ভু’লেও যারা ড্রা’গন ফল খা’বেন না, জেনে নিন

ড্রাগন ফলকে অনেকেই ‘সুপার ফ্রুট’ বলে থাকেন। আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ফলটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ড্রাগন ফল রাখছেন।

তবে অন্য যেকোনো খাবারের মতো ড্রাগন ফলেরও কিছু উপকারিতার পাশাপাশি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই কারা এই ফল খাবেন, কারা সতর্ক থাকবেন এবং দৈনিক কতটুকু খাওয়া উচিত—তা জানা জরুরি।

এ বিষয়ে দেশের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লাইফ কেয়ার মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বিডিএন পল্লবী ডায়াবেটিস সেন্টারের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান।

কারা খাবেন

পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহানের মতে, ড্রাগন ফলে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও আয়রন রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

বিশেষ করে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ফলটি উপকারী হতে পারে। এতে থাকা আয়রন শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে।

এ ছাড়া ড্রাগন ফলে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতেও ফলটি ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পরিমিত ড্রাগন ফল রাখা যেতে পারে।

কারা সতর্ক থাকবেন

হজমের সমস্যা থাকলে খালি পেটে ড্রাগন ফল না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ। এতে কারও কারও পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। কারণ ড্রাগন ফলে অল্প পরিমাণ অক্সালেট রয়েছে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ব্যক্তিভেদে পেটব্যথা, বমি বমি ভাব বা অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।

দিনে কতটুকু খাবেন

পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ড্রাগন ফল যথেষ্ট। শিশুদের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫০ থেকে ৭৫ গ্রামের মধ্যে রাখা যেতে পারে।

যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা সরাসরি খালি পেটে না খেয়ে দই বা অন্য ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধু ড্রাগন ফলের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করাই নিরাপদ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *