Blog

  • এইচএসসি পরীক্ষা কবে শুরু, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    এইচএসসি পরীক্ষা কবে শুরু, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    চলতি বছরের এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৭ জুন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    এর আগে রোববার (২৯ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বোর্ড চেয়ারম্যানদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় অংশ নেয়া একজন চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, ‌‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সবশেষ বৈঠকে তার দেয়া দিকনির্দেশনা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে আগামী ৭ জুন পরীক্ষা শুরুর তারিখ ঠিক করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন দিলে চূড়ান্ত সময়সূচি করা হবে। শিগগির এটি প্রকাশ করা হবে।’

    এদিকে এ বছর থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বড় একটি পরিবর্তন আসছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে তা চালু ছিল না।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ১১টি বোর্ড—সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি—সবগুলোতেই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্নপত্রে সমতা নিশ্চিত হবে এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

     

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হতে পারে।

  • হা’ম কীভাবে ছড়ায় এবং লক্ষণ কী? জেনে নিন

    হা’ম কীভাবে ছড়ায় এবং লক্ষণ কী? জেনে নিন

    হঠাৎ হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি করা হচ্ছে হাম আক্রান্তদের।

    এরইমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসে কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মূলত হামের টিকা না দেয়া, শিশুদের মায়ের বুক দুধ ঠিকমতো পান না করানো, প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক না খাওয়ানো এবং অপুষ্টির কারণেই হামের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    যেভাবে ছড়ায় হাম

    হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণগুলোর মধ্যে একটি। এই ভাইরাসটি আক্রান্ত ব্যক্তির নাক এবং গলার মিউকাস মেমব্রেনে বাস করে এবং মূলত কাশি, হাঁচি, এমনকি অন্যদের কাছাকাছি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

    একবার বাতাসে ছেড়ে দিলে, হামের কণাগুলো পৃষ্ঠের উপর বা বাতাসে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করে চোখ, নাক বা মুখ ঘষলেই সংক্রমণ হতে পারে।

    হাম ছড়ানোর সাধারণ উপায়
    ১. সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে সরাসরি যোগাযোগ।
    ২. শ্বাস-প্রশ্বাসের ফোঁটার মাধ্যমে (কাশি বা হাঁচি থেকে) বায়ুবাহিত সংক্রমণ।
    ৩. দরজার হাতল বা আসবাবের মতো দূষিত জিনিস স্পর্শ করা এবং তারপর আপনার মুখ স্পর্শ করা।

    লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই, সংক্রামিত ব্যক্তি অজান্তেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে। ফুসকুড়ি দেখা দেয়ার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত হাম সংক্রামক।

    একবার শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে, ভাইরাসটি দ্রুত গলা, ফুসফুস, লিম্ফ নোডের মতো অঞ্চলে বৃদ্ধি পায় এবং পরে চোখ, মূত্রনালী, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত সংস্পর্শে আসার ৯ থেকে ১১ দিন পরে লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

    টিকা না নেয়া প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ যদি আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই বাড়িতে বাস করেন, তাহলে তাদের হাম হয়ে যাবে।

    উচ্চ সংক্রমণ হারের কারণে, হামের প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে কম টিকাদানের আওতাভুক্ত সম্প্রদায়গুলিতে। এই কারণেই এর বিস্তার রোধ করার জন্য টিকাদান এবং প্রাথমিকভাবে আক্রান্তদের আলাদা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
     

     

    হামের লক্ষণ

     

    হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত), সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং এরপর সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ১০-১৪ দিন পর লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এর আগে মুখে, বিশেষ করে গালে, ছোট সাদা দাগ (Koplik spots) দেখা যেতে পারে।

    প্রাথমিক লক্ষণ (প্রথম ৩-৪ দিন)
    >শুষ্ক কাশি
    >সর্দি
    >স্বরভঙ্গ অথবা গলায় জ্বালাপোড়া
    >পানিযুক্ত, লাল, এবং চুলকানিযুক্ত চোখ
    >আলোর সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া)
    >শরীরে হালকা ব্যথা এবং ক্লান্তি
    >কোপলিকের দাগ: নীলাভ কেন্দ্রবিশিষ্ট ছোট সাদা দাগ, সাধারণত মুখের ভেতরে গাল এবং গলায় – হামের একটি ক্লাসিক প্রাথমিক লক্ষণ।
    >ফুসকুড়ি উন্নয়ন

