Category: Uncategorized

  • ফ্যামিলি কার্ড পেতে আবেদন করবেন যেভাবে

    ফ্যামিলি কার্ড পেতে আবেদন করবেন যেভাবে

    দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে স্বস্তি দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে দ্রুতই। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে।

    সহায়তার এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। এরইমধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

     

    জানা যায়, একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীকালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

     

    যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবুও সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ৩টি কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর।

     

    পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

  • ফিতরা কী, কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন বিস্তারিত

    ফিতরা কী, কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন বিস্তারিত

    সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

    ফিতরা দেওয়া কী এবং কেন দিতে হয়?

    রোজার জরুরি মাসায়েলে

    প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯)

    কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব

    যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

    হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯)

    মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

    নেসাবের ওপর বছরপূর্তি কি জরুরি?

    সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।

    মাসআলা : কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯)

    মাসআলা : ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৫)

    যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

    সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

    মাসআলা : পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ : পৃ. ৩৯৫)

    মাসআলা : মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

    মাসআলা : সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

    মাসআলা : বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

    নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১০৪৫৫)

    বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। (আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

    মাসআলা : নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সাদাকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৩/৬৩, সহিহ বোখারি : ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক : ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৪, হেদায়া : ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৩)

    সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ

    হাদিসে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা : ১. যব, ২. খেজুর, ৩. পনির, ৪. কিশমিশ ৫. গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে। কেজির হিসাবে যা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা সা‘ দিতে হবে। কেজির হিসাবে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম। এটা ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ। আর মূল্যের পার্থক্য তো আছেই।

    উল্লেখ্য, হাদিসে এ পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যে কোনোটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে উত্তম হলো, যার উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য আছে, তার জন্য ওই হিসাবেই দেওয়া। যার সাধ্য পনির হিসাবে দেওয়ার, তিনি তাই দেবেন। এরচেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারেন। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তিনি আদায় করবেন গম দ্বারা।

    কোরআনের নির্দেশনা, অবশ্য কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে (এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরো বাড়িয়ে দেয়), তবে তার পক্ষে তা শ্রেয়। (সুরা বাকারা : ১৮৪)

    কোনো ব্যক্তি হাদিসে বর্ণিত যেকোনো খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে।

    সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি

    হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে। কুররা (রাহ.) বলেন, আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহ.)-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭০)

    বিশিষ্ট তাবেয়ি আবু ইসহাক (রাহ.) বলেন, আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়িগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। (সহিহ বোখারি : ১/১৯৪, উমদাতুল কারী : ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৪৭২, কিতাবুল আছল : ২/১৮০, ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৫)

    মাসআলা : চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস ১০৪৭২; কিতাবুল আছল : ২/১৮০; আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১১৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/২৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫৫)

    মাসআলা : একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৭)

    প্রবাসে অবস্থানরতরা যেভাবে ফিতরা আদায় করবেন

    বিদেশে অবস্থানরত কারো পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ওই দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

    মাসআলা : অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া : ৬/২৮৯)

    সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়

    সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

    অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

    আর নাফে‘ (রাহ.) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ৩১৬)

    সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর রমজানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। (আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৭, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৭)

    উল্লেখ্য, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

    সাদাকাতুল ফিতর যাদেরকে দেওয়া যাবে

    জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

    আত্মীয়স্বজনকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া

    নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। (কিতাবুল আছল : ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬২, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

    অমুসলিমকে সদকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে?

    সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েজ এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৫১২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬১, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৯)

    মাসিক আল কাউসার অবলম্বনে

  • স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ তিনজন নেতার নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন এবং সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। এরপর থেকেই আলোচনা উঠেছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিপ হুইপ। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

    তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

    এদিকে, ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তিনজনই দলের ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং আন্দালিব রহমান পার্থর নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদের সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর নাম শোনা যাচ্ছে।

    বিএনপি সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনায় স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

    অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    এদিকে, স্পিকার পদে জন্য কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।

    এদিকে, জয়নুল আবদিন ফারুক ৬ বারের সংসদ-সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন তিনি। ফলে এবার সরকারদলীয় সম্ভাব্য চিফ হুইপ হিসাবে তার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলু ৫ বারের সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। এবারও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনা ছিলেন বুলু। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় এখন তার নামও চিফ হুইপ পদে আলোচনায় আছে।

  • বি’ষফোড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    বি’ষফোড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    ত্বকের অন্যতম বেদনাদায়ক এক অনুভূতির নাম ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া। ত্বকে এক বা একাধিক ফোঁড়া দেখা দিলে সে স্থান ও এর আশপাশের জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু কেন এমন হয় জানেন?

    চিকিৎসাশাস্ত্রে ফোঁড়া দুধরনের। একটি সাধারণ ফোঁড়া অন্যটি বিষফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত স্টাফালোলোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত স্থানেই ফোঁড়ার উপস্থিতি দেখা দেয়।

     

    ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া

     

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোঁড়া ত্বকের এক কিংবা একাধিক রোমকূপকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। ত্বকে একধরনের ব্যাকটেরিয়া (স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিউস) জন্ম নিলে ফোঁড়ার সমস্যা তৈরি হয়।

     

    এ ব্যাকটেরিয়া ত্বকের রোমকূপের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ত্বকের ভেতরে তৈরি করে ইনফেকশন। এতে শরীরে মৃত কোষ ও ইনফেকশন কোষ মিশে পুঁজ তৈরি হয়ে ‘সোয়েলিং’ শুরু হয়।

     

    একসময় ভেতরের সেই পুঁজ ত্বকের ওপরে উঠে আসে। আর তখনই আমরা ত্বকের ওপরে ফোঁড়ার অস্তিত্ব টের পাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের ওপরে একটি ফোঁড়ার অস্তিত্ব মানেই ত্বকের ভেতরে একাধিক ফোঁড়ার অস্তিত্ব রয়েছে।

     

    ফোঁড়া কেন হয়?

     

    একটি ফোঁড়ার ছোট ছোট মুখ থাকে। সাধারণত কোমর, ঘাড়ে, পিঠে ও কনুইতে বেশি হতে দেখা যায়। তবে ঘাম বেশি হয় এমন স্থানেও ফোঁড়া বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং ফোঁড়া রয়েছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও ত্বকে বাসা বাঁধতে পারে ছোট আকারের এ বিষফোঁড়া।

     

    চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েক দিনের যন্ত্রণার পর ফোঁড়া নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে নিজে থেকে ভালো না হলে ফোঁড়ার এ সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

     

    তাই ত্বকে ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল যা-ই হোক না কেন, সব সময়ই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শেরও। আসুন জেনে নিই, ত্বকে কখন ফোঁড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে তার কারণ।

     

     

    ফোঁড়া কাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

     

    মূলত, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, ফোঁড়া তাদেরই বেশি হয়ে থাকে। আবার কোনো সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের দীর্ঘ বা জটিল রোগভোগের পর কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলেও ফোঁড়া হওয়ার শঙ্কা থাকে।

     

    উপসর্গ

     

    ব্যাকটেরিয়া ত্বকের কোনো অংশে ইনফেকশন তৈরি করেছে বা করছে, তা আপনি ত্বকের ওপর থেকে প্রথমে বুঝতে পারবেন না। তাই খেয়াল রাখতে হবে বিশেষ একটি দিক।

     

    বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শরীরে কোনো নির্দিষ্ট অংশের ত্বকের উপরিভাগ কিছুটা শক্ত হয়ে যায় এবং জায়গাটি টিপলে ব্যথা লাগে। এমন অনুভব হলে ওই জায়গাতেই ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

    করণীয়

     

    ফোঁড়ার সমস্যা বেশ কষ্টকর। এ সমস্যা টানা কয়েক দিন আপনাকে ভোগাবে। ফোঁড়ার আকার বড় হলে জ্বরও আসতে পারে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মেনে চলুন বিশেষ কয়েকটি টিপস–

     

    ১। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখার চেষ্টা করুন।

    ২। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখতে না পারলে পাতলা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

    ৩। ত্বকের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ফোঁড়া যেন ছড়িয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

    ৪। পুষ্টিকর সুষম খাদ্য ও তিতা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাইরের তেল চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

     

    ৫। অনেকের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি খোঁটাখুঁটির অভ্যেস রয়েছে। এটা একেবারেই করা যাবে না। কেননা, এতে ব্যাকটেরিয়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত করতে পারে।

    ৬। অনেকে জোর করে ফোড়ার পুঁজ বের করার চেষ্টা করেন। এটি করবেন না। কেননা, এতে ত্বকে গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে।

    ৭। ফোঁড়া দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে এন্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

    ৮। ত্বকের সুস্থতায় এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

     

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ফোঁড়া রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস এবং শরীরের ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’-এর ক্ষতি করতে পারে। তাই কয়েক দিনের মধ্যে যদি ফোঁড়া না সারে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • যে ভি’টামিনের অভাবে হাতের তালু অনবরত ঘামতে থাকে, জেনে নিন উপকারে আসবে

    যে ভি’টামিনের অভাবে হাতের তালু অনবরত ঘামতে থাকে, জেনে নিন উপকারে আসবে

    অনেকে আছেন যাদের হাতের তালু অনবরত ঘামে—এমনকি ঠান্ডা পরিবেশেও! এ সমস্যা শুধু অস্বস্তিকরই নয়, সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও অপ্রত্যাশিত বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সমস্যা অনেক সময় ভিটামিনের অভাব থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২–এর ঘাটতি হলে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    কোন ভিটামিনের অভাবে হাতের তালু ঘামে?

    ১. ভিটামিন ডি (Vitamin D): ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং স্নায়ুতে অস্বাভাবিক উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এতে শরীরের কিছু নির্দিষ্ট অংশ, বিশেষ করে তালু বা পায়ের তলা ঘেমে যেতে পারে। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার তালু ঘামাও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

    ২. ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12): স্নায়বিক ভারসাম্য রক্ষায় ভিটামিন বি১২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতির ফলে হাত-পায়ে ঝিনঝিনে ভাব, দুর্বলতা, ও ঘাম হওয়া — বিশেষ করে তালুতে ঘাম — দেখা দিতে পারে। নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

    ৩. ভিটামিন বি১ ও বি৬: এই দুটি ভিটামিনও স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে এবং ঘাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটতি হলে হাতের তালুতে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।

    চিকিৎসা ও প্রতিকার

    রক্ত পরীক্ষা: প্রথম ধাপ হলো প্রয়োজনীয় ভিটামিনের মাত্রা রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া।

    সাপ্লিমেন্ট: ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত।

    খাবার: সঠিক খাবারের মাধ্যমে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

    কোন খাবারে পাওয়া যায়

    ভিটামিন ডি: রোদ, চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, ফোর্টিফায়েড দুধ

    ভিটামিন বি১২: মাংস, ডিম, দুধ, সামুদ্রিক মাছ

    ভিটামিন বি৬/বি১: বাদাম, সবুজ শাকসবজি, কলা, ছোলা

     

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঘাম নয়, যদি তালুর ঘামের সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল লাগে, মনমরা ভাব হয় বা স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। অনেক সময় এই ঘাম আসলে শরীরের ভিতরের একটি সিগন্যাল।

    আপনার যদি অনবরত হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে, তবে সেটিকে অবহেলা না করে যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

  • ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লা’লা পড়ে কেন, ভয়া’বহ রো’গ নয় তো? রইল সমাধান

    ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লা’লা পড়ে কেন, ভয়া’বহ রো’গ নয় তো? রইল সমাধান

    দিনে বা রাতে ঘুমের সময় অনেকেরই মুখ দিয়ে লালা পড়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তাদের অজান্তেই ঘুমের সময় লালা পড়ে। এ ক্ষেত্রে বাসা-বাড়ির বাইরে গেলে বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঘুমানো খুবই লজ্জার বিষয় হয়। আবার বিষয়টি পরিবার ব্যতীত জানাজানি হলেও বিড়ম্বনার শেষ থাকে না।

    ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা পড়ার বিষয়টি অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু এটি মোটেও ঠিক নয়। মুখ দিয়ে লালা পড়া অনেক ক্ষেত্রেই স্ট্রোক ও মস্তিষ্কের মতো ভয়াবহ রোগের jকারণে হয়ে থাকে। মুখ দিয়ে লালা পড়া বন্ধ করতে ঘুমের অভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এ সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম ভেরি ওয়েল হেলথ।

    ঘুমের সময় লালা পড়ে কেন:
    সাধারণত ঘুমের সময় শরীরের সব পেশীগুলো শিথিল হয়, বিশেষ করে রেম। ঘুমানোর সময় মুখ খোলা থাকলে মুখ দিয়ে লালা ঝরে। আবার আপনি যদি পাশ ফিরে বা পেটে ভর করে ঘুমান, তাহলে ঘুমের সময় মুখের পাশ দিয়ে লালা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ঘুমের ভঙ্গির কারণে মুখ দিয়ে লালা ঝরলে পিঠের ওপর ভর দিয়ে ঘুমালে সমস্যা সমাধান হতে পারে।

    মুখের স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা থেকেও লালা ঝরতে পারে:
    অনেক ক্ষেত্রে মুখের সমস্যা যেমন- গর্ত, মাড়ির রোগ ও মুখের আলসারের কারণে অতিরিক্ত লালা উৎপাদন হতে পারে। মুখের জ্বালা বা সংক্রমণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীর অধিকতর লালা উৎপাদন করতে পারে। ঘুমের সময় দাঁত, মাড়ি বা মুখের সমস্যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখের ব্যথা, চিবানোর সময় দাঁত ব্যথা, দাঁতের সংবেদনশীলতা, মাড়ি ফোলাভাব, মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখে ঘা, দুর্গন্ধ, শুষ্ক মুখ ও আলগা দাঁত।

    ঘুমের সময় যেসব কারণে লালা পড়তে পারে:
    কখনো কখনো রাতে লালা পড়ার বিষয়টি অন্তর্নিহিত চিকিৎসা সংক্রান্ত অবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। অথবা নাক দিয়ে টেনে নেয়া বা শ্বাস নেয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। এ অবস্থায় লালা উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে, যাকে সালোলোরিয়া বলা হয়।

    স্লিপ অ্যাপনিয়া:
    এ রোগ হলে ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া বন্ধ হয় এবং লালা পড়া শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই দেখা যায় মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়া হয় এবং অতিরিক্ত লালা বের হয়। বিশেষ করে ঘুমের সময় যদি নাক ডাকার সমস্যা থাকে বা শ্বাস নেয়া বন্ধ হয়। এ অবস্থায় দিনের বেলায় বেশ ক্লান্তবোধ হতে পারে।

    গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি):
    জিইআরডি হলে গলা জ্বালা-পোড়া করতে পারে এবং খাওয়ার সময় বা কিছু গেলার সময় অসুবিধা হতে পারে। অ্যাসিড রিফ্লাক্স অতিরিক্ত লালা এবং শ্বাসরোধের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে শুয়ে থাকার সময় মুখ দিয়ে লালা পড়তে পারে।

    স্ট্রোক:
    স্ট্রোক হলে খাবার খাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী পেশীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে মুখে লালা ধরে রাখা কঠিন হয়, বিশেষ করে দিনে বা রাতে ঘুমের সময়।

    পার্কিনসন রোগ:
    মস্তিস্কের এই রোগ হলে খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মুখে লালা জমা এবং মুখ থেকে তা বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    সেরিব্রাল পালসি:
    এ অবস্থায় নড়াচড়া ও পেশী নিয়ন্ত্রণকে বেশ প্রভাবিত করে। সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্তদের অনেকেরই খাবার খেতে এবং মুখ বন্ধ করতে সমস্যা হয়। ফলে মুখ দিয়ে লালা পড়ে।

    হান্টিংটন রোগ:
    এ রোগ মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রভাবিত করে, যা নড়াচড়া ও সমন্বয় নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ কারণে কিছু গিলতে এবং লালা নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করতে পারে।

    মস্তিষ্কের আঘাত:
    মস্তিষ্কের মুখের পেশী নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলোর ক্ষতি হওয়ার কারণে মুখ দিয়ে লালা ঝরার সম্ভাবনা থাকে। এ ক্ষেত্রে খাবার খেতে সমস্যা বা বিলম্ব হতে পারে।

    নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের কারণেও লালা ঝরতে পারে:
    এমন কিছু ওষুধ রয়েছে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে মুখ দিয়ে লালা ঝরার সম্ভবনা থাকে। এ ধরনের ওষুধের মধ্যে রয়েছে- প্রশমক বা অস্থিরতা, উদ্বেগ, উত্তেজনা কমাতে এবং মানসিক শান্তির জন্য সেবন করা ওষুধের কারণে মুখ দিয়ে লালা পড়তে পারে। এছাড়া অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, আলঝাইমার রোগের চিকিৎসার জন্য সেবন করা ওষুধ, ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগের (NSAIDs) কারণেও লালা ঝরে।

    মুখ দিয়ে লালা ঝরা বন্ধের উপায়:
    ঘুমের ভঙ্গি পরিবর্তন করা:
    বুক বা পেটে ভর দিয়ে ঘুমানোর পরিবর্তে পিঠে ভর দিয়ে ঘুমানোর অভাস করুন বা উচু বালিশ ব্যবহার করুন। এতে মুখে লালা জমা ও বেরিয়ে যাওয়া রোধ হবে।

    অন্তর্নিহিত অবস্থার চিকিৎসা:
    অ্যাসিড রিফ্লাক্স, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা সাইনাস সংক্রান্ত রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করুন। এতে উল্লেখযোগ্যভাবে লালা পড়া কমতে পারে।

    সেবন করা ওষুধ নিয়ে বিবেচনা করা:
    কিছু ওষুধ রয়েছে, যা সেবনের পর লালা পড়া শুরু হয় বা লালা বৃদ্ধি হয়। কিছু ক্ষেত্রে পেশী নিয়ন্ত্রণকে প্রভাবিত করে থাকে। সেসব ওষুধের কারণে যদি লালা পড়া শুরু হয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

    স্পিচ থেরাপি:
    একজন স্পিচ থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখুন। মুখ ও গলার পেশী শক্তিশালী করার জন্য থেরাপিস্ট আপনাকে কিছু ব্যায়াম শেখাতে পারেন, যা আপনাকে ভালোভাবে গিলতে ও লালা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

    বোটক্স ইনজেকশ বিবেচনা করা:
    বোটক্স এমন চিকিৎসা পদ্ধতি, যা লালা তৈরির গ্রন্থিগুলোকে সাময়িকভাবে শিথিল করে লালা উৎপাদন কমাতে পারে। বিশেষ করে স্নায়ুর কারণে যদি লালা পড়ে থাকে। আর সবশেষ যেকোনো অবস্থায় সমস্যা বাড়তে থাকলে বা জটিল আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • হুট করে উঠে দাঁড়ালে মা’থা ঘোরে? জেনেনিন এর কারণ

    হুট করে উঠে দাঁড়ালে মা’থা ঘোরে? জেনেনিন এর কারণ

    বসা অবস্থা থেকে হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে অনেকের মাথা ঘোরার প্রবণতা দেখা দেয়।
    মাথা ঘোরার বিষয়টি ভয় পাওয়ার মতো হলেও, এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই বলেই জানান- ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের ফ্র্যাঙ্কেল কার্ডিওভাস্কুলার সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট নাদিয়া সাট্যন। তবে তিনি আরো যোগ করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই মাথা ঘোরার বিষয়টি তুচ্ছ ও স্বাভাবিক। তবে ঘনঘন এমনটা হলে, পূর্বের শারীরিক সমস্যার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা প্রয়োজন।

    এখন আসা যাক মূল কারণে। কেন বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ালে মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়, সেটা খুব জটিল কিছু নয় মোটেও। বসা অবস্থায় রক্তচাপ থাকে একরম। হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে রক্তচাপে পরিবর্তন আসে। ডাঃ সাট্যন বলেন, ‘বসা থেকে হুট করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ফলে মধ্যাকর্ষনে পরিবর্তন আসে। যার ফলে শরীরের নিচের অংশের রক্তে টান পড়ে। এতে করে বসা অবস্থা থেকে হুট করা দাঁড়িয়ে গেলে মাথা ঘুরে ওঠার প্রবণতা তৈরি হয়’।

    তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোন কারণে তাড়াহুড়ার মাঝে দাঁড়িয়ে গেলে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension) দেখা দেয়। শরীরের উপরের অংশের রক্তচাপ, বিশেষ করে মাথার অংশের রক্তচাপ কমে যায় দাঁড়ানোর জন্য। এতেই মাথা ঘোরাভাব বা মাথা হালকা বোধ হওয়ার সমস্যাটি হয়। মাথা ঘোরা কিংবা হালকা বোধ হওয়ার এই সমস্যাটি খুবই ক্ষণস্থায়ী। অল্প কিছুক্ষণের জন্য সমস্যাটি দেখা দিলেও, খুব দ্রুত শরীর আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

    এক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। রক্তচাপের সঙ্গে জলস্বল্পতা, মেডিকেশন, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও নিউরোলোজিক্যাল সমস্যাও জড়িত থাকে।

    ডাঃ সাট্যন জানান, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বসা থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় মাথা ঘোরার সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। এমনটা হলে তিনি পরামর্শ দেন, পুনরায় চেয়ারে বা শক্ত কোন স্থানে বসে মাথা ঘোরা বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার। এতে করে শরীর মধ্যাকর্ষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ও রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে সময় পাবে। নইলে অনেক সময় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দেয়।

