Blog

  • বিশ্বকাপ জিততে কোন রাউন্ডে কাকে মো’কাবি’লা করবে ব্রাজিল? দেখেনিন সমীকরণ

    বিশ্বকাপ জিততে কোন রাউন্ডে কাকে মো’কাবি’লা করবে ব্রাজিল? দেখেনিন সমীকরণ

    রেকর্ড পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে ব্রাজিল। কিন্তু তবে ২০০২ সালের পর আর ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরের সেই খরা কাটানোর মিশন এবার। উত্তর আমেরিকায় পা রাখা সেলেসাও শিবিরে তাই এবার এক নীরব আত্মবিশ্বাস।

    ১৯২৫ সালের পর প্রথম কোনো বিদেশি কোনো কোচকে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কার্লো আনচেলত্তির থলিতে আছে সবচেয়ে বেশি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের রেকর্ড। এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডই এখন ব্রাজিলের বড় ভরসা। মাঠের দুই প্রান্তেই এবার প্রতিভার ছড়াছড়ি। রক্ষণে যেমন শক্তি, আক্রমণেও তেমনি ধার। এর সাথে বাড়তি বোনাস হিসেবে যোগ হয়েছেন নেইমার জুনিয়র। দলের সেরা এই তারকাই হতে পারেন ট্রফি জয়ের মূল ট্রাম্পকার্ড। হেক্সা মিশন সফল করতে তার পায়ের জাদুই এখন ব্রাজিলের তুরুপের তাস।

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ গ্রুপ

    ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের এক হালকা স্মৃতি যেন ফিরিয়ে আনছে এবারের গ্রুপ ‌‘সি’। সেবারও একই গ্রুপে লড়েছিল এই তিন দল। সে আসরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ব্রাজিল। এরপর তাদের খেলতে হয়েছিল মরক্কো ও নরওয়ের বিপক্ষে।

    তবে এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মিশন শুরু হচ্ছে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। প্রথম পর্বের গ্রুপ ম্যাচগুলোর মধ্যে এই লড়াইটিকেই ধরা হচ্ছে অন্যতম সেরা আকর্ষণ।

    মরক্কো পরীক্ষার পর ব্রাজিলের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হাইতি। আর সবশেষে মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে সেলেসাওরা। ব্রাজিল অবশ্য চাইবে এই শেষ ম্যাচের আগেই যেন তাদের পরবর্তী পর্বের টিকিট পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

    বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ম্যাচের সময়সূচি

    তারিখপ্রতিপক্ষসময়ভেন্যু১৪ জুন (রোববার)মরক্কোভোর ৪:০০টামেটলাইফ স্টেডিয়াম, ইস্ট রাদারফোর্ড, নিউ জার্সি২০ জুন (শনিবার) হাইতিসকাল ৭:০০টালিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ড, ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভানিয়া২৫ জুন (বৃহস্পতিবার)স্কটল্যান্ডভোর ৪:০০টাহার্ড রক স্টেডিয়াম, মিয়ামি গার্ডেনস, ফ্লোরিডা

    রাউন্ড অব ৩২-এ ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা?

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ ব্রাজিলের সামনে পড়বে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দল। আর সেই পজিশনে নেদারল্যান্ডস, জাপান কিংবা সুইডেনের যেকোনো একটি দলের থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

    ২৯ জুনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে। এই দলগুলোর প্রত্যেকেই কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে।

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    তবে ব্রাজিল যদি কোনো কারণে গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে শেষ করে, তবে তাদের খেলতে হবে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। তাই এই গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে সেলেসাওদের। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে যদি হিসেব-নিকেশ একদমই ওলটপালট হয়ে যায় এবং ব্রাজিল তৃতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে ওঠে, তবে শুরুতেই তাদের পড়তে হবে কোনো গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সামনে। সে ক্ষেত্রে পর্তুগাল, জার্মানি কিংবা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামতে হতে পারে দলটিকে।

     

    রাউন্ড অব ১৬-এ ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যদি ব্রাজিল ‌‘রাউন্ড অব ১৬’-এ পৌঁছাতে পারে, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের খেলতে হতে পারে নরওয়ে, সেনেগাল কিংবা আইভরি কোস্টের বিপক্ষে। অবশ্যই তা নির্ভর করবে ওই দলগুলোর নিজ নিজ গ্রুপের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    অন্যদিকে, ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে পরের ধাপে আসে, তবে শেষ ১৬-র ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে স্বাগতিক কানাডার। অথবা চেক প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো কোনো দলের বিপক্ষেও মাঠে নামতে হতে পারে সেলেসাওদের।

    কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়, তবে তাদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ড। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের পর এই দুই দল আর মুখোমুখি হয়নি। সেই ম্যাচে রোনালদিনহোর বিখ্যাত লব ডেভিড সিম্যানকে পরাস্ত করেছিল এবং সেই একই ধাপে থ্রি লায়ন্সদের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টেনেছিল।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে, তবে ১৯৯৮ সালের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে ফ্রান্স।

     

    সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা সঙ্গে

     

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে:

     

    ব্রাজিল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে ফুটবলপ্রেমীরা পেতে পারেন এক চরম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। শেষ চারের সেই ব্লকবাস্টার ম্যাচে তাদের দেখা হয়ে যেতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সাথে। যদি এই দুই পরাশক্তি সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়, তবে আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সেই মহারণ।

    গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হলে:

     

    তবে ব্রাজিল যদি গ্রুপ রানার্স-আপ বা দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তবে বদলে যাবে পুরো দৃশ্যপট। সে ক্ষেত্রে ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে শেষ চারে তাদের জন্য অপেক্ষা করবে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট স্পেন।

     

    ফাইনাল

     

    আগামী ১৯ জুলাই ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের সেই কাঙ্ক্ষিত ফাইনাল ম্যাচটি। গ্রুপ পর্বে দলগুলোর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে শিরোপার লড়াইয়ে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে পারে জার্মানি বা স্পেন, এমনকি ফুটবলপ্রেমীরা দেখতে পারেন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মেগা ফাইনালও।

     

     

    গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন হলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সমীকরণ

    স্টেজগ্রুপপর্বরাউন্ড অব ৩২রাউন্ড অব ১৬কোয়ার্টারসেমিফাইনালপ্রতিপক্ষমরক্কো, নরওয়ে, স্কটল্যান্ডনেদারল্যান্ডস/জাপাননরওয়ে/সেনেগাল/আইভরি কোস্টইংল্যান্ডআর্জেন্টিনাস্পেন/জার্মানি

     

    গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন না হলে ব্রাজিলের সম্ভাব্য সমীকরণ

    স্টেজগ্রুপপর্বরাউন্ড অব ৩২রাউন্ড অব ১৬কোয়ার্টারসেমিফাইনালপ্রতিপক্ষমরক্কো, নরওয়ে, স্কটল্যান্ডপর্তুগাল/জার্মানি/ইংল্যান্ডচেক প্রজাতন্ত্র/দ.কোরিয়া/বসনিয়াফ্রান্সস্পেনআর্জেন্টিনা

     

    ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের স্কোয়াড

     

    গত ১৮ মে রিও ডি জেনিরোতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। আর সেদিন পুরো দল ঘোষণার আলো কেড়ে নেয় একটি বিশেষ নাম।

     

    প্রায় তিন বছর আগে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে এসিএল ইনজুরিতে পড়েছিলেন নেইমার। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে। কিন্তু ৩৪ বছর বয়সে এসেও নেইমার দলে ডাক পেয়েছেন।

     

    সান্তোসে ফেরার পর নেইমারের পারফর্ম্যান্স অবশ্য খুব একটা আহামরি ছিল না। ফিটনেস সমস্যার কারণে দুটি প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই মহাতারকাকে দলে নেওয়ার বড় ঝুঁকিটি তিনি নিয়েই নিলেন।

     

    ব্রাজিল দলে প্রতিভার ছড়াছড়ি। তাই অনেক চেনা মুখকে বাদও পড়তে হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে ৮টি আন্তর্জাতিক গোল নিয়ে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোরার রদ্রিগো ইনজুরির কারণে দলে নেই। বাদ পড়েছেন ৪১ বছর বয়সী থিয়াগো সিলভাও, যার ঝুলিতে আছে ১১৩টি ম্যাচ ও ৪টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা। চেলসি ত্রয়ী হোয়াও পেদ্রো, আন্দ্রে সান্তোস ও এস্তেভাও চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি, যার মধ্যে এস্তেভাও ছিটকে গেছেন ইনজুরির কারণে।

     

    বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে প্রস্তুতি ম্যাচ চলাকালীন আরেকটি ধাক্কা খায় দল। চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে যান রোমার ফুল-ব্যাক ওয়েসলি। তার জায়গায় দলে এসেছেন আতালান্তার মিডফিল্ডার এডারসন, যিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

     

    দল ঘোষণায় বেশ কিছু চমকও ছিল। গত মার্চে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বোর্নমাউথের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার রায়ান জায়গা করে নিয়েছেন মূল স্কোয়াডে। তার সাথে দলে আছেন ব্রেন্টফোর্ডের স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগো এবং আল-ইতিহাদের অভিজ্ঞ ফ্যাবিনিও।

     

    এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ৯ সদস্যের এই আক্রমণভাগটি যেকোনো দেশের চেয়ে সবচেয়ে দামি। দলে জায়গা পাওয়ার জন্য ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া, নেইমার, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, মাথেউস কুনিয়া, এনড্রিক, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে এবং রায়ানদের মধ্যে চলবে তীব্র লড়াই।

     

    কোচ আনচেলত্তির প্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৪। এই ছকে শুরুর একাদশে চারজন ফরোয়ার্ড একসাথে খেলার সুযোগ পাবেন। বাকিদের অপেক্ষা করতে হবে সাইড বেঞ্চে, ম্যাচে ইমপ্যাক্ট খেলোয়াড় হিসেবে নামার জন্য।

     

    ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

    গোলরক্ষকআলিসন, এদেরসন, ওয়েভারতনডিফেন্ডারআলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ইবানিয়েজ, লেও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস, ওয়েসলিমিডফিল্ডারব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো সান্তোস, ফাবিনিও, লুকাস পাকেতাফরোয়ার্ডএন্দ্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে, মাতেউস কুনিয়া, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিউস জুনিয়র

     

  • ব্রাজিল-মরক্কো পরিসংখ্যান: সবশেষ দেখায় কে জিতেছিল? দেখেনিন

    ব্রাজিল-মরক্কো পরিসংখ্যান: সবশেষ দেখায় কে জিতেছিল? দেখেনিন

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কোর মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ছয়ে, আর ধারাবাহিক উন্নতিতে থাকা মরক্কো সাত নম্বরে অবস্থান করছে। যদিও সবশেষ দেখায় মরক্কোর কাছে হেরেছিল সেলেসাওরা।

    এবার ফিফা বিশ্বকাপে রোববার (১৪ জুন) ভোর ৪টায় নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এ দুদলের লড়াই। গ্রুপপর্বের শুরুতেই এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দুই দলের জন্যই হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস গড়ার বড় সুযোগ, আবার চাপেরও বড় পরীক্ষা।  

     

    মরক্কোর ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তন ও উন্নতি দেখা গেছে, তা বিশ্ব ফুটবলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তাদের এখন ‘আফ্রিকার নতুন ব্রাজিল’ বলেও সম্বোধন করছে। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয় মরক্কোর জন্য। এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল তিনবার মুখোমুখি হয়েছে—একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচসহ দুটি প্রীতি ম্যাচে। ইতিহাস বলছে, লড়াইটা বরাবরই সমান তীব্র, যেখানে ব্রাজিল দুবার জয় পেয়েছে, আর মরক্কো একবার ম্যাচ জিতে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে।

