Author: Kolome71

  • কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে মে’জাজ খি’টখি’টে হয়?

    কোন ভি’টামিনের অ’ভাবে মে’জাজ খি’টখি’টে হয়?

    জীবন মানেই ওঠানামা। কখনো মন ভালো থাকে, কখনো আবার খিটখিটে বা বিরক্ত লাগে। কিন্তু যদি এই ওঠানামা বেশি বেড়ে যায়, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক খতিয়ে দেখা দরকার। কিছু পুষ্টির অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। আসুন জেনে নিই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা আপনার মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে—

    ভিটামিন বি 

    ভিটামিন বি-গ্রুপ (বিশেষ করে বি১, বি৬ ও বি১২) মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা আবেগ ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে মানসিক চাপ, বিরক্তি ও ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

    খাবারে রাখুন: শাকসবজি, গোটা শস্য, ডিম ও লিন প্রোটিন।

    ম্যাগনেশিয়াম 

    পরিবার ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাগনেশিয়াম প্রাকৃতিক ট্র্যাংকুইলাইজারের মতো কাজ করে, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে। এই উপাদান কমে গেলে উদ্বেগ, হতাশা ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে।

    খাবারে রাখুন: কুমড়ার বীজ, বাদাম, ডার্ক চকলেট ও শাকসবজি।

    আয়রন 

    সবসময় দুর্বল ও অধৈর্য লাগছে? এর কারণ হতে পারে আয়রনের ঘাটতি। আয়রন শরীরে, বিশেষ করে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। অক্সিজেন কমে গেলে মেজাজ খারাপ, ক্লান্তি ও বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।

    খাবারে রাখুন: পালং শাক, ডাল, শিম, মসুর ডাল ও লাল মাংস।

    ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

    ওমেগা-৩ মস্তিষ্কের জন্য সূর্যালোকের মতো কাজ করে। এটি আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদানের অভাবে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা ও মুড সুইং হতে পারে।

    খাবারে রাখুন: স্যামন, টুনা মাছ, আখরোট ও তিসি বীজ।

    ভিটামিন ডি 

    ‘সানশাইন ভিটামিন’ নামে পরিচিত ভিটামিন ডি শুধু হাড় মজবুতই করে না, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে। এর ঘাটতিতে উদ্বেগ ও হতাশা বাড়তে পারে।

    যা করবেন: নিয়মিত রোদে সময় কাটান, ডিম ও তেলযুক্ত মাছ খান অথবা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।

    পরামর্শ

    দীর্ঘদিন ধরে মেজাজ খিটখিটে বা খারাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তারা আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • পে স্কে’ল নিয়ে অ’র্থ ম’ন্ত্রণা’লয়ের নতুন প্র’জ্ঞাপন

    পে স্কে’ল নিয়ে অ’র্থ ম’ন্ত্রণা’লয়ের নতুন প্র’জ্ঞাপন

    নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আলোচনার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণের বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করা হবে।

    সোমবার (১৯ অক্টোবর) জারি করা প্রজ্ঞাপনটিতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম।

    প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে?
    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মচারী চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর আওতাবহির্ভূত মূল বেতনের শতাংশভিত্তিক প্রচলিত ভাতা পেয়ে থাকেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেসব ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে পাওয়া মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

    অর্থাৎ, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শ্রেণির ভাতার হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে কোন কর্মচারী কোন ভাতা পাবেন এবং তার পরিমাণ কত হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধি ও প্রযোজ্য আদেশের ওপর নির্ভর করবে।

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এর অর্থ কী?

    প্রজ্ঞাপনটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের প্রচলিত ভাতার হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। এটি থেকে সব সরকারি কর্মচারীর সব ভাতা একই নিয়মে নির্ধারিত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

    কর্মচারীদের নিজ নিজ বেতন স্লিপ, প্রযোজ্য ভাতার নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। কোনো ভাতা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে হিসাব শাখা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

    নতুন পে স্কেলের বকেয়া হিসাব কিভাবে করবেন?

    নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়া, বেতন নির্ধারণ এবং আগের সময়ের সম্ভাব্য বকেয়া হিসাব নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তবে বকেয়া কত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ, অনুমোদিত বেতন কাঠামো, কর্মচারীর গ্রেড, মূল বেতন এবং প্রযোজ্য ভাতার ওপর।

    অনলাইনে থাকা কোনো অনানুষ্ঠানিক বেতন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করলে ফলাফলকে চূড়ান্ত সরকারি হিসাব হিসেবে ধরা উচিত নয়। ক্যালকুলেটরের বেতনধাপ ও ভাতার হার সংশ্লিষ্ট সরকারি গেজেট এবং নিজের বেতন স্লিপের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।

    চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও অনুমোদিত বেতন ব্যবস্থার হিসাবই অনুসরণ করতে হবে।

    প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয় এক নজরে
    প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

    জারিকারী কর্তৃপক্ষ: অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ

    মূল নির্দেশনা: নির্দিষ্ট প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ

    নির্দেশনার মেয়াদ: পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত

    কার জন্য প্রযোজ্য: প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, যাদের সংশ্লিষ্ট ভাতা ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশের আওতাবহির্ভূত

    সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তাই প্রজ্ঞাপনটির মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রচলিত শতাংশভিত্তিক ভাতার হিসাব আপাতত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন ধরে নির্ধারণ করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে কোন ভাতা কত প্রাপ্য, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশ ও বেতন স্লিপ যাচাই করা প্রয়োজন।

  • যেভাবে জানবেন আপনার লি’ভারের সম’স্যা কোথায়, জেনে নিন

    যেভাবে জানবেন আপনার লি’ভারের সম’স্যা কোথায়, জেনে নিন

    লিভার কিংবা যকৃতের সমস্যা হলে প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারেন। তবে লিভারের ক্ষতি কিংবা রোগ যত বাড়তে থাকে, আপনার শরীরের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। লিভারের সমস্যার প্রধান লক্ষণগুলোকে কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা হলো। চলনু জেনে নেওয়া যাক, আপনার লিভারের সমস্যা কোথায়?

    ত্বক ও চোখ পরিবর্তন

    জন্ডিস: লিভারের সমস্যার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হলো— জন্ডিস। এতে চোখের সাদা অংশ এবং ত্বক হলুদ হয়ে যায়। রক্তে ‘বিলিরুবিন’ নামক পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়।

    ত্বকে চুলকানি: কোনো দৃশ্যমান অ্যালার্জি বা র্যাশ ছাড়াই সারা শরীরে তীব্র চুলকানি হতে পারে। লিভার ঠিকমতো কাজ না করায় ত্বকের নিচে পিত্ত লবণ জমা হওয়ার কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    রেচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন

    গাঢ় প্রস্রাব: জন্ডিসের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবের রঙ অতিরিক্ত গাঢ় কিংবা সরিষার তেলের মতো হলুদ হতে পারে।

    ফ্যাকাশে বা মেটে রঙের মল: মল কিংবা পায়খানার স্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন হয়ে ফ্যাকাশে, ধূসর কিংবা মাটির রঙের মতো হতে পারে।

    শরীরের অন্যান্য অংশের সমস্যা

    পেটব্যথা ও ফুলে যাওয়া: পেটের ডান দিকে পাঁজরের নিচে তীব্র বা মৃদু ব্যথা হতে পারে। এ ছাড়া লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হলে, যেমন— সিরোসিস পেটে তরল জমা হয়ে পেট অস্বাভাবিক ফুলে যায়।

    পা ও গোড়ালি ফোলা: লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে আপনার শরীরের নিচের অংশ, বিশেষ করে পা, গোড়ালি ও পাতায় পানি জমে ফুলে যেতে পারে।

    হজম ও শক্তির ঘাটতি

    অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও সবসময় চরম ক্লান্তি, অলসতা ও শরীর দুর্বল লাগা লিভার রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

    Advertisement

    ক্ষুধামন্দা ও বমি ভাব: খাবারে অরুচি, ঘন ঘন বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া এবং অল্প খেলেই পেট ভরা মনে হওয়া। এর ফলে দ্রুত ওজন ও পেশি কমে যেতে পারে।

    জটিল কিংবা মারাত্মক লক্ষণ

    সহজে ক্ষত ও রক্তপাত: লিভার রক্তজমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে না পারায় সামান্য আঘাতেই ত্বকে নীলচে দাগ পড়ে কিংবা সহজেই রক্তপাত হয়।

    Advertisement

    রক্ত বমি বা কালো মল: পোর্টাল শিরায় চাপ বাড়ার কারণে খাদ্যনালি বা পাকস্থলীর শিরা ফেটে রক্ত বমি হতে পারে; কিংবা আলকাতরার মতো কুচকুচে কালো মল ত্যাগ হতে পারে। এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি।

    মানসিক বিভ্রান্তি: লিভার যখন রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করতে পারে না, তখন সেই বিষ মগজে পৌঁছে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, মনোযোগের অভাব, মেজাজ পরিবর্তন বা তীব্র মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি করে।

  • শ’রীরের যে স’মস্যা থাকলে ভু’লেও র’সুন খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    শ’রীরের যে স’মস্যা থাকলে ভু’লেও র’সুন খা’বেন না যারা, জেনে নিন

    প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকেই রসুনের গুণাগুণ সম্পর্কে জানা যায়। এর বোটানিক্যাল নাম হলো Allium Salivan linn। রসুন যেমন উষ্ণ, তেমনি স্নিগ্ধ। এটি শরীরকে গরম রাখে। রসুন এন্টিবায়োটিক, সর্দি কাশি সারায়। একজিমা দূর করে। ঘাম হতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল ও রক্ত শর্করা কমায়। দুধে রসুনের রস পড়লে ছানা হয় না।

    তবে এর গন্ধ পারদের মতো সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় রসুন বেশ কার্যকর। যেমন-হাড়ের রোগ, কৃমি, চর্মরোগ, উচ্চরক্তচাপ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, প্রস্রাবে সংক্রমণ ইত্যাদি। এক বা দুই কোয়া রসুন গরম দুধের সঙ্গে খেলে শরীরের জড়তা দূর হয় এবং এতে সামান্য জ্বরেও উপকার পাওয়া যায়। পেটে গ্যাস হলেও রসুনের রস উপকারী। রসুনের রসের শ্বাস নিলে মাথাব্যথা উপশম হয়। এ ছাড়া রসুন দিয়ে সরিষার তেল গরম করে মালিশ করলে বাতের ব্যথা দূর হয়।

    রসুনের মধ্যে সালফাইড থাকার কারণে এটি জীবাণুনাশক হিসাবে কাজ করে। এর ই-কোলাই ও টাইফয়েডের জীবাণু ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে। এর রাসায়নিক উপাদানগুলো হলো-Organic sulphide, sulphar bearing amino acid, Essential oil. রসুন পরজীবী ধ্বংস করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মানসিক চাপ কমায়, শ্বাসকষ্ট সারায়, স্নায়ুবিক সমস্যা রোধ করে এবং যকৃতের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। রসুনে থাকা ডাই-অ্যালাইন সালফাইড ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

    রসুন নিয়ে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এর এলিসিন নামক পদার্থটি দেহের ওজন বাড়া প্রতিহত করে। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট ইউনির্ভাসিটির অধ্যাপক ডক্টর এরিক ব্লক রসুনের মধ্যে কিছু দ্রব্যের সন্ধান পেয়েছেন যা রক্ত জমাট বাঁধা দূর করে।

    সবচেয়ে সক্রিয় এজেন্টটির নাম এজোনাইন। এটি অনুচক্রিকার পিঠের কোষকে এমনভাবে পরিবর্তন করে যে, এগুলো আর আঠালো থাকে না। তাই জমাট বেঁধে পিণ্ডও তৈরি হয় না। এ প্রসঙ্গে ডা. ব্লক বলেন, ‘রসুনের গোটা কোয়া খাওয়াই উত্তম।’ ওষুধের জনক হিপোক্রেটস বলেছেন, বনৌষধির মধ্যে রসুনের স্থানই প্রথম। এটি শরীর ও মনের সার্বিক উন্নতি ঘটায়।

  • ডি’মের চেয়ে বেশি প্রো’টিন পেতে স’কালে খে’তে পারেন চেনা–পরিচিত ১৩ খা’বার, জেনে নিন

    ডি’মের চেয়ে বেশি প্রো’টিন পেতে স’কালে খে’তে পারেন চেনা–পরিচিত ১৩ খা’বার, জেনে নিন

    দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় প্রোটিন রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সহজলভ্য ও সস্তার মধ্যে প্রোটিন পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উৎস হল ডিম। যারা ওজন কমাতে চায় তাদের জন্য ডিম আদর্শ খাবার। 

    পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে, একটি সিদ্ধ ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা- ডিম খেতে পারেন না বা খেতে পছন্দ করেন না। তাদের জন্য সহজভাবে প্রোটিন পেতে কী খাওয়া যেতে পারে? আসুন জেনে নিই সকালের নাস্তায় এই খাবারগুলো রাখলে প্রোটিনের চাহিদা অনেকটাই পূরণ হবে-

    ১. ছোলা

    ইফতারে জনপ্রিয় এই খাবার প্রোটিনসমৃদ্ধ। ২৫০ গ্রাম ছোলায় থাকে ১৪ গ্রাম প্রোটিন। ছোলা রান্না করে, সালাদ বা স্যুপেও খেতে পারেন।

    ২. মসুর ডাল

    সব ডালই প্রোটিনের ভালো উৎস। ১ কাপ মসুরের ডালে ১৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    ৩. শুঁটকি মাছ

    ১ কাপ শুঁটকি মাছে প্রোটিন থাকে ১৫–২০ গ্রাম। তবে বাজারের অনেক শুঁটকি মাছেই মাত্রাতিরিক্ত বিষাক্ত কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ দেওয়া থাকে। তাই শুঁটকি নিজেরা বানিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

    ৪. চিংড়ি

    ১ কাপ রান্না করা চিংড়িতে প্রোটিন পাবেন ২৪ গ্রাম। তবে এর সঙ্গে ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল পাবেন ‘ফ্রি’! তাই ভেবেচিন্তে খান। পরিমাণমতো খান।

    ৫. মিষ্টিকুমড়ার বীজ

    মিষ্টিকুমড়ার বীজ ফেলে দিলে ভুল করলেন। ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে কৌটায় সংরক্ষণ করুন। ১ কাপ মিষ্টিকুমড়ার বীজে ১২ গ্রাম প্রোটিন আছে। এটি জিঙ্ক, কপার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও সেলোনিয়ামেরও ভালো উৎস।

    ৬. পনির

    ১ কাপ পনিরে প্রোটিন থাকে ২৪ গ্রাম।

    ৭. কাজুবাদামের মাখন

    ১ কাপ কাজুবাদামের মাখনে প্রায় ৩৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও বটে।

    ৮. সয়া নাগেট

    বাজারে প্যাকেটজাত সয়া নাগেট কিনতে পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম সয়া নাগেটের ৩৬ গ্রামই প্রোটিন!

    ৯. মুরগির বুকের মাংস

    ১ কাপ বোনলেস মুরগির রান্না করা বুকের মাংসে কমপক্ষে ৩০ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    ১০. টুনা ও স্যামন মাছ

    সব মাছই প্রোটিনের ভালো উৎস। তবে এই দুটি মাছ থেকে বেশি ও ভালো মানের প্রোটিন পাওয়া যায়।

    ১১. শিমের বিচি

    ১ কাপ রান্না করা শিমের বিচিতে প্রোটিন থাকে ১৫ গ্রাম।

    ১২. চিয়া সিড

    ১ কাপ চিয়া সিডে ৪০ গ্রামের মতো প্রোটিন আছে। ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবারেরও ভালো উৎস।

    ১৩. গরুর মাংস

    ১ কাপ গরুর মাংসে ৬০ গ্রাম প্রোটিন থাকে! এ ছাড়া আয়রন ও জিঙ্কেরও ভালো উৎস গরুর মাংস।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে বাড়তে পারে থা’ইর’য়েডে’র ঝুঁ’কি

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে বাড়তে পারে থা’ইর’য়েডে’র ঝুঁ’কি

    থাইরয়েডের সমস্যা এখন অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, অটোইমিউন থাইরয়েড ডিজিজ বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর আক্রমণ করার সমস্যাটি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। পুষ্টির ঘাটতি, বংশগত প্রবণতা এবং পরিবেশগত নানা বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতির সঙ্গে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে।

    তবে কোনো একটি ভিটামিনের অভাবই যে সরাসরি থাইরয়েড রোগের কারণ, এমন প্রমাণ নেই। তাই রোগের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার, প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    কোন ভিটামিনের অভাবের সঙ্গে থাইরয়েডের সম্পর্ক রয়েছে?

    ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে এই ভিটামিনের ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় হাশিমোটো থাইরয়েডাইটিসের মতো অটোইমিউন থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম পাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।

    তবে এই সম্পর্ক থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই রোগের কারণ। রোগের কারণে ভিটামিনের মাত্রা কমছে, নাকি ঘাটতি রোগের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখছে—তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

    ভিটামিন সম্পূরক

    এ ছাড়া ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম ও জিঙ্কের ঘাটতিও থাইরয়েডের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের সঙ্গে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি একসঙ্গে দেখা যেতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে না।

    অটোইমিউন থাইরয়েডের ঝুঁকি কমাতে কী খাবেন?

    থাইরয়েডের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর উপাদান রাখা জরুরি। যেমন-

    ১. ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার

    ডিমের কুসুম, চর্বিযুক্ত মাছ এবং ভিটামিন ডি-যুক্ত দুধ বা অন্যান্য ফোর্টিফায়েড খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সূর্যালোকের সংস্পর্শেও শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। তবে কারও ঘাটতি থাকলে শুধু খাবার বা সূর্যালোক দিয়ে তা পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।

    ২. ভিটামিন বি১২-যুক্ত খাবার

    মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২-যুক্ত ফর্টিফায়েড খাবার বা চিকিৎসকের পরামর্শে সম্পূরক গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

    ৩. সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার

    মাছ, ডিম, মাংস ও বিভিন্ন বাদামে সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। এই খনিজ থাইরয়েড হরমোনের বিপাক এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত সেলেনিয়াম গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

    ৪. জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার

    মাংস, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, বাদাম ও বীজে জিঙ্ক পাওয়া যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্বাভাবিক কোষীয় কার্যক্রমে এই খনিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ৫. আয়োডিনযুক্ত লবণ পরিমিত পরিমাণে

    থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন অপরিহার্য। তবে আয়োডিনের অতিরিক্ত গ্রহণও কিছু মানুষের থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই আয়োডিনযুক্ত লবণ পরিমিত ব্যবহার করা উচিত; নিজে থেকে আয়োডিনের উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

    কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?

    অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধের জন্য নির্দিষ্ট কোনো খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি বা সয়াজাতীয় খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে অধিকাংশ মানুষের থাইরয়েডের ক্ষতি হয় না। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আয়োডিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট বা সামুদ্রিক শৈবালের ঘন নির্যাস গ্রহণ করা এড়িয়ে চলা ভালো।

    সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বুক ধড়ফড় করা কিংবা গলায় ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন (টিএসএইচ), ফ্রি টি৪ এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডি পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

    মনে রাখতে হবে, শুধু ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতি পূরণ করলেই অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ প্রতিরোধ করা যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সঠিক রোগ নির্ণয়, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং পুষ্টিকর খাবারই থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশ’ভাব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    পা’য়ে বারবার টা’ন-ঝি’ঝি ধ’রা ও অ’বশ’ভাব, হতে পারে এই ভি’টামিনের ঘা’টতি

    রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন, হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে গেল। কখনো আবার পায়ে শুরু হলো ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া। এমন অস্বস্তিতে অনেকেরই রাতের ঘুম নষ্ট হয়। যারা এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তারাই জানেন হঠাৎ পায়ে টান বা ব্যথা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পায়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো তা সামান্য অস্বস্তির কারণ হয়, আবার কখনো ব্যথা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, এসব সমস্যা হয়তো শুধু পেশি বা হাড়ের কারণে হচ্ছে। তবে সব ক্ষেত্রে কারণটি এমন নাও হতে পারে। শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা উপসর্গের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে পায়ে বারবার খিঁচুনি, ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা ব্যথা হলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি যেমন ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি অন্য শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এ বিষয়ে কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন।

    পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য শরীরে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের পর্যাপ্ত উপস্থিতি প্রয়োজন। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে পেশিতে খিঁচুনি, দুর্বলতা, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    তাহলে কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে পায়ের এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে?

    ভিটামিন ডি

    শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশি ও হাড়ে ব্যথা এবং পেশির দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পেশিতে টান বা খিঁচুনিও হতে পারে।

    বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডির ঘাটতি পেশির দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এতে চলাফেরায় সমস্যা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

    ভিটামিন বি১২

    লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পা ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিন করা, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি বেশি হলে ভারসাম্য রাখতে সমস্যা, দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন

    শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন প্রয়োজন। এর ঘাটতি হলে পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি, পায়ে জ্বালাপোড়া বা অন্যান্য স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ঘাটতি গুরুতর হলে পেশির দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে এবং হাঁটাচলায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    ভিটামিন ই

    শরীরে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে ঘাটতি হলে স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে পেশির দুর্বলতা, শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা এবং সংবেদনশীলতার পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

    পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া বা চলাফেরায় সমন্বয়ের সমস্যা থাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।

    আয়রন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান

    আয়রনের ঘাটতি থেকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হলে শরীরে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতার অনুভূতিও হতে পারে।

    এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, এগুলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ইলেকট্রোলাইট। পেশির সংকোচন ও শিথিলতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে এসব উপাদানের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে খিঁচুনি বা টান ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    পায়ে মাঝেমধ্যে টান ধরা সবসময় কোনো ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতির লক্ষণ নয়। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণেও পেশিতে খিঁচুনি হতে পারে।

    তবে পায়ে বারবার বা দীর্ঘদিন ধরে টান ধরা, ঝিনঝিন বা অসাড়তা থাকা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে সমস্যা কিংবা ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

