লিটন ও মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

সকালের দিকে পিচের মুভমেন্টে খাবি খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আউট হতে হতে কয়েকবার বেঁচে গিয়ে অবশেষে খুররম শাহজাদের ইনসুইংয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরলেন টাইগার দলপতি। সমর্থকদের মন হয়ত তখন কু ডাক শুনতে পারছিল। কিন্তু সব শঙ্কা দূর হয়েছে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংইয়ে। শুরুতে লিটন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে পাওয়া লাইফ কাজে লাগিয়েছেন চমৎকার ব্যাটিংয়ে, দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন সিনিয়র মুশফিকও। তাতে বিপদমুক্ত থেকে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৮ মে) সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ২৪৯ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। 

মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৩ ওভারে ২০৩ রান। ৮৮ রানের জুটি গড়ে ক্রিজে আছেন মুশফিক ও লিটন। পাঁচে নামা মুশফিক ৮০ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান এবং লিটন ৬৬ বলে ৩ চারে ৪৮ রানে ব্যাট করছেন। 

আগের দিন ৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। খুররমের করা দিনের শেষ বলে আউট হয়েছিলেন মুমিনুল হক। তৃতীয় দিন সকালে শান্তকেও ভুগিয়েছেন এই পেসার।

আগের দিনের সঙ্গে আজ মাত্র ২ রান যোগ করেই বিদায় নেন শান্ত (১৫)। খুররমের ভেতরের দিকে ঢোকা বল ব্যাট মিস করে শান্তর প্যাডে লাগলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেন। শান্ত রিভিউ নিলে বাঁচতে পারেননি।

শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসা লিটন শুরুতেই স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা স্লিপে থাকা ফিল্ডার পর্যন্ত ক্যারি না করায় বেঁচে যান। বাকি সময়টা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই ব্যাটিং করেছেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান।

মুশফিকও খেলেছেন ধৈর্যের সঙ্গে। বলতে গেলে প্রতিপক্ষকে সুযোগই দেননি। তবে লাঞ্চ ব্রেকের ঠিক আগে মুশফিকের জন্যই রানআউট হতে পারতেন লিটন। একটি সিঙ্গেল নেয়ার জন্য নন স্ট্রাইক এন্ডে দৌড় শুরু করলে মুশফিক তাতে সাড়া দিয়ে দৌড় শুরু করেন, কিন্তু হঠাৎ স্লিপ খেয়ে পড়লে লিটন ক্রিজে ফেরার পথ ধরেন। কিন্তু ফিল্ডার ডিরেক্ট থ্রো স্টাম্পে লাগাতে না পারায় তিনি বেঁচে যান। 

এর আগে গতকাল পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হলে ৪৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই তানজিদ তামিমের উইকেট হারালেও মাহমুদুল হাসান জয়ের অর্ধশতকে চালকের আসনে বসে যায় টাইগাররা। জয় ৬৪ বলে ১০ চারে ৫২ রান করে আউট হন। এছাড়া মুমিনুল করেন ৩০ রান। 

পাকিস্তানের পক্ষে শাহজাদ ৩টি এবং আব্বাস বাকি উইকেটটি শিকার করেছেন। 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *