Blog

  • জি’রা পা’নি নিয়মিত পা’ন করলে যেসব উ’পকার পেতে পারেন, জেনে নিন

    জি’রা পা’নি নিয়মিত পা’ন করলে যেসব উ’পকার পেতে পারেন, জেনে নিন

    বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স ড্রিংক বেশ জনপ্রিয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওজন কমানো থেকে শুরু করে হজমশক্তি ভালো রাখা পর্যন্ত নানা উপকারের কথা বলা হয় এসব পানীয় নিয়ে। তবে সব দাবির পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এর মধ্যে সহজলভ্য একটি পানীয় হলো জিরা পানি।

    রান্নার মসলা হিসেবে জিরার ব্যবহার বহু পুরোনো। এতে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ যৌগের কারণে জিরা স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। জিরা ভিজিয়ে তৈরি পানি নিয়মিত খাওয়ারও কিছু সম্ভাব্য উপকার রয়েছে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়।

    যেভাবে তৈরি করবেন জিরা পানি

    জিরা পানি তৈরি করা বেশ সহজ। রাতে এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জিরা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। সকালে ছেঁকে সেই পানি পান করা যায়। চাইলে জিরা হালকা ভেজে পানিতে ফুটিয়েও খেতে পারেন।

  • প্রতিদিন ২ কো’য়া কাঁ’চা র’সুন খে’লে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    প্রতিদিন ২ কো’য়া কাঁ’চা র’সুন খে’লে মি’লতে পারে যেসব উ’পকার

    রান্নাঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদান রসুন শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর কাজই করে না, বরং প্রাচীনকাল থেকেই এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২ কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন, সালফার যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। পাশাপাশি এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে রসুনের অবদানও উল্লেখযোগ্য। এছাড়া কিছু গবেষণায় পাকস্থলী ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারসহ কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত রসুন খাওয়া সবার জন্য উপযোগী নয়। যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার, রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা রয়েছে বা যারা নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রসুন খাওয়া উচিত। সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত রসুন গ্রহণ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি কার্যকর অংশ হতে পারে।

  • খালি পে’টে ক’লা খে’লে কী হয়? জেনে নিন এক্ষুনি

    খালি পে’টে ক’লা খে’লে কী হয়? জেনে নিন এক্ষুনি

    আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে সকালে ঘুম থেকে উঠে ঝটপট এবং স্বাস্থ্যকর কী খাওয়া যায়, তা নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত থাকি। তবে কলার মতো মিষ্টি ফল সকালে খালি পেটে খাওয়া কি শরীরের জন্য আদতে ভালো নাকি ক্ষতিকর, তা নিয়ে প্রায়ই নানা সংশয় দেখা যায়। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এ প্রকাশিত একটি বিশেষ স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এই বিষয়ের দারুণ একটি পুষ্টিবিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ উঠে এসেছে।

    প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্যস্ত সকালে কলা হতে পারে আমাদের শরীরের জন্য অন্যতম পুষ্টিকর, সহজলভ্য এবং সহজে বহনযোগ্য একটি আদর্শ খাবার।

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, যেকোনো খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সকালে খালি পেটে কলা খাওয়া কেবল আমাদের পেটই ভরায় না, এটি পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিপাক প্রক্রিয়াকে চমৎকারভাবে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। তবে এর পাশাপাশি কিছু বিশেষ নিয়ম ও শারীরিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা না করলে পড়তে হতে পারে অস্বস্তিতেও। আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক, সকালে খালি পেটে কলা খেলে আমাদের শরীরে ঠিক কী ঘটে এবং এর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা ও সতর্কতাগুলো কেমন।

    কলার পুষ্টি প্রোফাইল: সকালে কেন এটি ‘সুপারফুড’?

    সহবাসের পর যে ৭টি কাজ অবশ্যই করা উচিত

    কলা প্রকৃতিগতভাবেই একটি সম্পূর্ণ খাবার, যা আমাদের দৈনিক প্রয়োজনীয় শক্তি ও সার্বিক সুস্থতায় সহায়তা করে।

    চাষের মাছে গন্ধ হয় কেন, কী করলে গন্ধ থাকবে না?

    ইউএসডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম ওজনের একটি মাঝারি আকারের পাকা কলায় রয়েছে:

    ক্যালোরি: ৯৮ কিলোক্যালরি (যা আমাদের প্রাকৃতিক শক্তির জোগান দেয়)

    কার্বোহাইড্রেট: ২৩ গ্রাম (দীর্ঘ সময় কর্মক্ষম ও জ্বালানি ধরে রাখতে সাহায্য করে)

    ফাইবার: ৪ গ্রাম (হজম প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত কার্যকরী)

    পটাসিয়াম: ৩৫৮ মিলিগ্রাম (রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় রাখে)

    ম্যাগনেসিয়াম: ২৭ মিলিগ্রাম (পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে)

    ভিটামিন বি৬: ০.৪ মিলিগ্রাম (মেটাবলিজম ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে)

    ভিটামিন সি: ৮.৭ মিলিগ্রাম (শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়)

    খালি পেটে কলা খাওয়ার ৫টি বড় উপকারিতা

    ১. তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান: যুক্তরাজ্যের নিউট্রিশনিস্ট এবং ম্যাক্রোবায়োটিক হেলথ কোচ ড. শিল্পা আরোরা বলেন, কলা পটাশিয়াম, ফাইবার এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা আমাদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে স্ট্যামিনা বাড়াতে এবং ক্ষুধা দূর করতে ভূমিকা রাখে। কলায় থাকা তিনটি প্রাকৃতিক শর্করা—গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজ আমাদের শরীরে দীর্ঘক্ষণ ক্লান্তিহীন শক্তির জোগান দেয়, ফলে প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো কোনো ক্লান্তি বা ‘এনার্জি ক্র্যাশ’ ছাড়াই বিপাক প্রক্রিয়া দারুণভাবে শুরু হয়।

    ২. পেটের স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বৃদ্ধি: কলায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার (বিশেষ করে পেকটিন) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মলত্যাগ প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও নিয়মিত করে। খালি পেটে কলা খেলে এটি অ্যাসিডিটি প্রশমিত করে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ২০২০ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, কলা প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে যা পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে শক্তিশালী করে সার্বিক হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    ৩. রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা: প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি হলেও কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি বা প্রায় ৪৮। এর ফলে এটি হুট করে রক্তে শর্করা না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে রক্তে চিনি ছড়ায়। আয়ুর্বেদিক হেলথ কোচ ডিম্পল জাঙ্গদার পরামর্শ অনুযায়ী, কলার সাথে সামান্য বাদাম বা বীজ খেলে তা রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করতে আরও বেশি সাহায্য করে, কারণ এর ফাইবার শর্করা শোষণের গতি কমিয়ে দেয়।

    ৪. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও মেদ কমানোর লড়াইয়ে সাহায্য: একটি কলায় প্রায় ৪ গ্রাম ফাইবার ও ৯৮ ক্যালোরি থাকে। এই ফাইবার পেটে গিয়ে খানিকটা প্রসারিত হয়, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং অসময়ে অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স খাওয়ার প্রবণতা বা তীব্র ক্ষুধা দূর করে।

    ৫. হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কলার পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম নামক দুটি খনিজ উপাদান হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে ফোলাভাব বা ব্লটিং কমায়।

    তবে সবার জন্য কি খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক?

    যদিও কলা অত্যন্ত উপকারী, তবুও এটি সবার শরীরের ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। ব্যাঙ্গালুরু-ভিত্তিক প্রখ্যাত পুষ্টিবিদ ড. অঞ্জু সুদ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘কলা মূলত অম্লীয় প্রকৃতির এবং এতে উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম রয়েছে।’

    যাদের আইবিএস, তীব্র অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের খালি পেটে কলা খেলে পেট ফাঁপা বা সাময়িক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে ড. সুদ কলা খাওয়ার সময় এর সাথে সামান্য ভেজানো শুকনো ফল, আপেল বা অন্যান্য ফল একসাথে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা শরীরের অম্লের প্রভাব অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

    কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা

    অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষতিকর দিক: অতিরিক্ত পরিমাণে কলা খেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বিরল ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

    ডায়াবেটিস রোগীদের সচেতনতা: পাকা কলায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকায় ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাপ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    রাতের বেলা এড়িয়ে চলা: রাতের শেষ ভাগে বা ঘুমানোর ঠিক আগে কলা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এ সময়ে বিপাক প্রক্রিয়া ধীর থাকে এবং এটি হজমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

    তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড

  • প্রতিদিন সকালে চি’য়া সি’ড খে’লেই কি স’ত্যি শরীরের অ’তিরি’ক্ত ফ্যা’ট কমবে? জেনে নিন

    প্রতিদিন সকালে চি’য়া সি’ড খে’লেই কি স’ত্যি শরীরের অ’তিরি’ক্ত ফ্যা’ট কমবে? জেনে নিন

    ওজন কমাতে চান? তাহলে নিশ্চয়ই চিয়া সিড খাওয়ার কথা একবার হলেও ভেবেছেন কিংবা খাচ্ছেন। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের ডায়েটে এখন চিয়া সিড পরিচিত নাম। অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন সকালে চিয়া সিড খেলেই শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন? সম্প্রতি ফিটনেস কোচ রালস্টন ডিসুজা এই বহুল প্রচলিত ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা জানলে চিয়া সিড খাওয়ার আগে আপনিও নতুন করে ভাববেন।

    অনেকেই ওজন কমানো এবং শরীরের চর্বি কমানো একই বিষয় মনে করেন। কিন্তু আসলে এ দুটি ভিন্ন। আসলে ভিন্নতা আছে। চর্বি কমানোর অর্থ শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাটের পরিমাণ কমানো। অন্যদিকে ওজন নিয়ন্ত্রণে শরীরের মোট ওজন কমে যায়। এতে চর্বির পাশাপাশি পানি, পেশি এবং অন্যান্য টিস্যুও কমতে পারে। তাই সুস্থভাবে শরীর গড়তে চাইলে শুধু ওজন নয়, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

    প্রতিদিন চিয়া সিড খেলেই কি চর্বি কমবে

    ফিটনেস কোচ রালস্টন ডিসুজার মতে, শুধু চিয়া সিড খাওয়া শুরু করলেই শরীরের চর্বি কমবে এমন ধারণা ভুল। তিনি বলেন, চিয়া সিড অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং বারবার ক্ষুধা লাগা কমায়। তবে এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি ক্যালোরি-সমৃদ্ধ খাবার। তিনি জানান, ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে প্রায় ৫০০ ক্যালোরি থাকতে পারে। তাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চিয়া সিড খেলে উল্টো অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে যেতে পারে, যা চর্বি কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে।

    তাহলে চর্বি কমাতে যা করবেন

    রালস্টনের মতে, চর্বি কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো ক্যালোরি ঘাটতি তৈরি করা। অর্থাৎ, প্রতিদিন শরীর যত ক্যালোরি খরচ করে, তার চেয়ে কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষুধা লাগলেই বিভিন্ন খাবারে চিয়া সিড যোগ করে খেতে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। চর্বি কমাতে হলে পুরো খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে স্থায়ী ফল পাওয়া সম্ভব নয়।

    চিয়া সিড একটি পুষ্টিকর সুপারফুড। তবে এটি খেলেই ফ্যাট কমে যায় বিষয়টা একেবারেই এমন নয়। আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্যক খাবারের সঙ্গে চিয়া সিড খেলে উপকার পাওয়া যায়।  কিন্তু শুধু চিয়া সিড খেয়ে শরীরের চর্বি কমে যাবে এমন ভাবা যাবে না।   

    সূত্র: এনডিটিভি ফুড 
     

  • লি’ভার প’রিষ্কা’র করে যে খা’বারগুলো, জেনে রাখুন উ’পকারে আসবে

    লি’ভার প’রিষ্কা’র করে যে খা’বারগুলো, জেনে রাখুন উ’পকারে আসবে

    লিভার হলো সেই অঙ্গ যা আমাদের শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া সবকিছুকে ফিল্টার করে, প্রক্রিয়াজাত করে এবং ভেঙে ফেলে। এটি আমাদের রক্ত ​​ফিল্টার করার এবং জমাট বাঁধতে সাহায্য করার জন্য কাজ করে। লিভার আমাদের গ্রহণ করা যেকোনো রাসায়নিক, অ্যালকোহল এবং ড্রাগ ভেঙে ফেলে এবং গ্লুকোজ ও পিত্তরস তৈরি করে, যা সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

    লিভার বিষাক্ত পদার্থ এবং দূষক দ্বারা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লে এর স্বাভাবিক কার্যচক্র ধীর হয়ে যায়। অ্যালকোহল, ড্রাগ এবং অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াও আমরা প্রক্রিয়াজাত এবং ভাজা খাবার দিয়ে আমাদের লিভারকে অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত করে ফেলি, বিশেষ করে যখন এ ধরনের খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করা হয়।

    কিন্তু কোন খাবারগুলো আমাদের লিভারকে পরিষ্কার করে? প্রাকৃতিকভাবে লিভার পরিষ্কার করে এমন খাবার খেলে তা এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটিকে এবং এর কার্যকরভাবে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করার ক্ষমতাকে সহায়তা করতে সাহায্য করে। সুখবর হলো, এমন অনেক খাবার আছে যা আপনি সম্ভবত ইতিমধ্যেই খাচ্ছেন। এই খাবারগুলো শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য লিভারের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে-

    রসুন

    রসুনে সেলেনিয়াম নামক একটি খনিজ পদার্থ থাকে, যা লিভারকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এটি লিভারের এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করার ক্ষমতাও রাখে, যা আমাদের শরীর থেকে প্রাকৃতিকভাবে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

    সাইট্রাস ফল

    জাম্বুরা, কমলা, মাল্টা এবং লেবুর মতো ফল লিভারের পরিষ্কার করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। অল্প পরিমাণে খেলেও সাইট্রাস ফল লিভারকে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরি করতে সাহায্য করে, যা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়।

    শাক-সবজি

    ব্রোকলি এবং ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস শাক-সবজিতে গ্লুকোসিনোলেট থাকে, যা লিভারকে বিষমুক্তকারী এনজাইম তৈরি করতে সাহায্য করে। এগুলোতে সালফার যৌগও থাকে যা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। পাতাযুক্ত শাক-সবজিতে প্রচুর ক্লোরোফিল থাকে, যা রক্তপ্রবাহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। এগুলো ভারী ধাতুকে নিষ্ক্রিয় করে লিভারকে রক্ষা করতে পারে।

    হলুদ

    এই ভেষজটি লিভারের জন্য দারুণ উপকারী। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার এনজাইমগুলোকে সাহায্য করে এবং এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষ মেরামত করে। এটি লিভারকে ধাতুর বিষমুক্তকরণেও সাহায্য করে এবং পিত্তরস উৎপাদন বাড়ায়।

    আখরোট

    আখরোটে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো অ্যাসিড আর্জিনিন থাকে এবং এটি লিভারকে অ্যামোনিয়া থেকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুটাথায়ন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও রয়েছে, যা লিভারের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতায় সহায়তা করে।

    বিটরুট

    বিটরুট রক্ত ​​পরিষ্কার করে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে এবং বিষাক্ত বর্জ্য ভেঙে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দিতে পারে। এটি পিত্তরসের প্রবাহকে উদ্দীপিত করে এবং এনজাইমের কার্যকলাপ বাড়ায়। বিটরুটে ফাইবার এবং ভিটামিন সি-ও রয়েছে, যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য প্রাকৃতিক শোধক হিসেবে কাজ করে।

    গাজর

    গাজরে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যান্ট-ফ্ল্যাভোনয়েড এবং বিটা-ক্যারোটিন থাকে, যা লিভারের সার্বিক কার্যকারিতাকে উদ্দীপিত ও সহায়তা করে। এতে ভিটামিন এ-ও রয়েছে, যা লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।

    গ্রিন টি

    লিভারের জন্য উপকারী খাবারগুলো খেয়ে যদি আপনার তৃষ্ণা পায়, তবে কিছুটা গ্রিন টি পান করে দেখতে পারেন। এই পানীয়টিতে ক্যাটেচিন নামক উদ্ভিদ-ভিত্তিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে পরিচিত। খেয়াল রাখবেন যেন আপনি শুধু গ্রিন টি-ই পান করেন, গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট নয়, কারণ এটি লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    আপেল

    আপেলে উচ্চ মাত্রায় পেকটিন থাকে, এটি এমন একটি রাসায়নিক যা শরীরকে পরিপাকতন্ত্র থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার ও বের করে দিতে সাহায্য করে। পরিপাকতন্ত্রে বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কম থাকলে, লিভার তার বিষাক্ত পদার্থের ভার আরও ভালোভাবে সামলাতে পারে এবং শরীরের বাকি অংশকে আরও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়।

    অ্যাভোকাডো

    অ্যাভোকাডো মূলত একটি সুপারফুড। এটি আমাদের ধমনী পরিষ্কার করার পাশাপাশি, শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটাথায়ন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা এমন একটি যৌগ যা লিভারকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করে।

  • চ’ল্লিশ পার হলেও থা’কবে যৌ’বন, ছা’ড়তে হবে যে ৫ অ’ভ্যাস, জেনে নিন

    চ’ল্লিশ পার হলেও থা’কবে যৌ’বন, ছা’ড়তে হবে যে ৫ অ’ভ্যাস, জেনে নিন

    চল্লিশ পেরিয়ে গেলেই মুখে ভাঁজ পড়ে, ত্বক হারায় জেল্লা—এটাই যেন স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু আধুনিক যুগে এই বার্ধক্যের ছাপ অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস।

    জলবায়ুর পরিবর্তন, দূষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন—এই সব কিছুর প্রভাবে আজকাল ত্রিশের কোঠায় ঢুকতেই অনেকের ত্বক ক্লান্ত ও নিস্প্রভ হয়ে উঠছে। তবে সচেতন থাকলে এবং কিছু অভ্যাস পরিহার করলে দীর্ঘদিন ধরে রাখা যায় ত্বকের যৌবন ও উজ্জ্বলতা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৫টি অভ্যাস ত্যাগ করলেই ৪০-এর পরেও তরতাজা থাকবেন আপনি:

    ১. প্রসেসড ও ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করুন

    চিপস, বার্গার, অতিরিক্ত লবণ বা চিনি থাকা খাবার শরীরের পাশাপাশি ত্বকের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলে। এগুলো ত্বককে শুষ্ক, নির্জীব করে তোলে এবং বলিরেখা বাড়ায়।

    ২. পানি খাওয়া ভুলে যাবেন না

    দেহে পানির অভাব থাকলে ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারিয়ে ফেলে। দিনে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া বার্ধক্যের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা জরুরি, কারণ এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে এবং ত্বককে রাখে উজ্জ্বল।

    ৩. শরীরচর্চায় ফাঁকি নয়

    আলসেমি করে শরীরচর্চা না করলে বার্ধক্য দ্রুত আসবে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং মেডিটেশন করলেই মানসিক চাপ কমে, কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ কম হয়, যা ত্বকের বার্ধক্য ঠেকাতে সাহায্য করে।

    ৪. ঘুম থেকে উঠে মুখ পরিষ্কার করা

    সারা রাতের ধুলো-ময়লা জমে থাকা ত্বকে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। সকালে উঠে ভালোভাবে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেললে ত্বক নিশ্বাস নিতে পারে, ফিরে পায় তার প্রাণচাঞ্চল্য।

    ৫. দুশ্চিন্তা, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন

    এই তিনটি অভ্যাস ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু। ধূমপান ও মদ্যপান ত্বককে নিষ্প্রভ করে, বলিরেখা বাড়ায় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। মানসিক চাপও ত্বকে তীব্র প্রভাব ফেলে।

    তাই বয়স বাড়লেও যদি আপনি এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলেন এবং নিয়ম মেনে জীবনযাপন করেন, তবে ৪০-এর পরেও ধরে রাখা সম্ভব যৌবনের দীপ্তি।

    সূত্র- আজকাল

  • এই ৪ ধ’রনের মা’নুষের জন্য র’সুন ক্ষ’তিকর,  জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    এই ৪ ধ’রনের মা’নুষের জন্য র’সুন ক্ষ’তিকর, জেনে নিন উ’পকারে আসবে

    রসুনের উপকারিতা নিয়ে কথা বললে তালিকা শেষ হয় না। এটি যেমন কোলেস্টেরল কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তেমনি হজমেও সহায়তা করে। তবে এই উপকারের মাঝেও সব মানুষের জন্য রসুন খাওয়া নিরাপদ নয়।

    কিছু বিশেষ শারীরিক অবস্থা বা রোগ থাকলে রসুন খাওয়া উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    ডায়াবেটিস ও প্রেশার নিয়ন্ত্রণে খাবারের ৭ সহজ অভ্যাস

    চলুন দেখে নিই, কাদের রসুন খাওয়া থেকে সাবধান থাকা উচিত।

    ১. রক্তচাপ কম হলে রসুন নয়

    রসুন স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যাদের রক্তচাপ এরই মধ্যে কম, বা প্রায়ই মাথা ঘোরানো, দুর্বল লাগা, হাই প্রেশার থেকে লোতে চলে আসে—তাদের জন্য রসুন হতে পারে বিপজ্জনক।

    এমন অবস্থায় রসুন খেলে ব্লাড প্রেশার আরও নিচে নেমে যেতে পারে।

    ২. রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) থাকলে সাবধান

    রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে রসুনের ‘উষ্ণ প্রকৃতি’ দেহে জ্বালা তৈরি করতে পারে। এতে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা বাড়তে পারে।

    ৩. গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকলে

    যাদের বুক জ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাসে পেট ফাঁপার সমস্যা আছে, তাদের জন্য কাঁচা রসুন হতে পারে খুবই বিরক্তিকর। এটি পাকস্থলীতে জ্বালা বাড়াতে পারে, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

    ৪. ডায়রিয়ায় ভুগলে রসুন বাদ দিন

    রসুনে রয়েছে তীব্র উষ্ণতা ও অ্যালিসিন নামের এক উপাদান, যা পেট গরম করে এবং হজমে সমস্যা বাড়ায়। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সময় রসুন খেলে অতিরিক্ত পেট ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

    অতিরিক্ত রসুন খেলে আরও কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন:

    – মুখে দুর্গন্ধ বা গন্ধযুক্ত ঘাম

    – হজমের গোলমাল

    – অ্যালার্জির সমস্যা (বিশেষত কারও রসুনে এলার্জি থাকলে)

    – ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া (যেমন ব্লাড থিনার)

    তাহলে কী করবেন?

    – যদি আপনার উপরের যে কোনো সমস্যা থাকে, রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    – রান্না করা রসুন অনেক সময় কম ক্ষতিকর হলেও, কাঁচা রসুন সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

    – শুরুতেই বেশি পরিমাণ না খেয়ে অল্প করে খাওয়া শুরু করুন।

    রসুন যতই উপকারী হোক, সবার শরীর একরকম নয়। কারও শরীরে সেটি ওষুধের মতো কাজ করে, কারও শরীরে আবার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। তাই রসুন খাওয়ার আগে নিজের শরীর বুঝুন, উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া ঠিক নয়।

    সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।

    সূত্র: ইটিং ওয়েল

  • ঠা’ণ্ডা-কা’শি কমাতে আ’দা কীভাবে ব্য’বহার করবেন? জেনে নিন

    ঠা’ণ্ডা-কা’শি কমাতে আ’দা কীভাবে ব্য’বহার করবেন? জেনে নিন

    বহুকাল আগে থেকেই রোগ নিরাময়ে আদার ব্যবহার হয়ে আসছে। আদা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। এটি ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যা কমাতে উপকারী।

    আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিটক্সিক ও অ্যান্টিফাঙাল উপাদান। ঘাম ও তাপ তৈরি করার মাধ্যমে এটি হালকা জ্বর কমাতেও কাজ করে। প্রাকৃতিক অ্যানালজেসিক ও ব্যথানাশক প্রকৃতি থাকার কারণে এটি ব্যথা ও প্রদাহ কমিয়ে গলাব্যথা কমাতে উপকার করে। এটি শ্লেষ্মা সরিয়ে ফুসফুসকে পরিষ্কার করে।

    ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে আদা কীভাবে ব্যবহার করবেন?

    ১. ঠাণ্ডা ও কাশি কমাতে দিনে কয়েকবার আদা খেতে পারেন।

    ২. দুই কাপ পানির মধ্যে এক চা চামচ আদা গুঁড়া ও এক চা চামচ আদা কুচি দিয়ে সেদ্ধ করুন। এই পানীয়টি দিয়ে ভাপ নিন। এতে ঠাণ্ডা কমতে সাহায্য হবে।

    ৩. এ ছাড়া কিছু কাঁচা আদা চিবাতে পারেন। আদার জুস বা আদা-চা পান করতে পারেন কফ কমানোর জন্য।

    ৪. ঠাণ্ডা থেকে রেহাই পেতে বুক ও পিঠে আদার তেল দিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।

  • পে’শিতে টা’ন পড়ে কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    পে’শিতে টা’ন পড়ে কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর মধ্যে ভিটামিন ‘ই’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাট-দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। তবে শরীরে এর ঘাটতি সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না।

    নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা বা পুষ্টি শোষণে জটিলতা থাকলে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক সময় ঘাটতির লক্ষণগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা, চুল পড়া কিংবা ত্বকের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। তাই কোন লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং খাবারের মাধ্যমে কীভাবে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

    পেশির দুর্বলতা ও টান ধরা

    ভিটামিন ‘ই’ আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশির কোষগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

    পেশিতে টান পড়া

    ভিটামিন ‘ই’ স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এর তীব্র ঘাটতি হলে কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

    দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

    হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব

    দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় । যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এ ছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

    চোখের সমস্যাও হতে পারে

    ভিটামিন ‘ই’ চোখের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিনের তীব্র ঘাটতিতে দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চোখ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তাই এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

    ত্বক ও চুলের পরিবর্তন

    ভিটামিন ‘ই’ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে কাজ করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়ে যায়, চামড়া অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং অকালেই মুখে বলিরেখা ও কালচে ছোপ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে চুলের ফোলিকল ও মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ই’ সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল ঝরতে শুরু করে এবং হাতের নখ ভঙ্গুর বা পাতলা হয়ে খুব সহজেই ভেঙে যায়।

    রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব

    ভিটামিন ‘ই’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি থাকলে ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই ঘন ঘন সর্দি, কাশি বা ইনফেকশন দেখা দেয়।

    অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি

    ভিটামিন ‘ই’-এর তীব্র ঘাটতি হলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে।

    যেসব খাবারে মিলবে ভিটামিন ‘ই’

    ভিটামিন ‘ই’ পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সুষম খাদ্য খাওয়া। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ ও বিভিন্ন বাদামে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। পরিমাণমতো এসব খাবার নাশতা বা খাবারের সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

    উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যেও ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। সূর্যমুখী তেল, সয়াবিন তেল ও অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল এর উৎস। তবে তেল যেহেতু ক্যালরিসমৃদ্ধ, তাই প্রয়োজনের বেশি খাওয়া উচিত নয়।

    পালং শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি এবং অ্যাভোকাডো থেকেও ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

     সাপ্লিমেন্ট কি
    সাধারণভাবে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবার খেলে আলাদা করে ভিটামিন ‘ই’ সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কিছু ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মেডিকেল নিউজ টুডে

  • হা’ত-পা অ’বশ ও ঝিঁ’ঝি ধ’রার সম’স্যা যে ভি’টামিন ঘা’টতির ল’ক্ষণ

    হা’ত-পা অ’বশ ও ঝিঁ’ঝি ধ’রার সম’স্যা যে ভি’টামিন ঘা’টতির ল’ক্ষণ

    ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি একটি পরিচিত পুষ্টিজনিত সমস্যা। তবে অনেকেই শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে তা বুঝতে পারেন না। কারণ এর উপসর্গগুলো অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হতে পারে অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। তাই সম্ভাব্য সতর্কসংকেতগুলো সম্পর্কে জানা গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কয়েকটি অবহেলিত উপসর্গ তুলে ধরেছেন। 

    তিনি বলেন, এসব উপসর্গ দেখা দিলেই যে বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তবে ঝিনঝিন করা, জিহ্বার পরিবর্তন, ক্লান্তি, চিন্তাভাবনায় সমস্যা বা হাঁটার সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ঘাটতি নিশ্চিত করা সম্ভব। 

    মসৃণ ও ব্যথাযুক্ত জিহ্বা

    সাধারণত জিহ্বার উপরিভাগ কিছুটা খসখসে থাকে। এর কারণ হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাপিলা, যার মধ্যে স্বাদ গ্রহণের কুঁড়ি থাকে। কিন্তু জিহ্বা অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, চকচকে, লাল বা ব্যথাযুক্ত হয়ে গেলে তা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব

    স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এ ভিটামিনের ঘাটতিতে শরীরের প্রান্তীয় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হাত-পায়ে দীর্ঘসময় ঝিনঝিনি, সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা অবশভাব অনেক সময় বি১২-এর ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

    চিকিৎসকরা বলেন, স্নায়ুর মাইলিন আবরণ স্বাভাবিক রাখতে বি১২ প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে বিশেষ করে পা থেকে শুরু করে অবশভাব বা অনুভূতি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি রক্তের অন্যান্য উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এসব স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    অকারণ ক্লান্তি

    লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতেও ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। ফলে শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা স্বাভাবিক কাজ করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

    স্মৃতির সমস্যা

    সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র বজায় রাখার পাশাপাশি স্বাভাবিক স্নায়ু সংকেত আদান-প্রদানেও বি১২ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, চিন্তার গতি ধীর হওয়া, ভুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি কিংবা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অ্যানিমিয়া না থাকলেও এসব উপসর্গ হতে পারে।

    ভারসাম্যহীনতা ও হাঁটতে সমস্যা

    ভিটামিন বি১২-এর দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোন অবস্থানে রয়েছে, সে সম্পর্কে মস্তিষ্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া স্নায়ুপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাঁটাচলায় সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের মতে, এতে হাঁটার সময় অস্থিরতা, বারবার হোঁচট খাওয়া, অন্ধকারে হাঁটতে অসুবিধা কিংবা পা ফেলে চলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে।

    তবে এসব উপসর্গের কোনোটি দেখা দিলেই যে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে, এমন নয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস