Blog

  • ঈদের দিন ঝ’ড়-বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

    ঈদের দিন ঝ’ড়-বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

    ঈদের দিন (শনিবার, ২১ মার্চ) সারাদেশে কালবৈশাখী ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সময়ে কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ।


    আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঈদের দিন দেশের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

     

    একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২২ মার্চ থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

     

    এদিকে, আজ দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় (৬০-৮০) কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

     

     

    তাছাড়া ময়মনসিংহ, টাংগাইল ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

  • দলীয় সব পদ ছাড়লেন এনসিপি নেতা

    দলীয় সব পদ ছাড়লেন এনসিপি নেতা

    দলের ভেতরে গ্রুপিং এবং জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

    পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান বলেন, ‘এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।’ তাঁর দাবি, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোক ছিল, তারা নেতৃত্বে এসেছে।

    যা জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো একটি বিপ্লবী দলে মেনে নেওয়া যায় না।’

    জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিযোগ করেন এই নেতা। তিনি দাবি করেন, জেলা কমিটির সদস্যসচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে তার পদ থেকে সরানোর পর সেই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

    শেখ রেজওয়ান জানান, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে (শেখ রেজওয়ানকে) দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। তার (শেখ রেজওয়ানের) সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের দ্বন্দ্বের কারণে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে শেখ রেজওয়ান বলেন, দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না, দলীয় শৃঙ্খলা নেই।

    বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

  • ‘হেরে ঈদে একটা মেন্দি কিইন্যা দেয়াম’

    ‘হেরে ঈদে একটা মেন্দি কিইন্যা দেয়াম’

    ‘আমারে হে বিয়া করছে দয়া কইর‌্যা না, ভালোবাইস্যা। এইবায় (এইভাবে) তো ২০ বছর গেছে গা। মাঝে মধ্যে টুটকা-টাটকা একটু আধটু কাইজ্যা ছাড়া আর কিছুই অইছে না। এইবায় ভিক্ষা কইর‌্যাই জীবন চলতাছে।

    তয় ভালোবাসা একটু কমছে না।’

    স্ত্রী রাশিদা বেগমকে নিয়ে ভিক্ষা করতে এসে কথাগুলি বলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দ্বীন ইসলাম (৪৫)। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। 

    দ্বীন ইসলাম আরো বলেন, ‘আমারে লইয়া সারাডা দিন ঘুরে, যা পাই তা দিয়া জীবন চলে।

    কাইল ঈদ, বাড়িত যাওনের সময় হেরে একটা মেন্দি (মেহেদি) ও চুড়ি কিইন্যা দেয়াম।’ তিনি জানান, অন্ধ হলেও স্ত্রী তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে নিয়ে যান। দুজনে মিলে ভিক্ষা করেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের কারণে তাদের সংসারে সুখের কোনো অভাব নেই।

    সংসার নিয়ে দ্বীন ইসলাম জানান, তাদের রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে দিনমজুরের কাজ করেন, অপরজন মাদরাসায় পড়ে। দুজনের ভিক্ষাবৃত্তিতেই চলছে এই জীবন। 

    কিভাবে অন্ধ হলেন—জানতে চাইলে দ্বীন ইসলাম জানান, জন্মের তিন বছর পর থেকেই তার দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়।

    বিনা চিকিৎসায় চোখ দুটি দৃষ্টি হারায়। এরপর ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ১৫-১৬ বছর বয়সে কোনো এক সময় রাশিদার সঙ্গে কথা হয় তার। এরপর থেকে তার সাহায্য চাইলে বিনা বাধায় রাজী হন তাকে নিয়ে পথ চলার। পরিবারের সম্মতি নিয়ে রাশিদা বিয়েতে রাজি হন। 

