ভু’লেও যারা জাম্বুরা খা’বেন না, জেনে নিন না হয় বি’পদ!

পুষ্টিগুণে ভরপুর জাম্বুরা ফল। সকলের সাধ্যের মধ্যেই কিনতে পাওয়া যায়। গ্রাম কিংবা শহর, প্রায় সব মানুষই খেয়ে থাকেন এটি। কেউ লবণ, মরিচ গুঁড়া, ধনেপাতাসহ বিভিন্ন মসলা যোগ করে মাখিয়ে খান, আবার কেউ নরমালি খেয়ে থাকেন। যেভাবেই খাওয়া হোক না কেন, স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী এই ফল।

যে কোনো খাবারের মতো জাম্বুরা ফলেরও যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি রয়েছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও। কেউ কেউ বেশি খেয়ে ফেলেন, আর কেউ খাওয়ার পরই বিভিন্ন সমস্যায় ভোগেন। তাই কারা খাবেন, কারা খাবেন না এবং কতটা পরিমাণে খাওয়া উচিত—এসব জানা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে দেশের একটি গণমাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর এএমজেড হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের পুষ্টি, ওবেসিটি, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক ডিজিজ কনসালটেন্ট ডা. মো. জয়নুল আবেদীন দীপু। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিষয়ক চীনা তথ্য প্ল্যাটফর্ম চাইনি ইয়াংশেন-এর ইংরেজি সংস্করণ চাইনি হেলথ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

জাম্বুরার পুষ্টিগুণ

প্রতি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি জাম্বুরায় ক্যালোরি রয়েছে ২৩০ কিলোক্যালোরি, পটাশিয়াম ১৩০০ মিলিগ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৬০ গ্রাম। এছাড়া প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি ৪১ শতাংশ, রাইবোফ্ল্যাভিন ১৩ শতাংশ, কপার ৩০ শতাংশ, থায়ামিন ১৮ শতাংশ ও ফাইবার রয়েছে ৬ শতাংশ।

উপকারিতা

শরীর ঠিক রাখার জন্য নানাভাবে সহায়তা করে ভিটামিন সমৃদ্ধ এই জাম্বুরা। এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষয় রোধ ও প্রদাহ কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

ভিটামিন রাইবোফ্ল্যাভিন ও থায়ামিন সমৃদ্ধ এই ফল শরীরে স্নায়বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এই ফলে মিনারেলের মধ্যে বেশি পরিমাণে রয়েছে পটাশিয়াম। আরও রয়েছে কপার। যা শরীরে মিনারেলের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধানে ভালো উপকার করে জাম্বুরা।

কারা জাম্বুরা খেতে পারবেন না?

নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিরা: কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন (যেমন সিমভাস্ট্যাটিন, অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন) এবং উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ (যেমন নিফেডিপাইন) সেবনকারী রোগীদের জাম্বুরা খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে।

কিডনি রোগী: যাদের কিডনির সমস্যা আছে, বিশেষ করে রক্তে পটাশিয়াম বেশি থাকে, তাদের জাম্বুরা না খাওয়াই ভালো।

অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের রোগী: অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা থাকলে জাম্বুরা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি এই অবস্থাকে আরও খারাপ করতে পারে।

মেনোপজ পরবর্তী নারী: মেনোপজ পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রচুর পরিমাণে জাম্বুরা খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এ ছাড়া বাকি সবাই জাম্বুরা খেতে পারবেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *