Category: Uncategorized

  • ব’য়স কম কিন্তু মনে হচ্ছে বেশি, যে তিন ভি’টামিনের অ’ভাব

    ব’য়স কম কিন্তু মনে হচ্ছে বেশি, যে তিন ভি’টামিনের অ’ভাব

    আমাদের ত্বক সুস্থ রাখার প্রথম শর্তই হলো পুষ্টিকর খাবার। খাদ্যাভ্যাস ভালো না হলে সুন্দর ত্বক পাওয়া অসম্ভব। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়— বয়স কম কিন্তু মনে হচ্ছে বয়স বেশি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন— কয়েকটি ভিটামিনের অভাবে এমনটা হয়। এমন অবস্থায় শরীরকে দিতে হবে এই তিন ভিটামিন। পুষ্টি বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ বিষয়ে জানানো হলো।

     

    ভিটামিন সি
    এটা ত্বকের ভেতর ও বাইরে দুই স্তরেই কাজ করে। ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত ও ক্যান্সার প্রতিরোধক। এটা কোষকলা উৎপাদন করে ও প্রোটিন ত্বককে দৃঢ় ও নমনীয় করে। ভিটামিন সি বয়সের ছাপ কমায় ও ত্বক টানটান ও কোমল রাখে।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার
    টক ফল যেমন- কমলা, লেবু, আঙুর-জাতীয় ফল, মিষ্টি লেবু। স্ট্রবেরি, কিউই, পেঁপে। টমেটো। সবজি যেমন- ব্রকলি, ফুলকপি।

     

    ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
    সুন্দর ত্বকের জন্য খাবারে নায়াসিন অথবা ভিটামিন বি-থ্রি যোগ করা প্রয়োজন। ত্বকের মসৃণভাব বাড়াতে, বলিরেখা দূর করতে ও কোমলভাব আনতে ভিটামিন বি-থ্রি জরুরি। এটা ত্বকে সেরামাইডস ও ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে ভূমিকা রেখে ত্বকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এছাড়াও ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করে কোমল ভাব ধরে রাখতে ভিটামিন বি গ্রহণ করা প্রয়োজন। ফলিক অ্যাসিড অথবা ভিটামিন বি-নাইন কোষ উৎপাদন ও কোষের বৃদ্ধির জন্য জরুরি। তারুণ্যময় ত্বকের প্রথম শর্ত হল স্বাস্থ্যকর কোষ।

    ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার
    বাদামি চাল ও শস্য যেমন- বাজরা, বার্লি। ডিম ও দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। সবজি, বীজ ও বাদাম।

    ভিটামিন ই
    আরেকটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উন্মুক্ত রেডিকেলের কারণে হওয়া ত্বকের জারনের ক্ষয় হ্রাস করে। এই ভিটামিনে আছে প্রদাহনাশক উপাদান যা ত্বক কোমল ও মসৃণ করতে সাহায্য করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভিটামিন ই ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্র রাখে। ত্বক কোমল ও মসৃণ করতে সহায়তা করে।

    ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার
    সবুজ সবজি যেমন- পালংশাক ও ব্রকলি। বাদাম- চিনা বাদাম, কাঠ বাদাম ও হ্যাজেল বাদাম। সূর্যমুখীর বীজ।

  • সকালে খা’লি পে’টে র’সুন-ম’ধু  এ’কস’ঙ্গে খে’লে যা হয়

    সকালে খা’লি পে’টে র’সুন-ম’ধু এ’কস’ঙ্গে খে’লে যা হয়

    কেবল খাবার হিসেবে নয়, বহুকাল আগে থেকে রসুন ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি জাতিই রসুনকে বিভিন্ন অসুখ থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার করে আসছে।

    প্রাচীন গ্রিকরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই রসুনের ব্যবহার করত। এ ছাড়া অলিম্পিক গেমের ক্রীড়াবিদরা প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য রসুন খেতেন। প্রাচীন চীন ও জাপানে রসুনকে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হতো। ভারতে হৃদরোগ ও গাঁটে ব্যথা প্রতিরোধে দীর্ঘকাল ধরেই রসুন ব্যবহার হয়ে আসছে।

    আবার বিভিন্ন দেশে রোগ নিরাময়কারী উপাদান হিসেবে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশ শতকের মাঝামাঝি এসে একে অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়। মধুকে সংক্রমণ প্রতিরোধী উপাদান হিসেবে ধরা হয়। এই দুটো চমৎকার জিনিস যখন একসঙ্গে হয়, তখন এর গুণ বেড়ে যায় আরো বেশি।

    রসুন ও মধুর মিশ্রণ বিভিন্ন ধরনের  সংক্রমণ, ঠান্ডা, জ্বর, কফ ইত্যাদি সারাতে বেশ ভালো কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কেবল সাতদিন রসুন ও মধুর মিশ্রণ খেলে বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে শরীরকে অনেকটাই রক্ষা করা যায়।

    জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট রাইস আর্থ জানিয়েছে মধু ও রসুনের এই মিশ্রণটি তৈরির প্রণালি।

    উপাদান

    একটি মাঝারি আকৃতির বয়াম, মধু, তিন থেকে চারটি রসুন। (খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো বের করুন।)

    প্রণালি

    প্রথমে বয়ামের মধ্যে রসুনের কোয়াগুলো নিন। এরপর এর মধ্যে মধু ঢালুন। বয়ামের মুখ বন্ধ করে মিশ্রণটি ফ্রিজের মধ্যে সংরক্ষণ করুন।

    প্রতিদিন খালি পেটে মিশ্রণটি আধা চা চামচ করে খান। ঠান্ডাজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য দিনে ছয়বার আধা চা চামচ করে এটি খেতে পারেন। এটি সংক্রমণ দূর করতে কাজ করবে।

  • ফ্যা’টি লি’ভার দূ’র করার প্রা’কৃতিক উ’পায়, জেনে নিন কা’জে লা’গবে

    ফ্যা’টি লি’ভার দূ’র করার প্রা’কৃতিক উ’পায়, জেনে নিন কা’জে লা’গবে

    ফ্যাটি লিভার ডিজিজ নীরবে তৈরি হয়। এর কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ বা তাৎক্ষণিক সতর্ক সংকেত থাকে না, লিভার ধীরে ধীরে চর্বিতে ভরে যায়। অনেকের কাছে এই রোগ নির্ণয়টি উদ্বেগজনক মনে হয়। কিন্তু একটি আশ্বস্তকারী সত্য হলো, এটি এমন কয়েকটি রোগের মধ্যে একটি যেখানে সঠিক সহায়তা পেলে শরীর সত্যিই নিজেকে সুস্থ করে তুলতে পারে। আসল প্রশ্নটি এটা নয় যে ওষুধ ছাড়া এটি সেরে উঠতে পারে কি না। বরং প্রশ্নটি হলো, লিভারের প্রকৃত প্রয়োজনের সঙ্গে দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

    শরীরের অভ্যন্তরে ফ্যাটি লিভারের আসল অর্থ কী

    ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD), তখন দেখা দেয় যখন লিভারের কোষগুলোতে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। এটি শুধু চর্বি জমার বিষয় নয়। এটি একটি লক্ষণ যে শরীর সঠিকভাবে শক্তি প্রক্রিয়াকরণে হিমশিম খাচ্ছে।

    এর কেন্দ্রে রয়েছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। শরীর ইনসুলিনের প্রতি ভালোভাবে সাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেয়, ফলে রক্তে শর্করা বেশিক্ষণ থেকে যায়। এরপর লিভার এই অতিরিক্ত শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তরিত করে এবং তা সঞ্চয় করে।

    কেন ওষুধ সবসময় প্রথম সমাধান নয়

    প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভারের জন্য ওষুধ প্রধান সমাধান নয়। ওষুধের অভাবে লিভার অকার্যকর হয়ে পড়ছে না। এটি দৈনন্দিন বিভিন্ন উপাদান, খাবার, নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ফ্যাটি লিভার ডিজিজ মানে শুধু একটি ওষুধের প্রয়োজন নয়, বরং এর মূল কারণটি বোঝাটাই বেশি জরুরি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজে, ওষুধ ছাড়াই এর প্রতিকার করা সম্ভব, তবে এর জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

    বিজ্ঞান-সমর্থিত সত্য: ওজন কমালে কাজ হয়

    বিশ্বব্যাপী গবেষণায় সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফলের মধ্যে একটি হলো, পরিমিত ওজন কমালে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে দূর করা যায়। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস-এর একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে যে, শরীরের ৭-১০% ওজন কমালে লিভারের চর্বি, প্রদাহ এবং এমনকি প্রাথমিক ক্ষতও হ্রাস পেতে পারে।

    খাদ্য নির্বাচন

    লিভার প্রতিদিন যা খাওয়া হয় তাতে দ্রুত সাড়া দেয়। তাই খাদ্যাভ্যাসের মান উন্নত করুন। এর মূল কথা হলো কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা এবং কার্বোহাইড্রেট অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা, পাশাপাশি খাবারে আরও বেশি ফাইবার যোগ করা নিশ্চিত করা। পরিশোধিত ময়দার পরিবর্তে গোটা শস্য, তাজা শাক-সবজি এবং ফল, বাদাম এবং অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি, মাছ এবং ডালের মতো চর্বিহীন প্রোটিন নিয়মিত খান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লুকানো চিনি এবং অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো।

    ব্যায়াম: সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে উপেক্ষিত উপায়

    কার্যকর হওয়ার জন্য ব্যায়ামকে তীব্র হতে হবে না। লিভার নিয়মিত নড়াচড়ায় সাড়া দেয়, মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে করা নড়াচড়ায় নয়। বেশিরভাগ দিন ৩০-৪০ মিনিটের দ্রুত হাঁটাও ধীরে ধীরে লিভারের চর্বি কমাতে পারে। ব্যায়াম পেশীগুলোকে ভালোভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে, যা লিভারের ওপর চাপ কমায়। বেশিরভাগ দিন ৩০-৪০ মিনিটের সাধারণ হাঁটাও ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

    ঘুম এবং ধৈর্যের ভূমিকা

    জীবনযাত্রা শুধু খাবার এবং ব্যায়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঘুম এবং মানসিক চাপ সরাসরি বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা শরীরকে লিভারসহ অন্যান্য স্থানে আরও বেশি চর্বি জমা করতে উৎসাহিত করে। এই অবস্থার পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও ধীর। দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যায় না, যা প্রায়শই হতাশার কারণ হয়।

  • ঘু’মের মধ্যে হ’ঠাৎ পা’য়ের র’গে টা’ন ধ’রলে যা করবেন, জেনে নিন

    ঘু’মের মধ্যে হ’ঠাৎ পা’য়ের র’গে টা’ন ধ’রলে যা করবেন, জেনে নিন

    শীতে পায়ের রগে টান ধরার ঘটনা বেড়ে যায়। ঘুমের মধ্যেই বেশিরভাগ মানুষের পায়ের রগে টান ধরে। আবার ঘুম থেকে উঠতে গেলে কিংবা সকালে হাঁটা শুরু করতেই পায়ের শিরায় টান ধরে অনেকেরই। কখনো আবার হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎই বেঁকে যায় পায়ের আঙুল।

    আসলে রগে পা পেশিতে টান ধরার কারণ হলো ডিহাইড্রেশন। শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে এই টান ধরার প্রবণতা বাড়ে। শীতে পানি খাওয়ার পরিমাণ কম হয়। ফলে শরীরে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। এছাড়া আরও কিছু কারণে পায়ের রগে টান ধরতে পারে যেমন-

    >> শরীরে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামের ঘাটতি।>> অতিরিক্ত ব্যায়াম, পরিশ্রম বা পায়ের পেশির বেশি ব্যবহার।>> পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন। >> খুব ঠান্ডা আবহাওয়া।>> গর্ভকালীন খনিজের অভাব।>> বেশিক্ষণ সময় বসে থাকা, শক্ত জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা বা ঘুমের সময় ভুল দেহভঙ্গির কারণে এমন হতে পারে।

    হঠাৎ পায়ের রগে টান ধরলে দ্রুত যা করবেন-

    >> হাত-পা-আঙুলের ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি পেতে আক্রান্ত স্থান ও এর চারপাশে আঙুলের চাপে ম্যাসাজ করুন। এমনভাবে ম্যাসাজ করতে হবে যাতে শক্ত হয়ে যাওয়া পেশি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।

    >> পায়ে ক্র্যাম্পের ক্ষেত্রে হালকা করে চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে স্ট্রেচিং করুন। অন্য কোনো ব্যায়াম এ সময় না করাই ভালো।

    >> হট ব্যাগ ব্যবহার করুন টান ধরার জায়গায়। ১০ সেকেন্ড রাখার পর সেখানে বরফ সেঁক দিন। আবার ১০ সেকেন্ড পর হট ব্যাগ দিন। এভাবে ঠান্ডা ও গরম সেঁক দিলে ব্যথা কমতে শুরু করবে।

    >> হঠাৎ পায়ে টান ধরলে শক্ত কোনো কাজ করবেন না। এতে টান ধরা জায়গায় চাপ পড়তে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

    >> সারা দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা করতে ডাবের পানি বা লেবুর পানিও পান করতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পানির ঘাটতির জন্যই এমনটি হয়।

    সূত্র: জি নিউজ

  • দাঁ’ত ও ন’খের সা’দা দা’গ থেকে সা’বধান! না হলে অপেক্ষা করছে ভ’য়ংকর বি’পদ

    দাঁ’ত ও ন’খের সা’দা দা’গ থেকে সা’বধান! না হলে অপেক্ষা করছে ভ’য়ংকর বি’পদ

    দাঁত ও নখের সাদা দাগ থেকে সাবধান! না হলে মানব দেহের ভেতরে রোগের প্রতিফলন ঘটে শরীরের বাহ্যিক নানা লক্ষণের মাধ্যমে।অনেক সময় দাঁত ও নখের উপর তৈরি হওয়া সাদা ছোপ ছোপ দাগ রোগের কারণ হতে পারে। সম্প্রতি

    মান্থলি হেলথ জার্নাল অফ টরোন্টোতে এই বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যে কারণে দাঁতের উপরে সাদা দাগ- যদিও বাচ্চাদের দাঁতের মধ্যে এই ধরনের দাগ সাদা দেখা যায়।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই দাগ মিলিয়েও যায়।কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের দাঁতে এই সাদা দাগ সাধারণ ভাবে এনামেল ঘটিত সমস্যাকে চিহ্নিত করে।ডাক্তারি পরিভাষায় এই

    রোগের ন‌াম ‘এনামেল হাইপোপ্ল্যাসিয়া’। এটা দাঁতের ক্ষয়ের প্রথম লক্ষণ। এই রোগের কোন ঘরোয়া প্রতিকার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ক্যালসিয়াম পাউডার দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে কিছুটা প্রতিকার সম্ভব। ফলে দাঁতের ডাক্তারের দ্বারস্থ হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া অনেক সময়ে ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগের কারণেও দাঁতে এরকম সাদা দাগ দেখা দিতে পারে।

    তাকে বলা হয় প্লাক। যে কারণে নখের উপর সাদা দাগ- সাধারণত কোন আঘাতজনিত কারণে অধিকাংশ সময়েই নখের উপর এই ধরনের দাগ তৈরি হয়। যার হাতে আঘাত লাগছে, তিনি অনেক সময় টেরও পান না যে আঘাত লেগেছে। কিন্তু পরে নখের উপর দেখা দেয় ওই সাদা দাগ। এছাড়া নখের উপর সাদা দাগের সৃষ্টি হতে পারে শরীরে জিংকের

    অভাবের কারণে। জিংকের অভাবের ফলে তৈরি হওয়া এই ধরনের দাগকে বলা হয় ‘লিউকোনিচিয়া’। জিংকের অভাবের কারণে আপনার শরীরে কোন ক্ষত শুকোতে যেমন সময় লাগে, তেমনই মুখের ভিতর কিংবা অন্য কোন স্পর্শকাতর জায়গায় দেখা দিতে পারে ঘা বা আলসার। এছাড়া জিংকের অভাবের ফলে দেখা দেয় নারী পুরুষের যৌন সমস্যাও। জিংকের অভাব মেটাতে ডিম,

    মাছ, দুধ, বিনস, বাদাম এবং মুসুর ডালের মতো খাবার অত্যন্ত উপকারী।কাজেই নখে যদি এই রকম সাদা দাগ দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায়, তাহলে অবিলম্বে এই জাতীয় খাবার খাওয়া শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ

  • ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত? জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত? জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    আধুনিকতার এই সময়ে ব্যস্ত জীবনধারা এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল আমাদের শরীরের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করছে। অফিসের কাজ, ঘরে বসে প্রযুক্তি ব্যবহার আর খাদ্যাভ্যাসে জাঙ্কফুডের বৃদ্ধি; এসব মিলিয়ে লিভারের ওপর চাপ বাড়ছে।

    বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা এখন ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। অথচ লিভার আমাদের শরীরের বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ এবং টক্সিন নিঃসরণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঙ্গের যত্ন না নিলে শরীরের স্বাস্থ্য দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়েট ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা অবলম্বন করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তাদের দাবি, লিভার সুস্থ রাখতে বিশেষ করে সঠিক খাবার তেল নির্বাচন খুব জরুরি।

    এ বিষয়ে দেশের প্রথমসারির একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।

    তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী তেল হলো অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল। এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে চর্বি জমা কমায় এবং লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    তিনি আরও জানান, সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিতভাবে নিরাপদ। এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম, ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ কমে এবং চর্বি জমার ঝুঁকি হ্রাস পায়। তবে সরিষা, নারিকেল বা পাম তেল অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ। কারণ এসব তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি, যা লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ায় এবং ফ্যাটি লিভারের অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।

    এ ছাড়া ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা, নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ আরিফ।

  • ন’ভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় স’রকার নি’র্বাচন

    ন’ভেম্বরে ইউপি দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় স’রকার নি’র্বাচন

    ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    আগের মতোই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক সহায়ক সময়।

    তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করা হলেও এখন নভেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

    ইউপি দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে জানিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে।

    তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটি ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা ধরেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

    এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি।

    গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা কমিশনে পৌঁছেছে।

    এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ইসিই নির্ধারণ করবে।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

    সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

  • খা’ওয়ার পর ব’মি ভাব? শ’রীরের যে সম’স্যার কা’রণে এমন হয় 

    খা’ওয়ার পর ব’মি ভাব? শ’রীরের যে সম’স্যার কা’রণে এমন হয় 

    খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই হঠাৎ বমি বমি ভাব বা পেটে অস্বস্তি শুরু হয়। বেশি খাবার খাওয়া এর একটি সাধারণ কারণ হলেও, এর পেছনে থাকতে পারে সংক্রমণ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, খাবারে সমস্যা এমনকি গর্ভাবস্থার মতো কারণও। মেডিকেল নিউজ টুডের প্রতিবেদনে বিষয়টা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কথা বলেছেন। 

    বমি বমি ভাব কেন হয়

    বমি বমি ভাব হলো পেটে অস্বস্তি বা অসুস্থ লাগার এমন একটি অনুভূতি, যার ফলে বমি করার ইচ্ছা হতে পারে। খাবার মুখ থেকে পাকস্থলী ও অন্ত্রে যাওয়ার পুরো হজম প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হলে খাওয়ার পর এমন অনুভূতি দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা বা বুকজ্বালাও থাকতে পারে।

    গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন

    গর্ভাবস্থায় হরমোনের নানা পরিবর্তনের কারণে বমি বমি ভাব খুবই সাধারণ বিষয়। শুধু সকালে নয়, দিনের যেকোনো সময় এটি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হয়। গর্ভাবস্থায় হজম প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসে, ফলে খাবার পাকস্থলীতে তুলনামূলক বেশি সময় থাকতে পারে।

    খাবারে বিষক্রিয়া বা সংক্রমণ

    ঠিকমতো রান্না না করা বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের কারণে এমন সমস্যা হয়। দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বমি বমি ভাব শুরু হতে পারে। এর সঙ্গে দেখা দিতে পারে বমি,  ডায়রিয়া, পেটব্যথা এবং জ্বর।

    খাবারে অ্যালার্জি

    খাবারে অ্যালার্জি হলে শরীর কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রোটিনকে ক্ষতিকর মনে করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করে। ফলে খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

    গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা

    খাবার হজমের সঙ্গে যুক্ত কোনো অঙ্গ ঠিকভাবে কাজ না করলেও খাওয়ার পর বমি বমি ভাব হতে পারে।

    অ্যাসিড রিফ্লাক্স: পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে এলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর ও বমি বমি ভাব হতে পারে।

    পিত্তথলির সমস্যা: বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

    অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ: অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হলে বমি বমি ভাবের সঙ্গে পেটব্যথাসহ অন্যান্য হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    খাওয়ার পর মাঝেমধ্যে হালকা বমি বমি ভাব হলে সবসময় গুরুতর সমস্যা বোঝায় না। তবে বারবার এমন হলে, তীব্র পেটব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী বমি, জ্বর, পানিশূন্যতার লক্ষণ বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
    তাই খাবার খাওয়ার পর বারবার বমি বমি ভাবকে শুধু ‘গ্যাসের সমস্যা’ ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে, এর সঙ্গে থাকা অন্যান্য লক্ষণগুলোর দিকেও নজর দেয়া ভালো।

  • মে’জাজ খি’টখি’টে হয় যে ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    মে’জাজ খি’টখি’টে হয় যে ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন

    দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে অনেকেরই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। পাশাপাশি ক্লান্তি, মন খারাপ বা অবসাদও দেখা দিতে পারে। তবে সব সময় এর কারণ শুধু মানসিক চাপ নয়; শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিনের ঘাটতিও এমন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    বিশেষ করে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি না থাকলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও মন-মেজাজের পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই ভিটামিন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।

    ভিটামিন ডি-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করা। ফলে এর ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে হাড়ের দুর্বলতা ও হাড়-জয়েন্টসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে পেশিতে ব্যথা বা দুর্বলতা, বিশেষ করে কাঁধ, উরু ও বাহুতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    শরীরে ভিটামিন ডি কম থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তবে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, ক্লান্তি বা মন খারাপের পেছনে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই একমাত্র কারণ নয়। ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে নিজে থেকে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

    সূত্র: আজকাল

  • পা’ইল’সের ল’ক্ষণ, প্র’তিকার ও চি’কি’ৎসা, জেনে নিন

    পা’ইল’সের ল’ক্ষণ, প্র’তিকার ও চি’কি’ৎসা, জেনে নিন

    পাইলস বা অর্শরোগ, যা ইংরেজিতে ‘হেমোরয়েড’ নামে পরিচিত, একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। এতে মলদ্বার এবং এর নিকটবর্তী শিরাগুলো ফুলে যায় এবং প্রসারিত হয়। পরিবর্তিত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য নানা কারণে দিন দিন এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় তিনজনের কোনো না কোনো সময়ে পাইলসের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    পাইলসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান না করা, নিয়মিত শারীরিক চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত না হওয়ার কারণে এ রোগে ভুগতে হয় অনেক মানুষকে।

    পাইলসের ধরন

    পাইলস প্রধানত ২ ধরনের। বহিঃস্থ পাইলস ও অভ্যন্তরীণ পাইলস।

    বহিঃস্থ পাইলস: এটি মলদ্বারের মুখে ও বাইরে থাকে। চামড়ার নিচে থাকে ও সাধারণত ব্যথা হয় না। মলত্যাগের সময় চাপ দিলে বা বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ করলে বাইরের পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বেধে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে ও তাতে ব্যথা করেতে পারে। কিছুক্ষেত্রে এটি ফেটে রক্ত বের হতে পারে। অনেকদিন এ পাইলস থাকলে মলদ্বারে চুলকানি ও মলদ্বার পরিষ্কার করতে অসুবিধা হতে পারে।

    অভ্যন্তরীণ পাইলস: এটি মলদ্বারের ভেতরে থাকে। এ ধরনের পাইলসের প্রধান উপসর্গ হলো মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা। এ পাইলসে ব্যথা হয় না। যদি ভেতরের পাইলস মলদ্বার দিয়ে বাইরে চলে আসে এবং ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ব্যথা হতে পারে।

    পাইলসের কারণ

    পাইলস হওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম এবং প্রধান হলো খাদ্যাভ্যাসের কারণে। আঁশ জাতীয় খাবার পরিমাণে কম খেলে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া বার্ধক্যজনিত কারণে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া, পায়ুপথ সহবাস, মল পাস করার সময় অতিরিক্ত চাপ দেয়া, টয়লেট সিটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা।

