Category: Uncategorized

  • সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুই পদে রদবদল

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুই পদে রদবদল

    সেনাবাহিনীর কয়েকটি শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে সেনাসদর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান।

    এর আগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন। 

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

    এদিকে নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এর আগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন তিনি।

  • ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে, দেখে নিন

    ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে, দেখে নিন

    দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার। 

    ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও লক্ষ্য

    এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহায়তার এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংগ্রহ

    একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমবে। প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

    পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    আবেদন করতে যা যা লাগবে

    যদিও আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি, তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে নিচের কাগজগুলো সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—

    ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

    ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

    ৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর।

    আবেদন কোথায় করবেন

    পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে মাসিক নগদ টাকা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাবে।

  • ফোন ন’ষ্টের বড় কারণ ফ্ল্যা’শলাইট, সর্বোচ্চ যত মিনিট জ্বা’লানো যাবে, জেনে নিন

    ফোন ন’ষ্টের বড় কারণ ফ্ল্যা’শলাইট, সর্বোচ্চ যত মিনিট জ্বা’লানো যাবে, জেনে নিন

    স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট বর্তমানে টর্চলাইট হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও এই ফ্ল্যাশলাইট ফটোগ্রাফির সহায়ক হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সময় এটি জ্বালিয়ে রাখলে ফোনের হার্ডওয়্যারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

    ১. ব্যবহারের নিরাপদ সময়সীমা
    সাধারণত একটি স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট একটানা ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি জ্বালিয়ে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের প্রয়োজন হলে প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অন্তত ১-২ মিনিটের বিরতি দেওয়া উচিত যাতে উৎপন্ন তাপ প্রশমিত হতে পারে।

    ২. অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন (Overheating)
    ফোনের ফ্ল্যাশলাইট বা LED মডিউলটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানে অবস্থিত। দীর্ঘক্ষণ এটি জ্বললে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। যেহেতু ফোনে কোনো কুলিং ফ্যান নেই, তাই এই তাপ সরাসরি ফোনের মাদারবোর্ড এবং ক্যামেরা লেন্সের ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপে ক্যামেরার গ্লাস ঝাপসা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ৩. ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা হ্রাস
    ফ্ল্যাশলাইট ফোনের ব্যাটারি থেকে উচ্চমাত্রার ভোল্টেজ টেনে নেয়। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত তাপ অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা (Battery Health) দ্রুত কমিয়ে দেয় এবং ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

    ৪. LED মডিউলের আয়ুষ্কাল
    স্মার্টফোনের প্রতিটি LED-এর একটি নির্দিষ্ট ‘বার্নিং আওয়ার’ বা জ্বলার ক্ষমতা থাকে। দীর্ঘক্ষণ একটানা জ্বালিয়ে রাখলে LED মডিউলটি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে পরবর্তীতে ফ্ল্যাশলাইটের উজ্জ্বলতা কমে যায় কিংবা স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

    ৫. কখন দ্রুত বন্ধ করা আবশ্যক
    ফোনের পেছনের অংশ বা ক্যামেরার চারপাশ অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে।
    ফোনের চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসলে।
    উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে (যেমন রোদে বা গরম ঘরে) অবস্থান করলে।

  • কোটের হাতাতে এই অতিরিক্ত বোতাম কেন থাকে, আসল র’হস্য জেনে নিন

    কোটের হাতাতে এই অতিরিক্ত বোতাম কেন থাকে, আসল র’হস্য জেনে নিন

    জিনসের প্যান্টে ছোট্ট সেই পকেটটার কথা নিশ্চয়ই জানেন। আকারে এতটাই ছোট যে ব্যবহারহীন মনে হতে পারে। কিন্তু ঊনবিংশ শতকে এই পকেট রাখা হয়েছিল বিশেষ একটি কারণে—সেটি ছিল পকেট ঘড়ি রাখার জন্য। কৃষক আর শ্রমিকরা তখন জিনস বেশি পরতেন। মাঠে বা কাজে তারা কোট ব্যবহার করতে পারতেন না। তাই জিনসেই বানানো হয়েছিল ঘড়ি রাখার জায়গা।

    তেমনি কোট বা স্যুট জ্যাকেটের নকশাতেও লুকিয়ে আছে এক ইতিহাস। কোটের হাতাতে যে বাড়তি বোতামগুলো দেখা যায়, সেগুলো অনেকের কাছেই কেবল সাজসজ্জা মনে হতে পারে। তবে এর পেছনেও রয়েছে কার্যকারিতা।

    এই বোতামগুলোকে বলা হয় ‘সার্জনস কাফ’। ইতিহাস বলছে, চিকিৎসকরা যখন আধুনিক মেডিকেল পোশাক ব্যবহার করতেন না, তখন তারা স্যুট পরেই রোগী দেখতেন। ফলে হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন হতো আস্তিন গুটিয়ে নেওয়ার। কোটের আস্তিনে বোতাম থাকার ফলে তখন সেটি খোলা যেত, আর সহজেই হাত পরিষ্কার করা সম্ভব হতো।

    ধারণা করা হয়, ঊনবিংশ শতকে কোটের নকশায় এই বোতামের ব্যবহার শুরু হয়। তখন এগুলো কার্যকরভাবেই ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেমন শার্টের আস্তিনের বোতাম খোলা যায়।

    তবে এখন সময় বদলেছে। আধুনিক স্যুট জ্যাকেটের আস্তিনে থাকা বোতামগুলো আর খোলা যায় না। সেগুলো কেবল নকশা ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে থেকে গেছে। অতীতের ব্যবহারিক প্রয়োজন আজ রয়ে গেছে ফ্যাশনের ছোঁয়ায়। তাই কোটের আস্তিনে থাকা বাড়তি বোতাম এখন আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত।

    সূত্র : জিও নিউজ উর্দু

  • কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, করছেন কী?

    কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, করছেন কী?

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস– এ বিষয়ে অনেকেই জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, তিনি কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন যমুনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন।

    জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি এটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপরই গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

     

    অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

     

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

     

    ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

     

    তিনি আরও বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, এছাড়াও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

     

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

     

    বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি-এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

     

    যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন প্রতিদিন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়।

     

    সংশ্লিষ্ট আরও একজন বলেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায়, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

     

    আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

     

    সব কিছু শেষে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকছেন এবং বিকেলে ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

     

    জানা গেছে এরইমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি তার সরকারের মেয়াদকালেই পাসপোর্টটি ছেড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

     

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে এরইমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

     

    স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। বাকিরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

     

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দেশ শাসনের পরে ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ইউনূস।

     

    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

  • ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

    বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

    এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন

    পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়।

    ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

    আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

    তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন-

    ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়।

    সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

    আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে।

    বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

    সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    পবিত্র রমজানের ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা বা বোনাস পেতে পারেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। এই ভাতা শতভাগ করা হবে।

    তবে কবে নাগাদ উৎসব ভাতা শতভাগ করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি শিক্ষামন্ত্রী।

    সূত্রটি বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি শতভাগ বোনাস পাবেন শিক্ষকরা। এটা রমজানের ঈদ থেকেও হতে পারে।

    জানা গেছে, নীতিমালায় শতভাগ উল্লেখ করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০০৪ অনুযায়ী, শিক্ষকরা এক মাসের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পান। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বোনাস পান ৫০ শতাংশ।

    বিগত ১৭ বছর ধরে এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

    ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’ জারির পর শতভাগ বোনাস পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শতভাগ উৎসব ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার ‘শিক্ষক ও কর্মচারীদের (স্কুল ও কলেজ) বেতন-ভাতা নির্ধারণ’ অনুচ্ছেদের ১১.৭-এর ‘ঙ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন/বোনাসের নির্ধারিত অংশ/উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ/বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫/সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।’

  • স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

    স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এই পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই স্পিকারের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হতে পারে। দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক বিষয়ে গভীর জ্ঞান তাকে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতার সমন্বয়ে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য মনে করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও সমান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে স্পিকার পদের জন্য অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার বিষয়টিই চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য হতে পারে।

    রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ভিন্নমুখী আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে জয়নুল আবেদীন সংসদ পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। আবার অনেকের মতে, প্রবীণ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান স্পিকার পদে ভালো করবেন। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দলীয় কৌশল ও সংসদীয় সমীকরণের ওপর।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন।

  • রোজা অবস্থায় পে’টে গ্যা’সের সমস্যা হলে যা করবেন, জেনে নিন

    রোজা অবস্থায় পে’টে গ্যা’সের সমস্যা হলে যা করবেন, জেনে নিন

    পবিত্র মাহে রমজানের রোজা থাকা অবস্থায় পেটে গ্যাস হলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। গ্যাসের সমস্যা সাধারণত অতিরিক্ত খাবার বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে হয়, কিন্তু রোজার সময় এটি আরও সমস্যা হতে পারে। 

    যা করবেন
    সঠিক খাবার নির্বাচন করুন: সেহরিতে বা ইফতারে ভারী খাবারের বদলে হালকা, পচনশীল খাবার খান। যেমন- তাজা ফল, সবজি, স্যুপ বা কম তেলে রান্না করা খাবার।

    পানি খান: ইফতার এবং সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে।

    অ্যালকোহল বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন: চা, কফি বা সফট ড্রিঙ্কের মতো ক্যাফিনযুক্ত পানীয় গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। সেহরি এবং ইফতারে এড়িয়ে চলুন।

    আলাদা করে হালকা খাবার খান: একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে, আলাদা আলাদা করে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

    মৃদু হাঁটাহাঁটি করুন: ইফতার বা সেহরির পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি করতে পারে। এটি পেটের গ্যাস বের করতে সহায়ক হতে পারে।

    অফ-টু-ইন্ডিকেটেড ওষধ: যদি গ্যাস বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্যাস দূরীকরণের ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন।

    গ্যাসের সমস্যা কমাতে রোজায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে? জেনে নিন

    ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে? জেনে নিন

    সেহরি খেয়ে রোজা রাখা সুন্নত। হাদিসের ভাষায়, সেহরিতে রয়েছে অসংখ্য বরকত ও কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম)

    রমজান মাসে অনেকেরই এমন পরিস্থিতি হয়—সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে, কিন্তু সেহরির সময় খুব কম, বা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার কারণে তখনই গোসল করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন আসে: গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা হবে?

    গোসল ফরজ হওয়ার কারণ

    সুনির্দিষ্ট চার কারণের যে কোনে একটি সংঘটিত হলেই গোসল ফরজ হয়। তাহলো-

    ১. জানাবাত থেকে অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা হওয়ার গোসল। এটি নারী-পুরুষের যৌন মিলন, স্বপ্নদোষ বা যে কোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-

    وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ

    ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)

    ২. মাসিক বন্ধ হওয়ার পর নারীদের পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।

    ৩. সন্তান প্রসবের পর নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে পবিত্র হওয়ার জন্য নারীদের গোসল করা ফরজ।

    ৪. আর জীবতদের জন্য মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজ।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসে সহবাসের ফলে ফরজ গোসল অবস্থায় রাসুল (সা.) সুবহে সাদিক অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৮২৯)

    উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে যে গোসল ফরজ অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং রোজা পালন করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬)

    সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। এক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫১)

    عَنْ نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَنْ فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ 
                                                                                                .أَهْلَهُ وَمَالَهُ

    হজরত নওফেল বিন মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন, যার নামাজ কাজা হয়ে গেল, যেন তার পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল।

    (মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৪২)