পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি। শনিবার (২ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মে মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৮ মে পটুয়াখালী এবং ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া আগামী ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হবে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি কর্মচারীরা এখনো নতুন কোনো পে স্কেল পাননি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অধিকাংশ কর্মচারী ঋণের বোঝায় জর্জরিত এবং মাস শেষে ঋণ পরিশোধের পর যে বেতন হাতে থাকে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো সম্ভব হয় না।

ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই নতুন করে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন।

সংগঠনটির মতে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ না রাখা হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। দেশের উন্নয়নে ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে ২২ লাখ কর্মচারী পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে বলে প্রত্যাশা তাদের

নানা সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের ৯ম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত হওয়া কমিটি।

এই কমিটির সুপারিশ আগামী পহেলা জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে কয়েকটি ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন জুলাই থেকে প্রথম ধাপের সুপারিশ অর্থাৎ মূল বেতন বৃদ্ধিরে বিষয়টি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *