Category: Uncategorized

  • সেহরির আগে স্ব’প্নদো’ষ হলে যা করবেন, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সেহরির আগে স্ব’প্নদো’ষ হলে যা করবেন, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সেহরি মানে শেষ রাতের খাবার। সেহরি শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয়, সেটাকে ইসলামের পরিভাষায় সাহরি বলে।

    রোজা রাখার নিয়তে সাহরি খাওয়া সুন্নত। সাহরি অত্যন্ত বরকতময় খাবার। সাহরি খাওয়ার অনেক ফজিলত হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত আছে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৯২৩)

    রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আহলে কিতাব তথা ইহুদি-খ্রিস্টান আর মুসলমানদের রোজার মধ্যে শুধু সাহরি খাওয়াই পার্থক্য। অর্থাৎ তারা সাহরি খায় না আর আমরা সাহরি খাই।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৪৩; তিরমিজি, হাদিস : ৬৪২)

    মানুষজন সাধারণত শেষ রাতে সুবহে সাদিকের আগ মুহুর্তে সেহরি খেয়ে থাকেন। রাসুল (সা.) নিজেও সবসময় শেষ সময়ে সাহরি খেতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। সেহরি খাওয়ার আগ মুহুর্তে ঘুম থেকে উঠার পূর্বে স্বপ্নদোষ হলে করণীয় বিষয়ে অনেকে জানতে চান। যেমন একজন প্রশ্ন করেছেন-

    ‘রাতে স্বপ্নদোষ হলে গোসল না করে সাহরি খাওয়া যাবে কি? বিঃদ্র- গ্রামে থাকি গোসল করতে নদীতে যেতে হয়। একটু কষ্টটকর! লজ্জাও পাই!’

    এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদেরা বলেন, স্বপ্নদোষ হলে গোসল ফরজ হয়। আর গোসল ফরজ অবস্থায় নামাজ, তাওয়াফ, কোরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে প্রবেশ করা ছাড়া অন্যান্য সবধরণের কাজ করা যায়। -(বুখারী ২৭৯) সুতরাং সেহরিও খাওয়া যাবে।

    আলেমরা বলেন, তবে মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও কোনও কারণ ছাড়া অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। (বাদায়ে ১/১৫১)

    নওফেল বিন মুআবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার নামাজ কাজা হয়ে গেল, যেন তার পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল। (মুসনাদে আহমাদ ২৩৬৪২) সুতরাং ফজর নামাজের আগেই গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে।

  • ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তারিখ ঘোষণা

    ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তারিখ ঘোষণা

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। গতকাল সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    এক বার্তায় প্রেস উইং জানায়, প্রাথমিকভাবে ১৩টি জেলায় একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

    বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি ওয়াদা ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।

    সরকার গঠনের পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    ঈদের আগেই হতদরিদ্রদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে সরকার। এ-সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করেছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।

    তার নেতৃত্বে এই কমিটিতে ১৪ জন সদস্য রয়েছেন।

    কমিটির সদস্যরা হলেন— সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, অর্থ সচিব, তথ্য সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ সচিব।

    সূত্র : নিউজ টুয়েন্টিফোর

  • রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কালের কণ্ঠে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সবারই কথা বলার অধিকার আছে। যে যার মতো করে কথা বলবে, যারা জবাব দেওয়ার দেবে।’

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    এর আগে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারে বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে করা মন্তব্যের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

    সম্প্রতি ‘চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি তার ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দুঃসময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার পাশে ছিল বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে যথাযথ সহযোগিতা পাননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রীকে জানান সাংবাদিকরা।

    রাষ্ট্রপতির এ মন্তব্যের বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়ায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছে, যেখানে তিনি অনেক প্রসঙ্গ টেনেছেন। বিএনপি প্রসঙ্গ এবং তাকে সহযোগিতা না করার বিষয়েও তিনি কথা বলেন।’

    জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এ মুহূর্তে সাক্ষাৎকারটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। বিষয়টি আমরা যেভাবে দেখা দরকার, সেভাবে দেখিনি।

    দেখার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারব।’

  • আর এস ফাহিম প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আর এস ফাহিম প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম দেশে ফিরতেই জোরালো হয়েছে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি। এ বিষয়ে এবার মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

    আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ফাহিম বিদেশে পলাতক ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই অভ্যুত্থানের আসামিরা প্রকাশ্যে হচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে আপনাদের অবস্থান কী? 

    এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এরকম নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা নিয়ে আমি ভালো করে ব্রিফড হয়নি যে আমি এটার জবাব দেবো।

    তিনি আরও বলেন, এটা আমাকে লিখিত জানালে তদন্ত করে ডিপার্টমেন্টকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে পারবো। এটা আমার নজরে নাই। 

    উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত আর এস ফাহিম চৌধুরীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে ‘মঞ্চ-২৪’ নামের একটি সংগঠন। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আর এস ফাহিম চৌধুরী আওয়ামী লীগকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর আঘাত হানার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম। স্বাভাবিক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। দিনে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে তা স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকরে ঘুম হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হয় না— এমন মানুষের সংখ্যাও দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘুমের সমস্যা দূর করতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে পারে।

    এদিকে, ভিটামিনের অভাব ঘুম কম হওয়ার একটি বড় কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

    ভিটামিন ডি
    ভিটামিন ডি হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘুমে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অ্যানিমিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়।

    সূর্যালোক ছাড়াও আপনি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ ও ফলের রস থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

    আরও পড়ুন

    শুয়ে-বসে থাকতে ইচ্ছে হয় যে দুই ভিটামিনের অভাবে

    ০৯ এপ্রিল, ২০২৫

     

     

    ভিটামিন ই
    এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কোষের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন-ই ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

    কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি এবং টমেটো থেকে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।

    ভিটামিন সি
    ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে এবং ভালো ঘুম আনে। পালং শাক, ফুলকপি, সাইট্রাস ফল যেমন— কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির ভালো উৎস।

    ভিটামিন বি-৬
    এ ভিটামিন অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

    কলা, গাজর, পালং শাক, আলু, ডিম, চিজ, মাছ এবং গোটা শস্যদানায় প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

     

     

    ভিটামিন বি-১২
    এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রাণিজ প্রোটিন এবং দুধজাতীয় খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।

  • ৪ তথ্য দিলেই মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কারা পাবেন— কারা পাবেন না

    ৪ তথ্য দিলেই মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কারা পাবেন— কারা পাবেন না

    ‘ফ্যামিলি কার্ড’— ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল এই‘ফ্যামিলি কার্ড’। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। এবার তাদের সামনে প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। সে মোতাবেক এগোচ্ছেও সরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বেশকিছু অঞ্চলে প্রান্তিক মানুষের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দিতে জোরে সোরে কাজ চলছে।

    প্রাথমিক প্রস্তাব মোতাবেক, ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দিলে এক অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন কৌশল ঠিক করতে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

    সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থবছর হিসাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭২ কোটি টাকা (ক্যাশ-আউট চার্জসহ)। তবে বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বৈততা পরিহারের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে। এ হিসাবে অর্থের প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। 

    বর্তমানে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডে প্রায় ৬৫ লাখ পরিবার ভর্তুকিমূল্যে পণ্য পাচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্পের তথ্য একীভূত করে নতুন কার্ডে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

    কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুপারিশ আসতে হবে।

    গ্রামীণ সবচেয়ে হতদরিদ্র পরিবার, নিম্নআয়ের মানুষ, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট পরিবার, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা বা অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫–১৮ বছর বয়সি অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবার এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। 

    একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বিদ্যমান কিছু কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা একযোগে সুবিধা পাবেন না—এমন বিধিনিষেধও থাকবে।

    পাশাপাশি যেসব পরিবারের ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন পরিবার বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে, কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই—তারাও থাকবেন ভূমিহীন পরিবারের আওতায়।

    কারা পাবেন না

    একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি তালিকাভুক্ত এমন উপকারভোগী, যাদের তথ্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদেরও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে রাখা হতে পারে।

    ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে নগদ সহায়তা

    ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ (Cash Support) দেওয়া হবে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে দেশের হতদরিদ্র (Extremely Poor) জনগোষ্ঠী এবং নারীদের (Women) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    আবেদন করতে যা লাগবে

    অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলটিং করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এ চারটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্ভব। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’–এ এরই মধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে এনআইডি, মোবাইল ফোন বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে। 

    এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।

    অর্থের সংস্থান কীভাবে

    ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে মোট ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে।

    প্রাথমিক প্রস্তাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর পরবর্তী চারদিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব।

  • ফ্যামিলি কার্ড পেতে আবেদন করবেন যেভাবে

    ফ্যামিলি কার্ড পেতে আবেদন করবেন যেভাবে

    দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে স্বস্তি দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে দ্রুতই। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেয়া হবে।

    সহায়তার এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। এরইমধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

     

    জানা যায়, একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীকালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

     

    যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবুও সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ৩টি কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর।

     

    পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

  • ফিতরা কী, কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন বিস্তারিত

    ফিতরা কী, কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন বিস্তারিত

    সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

    ফিতরা দেওয়া কী এবং কেন দিতে হয়?

    রোজার জরুরি মাসায়েলে

    প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯)

    কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব

    যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

    হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯)

    মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

    নেসাবের ওপর বছরপূর্তি কি জরুরি?

    সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।

    মাসআলা : কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯)

    মাসআলা : ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৫)

    যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

    সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

    মাসআলা : পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ : পৃ. ৩৯৫)

    মাসআলা : মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

    মাসআলা : সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

    মাসআলা : বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

    নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১০৪৫৫)

    বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। (আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

    মাসআলা : নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সাদাকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৩/৬৩, সহিহ বোখারি : ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক : ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৪, হেদায়া : ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৩)

    সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ

    হাদিসে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা : ১. যব, ২. খেজুর, ৩. পনির, ৪. কিশমিশ ৫. গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে। কেজির হিসাবে যা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা সা‘ দিতে হবে। কেজির হিসাবে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম। এটা ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ। আর মূল্যের পার্থক্য তো আছেই।

    উল্লেখ্য, হাদিসে এ পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যে কোনোটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে উত্তম হলো, যার উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য আছে, তার জন্য ওই হিসাবেই দেওয়া। যার সাধ্য পনির হিসাবে দেওয়ার, তিনি তাই দেবেন। এরচেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারেন। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তিনি আদায় করবেন গম দ্বারা।

    কোরআনের নির্দেশনা, অবশ্য কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে (এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরো বাড়িয়ে দেয়), তবে তার পক্ষে তা শ্রেয়। (সুরা বাকারা : ১৮৪)

    কোনো ব্যক্তি হাদিসে বর্ণিত যেকোনো খাদ্যদ্রব্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করলে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যাবে।

    সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি

    হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে। কুররা (রাহ.) বলেন, আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহ.)-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭০)

    বিশিষ্ট তাবেয়ি আবু ইসহাক (রাহ.) বলেন, আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়িগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। (সহিহ বোখারি : ১/১৯৪, উমদাতুল কারী : ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৪৭২, কিতাবুল আছল : ২/১৮০, ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৫)

    মাসআলা : চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস ১০৪৭২; কিতাবুল আছল : ২/১৮০; আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১১৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/২৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫৫)

    মাসআলা : একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৭)

    প্রবাসে অবস্থানরতরা যেভাবে ফিতরা আদায় করবেন

    বিদেশে অবস্থানরত কারো পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ওই দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

    মাসআলা : অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া : ৬/২৮৯)

    সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়

    সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

    অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

    আর নাফে‘ (রাহ.) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ৩১৬)

    সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর রমজানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। (আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৭, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৭)

    উল্লেখ্য, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

    সাদাকাতুল ফিতর যাদেরকে দেওয়া যাবে

    জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

    আত্মীয়স্বজনকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া

    নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। (কিতাবুল আছল : ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬২, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

    অমুসলিমকে সদকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে?

    সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েজ এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৫১২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬১, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৯)

    মাসিক আল কাউসার অবলম্বনে

  • স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    স্পিকার পদে আলোচনায় তিনজন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রবীণ তিনজন নেতার নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদে তিনজন এবং সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে। এরপর থেকেই আলোচনা উঠেছে- কে হচ্ছেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও চিপ হুইপ। জানা গেছে, এ নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের শেষ নেই।

    তবে এই পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ক্লিন ইমেজের নেতা হিসাবে তাকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নরসিংদী-২ আসন থেকে তিনি মোট পাঁচবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরে আলোচনায় রয়েছে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নাম। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন এবার বরিশাল-৩ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া আলোচনায় রয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের নামও। জানা গেছে, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করার সম্ভাবনাই বেশি।

    এদিকে, ডেপুটি স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম। তবে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কাকে তারেক রহমান বেছে নেবেন তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তিনজনই দলের ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয়। মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায়ও তারা এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় তাদের জায়গা হয়নি। ক্লিন ইমেজের অধিকারী আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং আন্দালিব রহমান পার্থর নাম না থাকায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এছাড়া সংসদের সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ-সদস্য বরকত উল্লাহ বুলুর নাম শোনা যাচ্ছে।

    বিএনপি সূত্র বলছে, দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনায় স্পিকার পদে ড. আবদুল মঈন খানের নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে জনমনে। মঈন খানের বাবা ড. আবদুল মোমেন খান জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে তার।

    অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংবিধানিক ও নির্বাচনি আইন বিষয়ে দক্ষতা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকার কারণেও স্পিকার পদের আলোচনা তাকে এগিয়ে রাখছে। তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    এদিকে, স্পিকার পদে জন্য কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. এম ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় এসেছে। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থায় কর্মকর্তা ও পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।

    এদিকে, জয়নুল আবদিন ফারুক ৬ বারের সংসদ-সদস্য। নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ছিলেন তিনি। ফলে এবার সরকারদলীয় সম্ভাব্য চিফ হুইপ হিসাবে তার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বরকত উল্লাহ বুলু ৫ বারের সংসদ সদস্য। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তিনি বাণিজ্য উপদেষ্টা ছিলেন। এবারও মন্ত্রী হওয়ার আলোচনা ছিলেন বুলু। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না হওয়ায় এখন তার নামও চিফ হুইপ পদে আলোচনায় আছে।

  • বি’ষফোড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    বি’ষফোড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    ত্বকের অন্যতম বেদনাদায়ক এক অনুভূতির নাম ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া। ত্বকে এক বা একাধিক ফোঁড়া দেখা দিলে সে স্থান ও এর আশপাশের জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু কেন এমন হয় জানেন?

    চিকিৎসাশাস্ত্রে ফোঁড়া দুধরনের। একটি সাধারণ ফোঁড়া অন্যটি বিষফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত স্টাফালোলোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত স্থানেই ফোঁড়ার উপস্থিতি দেখা দেয়।

     

    ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া

     

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোঁড়া ত্বকের এক কিংবা একাধিক রোমকূপকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। ত্বকে একধরনের ব্যাকটেরিয়া (স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিউস) জন্ম নিলে ফোঁড়ার সমস্যা তৈরি হয়।

     

    এ ব্যাকটেরিয়া ত্বকের রোমকূপের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ত্বকের ভেতরে তৈরি করে ইনফেকশন। এতে শরীরে মৃত কোষ ও ইনফেকশন কোষ মিশে পুঁজ তৈরি হয়ে ‘সোয়েলিং’ শুরু হয়।

     

    একসময় ভেতরের সেই পুঁজ ত্বকের ওপরে উঠে আসে। আর তখনই আমরা ত্বকের ওপরে ফোঁড়ার অস্তিত্ব টের পাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের ওপরে একটি ফোঁড়ার অস্তিত্ব মানেই ত্বকের ভেতরে একাধিক ফোঁড়ার অস্তিত্ব রয়েছে।

     

    ফোঁড়া কেন হয়?

     

    একটি ফোঁড়ার ছোট ছোট মুখ থাকে। সাধারণত কোমর, ঘাড়ে, পিঠে ও কনুইতে বেশি হতে দেখা যায়। তবে ঘাম বেশি হয় এমন স্থানেও ফোঁড়া বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং ফোঁড়া রয়েছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও ত্বকে বাসা বাঁধতে পারে ছোট আকারের এ বিষফোঁড়া।

     

    চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েক দিনের যন্ত্রণার পর ফোঁড়া নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে নিজে থেকে ভালো না হলে ফোঁড়ার এ সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

     

    তাই ত্বকে ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল যা-ই হোক না কেন, সব সময়ই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শেরও। আসুন জেনে নিই, ত্বকে কখন ফোঁড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে তার কারণ।

     

     

    ফোঁড়া কাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

     

    মূলত, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, ফোঁড়া তাদেরই বেশি হয়ে থাকে। আবার কোনো সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের দীর্ঘ বা জটিল রোগভোগের পর কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলেও ফোঁড়া হওয়ার শঙ্কা থাকে।

     

    উপসর্গ

     

    ব্যাকটেরিয়া ত্বকের কোনো অংশে ইনফেকশন তৈরি করেছে বা করছে, তা আপনি ত্বকের ওপর থেকে প্রথমে বুঝতে পারবেন না। তাই খেয়াল রাখতে হবে বিশেষ একটি দিক।

     

    বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শরীরে কোনো নির্দিষ্ট অংশের ত্বকের উপরিভাগ কিছুটা শক্ত হয়ে যায় এবং জায়গাটি টিপলে ব্যথা লাগে। এমন অনুভব হলে ওই জায়গাতেই ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

    করণীয়

     

    ফোঁড়ার সমস্যা বেশ কষ্টকর। এ সমস্যা টানা কয়েক দিন আপনাকে ভোগাবে। ফোঁড়ার আকার বড় হলে জ্বরও আসতে পারে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মেনে চলুন বিশেষ কয়েকটি টিপস–

     

    ১। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখার চেষ্টা করুন।

    ২। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখতে না পারলে পাতলা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

    ৩। ত্বকের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ফোঁড়া যেন ছড়িয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

    ৪। পুষ্টিকর সুষম খাদ্য ও তিতা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাইরের তেল চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

     

    ৫। অনেকের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি খোঁটাখুঁটির অভ্যেস রয়েছে। এটা একেবারেই করা যাবে না। কেননা, এতে ব্যাকটেরিয়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত করতে পারে।

    ৬। অনেকে জোর করে ফোড়ার পুঁজ বের করার চেষ্টা করেন। এটি করবেন না। কেননা, এতে ত্বকে গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে।

    ৭। ফোঁড়া দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে এন্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

    ৮। ত্বকের সুস্থতায় এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

     

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ফোঁড়া রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস এবং শরীরের ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’-এর ক্ষতি করতে পারে। তাই কয়েক দিনের মধ্যে যদি ফোঁড়া না সারে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।