Category: Uncategorized

  • এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডের

    এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডের

    ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার কেন্দ্র কমিটি গঠন নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার (১৮ মার্চ) বোর্ডের এক চিঠিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (মাধ্যমিক) দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা সদরের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর জন্য জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা ও অন্যান্য স্থানের কেন্দ্রের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন একজন সরকারি ও একজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারি বিদ্যালয় না থাকলে দুইজন বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সদস্য হতে পারবেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান প্রধানই সাধারণত কেন্দ্রসচিব হবেন। তবে বিশেষ কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অপরাগ হলে কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে অন্য কোনো দক্ষ প্রধান শিক্ষককে এই দায়িত্ব দেওয়া যাবে। শর্ত থাকে যে, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তার সন্তান সংশ্লিষ্ট বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তিনি কেন্দ্রসচিব হতে পারবেন না।

    অন্যদিকে, কেন্দ্র কমিটির চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য হবেন। অনিবার্য কারণে তিনি দায়িত্ব পালন করতে না পারলে কোনো একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে পদমর্যাদার জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

  • শুয়ে-বসে থাকতে ইচ্ছে হয় যে দুই ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    শুয়ে-বসে থাকতে ইচ্ছে হয় যে দুই ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও অলসতা চেপে ধরে। আলসেমির কারণে কোনো কাজই করতে ইচ্ছে হয় না। শুধু মনে হয়, অফিসে-কাজকর্মে না গিয়ে দিনভর শুয়ে-বসে কাটিয়ে দিতে। উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভাটা পড়ছে দিন দিন। এমন সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। আসলে দুটি ভিটামিনের অভাবে এমনটা ঘটে।

    চিকিৎসকরা বলছেন, অতিরিক্ত আলস্য, ক্লান্তি ভাব বা ঝিমুনির কারণ কিন্তু ভিটামিনের অভাব। শরীরে ভিটামিন ও খনিজের নির্দিষ্ট ভারসাম্য আছে, তা বিগড়ে গেলেই তখন পেশির ক্লান্তি বাড়ে। শরীরের দুর্বলতাও বাড়ে।

    ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে। ভিটামিন ডি-র অভাব হলে ক্লান্তি, ঝিমুনি ও শারীরিক দুর্বলতা অনেক বেড়ে যায়। হাড়, ত্বক, চুল, নখ, মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি-র মাত্রা ঠিক থাকা জরুরি। ভিটামিন ডি-র অভাব হলে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া এবং হাঁটুতে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা যায়। হাড়, ত্বক, চুল, নখ ও মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি-র মাত্রা ঠিক থাকা জরুরি। ভিটামিন ডি-র অভাব হলে হাড় ক্ষয়ে যাওয়া ও হাঁটুতে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা যায়।

    আবার ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলেও ক্লান্তি বেড়ে যায়। অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। এই ভিটামিনের অভাবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেক বেড়ে যায়। বিভিন্ন মানসিক রোগের কারণও হতে পারে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি। তা ছাড়া হাত-পা কাঁপা, পেশির অসাড়তা, পেশিতে টান ধরা ও ঝিমুনি ওমাথা ঘোরার মতো লক্ষণও দেখা দেয়।

    আর আলস্য কাটাতে হলে জীবনযাপনে কিছু প্রয়োজনীয় বদল আনতে হবে। সে জন্য ভিটামিন সমৃদ্ধ সুষম খাবার খেতে হবে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি খাওয়া, রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চাও জরুরি।

  • দেশের আকাশে ওঠেনি চাঁদ, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর

    দেশের আকাশে ওঠেনি চাঁদ, শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর

    বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল শুক্রবার রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে উদ্‌যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

    সভা শেষে জানানো হয়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় আগামী শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই উদ্‌যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
     

    ঈদের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে এখন উৎসবের আমেজ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় যেমন বেড়েছে, তেমনি শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সাধারণ মানুষ।

    রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ সারা দেশের প্রধান ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের জামাতের প্রস্তুতি এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

  • ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল মালয়েশিয়া

    ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল মালয়েশিয়া

    মালয়েশিয়ায় পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

    স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশটির ‘কিপার অব দ্য গ্রেট সিল অব দ্য কিংস’ তান শ্রী সৈয়দ দানিয়াল সৈয়দ আহমদ এক টেলিভিশন ভাষণে এই ঘোষণা দেন।

     

    রয়্যাল সিলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশটির শাসক পরিষদ এবং রাজা (ইয়াং ডি পারতুয়ান আগাং) সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ইসলামিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং রুকিয়া (চাঁদ দেখা) ও হিসাব (গণনা) এই দুই পদ্ধতির সমন্বয়ে ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

     

     

    প্রতি বছর মালয়েশিয়ায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। জাতীয় রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষকে এই ঘোষণা জানানো হয়। শনিবার ঈদের নামাজ আদায় এবং সামাজিক উৎসবের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন মালয়েশিয়ার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

  • চাঁদপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঈদ উদযাপন করছেন গ্রামবাসী

    চাঁদপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঈদ উদযাপন করছেন গ্রামবাসী

    ঈদুল ফিতরে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার পথে দেশের মানুষ। এমন সময় দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রীতিমতো মাইকে ‘ঈদ মুবারক’ ঘোষণা দিয়ে ঈদের নামাজ পড়ানো হলো চাঁদপুরের একটি গ্রামে। 

    জেলার হাজীগঞ্জের সাদ্রা গ্রামে সাধারণত সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের উৎসব উদযাপিত হয়।

    তবে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্যেরও একদিন আগে ঈদ উদযাপন করছেন। 

    এ বিষয়ে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘নাইজার, মালিসহ অনেক দেশে চাঁদ দেখা গেছে। তাই আজ ১৯ মার্চ আমরা ঈদ উদযাপন করছি।’ 

    সাদ্রা গ্রামের একাধিক স্থানে আজ ঈদের জামার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    তিনি যুক্তি দেখান, সারা দুনিয়ায় চাঁদ যেহেতু একটি তাই ঈদও একই দিনে হবে। 

    প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, ‘মাইকে ঈদ মুবারক শুনে পাশের গ্রাম থেকে গিয়ে দেখলাম সেখানে সত্যিই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

    উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। 

  • দেশে ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা যাচ্ছে

    দেশে ঈদুল ফিতর কবে, যা জানা যাচ্ছে

    শেষ হতে চলেছে রমজান মাস। এখন সবাই অপেক্ষা করছে ঈদের দিন ক্ষণের। দিন যত গড়াচ্ছে সবার প্রতীক্ষা ততই বাড়ছে। কবে হতে পারে ঈদুল ফিতর। এ প্রশ্নের চূড়ান্ত জবাব পাওয়া যাবে আগামী ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায়। ওইদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখান থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস যা বলছে?

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের দেশগুলোতে আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে বাংলাদেশে শনিবার (২১ মার্চ) ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    এদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান।

    আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। শাওয়াল মাসের প্রথমদিন হতে পারে ২০ মার্চ।

    ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেন, আগামী বুধবার ২৯তম রমজানে, আরব দেশগুলোর আকাশে কোনো অর্ধচন্দ্র থাকবে না। অর্থাৎ আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতারসহ ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    শারজাহ অ্যাকাডেমি ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। ফলে ২০ মার্চ শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে। এ দিনই সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল ফিতর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাংলাদেশে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর ঈদ হয়। সেই হিসেবে সৌদি আরবে ২০ মার্চ ঈদ হলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

    এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও আগে থেকেই ২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ছুটির ক্যালেন্ডার সাজিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন পূর্বাভাস সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। তবে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব যাই হোক না কেন, ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শাওয়াল মাসের বাঁকা চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই ঈদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

  • ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল যেসব দেশ

    ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করল যেসব দেশ

    ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ। বুধবার (১৮ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী শুক্রবার (২০ মার্চ)।

    এদিকে সৌদি আরবসহ কাতার, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়াও ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করেছে।

    অস্ট্রেলিয়ায় শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উদযাপন করবেন মুসলমানরা।

    অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল জানায়, শুক্রবার উদযাপিত হবে ঈদুল ফিতর। এটি ১৪৪৭ হিজরির শাওয়াল মাসের প্রথম দিন।

    ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটি প্রচলিত শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পরিবর্তে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ওপর ভিত্তি করে এ তারিখ ঘোষণা করেছে।

    সিঙ্গাপুরের কর্মকর্তারা জানান, শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কারণ, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর থেকে চাঁদ দেখা যাবে না।

    তুরস্কে শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) তুরস্ক ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনার যে ইঙ্গিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে এ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

    এ ছাড়া কাতারে আজ বুধবার (১৮ মার্চ) পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এতে দেশটিতে এবার পূর্ণ রমজান, অর্থাৎ ৩০ দিন রোজা রাখবেন মুসলমানরা। ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শুক্রবার (২০ মার্চ)। 

  • আঙুল ফোটানো কি সত্যিই ক্ষ’তিকর? কী বলছে চি’কিৎসাবি’জ্ঞান, জেনে নিন

    আঙুল ফোটানো কি সত্যিই ক্ষ’তিকর? কী বলছে চি’কিৎসাবি’জ্ঞান, জেনে নিন

    অতিরিক্ত টেনশন বা কাজের চাপের কারণে অনেকেই নিজের অজান্তে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। আঙুল ফোটানো অনেকের কাছে স্বস্তিদ্বায়ক, আবার অনেকের কাছে অভ্যাস। অনেকের ধারণা, আঙুল ফোটানো, আঙুলের হাড়ের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকের ধারণা, নিয়মিত আঙুল ফোটালে নাকি আঙুলের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? সম্প্রতি হেলথলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    আঙুল ফোটানোর পেছনের কারণ

    গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ নিয়মিত বা মাঝেমধ্যে আঙুল ফুটিয়ে থাকেন। কেউ এই শব্দ শুনে আনন্দ পান, কেউ আবার মনে করেন এতে মানসিক চাপ কমে। অনেকেই আবার একে স্ট্রেস থেকে মুক্তির একটি উপায় হিসেবে দেখেন। কেউ কেউ চিন্তা বা উদ্বেগের সময় চুল পাকান, কেউ আবার নখ কামড়ান। তারাও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঙুল ফোটাতে শুরু করেন। একবার এই অভ্যাস তৈরি হলে, তা ছেড়ে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

    প্রতিদিনের এই ৭ অভ্যাস বারোটা বাজাচ্ছে আপনার ঘুমের, এখনই সতর্ক হোন

    আঙুল ফোটালে যে শব্দ হয়, তার উৎস

    অনেকেই ভাবেন, হাড় ঘষা লেগেই বুঝি শব্দটি হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ভিন্ন কথা। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় এমআরআইতে দেখা গেছে, আঙুল ফোটানোর সময় জোড়া টান দিলে অস্থিসন্ধির তরলের মধ্যে একটি ছোট ‘ক্যাভিটি’ বা ফাঁপা জায়গা তৈরি হয়, যেটির সৃষ্টিই শব্দের কারণ। আর ২০১৮ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, শব্দটি আসলে ওই ফাঁপা অংশটি আংশিক ভেঙে পড়ার সময় তৈরি হয়। আর একই আঙুল কিছুক্ষণ পর আবার ফোটানো যায়। কারণ ওই ফাঁপা জায়গাটি আবার পূর্ণ হতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে।

    আঙুল ফোটানো কি ক্ষতিকর

    অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে কেউ যদি এটি নিয়মিত বা দিনে বারবার করতে থাকেন, তাহলে সমস্যা হতে পারে। এতে অস্থিসন্ধির ভেতরের তরল (সাইনুভিয়াল ফ্লুইড) কমে যেতে পারে। ফলে হাড়ে হাড়ে ঘষা লাগে এবং দীর্ঘমেয়াদে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

    তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আঙুল ফোটানো সরাসরি বাত বা হাড় ক্ষয়ের কারণ নয়। এক চিকিৎসক টানা ৫০ বছর ধরে শুধু এক হাতের আঙুল ফোটান। পরে তিনি দেখেন, ফোটানো হাত ও না ফোটানো হাতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এতে প্রমাণিত হয়, আঙুল ফোটানো সব সময় ক্ষতিকর নয়।

    যখন সাবধান হওয়া জরুরি

    যদি আঙুল ফোটানোর সময় বা পরে ব্যথা হয়, আঙুল ফুলে যায় বা নড়াতে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু অভ্যাস নয়। এটি শরীরের কোনো সমস্যা বা রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা গাউট, আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্ট ইনজুরি হতে পারে।

    চিকিৎসকদের মতে, কিছু উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। উপসর্গগুলো হলো—

    ১. আঙুলে ব্যথা

    ২. ফুলে যাওয়া

    ৩. জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া

    ৪. নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া

    চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, মাঝেমধ্যে আঙুল ফোটানো ক্ষতিকর নয়। তবে যদি কেউ নিয়মিতভাবে এটি করেন, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সতর্ক থাকা ভালো। আর যদি আঙুলে ব্যথা, ফোলাভাব বা অস্বস্তি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় কেন শ্বা’স নিতে ক’ষ্ট হয় ? জেনে নিন

    সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় কেন শ্বা’স নিতে ক’ষ্ট হয় ? জেনে নিন

    আপনি কি কখনো লক্ষ্য করেছেন, সিঁড়ি ওঠার পর শ্বাস ফোলা হয়ে যায় বা মনে হয় শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে? যদি হ্যাঁ, তবে আপনি একা নন। আসলে, ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অ্যাথলেটরাও মাঝে মাঝে এই সমস্যার মুখোমুখি হন।

    উদাহরণস্বরূপ, চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া অ্যাথলেট এমিলিয়া বনি এক টুইটে জানিয়েছেন, কয়েকটি মঞ্জিল উঠার পরও তার শ্বাস ফোলা হয়ে যায়।

    কেন সিঁড়ি ওঠা আমাদের ফুসফুসের জন্য শ্বাস নেওয়া কঠিন করে তোলে, চলুন জেনে নিই বিস্তারিত—

    সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া

    মাটি বরাবর দৌড়ানো বা হাঁটার তুলনায় সিঁড়ি ওঠার সময় শরীর একটি ভিন্ন ধরনের চাপের মুখোমুখি হয়। এটি মূলত পেশীর কারণে ঘটে।

    মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টিমোথি জে. মাইকেল বলেন, আমাদের পেশীর দুটি ধরনের ফাইবার রয়েছে। প্রথমতো স্লো-টুইচ ফাইবার। এই ফাইবার ক্লান্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং দীর্ঘ সময়ের শারীরিক কার্যকলাপের সময় শরীরকে স্থিতিশীল রাখে। দ্বিতীয়তো ফাস্ট-টুইচ ফাইবার। এই ফাইবার তখন কাজ করে যখন শরীরকে হঠাৎ করে শক্তিশালী কাজ করতে হয়, যেমন লাফ দেওয়া বা সিঁড়ি চড়া। সিঁড়ি ওঠা শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী কাজ, তাই ফাস্ট-টুইচ ফাইবার বেশি সক্রিয় হয়।

    মিডওয়েস্টার্ন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজিস্ট প্রফেসর ফ্রাঙ্ক হোয়াইট জানান, সিঁড়ি ওঠার সময় শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হাইড্রোজেন সংক্রান্ত সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ফলে, যত বেশি পদক্ষেপ নেন, তত দ্রুত ক্লান্তি আসে এবং শ্বাস ফোলা শুরু হয়।

    অন্যান্য কারণ যা শ্বাস ফোলা ঘটায়

    ১. মহাকর্ষার বিরুদ্ধে কাজ

    আমাদের শরীর মাটি বরাবর চলার জন্য ডিজাইন করা। কিন্তু সিঁড়ি ওঠার সময় আমরা আমাদের ওজন উপরের দিকে তুলছি। ফলে পা এবং পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা শ্বাস নেওয়া কঠিন করে তোলে।

    ২. প্রস্তুতি না থাকা

    ম্যারাথন বা কোনো রেসে আগে শরীরকে প্রস্তুত করা হয়, যেমন ওয়ার্ম-আপ করা হয় যাতে শরীর এবং ফুসফুস কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে। দৈনন্দিন জীবনে যখন হঠাৎ সিঁড়ি ওঠা হয়, তখন শরীর প্রস্তুত থাকে না, ফলে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং শ্বাস ফোলার সমস্যা দেখা দেয়।

    ৩. অপ্রচলিত পেশীর ব্যবহার

    দৌড়ের সময় প্রধানত পায়ের পেশী কাজ করে, কিন্তু সিঁড়ি ওঠার সময় অন্য পেশীও সক্রিয় হয় যা সাধারণত ব্যবহার হয় না। এই কারণে কয়েকটি মঞ্জিল উঠতেও ফুসফুসের উপর চাপ পড়ে।

    ৪. অক্সিজেনের অভাব

    প্রতিটি ব্যক্তির সক্ষমতা আলাদা। কেউ চার মঞ্জিলও শ্বাস ফোলা ছাড়াই উঠতে পারে, আবার কেউ দুই মঞ্জিলের পরেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এটি তখন ঘটে যখন শরীর অনুভব করে যে অতিরিক্ত অক্সিজেন খরচ হচ্ছে।

    ৫. ঘাম আসা

    সিঁড়ি ওঠার সময় ঘাম আসা মানেই আপনি আনফিট, বিষয়টি এমন নয়। ফিট মানুষও দ্রুত ঘামতে পারে। কারণ এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

    উপসংহার

    সিঁড়ি ওঠার সময় শ্বাস ফোলা হওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার। এটি পেশীর অতিরিক্ত ব্যবহার, মহাকর্ষার বিরুদ্ধে কাজ, প্রস্তুতির অভাব এবং অক্সিজেনের চাহিদার কারণে হয়। এটি শরীরের ফিটনেসের অভাব নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

    সূত্র : জিও নিউজ

  • শ’রীরে ঝিঁ’ঝি ধরে যে ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন উপকারে আসবে

    শ’রীরে ঝিঁ’ঝি ধরে যে ভি’টামিনের অ’ভাবে, জেনে নিন উপকারে আসবে

    শরীর সুস্থ রাখতে সব ধরনের ভিটামিন গ্রহণ অপরিহার্য। তবে সঠিক খ্যাদ্যাভ্যাস ও খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই নির্দিষ্ট ধরনের কিছু ভিটামিনের ঘাটতি পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এসব ভিটামিনের ঘাটতির ফলে শরীরে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তেমনই শরীরের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন হলো ভিটামিন বি ১২। এটি কোবলামিন নামেও পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০-৯০ শতাংশ নিরামিষাশীদের মধ্যে ভিটামিন বি ১২ এর অভাব আছে।

    পানিতে দ্রবণীয় এই ভিটামিন রক্ত গঠন ও স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিন যেহেতু শরীর নিজে উৎপাদন করতে পারে না, তাই এটি বিভিন্ন খাদ্য উৎস থেকে গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিন বি ১২ উদ্ভিদ ভিত্তিক খাদ্যে আবার পাওয়া যায় না।

    আরও পড়ুন: শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

    এই ভিটামিনের অভাবে রক্ত স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রও সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অনেক সময় ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে দেখা দেওয়া উপসর্গ টের পান না অনেকেই। ফলে সমস্যা আরও বাড়ে।

    চরম ক্লান্তি, মেজাজ পরিবর্তন, ত্বকের পরিবর্তন, পেটের সমস্যা, স্মৃতিশক্তির কমে যাওয়া ইত্যাদি সহ আরও গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি। শরীরে ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি পূরণে অবশ্যই খাদ্যতালিকায় পশুভিত্তিক বা সম্পূরক খাবার খেতে হবে।

    ভিটামিন বি ১২ এর লক্ষণ কী কী?

    বিভ্রান্তি

    ভিটামিন বি ১২ রক্ত কোষ গঠনে কাজ করে। যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে। লোহিত রক্তকণিকার অভাব মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এ কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সবসময় মাথা ঘোরা ও বিভ্রান্তির সমস্যা ভিটামিন বি ১২ এর একটি সাধারণ লক্ষণ।

    বিষণ্নতা

    গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে মস্তিষ্কের হোমোসিস্টিন টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মেজাজ পরিবর্তন হয় ও বিষণ্নতা বাড়ে। তবে শরীরে ভিটামিন বি ১২ এর চাহিদা পূরণের মাধ্যমে এ সমস্যা কাটানো যায়।

    মনোযোগের অভাব

    হঠাৎ যদি আপনি কোনো কাজে মন বসাতে না পারেন, তাহলে হয়তো ভিটামিন বি ১২ এর অভাবে ভুগছেন! এই ভিটামিনের অভাবে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছায় না ও মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে যে কোনো বিষয়ে মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

    ভুলে যাওয়া

    কয়েকদিন আগের ঘটনা ভুলে যাচ্ছেন কিংবা কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে? এমন সমস্যা কিন্তু ভিটামিন বি ১২ এর অভাব ও ডিমেনশিয়ার সাধারণ লক্ষণ। যা প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার কারণ হতে পারে।

    জিহ্বা বা মুখে ঘা

    মুখের ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি হলে মুখে অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়। এর মধ্যে একটি হলো ‘লিঙ্গুয়াল প্যারেথেসিয়া’। এক্ষেত্রে জিহ্বা ফুলে যাওয়া বা জ্বালার সমস্যা হতে পারে। গ্লসাইটিসও বলা হয় একে। এক্ষেত্রে জিহ্বা ফুলে যায় ও ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়।

    হাত-পায়ে অবশ ও ঝিঁঝি ধরার সমস্যা

    ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির মতে, ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতির একটি স্নায়বিক উপসর্গের মধ্যে আছে হাত-পায়ের অসাড়তা ও ঝিঁঝি ভাব।

    স্বাস্থ্য সংস্থা বিএমজে’র মতে, যদিও নিউরোলজিক জটিলতার অগ্রগতি সাধারণত ধীরে ধীরে হয়, তবে ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি হরে তা চিকিৎসার পরও উপসর্গগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীরে উপস্থিত থাকে। অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে হাঁটার অসুবিধা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিভ্রান্তি ও ডিমেনশিয়া।

    ভিটামিন বি ১২ এর অভাব কেন হয়?

    ভিটামিন বি ১২ এর অভাব হওয়ার দুটি প্রধান কারণ হলো রক্ত স্বল্পতা ও খাদ্যে অপর্যাপ্ত ভিটামিন বি ১২ থাকা। রক্ত স্বল্পতার ক্ষেত্রে ইমিউন সিস্টেম আপনার পেটের স্বাস্থ্যকর কোষ ধ্বংস করে। তাই পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমেও শরীর ভিটামিন শোষণ করতে পারে না।

    দ্বিতীয় কারণটি নির্ভর করে আপনি খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের ভিটামিন বি ১২ এর অভাব পূরণ করতে পারছেন কি না। এই ভিটামিন খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ না করলে শরীরে এর অভাব দেখা দেওয়া সাধারণ বিষয়।

    কতটুকু ভিটামিন বি ১২ খাওয়া উচিত?

    ভিটামিন বি ১২ খাওয়ার পরিমাণ বয়সের উপর নির্ভর করে। যেমন- (৪-৮ বছর ১.২ মাইক্রোগ্রাম, ৯-১৩ বছর ১.৮ মাইক্রোগ্রাম, ১৪-১৮ বছর ২.৪ মাইক্রোগ্রাম, প্রাপ্তবয়স্ক ২.৪ মাইক্রোগ্রাম, গর্ভবতী হলে ২.৬ মাইক্রোগ্রাম এবং বুকের দুধ খাওয়ালে ২.৮ মাইক্রোগ্রাম)।

    কখন ডাক্তার দেখাবেন?

    >> ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়>> দুর্বল বোধ করেন>> চলাফেরায় সমস্যা>> প্রায়ই শ্বাসকষ্ট অনুভব করা ইত্যাদি।

    এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসক ভিটামিন বি ১২ এর অভাবের সম্ভাবনা নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তিনি ডায়েটে পরিবর্তন আনার পরামর্শ বা সেই অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট লিখে দেবেন।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া