা শুরু করা ব্রাজিলের আক্রমণভাগের বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

    অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তি মরক্কো এবারও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের নিয়ে গড়া দলটি ব্রাজিলের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।

    নেদারল্যান্ডস–জাপান : এশিয়ার সেরা বনাম ইউরোপের শক্তি

    ১৪ জুন ডালাসে হবে ‘এফ’ গ্রুপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ। বিশ্বকাপে এখনও শিরোপার দেখা না পাওয়া নেদারল্যান্ডসের সামনে থাকবে জাপানের কঠিন পরীক্ষা। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জাপান। এবারও সামুরাই ব্লুরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে থাকবে।

    ফ্রান্স–সেনেগাল: ২৪ বছর পর সেই পুনর্মিলন

    ১৬ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল।

    দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার দেখা হচ্ছে দুই দলের। ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত গ্রুপ ‘আই’-এ এই ম্যাচের ফলই হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপসেরা কারা হচ্ছে।

    ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া: সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি

    ১৭ জুন ডালাসে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়াটরা।

    থমাস টুখেলের অধীনে প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নামা ইংল্যান্ডের জন্য এটি হবে বড় পরীক্ষা। গ্রুপ ‘এল’-এ শীর্ষস্থান নির্ধারণেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কলম্বিয়া–পর্তুগাল: গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে দামি ম্যাচ

    ২৭ জুন মায়ামিতে হবে গ্রুপ ‘কে’-এর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ লড়াই। লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

    ম্যাচটির টিকিট ইতোমধ্যে পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। পুনর্বিক্রয় বাজারে একটি টিকিটের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে উঠেছে, যা এটিকে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ম্যাচে পরিণত করেছে।

     

  • গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভ’বিষ্য’দ্বাণী সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারের বি’জয়ী দলের নাম

    গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভ’বিষ্য’দ্বাণী সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারের বি’জয়ী দলের নাম

    টানা তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপে সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আলোচনায় আসা জার্মান অর্থনীতিবিদ এবারও নতুন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দল।

    এই পূর্বাভাস দিয়েছেন প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, যিনি ২০১৪ সালে পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি মডেল তৈরি করেছিলেন মূলত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    কিন্তু তার সেই মডেল পরে বাস্তবে বিস্ময়করভাবে সফল হয়—
    ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল, ২০১৮ সালে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্ট বলেন, শুরুটা ছিল ব্যঙ্গাত্মক, কিন্তু টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফল মিলে যাওয়াটা ছিল অপ্রত্যাশিত।

    কীভাবে কাজ করে তার মডেল

    তার বিশ্লেষণ মডেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্যবহার করা হয়—

    জনসংখ্যা ও খেলোয়াড় তৈরির সক্ষমতা
    ফুটবলের জনপ্রিয়তা
    গড় আবহাওয়া (প্রায় ১৪°C আদর্শ ধরা হয়)
    মাথাপিছু জিডিপি
    ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম

    তার মতে, এসব ফ্যাক্টর দলগুলোর পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলে।

    কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস

    মডেল অনুযায়ী নেদারল্যান্ডস কয়েকটি কারণে এগিয়ে রয়েছে—
    জনসংখ্যা, শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি, তুলনামূলক উচ্চ মাথাপিছু আয় এবং সাম্প্রতিক ভালো ফর্ম।

    তার বিশ্লেষণে সম্ভাব্য ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকতে পারে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল।

    তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভাগ্যের ভূমিকা অনেক বড়—তার হিসাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলাফলই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।

  • বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই নতুন রেকর্ড গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই নতুন রেকর্ড গড়লেন মেসি

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে, শুরু হয়েছে মাঠের লড়াই। তবে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসে যোগ করেছেন আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে আইসল্যান্ডকে হারায়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মেসির নতুন এই অর্জন।

    সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে শুরুর একাদশে রাখেননি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯তম মিনিটে মাঠে নামার পর প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের করতালিতে সাড়া দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার উপস্থিতিতে আক্রমণে গতি ফিরে পায় দল। মেসির নিখুঁত পাস থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন মেসি।

    এই গোলের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রায় সাত দশক পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেন মেসি। 

    এর আগে এই রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি স্ট্রাইকার আনহেল আমাদেও লাব্রুনার দখলে। তিনি ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে গোল করেছিলেন ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে। দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড অবশেষে ভাঙলেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি আগেই শীর্ষে ছিলেন, এবার সেই ব্যবধান আরও বাড়ালেন। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোলসংখ্যা ৫৫, অর্থাৎ তার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গোল এখন মেসির ঝুলিতে।

    এছাড়া ম্যাচটি ছিল মেসির ১৯৯তম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামলেই তিনি দেশের হয়ে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও তার নাগালের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সেই কীর্তিটি ধরে রেখেছেন মার্টিন পালের্মো, যিনি ২০১০ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

    আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। সেই ম্যাচে সমর্থকদের দৃষ্টি থাকবে মেসির দিকে- আরও কোনো নতুন রেকর্ড তার পায়ে লেখা হয় কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

  • শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন

    শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন

    শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন রক্ষণভাগের তারকা লিওনার্দো বালেরদি। তার জায়গায় যোগ দিচ্ছেন মার্কোস সেনেসি।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন) আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এএফএ বলছে, বালেরদির ডান পায়ের পেশিতে গুরুতর চোট পেয়েছে। ওই চোট তাকে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিয়েছে।

    কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলোয়াড়দের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত সেনেসিকেই বেছে নেন। তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্কোয়াডে পরিবর্তন আসতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হলো।

    নতুন করে দলে যুক্ত হওয়া সেনেসি এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে। দলটি তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১৬ জুন।

    আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

  • বিশ্বকাপের আগে কো’থায় নেইমার, মরক্কো ম্যাচে কি খে’লবেন? জেনে নিন

    বিশ্বকাপের আগে কো’থায় নেইমার, মরক্কো ম্যাচে কি খে’লবেন? জেনে নিন

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’— এর ২৩তম আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের মহোৎসব।

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। তবে মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তেও সেলেসাও শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোথায় নেইমার জুনিয়র? সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তার না খেলার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত ছিল, যার কারণে দলের সঙ্গে ওহিয়ো’র ক্লিভল্যান্ডেও যাননি তিনি। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে এখনো জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।

    এদিকে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ে ইতি টেনে ২৪ বছর পর ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে দলটির ডাগআউটে বসেছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গতকাল বুধবার (১০ জুন) খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পেয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। ক্যাম্পের ভেতর ‘গার্ড অব অনারের’ আদলে বেশ সংযত ও আনন্দঘন পরিবেশে আনচেলত্তির ৬৭তম জন্মদিন পালন করেছে ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

    বিনয় ও মজার সুরে বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া বলছেন, ‘তিনি (কোচ) নিরাপদে এই জায়গা পার হয়েছেন, কেউ তাকে স্পর্শ করিনি।’ কোচের জন্মদিনেও কেন নেইমার ছিলেন না তা নিয়ে অবশ্য কথা বলেননি সতীর্থ বা দলের কোচিং স্টাফের কেউই। 

    গত মে মাসের মাঝামাঝিতে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় মাংসপেশির ‘গ্রেড টু’ ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি সেরে উঠবেন—এমন আশাবাদ থেকেই তাকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো অনুশীলনে যোগ না দেওয়ায় আগামী ১৪ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি মিস করতে পারেন নেইমার। শুধু প্রথম ম্যাচই নয়, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলোতেও এই তারকা ফরোয়ার্ড কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

    নেইমারকে টুর্নামেন্টের শুরুতে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ব্রাজিলের স্কোয়াড নিয়ে বেশ আশাবাদী দেশটির সাবেক তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এবং বর্তমান ইএসপিএনের ক্রীড়া বিশ্লেষক জিনহো বলেন, ‘ব্রাজিল হয়তো কাগজের কলমে শীর্ষ ফেভারিট নয়, তবে তাদের খুব ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে যারা একসঙ্গে দারুণ একটি দল হয়ে উঠতে পারে। আমার মতে ব্রাজিলের এবার ভালো সুযোগ আছে।’

    একই সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় রেডিও ধারাভাষ্যকার বেঞ্জামিন ব্যাকও। আনচেলত্তির কৌশলের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘তার অধীনে এমন এক দল আছে, যাদের রক্ষণ থাকবে প্রতিপক্ষের কার্যকলাপ অনুযায়ী এবং বল পেলেই দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এটি তরুণ একটি দল, যাদের শারীরিক অবস্থা ভালো এবং একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। আমি ব্রাজিলকে ফেভারিটদের তালিকায় রাখব।’

    এখন দেখার বিষয়, নেইমারবিহীন ব্রাজিল আনচেলত্তির অধীনে মরক্কো বধ দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের হেক্সা মিশন সফলভাবে শুরু করতে পারে কি না।

  • ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরুর আগে যা যা জানা দরকার

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরুর আগে যা যা জানা দরকার

    ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, স্বপ্ন আর উন্মাদনাকে সঙ্গে নিয়ে আজ পর্দা উঠছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে বিস্তৃত এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই আসর শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি ফুটবল সভ্যতার নতুন যুগে প্রবেশের ঘোষণা।

    প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতা। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। আর ৩৯ দিনের এই মহাযজ্ঞের পর্দা নামবে ১৯ জুলাই, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মাধ্যমে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ শুরুর আগে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে নিয়ম-নীতিতে। যা ফুটবলপ্রেমিদের জানা দরকার।

    নতুন রূপে বিশ্বকাপ

     

    ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত বড় আসর আগে কখনও দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ৩২ দলের ফরম্যাটে চলার পর এবার দল সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল।

    গ্রুপপর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে উঠবে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল। ফলে এবার প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ দিয়ে শুরু হবে শিরোপার লড়াই।

    দল সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কাতার বিশ্বকাপে যেখানে ম্যাচ হয়েছিল ৬৪টি, সেখানে এবার মাঠে গড়াবে মোট ১০৪টি ম্যাচ।

    তিন দেশের উৎসব

     

    উত্তর আমেরিকার তিন দেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশাল আয়োজন। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মোট ১৬টি শহরে। সবচেয়ে বেশি ১১টি ভেন্যু রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি, ডালাস, হিউস্টন, আটলান্টা, সিয়াটল, ফিলাডেলফিয়া, ক্যানসাস সিটি, সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া এবং বোস্টন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠবে।

     

     

    এদিকে মেক্সিকো আয়োজন করবে রাজধানী মেক্সিকো সিটির পাশাপাশি গুয়াদালাহারা ও মনতেরেতে ম্যাচ। অন্যদিকে, কানাডার টরেন্টো এবং ভ্যানকুভারও বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে থাকছে আলোচনায়।

    মেসি, নেইমার এবং রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ?

     

    বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন দুই কিংবদন্তি—লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করা এই দুই মহাতারকার জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। ফলে সমর্থকদের আবেগও এবার অন্যরকম। ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে দেখতে চলেছেন এই দুই কিংবদন্তির লড়াই।

    শুধু মেসি-রোনালদোই নন, ব্রাজিলের নেইমার, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের মতো তারকাদের জন্যও এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ।

     

    নতুন রাজাদের অভিষেকের অপেক্ষা

     

    একদিকে যখন পুরোনো যুগ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়র এবং জার্মানির জামাল মুসিয়ালাদের দিকে থাকবে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের বিশেষ নজর।

    এবারের বিশ্বকাপের ফেভারিট যারা

     

    বিশ্বকাপের আগে বাজির বাজার এবং বিশ্লেষকদের আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স, স্পেন ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে কাতারে শিরোপা জেতা দলটি এবারও অন্যতম ফেবারিট। তাদের পাশাপাশি গতবারের রানার্স আপ ফ্রান্সও আছে ফেবারিটদের তালিকায়। আর ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনও রয়েছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কাতারে। তাদের সঙ্গে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে রয়েছে ব্রাজিল, পর্তুগাল এবং জার্মানি।

     

    বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে যারা

     

    বিশ্বকাপ মানেই অঘটনের মঞ্চ। ইতিহাস বলছে, প্রতিটি আসরেই কিছু দল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দূর এগিয়ে যায়। এবার সেই সম্ভাব্য ডার্ক হর্সের তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে মরক্কো, জাপান ও নরওয়ের নাম। এছাড়া ক্রোয়েশিয়া, সেনেগাল এবং মেক্সিকোও সম্ভাব্য চমকপ্রদ দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

     

     

    প্রযুক্তির নতুন যুগ

     

    ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়ে নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। যেখানে বিশেষ ক্যামেরা এবং বলের সেন্সর মিলিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই অফসাইড শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

    এবারের বিশ্বকাপে ভিএআর-এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

    ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। ভুল কর্নার সিদ্ধান্ত, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো কিংবা বিতর্কিত দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মতো বিষয়গুলোও এখন পর্যালোচনা করা যাবে।

    সময় নষ্ট রোধে খেলোয়াড় পরিবর্তন, থ্রো-ইন এবং গোল কিকের ক্ষেত্রেও কঠোরতা আনা হয়েছে। এছাড়া অফসাইড সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক থ্রিডি ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

     

    দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থকদের নির্ঘুম রাত

     

    উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে গভীর রাত কিংবা ভোরে। তবে সময়ের এই বাধা কখনোই বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে থামাতে পারেনি।

    কাতারের মরুভূমি থেকে বিশ্বকাপ এবার পাড়ি জমিয়েছে উত্তর আমেরিকার আকাশছোঁয়া নগরীতে। একদিকে মেসি-রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ নৃত্য, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থান—সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ হয়ে উঠতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় আসরগুলোর একটি।

     

  • কিছুক্ষণ পরই বিশ্বকাপ: জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-ম্যাচ কখন শুরু, কোথায় দেখবেন?

    কিছুক্ষণ পরই বিশ্বকাপ: জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান-ম্যাচ কখন শুরু, কোথায় দেখবেন?

    আর কিছুক্ষণ পরই পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রায় দেড় মাসব্যাপী ফুটবল উৎসব। উদ্বোধনের পর মাঠে গড়াবে প্রথম ম্যাচও। বাংলাদেশ সময় কখন শুরু হবে অনুষ্ঠান ও ম্যাচ, কোথায় দেখা যাবে—জেনে নিন এক নজরে।

    এবার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে তিনটি দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা। তিন দেশেই আলাদা দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। তবে প্রথমই যেহেতু মেক্সিকোতে খেলা শুরু হচ্ছে তাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিই আগে হচ্ছে।

     

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচের ভেন্যু: মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু: বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

    উদ্বোধনী ম্যাচ: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ১টা।

     

    ২০১০ বিশ্বকাপের মতো এ ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

     

    আর কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল রাতে। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে ভোর সাড়ে ৫টায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

     

     

    বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কী থাকছে?

     

    বৃহস্পতিবার (১১ জুন), মেক্সিকো

    মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্প ও আদিবাসী সংস্কৃতির মেলবন্ধন। সেখানে তুলে ধরা হবে দেশটির আদিবাসী সংস্কৃতি, লোকজ ঐতিহ্য এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাদো’ শিল্পকর্ম।
     

    তারকারা: মঞ্চে পারফর্ম করবেন পপতারকা শাকিরা, বার্না বয়, জে বালভিন, মানা, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান ও লিলা ডাউনস।
     

    শুক্রবার (১২ জুন), কানাডা

    বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে কানাডা। তার আগে টরন্টো স্টেডিয়ামে ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ৯০ মিনিটের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    তারকারা: মঞ্চে পারফর্ম করবেন নোরা ফাতেহি, মাইকেল বুবলে, জেসি রেয়েজ, অ্যালানিস মরিসেত্তে, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা ও বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

     

    শনিবার (১৩ জুন), যুক্তরাষ্ট্র
     

    বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের আগে ভোর সাড়ে ৫টায় লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে ৯০ মিনিটের জমকালো উদ্বোধনী আয়োজন।

    আয়োজন: প্রযুক্তিনির্ভর বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও গল্পভিত্তিক মঞ্চায়নে জমকালো আলো ও রংয়ের প্রদর্শনী।

    তারকারা: মঞ্চে পারফর্ম করবেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি, র‍্যাপার ফিউচার, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিতা, ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লিসা, নাইজেরিয়ার রেমা এবং টাইলা।

    কোথায় দেখবেন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ?

    বাংলাদেশে এবার বিশ্বকাপের জমকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে সময় টেলিভিশন। এছাড়া বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ দেখতে পাবেন সময় টিভিতে। বাংলাদেশে বিটিভি এবং টি-স্পোর্টসও বিশ্বকাপ দেখাবে।

    বাংলাদেশ থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে টফি, মাই রবি এবং বায়োস্কোপে।

     

     

    মেক্সিকোর স্কোয়াড

    গোলরক্ষক: কার্লোস আসেভেদো, গিয়েরমো ওচোয়া, রাউল রাঙ্গেল
     

    ডিফেন্ডার: এডসন আলভারেজ, মাতেও চাভেজ, হেসুস গালিয়ার্দো, সেসার মন্তেস, ইসরায়েল রেয়েস, হোর্হে সানচেজ, জোহান ভাসকেস
     

    মিডফিল্ডার: লুইস চাভেজ, আলভারো ফিদালগো, ব্রায়ান গুতিয়েরেস, এরিক লিরা, গিলবার্তো মোরা, লুইস রোমো, ওর্বেলিন পিনেদা, ওবেদ ভার্গাস
     

    ফরোয়ার্ড: রবার্তো আলভারাদো, সান্তিয়াগো হিমেনেস, আরমান্দো গনসালেস, সেসার উয়ার্তা, রাউল হিমেনেস, গিয়েরমো মার্টিনেস, হুলিয়ান কুইনোনেস, আলেক্সিস ভেগা

    দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোয়াড
     

    গোলরক্ষক: রনওয়েন উইলিয়ামস, রিকার্ডো গস, সিফো শেইনে

    ডিফেন্ডার: খুলিসো মুদাউ, ওলওয়েথু মাখানিয়া, ব্র্যাডলি ক্রস, অব্রি মোদিবা, থাবাং মাতুলুদি, নকোসিনাথি সিবিসি, খুলুমানি এনডামানে, আইমে ওকন, সামুকেলে কাবিনি, মবেকেজেলি এমবোকাজি, কামোগেলো সেবেলেবে

    মিডফিল্ডার: তেবোহো মোকোয়েনা, জেইডেন অ্যাডামস, থালেন্তে এমবাথা, স্পেপেলো সিথোলি

    ফরোয়ার্ড: ওসউইন অ্যাপোলিস, চেপাং মোরেমি, এভিডেন্স মাকগোপা, লাইল ফস্টার, ইকরাাম রায়নার্স, রিলেহবিলে মোফোকেং, থেম্বা জ্বানে, থাপেলো মাশেকো

  • ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কে, ভ’বিষ্য’দ্বাণী করলেন মামদানি

    ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতবে কে, ভ’বিষ্য’দ্বাণী করলেন মামদানি

    ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনায় কাঁপছে সারা বিশ্ব। আর এই উন্মাদনার ঢেউ লেগেছে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির মনেও। আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে এক রোমাঞ্চকর ভবিষ্যদ্বাণী করে ফুটবল বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। তার মতে, এবার ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আফ্রিকার দেশ মরক্কো। সিটি হলের লনে আয়োজিত এক সাক্ষাৎকারে মামদানি তার এই সাহসী পূর্বাভাসের কথা জানান। 

    সাক্ষাৎকারে মামদানি অকপটে স্বীকার করেন যে, বিশ্বকাপের জয়ী দল নিয়ে খুব গভীর কোনো গাণিতিক বা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সময় তার নেই। তবে ফুটবলের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা এবং বিশেষ করে আফ্রিকান ফুটবলের প্রতি তার দুর্বলতা থেকেই তিনি মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে কিছু সিদ্ধান্ত গবেষণার চেয়ে হৃদয়ের টানেই বেশি নেয়া হয়। আমার হৃদয় মরক্কোর পক্ষেই কথা বলছে।’

    আফ্রিকান ফুটবলের সঙ্গে মামদানির সম্পর্কও বেশ গভীর। ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে একটি পূর্বাভাসে তিনি দেখিয়েছেন, ফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সকে হারিয়ে মরক্কো বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজত্ব দখল করবে। যদি তার এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়, তবে এটি হবে কোনো আফ্রিকান দেশের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এবং প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে জয়ের কীর্তি। যদিও বেশিরভাগ বিশ্লেষকের কাছে এটি অপ্রত্যাশিত ফলাফল, মামদানির মন্তব্য, ‘হৃদয় যা চায়, সেখানেই তো যায়।’

    মামদানির পূর্বাভাসে আরও কয়েকটি চমক রয়েছে। তিনি মনে করেন, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পথচলা থামবে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে, যেখানে তারা জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাবে। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তাদের স্বপ্নের ইতি ঘটবে। অন্যান্য দলের মধ্যে হাইতি শেষ ৩২ পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং ঘানা নকআউট পর্বে উঠলেও কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেবে।

    উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের বিশাল ভক্ত। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ঘানাকে সমর্থন করতে গিয়ে স্টেডিয়ামে বসে কান্নার স্মৃতি এখনো তাকে আবেগাপ্লুত করে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সময় নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য থাকা মামদানি মরক্কোর কোয়ার্টার ফাইনাল জয়ের পর স্থানীয় মরোক্কান সম্প্রদায়ের সঙ্গে উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আবেগ থেকেই এবার তিনি মরক্কোর সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন।

    এদিকে, ১৩ জুন নিউ জার্সির মেটলাফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে মরক্কো। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে মরক্কো কেমন পারফর্ম করে, তার ওপরই নির্ভর করছে মামদানির এই রোমান্টিক ভবিষ্যদ্বাণীর প্রথম ধাপ। ফুটবল বোদ্ধাদের কাছে এটি আপাতদৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, খেলার মাঠে ফুটবল যে অনিশ্চয়তারই নামান্তর, তা জোহরান মামদানির এই বক্তব্য আবারও মনে করিয়ে দিল।