    গ্যাসের সমস্যা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

    এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে স্থূলতা, গর্ভাবস্থা, বারবার ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, মলত্যাগে সবসময় চাপ দেয়া, অনেকক্ষণ ধরে মলত্যাগ করা, অনিয়মিত মলত্যাগে বা মলত্যাগের বেগ আটকে রাখার কারণেও পাইলস হয়ে থাকে। অনেকক্ষেত্রে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাইলস হয়ে থাকে।

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ কারণগুলো অভ্যন্তরীণ পাইলসকে নিচের দিকে নামিয়ে দেয় ও বহিঃস্থ পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বাধাতে অবদান রাখতে পারে। তবে কারণ যাই হোক, এতে মলদ্বারের শিরার সহন ক্ষমতা কমে যায়। ফলে শিরা প্রসারিত হয় ও শিরার প্রাচীর পাতলা হয়ে যায় এবং মলদ্বারে রক্তপাত হয়। পরে মলদ্বার নিচে নেমে আসে।

    পাইলসের ঝুঁকিতে কারা

    যাদের পারিবারিক ইতিহাস আছে তাদের মধ্যে পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে কারও বাবা-মা এর যদি পাইলসে থেকে থাকে সেক্ষেত্রে সন্তানের পাইলস হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

    এছাড়া দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে এটি হতে পারে। মলত্যাগের চাপও হেমোরয়েডের কারণ হতে পারে।

    পাইলসের লক্ষণ বা পাইলস হলে কী সমস্যা হয়

    পাইলসে আক্রান্ত ব্যক্তির কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো দেখে বুঝা যায় যে সে পাইলসে আক্রান্ত।

    শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে থাইরয়েড গ্রন্থি

    মলদ্বার থেকে রক্ত পড়া, মলদ্বারে চুলকানি, মলদ্বার ফোলা ও ব্যথা, মলদ্বার ও আশপাশে যন্ত্রণাদায়ক পিণ্ড, মলত্যাগ করার সময় ও পরে অস্বস্তি হতে থাকলে বুঝতে হবে ধীরে ধীরে পাইলসের সমস্যা হওয়ার লক্ষণ এটি। এছাড়া মলদ্বার ফুলে যাওয়ার জন্য পরিষ্কার রাখতে সমস্যা হওয়া পাইলের অন্যতম লক্ষণ।

    পাইলসের সমস্যায় যেসব খাবার খাওয়া নিষেধ

    পাইলসের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কিছু খাবার পরিহার করতে হয়। এসব খাবারের কারণে পাইলসের সমস্যা বেশি হয়। সেজন্য এসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে— লাল মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, তেলে ভাজা খাবার,মশলাদার খাবার, কফি ও চা।

    এছাড়া অ্যালকোহল, কোমল পানীয় ও বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার

    খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন: প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বা আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে বেশি করে। এতে মল নরম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হয়।

    নারকেল তেল: নারকেল তেল দিলে পাইলসের লক্ষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

    সিটজ বাথ: গরম জল দিয়ে একটি সিটজ বাথ নেয়া ফোলাভাব কমাতে এবং ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

    কোল্ড কম্প্রেস: আক্রান্ত স্থানে ঠান্ডা প্যাক লাগালে ফোলা এবং ব্যথা কমে।

    পাইলসের চিকিৎসা

    উপরের কাজগুলো করার পরও যদি পাইলসের সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    এরপরও কোষ্ঠকাঠিন্য পরিহার করা, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ না দেয়া, বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ না করলে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

    ওপরের নিয়ম মেনে চললে বহিঃস্থ পাইলসের ব্যথা ও ফোলা কয়েকদিনের মধ্যে কমে যেতে পারে। তবে পুরোপুরি ফোলা সেরে উঠতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগে। এতে করেও যদি সমস্যা থেকে যায় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে।

    এছাড়া আরও কিছু চিকিৎসা রয়েছে এ রোগের জন্য। সেগুলো হলো—

    ব্যান্ড লাইগেশন: এটি পাইলসের একটি কার্যকারী চিকিৎসা। ব্যান্ড লাইগেশনের মাধ্যমে পাইলসের ওপরে একটি ব্যান্ড পড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে পাইলসের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইলস ও ব্যান্ড ঝরে পরে যায়। ১-২ সপ্তাহের মধ্যে ঘা শুকিয়ে যায়। এ চিকিৎসার পর কিছুক্ষেত্রে রক্ত যেতে পারে ও মলদ্বারে অস্বস্তি হতে পারে। ব্যান্ড লাইগেশন দুই থেকে তিনবার করতে হয়।

    ইনজেকশন এবং ইনফ্রারেড চিকিৎসা: যে পাইলস মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না সেসব ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা করা যেতে পারে। এ চিকিৎসা সম্পূর্ণ ব্যথা মুক্ত।

    কেটে পাইলস অপারেশন: পাইলস রোগের সবচেয়ে কার্যকরী অপারেশন। এক্ষেত্রে পাইলস সম্পূর্ণভাবে কেটে ফেলা হয়। যখন ব্যান্ড লাইগেশন করা বা ইনজেকশন দেয়ার পর পাইলস আবারও হয় বা যদি অনবরত রক্তপাত হতে থাকে বা পাইলস যদি ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না হয়, তাহলে কেটে পাইলস অপারেশন করতে হয়। বহিঃস্থ পাইলসের ভেতরে বার বার রক্ত জমাট বেধে গেলে পাইলস অপারেশন করে ফেলতে হবে। পাইলস অপারেশনে যে অংশ বের হয়ে আসে ও যা থেকে রক্তপাত হয় তা অপসারণ করা হয়। এটি অবেদন করে করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

    লংগো অপারেশন: এটি পাইলস অপারেশনের একটি প্রক্রিয়া। এখানে একটি বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পাইলস কেটে নিয়ে আসা হয়। ফলে বহিঃস্থ পাইলসে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং তা সংকুচিত হয় যায়। এখানে যন্ত্রের মাধ্যমে কাঁটা ও জোড়া লাগান হয়। একটি যন্ত্র দিয়ে একজন রোগীর অপারেশন করা যায়। সেজন্য এ অপারেশন ব্যয়বহুল। এ অপারেশনের পর রক্তপাত বা পাইলস বের হয়ে আসে না। অপারেশনের পর সিজ বাথ বা ড্রেসিং এর দরকার হয় না। ক্ষতস্থান হতে রক্ত বা রক্তপানি বের হয়না। এক্ষেত্রে অপারেশনের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কাজে যোগদান করতে পারে রোগীরা।

    টি এইচ ডি অপারেশন: পাইলসের অত্যাধুনিক অপারেশন এটি। এ অপারেশনে পাইলস কাঁটা হয় না। একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাইলসে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বন্ধ করে দেয়া হয় ও মলদ্বারের যে অংশ নিচে নেমে আসে সে অংশকে তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ অপারেশনে ব্যথা কম থাকে, সিজ বাথ বা ড্রেসিং দরকার হয় না।

    পাইলস থেকে চিরতরে মুক্তির উপায়

    সাধারণত নিয়মিত খাবার ও খাদ্যাভ্যাসের ওপরই পাইলসের রোগ নির্ভর করে। সেজন্য খাদ্যাভ্যাস ঠিক থাকলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে কম।

    ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: প্রতিদিনই শাক সবজি, ফলমূল, মটরশুঁটি ও ডাল ইত্যাদি খাবার খাওয়া। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে পায়খানা স্বাভাবিক থাকে এবং পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

    পানি পান বৃদ্ধি: প্রতিদিন প্রয়োজনমত পানি পান করতে হবে। পাইলসের চিকিৎসায় অন্যতম জরুরি বিষয় হলো প্রচুর পানি পান করা। চা-কফি ও কোমল পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ইসবগুলের ভুসি: প্রতিদিন সকালে নিয়মিত ইসবগুলের ভুসি পানিতে মিশিয়ে পান করলে পায়খানা স্বাভাবিক থাকে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস থেকে মুক্ত থাকা যায়। বেশি পরিমাণে ইসবগুলের ভুসি খেলে পেটে গ্যাসের সমস্যা ও ব্যথা হতে পারে। সেজন্য প্রয়োজনমত খেতে হবে।

    খাঁটি ঘি: অনেকের ধারণা প্রতিদিন পরিমাণগত ঘি খেলে পাইলস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

    টয়লেটে কম সময় ব্যয়: টয়লেটে গিয়ে অনেকে প্রচুর সময় ব্যয় করা উচিত নয়। স্বস্তি মেলে এ পরিমাণ পায়খানা হয়ে গেলে টয়লেট থেকে বের হয়ে যাওয়া উচিত।