    দ্বীন ইসলামের স্ত্রী রাশিদা বলেন, ‘একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে বিয়ে করলাম দুইজনে একসাথে থাকতে পারবো বলে। আজকাল গরিবের বিয়ে টিকে না। স্বামী ফেলে রেখে চলে যায়। উনি আমাকে ফেলে রেখে যাবেন না। নিজের জন্য হলেও এটা কোনো সময় করবেন না।’ তিনি জানান, স্বামীকে নিয়ে বের হলে সরা দিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কামাই হয়। এ দিয়ে ভালোভাবেই জীবন চলে। তার ওপর রয়েছে স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতা। এখন একটি ফ্যামেলি কার্ড পেলেই ভালো হবে।

    ঈদের দিন কী করবেন—জানতে চাইলে রাশিদা জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে ঈদের দিন বিকেলে বের হবেন। ওই দিন একটু বেশি আয়ও হবে, ভালো-মন্দ খাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে সন্তানদের জন্য আনা যাবে। স্বামী মেহেদি কিনে দিলে কী করবেন—জানতে চাইলে রাশিদা বলেন, ‘রাইতে আতো (হাত) দিয়াম। স্বামী চোখে না দেখলেও আত দিয়া চইতে কইয়াম।’ এরপর একটি হাসির কোরাস দিয়ে চলে যান দুজন।

  • সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি জেনে নিন

    সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি জেনে নিন

    ডিম বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার, অনেকেরই পাতে ডিম না থাকলে যেন খাবারই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে বাজারে ডিম কিনতে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল ডিম?

    অনেকেই মনে করেন লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিও বেশি। আবার কেউ কেউ বলেন, দুই ধরনের ডিমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্যই নেই। আসলে বিষয়টি কী? ডিমের খোলসের রং কি সত্যিই পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে?

    বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার তথ্য বলছে, এই ধারণার পেছনে আছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, আবার কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক সাদা ও লাল ডিমের পার্থক্য, এর রঙ হওয়ার কারণ এবং পুষ্টিগুণের বাস্তব চিত্র।

    ডিমের রঙ লাল বা সাদা হওয়ার কারণ কী

    ডিমের রং মুরগির জাত ও জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, সাদা পালকের মুরগির ডিম সাদা এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগির ডিম লাল হয়ে থাকে।

    বিশেষ করে সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি বিভিন্ন রঙের হলেও তারা সবাই সাদা ডিম পাড়ে। অন্য দিকে প্লেমাউথ রকস বা রোড আইল্যান্ড মুরগিগুলো লাল ডিম পেড়ে থাকে। কিছু কিছু জাতের মুরগি সাদা হলেও লাল ডিম পাড়ে। ডিমের খোসার রঙ বাদামি হয় মূলত মুরগির জরায়ুর মধ্যে থাকা শেল গ্ল্যান্ডের কারণে।

    মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, সাধারণত একটি মুরগির ভেতরে ডিম তৈরি হতে প্রায় ২৬ ঘণ্টা সময় লাগে।

    প্রথমে মুরগির গর্ভে ডিমের কুসুম তৈরি হয়। তারপর তিন ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় কুসুমের চারদিকে সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তৈরি হয় খোসার নিচের ঝিল্লি।

    এরপর ডিমটি লেজের কাছাকাছি শেল গ্ল্যান্ডে চলে যায়। এখানেই তৈরি হয় উপরের শক্ত খোসা। এই খোসা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো। সব ডিমের খোলস শুরুতে সাদাই থাকে। ডিম তৈরির একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ হয় রং। মুরগির দেহে থাকা এক রঞ্জক পদার্থ থেকে এই রং তৈরি হয়। তবে যেসব ডিম সাদা হয় সেগুলোয় রং যোগ হয় না।

    আবার কিছু কিছু গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে, মুরগির বয়স যতো বাড়তে থাকে, বা তারা যদি অনেক চাপে থাকে তাদের ডিমের রং হালকা হতে শুরু করে। সাধারণত ডুয়েল ব্রিড অর্থাৎ যেসব মুরগি ডিম ও মাংস দুটি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় সেগুলো লাল রঙের ডিম পাড়ে। এসব মুরগি আকারে বড় হওয়ায় বেশি পরিমাণ খাবার দিতে হয়। ফলে ডিমের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।

    অন্যদিকে সাদা পালকের মুরগির প্রজনন খরচ কিছুটা কম। তারা বাদামি রঙের মুরগির চেয়ে খায়ও কম। এজন্য সাদা ডিমের দাম লাল মুরগির চেয়ে কিছুটা কম রাখা যায়।

    কোন রঙের ডিমে পুষ্টি বেশি?

    পুষ্টিবিদ সৈয়দ তাসনিম হাসিন চৌধুরী এবং পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক দুজনই জানিয়েছেন, ডিমের রঙের সাথে এর পুষ্টিগুণের কোনো তারতম্য হয় না।

    আবার নিউ ইয়র্কের এক দল গবেষকের মতে, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সামান্য বেশি রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য এতটাই সামান্য যে তাতে খুব একটা ফারাক হয় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, দুই রঙের ডিমের খাদ্যগুণ প্রায় সমান। তাই ডিম যে রঙেরই হোক আপনি তা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। সাদা ও লাল ডিমে এই পুষ্টিগুণের পরিমাণ প্রায় সমান।

    তবে বাজারে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ডিম, অর্গানিক ডিম, জৈব এবং নন-জিএমও ফিড দেওয়া মুরগির ডিম, খোলামেলা জায়গায় পালন করা দেশি মুরগির ডিম ইত্যাদির বেশ কদর রয়েছে।

    এক্ষেত্রে মুরগির ডিমের রং নয়, বরং মুরগি কী ধরনের খাবার খায় এবং কী ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    যেমন যেসব মুরগিকে বেশি বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত কিংবা ভিটামিন এ বা ই-যুক্ত ফিড খাওয়ানো হয়, সেসব মুরগির ডিমে এসব পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। এই বিশেষ ফিডের জন্য দামটাও বেশি পড়ে।

    পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিন চৌধুরীর মতে, যেসব মুরগি প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খুঁজে খুঁজে খায়, সেসব মুরগির ডিমে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং ফ্যাট বেশি থাকে।

    অন্যদিকে খামারের মুরগির ডিমে এই ভিটামিন ও খনিজ কিছুটা কম থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে।

    তবে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক বলছেন, গৃহস্থালির মুরগি রোদে বেশি থাকায় এগুলোর ডিমে ভিটামিন-এ ও ডি বেশি থাকে৷ আবার খামারে ভালো ফিড খাওয়ানো মুরগির ডিমের পুষ্টি অনেক সময় এসব গৃহস্থালি মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি হয়। কারণ তাদের নিয়মিত ভালো মানের ফিড দেওয়া হয়।

    ডিমের কুসুমের রং

    আবার ডিমের পুষ্টির সাথে ডিমের খোলসের রঙের কোনো যোগ না থাকলেও ডিমের কুসুমের রঙের একটা প্রভাব আছে।পুষ্টিবিদদের মতে, যে ডিমের কুসুমের রং যতো গাঢ় সেই ডিমে ভিটামিন এ, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদানের মাত্রা ততো বেশি। ওই ডিমের স্বাদও বেশি। এদিকে, ডিমের কুসুমের রংও নির্ভর করে মুরগি কী খাচ্ছে তার ওপর। ক্যারোটিনয়েড নামের এক রকম রাসায়নিকের প্রভাবে ডিমের কুসুমের রং গাঢ় হয়।

    অনেক খামারে কুসুমের রং গাঢ় করতে মুরগিকে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কোথাও আবার লাল ক্যাপসিকাম খাওয়ানো হয়।

    যেহেতু ডিমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই যেসব মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং যেগুলো লাল ডিম পাড়ে, তাদের সবাইকে একই ধরনের খাবার দিলে স্বাদে ও পুষ্টিতে তেমন কোনো পার্থক্য হবে না।

    সূত্র : বিবিসি

  • ঘুমের মধ্যে পায়ের মাং’সপে’শিতে টান লাগলে যা করবেন? জেনে নিন

    ঘুমের মধ্যে পায়ের মাং’সপে’শিতে টান লাগলে যা করবেন? জেনে নিন

    রাতে গভীর ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ের ডিম বা কাফ মাসলে তীব্র ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। মুহূর্তের মধ্যে পায়ের পেশি শক্ত হয়ে যায়, নড়াচড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং মনে হয় রগ বা শিরা দলা পাকিয়ে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় নকচারনাল লেগ ক্র্যাম্পস।

    চিকিৎসকরা বলছেন, এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও বারবার হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক কারণ জানা ও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই যন্ত্রণা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

    শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায়। তবে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা মানুষ এবং নিয়মিত ভারী শারীরিক পরিশ্রম করেন এমনদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় পেশিতে টান ধরার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    ১. শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন

    ২. ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি

    ৩. দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করা

    ৪. অতিরিক্ত ব্যায়াম বা হঠাৎ বেশি শারীরিক পরিশ্রম

    ৫. গর্ভাবস্থা ও বয়সজনিত পেশির দুর্বলতা

    ৬. রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা

    ঘুমের মধ্যে পায়ে টান ধরলে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের মতে, ভয় না পেয়ে দ্রুত কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়—

    স্ট্রেচিং:

    আক্রান্ত পা সোজা করে পায়ের পাতাটি নিজের দিকে টানুন। হাত দিয়ে আঙুল ধরে টান দিলে কাফ মাসল প্রসারিত হয় এবং ব্যথা কমে।

    হাঁটাহাঁটি:

    বিছানা থেকে নেমে ধীরে ধীরে কিছুক্ষণ হাঁটলে পেশি শিথিল হয়।

    গরম সেঁক:

    টান ধরা স্থানে হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিন অথবা কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন।

    ম্যাসাজ:

    অল্প তেল দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং দ্রুত আরাম পাওয়া যায়।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

    ১. দিনে অন্তত ৩–৪ লিটার পানি পান করা

    ২. কলা, ডাবের পানি, বাদাম, পালং শাকসহ পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

    ৩. ঘুমানোর আগে পায়ের হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটা

    ৪. উপুড় হয়ে না ঘুমিয়ে চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমানো

    ৫. দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে কাজ না করা

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, যদি প্রায়ই পায়ে টান ধরে, পা ফুলে যায়, ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ কখনো কখনো এটি ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা বা রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার লক্ষণও হতে পারে।

  • কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন যেভাবে

    কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন যেভাবে

    মাসের শেষ দিকে এসে হাতের সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন কেউ কেউ নির্দ্বিধায় বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নেন।

    আবার অনেকেই ধার নিতে নিতে অভ্যাসে পরিণত করেন, কারও কাছে বিষয়টি লজ্জারও। উল্টো দিকে, পরিচিত কেউ বারবার টাকা চাইলে নিজের সামর্থ্যের কথা না ভেবেই অনেকেই ‘না’ বলতে না পেরে ধার দিয়ে বসেন। কিন্তু এই ছোট্ট ‘না’ বলতে না পারার অভ্যাসই কখনও কখনও বড় আর্থিক ও সম্পর্কের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবা সংস্থা Bankrate-এর ২০২৪ সালের ‘আর্থিক ট্যাবু’ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ এমন ভেবে টাকা ধার দিয়েছেন যে, পরে তা ফেরত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা আর ফিরে আসেনি। এর ফলে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    অনেকেই আগে থেকেই ধরে নেন, ধার দিলে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। না হলে নিজেই আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন, এমনকি প্রয়োজনের সময় নিজের জন্য টাকা না-ও থাকতে পারে। এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার সহজ উপায়, নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো।

    এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক থেরাপি বিশেষজ্ঞ এজা ইভান্স। তার মতে, প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কেউ টাকা চাইলে আপনি আদৌ ধার দিতে পারবেন কি না। যদি না পারেন, তাহলে সরাসরি জানাতে হবে যে আপনি সাহায্য করার অবস্থায় নেই। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।

    তবে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সব সময় সহজ নয়। কারণ, ঘনিষ্ঠ মানুষরা আপনার জীবনযাপন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন, কোথায় খরচ করছেন, কী কিনছেন ইত্যাদি। সেসব দেখে তারা আপনার আর্থিক অবস্থা নিয়ে ধারণা করে নিতে পারেন।

    তাই নিজেকে মনে করিয়ে দিন, আপনার খরচের হিসাব আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আছে বলেই যে তা ধার দেওয়া সম্ভব, এমন নয়।

    কেউ টাকা চাইলে সরাসরি ‘না’ বলা কঠিন হলে ছোট থেকে শুরু করতে পারেন। যেমন, কেউ যদি ৫ হাজার টাকা চান, কিন্তু তা দিলে আপনার বাজেটে চাপ পড়ে, তাহলে ৫০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সহায়তা করুন। প্রয়োজনে নিজের বর্তমান আর্থিক অবস্থাও খোলাখুলি জানাতে পারেন, এতে উভয়ের জন্যই বিষয়টি সহজ হয়।

    এভাবে আপনি হয়তো পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

    অন্যদিকে, কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, সে কী ভাবল, সম্পর্ক খারাপ হলো কি না। তবে নিজের বাস্তবতা মনে রাখুন। কারণ, ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়লে সেই চাপ আপনাকেই নিতে হবে।

    ধরা যাক, আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, বেতনের একটি অংশ নিয়মিত জমাতে চান। এমন লক্ষ্য থাকলে সেটি লিখে রাখুন। এতে কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ কিছুটা কমবে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন, আপনি কী অর্জন করতে চান এবং কেন।

    প্রয়োজনে মানসিক চাপ কমাতে পছন্দের কাজেও সময় দিতে পারেন। এতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং সিদ্ধান্তে স্থির থাকা সহজ হয়।

    সবশেষে, নিজের আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা এবং তা মেনে চলা শুরুতে কঠিন মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যায়। এতে আপনি যেমন নিজের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন, তেমনি সম্পর্কও অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে রক্ষা পাবে।

    সূত্র : সিএনবিসি

  • চেইন ছি’নিয়ে নিতে শিশু হ’ত্যা, ম’রদেহ লুকানো হয় চুলার ভেতর

    চেইন ছি’নিয়ে নিতে শিশু হ’ত্যা, ম’রদেহ লুকানো হয় চুলার ভেতর

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজ মরিয়ম আক্তার (৪) নামের এক শিশুর মরদেহ প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইফতারের আগমুহূর্ত সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের মেয়ে।

    পুলিশি হেফাজতে নেওয়া দুইজন হলেন- সাদ্দাম মিয়া (৩৮) ও তার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (১৬)। তারা মরিয়ম আক্তারের প্রতিবেশী।

    পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর মরিয়মকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজন দিনভর হন্যে হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

    পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় ওই প্রতিবেশী সাদ্দাম মিয়া ও তার ছেলে ইয়াছিন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। মরিয়ম আক্তারের গলায় ১২ আনা ওজনের রুপার একটি চেইন ছিল। নেশার টাকার জন্য সেই চেইন ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে ওই কিশোর। শিশুটি কান্না শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজেদের রান্নার চুলার ভেতর ঢুকিয়ে রাখে। রুপার চেইনটি ছিনিয়ে নিতেই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, কিশোর ইয়াছিন নেশাগ্রস্ত। শিশুটির গলায় থাকা একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি। ঈদের আগে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    নিহত মরিয়মের মামা হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে মরিয়মের জন্য নতুন জামা কিনে রেখেছিলেন তার বাবা-মা। আমি মরিয়মের জন্য নতুন জামা কিনতে বাজারে গিয়েছিলাম তখন খবর আসে মরিয়ম নিখোঁজ। মরিয়মের গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। আমাদের ধারণা, চেন ছিনতাইয়ের সময় মরিয়ম চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

    এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করছি, শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেইনের জন্য হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযুক্ত কিশোরকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • ঈদে নতুন জামা পরা হলো না মরিয়মের, চুলা থেকে নি’থর দে’হ উদ্ধার

    ঈদে নতুন জামা পরা হলো না মরিয়মের, চুলা থেকে নি’থর দে’হ উদ্ধার

    আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। একমাত্র কন্যা শিশুর জন্য কয়েক জোড়া ঈদের নতুন জামা-কাপড় কিনে রেখেছিল তার বাবা-মা। কিন্তু ঈদের সেই নতুন জামা-কাপড় পরার আগেই লাশ হল শিশু মরিয়ম আক্তার (৪)।


    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা। ঈদের আগে এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একইদিন ইফতারের আগে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    মরিয়মের মামা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাগনীর জন্য ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে ছিলেন তার বাবা-মা। আমিও আজ নতুন জামা কিনতে মার্কেটে গিয়েছিলাম। এমন সময় খবর আসে মরিয়মকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মরিয়মের গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। সেই চেইন ছিনতাই করে নেয়ার সময় চিৎকার শুরু করে মরিয়ম। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। আমরা নিষ্পাপ শিশু হত্যার বিচার চাই।’

    এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহজনক ওই এলাকার ইয়াছিন মিয়াকে (১৬) আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়াছিনের বাবা সাদ্দাম মিয়াকেও (৩৮) হেফাজতে নেয়।

    এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশু মরিয়মের নিথরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গলায় থাকা রূপার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে এমন কাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ইয়াছিন মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বাবাকেও পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

  • কোন ভি’টামিনের অভাবে চোখের নিচে কালি পড়ে? জেনে নিন

    কোন ভি’টামিনের অভাবে চোখের নিচে কালি পড়ে? জেনে নিন

    মুখের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে সুন্দর চোখের ওপর। আর সেই চোখ যদি হয় ক্লান্তিতে মোড়ানো, তাহলে তা হয়ে ওঠে সৌন্দর্য হানিকর। কিন্তু আপনি জানেন কি, বিশেষজ্ঞরা চোখের নিচে কালি পড়ার জন্য দায়ী করেছেন একটি ভিটামিনের অভাবকে।


    শুধু রাত জাগলেই যে চোখের নিচে কালি পড়ে, এমন ধারণায় অনেকে আটকে আছেন। তাই অনেকে চোখের নিচে কালি পড়লে শুরু করে দেন বাইরে থেকে রূপচর্চা। কিন্তু সমস্যাটা শরীরের ভেতরের।

     

    চোখের নিচে কালি পড়ার লক্ষণ প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ডি-র অভাবে এমনটা হয়ে থাকে। শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব হলে প্রথমে তা জানান দেবে আপনার চোখ।

     

    চোখের নিচে কালি পড়া ছাড়াও বেশ কিছু লক্ষণ দেখে আপনি বুঝতে পারবেন শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাব রয়েছে। যেমন: ক্লান্তিবোধ, অনিদ্রা, হাড় ব্যথা, অবসাদ, চুল পড়া, পেশিতে টান এমনসব উপসর্গও দেখা যায় যদি ভিটামিন ডি-র অভাব হয়।

     

    তাই এসব লক্ষণ দেখে দেরি করবেন না। শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাবের উপসর্গ দেখলেই সূর্যস্নান করতে পারেন। কারণ, সূর্যের আলোতে সপ্তাহে তিন দিন আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেই আপনার ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দূর হয়ে যাবে।

     
     

    ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দূর করতে নিয়মিত বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে ২০ মিনিট সূর্যস্নান করুন। ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণে সবচেয়ে সহজ আর দ্রুত কাজ করে এ উপায়।

     

    সূত্র: আনন্দবাজার

  • ঈদে নতুন চাঁদ দেখে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

    ঈদে নতুন চাঁদ দেখে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

    ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। হিজরি বর্ষে মাসের সূচনা, সমাপ্তিসহ রোজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইবাদত চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই রাসুল (সা.) চাঁদ দেখে কল্যাণের প্রার্থনা করে দোয়া করতেন। দোয়াটি হলো-

    اَللهُ أَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى، رَبِّىْ وَرَبُّكَ اللهُ

    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

    অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ।

    হাদিস: তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দোয়া পড়তেন।