Category: Uncategorized

  • ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি

    ফিলিং স্টেশন মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা, ডিসি-এসপিদের চিঠি

    দেশের জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে ব্যাংক খুললে পে-অর্ডারের পর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এদিকে তেল না পেয়ে পাম্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন গ্রাহকরা।

    অনেক এলাকায় স্টেশন স্টাফদের মারধরের তথ্য পাওয়া গেছে।

    এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
    স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা রোধে পেট্রল পাম্প মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অ্যাসোসিয়েশন থেকে।

    সোমবার (২৩ মার্চ) ঢাকা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ডিপোসমূহ থেকে আমাদের অস্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না বা আপাতত তা সরবরাহ করতেও পারবে না। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও সাধারণ ভোক্তাদের ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালকরা ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং যা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে।

    এমতাবস্থায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিং স্টেশন চালু রাখতে হবে।

    অন্যথায় কারো আদেশের অপেক্ষায় না থেকে ফিলিং স্টেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিয়ে চলতে হবে বলেও জানানো হয়।

    এরই পরিপ্রেক্ষিতে পাম্পের সব কর্মচারীদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। যাতে কোনোভাবে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। এমনটা চিঠিতে জানানো হয়।

    ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ।

    এতে পে-অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল তুলতে পারছেন না পেট্রল পাম্পের মালিকরা। এ কারণে পাম্পে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির।

    ঈদের ছুটি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার খুলবে ব্যাংক। এরপর থেকে আবারও পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

    গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয় সরকার। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটেনি।

    এদিকে রবিবার রাতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রল পাম্প (ফিলিং স্টেশন) বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নিজেদের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যাংক খুললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • পাম্পে তেল সংকটের কারণ জানা গেল, নতুন বার্তা

    পাম্পে তেল সংকটের কারণ জানা গেল, নতুন বার্তা

    ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ। এতে পে-অর্ডার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ডিপো থেকে নতুন করে তেল তুলতে পারছেন না পেট্রল পাম্পের মালিকরা। এ কারণে পাম্পে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল কবির।

    ঈদের ছুটি শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার খুলবে ব্যাংক। এরপর থেকে আবারও পাম্পে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

    পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগে রেশনিং পদ্ধতি চালু ছিল। যখন রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হয় তখন থেকেই ঈদের ছুটি শুরু হয়।

    পে-অর্ডার ছাড়া ডিপো থেকে তেল উত্তোলন সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারছেন না, ফলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

    গত ৬ মার্চ জ্বালানি বিক্রিতে রেশনিং চালু করলেও ১৫ মার্চ তা তুলে নেয় সরকার। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সংকট কাটেনি।

    বরং টানা ছুটির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

    এদিকে রবিবার রাতে নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যে কোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্প (ফিলিং স্টেশন) বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে নিজেদের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ব্যাংক খুললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা

    প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ১০ নির্দেশনা

    আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। যদিও পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়—এই পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অন্যদিকে প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যার জন্য বরাদ্দ সময়ও একই অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীরা নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় পাবেন। বৃত্তির জন্য বিবেচিত হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ—এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি প্রদান করা হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের যেসব কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    ১. পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে। প্রবেশপত্র ছাড়া কেউ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না;

    ২. পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া অন্য কোনো অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না;

    ৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া অন্য কোনো কিছু লেখা যাবে না;

    ৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্যথায় উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে;

    ৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর বা কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনো কিছু লেখা যাবে না;

    ৬. খসড়ার জন্য কোনো অতিরিক্ত কাগজ দেওয়া হবে না। প্রদত্ত উত্তরপত্রে খসড়ার কাজ করতে হবে এবং তা পরে যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে;

    ৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও পরীক্ষার্থী কোনো কিছু লিখতে পারবে না;

    ৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না;

    ৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে হবে;

    ১০. এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত নিয়মাবলি অনুসরণ করতে হবে।

    পরীক্ষা চলাকালে আচরণের নির্দেশিকায়

    *পরীক্ষার হলে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না;

    *প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনো মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না;

    *প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না;

    *উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না;

    *উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন ও বিনষ্ট করা যাবে না।

  • যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্প

    যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্প

    জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    রবিবার (২২ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সংগঠনটি থেকে এ দাবি করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারা দেশের পেট্রল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ, কম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না।

    ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

    এর আগে, পেট্রল পাম্পে নিরাপত্তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল সংগঠনটি।

    তবে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও জেলা প্রশাসন কার্যত উপেক্ষা করছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

    সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে সাড়ে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুদ ছিল। তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় আট হাজার লিটার জ্বালানি।

    স্বাভাবিক হিসাবে এ মজুদ কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। 

    এ পরিস্থিতিকে এক ধরনের লুটতরাজ বলে উল্লেখ করেছে পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। 

    একেকজন দৈনিক একাধিকবার তেল নিতে আসছেন বলে অভিযোগ করে সংগঠঠনটি থেকে বলা হয়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তেল বিক্রি করছে পাম্পগুলো। কিন্তু, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে ১০ বারের মতো তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার তেল নিতে আসছেন।

    এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

    এ ছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে। এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

    পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরো বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

    সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদের আগের দিন রাতে অনেক পেট্রল পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য মাত্র ২০০ লিটার অকটেনও সংরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়নি। জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে ডিপো থেকে তেল লিফটিং (সংগ্রহ) বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

  • প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ১২ বছর ধরে শি’কলব’ন্দি মামুন, পাশে দাঁড়ালেন স্কুলবন্ধুরা

    প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ১২ বছর ধরে শি’কলব’ন্দি মামুন, পাশে দাঁড়ালেন স্কুলবন্ধুরা

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের আইচার হাওলা গ্রামের এক সময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম মামুন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবন জীবনযাপন করছেন। প্রেমে ব্যর্থতার পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা এই যুবকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার স্কুলজীবনের বন্ধুরা (সহপাঠীরা)।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়,  ২০ বছর আগে মামুন বরিশালের বাবুগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। একই বিদ্যালয়ের এক সহপাঠী বান্ধবীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পারলে মামুনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মামুন ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে পরিবার তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে। গত ১২ বছর ধরে পায়ে শিকল পরিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় বাড়িতেই রাখা হচ্ছে তাকে।

    মামুনের মা সোনাবান বেগম জানান, ছেলেকে সুস্থ করতে তারা সম্ভাব্য সব জায়গায় চিকিৎসা করিয়েছেন। তার দিনমজুর স্বামী জমিজমা বিক্রি করে চিকিৎসার খরচ চালিয়েছেন। একপর্যায়ে এক দালালের মাধ্যমে পাবনায় পাঠানো হলেও সেখানেও প্রতারণার শিকার হন তারা। এখন তাদের ভাঙা ঘর ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে ভালো করার জন্য যা পারছি করছি। এখন আর কিছুই করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারের কাছে সাহায্য চাই।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ঈদকে সামনে রেখে মামুনের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান এসএসসি ২০০২ ব্যাচের সহপাঠীরা। তারা মামুনের চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন এবং তার পরিবারের খোঁজখবর নেন।

    মামুনের সহপাঠী মো. আল-আমিন চিশতি বলেন, মামুন খুব মেধাবী ও ভদ্র ছেলে ছিল। তার জীবনে এমন পরিস্থিতি আসবে ভাবিনি। বন্ধুর এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমরা চাই সে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক।

    বন্ধুরা জানান, তারা সম্মিলিতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহপাঠী নাইম খান, শরফুদ্দীন সবুজ, হাওলাদার সবুজ, তারেক, আবুল বশার, রাসেল খান, সোহেল ঘরামি, রাশিদুল হক রনি, কাওসার হাওলাদার, মিতুসহ আরও অনেকে।

    স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এটিকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

  • পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী

    পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে কোলাকুলি, প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী

    ঈদের আনন্দ কেবল উৎসবের রঙে নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে কীভাবে পূর্ণতা পায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। ওই মুহূর্তে রাস্তায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সার্জেন্ট দৌড়ে এলেন, আর প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে হাসিমুখে কোলাকুলি করলেন। ঈদের দিনের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    যা নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে স্যালুট ও হাত মেলাতে এগিয়ে আসেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদামাটাভাবে তাকে কাছে টেনে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীর এমন অমায়িক আচরণে ওই পুলিশ সদস্যসহ উপস্থিত সবার মাঝেই এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

    ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। যেমন, রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।’

    প্রধানমন্ত্রীর এই সহজ-সরল ও আন্তরিক রূপ দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ এই ভিডিওটি শেয়ার করে নিজেদের অনুভূতি জানিয়েছেন।

  • জিরা ভেজানো পানি পান করার উপকারিতা, জেনে নিন

    জিরা ভেজানো পানি পান করার উপকারিতা, জেনে নিন

    জিরার উপকারিতার কথা আমরা কম-বেশি সবাই শুনেছি। বিশেষ করে ভালো হজমে এর সহায়তার কথা। বিভিন্ন মসলাদার খাবার রান্নায় জিরা ব্যবহার করা হয়। আবার এই মসলা ভেজানো পানি পানেরও রয়েছে অনেক উপকারিতা। আপনি যদি নিয়মিত জিরা ভেজানো পানি পান করেন তাহলে পরিবর্তনগুলো নিজেই বুঝতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক নিয়মিত জিরা পানি পান করলে শরীরে কী ঘটে-

    ১. ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি উন্নত করতে পারে

    ২০১৭ সালে ‌‘ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে জিরার ডায়াবেটিস-বিরোধী সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই ট্রায়ালে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর জিরার এসেনশিয়াল অয়েল পরীক্ষা করা হয় এবং খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ও HbA1c-এর মাত্রায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে জিরা ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি বাড়াতে পারে, যা শরীরকে কার্যকরভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

    ২. হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে

    বিজ্ঞাপন

    জিরা হজমকারী এনজাইমগুলোকে উদ্দীপিত করে, যা ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মেডিকেল রিসার্চ অ্যান্ড হেলথ সায়েন্সেস’ (২০২৩)-এর একটি পর্যালোচনায় সারসংক্ষেপিত একাধিক গবেষণায় উল্লিখিত একটি উপকারিতা। উন্নত হজম প্রক্রিয়া রক্তে গ্লুকোজের নিঃসরণকে ধীর করে দেয়, ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

    ৩. প্রদাহ কমায়

    দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দীর্ঘদিন ধরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। জিরার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা ফলস্বরূপ স্বাস্থ্যকর বিপাকীয় কার্যকারিতাকে সহায়তা করে। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    ৪. রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

    গবেষণায় দেখা গেছে যে, জিরা শর্করা জাতীয় খাবারের ভাঙন বিলম্বিত করতে পারে। হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করার মাধ্যমে জিরা ভেজানো পানি রক্তে শর্করার দ্রুত বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যখন খাবারে শ্বেতসার বা পরিশোধিত শস্যের পরিমাণ বেশি থাকে।

    ৫. শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং বিপাকীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে

    গরম জিরা ভেজানো পানি শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং বিপাকীয় প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে ত্বরান্বিত করে। এটি পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি নিয়মিত অভ্যাসের অংশ হিসেবে সকালে পান করা হয়।

  • ঈদের দিন ঝ’ড়-বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

    ঈদের দিন ঝ’ড়-বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

    ঈদের দিন (শনিবার, ২১ মার্চ) সারাদেশে কালবৈশাখী ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সময়ে কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ।

    আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঈদের দিন দেশের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

     

    একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২২ মার্চ থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

     

    এদিকে, আজ দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, খুলনা, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় (৬০-৮০) কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

     

     

    তাছাড়া ময়মনসিংহ, টাংগাইল ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

  • দলীয় সব পদ ছাড়লেন এনসিপি নেতা

    দলীয় সব পদ ছাড়লেন এনসিপি নেতা

    দলের ভেতরে গ্রুপিং এবং জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোকদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রেজওয়ান পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

    পদত্যাগের বিষয়ে শেখ রেজওয়ান বলেন, ‘এনসিপির রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের আনা হয়েছে, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।’ তাঁর দাবি, যারা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের লোক ছিল, তারা নেতৃত্বে এসেছে।

    যা জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো একটি বিপ্লবী দলে মেনে নেওয়া যায় না।’

    জেলা কমিটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিযোগ করেন এই নেতা। তিনি দাবি করেন, জেলা কমিটির সদস্যসচিব এরশাদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকায় তাকে তার পদ থেকে সরানোর পর সেই পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মনির ওই পদে আসার কথা থাকলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।

    শেখ রেজওয়ান জানান, জেলা কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সদস্যসচিব হলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তাকে (শেখ রেজওয়ানকে) দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য রেখে দল পরিচালনা করা হচ্ছে। তার (শেখ রেজওয়ানের) সঙ্গে দলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সাদিয়া ফারজানা দিনা ও আসাদুল্লাহ আল গালিবের দ্বন্দ্বের কারণে তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

    জেলা কমিটির আহ্বায়ক আল মামুনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে শেখ রেজওয়ান বলেন, দলের মধ্যে গ্রুপিং ও বিভাজন চরম আকার ধারণ করেছে। এখানে ছোটরা বড়দের সম্মান করে না, দলীয় শৃঙ্খলা নেই।

    বিভিন্ন দলের লোক দলে ঢুকে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

  • ‘হেরে ঈদে একটা মেন্দি কিইন্যা দেয়াম’

    ‘হেরে ঈদে একটা মেন্দি কিইন্যা দেয়াম’

    ‘আমারে হে বিয়া করছে দয়া কইর‌্যা না, ভালোবাইস্যা। এইবায় (এইভাবে) তো ২০ বছর গেছে গা। মাঝে মধ্যে টুটকা-টাটকা একটু আধটু কাইজ্যা ছাড়া আর কিছুই অইছে না। এইবায় ভিক্ষা কইর‌্যাই জীবন চলতাছে।

    তয় ভালোবাসা একটু কমছে না।’

    স্ত্রী রাশিদা বেগমকে নিয়ে ভিক্ষা করতে এসে কথাগুলি বলেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দ্বীন ইসলাম (৪৫)। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার নতুন বাজার এলাকায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। 

    দ্বীন ইসলাম আরো বলেন, ‘আমারে লইয়া সারাডা দিন ঘুরে, যা পাই তা দিয়া জীবন চলে।

    কাইল ঈদ, বাড়িত যাওনের সময় হেরে একটা মেন্দি (মেহেদি) ও চুড়ি কিইন্যা দেয়াম।’ তিনি জানান, অন্ধ হলেও স্ত্রী তাকে মানুষের দ্বারে দ্বারে নিয়ে যান। দুজনে মিলে ভিক্ষা করেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাসের কারণে তাদের সংসারে সুখের কোনো অভাব নেই।

    সংসার নিয়ে দ্বীন ইসলাম জানান, তাদের রয়েছে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে দিনমজুরের কাজ করেন, অপরজন মাদরাসায় পড়ে। দুজনের ভিক্ষাবৃত্তিতেই চলছে এই জীবন। 

    কিভাবে অন্ধ হলেন—জানতে চাইলে দ্বীন ইসলাম জানান, জন্মের তিন বছর পর থেকেই তার দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়।

    বিনা চিকিৎসায় চোখ দুটি দৃষ্টি হারায়। এরপর ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। ১৫-১৬ বছর বয়সে কোনো এক সময় রাশিদার সঙ্গে কথা হয় তার। এরপর থেকে তার সাহায্য চাইলে বিনা বাধায় রাজী হন তাকে নিয়ে পথ চলার। পরিবারের সম্মতি নিয়ে রাশিদা বিয়েতে রাজি হন। 

    দ্বীন ইসলামের স্ত্রী রাশিদা বলেন, ‘একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে বিয়ে করলাম দুইজনে একসাথে থাকতে পারবো বলে। আজকাল গরিবের বিয়ে টিকে না। স্বামী ফেলে রেখে চলে যায়। উনি আমাকে ফেলে রেখে যাবেন না। নিজের জন্য হলেও এটা কোনো সময় করবেন না।’ তিনি জানান, স্বামীকে নিয়ে বের হলে সরা দিনে এক থেকে দেড় হাজার টাকা কামাই হয়। এ দিয়ে ভালোভাবেই জীবন চলে। তার ওপর রয়েছে স্বামীর প্রতিবন্ধী ভাতা। এখন একটি ফ্যামেলি কার্ড পেলেই ভালো হবে।

    ঈদের দিন কী করবেন—জানতে চাইলে রাশিদা জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে ঈদের দিন বিকেলে বের হবেন। ওই দিন একটু বেশি আয়ও হবে, ভালো-মন্দ খাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে সন্তানদের জন্য আনা যাবে। স্বামী মেহেদি কিনে দিলে কী করবেন—জানতে চাইলে রাশিদা বলেন, ‘রাইতে আতো (হাত) দিয়াম। স্বামী চোখে না দেখলেও আত দিয়া চইতে কইয়াম।’ এরপর একটি হাসির কোরাস দিয়ে চলে যান দুজন।