Blog

  • শি’শুর উ’চ্চতা কত ব’য়স পর্যন্ত বাড়ে, বৃ’দ্ধি ঠি’কমতো না হলে কী করবেন?

    শি’শুর উ’চ্চতা কত ব’য়স পর্যন্ত বাড়ে, বৃ’দ্ধি ঠি’কমতো না হলে কী করবেন?

    বয়স অনুপাতে শিশুর উচ্চতা সঠিক নিয়মে বাড়ছে কি না তা জেনে নেওয়া জরুরি। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, তার সন্তান কিছুই খায় না। তাই বয়স অনুযায়ী ওজন ও উচ্চতা দুইটাই কম। আবার উল্টোটাও হয়। বয়স অনুপাতে ওজন অনেক বেশি, অথচ উচ্চতা সে অনুযায়ী বাড়েনি। ওজন আর উচ্চতার মধ্যে ভারসাম্য প্রয়োজন। বয়সভেদে নির্দিষ্ট ওজন ও উচ্চতা হয়। শিশু সেই মাপকাঠির আওতায় আছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে।

    বিজ্ঞাপন

    উচ্চতা বৃদ্ধির হার ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদা। ছেলেদের সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। বয়ঃসন্ধির সময় (১৩ থেকে ১৬ বছর) উচ্চতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের সাধারণত ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত উচ্চতা বাড়ে। তবে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে তা কমতে থাকে ও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই অনুপাতের উনিশ-বিশ হতেই পারে। জোর দিতে হবে শিশুর সার্বিক বৃদ্ধির দিকে। এর জন্য সুষম ডায়েট ও শরীরচর্চা জরুরি।

    অনেক সময় বয়স বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে শিশুর উচ্চতা বাড়ে না। এর পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে, গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি হতে পারে অথবা শরীরে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও জিঙ্কের ঘাটতি থাকলেও হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধি ঠিকমতো হতে পারে না। ছোট থেকে থাইরয়েডের সমস্যা বা কিডনির রোগ থাকলেও বাড়বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সমস্যা যেমনই হোক না কেন সঠিকভাবে খাবার খাওয়া ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অভ্যাস করালে শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হবে।

    উচ্চতা বৃদ্ধির সঠিক কিছু ব্যায়াম

    স্কিপিং

    এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দড়ি নিয়ে লাফানোর অভ্যাস করা ভালো। এতে ওজনও ঠিক থাকবে এবং কাফ মাসলের ব্যায়াম হবে। ফলে উচ্চতা বাড়বে।

    ঊর্ধ্ব তাড়াসন

    প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। পায়ের পাতার মধ্যে দুই ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। দুই হাত তুলে, কনুই ভাঁজ করে নিয়ে যেতে হবে মাথার পেছন দিকে। এবার দুই হাতের আঙুল একসঙ্গে জড়ো করতে হবে। এরপর শ্বাস নিতে নিতে হাত দুইটি মাথার উপর দিয়ে প্রসারিত করতে হবে। হিল জুতা পরার মতো পায়ের গোড়ালি মাটি থেকে উপর দিকে তুলতে হবে। মাটির সঙ্গে শুধুমাত্র আঙুলের অংশ স্পর্শ করে থাকবে। মাথা তুলে উপরের দিকে দেখতে হবে। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থানে থাকতে হবে। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য খুব ভালো ব্যায়াম এটি।

    বাটারফ্লাই পোজ

    ছোটদের জন্য খুব ভালো স্ট্রেচিং। মেঝেতে বসে দুই পায়ের পাতা সামনাসামনি জুড়ে রাখতে হবে। এবার দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের পাতা ধরে হাঁটু ওঠা-নামা করতে হবে। ১০ সেট করে তিনবার করতে হবে এই ব্যায়াম। নিয়মিত অভ্যাসে পায়ের জোর বাড়বে, কাফ মাসলের ব্যায়াম হবে। শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে, গ্রোথ পেইন বা বৃদ্ধিজনিত ব্যথায় ভুগবে না শিশু।

    শশঙ্গাসন

    যোগা ম্যাটের উপরে নামাজের মতো হাঁটু গেড়ে বসে পিঠ সোজা রাখতে হবে। দুই হাত হাঁটুর ওপর থাকবে। পায়ের পাতা যেন আরামদায়ক অবস্থায় থাকে। পিঠ সোজা থাকবে। শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত কানের পাশ দিয়ে যতটা সম্ভব উপরের দিকে তুলতে হবে। ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে শরীর ঝুঁকিয়ে হাঁটুর সামনে মাথা ঠেকাতে হবে, দুই হাত সামনে ছড়ানো থাকবে প্রণামের ভঙ্গিতে। পরে হাত নিয়ে যেতে হবে গোড়ালির পাশে। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।

    সূত্র : আনন্দবাজার

  • চি’নিতে পিঁ’পড়া? জেনে নিন দূর করার উপায়

    চি’নিতে পিঁ’পড়া? জেনে নিন দূর করার উপায়

    চিনি রান্নাঘরের একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। মিষ্টি যেকোনো খাবার তৈরিতে এর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এর পাত্র খোলা রাখলে দ্রুত পিঁপড়ার উপদ্রব হতে পারে। একবার চিনিতে পিঁপড়া ঢুকে গেলে অনেকেই মনে করেন যে এটি ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া উপায় পিঁপড়া তাড়াতে এবং আবার ফিরে আসা রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। এখানে কিছু সহজ উপায় দেওয়া হলো যেগুলো ব্যবহার করলে চিনি থেকে পিঁপড়া দূর করা সহজ হবে-

    ১. তেজপাতা ব্যবহার করুন

    চিনির পাত্রের ভিতরে বা চারপাশে কয়েকটি তেজপাতা রাখুন। এর তীব্র প্রাকৃতিক গন্ধ পিঁপড়াদের দূরে রাখতে এবং আপনার সঞ্চিত চিনিকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তেজপাতাগুলো সম্ভব হলে ধুয়ে ও শুকিয়ে তারপর চিনির ভেতরে রাখুন। এর ফলে তেজপাতায় লেগে থাকা ধুলো-ময়লা পেটে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

    ২. লবঙ্গ রাখুন

    লবঙ্গের একটি তীব্র গন্ধ আছে যা পিঁপড়ারা অপছন্দ করে। চিনির পাত্রে কয়েকটি লবঙ্গ রাখলে তা পিঁপড়াদের প্রবেশ রোধ করতে সাহায্য করতে পারে। লবঙ্গগুলো ফেলে দেওয়ার দরকার নেই। বরং একই লবঙ্গ আপনি নতুন করে চিনি ভর্তি করার সময় তার ভেতরে রেখে দিতে পারেন। আবার চাইলে সেগুলো চা তৈরি কিংবা অন্যান্য রান্নায় যোগ করতে পারেন।

    ৩. শুকনা মরিচ রাখুন

    চিনির পাত্রের কাছে বা সংরক্ষণ ক্যাবিনেটে কয়েকটি আস্ত শুকনা মরিচ রাখুন। এর ঝাঁঝালো গন্ধ পিঁপড়াদের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। তবে অবশ্যই তা শিশুদের নাগালের বাইরে রাখবেন। নয়তো তা শিশুর জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।

    ৪. লেবুর টুকরা রাখুন

    এটি অবশ্য চিনির পাত্রের ভেতরে নয়, আপনাকে রাখতে হবে তার আশেপাশে। অর্থাৎ আপনি যে পাত্রে চিনি রাখছেন তার কাছাকাছি কোথাও এক টুকরা লেবু রেখে দিতে পারেন। লেবুর তীব্র গন্ধ পিঁপড়াদের তাড়াতে এবং সংরক্ষণ এলাকা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

    ৫. রোদে চিনি শুকিয়ে নিন

    যদি আপনি ইতিমধ্যে চিনি সংরক্ষণ করে থাকেন এবং পিঁপড়াও সেখানে উপস্থিত হয়ে থাকে, তবে তা একটি পরিষ্কার ট্রেতে ছড়িয়ে দিন এবং কিছুক্ষণের জন্য সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখুন। তাপ পিঁপড়াদের সরে যেতে উৎসাহিত করে, ফলে চিনি থেকে তাদের আলাদা করা সহজ হয়।

  • এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, স্বামী-স্ত্রীর তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তথ্যের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভিন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঠিকতা প্রমাণে সরকারি নথিপত্র জমা দিতে হয়।

    নাম সংশোধনে যেসব কাগজ লাগে

    নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ, যা প্রযোজ্য
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে
    সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ, যদি থাকে
    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব নথির পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।

    বাবা-মায়ের নাম সংশোধন

    বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি বা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    শিক্ষাগত সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বাবা-মায়ের এনআইডি
    ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাসনদ
    পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল, করের রশিদসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।

    জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    ভাই-বোনদের এনআইডি
    ওয়ারিশ সনদ
    কাবিননামা
    পাসপোর্ট
    ড্রাইভিং লাইসেন্স
    সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদন
    সার্ভিস বুক, এমপিও শিট বা অফিসের প্রত্যয়নপত্র
    অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বই
    মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ
     

    স্বামী-স্ত্রীর তথ্য সংশোধন বা সংযোজন

    স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি
    সন্তানের জন্মসনদ বা এনআইডি, যদি থাকে
    সন্তানের শিক্ষাসনদ

    দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু সনদ অথবা তালাকনামা এবং দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হলফনামা, ওয়ারিশ সনদ, বিদ্যুৎ বিল বা করের রশিদসহ অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

    জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    লিঙ্গ সংশোধন
    ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২)
    মেডিকেল সনদ
    সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র
     

    জন্মস্থান সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
     

    পেশা সংশোধন

    নিয়োগপত্র, চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে
    পেশাসংক্রান্ত সনদ
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
    দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন সংশোধন
    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন
    মেডিকেল সনদ
    রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন
    রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট
     

    স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন

    ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বিদ্যুৎ বিল
    চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট নম্বর

    টিআইএন নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: টিআইএন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি।

    ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি।

    পাসপোর্ট নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি।

    এনআইডি সংশোধনের আবেদন কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে?

    নির্বাচন কমিশন সংশোধনের আবেদন সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করে—

    ‘ক’ ক্যাটাগরি: সাধারণ ও স্বল্প জটিল সংশোধন
    ‘খ’ ক্যাটাগরি: তুলনামূলক বেশি যাচাই প্রয়োজন
    ‘গ’ ক্যাটাগরি: জটিল সংশোধন, অধিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন
    ‘ঘ’ ক্যাটাগরি: সর্বোচ্চ জটিলতার আবেদন, বিস্তৃত তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন

    বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান তথ্য ও সংশোধিত তথ্যের পার্থক্যের মাত্রা অনুযায়ী আবেদন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে।

    যা মনে রাখা জরুরি

    এনআইডি সংশোধনের সময় যে তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করা হবে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যত বেশি সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তা তত বেশি সহায়ক হতে পারে।

    আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। একই তথ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি থাকলে সংশোধন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই বা সময় লাগতে পারে।

  • চু’ল পড়া কিংবা পে’কে যাচ্ছে, যে ভি’টামিনের কারণে এমন হয়, জেনে নিন

    চু’ল পড়া কিংবা পে’কে যাচ্ছে, যে ভি’টামিনের কারণে এমন হয়, জেনে নিন

    অনেকেই চুল পড়া নিয়ে চিন্তায় থাকেন। আবার কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় বয়সের আগেই চুল পেকে যায় বা সাদা হয়ে যায়। বিষয়টা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক নয়। চুলের এই হঠাৎ পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে কিন্তু কেবল জেনেটিক কারণ নয়, শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

    সাধারণত চুল পড়াকে অনেকে স্ট্রেস, ঘুমের অভাব কিংবা আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু এর পেছনে শরীরে অন্য কোনো পুষ্টির ঘাটতিও থাকতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, অল্প বয়সে চুল পাকা বা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    চুলের জন্য ভিটামিন বি১২ কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শরীরের ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াতেও এর প্রয়োজন রয়েছে। শরীর নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ তৈরি করতে পারে না। তাই খাবার বা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এটি পেতে হয়। ভিটামিন বি১২-এর প্রধান খাদ্য উৎসের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিমদুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার। যারা প্রাণিজ খাবার খুব কম খান বা একেবারেই খান না, তাদের ক্ষেত্রে বি১২-এর ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    বি১২ কমে গেলে চুলে কী হয়

    চুলের ফলিকল বা গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে বি১২-এর ঘাটতি হলে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে এবং পরোক্ষভাবে চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। ডা. কুনাল সুদের মতে, বি১২-এর কম মাত্রার সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে চুলের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। চুল পাকা মানেই যে বি১২-এর ঘাটতি এমন নয়। বেশিরভাগ মানুষের চুল পাকার পেছনে জেনেটিক বা বয়সজনিত কারণই প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরে বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকার পরও অতিরিক্ত বি১২ গ্রহণ করলে সাদা চুল আবার কালো হয়ে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ  