     

    প্রথমবার ব্রাজিল ও মরক্কোর দেখা হয় প্রায় তিন দশক আগে। সময়টা ছিল ১৯৯৭ সালের অক্টোবর। বেলেমে একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুই দল। সেদিন শেষ মুহূর্তের ঝাঁজে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল; মারিও জাগালোর দল ১০ মিনিট বাকি থাকতে দেনিলসনের গোলের সৌজন্যে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।

     

     

    এর প্রায় এক বছর পর আবারও মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তবে এবার দৃশ্যপট ছিল আরও বড়—বিশ্বকাপের মঞ্চ। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গ্রুপ পর্বে বোর্দোতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। সেটিই আজ পর্যন্ত ব্রাজিল ও মরক্কোর একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক লড়াই হিসেবে রয়ে গেছে।

     

    প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের হাতেই। সেই সময়ই গোলের সূচনা করেন আইকনিক স্ট্রাইকার রোনালদো। এরপর রিভালদো ও বেবেতোর আঘাতে পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা। সেই আসরেই ব্রাজিল ফাইনালে পৌঁছালেও শেষ হাসি হাসে স্বাগতিক ফ্রান্স, শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যায় সেখানেই।

     

     

    প্রায় ২৫ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর মরক্কো নেয় সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ! ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ টাঙ্গিয়ারে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা—সোফিয়ানে বউফালের গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরান মিডফিল্ডার কাসেমিরো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয় মোড়ে ৭৯তম মিনিটে আবদেলহামিদ সাবিরির গোল মরক্কোকে এনে দেয় ২-১ ব্যবধানের স্মরণীয় জয়।

  • বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ব্রাজিল, কখন ও কোথায় দেখবেন, জেনে নিন

    বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে ব্রাজিল, কখন ও কোথায় দেখবেন, জেনে নিন

    অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে মরক্কো জাতীয় ফুটবল দল-এর।

    বাংলাদেশ সময় আগামীকাল রোববার ভোর ৪টায় শুরু হবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), সময় টিভি এবং টি স্পোর্টস চ্যানেলে।

    ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝেই অন্য ম্যাচগুলোও সমানভাবে নজর কাড়ছে দর্শকদের। এর আগে দিনের শুরুতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে।

    এছাড়া রাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হবে কাতার জাতীয় ফুটবল দল এবং সুইজারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

    দিনভর চলমান এই ফুটবল উত্তেজনায় দর্শকদের জন্য টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ম্যাচ দেখার সুযোগ থাকছে। ফুটবলপ্রেমীরা এক নজরে দেখে নিতে পারেন আজকের পূর্ণ সূচি—

    ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচসূচি:

    কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড — রাত ১টা (সরাসরি)

    ব্রাজিল বনাম মরক্কো — ভোর ৪টা (সরাসরি)

    সম্প্রচার মাধ্যম: বিটিভি, সময় টিভি, টি স্পোর্টস

    বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ম্যাচকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ম্যাচ ঘিরে আলোচনা চলছে ব্যাপকভাবে।

    অন্যদিকে, দিনের আরও খেলাগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। একই টুর্নামেন্টে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

    ক্রিকেটে আরও একটি আকর্ষণীয় ম্যাচে ভারত মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে, যা শুরু হবে বেলা ২টায় এবং সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস ২।

    সব মিলিয়ে আজকের দিনটি খেলাধুলাপ্রেমীদের জন্য একেবারে উৎসবমুখর। ফুটবল ও ক্রিকেট—দুই ক্ষেত্রেই থাকছে টানটান উত্তেজনা, আর নজর থাকবে বিশেষ করে ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচের দিকে।

  • বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি

    বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে গোলের ক্ষেত্রে অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মূল ম্যাচে (নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে তার গোলসংখ্যা ৪টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

    এই রেকর্ডে মেসির সঙ্গে আছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বিশ্বকাপের মূল খেলায় কোনো ফুটবলারই পেনাল্টি থেকে ৪টির বেশি গোল করতে পারেননি।

    বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মেসির চারটি পেনাল্টি গোলই এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। ওই টুর্নামেন্টে তিনি সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করেন।

    ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মূল ম্যাচে মেসি মোট ৬টি পেনাল্টি নিয়েছেন।

    সামগ্রিকভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলসংখ্যাতেও তিনি অন্যতম শীর্ষ স্কোরার। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তার গোলসংখ্যা ১৩। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৪টি, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৭টি, ২০০৬ ও ২০১৮ সালে ১টি করে গোল করেন তিনি। শুধু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে গোল পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

  • ব্রা’জিলকে নিয়ে বি’স্ফো’রক মন্তব্য মার্টিনেজের

    ব্রা’জিলকে নিয়ে বি’স্ফো’রক মন্তব্য মার্টিনেজের

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আলোচনায় আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত এই ‘কাতার বিশ্বকাপ নায়ক’ এবার মাঠের বাইরেই করলেন চমকপ্রদ ভবিষ্যদ্বাণী—তার মতে, এবারও বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা, আর ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল।

    সম্প্রতি ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার এক স্পন্সর ইভেন্টে অংশ নিয়ে পুরো টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য নকআউট চিত্র এঁকে দেন ৩৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

    মার্টিনেজের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। তার মতে, ম্যাচটি গড়াবে টাইব্রেকারে এবং সেখানেই শিরোপা ধরে রাখবে লিওনেল মেসির দল।

    উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগেও আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের বিষয়ে একই ধরনের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছিলেন মার্টিনেজ, যা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়।

    তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং মেক্সিকো।

    তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো স্পেনের অনুপস্থিতি। অনেক বিশ্লেষকের শিরোপা প্রত্যাশী তালিকায় থাকা এই দলটিকে শেষ ষোলোতেই আর্জেন্টিনার কাছে বিদায় নিতে হবে বলে মনে করেন মার্টিনেজ।

    সম্ভাব্য নকআউট চিত্র

    ফ্রান্স হারাবে নরওয়েকে
    ব্রাজিল হারাবে জাপানকে
    জার্মানি জয় পাবে তুরস্কের বিপক্ষে
    নেদারল্যান্ডস হারাবে যুক্তরাষ্ট্রকে
    মেক্সিকো হারাবে দক্ষিণ কোরিয়াকে
    ইংল্যান্ড হারাবে কলম্বিয়াকে

    এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা হারাবে ফ্রান্সকে, ব্রাজিল হারাবে মেক্সিকোকে, জার্মানি জয় পাবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ইংল্যান্ডকে বিদায় করবে কলম্বিয়া।

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারাবে বলে ধারণা দিয়েছেন মার্টিনেজ, অন্যদিকে ব্রাজিল হারাবে জার্মানিকে।

    সবশেষে তার ভবিষ্যদ্বাণী—২০২১ কোপা আমেরিকার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা।

    বিতর্ক ও আলোচনায় ভবিষ্যদ্বাণী

    মার্টিনেজের এই পূর্বাভাস ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের আগেও তার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য বাস্তবে পরিণত হওয়ায় এবারও ভক্তদের একাংশ এই ভবিষ্যদ্বাণীকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    তবে বাস্তবতা কী হবে, তার উত্তর দেবে মাঠের ফুটবলই—সময়ই তা নির্ধারণ করবে।

  • ফুটবল ভক্তদের বিশ্বকাপের এই পাঁচ ম্যাচ দেখতেই হবে, দেখে নিন কোন কোন ম্যাচগুলো

    ফুটবল ভক্তদের বিশ্বকাপের এই পাঁচ ম্যাচ দেখতেই হবে, দেখে নিন কোন কোন ম্যাচগুলো

    বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ঠাসা সূচি। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়ানো এবারের আসরে ম্যাচ সংখ্যাও বাড়ছে আগের চেয়ে। গ্রুপপর্বেই অনুষ্ঠিত হবে ৭২টি ম্যাচ। এত সংখ্যক ম্যাচের ভিড়ে কিছু ম্যাচ শুরু থেকেই আলাদা করে নজর কাড়ছে।

    দলগুলোর শক্তিমত্তা, তারকা খেলোয়াড় ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় গ্রুপ পর্বের পাঁচটি ম্যাচকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের তেমন পাঁচটি ম্যাচ বাছাই করেছে।  

    ব্রাজিল–মরক্কো: শুরুতেই কঠিন পরীক্ষা

    আগামী ১৪ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন যাত্রা শুরু করা ব্রাজিলের আক্রমণভাগের বড় ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

    অন্যদিকে আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তি মরক্কো এবারও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের নিয়ে গড়া দলটি ব্রাজিলের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।

    নেদারল্যান্ডস–জাপান : এশিয়ার সেরা বনাম ইউরোপের শক্তি

    ১৪ জুন ডালাসে হবে ‘এফ’ গ্রুপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ। বিশ্বকাপে এখনও শিরোপার দেখা না পাওয়া নেদারল্যান্ডসের সামনে থাকবে জাপানের কঠিন পরীক্ষা। কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল জাপান। এবারও সামুরাই ব্লুরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে থাকবে।

    ফ্রান্স–সেনেগাল: ২৪ বছর পর সেই পুনর্মিলন

    ১৬ জুন নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল।

    দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার দেখা হচ্ছে দুই দলের। ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে পরিচিত গ্রুপ ‘আই’-এ এই ম্যাচের ফলই হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে গ্রুপসেরা কারা হচ্ছে।

    ইংল্যান্ড–ক্রোয়েশিয়া: সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি

    ১৭ জুন ডালাসে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়াটরা।

    থমাস টুখেলের অধীনে প্রথম বড় টুর্নামেন্ট খেলতে নামা ইংল্যান্ডের জন্য এটি হবে বড় পরীক্ষা। গ্রুপ ‘এল’-এ শীর্ষস্থান নির্ধারণেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কলম্বিয়া–পর্তুগাল: গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে দামি ম্যাচ

    ২৭ জুন মায়ামিতে হবে গ্রুপ ‘কে’-এর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ লড়াই। লুইস দিয়াজ ও হামেস রদ্রিগেজের কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

    ম্যাচটির টিকিট ইতোমধ্যে পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। পুনর্বিক্রয় বাজারে একটি টিকিটের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ডলারের মধ্যে উঠেছে, যা এটিকে গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ম্যাচে পরিণত করেছে।

     

  • গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভ’বিষ্য’দ্বাণী সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারের বি’জয়ী দলের নাম

    গত তিন বিশ্বকাপে সঠিক ভ’বিষ্য’দ্বাণী সেই অর্থনীতিবিদ জানালেন এবারের বি’জয়ী দলের নাম

    টানা তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপে সঠিক পূর্বাভাস দিয়ে আলোচনায় আসা জার্মান অর্থনীতিবিদ এবারও নতুন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দল।

    এই পূর্বাভাস দিয়েছেন প্যানমিউর লিবারিয়াম ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট, যিনি ২০১৪ সালে পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি মডেল তৈরি করেছিলেন মূলত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    কিন্তু তার সেই মডেল পরে বাস্তবে বিস্ময়করভাবে সফল হয়—
    ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল, ২০১৮ সালে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্ট বলেন, শুরুটা ছিল ব্যঙ্গাত্মক, কিন্তু টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফল মিলে যাওয়াটা ছিল অপ্রত্যাশিত।

    কীভাবে কাজ করে তার মডেল

    তার বিশ্লেষণ মডেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ব্যবহার করা হয়—

    জনসংখ্যা ও খেলোয়াড় তৈরির সক্ষমতা
    ফুটবলের জনপ্রিয়তা
    গড় আবহাওয়া (প্রায় ১৪°C আদর্শ ধরা হয়)
    মাথাপিছু জিডিপি
    ফিফা র‍্যাঙ্কিং ও সাম্প্রতিক ফর্ম

    তার মতে, এসব ফ্যাক্টর দলগুলোর পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলে।

    কেন এবার এগিয়ে নেদারল্যান্ডস

    মডেল অনুযায়ী নেদারল্যান্ডস কয়েকটি কারণে এগিয়ে রয়েছে—
    জনসংখ্যা, শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি, তুলনামূলক উচ্চ মাথাপিছু আয় এবং সাম্প্রতিক ভালো ফর্ম।

    তার বিশ্লেষণে সম্ভাব্য ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকতে পারে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল।

    তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ভাগ্যের ভূমিকা অনেক বড়—তার হিসাবে প্রায় ৪৫ শতাংশ ফলাফলই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর।

  • বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই নতুন রেকর্ড গড়লেন মেসি

    বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই নতুন রেকর্ড গড়লেন মেসি

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে, শুরু হয়েছে মাঠের লড়াই। তবে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ফুটবল ইতিহাসে যোগ করেছেন আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে গোল করে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে আইসল্যান্ডকে হারায়। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে মেসির নতুন এই অর্জন।

    সামান্য হ্যামস্ট্রিং সমস্যার কারণে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাকে শুরুর একাদশে রাখেননি। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৯তম মিনিটে মাঠে নামার পর প্রায় ৮৮ হাজার দর্শকের করতালিতে সাড়া দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই তার উপস্থিতিতে আক্রমণে গতি ফিরে পায় দল। মেসির নিখুঁত পাস থেকে তৈরি হওয়া এক আক্রমণে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন লাউতারো মার্তিনেজ। এরপর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন মেসি।

    এই গোলের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রায় সাত দশক পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেন মেসি। 

    এর আগে এই রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি স্ট্রাইকার আনহেল আমাদেও লাব্রুনার দখলে। তিনি ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে রোকা কাপে গোল করেছিলেন ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন বয়সে। দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড অবশেষে ভাঙলেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক।

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি ছিল মেসির ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি আগেই শীর্ষে ছিলেন, এবার সেই ব্যবধান আরও বাড়ালেন। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার গোলসংখ্যা ৫৫, অর্থাৎ তার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গোল এখন মেসির ঝুলিতে।

    এছাড়া ম্যাচটি ছিল মেসির ১৯৯তম আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামলেই তিনি দেশের হয়ে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার বিরল মাইলফলক স্পর্শ করবেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডও তার নাগালের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে সেই কীর্তিটি ধরে রেখেছেন মার্টিন পালের্মো, যিনি ২০১০ বিশ্বকাপে এই রেকর্ড গড়েছিলেন।

    আগামী ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। সেই ম্যাচে সমর্থকদের দৃষ্টি থাকবে মেসির দিকে- আরও কোনো নতুন রেকর্ড তার পায়ে লেখা হয় কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

  • শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন

    শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন

    শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন রক্ষণভাগের তারকা লিওনার্দো বালেরদি। তার জায়গায় যোগ দিচ্ছেন মার্কোস সেনেসি।

    বৃহস্পতিবার (১২ জুন) আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এএফএ বলছে, বালেরদির ডান পায়ের পেশিতে গুরুতর চোট পেয়েছে। ওই চোট তাকে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিয়েছে।

    কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলোয়াড়দের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত সেনেসিকেই বেছে নেন। তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্কোয়াডে পরিবর্তন আসতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হলো।

    নতুন করে দলে যুক্ত হওয়া সেনেসি এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে। দলটি তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ১৬ জুন।

    আর্জেন্টিনা আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

  • বিশ্বকাপের আগে কো’থায় নেইমার, মরক্কো ম্যাচে কি খে’লবেন? জেনে নিন

    বিশ্বকাপের আগে কো’থায় নেইমার, মরক্কো ম্যাচে কি খে’লবেন? জেনে নিন

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত ১টায় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’— এর ২৩তম আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হবে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের মহোৎসব।

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। তবে মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর এই অন্তিম মুহূর্তেও সেলেসাও শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কোথায় নেইমার জুনিয়র? সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তার না খেলার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত ছিল, যার কারণে দলের সঙ্গে ওহিয়ো’র ক্লিভল্যান্ডেও যাননি তিনি। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে এখনো জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেননি ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।

    এদিকে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ে ইতি টেনে ২৪ বছর পর ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে দলটির ডাগআউটে বসেছেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গতকাল বুধবার (১০ জুন) খেলোয়াড়দের কাছ থেকে বিশেষ সম্মান পেয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। ক্যাম্পের ভেতর ‘গার্ড অব অনারের’ আদলে বেশ সংযত ও আনন্দঘন পরিবেশে আনচেলত্তির ৬৭তম জন্মদিন পালন করেছে ব্রাজিলের ফুটবলাররা।

    বিনয় ও মজার সুরে বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া বলছেন, ‘তিনি (কোচ) নিরাপদে এই জায়গা পার হয়েছেন, কেউ তাকে স্পর্শ করিনি।’ কোচের জন্মদিনেও কেন নেইমার ছিলেন না তা নিয়ে অবশ্য কথা বলেননি সতীর্থ বা দলের কোচিং স্টাফের কেউই। 

    গত মে মাসের মাঝামাঝিতে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় মাংসপেশির ‘গ্রেড টু’ ইনজুরিতে পড়েন নেইমার। বিশ্বকাপ শুরুর আগে তিনি সেরে উঠবেন—এমন আশাবাদ থেকেই তাকে স্কোয়াডে রেখেছিলেন আনচেলত্তি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এখনো অনুশীলনে যোগ না দেওয়ায় আগামী ১৪ জুন নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি মিস করতে পারেন নেইমার। শুধু প্রথম ম্যাচই নয়, গ্রুপ পর্বে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলোতেও এই তারকা ফরোয়ার্ড কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।

    নেইমারকে টুর্নামেন্টের শুরুতে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকলেও ব্রাজিলের স্কোয়াড নিয়ে বেশ আশাবাদী দেশটির সাবেক তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য এবং বর্তমান ইএসপিএনের ক্রীড়া বিশ্লেষক জিনহো বলেন, ‘ব্রাজিল হয়তো কাগজের কলমে শীর্ষ ফেভারিট নয়, তবে তাদের খুব ভালো কিছু খেলোয়াড় আছে যারা একসঙ্গে দারুণ একটি দল হয়ে উঠতে পারে। আমার মতে ব্রাজিলের এবার ভালো সুযোগ আছে।’

    একই সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের জনপ্রিয় রেডিও ধারাভাষ্যকার বেঞ্জামিন ব্যাকও। আনচেলত্তির কৌশলের ওপর ভরসা রেখে তিনি বলেন, ‘তার অধীনে এমন এক দল আছে, যাদের রক্ষণ থাকবে প্রতিপক্ষের কার্যকলাপ অনুযায়ী এবং বল পেলেই দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করবে। এটি তরুণ একটি দল, যাদের শারীরিক অবস্থা ভালো এবং একজন দুর্দান্ত কোচ আছেন। আমি ব্রাজিলকে ফেভারিটদের তালিকায় রাখব।’

    এখন দেখার বিষয়, নেইমারবিহীন ব্রাজিল আনচেলত্তির অধীনে মরক্কো বধ দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের হেক্সা মিশন সফলভাবে শুরু করতে পারে কি না।