পে’শিতে টা’ন পড়ে কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এর মধ্যে ভিটামিন ‘ই’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাট-দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। তবে শরীরে এর ঘাটতি সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না।

নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা বা পুষ্টি শোষণে জটিলতা থাকলে ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অনেক সময় ঘাটতির লক্ষণগুলোকে সাধারণ দুর্বলতা, চুল পড়া কিংবা ত্বকের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। তাই কোন লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং খাবারের মাধ্যমে কীভাবে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়, তা জানা জরুরি।

পেশির দুর্বলতা ও টান ধরা

ভিটামিন ‘ই’ আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম বা স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশির কোষগুলোতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

পেশিতে টান পড়া

ভিটামিন ‘ই’ স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এর তীব্র ঘাটতি হলে কোষে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। ফলে সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাহাঁটিতেই পেশি দুর্বল মনে হয় এবং মাঝরাতে পায়ের রগে বা পেশিতে তীব্র টান ধরে।

দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় (যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব

দীর্ঘদিন ধরে শরীরে ভিটামিন ‘ই’-র তীব্র ঘাটতি থাকলে স্নায়ুর সংযোগ বা নিউরনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে কষ্ট হয় । যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যাটাক্সিয়া’ বলা হয়। এ ছাড়া হাত ও পায়ের পাতায় পিন ফোটার মতো অনুভূতি বা অনবরত ঝিনঝিন ও অবশ ভাব দেখা দিতে পারে।

চোখের সমস্যাও হতে পারে

ভিটামিন ‘ই’ চোখের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিনের তীব্র ঘাটতিতে দৃষ্টিশক্তির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চোখ ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। তাই এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ত্বক ও চুলের পরিবর্তন

ভিটামিন ‘ই’ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে কাজ করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়ে যায়, চামড়া অতিরিক্ত শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে এবং অকালেই মুখে বলিরেখা ও কালচে ছোপ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে চুলের ফোলিকল ও মাথার স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখতে ভিটামিন ‘ই’ সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে চুল ঝরতে শুরু করে এবং হাতের নখ ভঙ্গুর বা পাতলা হয়ে খুব সহজেই ভেঙে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব

ভিটামিন ‘ই’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি থাকলে ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সামান্য ঋতু পরিবর্তনেই ঘন ঘন সর্দি, কাশি বা ইনফেকশন দেখা দেয়।

অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি

ভিটামিন ‘ই’-এর তীব্র ঘাটতি হলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে লোহিত রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হেমোলাইটিক অ্যানিমিয়া হতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে।

যেসব খাবারে মিলবে ভিটামিন ‘ই’

ভিটামিন ‘ই’ পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সুষম খাদ্য খাওয়া। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ ও বিভিন্ন বাদামে ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। পরিমাণমতো এসব খাবার নাশতা বা খাবারের সঙ্গে রাখা যেতে পারে।

উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যেও ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। সূর্যমুখী তেল, সয়াবিন তেল ও অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেল এর উৎস। তবে তেল যেহেতু ক্যালরিসমৃদ্ধ, তাই প্রয়োজনের বেশি খাওয়া উচিত নয়।

পালং শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি এবং অ্যাভোকাডো থেকেও ভিটামিন ‘ই’ পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

 সাপ্লিমেন্ট কি
সাধারণভাবে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাবার খেলে আলাদা করে ভিটামিন ‘ই’ সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট কিছু ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মেডিকেল নিউজ টুডে

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *