Blog

  • স’কালে ২–৩টি তু’লসীপা’তা চি’বিয়ে খে’লে যেসব উ’পকার পাবেন

    স’কালে ২–৩টি তু’লসীপা’তা চি’বিয়ে খে’লে যেসব উ’পকার পাবেন

    সকালের শুরুটা কী দিয়ে হচ্ছে, তার সঙ্গে দিনের বাকি অভ্যাসেরও কিছুটা সম্পর্ক থাকে। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে এখন অনেক পুরোনো ঘরোয়া অভ্যাস আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসীপাতা চিবিয়ে খাওয়া। বাড়ির টবে সহজেই বেড়ে ওঠা এই গাছটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যচর্চাতেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

    তুলসীপাতায় রয়েছে নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ

    তুলসীর পাতায় ইউজেনল, রোজম্যারিনিক অ্যাসিড ও উরসোলিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এ ছাড়া তুলসীপাতায় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েলও রয়েছে। তবে তুলসীর স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে অনেক গবেষণাই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আবার বেশ কিছু গবেষণায় সরাসরি পাতা নয়, তুলসীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কয়েকটি তুলসীপাতা খেলেই কোনো নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

    মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে

    তুলসীকে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ শরীরকে মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। কিছু গবেষণায় তুলসীর নির্যাস গ্রহণের সঙ্গে মানসিক চাপ কমা এবং ঘুমের মান উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু কয়েকটি তাজা পাতা খেলে একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

    সর্দি-কাশিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে

    সর্দি, কাশি বা গলায় অস্বস্তি হলে তুলসী দিয়ে গরম পানীয় খাওয়ার প্রচলন বহু পুরোনো। তুলসীর কিছু উপাদানের প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে সামান্য গলা বা শ্বাসনালির অস্বস্তিতে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে শুধু তুলসীর ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    হজমে সহায়ক হতে পারে

    খাবারের পর তুলসী দিয়ে তৈরি গরম পানীয় খাওয়ার প্রচলনও অনেক পুরোনো। তুলসী হজমে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে এবং এ নিয়ে গবেষণাও চলছে। তবে অ্যাসিডিটি, গ্যাস, বদহজম বা অন্য কোনো হজমের সমস্যা সারানোর চিকিৎসা হিসেবে তুলসীকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসার পাশাপাশি এটি সহায়ক হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

    অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

    তুলসীর পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তুলসীর উদ্ভিজ্জ যৌগগুলো শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

    তুলসী নিয়ে করা কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা, এলডিএল কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও প্রদাহের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার অনেকগুলোতেই তুলসীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প হিসেবে তুলসীপাতা ব্যবহার করা উচিত নয়।

    মুখের স্বাস্থ্যে ব্যবহার

    তুলসীর কিছু উপাদানের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ কারণে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় ঐতিহ্যগতভাবে তুলসীর ব্যবহার দেখা যায়। মুখের কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে শুধু তুলসীপাতা চিবিয়ে খেলেই দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকবে, এমনটা বলা যায় না। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    সকালে ২–৩টি তুলসীপাতা খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তুলসী খেলে তা একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।

    সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম

  • নী’রবে থা’ইর’য়েড ক্যা’নসা’র বা’ড়ছে না তো? খে’য়াল রাখুন ৫ ল’ক্ষণ

    নী’রবে থা’ইর’য়েড ক্যা’নসা’র বা’ড়ছে না তো? খে’য়াল রাখুন ৫ ল’ক্ষণ

    গলার ঠিক নিচে প্রজাপতির মতো দেখতে ছোট গ্রন্থিটিকে থাইরয়েড বলা হয়। শরীরের হার্ট রেট, রক্তচাপ, তাপমাত্রা থেকে শুরু করে মেটাবলিজম; সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে এই ক্ষুদ্র অঙ্গটি। কিন্তু এ গ্রন্থির কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে, তখনই দেখা দেয় থাইরয়েড ক্যানসার।

    সমস্যাটি হলো, এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতটাই অস্পষ্ট আর সাধারণ অসুস্থতার মতো যে বহু মানুষ মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও টের পান না যে শরীরের ভেতরে একটি ‘নীরব শত্রু’ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের মাঝে লক্ষণ দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রেও বেশিভাগ সময় এগুলোকে অ্যাসিডিটি, ভাইরাল সংক্রমণ, থাইরয়েড ইনফ্লামেশন বা সাধারণ গলার সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। ফলে রোগ নির্ণয় পেছায়, আর চিকিৎসাও দেরিতে শুরু হয়।

    থাইরয়েড ক্যানসার সার্জন ড. ন্যান্সি পেরিয়ের জানিয়েছেন, ঠিক এ কারণেই অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাদের শরীরে থাইরয়েড ক্যানসার নিঃশব্দে বাড়ছে। তবে সময়মতো নজর দিলে রোগটি খুব সহজেই শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।

    আজ দেখে নিন সেই ৫টি মূল লক্ষণ, যেগুলো দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

    ১. গলার সামনে গাঁট বা ফোলাভাব

    থাইরয়েড ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণের একটি হলো গলার ঠিক সামনের দিকে একটি গাঁট বা অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়া। এটি ব্যথাহীন হতে পারে, ফলে অনেকে সর্দিজনিত লিম্ফ নোড ভেবে ভুল করেন। গাঁটটি শক্ত, স্থায়ী এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

    ২. গলায় বা কানের দিকে ব্যথা

    গলার সামনে ধরা ধরা ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি, যা কখনো কানের দিক পর্যন্ত টেনে যায়। এটিও থাইরয়েড ক্যানসারের একটি সূক্ষ্ম লক্ষণ। পেশিতে টান লাগার মতো অস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে এটি মিলবে না, বরং থাকবে দীর্ঘসময় ধরে।

    ৩. স্বরভঙ্গ বা কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া

    থাইরয়েড গ্রন্থি স্বরযন্ত্রের খুব কাছেই থাকে। ফলে কোনো টিউমার তৈরি হলে তা স্নায়ুর ওপর চাপ ফেলতে পারে এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। তাই সাধারণ ঠান্ডা বা চিৎকার ছাড়া টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্বরভঙ্গ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

    ৪. গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা

    খাবার গিলতে বারবার কষ্ট হওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি বা শ্বাস নিতে হালকা সমস্যা; সবই হতে পারে থাইরয়েড টিউমারের কারণে। টিউমার বড় হলে খাদ্যনালি বা শ্বাসনালির ওপর চাপ ফেলে এ ধরনের অসুবিধা তৈরি করে। অনেকে এটিকে অ্যাসিডিটি বা গলার প্রদাহ ভেবে বাদ দেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

    ৫. স্থায়ী শুকনো কাশি

    কোনো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি ছাড়াই টানা শুকনো কাশি থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের আরেকটি লুকানো লক্ষণ। টিউমার শ্বাসনালির ওপর চাপ দিলে বা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে এ কাশি সৃষ্টি হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণগুলো যতই সূক্ষ্ম ও বিভ্রান্তিকর হোক, তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, সময়মতো পরীক্ষা করালে থাইরয়েড ক্যানসার খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, আর জীবনের ঝুঁকিও কমে যায় বহু গুণ।

    সূত্র : দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস

  • প্র’জ্ঞাপ’নের আগে ন’তুন পে স্কে’লের স’ম্ভাব্য বে’তন তালিকা

    প্র’জ্ঞাপ’নের আগে ন’তুন পে স্কে’লের স’ম্ভাব্য বে’তন তালিকা

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব উঠতে পারে। সেদিনই অনুমোদন মিললে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

    ফলে সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকেই এখন নজর সরকারি চাকরিজীবীদের। অনুমোদন হলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হবে।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই। ইতোমধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    যদিও মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে জানাতে রাজি হননি অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যে কোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে।

    ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ।

    সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

    বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা বলেন, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। দুই ধাপে তা বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।

    নতুন পে স্কেলে কার বেতন কত হতে পারে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশ না হওয়ায় গ্রেডভিত্তিক বেতনকে নিশ্চিত বেতন হিসেবে না দেখে প্রস্তাবিত/সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে যে গ্রেডভিত্তিক কাঠামো এসেছে, তাতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    গ্রেড প্রস্তাবিত মূল বেতন

    ১ম গ্রেড ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) ২য় গ্রেড ১,৩২,০০০-১,৫৩,০০০ টাকা ৩য় গ্রেড ১,১৩,০০০-১,৪৮,৮০০ টাকা ৪র্থ গ্রেড ১,০০,০০০-১,৪২,৪০০ টাকা ৫ম গ্রেড ৮৬,০০০-১,৩৯,৭০০ টাকা ৬ষ্ঠ গ্রেড ৭১,০০০-১,৩৪,০০০ টাকা ৭ম গ্রেড ৫৮,০০০-১,২৬,৮০০ টাকা ৮ম গ্রেড ৪৭,২০০-১,১৩,৭০০ টাকা ৯ম গ্রেড ৪৫,১০০-১,০৮,৮০০ টাকা ১০ম গ্রেড ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা ১১তম গ্রেড ২৫,০০০-৬০,৫০০ টাকা ১২তম গ্রেড ২৪,৩০০-৫৮,৭০০ টাকা ১৩তম গ্রেড ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা ১৪তম গ্রেড ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা ১৫তম গ্রেড ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা ১৬তম গ্রেড ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা ১৭তম গ্রেড ২১,৪০০-৫১,৯০০ টাকা ১৮তম গ্রেড ২১,০০০-৫০,৯০০ টাকা ১৯তম গ্রেড ২০,৫০০-৪৯,৬০০ টাকা ২০তম গ্রেড ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা

    এই তালিকাটি আগের কমিশন/সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের প্রস্তাবিত কাঠামোর ভিত্তিতে প্রকাশিত; সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আগে এটিকে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো বলা যাবে না।

    সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই বইয়ে ‘নবম পে–স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক উপশিরোনামে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

  • থা’ইর’য়েডের স’মস্যা হলে যেসব খা’বার খা’বেন, যেগুলো এ’ড়িয়ে চলবেন

    থা’ইর’য়েডের স’মস্যা হলে যেসব খা’বার খা’বেন, যেগুলো এ’ড়িয়ে চলবেন

    থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা প্রজাপতির মতো ছোট একটি গ্রন্থি। শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে। থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি হরমোন তৈরি করলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

    থাইরয়েডের সমস্যায় ওজনের পরিবর্তন, ক্লান্তি, ঠান্ডা বা গরম বেশি লাগা, বুক ধড়ফড়, ঘুমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু খাবারের মাধ্যমে থাইরয়েডের চিকিৎসা সম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

    যেসব খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়

    আয়োডিনযুক্ত খাবার:
    থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন প্রয়োজন। আয়োডিনযুক্ত লবণ, মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম ও দুধ আয়োডিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়।

    সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:
    থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সেলেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, ডিম, মাংস, দুধ ও দুধজাত খাবার থেকে এটি পাওয়া যায়।

    জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার:
    থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে জিঙ্কও প্রয়োজন। মাংস, ডিম, বাদাম ও কুমড়ার বীজ জিঙ্কের উৎস।

    ফল ও সবজি:
    বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি নিয়মিত খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। পেয়ারা, আমলকি, লেবু, কমলা ও কাঁচামরিচের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

    এ ছাড়া পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবারসহ বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা ভালো।

    কোন খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

    থাইরয়েডের সমস্যা হলেই বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক বা সয়াবিন পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন নয়। এসব খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে খাওয়া যায়। বিশেষ করে রান্না করা ক্রুসিফেরাস সবজি অধিকাংশ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করে না।

    তবে হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ লেভোথাইরক্সিন গ্রহণের ক্ষেত্রে খাবারের সময়ের ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ওষুধটি খালি পেটে খেতে বলা হয় এবং ক্যালসিয়াম বা আয়রনযুক্ত খাবার/সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যবধান রাখতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

    এ ছাড়া ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলা ভালো।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয়

    থাইরয়েডের সমস্যা শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। হাইপোথাইরয়েডিজমে অনেকের নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হয়, আর হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।

    তাই থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী TSH, T4সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

  • ফা’স্ট চা’র্জিংয়ে কি ন’ষ্ট হচ্ছে ফো’নের ব্যা’টারি, জানুন আ’সল স’ত্য

    ফা’স্ট চা’র্জিংয়ে কি ন’ষ্ট হচ্ছে ফো’নের ব্যা’টারি, জানুন আ’সল স’ত্য

    মাত্র কয়েক মিনিট চার্জ দিলেই ফোনের ব্যাটারি অনেকটা ভরে যাচ্ছে। ৩০, ৬৫, এমনকি ১০০ ওয়াটের বেশি ক্ষমতার ফাস্ট চার্জিং এখন অনেক স্মার্টফোনেই মিলছে। কিন্তু দ্রুত চার্জ হওয়ার এই সুবিধার আড়ালে কি ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে ব্যাটারি? নাকি ফাস্ট চার্জিং নিয়ে আমাদের ভয়টাই অযৌক্তিক? বিষয়টি নিয়ে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    ফাস্ট চার্জিং কি সত্যিই ক্ষতিকর?

    সরাসরি বললে, শুধু ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করলেই ফোনের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়।

    তবে দ্রুত চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারিতে তুলনামূলক বেশি তাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ আসল সমস্যা ফাস্ট চার্জিংয়ের গতি নয়, বরং চার্জিংয়ের সময় ফোন কতটা গরম হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন সময়ের সঙ্গে কমে ব্যাটারির ক্ষমতা?

    বেশির ভাগ আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি।

    চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারির ভেতরে থাকা লিথিয়াম আয়ন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে স্থানান্তরিত হয়। ফোন ব্যবহারের সময় আবার সেই প্রক্রিয়া উল্টো দিকে ঘটে এবং ব্যাটারি থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করা হয়। এই চার্জ ও ডিসচার্জ প্রক্রিয়ায় কিছুটা তাপ উৎপন্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে ফাস্ট চার্জিংয়ের ক্ষেত্রে অল্প সময়ে বেশি শক্তি ব্যাটারিতে প্রবেশ করে।ফলে তাপমাত্রাও তুলনামূলক দ্রুত বাড়তে পারে।

    যদি ফোন নিয়মিত দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম থাকে, তাহলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ে ব্যাটারির সর্বোচ্চ চার্জ ধারণক্ষমতার ওপর। ফলে একসময় দেখা যায়, আগের মতো দীর্ঘক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে পারছে না ফোন।

    আধুনিক ফোনে কতটা নিরাপদ ফাস্ট চার্জিং?

    এখানেই স্বস্তির খবর রয়েছে।

    বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনগুলোতে চার্জিং ব্যবস্থায় একাধিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তাপমাত্রা, ভোল্টেজ এবং চার্জিংয়ের গতি নিয়ন্ত্রণে ফোনের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে।

    চার্জ দেওয়ার সময় ফোনের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অনেক ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দেয়। এতে ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব হয়। তাই ফোনের জন্য উপযুক্ত এবং নির্মাতার অনুমোদিত চার্জার ও কেবল ব্যবহার করলে ফাস্ট চার্জিং সাধারণত নিরাপদ বলেই ধরা হয়।

    চার্জ দেওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

    ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখতে কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস বেশ গুরুত্বপূর্ণ-

    ১। রোদে বা অতিরিক্ত গরম জায়গায় ফোন চার্জে দেবেন না।
    ২। বালিশ, কম্বল বা তাপ বের হওয়ার সুযোগ নেই- এমন জায়গায় ফোন রেখে চার্জ দেওয়া এড়িয়ে চলুন।
    ৩। নিম্নমানের, নকল বা ফোনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ চার্জার ও কেবল ব্যবহার করবেন না।
    ৪। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন অস্বাভাবিক গরম হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখুন।
    ৫।  চার্জে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ভারী গেম খেলা বা অতিরিক্ত চাপের কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

    তাহলে কি নিশ্চিন্তে ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করবেন?

    ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার করতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ আধুনিক ফোনগুলো এই প্রযুক্তি মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অতিরিক্ত তাপ। সঠিক চার্জার ব্যবহার, ফোনকে ঠান্ডা পরিবেশে রাখা এবং চার্জ দেওয়ার সময় অপ্রয়োজনীয় ভারী ব্যবহার এড়িয়ে চললে ফাস্ট চার্জিং দৈনন্দিন ব্যবহারে সাধারণত নিরাপদ।

    সংক্ষেপে বলা যায়, ফাস্ট চার্জিং নয়, ফোনের অতিরিক্ত গরম হওয়াই ব্যাটারির জন্য বড় শত্রু। তাই দ্রুত চার্জের সুবিধা নিন, তবে খেয়াল রাখুন—চার্জ দিতে গিয়ে যেন ফোন অতিরিক্ত গরম না হয়ে যায়।

  • হ’ঠাৎ মা’থা ঘু’রছে কিংবা কা’ন ব’ন্ধ লাগছে, যেসব ল’ক্ষণ এ’ড়িয়ে গেলেই বি’পদ 

    হ’ঠাৎ মা’থা ঘু’রছে কিংবা কা’ন ব’ন্ধ লাগছে, যেসব ল’ক্ষণ এ’ড়িয়ে গেলেই বি’পদ 

    অনেক সময় দেখা যায় হঠাৎ মনে হলো চারপাশটা যেন ঘুরছে। দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে, কানটা বন্ধ বন্ধ লাগছে, ভোঁ ভোঁ শব্দ হচ্ছে। অনেকেই এমন পরিস্থিতিকে ক্লান্তি, দুর্বলতা, পানিশূন্যতা কিংবা না খেয়ে থাকার ফল বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু মাথা ঘোরার সঙ্গে যদি কানে চাপ বা বন্ধভাব, শব্দ শোনা কিংবা হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ যোগ হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কারণ শরীরের ভারসাম্য ও শ্রবণশক্তির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কানের ভেতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে কোনো সমস্যা হলে একই সঙ্গে মাথা ঘোরা এবং কানের নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট ডা. অনন্ত চিন্তাপল্লি বলেন, মাথা ঘোরা সাধারণভাবে না নেয়াই ভালো। মাথা ঘোরার সমস্যা হলেই সেটা ভার্টিগো নয়।

    মাথা ঘোরা আর ভার্টিগো এক নয়  


    মাথা ঘোরা বললেই যে ভার্টিগো, তা নয়। সাধারণ দুর্বলতা বা রক্তচাপ কমে গেলে অনেকের মনে হতে পারে মাথা হালকা হয়ে যাচ্ছে বা পড়ে যাবেন। অন্যদিকে ভার্টিগোতে সাধারণত মনে হয় নিজে কিংবা আশপাশের ঘর, দেয়াল বা সবকিছু ঘুরছে। কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ শরীরের নড়াচড়া ও অবস্থান সম্পর্কে মস্তিষ্ককে তথ্য পাঠায়। একই কানের ভেতরেই রয়েছে ককলিয়া, যা শ্রবণশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যার কারণে কানের ভেতরের কোনো সমস্যায় ভারসাম্য ও শ্রবণ দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

    যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন ডেফনেস অ্যান্ড আদার কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারসের তথ্য অনুযায়ী, ভারসাম্যজনিত সমস্যায় ভার্টিগো, বমি বমি ভাব, দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে অসুবিধার মতো উপসর্গ হতে পারে।

    কান বন্ধ এবং মাথ ঘোরা 

    ভার্টিগোর সঙ্গে কানে অস্বস্তি বা শ্রবণশক্তির পরিবর্তন হলে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। কানে চাপ অনুভূত হওয়া, বন্ধ বন্ধ লাগা, ভোঁ ভোঁ শব্দ বা টিনিটাস, শব্দ অস্পষ্ট শোনা কিংবা কখনও বেশি আবার কখনও কম শোনা এসব কানের ভেতরের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো মেনিয়ার রোগ। এই রোগে বারবার ভার্টিগোর আক্রমণের পাশাপাশি কানে শব্দ হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং কানে চাপ অনুভূত হতে পারে। ডা. অনন্ত চিন্তাপল্লি বলেন, বারবার মাথা ঘোরার উপসর্গের সঙ্গে কানে ভারি লাগা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ এবং শ্রবণশক্তির ওঠানামার কথা মনে এলে মেনিয়ার ডিজিজের কথা মনে আসে। তবে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই যে মেনিয়ের রোগ হয়েছে, তা নয়।

    মাথা ঘোরার কারণ 

    মাথা ঘোরার পেছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ। যেমন কানের ভেতরে প্রদাহ হলে ল্যাবিরিন্থাইটিস নামের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে মাথা ঘোরা এবং শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো উপসর্গ হতে পারে। আবার ভেস্টিবুলার মাইগ্রেন থেকেও ভার্টিগো হতে পারে। এ ছাড়া কানের ভেতরের কিছু সমস্যাতেও চাপ বা বন্ধভাব অনুভূত হতে পারে। তাই বারবার মাথা ঘোরার ওষুধ খেলেই সমস্যার সমাধান হয় না। কেন মাথা ঘুরছে, সেটি খুঁজে বের করাও জরুরি। 

    হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে গেলে   

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেতগুলোর একটি হলো হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, বিশেষ করে এক কানে। কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে মাথা ঘোরা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ কিংবা কান বন্ধ লাগার অনুভূতিও থাকতে পারে। এ কারণে অনেকেই এটিকে কানের ময়লা জমা, ঠান্ডা লাগা বা সাধারণ কানের সমস্যা ভেবে বসেন। কিন্তু হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নে য়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক কানে হঠাৎ শুনতে কমে গেলে বিষয়টি ফেলে রাখা উচিত নয়।

    মাথা ঘোরার পাশাপাশি কান বন্ধ হলে বসে না থেকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে উপসর্গ দেখে সঠিক পরামর্শ দেবেন। সব সমস্যা সাধারণ ভেবে বসে থাকলে বড় বিপদ হতে পারে। তাই সময় মত চিকিৎসা নিন।   

  • থা’ইর’য়েডে স’মস্যার ৯ ল’ক্ষণ জেনে নিন

    থা’ইর’য়েডে স’মস্যার ৯ ল’ক্ষণ জেনে নিন

    যখন থাইরয়েড খুব কম হরমোন তৈরি করে, তখন হাইপোথাইরয়েডিজম হয়। যখন এটি খুব বেশি তৈরি করে, তখন হাইপারথাইরয়েডিজম হতে পারে। উভয়ই দৈনন্দিন স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু এদের লক্ষণগুলোকে মানসিক চাপ, বার্ধক্য বা অন্যান্য সাধারণ সমস্যার লক্ষণ বলে ভুল করা সহজ। এখানে ১০টি লক্ষণ রয়েছে যা থেকে বোঝা যেতে পারে আপনার থাইরয়েড ঠিকমতো কাজ করছে না।

    ১. ব্যাখ্যাতীত ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস

    এন্ডোক্রাইন প্র্যাকটিস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, ওজনের আকস্মিক বা ব্যাখ্যাতীত পরিবর্তন থাইরয়েড-সম্পর্কিত সবচেয়ে লক্ষণীয় উপসর্গগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে। স্বল্প-সক্রিয় থাইরয়েড শরীরের বিপাক ক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতি-সক্রিয় থাইরয়েড এর বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে স্বাভাবিক বা বর্ধিত ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও ব্যাখ্যাতীত ওজন হ্রাস হতে পারে। ওজন পরিবর্তনের অনেক কারণ থাকতে পারে, তাই শুধুমাত্র ওজনের ওপর ভিত্তি করে থাইরয়েডের সমস্যা অনুমান করা উচিত নয়।

    ২. ক্রমাগত ক্লান্তি

    পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া সত্ত্বেও ক্লান্ত বোধ করা কখনও কখনও হাইপোথাইরয়েডিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম থাকলে শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ব্যক্তি নিস্তেজ এবং শক্তিহীন বোধ হতে পারে। কারও কারও মনোযোগের অভাব বা দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে অসুবিধাও লক্ষ্য করতে পারেন। অ্যানিমিয়া, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণেও ক্রমাগত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, তাই সঠিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩. অস্বাভাবিক ঠান্ডা বা গরম লাগা

    অন্য সবাই যখন আরামে থাকে, তখন কি আপনার কি বেশি ঠান্ডা লাগে? ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি সাধারণ লক্ষণ, কারণ এতে শরীরের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং কম তাপ উৎপন্ন হয়। যাদের থাইরয়েড অতিসক্রিয়, তারা এর পরিবর্তে অস্বাভাবিক গরম অনুভব করতে পারেন বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘামতে পারেন, এমনকী যখন চারপাশের তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকে। তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতার ক্রমাগত পরিবর্তন ঘটলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

    ৪. হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন

    হার্ট রিদম জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, থাইরয়েড হরমোন হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করে। অতি সক্রিয় থাইরয়েড দ্রুত বা তীব্র হৃদস্পন্দনের কারণ হতে পারে, যার সঙ্গে কখনও কখনও বুক ধড়ফড় করা, উদ্বেগ বা ঘাম হতে পারে। স্বল্প সক্রিয় থাইরয়েড হৃদস্পন্দনের গতি কমিয়ে দিতে পারে। যদি আপনার ঘন ঘন বুক ধড়ফড় করে, ক্রমাগত অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত বা ধীর হৃদস্পন্দন হয়, মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ৫. চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা ঝরে পড়া

    চুলের পরিবর্তন কখনও কখনও আরেকটি ইঙ্গিত দিতে পারে। স্বল্প সক্রিয় বা অতি সক্রিয় থাইরয়েড চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্রকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে চুল পাতলা হয়ে যায় বা চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। কেউ কেউ তাদের ভ্রুতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন, বিশেষ করে বাইরের দিকের অংশগুলো পাতলা হয়ে যেতে পারে। তবে পুষ্টির অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার কারণেও চুল ঝরে যেতে পারে।

    ৬. শুষ্ক ত্বক বা ঘামের পরিবর্তন

    থাইরয়েড হরমোন ত্বক এবং এর আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হয়ে যেতে পারে এবং তাদের ঘাম স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে এর বিপরীত প্রভাব দেখা যায়, যেখানে ঘাম বেড়ে যায় এবং ত্বক উষ্ণতর ও কখনও কখনও বেশি আর্দ্র হয়। থাইরয়েডের অন্যান্য উপসর্গের পাশাপাশি আপনার ত্বকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে, সেটিকে শুধুমাত্র একটি বাহ্যিক সমস্যা হিসেবে না দেখে মূল্যায়ন করা উচিত।

