Blog

  • পে স্কেলের নতুন ভরসা ১১ জুন

    পে স্কেলের নতুন ভরসা ১১ জুন

    ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় উদ্যোগ ছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ। তবে নতুন সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না আসায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর মধ্যেই বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকা অন্য খাতে ব্যয়ের খবরে ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি কর্মচারীদের মাঝে। চলমান ইরান সংকট ও বৈশ্বিক উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

    তবে সব অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশার চোখ এখন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করা হবে। প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে এই বাজেটে বহুল প্রতীক্ষিত পে স্কেলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

    দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়া এবং সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলন বা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপের মুখে নতুন করে অভ্যন্তরীণ এই আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ নিতে পারে।

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়েছে।

    বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতখানি সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

    অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই নতুন বেতন কাঠামো এখনই পুরোপুরি দেওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সরকার পে স্কেল ইস্যুটি রিভিউ করার ঘোষণাও দিয়েছে।

  • এপ্রিলে টানা ৫ দিনের ছুটি মিলতে পারে যেভাবে

    এপ্রিলে টানা ৫ দিনের ছুটি মিলতে পারে যেভাবে

    ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি কাটিয়ে মাত্রই কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন চাকরিজীবীরা। তবে ছুটির আমেজ কাটতে না কাটতেই এপ্রিল মাসে আবারও টানা ৫ দিনের ছুটি পাওয়ার একটি দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ছুটির ব্যবস্থা করতে পারলেই এই লম্বা ছুটির সুযোগ নিতে পারবেন কর্মজীবীরা।

    সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি ছুটি থাকবে।

    এরপরের দুই দিন, অর্থাৎ ১৫ ও ১৬ এপ্রিল (বুধ ও বৃহস্পতিবার) অফিস-আদালত খোলা। তবে কোনো চাকরিজীবী যদি এই দুই দিন ছুটি ম্যানেজ করতে পারেন, তবে তার সঙ্গে যুক্ত হবে পরের শুক্র ও শনিবারের (১৭ ও ১৮ এপ্রিল) সাপ্তাহিক ছুটি।

    ফলস্বরূপ, ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে ১৮ এপ্রিল শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটির আমেজে কাটাতে পারবেন চাকরিজীবীরা।

  • বাবা-মায়ের বর্ণনায় একমাত্র সন্তানের পদ্মায় ত’লিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য

    বাবা-মায়ের বর্ণনায় একমাত্র সন্তানের পদ্মায় ত’লিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য

    পদ্মাপাড়ে প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের আহাজারিতে ঘাট এলাকায় হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে বাসডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দেলোয়ার হোসেন ও নুরনাহার তাদের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। বলছিলেন সেদিন কি ঘটেছিল।

    বাসের পেছনের দ্বিতীয় সারিতে জানালার পাশে বসে ছিলেন নুরনাহার। পাশে বসা স্বামী দেলোয়ার হোসেনের কোলে ছিল তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইসরাফিল হোসেন। বাস ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে পেছনের যাত্রীরা ধাক্কা লেগে সামনের দিকে চলে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বাস তলিয়ে যেতে থাকে। মুহূর্তেই বাবার হাত থেকে ছিটকে তলিয়ে যায় ইসরাফিল।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আহাজারি করতে করতে এভাবেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর কথা বলছিলেন নুরনাহার।

    নুরনাহারের বাবার বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। স্বামী দেলোয়ার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। ঈদের ছুটি শেষে পাংশা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁরা ঢাকায় ফিরছিলেন।একমাত্র ছেলেসন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নুরনাহার। বাসডুবির কিছুক্ষণ পর তিনি ভেসে ওঠেন। কীভাবে বের হয়েছেন জানেন না। ওই সময়ের বর্ণনা দিয়ে নুরনাহার বলেন, ‘বাস তলিয়ে যাওয়ার সময় সবাই বাসের ভেতর ঘুরতে থাকে। কখন কীভাবে বের হয়েছি কিছুই মনে নাই। শুধু কানে চিৎকার শুনতে পেয়েছি। ভেসে ওঠার পর কয়েকজন আমাকে একটা দড়ির সাহায্যে টেনে তোলে। উঠে নৌকার ওপর স্বামীকে দেখতে পাই। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাইনি।’

    দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলে আমার হাত ধরে ছিল। বাসে পানি ঢুকে গেলে সবাই ঘুরতে ঘুরতে তলিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে ছেলে হাত থেকে ছিটকে যায়। ছেলে চিৎকার দিয়ে ডাকে। এরপর কিছু মনে নাই। আমি কীভাবে ভেসে উঠছি তা আল্লাহ জানেন। উঠে দেখি পাশে ছোট নৌকা। অন্য লোকজন তাতে টেনে তোলে।’

    উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটি ওপরে তোলা হয়। ঢাকা অভিমুখে যাওয়া ওই বাসটিতে ৪০ থেকে ৫৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। 

  • ‘মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়, উপরে এসে মাকে খুঁজে পাচ্ছি না’

    ‘মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়, উপরে এসে মাকে খুঁজে পাচ্ছি না’

    আমি সাঁতার কেটে উপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না। আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। বাস হঠাৎ পদ্মা নদীর দিকে পড়ে যাচ্ছিল। নদীতে যখন পড়ে যায়, মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। কথাগুলো বলছিল পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে মায়ের কারণে বেঁচে ফেরা আট বছর বয়সী আলিফ।

    বুধবার (২৫ মার্চ) ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে সে ঢাকায় ফিরছিল। আলিফের নানি সাহেদা বেগম জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।

    জ্যোৎস্নাকে আমি রাজবাড়ী বড়পুল থেকে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, “আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে”। এরপর আর কোনো কথা শুনিনি।  আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেলো’। 

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ১১ যাত্রী সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসতে সক্ষম হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    এর আগে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তবে, ওই বাসে মোট কতজন ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

  • পদ্মায় বাসডু’বি: ‘কিছু লাগবে না, আমার সন্তানের লা’শটা উঠিয়ে দেন’

    পদ্মায় বাসডু’বি: ‘কিছু লাগবে না, আমার সন্তানের লা’শটা উঠিয়ে দেন’

    ৭ বছর বয়সী ছেলে সাবিত ও ১১ বছরের ভাগ্নি সোহানা আক্তারের লাশের জন্য রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন শরীফ নামে এক যুবক। ছেলে ও ভাগনির জন্য ঘাট এলাকায় আহাজারি করছেন তিনি। এসময় তিনি আহাজারি করতে করতে বলেন আমি কিছুিই চাই না, আমার কিছু লাগবে না, শুধু আমার সন্তানের লাশটা উঠিয়ে দেন আমাকে।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে  সৌহার্দ্য পরিবহনের ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ৮টা) এ ঘটনায় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ১১ জন সাঁতরে পারে উঠতে পেরেছেন। বাসে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে শরিফ বলেন, রাজবাড়ী থেকে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে , বোন ও বোনের ছেলে সৌহার্দ্য পরিবহন বাসে ওঠে। ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার পর আমার স্ত্রী, মেয়ে ও বোন স্থানীয়দের সহযোগিতায় পাড়ে উঠতে পারলেও আমার ৭ বছরের ছেলে সন্তান ও ১১ বছর বয়সী ভাগনি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আমার ছেলে ও ভাগনিতো আর নেই, এখন তাদের লাশটা আমাকে বুঝিয়ে দেন। আমার টাকার দরকার নেই, আমার সন্তানের লাশটা তারা আমাকে বুঝিয়ে দিক। আমার আর কিচ্ছু লাগবে না, আমার সব শেষ।

    রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে মানুষ। তারা স্বজনদের মরদেহ পাওয়ার আশায় রয়েছে।

  • আবারও ৩ দিনের ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা

    আবারও ৩ দিনের ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা

    পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ৩ দিনের ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ পেলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

    ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) একদিনের সরকারি ছুটি থাকছে।

    পরের দু’দিন শুক্র ও শনিবারও সাপ্তাহিক ছুটি। সবমিলিয়ে টানা ৩ দিনের লম্বা ছুটিতে সরকারি চাকরিজীবীরা।

    এর আগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোট ৭ দিনের সরকারি ছুটি ছিল। গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত লম্বা এই ছুটি কাটানোর পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে অফিস-আদালতে আবারও স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা ফিরে আসে। এরমধ্যেই আবারও লম্বা ছুটির সুযোগ পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

  • পদ্মায় বাস ডু’বি: নিরাপদ সড়ক চেয়ে মিজানুর রহমান আজহারীর স্ট্যাটাস

    পদ্মায় বাস ডু’বি: নিরাপদ সড়ক চেয়ে মিজানুর রহমান আজহারীর স্ট্যাটাস

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরাপদ সড়ক তিন দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।

    বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই দাবি জানান।

    পোস্টে সড়ক ও নৌপথে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আজহারী লিখেছেন, ‘নিরাপদ সড়ক, নৌপথ ও রেলপথ চাই।’

    উল্লেখ্য, বুধবার বিকালে দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পজিশন নেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাসটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জননিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মিজানুর রহমান আজহারীর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু জোরালো বার্তাটি এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে তিনি দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

  • পানির ৮০ ফুট গভীরে চলে গেছে বাসটি

    পানির ৮০ ফুট গভীরে চলে গেছে বাসটি

    দৌলতদিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি পানির আরও গভীরে চলে গেছে। প্রথম দিকে বাসটির সন্ধান পাওয়া যায় ৩০ ফুট পানির নিচে। পরে সেটি আস্তে আস্তে পানির ৮০ ফুট নিচে চলে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

    বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছে।
     

    ফায়ার সার্ভিস জানায়, আস্তে আস্তে বাসটি পদ্মা নদীর ৮০ ফুট নিচে চলে গেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে ওই বাস থেকে ডুবুরি দল দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।

     

    গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের ১টি ইউনিট এবং আরিচা ফায়ার স্টেশনের ১টি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও ২টি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের দিকে রওয়ানা হয়েছে।

    স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া বাসযাত্রীদের ভাষ্যমতে, ওই বাস থেকে ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ অনেক দেরিতে এসেছে পৌঁছেছে। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দলও এক ঘণ্টার বেশি সময় পর উদ্ধার কাজ শুরু করেছেন। 

    সৌহার্দ্য বাসে থাকা আবদুল আজিজুল নামে এক যাত্রী জানান, তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গান্ধীমারা এলাকা থেকে এই বাসটিতে উঠেছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে উপরে ‍উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিখোঁজ রয়েছেন।

    বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে এসেছিল। খুবই অল্প সংখ্যক যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পেরেছেন বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গেছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
     

  • ‘আমারে ছাইড়া কেমনে চইলা গেলা, আমি এখন কী করমু’

    ‘আমারে ছাইড়া কেমনে চইলা গেলা, আমি এখন কী করমু’

    ‘কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, আমি যাই; আমার ডিউটি আছে। বউ কইল না তুমি একলা একলা যাইবা। আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে ছাইড়া কেমনে একলা রাইখা চইলা গেলা। আমি এখন কী করমু?’ স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দৌলতদিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া বাসটি থেকে সাঁতরে তীরে আসা এক যাত্রী। 

    এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় ৩নং পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। 

    সাঁতরে তীরে আসা ওই যাত্রী বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম ২৯ মার্চ আমার ডিউটি আছে তোমরা বাড়ি থাকো, বউ শুনলো না। বললো, আব্দুল্লার বাপ তোমারে না দেখলে আমার ভালো লাগে না। আমি বাড়ি থাকমু না। তোমারে না দেখলে আমার অস্থির লাগে। এখন আমার কী হবে; কেমনে বাঁচমু?’

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই যুবক বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে আমি কুষ্টিয়া থেকে বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলাম। হঠাৎ বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় উল্টে নদীতে পড়ে যায়। আমি সাঁতরে কোনো রকম তীরে উঠে আসি।’

    এ বিষয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে আমাদের ডুবুরি দল আসছে। তারা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে।

  • বাস উল্টে নদীতে : ৪ জনের ম’রদেহ উদ্ধার, নিখোঁ’জ ৪৫

    বাস উল্টে নদীতে : ৪ জনের ম’রদেহ উদ্ধার, নিখোঁ’জ ৪৫

    রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

    স্থানীয় ও ঘাট সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটের পন্টুনে ওঠার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পদ্মায় পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।

    দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন বলে জানা গেছে।

    খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তবে বাসটি যেখানে পড়েছে, সেখানে পানির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে।

    রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ওই বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন। এখন পর্যন্ত সাতজনকে জীবিত ও চারজন মৃত অবস্থায় উদ্ধার হলেও বাকি ৪৫ জনের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ঘাট এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।