Category: Uncategorized

  • আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে তু’মুল বিত’র্কের পর মুখ খু’লল ফিফা

    আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে তু’মুল বিত’র্কের পর মুখ খু’লল ফিফা

    মাঠের খেলায় লড়াইটা হয়েছে অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলো থেকে প্রায় বিদায়ই করে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ মিসর। তবে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় ৩-২ গোলের।

    তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বিতর্কিত ঘটনার জন্যই ম্যাচটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত, রেফারির ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এমনকি মিসর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে।

    পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। তখন চুপ ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। অবশেষে মুখ খুলেছে তারা। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানাল ফিফা।

    বিবৃতিতে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কোনো পক্ষকে ইচ্ছাকৃত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

    এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, বড় ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হলে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা জরুরি। সেই কারণে তিনি নিজেই ঘটনাটি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছেন।

    তার ভাষায়, ‘ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তিনি দশবারেরও বেশি দেখেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থামিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ভিএআর টিমের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও রিপ্লেও খতিয়ে দেখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কোনো দলকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সত্য যাচাই করতেই এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

    ফিফা সভাপতির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চেয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে এবং ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক।

    ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি কেন মিসরের সমর্থকেরা হতাশ। একইসঙ্গে এটাও বুঝতে পারি, কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মনে করেন সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে– এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন।’

    ফিফা কোনো পক্ষকে খুশি করতে চায় না জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফার দায়িত্ব কোনো একটি পক্ষকে খুশি করা নয়। বরং খেলার আইন সবার জন্য সমানভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ফিফার মূল লক্ষ্য।’

    রেফারিং বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তগুলো আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো রেফারি বা সিদ্ধান্তই পর্যালোচনার বাইরে নয়।

    ফুটবলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলে আবেগ ও বিতর্ক থাকবে। তবে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহিতাই খেলাটির প্রতি বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।’

  • মি’শরকে অ’ন্যায়ভা’বে হা’রিয়ে দেওয়া হয়েছে: মামদানি

    মি’শরকে অ’ন্যায়ভা’বে হা’রিয়ে দেওয়া হয়েছে: মামদানি

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ গোলের নাটকীয় হারের পর শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। ম্যাচটিতে মিশরের বিপক্ষে যাওয়া বেশ কিছু রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলবিশ্ব যখন উত্তাল, ঠিক তখনই এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। 

    বুধবার (৮ জুলাই) তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মিশর যোগ্যতার কারণে নয়, বরং ‘স্বজনপ্রীতি’ বা পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে হেরেছে। 

    এদিন মূলত নিউইয়র্ক সিটির বাস পরিষেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ নামক একটি নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মামদানি। কিন্তু নিজের শহরের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে যাতায়াত সময় বাঁচানোর সুফল বোঝাতে গিয়ে তিনি মিশরের এই হৃদয়বিদারক পরাজয়ের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন। 

    জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা যদি কাজে যাওয়ার জন্য বাসে যাতায়াত করেন, তবে কিছুটা সময় বাঁচবে। ছয় মাসের মধ্যে আপনারা বাসে ২৪ ঘণ্টা কম ব্যয় করবেন। আর এক বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে আপনারা যাতায়াতের সময় থেকে দুই দিনেরও বেশি সময় বাঁচাতে পারবেন।’ 

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই বেঁচে যাওয়া সময় মানে পরিবারের সঙ্গে সকালের নাস্তা করা। এর মানে আপনার বাচ্চার লিটল লিগ খেলায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো সময় পাওয়া। এর মানে ঘুমানোর সময়ে বাড়ি ফিরতে পারা। আর সবকিছুর ওপরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে এই বিষয়ে একমত হওয়া যে—গতকাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, এর অর্থ হলো নিউইয়র্কবাসীদের কাছে তাদের মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া।’ 

    কী ঘটেছিল সেই বিতর্কিত ম্যাচে?

    ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট অনফিল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। 

    অনেকেরই দাবি, ম্যাচের কিছু নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্তে রেফারি আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন। 

    সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধে। মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার ঠিক পরেই ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হস্তক্ষেপ করে। রেফারি ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, গোল হওয়ার ১০ সেকেন্ডেরও বেশি সময় আগে মিশরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

    যদিও এর কয়েক মিনিট পরেই মিশর আরেকটি বৈধ গোল করে ঠিকই ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ে ৩ গোলের লিড পেয়ে গেলে আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ত। 

    ম্যাচের এই নাটকীয় মোড় এবং শেষ মুহূর্তের হারে মিশরীয় শিবিরের ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, দলের এক তারকা সরাসরি দাবি করেন—এই বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বা পূর্বনির্ধারিত ছিল। 

    ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ আর্জেন্টিনা ফুটবল দল জোহরান মামদানি

  • তুমুল বি’তর্কের মধ্যে ফিফার ন’তুন ঘোষণা, মি’সরের জন্য বড় সুখবর

    তুমুল বি’তর্কের মধ্যে ফিফার ন’তুন ঘোষণা, মি’সরের জন্য বড় সুখবর

    চলতি ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিদায়ের শঙ্কা তৈরি করেছিল মিসর। মেসিদের বিপক্ষে দারুণ লড়াই উপহার দিয়ে আলোচনায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

    যদিও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে, তবুও এবারের বিশ্বকাপে মিশরের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফার প্রাইজমানি থেকে রেকর্ড ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পেতে যাচ্ছে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।

    এবারের আসরে ইতিহাসও গড়েছে মিসর। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় দলটি। পাশাপাশি একক কোনো বিশ্বকাপ আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে তারা।

    আক্রমণভাগেও ছিল মিসরের সেরা পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়ে ফারাওরা। বেলজিয়াম, ইরান ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোতে ওঠা দলটি শেষ পর্যন্ত দুটি জয়, দুটি ড্র ও একটি হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে।

     

    বর্তমান প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য মিসর পাচ্ছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করায় তাদের প্রাপ্তি ১০ মিলিয়ন ডলার, আর শেষ ষোলোতে ওঠার কৃতিত্বে যোগ হয়েছে আরও ৬ মিলিয়ন ডলার।

    সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ থেকে মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো একক আসর থেকে মিশরের সর্বোচ্চ আর্থিক পুরস্কার।

  • রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে যা বললেন মেসি

    মিশরের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় বিষয় হয়ে ওঠে রেফারিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

    ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, অসাধারণ রেফারিং হয়েছে। প্রায় প্রতিটি সিদ্ধান্তই নিখুঁত ছিল। আপনারাই বলুন, কোন সিদ্ধান্তটি রেফারি ভুল নিয়েছেন? প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।’

    বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগের মুহূর্ত। মিশরের দাবি, বক্সের ভেতরে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। তবে রিপ্লেতে দেখা যায়, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকোর পা সালাহর পায়ে লাগার আগে বলে স্পর্শ করেছিল। এছাড়া ম্যাচের প্রথমদিকে মিশরের একটি গোল বাতিল করা হয়, কারণ সেই আক্রমণের শুরুতে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল বলে সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।

    নিজের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন মেসি। পেনাল্টি মিস করার হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর এক ধরনের তৃপ্তি পেয়েছি। কিন্তু পেনাল্টি মিস করার পর নিজের ওপর খুব রাগ হয়েছিল। যেভাবে শট নিয়েছি, সেটা একেবারেই ঠিক ছিল না। মনে হচ্ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমি দলকে হতাশ করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর আমার জন্য ভালো কিছুই লিখে রেখেছিলেন। সমতা ফেরানোর গোলটি করতে পেরে যে স্বস্তি ও আনন্দ পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

    আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচেই জয়ের দাবিদার ছিল বলেও মনে করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।

    তার ভাষায়, ‘যদি পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারতাম, তাহলে ম্যাচের চিত্র আরও আগেই বদলে যেত। কারণ, আমরা তখনও ভালো খেলছিলাম, এমনকি ওরা এগিয়ে যাওয়ার পরও। আমরা বেশ কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেছি। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজের সুযোগগুলো তার উদাহরণ। তাদের গোলরক্ষকও অসাধারণ কিছু সেভ করেছে। আমার বিশ্বাস, এই দলটি জয়েরই যোগ্য ছিল। তাই আমি খুবই খুশি।’

  • দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    দুঃ’সং’বাদ পেলো আর্জেন্টিনা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে (যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড) আর্জেন্টিনা জাতীয় দল মাঠের বাইরের একটি খবর পেয়েছে, যা পরিস্থিতি কিছুটা বদলে দিয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

    মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় পেলেও লিওনেল স্কালোনির দলকে আবারও পেছনে ফেলেছে ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে ফরাসিরা।

    এই ফলাফলের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২৫.৮৬, আর আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ১ হাজার ৯২৫.১৫। দুই দলের ব্যবধান এতটাই কম যে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর ফলাফলের ভিত্তিতে পরিস্থিতি আবারও বদলে যেতে পারে। কারণ বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যাচের ফল অনুযায়ী ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে এবং আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স—দুই দলই এখনও টুর্নামেন্টে টিকে আছে।

    শুধু পরিসংখ্যানগত দিক থেকেই নয়, শীর্ষস্থান হারানোর বিষয়টি অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা হচ্ছে। ফুটবলে ফিফা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে একটি কৌতূহলজনক তথ্য রয়েছে—বিশ্বকাপ শুরুর আগে যে দল র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে থাকে, তারা কখনোই বিশ্বকাপের ট্রফি জিততে পারেনি।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতির পর শীর্ষস্থান দখল করেছিল আর্জেন্টিনা। ফ্রান্সের আগের প্রীতি ম্যাচগুলোর ফল এবং স্পেনের ড্রয়ের কারণে তারা এগিয়ে যায়। ওই সময় ফ্রান্স ও স্পেন ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ের প্রথম দুই স্থানে। এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে আর্জেন্টিনা।

    অন্যদিকে, ফ্রান্স আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় এবং স্পেন ইরাকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। এসব ফলাফলে দুই দলই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারায়। আর্জেন্টিনা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ শুরুর আগের শেষ দুই ম্যাচ জিতে আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করে।

    তবে এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফ্রান্স আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছে এবং আর্জেন্টিনা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। যদিও দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নগণ্য।

    মজার বিষয় হলো, এই পরিবর্তন প্রতি চার বছর পরপর আলোচিত একটি কুসংস্কারকেও আবার সামনে নিয়ে এসেছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দল কখনোই সেই অবস্থান ধরে রেখে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তাই এক নম্বর স্থান হারানো নিঃসন্দেহে পরিসংখ্যানগতভাবে ভালো খবর নয়, তবে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক হয়তো বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না।

  • রেফারির ৩ সিদ্ধান্তে বি’তর্কে উ’ত্তাল বিশ্বকাপ

    রেফারির ৩ সিদ্ধান্তে বি’তর্কে উ’ত্তাল বিশ্বকাপ

    বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নাটকীয় ম্যাচগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টিনা ও মিশরের লড়াই। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিং এবং ভিএআরের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

    ম্যাচের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মিশর। প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো প্রকাশ্যে রেফারিংয়ের সমালোচনা করেছেন। 

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অসংখ্য সমর্থক, সাংবাদিক ও সাবেক ফুটবলার দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে। অনেকের মতে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই আর্জেন্টিনার পক্ষে নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে সমালোচনায় উত্তাল বিশ্ব।

    ম্যাচের প্রথমার্ধেই বিতর্কের সূচনা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা মিশরের উইঙ্গার এমাম আশুরকে হাত দিয়ে বাধা দেন। তবে ওই ঘটনায় কোনো ফাউল দেননি রেফারি।

    দ্বিতীয়ার্ধে আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়। মিশরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক তেমন কোনো কারণ সামনে আনা হয়নি। এরপর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চ্যালেঞ্জে পড়ে যান মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। রিপ্লেতে তার পায়ের আঙুলে স্পর্শের ইঙ্গিত মিললেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ভিএআরও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।

    এই দুটি ঘটনাই ম্যাচ শেষে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ৫০-৫০ সিদ্ধান্তগুলো কেন বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষেই যাচ্ছে। কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি ম্যাচ কর্মকর্তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    অবশ্য বিতর্কের মাঝেও মাঠে দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল মিশর।

    এরপর লিওনেল মেসির নৈপূণ্যে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

    তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি রেফারিং নিয়ে বিতর্কই এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। মিশরের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত পেলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।

  • সালাহ ফাউলের শিকার হননি, রিপ্লেতে যা দেখা গেল

    সালাহ ফাউলের শিকার হননি, রিপ্লেতে যা দেখা গেল

    যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হারিয়েছে মিশরকে। তবে ফার্নান্দেজের সেই গোলের বিল্ড আপে মোহামেদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল কি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক উঠেছে বেশ। যদিও রিপ্লে বলছিল ভিন্ন কিছুই। সেখানে দেখা গেছে সালাহকে ফাউল করা হয়নি মোটেও।

    ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৯২ মিনিটে। বক্সের ভেতর বল নিয়ে চলে এসেছিলেন সালাহ। সেই বল রিকভার করেন হুলিয়ান আলভারেজ। চলে আসেন মাঝমাঠের কাছে। তবে এরপরই তিনি বল বাড়ান লাউতারো মার্তিনেজের কাছে।

    একটু দূরেই চলে গিয়েছিল বলটা। সেখান থেকে বলটা লাউতারো ফেরত পাঠালেন মিশরের বক্সে। বক্সে দাঁড়িয়ে ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। তার মাপা হেডার গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। গোলের দেখা পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, এগিয়ে যায় যোগ করা সময়ে।

    I’m actually in tears man, he won the ball cleanly and Salah was going down immediately as if he got sniped, shameless 😭 pic.twitter.com/Kylriv0pFm

    — Mod (@CFCMods) July 7, 2026

    তবে এই গোলের বিল্ড আপে ফাউল হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। যদিও রিপ্লেতে দেখা গেছে বক্সে ঢোকার পর আলভারেজ বলে পা ছুঁইয়েছেন আগে।

    বলে আগে পা ছুঁইয়েছেন আলভারেজ

    সেখান থেকে বলটা সালাহর দখল থেকে পেছনে চলে যায়। বিপত্তিটা বাধে এরপর।

    বলের দখল হারালেন সালাহ

    সালাহ ওই রানের ফলো থ্রুতে পা ফেলেন আলভারেজের গোড়ালির সামনে, তখনই পড়ে যান তিনি। রিপ্লে দেখে বুঝা যাচ্ছে, আলভারেজ পা সরিয়ে পেছনে নিচ্ছিলেন, বরং সালাহই পা আগে বাড়িয়েছেন। এখানে ফাউল ডাকা হলে উল্টো সালাহর বিপক্ষেও ফাউল ডাকা হতে পারত।

    Real human beings are saying this is a foul on Salah 😭 pic.twitter.com/YyR3CCh3EM

    — AM☬ (@AbsoluteMxssi) July 7, 2026

    তবে সে যাই হোক, আর্জেন্টিনা ম্যাচটা জিতেছে ৩-২ গোলে। চলে গেছে প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে।

  • যে কারণে বাতিল হয়েছিল মিশরের সেই গোলটি

    যে কারণে বাতিল হয়েছিল মিশরের সেই গোলটি

    বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে মিশরের একটি দারুণ গোল বাতিল করে দিয়েছে ভিএআর। এতে বড় স্বস্তি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।

    মিশরের রক্ষণ থেকে শুরু হয়েছিল আক্রমণটি। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে যান হাসান। মাঝে এসে বল বাড়ান সালাহকে। সালাহ বক্সের ভেতর বল বাড়িয়ে দেন বাম দিক থেকে উঠে আসা জিকোকে। গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজের আগে বলের নাগাল পান জিকো। এরপর দারুণ শটে বল জালে জড়ান তিনি।

    তবে গোল উদযাপনের কিছুক্ষণ পরই আসে দুঃসংবাদ। ভিএআর পরীক্ষা করে দেখে, আক্রমণের শুরুতে মিশরের অর্ধেই একটি ফাউল হয়েছিল। লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে টেনে ধরেছিলেন আতিয়া। রেফারি তাই ফ্রি কিকের সিদ্ধান্ত দেন এবং গোলটি বাতিল করেন।

    সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এমন একটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক গোল বাতিল হওয়ায় হতাশ হতে হয়েছে মিশরকে।

  • আর্জেন্টিনাসহ যে ৬ দেশ ২০৩০ সালের বি’শ্বকাপ স’রাসরি খেলবে

    আর্জেন্টিনাসহ যে ৬ দেশ ২০৩০ সালের বি’শ্বকাপ স’রাসরি খেলবে

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশে বসবে ওই আসর। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা নিশ্চিত করেছে ছয়টি দেশ—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে।

    মূল আয়োজনের দায়িত্বে থাকবে ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগাল এবং আফ্রিকার মরক্কো। তবে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনকারী উরুগুয়েকে সম্মান জানাতে শতবর্ষের বিশেষ আয়োজন হিসেবে উদ্বোধনী পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এ কারণে এই তিন দেশও স্বাগতিকের মর্যাদা পচ্ছে এবং সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

     

    ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের মূল আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। পরে শতবর্ষ উদ্‌যাপনকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে তুলতে প্রথম বিশ্বকাপের স্মৃতিবিজড়িত উরুগুয়েসহ দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে দলগুলো ইউরোপ ও আফ্রিকায় গিয়ে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচ খেলবে।

     

     

    ফিফার সূচি অনুযায়ী, ২০৩০ বিশ্বকাপ শুরু হবে ৮ জুন এবং শেষ হবে ২১ জুলাই। ৪৪ দিনব্যাপী এই আসর হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ছয় দেশের ১৮টি শহরের ২১টি স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে।

     

    ফাইনাল কোথায় হবে, সেই বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু এবং মরক্কোর নির্মাণাধীন হাসান-২ স্টেডিয়াম আলোচনায় রয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর চূড়ান্ত ভেন্যু তালিকার সঙ্গে ফাইনালের মাঠও ঘোষণা করা হবে।

     

     

    তিন মহাদেশে ছড়িয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের নজির এর আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আধুনিক আয়োজনের সমন্বয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম স্মরণীয় আসর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    প্রিয় দল হারলে মন ভালো করবেন যে ৭ উপায়ে

    ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, অনেকের কাছে এটি আবেগ, ভালোবাসা আর জীবনের আনন্দের একটি অংশ। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে খেলা দেখা, পতাকা উড়িয়ে উচ্ছ্বাস করা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে রাত জেগে ম্যাচ উপভোগ করা—সবকিছুতেই থাকে আলাদা অনুভূতি। কিন্তু সেই প্রিয় দলই যখন হেরে যায়, তখন অনেক সমর্থকের মনেও নেমে আসে হতাশা।

    কেউ খাওয়া-দাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ বারবার খেলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো দেখে আফসোস করতে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কোনো দলকে ভালোবাসার কারণে মানুষের সঙ্গে সেই দলের এক ধরনের আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি হয়। তাই দলের জয় যেমন আনন্দ দেয়, পরাজয়ও তেমন কষ্ট দেয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, ফুটবল আনন্দের জন্য। তাই প্রিয় দল হেরে গেলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক হলেও সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠাও জরুরি। জেনে নিন মন ভালো করার সহজ কিছু উপায়—

    ১. নিজের অনুভূতিকে সময় দিন

    ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। প্রিয় দলের হার কষ্ট দিলে সেই অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন। কিছু সময় নিজের মতো থাকুন। আবেগকে সময় দিলে ধীরে ধীরে মন হালকা হয়ে আসে।

    গোলের পথে ফুটবল বাতাসে হঠাৎ বাঁক নেয় কেন

    ২. মনে রাখুন, এটি শুধু একটি খেলা

    ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এখানে জয়-পরাজয় দুটোই আছে। বড় বড় দলও কখনো না কখনো হারে। তাই মনে রাখতে হবে, একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার জীবন বা ব্যক্তিগত সাফল্য নির্ধারণ করে না।

    ৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছু সময় দূরে থাকুন

    দল হারার পর নানা ধরনের মন্তব্য, বিদ্রূপ বা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেখা যায়। এগুলো বারবার দেখলে মন আরও খারাপ হতে পারে। তাই কিছু সময়ের জন্য ফোন থেকে দূরে থেকে বই পড়া, গান শোনা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ভালো।

    ৪. বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন

    মন খারাপের সময় প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা অনেকটা স্বস্তি দেয়। একই দলের সমর্থক বন্ধুদের সঙ্গে হতাশা ভাগ করে নিন। আর প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মজা-ঠাট্টাকে হাসির সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য, সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য নয়।

    ৫. ম্যাচের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন

    হারের পর আমরা সাধারণত ভুল বা ব্যর্থতার কথাই বেশি ভাবি। কিন্তু পুরো ম্যাচে নিশ্চয়ই কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল। প্রিয় খেলোয়াড়ের সুন্দর খেলা, অসাধারণ রক্ষণ বা দলের লড়াইয়ের বিষয়গুলোও মনে করার চেষ্টা করুন।

    ৬. নিজের পছন্দের কাজে মন দিন

    খেলা শেষ হয়ে গেছে, তাই বারবার সেটি ভেবে মন খারাপ না করে অন্য কাজে ব্যস্ত হন। সিনেমা দেখা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া বা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সময় দিলে হতাশা কমে আসে।

    ৭. নতুন স্বপ্নের অপেক্ষায় থাকুন

    একজন সত্যিকারের সমর্থক শুধু জয়ের সময় নয়, হারের সময়ও দলের পাশে থাকেন। একটি হার মানেই সব শেষ নয়। সামনে নতুন ম্যাচ আছে, নতুন সুযোগ আছে। তাই আশা হারানো যাবে না।

    ফুটবলের আসল সৌন্দর্য কোথায়?

    ফুটবলের আনন্দ শুধু ট্রফি জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা, গোলের মুহূর্তে উল্লাস করা, উত্তেজনা ভাগ করে নেওয়া কিংবা হারার পরও দলের পাশে থাকা—এসব অনুভূতিই ফুটবলকে বিশেষ করে তোলে।

    প্রিয় দল হয়তো আজ হেরেছে, কিন্তু একজন সমর্থকের ভালোবাসা হারেনি। আর সেই ভালোবাসাই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা করে তুলেছে।