  • সে’ফটি পিনের পিছনে যে ছি’দ্র থাকে, তার কাজ কী? জেনে নিন

    সে’ফটি পিনের পিছনে যে ছি’দ্র থাকে, তার কাজ কী? জেনে নিন

    দৈনন্দিন জীবনের অগণিত ছোটখাটো বিপদে যে জিনিসটি খুবই প্রয়োজন, তার নাম সেফটি পিন। শাড়ির আঁচল সামলানো থেকে শুরু করে সালোয়ার-কামিজের ওড়না, ছেঁড়া বোতাম, খুলে যাওয়া ব্যাগের চেন কিংবা জুতোর আলগা স্ট্র্যাপ— সব সমস্যারই যেন একমাত্র ভরসা এই ক্ষুদ্র ধাতব বস্তুটি। তাই মা-বোনদের আঁচলে, শাড়ির খুঁটে কিংবা ব্লাউজের কোণে ঝুলতে দেখা যায় সেফটি পিন। কারণ, বিপদে পড়লে যাতে হাতের কাছেই তাকে পাওয়া যায়। খেয়াল করে দেখবেন, এই সেফটি পিনের একেবারে শেষপ্রান্তে ছোট লুপের মতো একটি ছিদ্র থাকে। কেন থাকে? কী তার কাজ, জানেন?

    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু ইতিহাস ঘাঁটতে হবে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নিজের ঘরে বসে একটি মাত্র তার দিয়ে আজকের সেফটি পিনের মতো একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন ওয়াল্টার হান্ট। তার দেখানো কৌশল মেনে আজও সেফটি পিন তৈরি হয়। ওয়াল্টার একটি ধাতব তারকে বেঁকিয়ে, কুণ্ডলীকৃত করে পিনের আকার দিয়েছিলেন। এই কৌশলে বস্তুটির উপরের দিকে একটি ছোট্ট ক্লিপ তৈরি হয়। কিন্তু ক্লিপের মাথায় তারটিকে না কেটে গোল করে পাকিয়ে দেওয়া হয়। এই ভাঁজ থেকেই তৈরি হয় সেই ছোট্ট ছিদ্রটি। আসলে তারটিকে কেটে দিলে, মুখটা ধারালো হয়ে থেকে যেত। তাতে অসাবধানে হাতে খোঁচা লেগে যেতে পারত। পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

    তবে ব্যবহারিক দিক দিয়েও সেফটি পিনের পিছনে থাকা ছিদ্রটির ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে কিছু আটকানোর সময় সেই চাপ আসলে ক্লিপের উপরে গিয়েই পড়ে। গোল ছিদ্রটিই সেই চাপকে ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। তার ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি বেঁকে যায় না। ওয়াল্টার ঠিক এই ভাবেই সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রটির নকশা পরিবর্তন করার কখনও প্রয়োজন পড়েনি। 

    উদ্ভাবনী বিশেষজ্ঞদের মত, এই ধরনের অপরিহার্য জিনিসের ক্ষেত্রে, খুব প্রয়োজন না পড়লে নকশা পরিবর্তন করা উচিত নয়। আর সেফটি পিনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে, এখন এটির নকশা পরবির্তন করলে তার ব্যবহার কমে যেতে যেতে পারে। তাই এই নকশায় রেখে দেওয়া হয়েছে গত দেড় শতাব্দী ধরে।

  • হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অ’ন্ধকার-মা’থা ঘোরা, জেনে নিন কেন হয় এই স’মস্যা

    হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অ’ন্ধকার-মা’থা ঘোরা, জেনে নিন কেন হয় এই স’মস্যা

    হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে? এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনও জটিল কারণ। 

    ধরে নিন আপনি বসে রয়েছেন (Sitting), বা শুয়ে (Lie down) রয়েছেন। সেই অবস্থা থেকে আচমকা উঠে দাঁড়ালে (Standing Up) চোখে অন্ধকার (Black Out) নেমে আসে? হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে (Dizziness)? এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনও জটিল কারণ। হতে পারে কোনও শারীরিক সমস্যা। এই সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। তখন চারিদিক অন্ধকার দেখি। তবে এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্যই স্থায়ী হয়। তাই খুব এখটা মাথা ঘামাই না এই ছোট্ট বিষয়টি নিয়ে। 

    কিন্তু কেন হয় এরকম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর ফলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে। 

    ১. অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন

    এটিকে পোস্টুরাল হাইপোটেনশনও বলা হয়, এটি হল হেড রাশ যা আপনি কখনও কখনও দাঁড়ানোর সময় অনুভব করেন। এটি যে কারোর সাথে ঘটতে পারে। আপনি যদি নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করেন, তার দীর্ঘদিনের প্রভাবে এরকম হতে পারে। অথবা আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি প্রায়শই ঘটতে পারে।  

    ২. হার্ট অ্যারিথমিয়া

    এই অবস্থা (একটি অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হিসাবেও পরিচিত) হল যখন আপনার হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীর বা এমনভাবে হয় যা আপনার মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ হ্রাস করে। এগুলোর যে কোনোটিই আপনাকে অজ্ঞান করে দিতে পারে।  

    ৩. ওষুধ

    কোনও ব্যথা, হার্টের অবস্থা এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য নির্ধারিত ওষুধগুলি আপনার সংবহনতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ওষুধগুলির জন্য অনেক সময় মাথা ঘোরাতে পারে। যদি এই সমস্যা বেশি হয়, আপনার ডোজ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

     ৪. ডিহাইড্রেশন 

    পর্যাপ্ত তরল পান না করলে বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, নিম্ন রক্তচাপ এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আচমকা উঠে বসলে বা দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।  

    ৫. অ্যানিমিয়া বা শরীরে রক্তশূন্যতা

    রক্তশূন্যতা হল আপনার রক্তে স্বাস্থ্যকর লাল রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের অভাব, যা আপনার মস্তিষ্ক সহ আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন বহন করে। রক্তাল্পতার বৈশিষ্ট্য হল ক্লান্তি, তবে এটি আপনাকে অজ্ঞান এবং মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারে।

    ৬. স্ট্রেস এবং প্যানিক আক্রমণ

    আগে কখনও একটি স্ট্রেস বা উদ্বেগ অ্যাটাক হয়েছিল? যদি সেই ইতিহাস থাকে, তবে এই ধরণের মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখার ঘটনা প্রায়ই ঘটতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে সামান্য মাথাব্যথাতেও ভুগতে পারেন আপনি। 

    ৭) বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাদের মধ্যে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর পর মাথা ঘোরা সমস্যা আছে ভবিষ্যতে তাদের ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) হতে পারে

    ৮) এই জাতীয় সমস্যার সঙ্গে নার্ভ বা স্নায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। যারা স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন বেশিরভাগ তাদেরই শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তারা চোখে অন্ধকার দেখেন। তবে এটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

    ৯) রক্তচাপ কম থাকলে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর সময় মাথায় সঠিক পরিমাণে রক্ত পৌঁছায় না যে কারণে মাথা ঘোরার সমস্যাটি হতে পারে। চিকিৎসকদের দাবি ব্লাড প্রেসারের কারণে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে আপনার সঙ্গে। আপনার এই সমস্যা থাকলে নিজের ব্লাড প্রেসার চেক করিয়ে নিন।

    কী করবেন

    বিছানা থেকে ওঠার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। দাঁড়ানোর আগে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিছানার প্রান্তে বসুন এবং আপনার শরীরকে সজাগ হতে সময় দিন। হাঁটতে শুরু করার আগে কয়েক সেকেন্ড বসে নিন। একইভাবে, সকালে বা দীর্ঘ সময়ের পরে শুয়ে থাকা, লাঞ্চ বা ডিনারের পরে উঠে দাঁড়ানোর সময়ে ও স্নান করার পরে সতর্ক থাকুন। 

  • তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, আবেদন করতে যা যা লাগবে

    তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, আবেদন করতে যা যা লাগবে

    নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, যোগ্য পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। 

    রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

    তিনি বলেন, প্রকৃত অভাবী মানুষ যেন এই সুবিধার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই মাল্টি-লেভেল স্ক্রিনিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত পরিবারে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানো এবং তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সরকারের এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো হতদরিদ্র ও অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার আওতায় আনা।
    কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এতটাই স্বচ্ছ করা হবে, যাতে সেখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। এটি সরাসরি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

    বিদ্যমান অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

    মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এ কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণ

    জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

    প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

    আবেদন করতে যা যা লাগবে

    যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—

    ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

    ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

    ৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর

    কোথায় আবেদন করবেন?

    পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

    প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

    সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

    এদিকে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে আরও ১৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    এ ছাড়া কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।