Category: Uncategorized

  • এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    এনআইডিতে নাম, ব’য়স, জ’ন্মতারিখ, ঠিকানা সং’শোধ’নে যেসব কাগজপত্র লাগে

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, স্বামী-স্ত্রীর তথ্যসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে তথ্যের ধরন অনুযায়ী সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভিন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঠিকতা প্রমাণে সরকারি নথিপত্র জমা দিতে হয়।

    নাম সংশোধনে যেসব কাগজ লাগে

    নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ, যা প্রযোজ্য
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে
    সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ, যদি থাকে
    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব নথির পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।

    বাবা-মায়ের নাম সংশোধন

    বাবা বা মায়ের নামের বানান, পদবি বা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    শিক্ষাগত সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বাবা-মায়ের এনআইডি
    ভাই-বোনদের এনআইডি ও শিক্ষাসনদ
    পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যদি থাকে

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল, করের রশিদসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্রও চাওয়া হতে পারে।

    জন্মতারিখ সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে আবেদনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজন হতে পারে—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ
    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    ভাই-বোনদের এনআইডি
    ওয়ারিশ সনদ
    কাবিননামা
    পাসপোর্ট
    ড্রাইভিং লাইসেন্স
    সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ প্রতিবেদন
    সার্ভিস বুক, এমপিও শিট বা অফিসের প্রত্যয়নপত্র
    অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন বই
    মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সনদ
     

    স্বামী-স্ত্রীর তথ্য সংশোধন বা সংযোজন

    স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংযোজন কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ
    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি
    সন্তানের জন্মসনদ বা এনআইডি, যদি থাকে
    সন্তানের শিক্ষাসনদ

    দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যু সনদ অথবা তালাকনামা এবং দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা জমা দিতে হতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হলফনামা, ওয়ারিশ সনদ, বিদ্যুৎ বিল বা করের রশিদসহ অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

    জন্ম নিবন্ধন নম্বর সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    লিঙ্গ সংশোধন
    ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২)
    মেডিকেল সনদ
    সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারের প্রত্যয়নপত্র
     

    জন্মস্থান সংশোধন

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    পাসপোর্ট, যদি থাকে
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
     

    পেশা সংশোধন

    নিয়োগপত্র, চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে
    পেশাসংক্রান্ত সনদ
    স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্র
    দৃশ্যমান শনাক্তকরণ চিহ্ন সংশোধন
    উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার প্রতিবেদন
    মেডিকেল সনদ
    রক্তের গ্রুপ সংযোজন বা সংশোধন
    রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট
     

    স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা সংশোধন

    ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে—

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন
    বিদ্যুৎ বিল
    চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ
    ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের প্রত্যয়নপত্র
    টিআইএন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট নম্বর

    টিআইএন নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: টিআইএন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি।

    ড্রাইভিং লাইসেন্স নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: ড্রাইভিং লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি।

    পাসপোর্ট নম্বর সংযোজন বা সংশোধন: পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি।

    এনআইডি সংশোধনের আবেদন কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে?

    নির্বাচন কমিশন সংশোধনের আবেদন সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করে—

    ‘ক’ ক্যাটাগরি: সাধারণ ও স্বল্প জটিল সংশোধন
    ‘খ’ ক্যাটাগরি: তুলনামূলক বেশি যাচাই প্রয়োজন
    ‘গ’ ক্যাটাগরি: জটিল সংশোধন, অধিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন
    ‘ঘ’ ক্যাটাগরি: সর্বোচ্চ জটিলতার আবেদন, বিস্তৃত তদন্ত ও যাচাই প্রয়োজন

    বিশেষ করে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান তথ্য ও সংশোধিত তথ্যের পার্থক্যের মাত্রা অনুযায়ী আবেদন বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে।

    যা মনে রাখা জরুরি

    এনআইডি সংশোধনের সময় যে তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করা হবে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যত বেশি সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তা তত বেশি সহায়ক হতে পারে।

    আবেদন করার আগে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদসহ সংশ্লিষ্ট সব নথির তথ্য মিলিয়ে নেওয়া উচিত। একই তথ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নথিতে অসঙ্গতি থাকলে সংশোধন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত যাচাই বা সময় লাগতে পারে।

  • চু’ল পড়া কিংবা পে’কে যাচ্ছে, যে ভি’টামিনের কারণে এমন হয়, জেনে নিন

    চু’ল পড়া কিংবা পে’কে যাচ্ছে, যে ভি’টামিনের কারণে এমন হয়, জেনে নিন

    অনেকেই চুল পড়া নিয়ে চিন্তায় থাকেন। আবার কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় বয়সের আগেই চুল পেকে যায় বা সাদা হয়ে যায়। বিষয়টা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক নয়। চুলের এই হঠাৎ পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে কিন্তু কেবল জেনেটিক কারণ নয়, শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

    সাধারণত চুল পড়াকে অনেকে স্ট্রেস, ঘুমের অভাব কিংবা আয়রনের ঘাটতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু এর পেছনে শরীরে অন্য কোনো পুষ্টির ঘাটতিও থাকতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন চিকিৎসক ডা. কুনাল সুদ।

    সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক ভিডিওতে তিনি বলেন, অল্প বয়সে চুল পাকা বা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    চুলের জন্য ভিটামিন বি১২ কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভিটামিন বি১২ শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে শরীরের ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াতেও এর প্রয়োজন রয়েছে। শরীর নিজে থেকে ভিটামিন বি১২ তৈরি করতে পারে না। তাই খাবার বা প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এটি পেতে হয়। ভিটামিন বি১২-এর প্রধান খাদ্য উৎসের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস, ডিমদুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার। যারা প্রাণিজ খাবার খুব কম খান বা একেবারেই খান না, তাদের ক্ষেত্রে বি১২-এর ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

    বি১২ কমে গেলে চুলে কী হয়

    চুলের ফলিকল বা গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে বি১২-এর ঘাটতি হলে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে এবং পরোক্ষভাবে চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। ডা. কুনাল সুদের মতে, বি১২-এর কম মাত্রার সঙ্গে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া এবং কিছু ক্ষেত্রে চুলের পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখা গেছে। চুল পাকা মানেই যে বি১২-এর ঘাটতি এমন নয়। বেশিরভাগ মানুষের চুল পাকার পেছনে জেনেটিক বা বয়সজনিত কারণই প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই শরীরে বি১২-এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকার পরও অতিরিক্ত বি১২ গ্রহণ করলে সাদা চুল আবার কালো হয়ে যাবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

    গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ  

    চুল পড়া বা চুল পেকে যাওয়াকে একা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির লক্ষণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং চুলের সমস্যার সঙ্গে শরীরে অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডা. সুদ বিশেষভাবে কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিতে বলেছেন। যেমন অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব। চুল পড়ার পাশাপাশি এসব উপসর্গ থাকলে বিষয়টি শুধু চুলের সমস্যা হিসেবে না দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

    চুল পড়তে শুরু করলেই নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বি১২ বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়। কারণ চুল পড়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে জেনেটিক কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, মানসিক চাপ, অসুস্থতা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া কিংবা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে বি১২-এর মাত্রা যাচাই করা যেতে পারে।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

  • ফ্যা’টি লি’ভার সহজে নি’য়ন্ত্রণে আনতে ২১ দিনের ৮ পরিকল্পনা, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভার সহজে নি’য়ন্ত্রণে আনতে ২১ দিনের ৮ পরিকল্পনা, জেনে নিন

    লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি খাবার হজমে সহায়তা করে, ভিটামিন ও খনিজ সংরক্ষণ করে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বা টক্সিন অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে ফ্যাটি লিভার রোগ দিন দিন আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার স্বাভাবিকভাবেই উন্নত করা সম্ভব।

    আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. হানসাজি বলেছেন, প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। একটি সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি ২১ দিনের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। এতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, যোগব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা লিভারের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। ২১ দিনের পরিকল্পনায় যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—

    ১. তরল চিনি বাদ দিন

    প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হলো সম্পূর্ণভাবে তরল চিনি এড়িয়ে চলা। এর মধ্যে রয়েছে কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত ফলের জুস এবং অন্যান্য চিনিযুক্ত পানীয়। এর পরিবর্তে আমলকি, পেয়ারা, কমলা ও পেঁপের মতো সম্পূর্ণ ফল বেছে নিন। এসব ফলে ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে এবং এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় না।

    ২. সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন

    ডা. হানসাজি খাবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ১/২–১/৪–১/৪ প্লেট পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেন—

    * প্লেটের অর্ধেক থাকবে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি।

    * এক-চতুর্থাংশ থাকবে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার।

    * বাকি এক-চতুর্থাংশ থাকবে সম্পূর্ণ শস্য বা অন্যান্য পুষ্টিকর কার্বোহাইড্রেট।

    এই ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বা সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে, যা ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩. স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ করুন

    লিভারবান্ধব খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর চর্বি গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে বাদাম ও বীজ, যেমন—কাঠবাদাম, আখরোট, তিসিবীজ ও কুমড়ার বীজ যোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকা খাবার সীমিত করুন।

    ৪. শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন

    Advertisement

    Advertisement

    Ad

    Ad

    লিভারের সুস্থতার জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। ডা. হানসাজি প্রতিদিন হাঁটার পাশাপাশি সহজ কিছু পেশিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে রয়েছে উত্কটাসন, সেতু বন্ধাসন এবং প্ল্যাঙ্ক পোজ।

    ৫. যোগব্যায়াম ও প্রাণায়াম অনুশীলন করুন

    যোগব্যায়াম ও শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম সামগ্রিক সুস্থতা বাড়াতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। যেমন—যোগেন্দ্র তালাসন, যোগেন্দ্র কোণাসন, যোগেন্দ্র বক্রাসন, পবনমুক্তাসন, ডায়াফ্রামেটিক ব্রিদিং, অনুলোম-বিলোম ও ভ্রমরী প্রাণায়াম। 

    ৬. রাতে তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খান

    ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাতে দেরিতে খাবার বা স্ন্যাকস খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এতে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো যেতে পারে।

    ৭. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিন

    নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ঘুমানো শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার ও সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে।

    ৮. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

    অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ফ্যাটি লিভারের উন্নতির জন্য অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা এর গ্রহণ সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্যাটি লিভারের অবস্থার উন্নতি ঘটানোর মূল উপায় কোনো কঠোর ডায়েট বা চটজলদি সমাধান নয়। বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ধারাবাহিক চর্চাই এর চাবিকাঠি।

    যদি আপনার ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে, বিশেষ করে লিভার পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক হলে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনগুলো যেন যথাযথ চিকিৎসা সেবার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, তার বিকল্প হিসেবে নয়।

    তথ্যসূত্র: এনডিটিভির

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন

    শিশুর বৃদ্ধি (লম্বা হওয়া) সঠিকভাবে না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত ৩টি ভিটামিন শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. ভিটামিন ডি: এটি হাড়ের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রধান উৎস হলো রোদ। তাছাড়া ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার, মাছ (স্যামন, টুনা)।
     
    ২. ভিটামিন এ: কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর উৎস হলো- গাজর, মিষ্টি আলু, দুধ, ডিম, পেঁপে, সবুজ শাকসবজি।

    ৩. ভিটামিন কে: এটি হাড়ের গঠন ও ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর উৎস হলো পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, দুধ। অতিরিক্ত কিছু পুষ্টি উপাদান। শুধু এই ভিটামিনগুলোই নয়, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিন-এর অভাবেও শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

     
    তবে শিশু যদি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। পাশাপাশি, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন ব্যায়াম, খেলাধুলা) শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

  • নতুন পে স্কে’লের প্র’জ্ঞাপন ক’খন, যা জা’না গেল

    নতুন পে স্কে’লের প্র’জ্ঞাপন ক’খন, যা জা’না গেল

    নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আজ বৃহস্পতিবারকেও (১০ সেপ্টেম্বর) সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। 

    জানা গেছে, ইতিমধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে।

    এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেলের রেজল্যুশন বুধবার বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে কাজ শেষে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসবে। পরে খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

    ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা রয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর নতুন বেতন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

    এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।

    সর্বনিম্ন গ্রেডে বেতন ২০ হাজার টাকা

    প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন থাকলেও নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

    যদিও নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি অর্থ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিন ধাপে বাড়বে বেসিক

    ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশ ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬: ২০ গ্রেডের বেতন চার্ট

    এখানে ১ম–৯ম গ্রেডে বাড়তি অংশ ৪০% + ৩০% + ৩০% এবং ১০ম–২০তম গ্রেডে ৫০% + ২৫% + ২৫% হারে তিন ধাপে যুক্ত করার তথ্য আপনার দেওয়া নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকাশিত একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাতেও এই ধাপভিত্তিক অঙ্কগুলো দেওয়া হয়েছে।

    নতুন ভাতা কার্যকর ২০২৮ সালে

    নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ধরনের ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও আরও স্পষ্ট হবে।

  • সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ব্রা’শ করার আগেই পা’নি পা’ন করা কি স্বা’স্থ্যকর, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই এক গ্লাস পানি পান করেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ব্রাশ করার আগে পানি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ রাতভর মুখে ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। কিন্তু আসলে বিষয়টি কী? ব্রাশ করার আগে পানি পান করা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এ নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে, যেগুলো পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি।

    ব্রাশ করার আগে পানি পান করলে কী হয়?

    রাতভর ঘুমের সময় মুখে লালা জমে এবং স্বাভাবিকভাবেই কিছু ব্যাকটেরিয়াও থাকে। তবে মুখের সব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর নয়। অনেক ব্যাকটেরিয়া শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যের অংশ।

    সকালে পানি পান করলে মুখের লালার সঙ্গে থাকা এসব উপাদান পাকস্থলীতে চলে যায়। পাকস্থলীর অ্যাসিড সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই সাধারণ অবস্থায় ব্রাশের আগে পানি পান করাকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয় না।

    সকালে পানি পান করার সম্ভাব্য উপকারিতা

    শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে

    ঘুমের পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে পানি পান করলে শরীর দ্রুত হাইড্রেটেড হয় এবং সতেজ অনুভূতি আসে।

    হজমে সাহায্য করতে পারে

    খালি পেটে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে সাহায্য করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক হয়।

    সকালে ব্যায়াম করলে পাবেন যেসব উপকারিতা

    মেটাবলিজম সক্রিয় করতে পারে

    সকালে পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম কিছুটা বাড়তে পারে, যা সারাদিন শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।

    মুখের শুষ্কতা কমায়

    রাতে দীর্ঘ সময় পানি না খাওয়ার কারণে মুখ শুকিয়ে যায়। সকালে পানি পান করলে সেই শুষ্কতা কমে।

    তবে কিছু দাবি করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত

    অনেক জায়গায় বলা হয়, ব্রাশের আগে পানি পান করলে শরীরের সব টক্সিন বের হয়ে যায়, ত্বক উজ্জ্বল হয় বা ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকে। এসব দাবির পেছনে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

    পানি অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী, কিন্তু এটি কোনো রোগের সরাসরি চিকিৎসা নয়।

    তাহলে সঠিক অভ্যাস কী?

    চিকিৎসকদের মতে,

    সকালে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস

    এরপর অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করা উচিত

    দিনে অন্তত দুইবার ব্রাশ করা সবচেয়ে ভালো

    নিয়মিত মুখ পরিষ্কার না করলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সমস্যা ও দুর্গন্ধ হতে পারে

    যাদের সতর্ক থাকা দরকার

    যাদের মুখে সংক্রমণ, মাড়ির গুরুতর সমস্যা বা মুখে ঘা রয়েছে, তারা সকালে ব্রাশের আগে পানি পান করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করার আগে পানি পান করা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ব্রাশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: মার্কিন ওয়েবসাইট লিব্রেটের

  • এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    এসএসসির খাতা পু’নঃনি’রীক্ষ’ণের ফ’ল প্রকাশ, ফে’ল থেকে পাশ যতজন

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাশ করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে ফল পরিবর্তন হয়েছে আরও অনেক শিক্ষার্থীর।

    বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।

    এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে মূল ফল প্রকাশের ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলো। আর পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হলো।

    এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় মোট আবেদনের সংখ্যা বেশি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়ে।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো আবেদন করা উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।

    আগের নিয়মে পুনঃনিরীক্ষণের সময় মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। পুরো উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়ন করা হতো না। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

    বোর্ডভিত্তিক হিসাবে এবার সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    এ ছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার সেই ফল প্রকাশ করা হলো।

  • দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    দ্রুতই পে-স্কে’লের গে’জেট, বর্তমানে যে ম’ন্ত্রণালয়ে প্র’জ্ঞাপন

    সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে রয়েছে। আইনি যাচাই শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে জানান, পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে সরকারের পক্ষ থেকে অযথা সময়ক্ষেপণের সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

    এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি বলেন, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি থাকায় গেজেট প্রকাশে সময় লাগছে।

    নতুন বেতন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন রয়েছে। নতুন কাঠামোয় তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    তবে নতুন বেসিকের পুরো সুবিধা একবারে কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই তিন ধাপে বাড়তি অর্থ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে যথাক্রমে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ২০ হাজার টাকা হবে মূল বেতন।

    প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

    নবম গ্রেডেও মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ২২ হাজার টাকা থেকে ৪৪ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে এ গ্রেডের বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০ টাকা, ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা ও ৪৪ হাজার টাকা।

    নতুন পে স্কেলে বাড়তি বেসিক কার্যকর হলেও সব ভাতা একই সময়ে নতুন হারে দেওয়া হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • পেঁ’য়াজের গা’য়ে কালো দা’গ, খা’ওয়া কতটা নি’রাপদ, জেনে নিন এক্ষুনি

    পেঁ’য়াজের গা’য়ে কালো দা’গ, খা’ওয়া কতটা নি’রাপদ, জেনে নিন এক্ষুনি

    রান্নার আগে পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে হঠাৎ দেখা গেল, শুকনো খোসার ভেতরে বা স্তরের গায়ে কালো কালো দাগ। দেখে অনেকেই পুরো পেঁয়াজটি ফেলে দেন। আবার কেউ আক্রান্ত অংশটুকু কেটে বাদ দিয়ে বাকি পেঁয়াজ রান্নায় ব্যবহার করেন।

    কিন্তু কালো দাগ দেখলেই কি পেঁয়াজ খাওয়া বিপজ্জনক? নাকি কিছু ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্ত অংশ সরিয়ে নিলেই চলে?

    বিষয়টি নির্ভর করে ছত্রাকটি কোথায় এবং কতটা ছড়িয়েছে তার ওপর। পেঁয়াজের বাইরের খোসায় অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে পেঁয়াজের ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পেঁয়াজের ভেতরের অংশ নরম হয়ে গেলে, পচন ধরলে বা ছত্রাক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

    পেঁয়াজে কালো ছত্রাক কেন হয়?

    পেঁয়াজে দেখা যাওয়া কালো ছত্রাক সাধারণত অ্যাসপারগিলাস নাইজার নামের ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটি মাটি ও পরিবেশে পাওয়া যায় এবং সংরক্ষণের সময় উপযুক্ত পরিবেশ পেলে পেঁয়াজে বাড়তে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পেঁয়াজের বাইরের আঁশে এই ধরনের কালো ছত্রাক দেখা যেতে পারে।

    বিশেষ করে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এবং পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলে ছত্রাকের বৃদ্ধির সুযোগ বাড়ে। পেঁয়াজে আঘাত বা ক্ষত থাকলেও সেখানে ছত্রাক ও পচন ধরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    তাই বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনার সময় অতিরিক্ত নরম, ভেজা, পচা বা ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ না নেওয়াই ভালো। মার্কিন কৃষি বিভাগও ছত্রাক দেখা যায় এমন খাবার কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।

    কালো দাগ দেখলেই কি পেঁয়াজ ফেলে দিতে হবে?

    সব ক্ষেত্রে না।

    যদি পেঁয়াজের বাইরের শুকনো খোসায় অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকে এবং ভেতরের অংশ শক্ত ও স্বাভাবিক থাকে, তাহলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে পেঁয়াজটি পরীক্ষা করা যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পেঁয়াজের বাইরের আঁশে অল্প পরিমাণ কালো ছত্রাক থাকলে ঠান্ডা প্রবাহমান পানিতে ধুয়ে বা আক্রান্ত স্তর কেটে ফেলে ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

    তবে শুধু কালো দাগটি চোখে না দেখলেই পেঁয়াজ নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। পেঁয়াজের ভেতরেও যদি ছত্রাক বা পচনের লক্ষণ থাকে, তখন ব্যবহার না করাই ভালো।

    কখন পুরো পেঁয়াজ ফেলে দেবেন

    কয়েকটি লক্ষণ দেখলে আর ঝুঁকি নেওয়া উচিত না।

    পেঁয়াজ নরম বা পিচ্ছিল হয়ে গেলে: স্বাভাবিক পেঁয়াজ শক্ত থাকে। চাপ দিলে অতিরিক্ত নরম মনে হলে পচন শুরু হয়ে থাকতে পারে।

    ভেতরের স্তরেও ছত্রাক ছড়িয়ে পড়লে: শুধু বাইরের খোসা সরানোর পর যদি একাধিক স্তরে কালো, সবুজ বা অন্য রঙের ছত্রাক দেখা যায়, পুরো পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া ভালো।

    পচা গন্ধ থাকলে: অস্বাভাবিক গন্ধ পচনের লক্ষণ হতে পারে। খাবারের নিরাপত্তা যাচাই করতে শুধু স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত নয়।

    অনেকটা অংশ আক্রান্ত হলে: ছত্রাকের পরিমাণ বেশি হলে আক্রান্ত অংশ কেটে বাদ দিয়ে বাকি অংশ খাওয়ার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। মার্কিন কৃষি বিভাগ সাধারণভাবে ছত্রাকযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়, কারণ ছত্রাকের সূক্ষ্ম শিকড় খাবারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াও থাকতে পারে।

    ছত্রাকের শুধু কালো অংশ কেটে ফেললেই কি সব সময় নিরাপদ?

    সব খাবারের ক্ষেত্রে না।

    খাবারের ধরন অনুযায়ী ছত্রাকের গভীরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আলাদা। শক্ত ও কম আর্দ্রতার কিছু ফল ও সবজিতে ছোট ছত্রাকের দাগ থাকলে মার্কিন কৃষি বিভাগ অন্তত ১ ইঞ্চি বা প্রায় ২.৫ সেন্টিমিটার চারপাশ ও নিচের অংশ কেটে বাদ দেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু নরম ও বেশি আর্দ্র খাবারে ছত্রাক ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সেগুলো ফেলে দিতে বলা হয়।

    পেঁয়াজ তুলনামূলকভাবে শক্ত সবজি হলেও কালো ছত্রাক শুধু চোখে দেখা দাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ কি না, তা সব সময় নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। তাই আক্রান্ত অংশ সামান্য এবং শুধু বাইরের স্তরে থাকলে পরিষ্কার করে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু পেঁয়াজের গঠন ও গন্ধে পরিবর্তন দেখা দিলে ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

    রান্না করলে কি ছত্রাকের ঝুঁকি চলে যায়?

    শুধু রান্না করলেই ছত্রাকযুক্ত খাবার নিরাপদ হয়ে যাবে, এমন ধারণা ঠিক না।

    কিছু ছত্রাক নির্দিষ্ট পরিবেশে মাইকোটক্সিন বা ছত্রাকজাত বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, কিছু ছত্রাক অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু ছত্রাক উপযুক্ত পরিবেশে মাইকোটক্সিন তৈরি করতে পারে।

    তাই ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ বেশি সময় রান্না করলে সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয়ে যাবে, এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। বরং পেঁয়াজের অবস্থা দেখে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

    যাদের ছত্রাকে অ্যালার্জি আছে, তারা আরও সতর্ক থাকুন

    সব মানুষের ক্ষেত্রে ছত্রাকের সংস্পর্শে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় না। কারও অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের সংবেদনশীলতা থাকলে ছত্রাকের স্পোর সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    মার্কিন কৃষি বিভাগের (USDA) নির্দিষ্ট নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাসপারগিলাস নাইজারের (Aspergillus niger: একটি অতি পরিচিত ও সাধারণ ছত্রাক বা ফাঙ্গাস, যা আমরা সচরাচর পেঁয়াজের গায়ে কালো গুঁড়ো বা দাগ হিসেবে দেখতে পাই।) প্রতি যাদের অ্যালার্জি রয়েছে, তারা কালো ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজ ব্যবহার করবেন না।

    তাই বাড়িতে এমন কারও থাকলে আক্রান্ত পেঁয়াজ ব্যবহার না করাই ভালো।

    পেঁয়াজে ছত্রাক ধরার ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

    পেঁয়াজ অনেক দিন ভালো রাখতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা যায়।

    শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। অতিরিক্ত আর্দ্রতা ছত্রাক বৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে পারে।

    পেঁয়াজ ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করুন। বাইরের খোসা, নরম অংশ, অস্বাভাবিক গন্ধ বা পচনের লক্ষণ আছে কি না দেখুন।

    আঘাত পাওয়া পেঁয়াজ আলাদা রাখুন। একটি পেঁয়াজে পচন বা ছত্রাক দেখা দিলে কাছের পেঁয়াজগুলোও পরীক্ষা করুন। ছত্রাক এক খাবার থেকে অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    ছত্রাকযুক্ত পেঁয়াজের গন্ধ নাকে নিয়ে পরীক্ষা করবেন না। মার্কিন কৃষি বিভাগ বলছে, ছত্রাকের কাছাকাছি গিয়ে গন্ধ নেওয়া শ্বাসতন্ত্রের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    পেঁয়াজ কাটার পর কীভাবে সংরক্ষণ করবেন?

    একবার পেঁয়াজ কেটে ফেললে সংরক্ষণের নিয়মও বদলে যায়। কাটা পেঁয়াজ পরিষ্কার পাত্রে রেখে দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। রান্না করা বা কাটা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। মার্কিন কৃষি বিভাগ সাধারণভাবে পচনশীল খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখার পরামর্শ দেয়।

    ফ্রিজে রাখা খাবারে ছত্রাক দেখা দিলেও সেটিকে শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করে আবার রেখে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ ছত্রাকের স্পোর আশপাশের খাবার ও সংরক্ষণস্থলেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

    তাহলে কালো দাগযুক্ত পেঁয়াজ খাবেন কি?

    সহজভাবে বললে, পেঁয়াজের শুধু বাইরের শুকনো খোসায় অল্প কালো ছত্রাক থাকলে আক্রান্ত খোসা সরিয়ে ভালো অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পেঁয়াজের ভেতরেও ছত্রাক ছড়িয়ে পড়লে, পেঁয়াজ নরম বা পচা হয়ে গেলে, অস্বাভাবিক গন্ধ থাকলে কিংবা আক্রান্ত অংশ অনেক বেশি হলে পুরো পেঁয়াজ ফেলে দিন।

    অর্থাৎ পেঁয়াজের গায়ে ছোট কালো দাগ দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার শুধু দাগ কেটে ফেলে প্রতিটি পেঁয়াজ খাওয়াও নিরাপদ নিয়ম নয়। ছত্রাক কতটা ছড়িয়েছে এবং পেঁয়াজের ভেতরের অবস্থা কেমন, সেটিই মূল বিষয়।

    খাবারের ক্ষেত্রে সামান্য সন্দেহ থাকলে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো। কারণ একটি পেঁয়াজ বাঁচানোর চেয়ে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি এড়ানো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    সূত্র: এই সময় অনলাইন

  • স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    স্মৃ’তিশ’ক্তি বাড়ায় যে ১০ খা’বার, জেনে নিন

    প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই লক্ষ করি যে, আমাদের মনোযোগ কমে যাচ্ছে বা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার খাদ্যাভ্যাস সরাসরি আপনার মস্তিষ্কের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে? সঠিক কিছু খাবার আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, মনোযোগ রক্ষা এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখতে চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারে।

    দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন খাবারে ওমেগা-৩ বা কোলাইনের মতো মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য উপাদানের ঘাটতি থেকে যায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তার গতি কমিয়ে দেয়। এমনকি আমাদের অন্ত্র বা ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ সুস্থ না থাকলে তা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্মৃতিশক্তিকে শাণিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়ক এমন ১০টি বিশেষ খাবার নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের ফিচার।

    ১. তৈলাক্ত মাছ

    মস্তিষ্কের জন্য অন্যতম সেরা খাবার হলো সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের কোষের গঠন এবং স্নায়ুকোষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।

    মানসিক চাপ কমাতে একদিনে কতটুকু কফি পান করা উচিত?

    ২. ডিম

    সকালে খালি পেটে এক মুঠো কাঁচা ছোলা কী কী উপকার করে?

    ডিমকে বলা হয় স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার জন্য আদর্শ খাবার। এটি কোলাইন নামক উপাদানের সেরা উৎস, যা অ্যাসিটাইলকোলিন তৈরি করে; এটি স্মৃতিশক্তি এবং দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ডিমের ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে।

    ৩. বেরি জাতীয় ফল

    স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ব্ল্যাকবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এর ফ্লেভোনয়েড উপাদান মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং নতুন মস্তিষ্কের কোষ তৈরিতে উদ্দীপনা দেয়। এটি বয়সজনিত মানসিক অবক্ষয় রোধেও কার্যকর।

    ৪. অ্যাভোকাডো

    পুষ্টিবিদদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম নিখুঁত খাবার। এতে থাকা মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে [৯]। এর টাইরোসিন উপাদান আপনাকে কাজে মনোযোগী ও অনুপ্রাণিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

    ৫. কেল (সবুজ শাক)

    কেল বা এই জাতীয় সবুজ শাক পুষ্টির বোমা হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ভিটামিন ‘কে’ মৌখিক স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং ভিটামিন ‘সি’ প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।

    ৬. সামুদ্রিক শৈবাল

    আয়োডিন ও ভিটামিন বি-১২ এর চমৎকার উৎস হলো সামুদ্রিক শৈবাল। আয়োডিন বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এতে থাকা টাউরিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।

    ৭. ডার্ক চকোলেট

    চকোলেটে থাকা ‘আনন্দমাইড’ নামক উপাদান মনকে পরম শান্তিতে ভরিয়ে দেয় [১৭]। এর সামান্য ক্যাফেইন স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে, তবে এটি আপনাকে অস্থির করে তোলে না।

    ৮. আখরোট

    মস্তিষ্কের জন্য আখরোট হলো বাদামের মধ্যে সেরা। এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করে।

    ৯. হলুদ

    রান্নার এই অতিপরিচিত মসলাটি বিষণ্নতা রোধে ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করতে পারে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়।

    ১০. অলিভ অয়েল

    অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল স্মৃতিশক্তি এবং অন্যান্য জ্ঞানীয় ফাংশন উন্নত করে। এটি মস্তিষ্কে আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী প্রোটিন পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।

    সঠিক ডায়েট এবং পুষ্টিকর খাবার আপনার মস্তিষ্ককে কেবল সচলই রাখে না, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ থেকে মুক্তি দিয়ে জীবনকে করে তোলে আনন্দময়।