    নিজে থেকে ভিটামিন বা খনিজের সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে আগে ঘাটতি আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া ভালো। কারণ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • যে ২ ধরনের মা’নুষের ম’সুর ডা’ল খা’ওয়া উ’চিত না, জেনে নিন

    যে ২ ধরনের মা’নুষের ম’সুর ডা’ল খা’ওয়া উ’চিত না, জেনে নিন

    মসুর ডাল আমাদের প্রতিদিনের খাবারের খুবই পরিচিত একটি অংশ। এটি প্রোটিন, আঁশ, আয়রন ও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। তাই অনেকেই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মসুর ডাল রাখেন।

    তবে যতই উপকারী হোক না কেন, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ডাল ক্ষতির কারণও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগলে মসুর ডাল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    কেন মসুর ডাল এত উপকারী

    মসুর ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস। বিশেষ করে যারা নিরামিষ খাবার বেশি খান, তাদের জন্য এটি খুবই উপকারী।

    এক কাপ রান্না করা মসুর ডাল থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর আঁশ, আয়রন, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।

    নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মসুর ডাল খেলে-

    দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে

    হজম ভালো হতে সাহায্য করে

    খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

    রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে

    ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

    আয়রনের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে

    কারা মসুর ডাল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

    কিডনির সমস্যায় ভুগছেন যারা

    পুষ্টিবিদদের মতে, যাদের দীর্ঘদিনের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রোটিন ও কিছু খনিজ উপাদান গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক অনেক সময় ডালের পরিমাণও সীমিত রাখতে বলেন।

    তাই কিডনির রোগ থাকলে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে মসুর ডাল খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    যাদের ইউরিক অ্যাসিড বেশি

    যাদের ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বা গাউটের প্রবণতা রয়েছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। যদিও মসুর ডালে প্রাণিজ খাবারের তুলনায় পিউরিন কম থাকে, তবুও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাল খাওয়া ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।

    যদি ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকে, তাহলে কতটুকু ডাল খাওয়া নিরাপদ, সে বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

    মসুর ডাল আরও স্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়ার উপায়

    মসুর ডাল রান্নার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এবং ভালোভাবে সিদ্ধ করলে হজম সহজ হয়। এতে থাকা কিছু অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও কমে যায়, ফলে শরীর পুষ্টি আরও ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।

    ডালের সঙ্গে শাকসবজি, ভাত বা রুটি খেলে এটি আরও সুষম খাবারে পরিণত হয়।

    মসুর ডাল অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য নিরাপদ একটি খাবার। তবে কিডনির রোগ বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে এটি খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে মসুর ডাল প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেকোনো খাবারের মতো মসুর ডালও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই স্বাস্থ্যকর।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • পি’ঠের ব্য’থা নাকি কি’ডনির স’মস্যা? দুটির মধ্যে ভিন্নতা জেনে নিন

    পি’ঠের ব্য’থা নাকি কি’ডনির স’মস্যা? দুটির মধ্যে ভিন্নতা জেনে নিন

    পিঠের ব্যথা এবং কিডনির ব্যথার লক্ষণগুলো অনেক সময় বেশ কাছাকাছি হয়ে থাকে, যার কারণে ডিসকমফোর্ট বা অস্বস্তির সঠিক কারণটি বোঝা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাধারণ পিঠের ব্যথা সাধারণত পেশির টান, ভুল ভঙ্গি বা মেরুদণ্ডের নানা সমস্যার সঙ্গে জড়িত। পক্ষান্তরে, কিডনির ব্যথা হতে পারে কোনো ইনফেকশন, কিডনি পাথর বা মূত্রনালীর অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণ।

    এই দুটির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারা সঠিক চিকিৎসা নিতে দারুণভাবে সাহায্য করে। এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ফর্টিজ হসপিটাল, শালিমার বাগ-এর নেফ্রোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. যোগেশ ছাবড়া এই দুই ব্যথার মূল পার্থক্য এবং যেসব লক্ষণ আপনার কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। 

    ব্যথার সঠিক স্থান চিহ্নিত করা

    ডা. ছাবড়ার মতে, আপনার পিঠের ব্যথা নাকি কিডনির সমস্যা তা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ব্যথার স্থানটি লক্ষ্য করা। পিঠের ব্যথা মূলত পিঠের নিচের অংশে, মেরুদণ্ড এবং এর আশপাশের পেশিতে বেশি অনুভূত হয়।

    এই ব্যথা অনেক সময় নিতম্ব বা পায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যদি ব্যথাটি স্লিপ ডিস্ক বা নার্ভে চাপের কারণে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, কিডনির ব্যথা শরীরের তুলনামূলক গভীরে অনুভূত হয়; এটি মেরুদণ্ডের দুপাশে, পাঁজরের ঠিক নিচে অবস্থান করে। 