    চুল পড়া বা চুল পেকে যাওয়াকে একা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং চুলের সমস্যার সঙ্গে শরীরে অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সুদ বিশেষভাবে কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিতে বলেছেন। যেমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব। চুল পড়ার পাশাপাশি এসব উপসর্গ থাকলে বিষয়টি শুধু চুলের সমস্যা হিসেবে না দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

    চুল পড়তে শুরু করলেই নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বি১২ বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। কারণ চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে জেনেটিক কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে বি১২-এর মাত্রা যাচাই করা যেতে পারে।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

  • ফ্যা’টি লি’ভার সহজে নি’য়ন্ত্রণে আনতে ২১ দিনের ৮ পরিকল্পনা, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভার সহজে নি’য়ন্ত্রণে আনতে ২১ দিনের ৮ পরিকল্পনা, জেনে নিন

    লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাবার হজমে সহায়তা করে, ভিটামিন ও খনিজ সংরক্ষণ করে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বা টক্সিন অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ফ্যাটি লিভার রোগ দিন দিন আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার স্বাভাবিকভাবেই উন্নত করা সম্ভব।

    আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. হানসাজি বলেছেন, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। একটি সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি ২১ দিনের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। এতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, যোগব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা লিভারের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। ২১ দিনের পরিকল্পনায় যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—

    ১. তরল চিনি বাদ দিন

    প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হলো সম্পূর্ণভাবে তরল চিনি এড়িয়ে চলা। এর মধ্যে রয়েছে কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত ফলের জুস এবং অন্যান্য চিনিযুক্ত পানীয়। এর পরিবর্তে আমলকি, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপের মতো সম্পূর্ণ ফল বেছে নিন। এসব ফলে ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে এবং এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় না।

    ২. সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন

    ডা. হানসাজি খাবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ১/২–১/৪–১/৪ প্লেট পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন—

    * প্লেটের অর্ধেক থাকবে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।

    * এক-চতুর্থাংশ থাকবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।

    * বাকি এক-চতুর্থাংশ থাকবে সম্পূর্ণ শস্য বা অন্যান্য পুষ্টিকর কার্বোহাইড্রেট।

    এই ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বা সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে, যা ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩. স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন

    লিভারবান্ধব খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে বাদাম ও বীজ, যেমন—কাঠবাদাম, আখরোট, তিসিবীজ ও কুমড়ার বীজ যোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকা খাবার সীমিত করুন।

    ৪. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

    Advertisement

    Advertisement

    Ad

    Ad

    লিভারের সুস্থতার জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। ডা. হানসাজি প্রতিদিন হাঁটার পাশাপাশি সহজ কিছু পেশিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে উত্কটাসন, সেতু বন্ধাসন এবং প্ল্যাঙ্ক পোজ।

    ৫. যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম অনুশীলন করুন

    যোগব্যায়াম ও শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। যেমন—যোগেন্দ্র তালাসন, যোগেন্দ্র কোণাসন, যোগেন্দ্র বক্রাসন, পবনমুক্তাসন, ডায়াফ্রামেটিক ব্রিদিং, অনুলোম-বিলোম ও ভ্রমরী প্রাণায়াম। 

    ৬. রাতে তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খান

    ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাতে দেরিতে খাবার বা স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এতে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যেতে পারে।

    ৭. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিন

    নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ঘুমানো শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার ও সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

    ৮. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

    অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফ্যাটি লিভারের উন্নতির জন্য অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা এর গ্রহণ সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্যাটি লিভারের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর মূল উপায় কোনো কঠোর ডায়েট বা চটজলদি সমাধান নয়। বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ধারাবাহিক চর্চাই এর চাবিকাঠি।

    যদি আপনার ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে, বিশেষ করে লিভার পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক হলে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলো যেন যথাযথ চিকিৎসা সেবার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, তার বিকল্প হিসেবে নয়।

    তথ্যসূত্র: এনডিটিভির

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন

    শিশুর বৃদ্ধি (লম্বা হওয়া) সঠিকভাবে না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত ৩টি ভিটামিন শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. ভিটামিন ডি: এটি হাড়ের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রধান উৎস হলো রোদ। তাছাড়া ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার, মাছ (স্যামন, টুনা)।
     
    ২. ভিটামিন এ: কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর উৎস হলো- গাজর, মিষ্টি আলু, দুধ, ডিম, পেঁপে, সবুজ শাকসবজি।

    ৩. ভিটামিন কে: এটি হাড়ের গঠন ও ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর উৎস হলো পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, দুধ। অতিরিক্ত কিছু পুষ্টি উপাদান। শুধু এই ভিটামিনগুলোই নয়, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিন-এর অভাবেও শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

     
    তবে শিশু যদি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। পাশাপাশি, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন ব্যায়াম, খেলাধুলা) শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

  • নতুন পে স্কে’লের প্র’জ্ঞাপন ক’খন, যা জা’না গেল

    নতুন পে স্কে’লের প্র’জ্ঞাপন ক’খন, যা জা’না গেল

    নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আজ বৃহস্পতিবারকেও (১০ সেপ্টেম্বর) সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। 

    জানা গেছে, ইতিমধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে।

    এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেলের রেজল্যুশন বুধবার বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কাজ শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। পরে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

    ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।

    সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা

    প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    যদিও নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি অর্থ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

    ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশ ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: ২০ গ্রেডের বেতন চার্ট

    এখানে ১ম–৯ম গ্রেডে বাড়তি অংশ ৪০% + ৩০% + ৩০% এবং ১০ম–২০তম গ্রেডে ৫০% + ২৫% + ২৫% হারে তিন ধাপে যুক্ত করার তথ্য আপনার দেওয়া নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকাশিত একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাতেও এই ধাপভিত্তিক অঙ্কগুলো দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ভাতা কার্যকর ২০২৮ সালে

    নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ধরনের ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও আরও স্পষ্ট হবে।

  • সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই এক গ্লাস পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ব্রাশ করার আগে পানি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ রাতভর মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। কিন্তু আসলে বিষয়টি কী? ব্রাশ করার আগে পানি পান করা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এ নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে, যেগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

    ব্রাশ করার আগে পানি পান করলে কী হয়?

    রাতভর ঘুমের সময় মুখে লালা জমে এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছু ব্যাকটেরিয়াও থাকে। তবে মুখের সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। অনেক ব্যাকটেরিয়া শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যের অংশ।

    সকালে পানি পান করলে মুখের লালার সঙ্গে থাকা এসব উপাদান পাকস্থলীতে চলে যায়। পাকস্থলীর অ্যাসিড সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই সাধারণ অবস্থায় ব্রাশের আগে পানি পান করাকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয় না।

    সকালে পানি পান করার সম্ভাব্য উপকারিতা

    শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে

    ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে পানি পান করলে শরীর দ্রুত হাইড্রেটেড হয় এবং সতেজ অনুভূতি আসে।

    হজমে সাহায্য করতে পারে

    খালি পেটে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক হয়।

    সকালে ব্যায়াম করলে পাবেন যেসব উপকারিতা

    মেটাবলিজম সক্রিয় করতে পারে

    সকালে পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম কিছুটা বাড়তে পারে, যা সারাদিন শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

    মুখের শুষ্কতা কমায়

    রাতে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যায়। সকালে পানি পান করলে সেই শুষ্কতা কমে।

    তবে কিছু দাবি করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত

    অনেক জায়গায় বলা হয়, ব্রাশের আগে পানি পান করলে শরীরের সব টক্সিন বের হয়ে যায়, ত্বক উজ্জ্বল হয় বা ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এসব দাবির পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    পানি অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী, কিন্তু এটি কোনো রোগের সরাসরি চিকিৎসা নয়।

    তাহলে সঠিক অভ্যাস কী?

    চিকিৎসকদের মতে,

    সকালে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস

    এরপর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা উচিত

    দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করা সবচেয়ে ভালো

    নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা ও দুর্গন্ধ হতে পারে

    যাদের সতর্ক থাকা দরকার

    যাদের মুখে সংক্রমণ, মাড়ির গুরুতর সমস্যা বা মুখে ঘা রয়েছে, তারা সকালে ব্রাশের আগে পানি পান করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করার আগে পানি পান করা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ব্রাশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: মার্কিন ওয়েবসাইট লিব্রেটের

  • এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

    এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

    আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।

  • দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে জানান, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

    এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি বলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে।

    নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন রয়েছে। নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    তবে নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি অর্থ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০ হাজার টাকা হবে মূল বেতন।

    প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা।

    নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।