    কাছাকাছি প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেয়ার ৩ থেকে ৪ দিন পরে, দ্য লালচে-বাদামী ত্বকের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এটি সাধারণত:
    >কানের পেছনে শুরু হয়
    >মুখ, ঘাড় এবং শরীরের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে
    >ধড়, বাহু এবং পা ঢেকে রাখার জন্য অগ্রগতি হয়
    >ছোট লাল দাগ দিয়ে শুরু হয় কিন্তু বড় দাগের মতো হয়ে যেতে পারে।
    >ফুসকুড়ি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় ৫ থেকে ৭ দিন
    >ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে, জ্বর ধীরে ধীরে কমে যাওয়ার আগে আবার ফিরে আসতে পারে বা আরও খারাপ হতে পারে।
    >ফুসকুড়ি দেখা দেয়ার আগেই হাম অত্যন্ত সংক্রামক। প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করলে এর বিস্তার রোধ করা যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব।

     

    সতর্কতা: হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। হামের কারণে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো গুরুতর জটিলতা হতে পারে। আপনার বা আপনার শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা দান নিশ্চিত করুন।
     

    লেখাটি অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

  • সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়তে পারে

    সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়তে পারে

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলে। নতুন সরবরাহ কম থাকায় মজুদ দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

    এরই অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের।

    একই সঙ্গে ওয়ার্ক ফ্রম হোম কর্মসূচি বা অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিমধ্যে সব সকরারি সংস্থাকে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হবে।

    সেখানে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

    এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে ৪০ মিনিট অবস্থান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অধীন দফতর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এই নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

  • বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে: বিশেষ কমিটির সভা

    বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে: বিশেষ কমিটির সভা

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

    এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এর বিরোধিতা করেছেন কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

    রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

    সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।’

    তবে গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন বৈঠকে। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

    বৈঠক ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’

    কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

    এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়তো বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। সেগুলো নিয়ে চিন্তা হলো, পরবর্তী অধিবেশনে যেগুলো পাস করতে চাইবে, বিল আকারে আনব।’

    তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় ও সরকারি দলের সদস্যরা কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় যার যার বক্তব্য দিতে পারবেন।

  • ডিপো থেকে জ্বা’লানি তেল সরবরাহে নতুন সময় নির্ধারণ

    ডিপো থেকে জ্বা’লানি তেল সরবরাহে নতুন সময় নির্ধারণ

    দেশের ফিলিং স্টেশন ও পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে ডিপো থেকে তেল খালাসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শনিবার (২৮ মার্চ) বিপিসির এক বার্তায় নতুন এই সময়সূচির কথা জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের সব ফিলিং স্টেশন, পড পয়েন্ট, ডিলার ও পাম্পগুলোতে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসির অধীনস্থ প্রধান স্থাপনা ও ডিপোগুলো থেকে পণ্য সরবরাহের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে প্রধান স্থাপনা ও ডিপোগুলো থেকে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম প্রতিদিন সকাল ৭টায় শুরু হবে এবং শেষ হবে বিকেল ৩টায়। সারা দেশের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।

  • গাড়ির উ’ল্টো দিকে বসলেই ব’মি? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

    গাড়ির উ’ল্টো দিকে বসলেই ব’মি? জেনে নিন কারণ ও প্রতিকার

    বাস, ট্রেন বা গাড়ির জানালার পাশের সিট ভ্রমণকে করে তোলে আনন্দদায়ক; কিন্তু সেই সিট যদি যাতায়াতের বিপরীত দিকে মুখ করা হয়, অনেকের জন্যই তা হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব—এসব সমস্যার মূল কারণ হলো ‘মোশন সিকনেস’, যার পেছনে রয়েছে আমাদের শরীরের জটিল স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া।

    মস্তিষ্ক সবসময় চায় চোখ ও শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশ (অন্তকর্ণ) থেকে একই ধরনের সংকেত পেতে; কিন্তু উল্টো দিকে বসলে এই সমন্বয় নষ্ট হয়ে যায়। চোখ দেখে মনে হয় আপনি পেছনের দিকে সরে যাচ্ছেন, অথচ অন্তকর্ণ অনুভব করে আপনি সামনের দিকে এগোচ্ছেন। এই দ্বৈত সংকেত মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যার ফলেই শুরু হয় মাথাঘোরা বা বমি।

    এছাড়া সোজা দিকে বসলে মস্তিষ্ক আগাম বুঝতে পারে কখন গাড়ি মোড় নেবে বা গতি পরিবর্তন করবে; কিন্তু উল্টো দিকে বসলে এই পূর্বাভাস পাওয়া যায় না। ফলে হঠাৎ ঝাঁকুনি বা বাঁকে শরীর প্রস্তুত থাকতে পারে না, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়—বিশেষ করে পাহাড়ি বা আঁকাবাঁকা রাস্তায়।

    উপায় কী
    কিছু সহজ উপায় মেনে চললে এ অস্বস্তি কমানো সম্ভব। যেমন—চোখ বন্ধ রাখা বা দূরের স্থির কোনো কিছুর দিকে তাকানো মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি কমায়। মাথা যতটা সম্ভব স্থির রাখলে অন্তকর্ণের উপর চাপ কম পড়ে। গাড়ির মাঝামাঝি জায়গায় বসলে ঝাঁকুনি কম অনুভূত হয়। পাশাপাশি গান শোনা বা গল্পে মন দিলে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায়, ফলে অস্বস্তি কমে।

    তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—উল্টো দিকে বসে মোবাইল বা বই পড়া এড়িয়ে চলা উচিত। এতে চোখ ও মস্তিষ্কের সংকেতের অসামঞ্জস্য আরও বেড়ে যায়। সচেতনতা আর কিছু সহজ কৌশলই পারে ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রবিবার, মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে রবিবার, মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা

    পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষ হচ্ছে শনিবার (২৮ মার্চ)। আগামীকাল রবিবার থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুখর হয়ে উঠবে শিক্ষার্থীদের পদচারণে।

    এদিকে ছুটি শেষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বছরব্যাপী তদারকি নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

    প্রধান নির্দেশনাসমূহ

    আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬-এর ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫টি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে :

    ১. ছুটি-পরবর্তী প্রস্তুতি : ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

    ২. নিয়মিত তদারকি : প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য তদারকি কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে।

    ৩. সাপ্তাহিক অভিযান : প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

    ৪. সবুজায়ন ও বাগান : প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিয়মিত বাগান পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫. সচেতনতা বৃদ্ধি : শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

  • রানা প্লাজা থেকে বেঁ’চে ফেরা নাসিমার জী’বন শেষ হলো পদ্মায় বাসডু’বিতে

    রানা প্লাজা থেকে বেঁ’চে ফেরা নাসিমার জী’বন শেষ হলো পদ্মায় বাসডু’বিতে

    ২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম (৪০)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা সেই নাসিমার জীবনের লড়াই শেষ পর্যন্ত থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায়।

    গত বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ঢাকা ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে অন্যদের সঙ্গে নাসিমাসহ একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর স্থানীয় পারিবারিক কবরস্থানে নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত অন্যরা হলেন—নাসিমার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছর বয়সী শিশু আব্দুর রহমান।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে নাসিমা তার ভাগনি, ভাগনি জামাই ও শিশুকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে বাসে রওনা হন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য তিনজন নিখোঁজ থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    মর্মান্তিক এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিহতদের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় এই দুর্ঘটনায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

    নাসিমা বেগমের জীবনের গল্পটি ছিল লড়াই আর সংগ্রামের। ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসের সময় তিনি ওই ভবনে কর্মরত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্রামে থাকলেও স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে তিনি আবারও ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই যাত্রাই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

    পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

    পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন। মৃত্যু আর ভাগ্য বিড়ম্বনার এমন সমাপতন পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

  • অজুর পর মূ’ত্র ফোঁ’টা বেরিয়েছে মনে হলে যা করবেন

    অজুর পর মূ’ত্র ফোঁ’টা বেরিয়েছে মনে হলে যা করবেন

    প্রস্রাব করার পর ভালো করে ঢিলা ব্যবহার করা সত্ত্বেও বারবার মনে হতে থাকে— মূত্রফোঁটা বের হয়েছে। নামাজে রুকুতে বা সিজদায় যাওয়ার সময় এমনটা খুব হয়। কিন্তু যাচাই করে কিছুই পাই না। জানার বিষয় হলো- এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আর নামাজে মূত্রফোঁটা বের হলে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

    এই প্রশ্নের উত্তর হলো- প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কর্তব্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনের পর সেখানে কিছু পানি ছিটিয়ে দেওয়া। তারপর আর যাচাই করতে না যাওয়া এবং নামাজে দাঁড়িয়ে মূত্রফোঁটা আসল কি না— সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নামাজ চালিয়ে যাওয়া।

    আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এক লোক তার এই সমস্যার কথা জানালে— তিনি তাকে এমনটি করতে বলেন এবং তাকে এই আদেশ দেন যে, ‘তুমি ওযু করার পর তোমার লজ্জাস্থানে পানি ছিটিয়ে নেবে। অতঃপর যদি আর্দ্রতা অনুভব হয়— তবে সেটাকে তোমার ছিঁটানো পানির আর্দ্রতা বলে মনে করবে।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা : ৫৮৩)

    সুতরাং আপনিও এভাবে পবিত্রতা অর্জন করবেন এবং নামাজ আদায় করবেন। আর ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহকে মোটেও মনে স্থান দেবেন না।

    তথ্যসূত্র : মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা : ৫৯৫; কিতাবুল আছল : ১/৫৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/১৮; আল-মুহিতুল বুরহানি : ১/২১৮, ২৬৯; বাদায়িউস সানায়ি : ১/১৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৯

    প্রশ্নটি করেছেন : হাফিজ উদ্দিন, উত্তরা, ঢাকা

  • নেপালে নতুন সরকার শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রে’প্তার

    নেপালে নতুন সরকার শপথের পরদিনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্রে’প্তার

    নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গত বছরের প্রাণঘাতী জেনজি বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শপথ নেওয়ার পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

    শনিবার (২৮ মার্চ) কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশ ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকার বাসা থেকে তাকে আটক করে। ওলির সঙ্গে তার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    কাঠমান্ডু ভ্যালি পুলিশের মুখপাত্র ওম অধিকারী বলেন, শনিবার সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ওলিকে গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরই নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

    তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং বিদায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে আটক করেছি। এটি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়; এটি ন্যায়বিচারের শুরু মাত্র। আমি বিশ্বাস করি, এখন দেশ একটি নতুন পথে এগোবে। তবে ওলি দাবি করেছেন, তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

    গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতিবিরোধী যুব আন্দোলনে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১৯ জন তরুণ। এই বিক্ষোভ শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বল্প সময়ের এক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এর পেছনে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ কাজ করছিল। পরের দিন এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ও সরকারি ভবনগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ফলে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে।

    এরপর নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি স্বল্প সময়ের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন। অবসর ভেঙে দায়িত্ব নেওয়া তার এই সময়কালকে নেপালের নাজুক গণতন্ত্রে স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা হয়। পরবর্তীতে র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিক্ষোভের সহিংসতা তদন্তে একটি প্যানেল গঠন করা হয়। শুক্রবার বালেন্দ্র শাহের সভাপতিত্বে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চপদে থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভ চলাকালে অবহেলার কারণে ওলি ও লেখকসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গুলি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো চেষ্টা করা হয়নি এবং দায়িত্বহীন আচরণের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্করাও প্রাণ হারিয়েছে।

    তদন্ত কমিশন আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে নেপাল পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক চন্দ্র কুবের খাপুংও রয়েছেন।