    ব্যথার প্রকৃতির ভিন্নতা

    ডা. ছাবড়া উল্লেখ করেন, ‘ব্যথার প্রকৃতি থেকেও এর উৎস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।’ পিঠের ব্যথা সাধারণত মৃদু, শক্ত হয়ে থাকা বা তীক্ষ্ণ ধরনের হয়ে থাকে—যা ঝুঁকলে, ভারী কিছু তুললে, মোচড় দিলে বা দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকলে আরও বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে শুয়ে পড়লে বা চলাফেরা করলে এই ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু কিডনির সমস্যার কারণে সৃষ্ট ব্যথা সাধারণত অনেক বেশি গভীর, তীক্ষ্ণ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

    কিডনিতে পাথর থাকলে সেই ব্যথা সাধারণত তীব্র ঢেউয়ের মতো বা খিঁচুনি আকারে অনুভূত হয়, আবার ইনফেকশন বা সংক্রমণের কারণে একটানা বথা বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে এমন কিছু অভিন্ন লক্ষণ রয়েছে, যা দেখে একা একা নিশ্চিত হওয়া যায় না। 

    কিডনি সমস্যার লক্ষণসমূহ 

    ডা. ছাবড়ার মতে, কিডনিতে ব্যথা হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো এর সঙ্গে যুক্ত থাকে:

    প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথা। 

    ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ পাওয়া। 

    প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। 

    ঘোলাটে ও দুর্গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া। 

    শরীরে উত্তাপ অনুভূত হওয়া ও কাঁপুনি দেওয়া। 

    বমি ভাব। 

    পিঠের নিচের অংশে বা পাশের দিকে ব্যথা।

    উল্লেখ্য, পেশির টানজনিত সাধারণ পিঠের ব্যথার সাথে কখনোই কোনো ধরনের মূত্রনালীর লক্ষণ বা জ্বর থাকে না।

    কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

    ডা. ছাবড়া জানান, পিঠ বা পাশের ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবে ব্যথা বা ক্রমাগত বমি ভাব থাকে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এগুলো কিডনি ইনফেকশন বা কিডনিতে পাথরের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘তীব্র বা দিন দিন বাড়তে থাকা ব্যথা, প্রস্রাব করতে না পারা, বিভ্রান্তি, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, ডিহাইড্রেশনের লক্ষণসহ বমি হওয়া এবং পিঠের ব্যথার সঙ্গে পায়ে দুর্বলতা বা কুঁচকি অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে কিংবা ব্লাডার বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারালে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।’ 

    পিঠের ব্যথা এবং কিডনির ব্যথা কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

    একজন চিকিৎসক আপনার লক্ষণগুলো মূল্যায়ন করবেন, সমস্যার জায়গাটি পরীক্ষা করবেন এবং সম্ভাব্য কারণের ওপর ভিত্তি করে ইউরিন টেস্ট, রক্ত পরীক্ষা কিংবা আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যানের মতো ইমেজিং পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।

    ডা. ছাবড়া সতর্ক করে বলেছেন, নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না, কারণ কিছু কিছু ওষুধ কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। 

  • ক’মলালে’বুর বি’চি গি’লে ফেললে কি ক্ষ’তি হয়, যা জানা জ’রুরি

    ক’মলালে’বুর বি’চি গি’লে ফেললে কি ক্ষ’তি হয়, যা জানা জ’রুরি

    কমলালেবু খেতে ভালোবাসেন। মিষ্টি ও রসালো এই ফল খাওয়ার সময় কখনো কখনো অসাবধানতাবশত দু-একটি বিচি মুখের সঙ্গে পেটে চলে যায়। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে কি শরীরের কোনো ক্ষতি হতে পারে? পেটে কি সত্যিই গাছ জন্মায়? নাকি এ নিয়ে দুশ্চিন্তার আসলে কোনো কারণ নেই?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলালেবু খাওয়ার সময় ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। বিচি আস্ত অবস্থায় গিলে ফেললে তা সাধারণত হজম না হয়েই পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যায়। তবে বেশি পরিমাণে বিচি চিবিয়ে খেলে পেটে অস্বস্তি হলেও হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রচলিত ধারণা ও বাস্তব তথ্যের পার্থক্য জানা দরকার। চলুন জেনে নিই।

    কমলালেবুর বিচি পেটে গেলে কি তা হজম হয়

    কমলালেবুর বিচির বাইরের আবরণ শক্ত। তাই বিচি আস্ত অবস্থায় গিলে ফেললে পাকস্থলীর অ্যাসিড ও হজমকারী এনজাইম সাধারণত এর আবরণ পুরোপুরি ভাঙতে পারে না। ফলে বিচিটি পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়ে মলের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

    এ কারণে ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত বিশেষ কোনো চিকিৎসার দরকার হয় না। তবে শরীর থেকে বের হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা ব্যক্তিভেদে এবং পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক গতির ওপর নির্ভর করে।

    কমলালেবুর বিচি কি বিষাক্ত?

    কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললেই বিষক্রিয়া হবে, এমন ধারণার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। অল্প কয়েকটি বিচি ভুল করে গিলে ফেললে সাধারণত ক্ষতির আশঙ্কা খুবই কম।

    তবে বিচি চিবিয়ে বা গুঁড়ো করে বেশি পরিমাণে খাওয়ার বিষয়টি আলাদা। কিছু ফলের বিচিতে এমন যৌগ থাকতে পারে, যা ভাঙার পর অল্প পরিমাণে সায়ানাইড তৈরি করে। কমলালেবুর বিচি নিয়েও এ ধরনের যৌগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কতটা বিচি খেলে ক্ষতি হবে, তার নির্দিষ্ট নিরাপদ বা বিপজ্জনক সীমা প্রতিষ্ঠিত না এখনো।

    তাই কমলালেবুর বিচি ইচ্ছা করে বেশি পরিমাণে চিবিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অল্প কয়েকটি বিচি ভুল করে গিলে ফেললে আতঙ্কিত হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

    পেটে কমলালেবুর বিচি গেলে কি গাছ জন্মায়?

    ছোটবেলায় অনেকেই শুনেছেন, ফলের বিচি গিলে ফেললে পেটের ভেতর গাছ জন্মায়। বাস্তবে এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।

    যে কোনো বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, আর্দ্রতা, অক্সিজেন এবং অন্যান্য অনুকূল পরিস্থিতি প্রয়োজন হয়। পাকস্থলীর পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হয়ে গাছে পরিণত হওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই। পাকস্থলীর অ্যাসিডও বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমের অনুকূল না।

    তাই ভুল করে কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে পেটের ভেতর গাছ জন্মানোর আক্ষরিক কোনো ভয় নেই।

    বেশি বিচি খেলে কি পেটে ব্যথা হতে পারে?

    একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত তেমন সমস্যা হয় না। তবে অনেকগুলো বিচি একসঙ্গে চিবিয়ে বা গিলে ফেললে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব অথবা পেট মোচড়ানোর মতো সমস্যা হতে পারে।

    এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কতটা বিচি খাওয়া হয়েছে এবং উপসর্গ কতটা তীব্র, তা খেয়াল করা জরুরি। বেশি পরিমাণে বিচি খাওয়ার পর পেটব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা বা অন্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    শিশুদের ক্ষেত্রে কী আলাদা সতর্কতা প্রয়োজন?

    ছোট শিশুদের ফল খাওয়ানোর সময় বিচি সরিয়ে দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ শক্ত ও ছোট বিচি গেলার সময় শ্বাসনালিতে চলে গেলে দম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কোনো শিশু বিচি গেলার পর হঠাৎ কাশতে শুরু করলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে অথবা কথা বলতে না পারলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি বড়দের মতো বিচির বিষাক্ততা না, বরং শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি।

    কমলালেবুর বিচি গিলে ফেললে কী করবেন?

    ভুল করে একটি বা দুটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত বিশেষ কিছু করার প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে খাবার ও পানি গ্রহণ করতে পারেন। বিচি বের করে দেওয়ার জন্য জোর করে বমি করানোর চেষ্টাও করার দরকার নেই।

    তবে অনেকগুলো বিচি চিবিয়ে খেয়ে ফেললে এবং তার পরে বমি, পেটব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

    কমলালেবু খাওয়ার সময় ভুল করে দু-একটি বিচি গিলে ফেললে সাধারণত ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিচি পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যায়। পেটের ভেতর গাছ জন্মানোর ধারণাটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে বিচি বেশি পরিমাণে চিবিয়ে খাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং ছোট শিশুদের ফল খাওয়ানোর সময় সতর্ক থাকুন। কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    সূত্র: ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিভি ৯ বাংলাতে ‘খেয়ে তো আমরা ফেলি কিন্তু কমলালেবুর বীজ পেটে চলে গেলে কী হয় জানেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত আর্টিকেলের সম্পাদনা করেছেন সারিকা সাইয়ারা।