Category: Uncategorized

  • ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার স’ময়সূ’চি ঘো’ষণা, শু’রু যেদিন থেকে

    ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার স’ময়সূ’চি ঘো’ষণা, শু’রু যেদিন থেকে

    আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামী বছরের ১৪ মার্চ তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হবে।

    সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৭ জানুয়ারি সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।

    বিগত কয়েক বছরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

    তবে করোনাভাইরাসের কারণে বিগত সরকারের চালু করা সেই নিয়মে ছেদ ঘটে।

    এর আগে ২৫ মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

  • ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত, জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    ফ্যা’টি লি’ভার থাকলে কোন তে’ল খা’ওয়া উ’চিত, জানালেন বি’শেষ’জ্ঞ

    বর্তমান খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে প্রচুর মানুষের ফ্যাটি লিভারের সমস্যা ধরা পড়ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, খাবার নির্বাচনে সামান্য সচেতনতা লিভারের ফ্যাট কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে — বিশেষ করে প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত তেল।

    ফ্যাটি লিভার হলো এমন অবস্থা, যখন লিভারের কোষে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের কারণে এটি হয়। প্রাথমিকভাবে উপসর্গ না থাকলেও সময়ের সঙ্গে লিভারে প্রদাহ, কোষ ক্ষয় এবং সিরোসিসের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে সঠিক খাবার তেল নির্বাচন খুব জরুরি।

    এ বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।

    তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপকারী তেল হলো অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল। এতে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে চর্বি জমা কমায় এবং লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

    আরিফ ইকবাল আরও জানান, সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিতভাবে নিরাপদ। এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম, ফলে লিভারের কোষে প্রদাহ কমে এবং চর্বি জমার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

    তবে সরিষা, নারিকেল বা পাম তেল অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি। কারণ এসব তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি, যা লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ায় এবং ফ্যাটি লিভারের অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।

    তবে তেল যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো। সেই সঙ্গে ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করা, নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবাল।

  • মা’ত্র ৬০ দি’নে নি’র্মূল হবে ফ্যা’টি লি’ভার, খা’দ্য তালিকায় রাখুন ৫ খা’বার

    মা’ত্র ৬০ দি’নে নি’র্মূল হবে ফ্যা’টি লি’ভার, খা’দ্য তালিকায় রাখুন ৫ খা’বার

    আজকের ব্যস্ত জীবনধারা এবং সেডেন্টারি লাইফস্টাইল আমাদের শরীরের জন্য নানা ঝুঁকি তৈরি করছে। অফিসের কাজ, ঘরে বসে প্রযুক্তি ব্যবহার, আর খাদ্যাভ্যাসে জাঙ্কফুডের বৃদ্ধি; এসব মিলিয়ে লিভারের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা এখন ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। অথচ লিভার আমাদের শরীরের বিপাক হার নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ এবং টক্সিন নিঃসরণের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই অঙ্গের যত্ন না নিলে শরীরের স্বাস্থ্য দ্রুত বিঘ্নিত হয়।

    বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডায়েট ও খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা অবলম্বন করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। তারা বলছেন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে লিভারের ফ্যাট গলানো যায়। তাই খাদ্যতালিকায় যদি প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি এমন খাবার রাখা হয়, তবে ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    চলুন জেনে নিই, কোন পাঁচটি খাবার লিভারের যত্নে বিশেষ কার্যকর—

    ১. গ্রিন টি

    গ্রিন টিতে আছে ক্যাটেচিন, যা লিভারের ফ্যাট কমাতে সহায়ক। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ মলিকুলার সায়েন্সসে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সারাতে গ্রিন টি দারুণ কার্যকর। দিনে ২-৩ কাপ গ্রিন টি নিয়মিত খেলেই লিভারের স্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    ২. বিটের রস

    বিটের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক যৌগ লিভারের কোষকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। লিভারে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে এবং লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে বিটের রস সহায়ক।

    ৩. হলুদ

    হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন, একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এটি লিভারসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। নিয়মিত খাবারে হলুদ রাখলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।

    ৪. শাকসবজি

    মৌসুম অনুযায়ী তাজা শাকসবজি খান। যেমন এই সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, বিনস, ক্যাপসিকাম। এগুলো লিভারের প্রদাহ কমায়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে এবং ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় সহায়ক।

    ৫. রসুন

    রসুনে আছে সালফার সমৃদ্ধ যৌগ, যা শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সহায়তা করে এবং লিভারের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। নিয়মিত রসুন খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

    মোটকথা, সঠিক খাদ্যাভ্যাসে এই পাঁচটি খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে, মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করা সম্ভব।

    সূত্র : এই সময়

  • ফ্যা’টি লি’ভারের ল’ক্ষণ ও মু’ক্তির উপায়, জেনে নিন

    ফ্যা’টি লি’ভারের ল’ক্ষণ ও মু’ক্তির উপায়, জেনে নিন

    ফ্যাটি লিভার ‘হেপাটিক স্টেটোসিস’ নামেও পরিচিত। যকৃতে চর্বি জমা হলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলে। লিভারে অল্প পরিমাণ চর্বি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিকের কাছ থেকে চলুন জেনে নেই ফ্যাটি লিভার কেন হয়, এর লক্ষণ এবং কী ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে খুব সহজেই এই ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

    ফ্যাটি লিভার সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে। একটি হলো অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার এবং আরেকটি হলো নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার।

    অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সাধারণত যাদের অ্যালকোহল পান করার করার অভ্যাস আছে নিয়মিত, তাদের হয়ে থাকে৷

    নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, অতিরিক্ত চিনি, কার্বোহাইড্রেট, প্রসেসড ফুড, মুখরোচক খাবার বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। ডায়াবেটিক বা রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেশি থাকলেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে৷ আবার একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর অনেকে বংশগত কারণেও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন।

    আমাদের দেশের মানুষের নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারেন না যে লিভারে ফ্যাট জমলে তা গুরুতর আকার নেয়। ফ্যাটি লিভার থেকে প্রথমে হেপাটাইটিস বা লিভারের প্রদাহ হয়। এরপর তা লিভার সিরোসিসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে শুরুতেই ফ্যাটি লিভারের লক্ষণগুলো জানতে পারলে অনেক গুরুতর সমস্যার সমাধান হতে পারে।

    ঝুঁকিতে আছেন যারা-

    ● টাইপ টু ডায়াবেটিস আছে যাদের

    ● মেনোপজ শুরু হয়েছে এমন নারীদের

    ● স্থূলতা আছে যাদের

    ● শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা যাদের বেশি

    ● দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন যারা

     ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ-

    ● অনিয়ন্ত্রিত বা অনিয়মিত খাদ্যাভাসের ফলে লিভারের ওপর চাপ পড়ে। ফলে হজমে সমস্যা হয় ও খাবারে অরুচি চলে আসে।

    ●  খাবার সময় বমি বমি ভাব হতে পারে

    ●  অনেক সময় পেট ফুলে যেতে পারে

    ●  পেট ফুলে যাওয়ার সঙ্গে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুলে যেতে পারে

    ●  হঠাৎ করেই ওজন কমে যেতে পারে

    ●  ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হলে মাথাব্যথা, ডিপ্রেশন বা মন খারাপ এসবও হতে পারে

    যে ধরনের খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে-

    ● অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারে যারা আক্রান্ত আছেন, তাদের প্রথমেই অ্যালকোহল গ্রহণ করা বন্ধ করতে হবে।

    ● আপনার যদি দুধ চা খাওয়ার অভ্যাস থাকে বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেই অভ্যাস পরিহার করতে হবে। ঘন দুধের তৈরি খাবার বা ফুলক্রিম মিল্ক খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

    ● ফ্যাটি লিভার দূর করতে খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

    ●ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার আপনার হজমে সাহায্য করবে, ক্ষুধাটাকে দমিয়ে রাখবে এবং আপনার পেট অনেক বেশি সময় পর্যন্ত ভরা থাকবে৷ তাই খাদ্যতালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে।

    ● বিভিন্ন রঙের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। যেমন – বিটরুট, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, শিম, বরবটি, ব্রকলি ইত্যাদি। এছাড়াও আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় শাক পাওয়া যায়। আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন যেকোনো একটি দেশীয় শাক।

    ● অনেকেই ভেবে থাকেন ফ্যাটি লিভার হলে প্রোটিন গ্রহণ একদমই কমিয়ে দিতে হবে। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। আপনাকে অবশ্যই উন্নত মানের প্রোটিন খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। তবে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন – যে মাছটি খাচ্ছেন সেই মাছের একেবারে চর্বির অংশটি বাদ দিয়ে খেতে হবে। অনেকেই মুরগির চামড়া খেতে পছন্দ করেন, তবে ফ্যাটি লিভার হলে অবশ্যই মুরগি চামড়া ছাড়িয়ে খেতে হবে৷ আপনি মাঝেমধ্যে গরুর মাংস খেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে চর্বির অংশটি বাদ দিয়ে শুধু সলিড ১ বা ২ টুকরো মাংস খেতে পারবেন ১ বেলা।

    ● আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় একটি সেদ্ধ ডিম রাখতে পারেন। ডেইরি প্রোডাক্টের এর মধ্যে খেতে পারেন টক দই, নন ফ্যাট মিল্ক।

    ● এছাড়াও দেশীয় মৌসুমী বিভিন্ন ফল আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন।

    ●  খাবার তৈরিতে তেলের ব্যবহার কমাতে হবে। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাজাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

     

  • সকালে খালি পে’টে চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার উ’পকা’রিতা, জেনে নিন 

    সকালে খালি পে’টে চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার উ’পকা’রিতা, জেনে নিন 

    প্রতিদিন সকালের শুরুতেই এক গ্লাস পানিতে ভেজানো চিয়া সিড- স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এই অভ্যাস। ক্ষুদ্র এই বীজে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন খনিজ।

    তবে খালি পেটে খেলেই যে অন্য সময়ের তুলনায় বাড়তি কোনো জাদুকরী উপকার মিলবে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চিয়া সিড খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন সকালের খাবারে চিয়া সিড?

    চিয়া সিডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- এর উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ টেবিল চামচ বা ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে প্রায় ১১ গ্রাম খাদ্যআঁশ, ৪ গ্রাম প্রোটিন এবং ৭ গ্রাম অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে। একই পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো খনিজও পাওয়া যায়।

    পানিতে ভিজলে চিয়া সিডের চারপাশে জেলির মতো স্তর তৈরি হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি পেটে কিছুটা বেশি সময় ধরে তৃপ্তির অনুভূতি দিতে পারে। উচ্চমাত্রার আঁশ হজমে সহায়তা করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর?

    সকালে চিয়া সিড খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে- ফলে অতিরিক্ত নাশতা বা খাবার গ্রহণ কমানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু চিয়া সিড খেলেই ওজন কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

    হার্ভার্ডের পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিয়া সিডকে কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গবেষণায় চিয়া সিড একাই ওজন, রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বা রক্তে শর্করার ওপর নির্দিষ্ট বড় ধরনের উপকার করে- এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এটি উদ্ভিদভিত্তিক ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে।

    হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী?

    চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা ALA-এর ভালো উৎস। ওমেগা-৩ হৃদ্‌স্বাস্থ্য ও শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চিয়া সিডের ALA-কে মাছের EPA ও DHA-এর সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ শরীরে ALA থেকে EPA ও DHA তৈরির প্রক্রিয়া সীমিত।

    মায়ো ক্লিনিক হেলথ সিস্টেমের নিবন্ধেও চিয়া সিডকে খাদ্যআঁশ ও ওমেগা-৩-এর ভালো উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধটির লেখক রোমি লন্ড্রে, RDN, CD জানান, খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ কী?

    হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের চিকিৎসক ও প্রধান মেডিকেল এডিটর ডা. হাওয়ার্ড ই. লিওয়াইন জানান, চিয়া সিড উদ্ভিজ্জ ALA ওমেগা-৩-এর একটি উৎস। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওমেগা-৩ শরীরের কোষীয় কার্যক্রম ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।

    অন্যদিকে, মায়ো ক্লিনিকের ডায়েটিশিয়ান ও পুষ্টিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আনিয়া গাই বলেন, সাধারণত চিয়া সিড গুঁড়া করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই; গোটা বীজও খাওয়া যায়। তিনি সকালের সিরিয়াল, সালাদ বা স্মুদিতে চিয়া সিড যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

    খালি পেটে কীভাবে খাবেন?

    চিয়া সিড সরাসরি শুকনো অবস্থায় বেশি পরিমাণে না খেয়ে পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া সুবিধাজনক। কারণ বীজটি তরল শোষণ করে ফুলে জেলির মতো হয়ে যায়। অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে শরীরের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, বিশেষ করে খাদ্যআঁশের পরিমাণ হঠাৎ বাড়ালে।

    সকালে ভেজানো চিয়া সিডের সঙ্গে টকদই, ওটস, দুধ বা ফল যোগ করে পুষ্টিকর নাশতা তৈরি করা যায়। এতে শুধু চিয়া সিডের ওপর নির্ভর না করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    উল্লেখ্য, চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩-এর কারণে এটি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জায়গা পেতে পারে। তবে “খালি পেটে চিয়া সিড খেলেই ওজন কমবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে বা সব রোগ দূর হবে”- এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অতিরঞ্জিত।

    স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সামগ্রিক জীবনযাপনের সঙ্গে চিয়া সিডকে যুক্ত করলেই এর পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

  • দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রে’ন টি’উমা’র হয়? যা বলছেন ক্যা’নসা’র বি’শেষ’জ্ঞ

    দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারে কি ব্রে’ন টি’উমা’র হয়? যা বলছেন ক্যা’নসা’র বি’শেষ’জ্ঞ

    মোবাইল ফোনের ব্যবহার এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করা কিংবা বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার থাকলে তা থেকে ব্রেন টিউমার হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া নানা তথ্য এই ভয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা কী বলছে? এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় চিকিৎসক ডা. সানি জৈন।

    মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন কি ক্যানসার সৃষ্টি করে?

    ডা. সানি জৈনের মতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার কারণে ব্রেন টিউমার হয়। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ও টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগ হয় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি তরঙ্গের মাধ্যমে। এটি এক ধরনের বিকিরণ বা রেডিয়েশন। তবে সব ধরনের রেডিয়েশন শরীরের জন্য সমান ক্ষতিকর নয়।

    মোবাইলের সব রেডিয়েশন কি এক?  

    রেডিয়েশনকে সহজভাবে বুঝতে হলে এর শক্তির মাত্রা ও শরীরে প্রভাবের ধরন দেখতে হয়। আয়োনাইজিং রেডিয়েশন যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মির শক্তি অনেক বেশি। এগুলো কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ডিএনএতে পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে তা কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, মোবাইল ফোন ও টাওয়ার থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন হলো নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এর শক্তি আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের তুলনায় অনেক কম। ডা. জৈনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই রেডিওফ্রিকোয়েন্সি শক্তির ডিএনএ ভেঙে দেয়ার মতো ক্ষমতা নেই।

    তাহলে দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহার করলেও কি চিন্তার কারণ নেই?

    বর্তমান গবেষণার ভিত্তিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও ব্রেন টিউমারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশনের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বড় আকারের গবেষণাগুলোতেও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন টিউমারের একটি নিশ্চিত কারণগত সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন গবেষণায় এখন পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ হিসেবে বলা হয়নি। তবে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। তাই বিজ্ঞানীরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন।

    মোবাইল টাওয়ারের নিচে বা পাশে থাকলে কি ঝুঁকি বেশি?

    শুধু বাড়ির কাছে মোবাইল টাওয়ার আছে বলেই ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কোনও প্রমাণ নেই। অনেক সময় মানুষ মনে করেন, টাওয়ার যত কাছে, রেডিয়েশন তত বেশি এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও তত বেশি। কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। টাওয়ারের অবস্থান, অ্যান্টেনার দিক, দূরত্ব এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় মিলিয়ে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি এক্সপোজার নির্ধারিত হয়।

    সবশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী মোবাইল টাওয়ারের কাছে বসবাস করা বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে ব্রেন টিউমারের নিশ্চিত কারণ বলা যায় না। তাই এ নিয়ে ভাবনার কি কিছু নেই।  

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস  

  • ফ্যা’টি লি’ভারের স’মস্যা স’মাধা’নে খা’দ্যতা’লিকায় রাখুন এই ৭টি ফল

    ফ্যা’টি লি’ভারের স’মস্যা স’মাধা’নে খা’দ্যতা’লিকায় রাখুন এই ৭টি ফল

    বর্তমান সময়ে অনেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভোগেন। আর এই সমস্যায় খাদ্যতালিকার দিকে বাড়তি নজর দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ফাইবার, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে এমন সাতটি ফলের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, এসব ফল ফাইবারসমৃদ্ধ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

    ১. আপেল

    তালিকার প্রথমেই রয়েছে আপেল। ডা. শেঠির মতে, আপেলে রয়েছে পেকটিন, যা এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি হজমের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে। আপেলের সঙ্গে বাদাম খেলে সেটা একটি ভালো নাশতা হতে পারে।

    কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা থাকলে কিউই খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। ডা. শেঠি দিনে দুটি কিউই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিউইয়ের খোসাও খাওয়া যায়। তবে খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যাদের কিউইতে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

    সবচেয়ে বেশি প্রোটিন কোন ডালে, জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

    ৩. রাস্পবেরি

    ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হিসেবে রাস্পবেরিও রয়েছে তালিকায়। এটি সাধারণ খাবারের সঙ্গে সহজেই যোগ করা যায়। ডা. শেঠির পরামর্শ, রাস্পবেরি সাধারণ গ্রিক দই বা ওটমিলের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। এতে বাড়তি চিনি ছাড়াই খাবারে প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও ফাইবার যোগ হবে।

    ৪. ব্লুবেরি

    তালিকায় রয়েছে ব্লুবেরিও। তাজা ব্লুবেরি পাওয়া না গেলে হিমায়িত ব্লুবেরি ব্যবহার করা যেতে পারে। ডা. শেঠির মতে, হিমায়িত ব্লুবেরিও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো বিকল্প এবং অনেক সময় তুলনামূলক সাশ্রয়ী। দই, ওটমিল কিংবা স্মুদির সঙ্গে এটি যোগ করা যায়।

    ৫. ডালিম

    ফ্যাটি লিভারের জন্য ডালিম দারুণ উপকারী। এর দানা সালাদের সঙ্গে যোগ করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ডালিমের দানা সালাদে স্বাদ ও বৈচিত্র্য যোগ করার পাশাপাশি দৈনিক ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

    ৬. নাশপাতি

    ফাইবারের আরেকটি ভালো উৎস নাশপাতি। বিশেষ করে খোসাসহ খেলে এতে ফাইবারের পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া যায়। তবে খাওয়ার আগে নাশপাতি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

    ৭. অ্যাভোকাডো

    অ্যাভোকাডো ফল হলেও অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এর বৈশিষ্ট্য কিছুটা আলাদা। এতে চিনি তুলনামূলক কম এবং স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট রয়েছে। ডা. শেঠি মাখন বা ক্রিম চিজের পরিবর্তে হোলগ্রেইন টোস্টের ওপর অ্যাভোকাডো ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে খাবারে ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ হতে পারে।

     ডা. সৌরভ শেঠি জানান, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট ফল বা খাবারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরের ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপেল, কিউই, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি, নাশপাতি, অ্যাভোকাডো ও ডালিমকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে কারও ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা তৈরির আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়াই ভালো।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস  

  • খালি পে’টে কলা খে’লে শ’রীরে কী ঘ’টে? জানুন উ’পকা’রিতা ও স’তর্ক’তার কথা

    খালি পে’টে কলা খে’লে শ’রীরে কী ঘ’টে? জানুন উ’পকা’রিতা ও স’তর্ক’তার কথা

    সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং দ্রুত খাওয়া যায় বলে ব্যস্ত সকালে কলা হতে পারে ভালো একটি খাবার। তবে খালি পেটে কলা খাওয়া কি সত্যিই উপকারী? নাকি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে?

    পুষ্টিবিদদের মতে, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য কলা নিরাপদ ও পুষ্টিকর একটি ফল। এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি। তবে খালি পেটে খেলে সবার শরীরে একই প্রতিক্রিয়া নাও হতে পারে। তবে সকালে কলা খাওয়ার কিছু উপকারিতা আছে। 

    সকালে কলা খাওয়ার সুবিধা  

    কলায় প্রাকৃতিকভাবে থাকা কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা শরীরকে দ্রুত শক্তি দিতে সাহায্য করে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্ষুধা লাগলে একটি কলা সাময়িকভাবে ক্ষুধা কমাতে এবং শরীরকে সক্রিয় করতে পারে। বিশেষ করে ব্যায়াম বা হাঁটার আগে কলা খেলে এটি সহজে হজমযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।

    ২. হজমে সহায়তা করতে পারে

    কলায় রয়েছে ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন। এই ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
    এছাড়া কলার কিছু উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাদ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে নিয়মিত পরিমাণমতো কলা খাওয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

    ৩. পটাশিয়ামের ভালো উৎস

    একটি মাঝারি আকারের কলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে। শরীরে পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু কলা খেলেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    আরও পড়ুন

    ৪. কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে পারে

    কলার ফাইবার ক্ষুধা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সকালে একটি কলা খেলে পরবর্তী খাবারের আগে অতিরিক্ত ক্ষুধা বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তবে শুধু কলা দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণাঙ্গ নাশতার পুষ্টি পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে চাইলে কলার সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যোগ করা যেতে পারে।

    ৫. সহজ ও পুষ্টিকর সকালের খাবার

    ব্যস্ত সকালে রান্না বা প্রস্তুতির ঝামেলা ছাড়াই একটি কলা খাওয়া যায়। এতে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়। তাই এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

    কারা সতর্ক থাকবে   

    সব খাবার সবার জন্য নয় কারণ, একেক জনের শরীরের সমস্যা একেক রকম। যাদের হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা বা নির্দিষ্ট কিছু খাবারে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের খালি পেটে কলা খেলে অস্বস্তি হতে পারে। এমন হলে কলাটি একা না খেয়ে নাশতার সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে কলা নিষিদ্ধ নয়। তবে পরিমাণ এবং কলার পাকার মাত্রার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    এছাড়া কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলে অতিরিক্ত পটাশিয়াম গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে নিয়মিত বেশি পরিমাণ কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

    খালি পেটে কলা খাওয়া নিয়ে নানা ধরনের দাবি প্রচলিত থাকলেও বাস্তবতা হলো কলা নিজেই একটি পুষ্টিকর ফল, কিন্তু খালি পেটে খেলেই অতিরিক্ত কোনো বিশেষ উপকার পাওয়া যায় এমন প্রমাণ নেই। আপনার শরীরে যদি কোনো অস্বস্তি না হয়, তাহলে সকালে একটি কলা খেতে পারেন। 

    সূত্র: এনডিটিভি

  • আপনি বি’য়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে এই ১৪ ল’ক্ষণ, জেনে নিন

    আপনি বি’য়ের জন্য প্রস্তুত কি না জানিয়ে দেবে এই ১৪ ল’ক্ষণ, জেনে নিন

    বিয়ে মানেই কেবল উৎসবের আমেজ, নতুন পোশাক আর সুন্দর মুহূর্তের হাতছানি নয়; এটি জীবনের এক বিশাল বড় অঙ্গীকার। আমাদের সমাজে অনেকেই খুব দ্রুত বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চান, কিন্তু মানসিকভাবে এই দীর্ঘ যাত্রার জন্য তারা কতটুকু প্রস্তুত, তা নিয়ে খুব কমই ভাবেন।

    মনে রাখা প্রয়োজন, বিয়ে কেবল একটি সমস্যার সমাধান নয়। বরং দুটি মানসিকভাবে সুস্থ ও সুখী মানুষ যখন একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর পরিবার গড়ার স্বপ্ন দেখে, তখনই কেবল একটি সফল দাম্পত্য জীবন সম্ভব হয়।

    আপনি বিয়ের জন্য সত্যিই প্রস্তুত কি না, তা যাচাই করার জন্য নিচের ১৪টি লক্ষণের দিকে নজর দিন:

    ১. নিজের যত্ন নিতে না শেখা: দাম্পত্য জীবনের চড়াই-উতরাই সামলাতে নিজের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক যত্ন নেওয়া জরুরি। আপনি যদি প্রতিকূল সময়ে নিজের মানসিক স্থিরতা বজায় রাখতে না জানেন, তবে ছোটখাটো সমস্যাতেও আপনি ভেঙে পড়তে পারেন।

    দিনে ৩ বেলা খাওয়া ভালো, নাকি ঘন ঘন অল্প করে খাওয়া ভালো?

    ২. স্বামী ও স্ত্রীর দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা না থাকা: বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় ভূমিকা থাকে। এই দায়িত্বগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলে সংসারের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

    পরিচিত কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলার সহজ উপায়

    ৩. বিয়ের মূল উদ্দেশ্য না বোঝা: বিয়ে কেবল একটি আইনি বা সামাজিক বন্ধন নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজ গড়ার মূল ভিত্তি। একটি সুখী পরিবার যেমন সমাজকে সুন্দর করে, তেমনি একটি অসুখী বা ভেঙে যাওয়া পরিবার সন্তানদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    ৪. সৃষ্টিকর্তার ওপর নির্ভরশীলতার অভাব: সঙ্গীর ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়। আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করলে সঙ্গীর ছোটখাটো ভুলগুলো ক্ষমা করা সহজ হয় এবং প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য ধারণ করা যায়।

    ৫. অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকা: সম্মান হলো সুখী দাম্পত্যের অন্যতম প্রধান উপাদান। যদি আপনি বর্তমান জীবনে আপনার চারপাশের মানুষকে সম্মান করতে না পারেন, তবে বিয়ের পর আপনার সঙ্গীর মর্যাদা রক্ষা করাও আপনার জন্য কঠিন হবে।

    ৬. নিজস্ব সত্তাকে খুঁজে না পাওয়া: আপনি কে, আপনার জীবনের লক্ষ্য কী—এই বিষয়গুলো বিয়ের আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী না হলে অন্যের চাপে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে।

    ৭. গঠনমূলকভাবে মতভেদ প্রকাশ করতে না পারা: সুখী দম্পতিদের মধ্যেও ঝগড়া হয়, কিন্তু তারা জানে কীভাবে সেই ঝগড়া মেটাতে হয়। চিৎকার বা জেদ ধরে রাখার বদলে শান্তভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা বিয়ের জন্য অপরিহার্য।

    ৮. সমস্যা এড়িয়ে চলার প্রবণতা: যেকোনো সমস্যা কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখলে তা কেবল তিক্ততাই বাড়ায়। দাম্পত্য জীবনে কোনো কিছু অপছন্দ হলে তা সরাসরি কিন্তু নম্রভাবে প্রকাশ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

    ৯. নিজের জীবনে সুখী না হওয়া: আপনি যদি ভাবেন বিয়ে করলেই আপনার সব অপূর্ণতা ঘুচে যাবে, তবে আপনি ভুল ভাবছেন। আগে নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সুখী হতে শিখুন; তখনই কেবল আপনি অন্যকে সুখী করতে পারবেন।

    ১০. ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে না পারা: জীবনের কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ বা নিয়ম থাকা উচিত যা আপনি কখনোই বিসর্জন দেবেন না। নিজের মূল্যবোধ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে একজন আদর্শ সঙ্গী আপনাকে সেই গুণের জন্যই সম্মান করবে।

    ১১. নিজের জন্য রুখে দাঁড়াতে না পারা: আপনি যদি সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হন বা নিজের অধিকারের কথা বলতে দ্বিধা বোধ করেন, তবে দাম্পত্যের কঠিন পরিস্থিতিতে আপনি অসহায় বোধ করতে পারেন।

    ১২. নিজের মূল্য বুঝতে না পারা: নিজেকে মূল্যবান মনে করা অহংকার নয়, বরং আত্মমর্যাদা। আপনি যদি নিজেকে গুরুত্ব না দেন, তবে অন্য কেউ আপনাকে মূল্যায়ন করবে এমনটা আশা করা কঠিন।

    ১৩. বাহ্যিক চাকচিক্যে নিজের সার্থকতা বিচার করা: গায়ের রং, চাকরি বা সামাজিক মর্যাদা দিয়ে নিজের মূল্য নির্ধারণ করবেন না। এই বাহ্যিক বিষয়গুলো পরিবর্তনশীল, কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্ব ও কর্মই স্থায়ী সম্পদ।

    ১৪. ‘লোকে কী বলবে’ তা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবা: অন্যের চোখে নিজেকে নিখুঁত দেখানোর চেষ্টা না করে নিজের প্রতি সৎ থাকুন। বিয়ের আগে নিজের আসল রূপটি আড়াল করলে বিয়ের পর সঙ্গী যখন সত্যটি জানবেন, তখন বিশ্বাসভঙ্গ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    বিয়ে একটি দীর্ঘ ও সুন্দর পথচলা। উল্লিখিত ১৪টি লক্ষণের আলোকে নিজেকে মূল্যায়ন করুন। যদি আপনার মাঝে এই লক্ষণগুলো থাকে, তবে এখনই বিয়ে করা উচিত নয়; বরং পর্যাপ্ত মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন জীবনের দিকে পা বাড়ান।

    তথ্যসূত্র: দ্য মুসলিম ভাইব

  • ভু’লেও যারা পেঁপে খা’বেন না, জেনে নিন না হয় বি’পদ!

    ভু’লেও যারা পেঁপে খা’বেন না, জেনে নিন না হয় বি’পদ!

    পেঁপে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন নামের এনজাইম হজমে সহায়ক বলেও পরিচিত। তবে সবার জন্য পেঁপে সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার আগে সতর্কতা প্রয়োজন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের নির্দিষ্ট অ্যালার্জি, হজমের সমস্যা বা কিছু ওষুধ সেবনের বিষয় রয়েছে, তাদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

    পেঁপে হলো একটি পুষ্টিকর ফল, যা হজমশক্তি উন্নত করতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। পেঁপেতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফাইবার এবং শক্তিশালী এনজাইম পেঁপেন (Papain)। তবে এর কিছু উপাদান নির্দিষ্ট কিছু মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কারা পেঁপে খাবেন না বা পেঁপে খেলে কাদের সমস্যা হতে পারে, তা আলোচনা করা হল:

    ১.গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপেতে সতর্কতা

    গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    তবে পাকা পেঁপে নিয়ে কাঁচা পেঁপের মতো একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। গর্ভবতী কেউ পেঁপে খেতে চাইলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

    ২. ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে

    যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে খেলে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটিকে ল্যাটেক্স-ফ্রুট সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্রস-রিঅ্যাকশন হিসেবে দেখা হয়।

    এ ধরনের মানুষের পেঁপে খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

    ৩. রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে

    যারা অ্যান্টিকোঅ্যাগুল্যান্ট বা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধের ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    কারণ কিছু ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের পারস্পরিক প্রভাব রক্তপাতের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের নিজের ইচ্ছায় খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তন না করাই ভালো।

    ৪. ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা থাকলে

    পেঁপেতে ফাইবার রয়েছে এবং এটি সাধারণত হজমে সহায়ক। কিন্তু ডায়রিয়া বা পেটের গোলমাল চলাকালে বেশি পরিমাণে পেঁপে খেলে কারও কারও সমস্যা বাড়তে পারে।

    এ সময় অতিরিক্ত পেঁপে খেলে পেট ফাঁপা, পেটের অস্বস্তি বা পাতলা পায়খানা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়রিয়ার সময় পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

    ৫. রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে

    পেঁপে রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কিছু গবেষণা রয়েছে। তবে সাধারণ পরিমাণে পেঁপে খেলেই সুস্থ মানুষের রক্তে শর্করা বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

    তবে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন কিংবা যাদের রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    তাহলে পেঁপে কি বাদ দিতে হবে?

    পেঁপে সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ফলের অংশ হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে, ল্যাটেক্স অ্যালার্জি, নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন কিংবা গুরুতর হজমের সমস্যার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    কোনো নির্দিষ্ট রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের বিষয় থাকলে পেঁপে পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা নিয়মিত খাওয়ার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।