    ৭. কোষ্ঠকাঠিন্য বা ঘন ঘন মলত্যাগ

    ফ্রন্টিয়ার্স ইন ফিজিওলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, থাইরয়েড হজম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খাবার দ্রুত চলাচলকে প্রভাবিত করে। আন্ডারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েডের ক্ষেত্রে, মলত্যাগ কম ঘন ঘন হতে পারে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। ওভারঅ্যাক্টিভ থাইরয়েড হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং এর ফলে ঘন ঘন মলত্যাগ বা ডায়রিয়া হতে পারে। হজম সংক্রান্ত সমস্যার অন্যান্য কারণও থাকতে পারে, কিন্তু ওজন বা শক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে হঠাৎ কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

    ৮. মেজাজ এবং মনোযোগে পরিবর্তন

    থাইরয়েডের সমস্যা শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলে না। হাইপোথাইরয়েডিজমের সঙ্গে মনমরা ভাব, মনোযোগের অভাব, ধীর চিন্তা এবং অনুপ্রেরণা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজমের কারণে উদ্বেগ, খিটখিটে মেজাজ, অস্থিরতা এবং ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এই লক্ষণগুলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক চাপ এবং ঘুমের ব্যাধিতেও দেখা যায়। তবে যদি ওজন পরিবর্তন, বুক ধড়ফড় করা বা তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীলতার মতো শারীরিক লক্ষণের পাশাপাশি মেজাজের পরিবর্তনও ঘটে, তাহলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।

    ৯. মাসিক চক্রে পরিবর্তন

    থাইরয়েড হরমোন প্রজননতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাই থাইরয়েডের সমস্যা মাসিকের ধরণকে প্রভাবিত করতে পারে। স্বল্প-সক্রিয় থাইরয়েডের কারণে মাসিকের সময় রক্তপাত বেশি বা ঘন ঘন হতে পারে, অন্যদিকে অতি-সক্রিয় থাইরয়েডের কারণে মাসিকের সময় রক্তপাত কম হতে পারে। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলেও কিছু মানুষের মাসিক চক্রে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

  • থা’ইর’য়েড কী, কেন হয়, প্র’তিকার যেভাবে

    থা’ইর’য়েড কী, কেন হয়, প্র’তিকার যেভাবে

    থাইরয়েড মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বেশ পরিচিত। নিচে থাইরয়েড সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

    ১. থাইরয়েড কী?
    থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো দেখতে একটি ছোট অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine Gland)। এই গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড হরমোন (টিথ্রি এবং টিফোর) নিসৃত হয়। এই হরমোনগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া (Metabolism), শক্তি উৎপাদন, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং শারীরিক বৃদ্ধিপথ নিয়ন্ত্রণ করে।

    থাইরয়েড গ্রন্থি যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে মূলত দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে:

    হাইপোথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি যখন পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীর ধীরগতির হয়ে যায়।

    হাইপারথাইরয়েডিজম: গ্রন্থি যখন অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া অতিরিক্ত দ্রুত হয়।

    ২. থাইরয়েড সমস্যা কেন হয়?
    থাইরয়েড হরমোনের তারতম্যের সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। এর মূল কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

    অটোইমিউন রোগ: শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত থাইরয়েড গ্রন্থিতে আক্রমণ করলে এই সমস্যা হয়। যেমন—হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য ‘হাশিমোটোস থাইরয়েডিটিস’ এবং হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য ‘গ্রেভস ডিজিজ’ দায়ী।

    আয়োডিনের ঘাটতি: শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে হরমোন তৈরি করতে পারে না এবং গ্রন্থি ফুলে গিয়ে গলগণ্ড (Goiter) হতে পারে।

    বংশগত কারণ: পরিবারে বাবা-মা বা নিকটাত্মীয়দের থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    গর্ভাবস্থা: গর্ভকালীন বা প্রসবের পরবর্তী সময়ে অনেক নারীর হরমোনে তারতম্যের কারণে থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    স্ট্রেস বা মানসিক চাপ: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ৩. প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা
    থাইরয়েডের সমস্যা একবার হলে সাধারণত সারাজীবন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। এর প্রধান প্রতিকার ও উপায়গুলো হলো:

    নিয়মিত ওষুধ সেবন: হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কৃত্রিম থাইরয়েড হরমোন (যেমন- লেভোথাইরক্সিন) খেতে হয়। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য হরমোন কমানোর ওষুধ বা প্রয়োজনে রেডিওআয়োডিন থেরাপি দেওয়া হয়।

    সুষম ও আয়োডিনযুক্ত খাবার: খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন (আয়োডিনযুক্ত লবণ) রাখা জরুরি। সামুদ্রিক মাছ, ডিম, শাকসবজি এবং ফলমূল নিয়মিত খাওয়া উচিত।

    খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা: হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরা বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি এবং সয়াবিন জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাবেন, কারণ এগুলো থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

    নিয়মিত পরীক্ষা (TSH Test): চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (যেমন- TSH, Free T3, Free T4) করে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা মনিটর করতে হবে।

    জীবনযাত্রার পরিবর্তন: নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

    সতর্কতা: থাইরয়েডের লক্ষণ দেখা দিলে (যেমন- হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, চুল পড়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা লাগা) অবশ্যই একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।

  • না জেনে শ’সা খা’চ্ছেন? নীরবে হচ্ছে মা’রাত্ম’ক ক্ষ’তি

    না জেনে শ’সা খা’চ্ছেন? নীরবে হচ্ছে মা’রাত্ম’ক ক্ষ’তি

    শসা সালাদ হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় এবং চাহিদা সম্পন্ন সবজি। অনেকেই দ্রুত ওজন কমানোর জন্য প্রায় সারাদিন ধরেই শসা খান। ফল হিসেবে শসা, সালাদে শসা, খাবারে শসা। কিন্তু এর অপকারিতা জানেন?

    শসায় ক্যালোরি ভীষণ কম থাকে। যারা ওজন কমাতে চান তারা নিয়মিত এই ফলটি খান। বলা ভালো তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শসা থাকেই। এছাড়া যেহেতু শসায় পানির মাত্রা বেশি সেহেতু এটা আমাদের ডিহাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। ফলে এই ফলটির একাধিক উপকারিতা আছে। শসার পুষ্টিগুণ কিছু কম নয়। ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার আছে এই ফলে প্রচুর পরিমাণে।

    অনেকেই ভাবেন শসা খেলে দ্রুত খাবার হজম হয়ে যায়। এটা আমাদের হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এমন চলতি ধারণা দেখা যায়। যার ফলে অনেকেই সারাদিন শসা খেতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। এই স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফলটি তখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    শসা কখন আর কেন স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ?
    ১. শসা যদি ঠিক করে কাটা না হয় তার মধ্যে থাকা টক্সিন থেকে যায়। এই কারণে অনেক সময় শসা তিতা লাগে। শসা তিতা হওয়ার প্রধান কারণ হল এর মধ্যে রয়েছে কিউকারবিটাসিন এবং টেট্রাসাইক্লিক ট্রাইটারপেনিওড। এই ক্ষতিকর রাসায়নিকগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই শসা খেতে গিয়ে যদি তেতো লাগে সেটা খাবেন না।

    ২. কিউকারবিটিন রয়েছে শসার মধ্যে। এটা মূত্রবর্ধক হিসেবে পরিচিত। ফলে শসা যদি বেশি খান তাহলে অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। ডিহাইড্রেশন হবে।

    ৩. শসা খেলে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে শসা কারণ এতে আছে পটাশিয়াম। কিন্তু আপনি যদি শসা বেশি মাত্রায় খান তাহলে হাইপারক্যালেমিয়ার মতো রোগ হতে পারে। তখন শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়ে গ্যাস, পেট ফোলা, ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

    ৪. শসা বেশি খাওয়া মানে শরীরে বেশি পানি প্রবেশ করা। আর শরীরে পানি যত বেশি থাকবে তত রক্তের পরিমাণ বেশি হবে। আর রক্তের পরিমাণ বেশি হওয়ার অর্থ হল রক্তনালীর উপর এবং হার্টের উপর চাপ সৃষ্টি হওয়া।

    ৫. এছাড়া আপনি যখন কোনও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন ভুগে থাকেন তাহলে শসা খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

  • চ’লতি স’প্তাহেই পে স্কে’লের গে’জেট? সর্বশেষ যা জানা গেল

    চ’লতি স’প্তাহেই পে স্কে’লের গে’জেট? সর্বশেষ যা জানা গেল

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট জারি করতে চায় সরকার।

    এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলার প্রস্তুতি চলছে। 

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তবে পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে বকেয়া অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে।

    জানা যায়, নবম পে স্কেলের গেজেট আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জারি হতে পারে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে। ওই দিন অনুমোদন মিললে পরবর্তী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির হার কত হবে, সে বিষয়ে জানা যায়নি।

    এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।

    গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

    নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

    জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

    গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

    বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ‘নবম পে-স্কেল: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর’ শীর্ষক অংশে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।