আইপিএলে মাত্র একবারই দল পেয়েছিলেন লিটন দাস। অনেক কাটখড় পুড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (এনওসি) নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেয়ার পর মাত্র একটি ম্যাচই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দলপতি। সে ম্যাচেও অবশ্য আলো ছড়াতে ব্যর্থ হন লিটন। তাতে মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার মতো এক ম্যাচেই থমকে গেছে এই বাংলাদেশি তারকার আইপিএল ক্যারিয়ার।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে তার সংক্ষিপ্ত আইপিএল ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার তীব্র সমালোচনা করেছেন। লিটনের অভিযোগ, দলটির ভেতরে যোগাযোগের ঘাটতি ছিল এবং তাকে যথাযথভাবে সমর্থনও দেওয়া হয়নি। এমনকি ম্যাচে খেলানো হবে–এ বিষয়টিও নাকি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে লিটনকে জানানো হয়েছিল।
‘চার ছক্কা’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে লিটন তার সংক্ষিপ্ত আইপিএল ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, সত্যিকার অর্থে নিজেকে কখনোই কলকাতার দলের অংশ হিসেবে অনুভব করেননি।
লিটন বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স আমাকে আসলে খুব একটা প্রয়োজনও মনে করেনি। আমি যেমনটা আশা করেছিলাম, দলটা তেমনভাবে সাপোর্ট করেনি।’
তিনি আরও জানান, তাকে একাদশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগাম কোনোভাবে জানানো হয়নি, যা তাকে শেষ মুহূর্তে প্রস্তুত হতে বাধ্য করে।
লিটন বলেন, ‘সাধারণত একজন খেলোয়াড়কে আগে থেকেই বলা হয় যে সে পরের ম্যাচে খেলবে। আমি দুইটা ম্যাচ বেঞ্চে ছিলাম, কিন্তু আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’
তিনি যোগ করেন, ‘হঠাৎ করে রাত ১১টার দিকে আমাকে মেসেজ করা হলো, “তুমি খেলবে”। আমি যতটুকু শক্তি ছিল তা দিয়েই চেষ্টা করেছি। ক্রিকেটে কখনো দিন ভালো যায়, কখনো যায় না, সেদিনটা আমার ছিল না।’
কলকাতা লিটনকে দলে নিয়েছিল তার বেস প্রাইস ৫০ লাখ রুপিতে। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই বাংলাদেশিকে স্কোয়াডে নিয়েছিল তারা। কিন্তু লিটনের আইপিএল যাত্রা শেষ হয় মাত্র একটি ম্যাচেই।
তার একমাত্র ম্যাচটি ছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে, যেখানে তিনি ওপেন করতে নেমে মাত্র ৪ বলে ৪ রান করেন। উইকেটকিপিংয়েও কঠিন সময় কাটাতে হয় তাকে, দুইটি স্টাম্পিং মিস করেন, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলে। কলকাতা সেই ম্যাচ হেরে যায়।
এরপর তাকে আর একাদশে রাখা হয়নি এবং কিছুদিন পর ব্যক্তিগত কারণে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কলকাতা সেই মৌসুস শেষ করে টেবিলের ৭ নম্বরে থেকে।
পরবর্তীতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বড় পরিবর্তনের পথে যায়, যেখানে গৌতম গম্ভীর মেন্টর হিসেবে ফিরে আসেন এবং দলটি পরের মৌসুমে তাদের তৃতীয় আইপিএল শিরোপা জেতে। তবে লিটন ততদিনে দল থেকে বাদ পড়েন এবং পরবর্তী নিলামে অবিক্রীত থাকেন।
আইপিএলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব সবসময়ই সীমিত। ২০২৬ মৌসুমের আগে নিলামে কেবলমাত্র মোস্তাফিজুর রহমান দল পান। কলকাতা তাকে ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নেয়। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তার অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট বর্জন করে।

Leave a Reply