Category: Uncategorized

  • এবার ৫ দেশি মাছে মিলল মা’ই’ক্রোপ্লা’স্টিক, বেশি কইয়ে

    এবার ৫ দেশি মাছে মিলল মা’ই’ক্রোপ্লা’স্টিক, বেশি কইয়ে

    আড়িয়াল বিলের দেশীয় ছোট মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। পাঁচ প্রজাতির মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন গবেষণায়।

    এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন কই মাছে।  মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া বাকি প্রজাতিগুলো হলো বাটা মাছ, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি মাছ।

    গবেষকদের মতে, বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবস্বাস্থ্য, জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং খাদ্যনিরাপত্তার ওপর প্রভাব পড়বে।

    গবেষণার প্রধান গবেষক এবং বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান বলেন, গবেষণায় আড়িয়াল বিলের গাদীঘাট, বসুরোলা ডেঙ্গা, সাগর ডেঙ্গা, বড়াইখালী ও আলমপুর এই পাঁচটি স্থান থেকে ২০২৪ সালের বর্ষা, ২০২৪-২৫ সালের শীত এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে পানি, পলিমাটি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষাধীন মাছগুলো ছিল কই, বাটা, মেনি (ভেদা/নান্দিনা), গুলশা টেংরা ও পুঁটি।
     
    গবেষণায় দেখা যায়, সর্বভূক হওয়ায় কই মাছেই সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়েছে। বর্ষা, শীত ও শুষ্ক এই তিন মৌসুমেই কই মাছের মাংসপেশিতে গড়ে প্রায় একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্ত্রে গড়ে ১ দশমিক ৭০ থেকে ১ দশমিক ৯০ এবং ফুলকায় ১ দশমিক ৩০ থেকে ১ দশমিক ৪০টি কণা শনাক্ত হয়েছে।

    কইয়ের পর সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বাটা মাছে। এরপর রয়েছে মেনি ও গুলশা টেংরা। সবচেয়ে কম শনাক্ত হয়েছে পুঁটি মাছে। তৃণভোজী বাটা মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আর মাংসপেশিতে তিন ঋতুতেই প্রায় একই মাত্রায় (শূন্য দশমিক ৮০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০টি) প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

    নান্দিনা বা মেনি মাছের অন্ত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে মাংসপেশিতে এর মাত্রা ছিল শূন্য দশমিক ৬০ থেকে শূন্য দশমিক ৭০টির মধ্যে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে গুলশা টেংরাতেও। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩০টি কণা পাওয়া গেছে আর মাংসপেশিতে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৮০টি প্লাস্টিক কণা। অন্যদিকে ছোট আকারের সর্বভুক পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মাংসপেশিতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৫১টি কণা পাওয়া গেছে।

    গবেষণায় প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে ৩১ দশমিক ৬৭টি এবং প্রতি কেজি পলিমাটিতে ১২ দশমিক ৩৩ থেকে ১২৭ দশমিক ৩৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বর্ষাকালে পানিতে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল।

    ড. শাহজাহান বলেন, ফোরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটি-আইআর) স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া কণার ৩৪ থেকে ৬৩ শতাংশই ছিল মাইক্রোফাইবার। এসব কণার প্রধান উৎস হিসেবে কাপড় ধোয়ার সময় নির্গত কৃত্রিম তন্তু, গৃহস্থালির বর্জ্যপানি এবং মাছ ধরার প্লাস্টিক জাল। এ ছাড়া ভাঙা শক্ত প্লাস্টিক, পলিথিনের ফিল্ম ও ফোমজাতীয় কণাও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণে পলিইথিলিন (পিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিস্টাইরিন (পিএস), পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) এবং পলিকার্বোনেট (পিসি) শনাক্ত হয়েছে, যা প্লাস্টিক ব্যাগ, মোড়ক, বোতল, প্যাকেজিং সামগ্রী ও বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যে বহুল ব্যবহৃত।

    প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. শাহজাহান বলেন, আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন উৎস থেকেই প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ। মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন পরিবেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আড়িয়াল বিলের মাছের অন্ত্রের পাশাপাশি মাংসপেশিতেও এর উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এসব মাছ খেয়ে সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ নেই। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে এ ধরনের কণা জমতে থাকলে তার প্রভাব ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে। হয়তো পাঁচ বা দশ বছরে নয়, ২৫ থেকে ৩০ বছর পর কিংবা পরবর্তী প্রজন্মেও এর প্রভাব প্রকাশ পেতে পারে।

  • ঘুমের মধ্যে হ’ঠাৎ পা’য়ে টা’ন ধরছে, জেনে নিন ঘরোয়া স’মাধান

    ঘুমের মধ্যে হ’ঠাৎ পা’য়ে টা’ন ধরছে, জেনে নিন ঘরোয়া স’মাধান

    গভীর রাতে হঠাৎ পায়ের পেশিতে তীব্র টান ধরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। এ সময় কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক মিনিটের জন্য পা শক্ত হয়ে যায়, নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে বলা হয় ‘নকটারনাল লেগ ক্র্যাম্প’। এটি সাধারণত পায়ের কাফ মাসলে হলেও অনেক সময় উরু বা পায়ের পাতাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সব সময় কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবে ঘন ঘন এমন সমস্যা হলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন জীবনের কোনো না কোনো সময় রাতে পায়ের ক্র্যাম্পে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সমস্যার ঝুঁকিও বাড়ে।

    রাতে পায়ে ক্র্যাম্প ধরার অন্যতম কারণ শরীরে পানিশূন্যতা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম বা ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি। এছাড়া অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা, স্নায়ুর সমস্যা, ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে।

    রাতেই এ সমস্যা বেশি হওয়ার পেছনেও রয়েছে কয়েকটি কারণ। সারাদিনের পরিশ্রমে পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ঘুমের সময় শরীর ও স্নায়ুতন্ত্র শিথিল থাকায় কখনো কখনো পেশিতে অস্বাভাবিক সংকোচন দেখা দেয়। এ ছাড়া বিশ্রামের সময় রক্তসঞ্চালন তুলনামূলক কমে যাওয়ায় পেশিতে অক্সিজেনের সরবরাহও কিছুটা কমে, যা ক্র্যাম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বয়স বাড়লে পেশি ও হাড়কে সংযুক্ত রাখা টিস্যু শক্ত হয়ে যাওয়াও এ সমস্যার আরেকটি কারণ।

    তবে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের ক্র্যাম্প থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। 

    পেশিতে টান ধরলে ধীরে ধীরে স্ট্রেচিং করুন। পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখলে পেশি শিথিল হতে সাহায্য করে।

    এ ছাড়া গরম পানির সেঁক বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং পেশির টান কমে। আক্রান্ত স্থানে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলেও ব্যথা কমতে পারে।

    পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। অতিরিক্ত কফি ও মদ্যপান কমানোও উপকারী।

    বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দেন, রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং করলে ক্র্যাম্পের ঝুঁকি কমে। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করা, আরামদায়ক জুতা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়িয়ে চলাও এ সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।

    তবে যদি ঘন ঘন ক্র্যাম্প হয়, তীব্র ব্যথা দীর্ঘ সময় স্থায়ী থাকে, পা ফুলে যায় বা দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে এটি অন্য কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

  • কবে প্রকাশ হবে এসএসসির ফল, দেখবেন কীভাবে?

    কবে প্রকাশ হবে এসএসসির ফল, দেখবেন কীভাবে?

    এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে সোমবার (১০ আগস্ট)। পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ফল দেখা হবে।

    বুধবার (৫ আগস্ট) আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, সিম কোম্পানিগুলো থেকে এসএসসি ফল দেখার যে প্রক্রিয়াটা জানানো হচ্ছে তা সঠিক। এভাবেই স্বতন্ত্র ফল জানা যাবে। এছাড়া বোর্ডের ওয়েবসাইটে তো পাওয়া যাবেই, কমন ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। যে যে বোর্ডের রেজাল্ট সেই সেই বোর্ডের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    এসএমএসে যেভাবে জানবেন এসএসসির ফল: এসএসসি, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফল জানতে টাইপ করুন SSCBOARDROLLYEAR বা SSCMADROLLYEAR বা SSCTECROLLYEAR এবং পাঠিয়ে দিন ১৬১৪০ নম্বরে। প্রতিটি SMS-এর জন্য ১.৩৯ টাকা চার্জ প্রযোজ্য (সব ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত।

    এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮, মাদরাসা বোর্ডে (দাখিল) ৩ লাখ ৩ হাজার ২৮৬ এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। সূত্র: দৈনিক শিক্ষা

  • দাঁতের গ’র্ত কেন হয়, আর গ’র্ত হলে আপনি কী করবেন, জেনে নিন

    দাঁতের গ’র্ত কেন হয়, আর গ’র্ত হলে আপনি কী করবেন, জেনে নিন

    আমাদের অতি মূল্যবান সম্পদ দাঁত। বর্তমানে দাঁত ক্ষ’য় ও দাঁতে ছিদ্র হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত শিশু, টিনএজার ও বয়স্কদের এই সমস্যাটি বেশি হতে দেখা যায়। ব্যা’কটেরিয়ার সং’ক্রমণের ফলেই দাঁত ক্ষ’য় হয়ে থাকে।

    ঘন ঘন স্ন্যা’ক্স ও ড্রি’ঙ্কস খাওয়া, অনেকক্ষণ যাবত দাঁতের মধ্যে খাবার লেগে থাকা, ফ্লোরাইড এর অ’পর্যাপ্ততা, মুখ ড্রাই থাকা, মুখের স্বা’স্থ্যবিধি না মানা, পুষ্টির ঘাটতি এবং ক্ষু’ধামন্দার স’মস্যা থাকা ইত্যাদি কারণে দাঁতে গর্ত ও দাঁত ক্ষ’য় রো’গ হয়ে থাকে।

    দাঁতের মধ্যে নানা কারণে গ’র্ত হতে পারে। যেমন দ’ন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ, দাঁত ভেঙে গিয়ে কিংবা রুট ক্যানেল চিকিত্সার জন্যও গর্ত হয়ে যায় দাঁত। দাঁতের মধ্যে গর্ত বা ক্যা’ভিটি হলে তাতে ম’য়লা, খা’দ্যকণা ইত্যাদি জমে সং’ক্রমণ হয়। দাঁতে ব্য’থা করে ও শিরশির অনুভূতি শুরু হয়। শিশুদের এই গর্ত বা ক্যাভিটি হলে তারা ব্যথায় কষ্ট পায় ও কিছু খেতে গেলেই দাঁত শিরশির করে ওঠে।

    ডেন্টাল ক্যারিজ প্রাথমিক অবস্থায় খুবই ছোট কালো গর্তের মতো দেখায়। এই কালো গর্ত দাঁতে তৈরি হলেও ব্যথা অনুভূত হয় না। তাই শিশুরাতো বটেই, প্রাপ্তবয়স্করাও পারে না যে গ’র্ত তৈরি হচ্ছে। এই গর্তের মধ্যে জ’টিলতা তৈরি হওয়ার পরই কেবল ধরা পড়ে। এছাড়া দাঁত ভেঙে গেলে বেশির ভাগ ক্ষে’ত্রে রো’গী সেটা বুঝতে পারে।

    রুট ক্যানেল চি’কিতসায় রোগী যদি পরসেলিন ক্রাউন বা মুকুট পরে না নেয়, তাহলেও দাঁতে গর্ত বেড়ে যায়। পরে রুট ক্যানেল এবং ভেতরের জিনিসপত্র সব বেরিয়ে আসে।

    দাঁতে গর্ত হলে কী চিকিত্সা করবেন-দাঁতের গর্তের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্র দেরি না করে শূন্য জায়গাটা ভর্তি করে নেওয়া উচিত। কারণ, ডেন্টাল ক্যারিজ যদি ধীরে ধীরে ডেন্টিন থেকে আরও গভীরে অর্থাত্ পাল্প চেম্বার পর্যন্ত চলে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়। চি’কিত্সা ব্য’বস্থাও জ’টিল হয়ে পড়ে।

    ভা’ঙা দাঁতকে আজকাল ফি’লিং ম্যাটেরিয়াল বা লাইট কিউর দিয়ে সুন্দরভাবে পূরণ করা যায়, যা দেখতে অবিকল স্বা’ভাবিক রঙের হয়। রুট ক্যানেল চিকিত্সা করা দাঁতের ক্রাউন বা মুকুট বসাতে দেরি করা উচিত নয়।

    জেনে নিন ক্যাভিটি প্রতিরোধের ৫ উপায় সঠিক নিয়মে প্রতিদিন দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করা উচিত

  • রাতে ঘু’মানোর আগে লবঙ্গ খেলে যা ঘ’টবে আপনার শ’রীরে, জেনে নিন

    রাতে ঘু’মানোর আগে লবঙ্গ খেলে যা ঘ’টবে আপনার শ’রীরে, জেনে নিন

    যুগ যুগ ধরে আর্য়ুবেদিক চিকিৎসায় লবঙ্গের ব্যবহার হয়ে আসছে। দৈনন্দিন জীবনে লবঙ্গ রান্নার অনেক খানি জুড়ে আছে। লবঙ্গকে বলা যেতে পারে রান্নার প্রাণ। লবঙ্গ রান্নাকে সুগন্ধিতে ভরিয়ে দেয় আর সুস্বাদু করে তোলে।

    জনপ্রিয় মশলা লবঙ্গ হচ্ছে লবঙ্গ গাছের শুকিয়ে যাওয়া ফুল। আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে লবঙ্গ গাছের নানা অংশ যেমন শুকনো ফুল, ডাল এবং পাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। রান্নায় স্বাদ বাড়ানোর জন্য লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। সামান্য তরকারি হোক বা স্যুপ, বেকারি আইটেম হোক বা পায়েস, মাছ হোক বা মাংস— মশলাটির প্রয়োগে যে কোনও খাদ্যবস্তুর স্বাদহয়ে ওঠে স্বর্গীয়।

    চির সবুজ লবঙ্গ গাছের ইংরেজি নাম ক্লোভ এবং বৈজ্ঞানিক নাম সিজিজিওমোরোমেটাম। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে তৈরি করা হয়। লবঙ্গকে লং বলেও ডাকা হয়। লবঙ্গ গাছ ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বোটাসহ ফুলের কুঁড়ি শুকিয়ে গেলে লবঙ্গে পরিণত হয়। ফল ১ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়,এরা মাংসল,পাকার পরে শুকালে গাড়ো খয়েরী রঙ ধারণ করে।

    লবঙ্গের আদিবাস ইন্দোনেশিয়ার মালুকু দ্বীপে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে লবঙ্গ ব্যবহার করা হয়। মাদাগাস্কার এবং ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক ভাবে লবঙ্গ চাষ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় এর আদিবাস হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় প্রচুর পরিমাণে লবঙ্গ উৎপাদিত হয়।

    লবঙ্গের সুগন্ধের মূল কারণ ‘ইউজেনল’ নামের যৌগ। এটি লবঙ্গ থেকে প্রাপ্ত তেলের মূল উপাদান, এবং এই তেলের প্রায় ৭২-৯০% অংশ জুড়ে ইউজেনল বিদ্যমান। এই যৌগটির জীবাণুনাশক এবং বেদনা নাশক গুণ রয়েছে।

    লবঙ্গের তেলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অ্যাসিটাইল ইউজেনল, বেটা-ক্যারোফাইলিন, ভ্যানিলিন, ক্র্যাটেগলিকঅ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালোট্যানিক অ্যাসিড, মিথাইল স্যালিসাইলেট, ফ্ল্যাভানয়েড, ইউজেনিন, র‌্যাম্নেটিন, ইউজেনটিন, ট্রি-টেরপেনয়েড, ক্লিনোলিক অ্যাসিড, স্টিগ্মাস্টেরল, সেস্কুইটার্পিন।

    ১০০ গ্রাম লবঙ্গে ৬৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৩ গ্রাম টোটাললিপিড, ২ গ্রাম সুগার, ২৭৪ কিলো-ক্যালোরি শক্তি ও ৩৩ গ্রাম ডায়েটারিফাইবার থাকে।

    খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক –কমবেশি সবই আছে। আর ভিটামিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বি-৬, বি-১২, সি, এ, ই, ডি, কে, থায়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ফোলেট রয়েছে। এই সব যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য আছে।

    লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিকেলস ধ্বংস করতে পারে। ফলে হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারও প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই প্রতিদিন খালি পেটে লবঙ্গ চিবালে একাধিক অসুখের আশঙ্কা কমে যায়। বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চাইলে ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে লবঙ্গের জবাব নেই। মোটকথা একাধিক অসুখে লবঙ্গ আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকরী। জেনে নিন লবঙ্গের স্বাস্থ্য উপকারিতা-

    প্রত্যেক দিন ব্যক্তির রাতে ঘুমানোর আগে ১টি লবঙ্গ ও ১ গ্লাস গরম পানি পান করলে বিভিন্ন ধরনের রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সহজেই। লবঙ্গ হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন- গ্যাস, বমিভাব এবং বদহজমের মতো অনেক সমস্যায় লবঙ্গ খুব উপকারী। এছাড়াও লবঙ্গ প্রতিদিন খেলে গলায় সংক্রমণ হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। বুকের জমে থাকা কফ বের হয়ে যায়। হজম, পিত্তবিনাশকারী, হাঁপানি, জ্বর, বদহজম, কলেরা, মাথাব্যথা, হাঁচি এবং কাশির মতো রোগেও এটি বিশেষ উপকারী।

    লবঙ্গ কামোদ্দীপক ও যৌ’’ন রোগে উপকারি। লবঙ্গ কামোদ্দীপক। এর সুবাস অবসাদ দূর করে, শরীর ও মনের ক্লান্তি ঝরিয়ে দেয়। যৌ’’ন শক্তি বৃদ্ধি করে।

    লিভারে নতুন ও স্বাস্থ্যকর কোষ তৈরিতে সাহায্য করে লবঙ্গ। লিভার থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দিতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। আসলে লবঙ্গে রয়েছে থায়মল এবং ইউজেনল নামে সক্রিয় উপাদান যা লিভারকে করে তোলে শক্তিশালী।

    লবঙ্গের আর একটি উপাদান হল নাইজেরিসিন। বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই উপাদানের জন্যই রক্ত থেকে শর্করা বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া, ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়ানো ও ইনসুলিন নিঃসৃত হওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর মতো কাজ ভালো ভাবে হয়। তাই মধ্য মাত্রার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লবঙ্গ ভালো কাজে দেয়।

    লো-বোন মাস এমন একটি অবস্থা, যা বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কয়েকটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, লবঙ্গের উপাদান হাড়ের জোর ও বোন ডেনসিটি বাড়াতে সাহায্য করে।

    দাঁতের ব্যথা কমায়। লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা দূর করে। মাড়ির ক্ষয় নিরাময় করে। লবঙ্গতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু বিক্রিয়া করে যে নিমেষে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যায়। প্রায় সব টুথপেস্টের কমন উপকরণ এই লবঙ্গ।

    বমি বমি ভাব দূর করে লবঙ্গ। ট্রেনে বা বাসে যাওয়ার সময় যদি মাথা ঘুরতে থাকে ও বমি এসে যায়, তাহলে মুখে একটি লবঙ্গ রেখে সেই রস চুষলে বমি ভাব ও মাথা ঘোরা কমে যাবে। গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমিবমি ভাব দূর করতে লবঙ্গ চুষতে পারেন। লবঙ্গের সুগণ্ধ বমিবমি ভাবদূর করে।

    লবঙ্গ সর্দি–কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা কমায়। সর্দিকাশির মহৌষধ হিসেবে লবঙ্গ বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবঙ্গ চিবিয়ে রস গিলে খেলে বা লবঙ্গ মুখে রেখে চুষলে সর্দি, কফ, ঠাণ্ডা লাগা, অ্যাজমা, গলাফুলে ওঠা, রক্ত পিত্ত আর শ্বাস কষ্টে সুফল পাওয়া যায়।

    ধোঁয়া, রোদ এবং ঠান্ডার জন্য শ্লেষ্মা বেড়ে নানা ধরনের মাথা ব্যথা বা মাথার রোগ দেখা দিতে পারে। মাথা ব্যথা কমাতে লবঙ্গের উপকারিতা অপরিসীম।

    প্রচণ্ড স্ট্রেস ও উৎকণ্ঠা কমায়। এক টুকরো লবঙ্গ মুখে ফেলে চুষে চুষে খেয়ে ফেলুন। পান করতে পারেন লবঙ্গের চাও। মেজাজ ফুরফুরে হয়ে উঠবে।

    রক্ত পরিশোধন করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। লবঙ্গ শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো সরিয়ে রক্তকে পরিশোধন করতে ভূমিকা রাখে। রক্তকে পরিস্কার করে।

    লবঙ্গ হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হজমে সহায়তা করে এমন এনজাইমনিঃসরণের মাধ্যমে এবং অ্যাসিড ক্ষরণের মাধ্যমে লবঙ্গ আমাদের হজম ক্ষমতা সক্রিয় করে তোলে। এরাফ্লাটুলেন্স, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ডিসপেপসিয়া এবং নসিয়া কমাতে সাহায্য করে। এটি শরীরের রক্ত প্রবাহেরও উন্নতি ঘটায়।

    আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণা কমায়। লবঙ্গে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, জয়েন্টপেইন কমানোর পাশাপাশি পেশির ব্যথা, হাঁটুতে, পিঠে বা হাড়ের ব্যথা এবং ফোলা ভাব কমাতেও এই ঘরোয়া ঔষধটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

    ক্যানসার প্রতিরোধ করে লবঙ্গ। বিশেষ করে ব্রেস্ট ক্যানসার, ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধ করে থাকে।

    ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় প্রাকৃতিক দাওয়াই হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে লবঙ্গ। বিশেষ করে ব্রণ, ফুসকুড়ি, ত্বকের লাবণ্য চলে যাওয়া এমনকি মাথার খুসকিও দূর করে লবঙ্গ। এছাড়াও ত্বকের বিভিন্ন দাগ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন লবঙ্গ। যে কোনও দাগ ভ্যানিশ। মুখে তেল ছিটকে ফোসকা পড়েছে? মশার কামড়ে লাল হয়ে গেছে? লবঙ্গ তেলেই লুকিয়ে সমাধান। লবঙ্গ তেল যে কোনও দাগ সহজেই তুলে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিন টোন ভালো হয়। দাগ ছোপ মিলিয়ে যায়।

    ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে লবঙ্গ দারুণ কাজে দেয়। বিশেষ করে চুল পড়া কমাতে এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে লবঙ্গ তেলের জুড়ি মেলা ভার। এক্ষেত্রে আধ চামচ লবঙ্গ তেলের সঙ্গে সম পরিমাণ অলিভ অয়েল মিশিয়ে সেই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় লাগিয়ে মিনিটদশেক মাসাজ করতে হবে। মিনিটকুড়ি বাদে ঠান্ডা পানি দিয়ে আরেকবার চুল ধুয়ে নিতে ভুলবেন না যেন! নিয়মিত এইভাবে চুলের যত্ন নিলেই উপকার মিলবে। লবঙ্গ তেল আর লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে লাগালেও খুশকি চলে যায়।

  • যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শ’রীরে ক্যা’লসি’য়ামের ঘাটতি, জেনে নিন

    যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শ’রীরে ক্যা’লসি’য়ামের ঘাটতি, জেনে নিন

    ক্যালসিয়াম আমাদের শরীরের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এটি শুধু হাড় ও দাঁতের গঠনেই সাহায্য করে না বরং মাংসপেশি, স্নায়ুতন্ত্র, হৃদস্পন্দন ও হরমোনের কার্যক্রমেও বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়ে যায়। মেনোপজের পর হাড় ভেঙে যাওয়া বা অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

    এমনকি ক্যালশিয়ামের ঘাটতি গর্ভাবস্থায় শিশুর বিকাশ ও হৃদরোগের ঝুঁকিকেও প্রভাবিত করতে পারে। চলুন, জেনে নিই শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির লক্ষণগুলো কী।

    পেশিতে টান বা খিঁচুনি
    হঠাৎ করে পায়ের পেশিতে টান ধরছে বা হাত-পায়ে খিঁচুনি হচ্ছে? নিয়মিত এমন হলে এটি ক্যালশিয়াম ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

    হৃদস্পন্দনের গণ্ডগোল
    ক্যালসিয়ামের অভাবে হৃদয়ের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। এই অনিয়মিত স্পন্দন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অলসতা
    কোনো কাজ না করেও সারাদিন ক্লান্তি লাগছে? এই ধরনের অবসাদ বা অলসতার পেছনেও ক্যালসিয়াম ঘাটতি থাকতে পারে।

    নখ দুর্বল হয়ে যাওয়া
    নখ পাতলা হয়ে যাওয়া বা বারবার ভেঙে যাওয়া শরীরে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ।

    দাঁতের সমস্যা
    দাঁতের ক্ষয়, ব্যথা বা আলগা হয়ে যাওয়াও ক্যালশিয়ামের ঘাটতির কারণে হতে পারে, কারণ দাঁতও হাড়জাতীয় টিস্যু দিয়ে তৈরি।

    কী করবেন?
    চিকিৎসকদের মতে, শরীরে দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি।

    ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান, যেমন : দুধ, দই, ছানা, সবুজ শাকসবজি, বাদাম, ডাল, সামুদ্রিক মাছ (যেমন, শুঁটকি বা কাঁটাসহ ছোট মাছ)। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করা যেতে পারে।
     

  • দেশের পো’ল্ট্রি মু’রগির মাং’স নিয়ে চা’ঞ্চল্য’কর গ’বেষ’ণা, বড় দুঃ’সং’বাদ

    দেশের পো’ল্ট্রি মু’রগির মাং’স নিয়ে চা’ঞ্চল্য’কর গ’বেষ’ণা, বড় দুঃ’সং’বাদ

    বাংলাদেশের মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (জীবাণুনাশক) ওষুধের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যার কিছু নমুনায় আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও বেশি মাত্রা শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজ (RVC)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণাটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও উত্তর ভিয়েতনামের মুরগির মাংসের নমুনা একই মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হয়, যা এ ধরনের প্রথম আন্তঃদেশীয় তুলনামূলক গবেষণাগুলোর একটি।

    গবেষকরা ২০২১-২২ সালে তিন দেশ থেকে সংগ্রহ করা ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করেন। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রেফারেন্স ল্যাবরেটরির মানদণ্ড অনুসরণ করে ৬৯ ধরনের পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পরীক্ষা করা হয়।

    গবেষণায় দেখা যায়, বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ ছিল। তুলনায়, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ হার ছিল মাত্র ০ দশমিক ০৫ থেকে ০ দশমিক ০৯ শতাংশ।

    গবেষকদের মতে, জবাইয়ের ঠিক আগে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহার, অথবা খাদ্য ও পানির মাধ্যমে দূষণের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    তারা সতর্ক করেছেন, মাংসে এ ধরনের ওষুধের অবশিষ্টাংশ অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

    গবেষণার প্রধান গবেষক এবং রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজের ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেশিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, এশিয়ায় একই মানদণ্ডে পরিচালিত আন্তঃদেশীয় অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণের এটি একটি মাইলফলক গবেষণা। তার আশা, এই গবেষণার ফল পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়তা করবে।

    গবেষণাটি ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব প্রকল্পের আওতায় ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, পরবর্তী পর্যায়ে তারা মুরগি উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের সঙ্গে মাংসে অবশিষ্টাংশ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা করবেন।

    সূত্র-poultrynews.

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে অল্প ব’য়সে চু’ল পাকে, জেনে নিন সমাধান

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে অল্প ব’য়সে চু’ল পাকে, জেনে নিন সমাধান

    চুল প্রত্যেকের জন্য সৌন্দর্যের একটি অনন্য উপাদান। অনেকের কাছে লম্বা, মজবুত এবং ঘন চুল কেবল সৌন্দর্যের লক্ষ্য নয় বরং স্বাস্থ্য এবং প্রাণশক্তির প্রতীকও বটে। অনেকের অল্প বয়সে চুল পেকে যায়। কম বয়সে চুল পাকার কারণ হিসেবে ধরা হয় ভিটামিন বি১২ এবং ভিটামিন ডি-এর অভাব। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ করতে রোদে বসে থাকা শুরু করুন। এ ছাড়া আপনার খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, পনির, মাশরুম, ডিম ও চর্বিযুক্ত মাছ অন্তর্ভুক্ত করুন।

    আপনি যদি চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে এবং অকালে পেকে যাওয়া রোধ করার জন্য ব্যবহারিক ও কার্যকর উপায় খোঁজেন তবে আপনার জন্য কিছু পরামর্শ-

    ১. ভেতর থেকে পুষ্টি: চুলের স্বাস্থ্য শুরু হয় আপনার শরীরকে খাওয়ানো পুষ্টি দিয়ে। চুলের ফলিকলগুলো ভালোভাবে কাজ করার জন্য ভিটামিন এবং খনিজের ধারাবাহিক সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং নির্দিষ্ট পুষ্টির অভাবের ফলে ঘটে, বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, কপার এবং ফোলেট।

    প্রধান পুষ্টির মধ্যে রয়েছে:

    * ভিটামিন বি১২: চুলের ফলিকলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেকে যাওয়া বিলম্বিত করে।

    * কপার: মেলানিন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা চুলকে তার রঙ দেয়।

    * অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: বেরি, শাক-সবজি এবং বাদামে পাওয়া যায়, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে নিউট্রালাইজ করতে সাহায্য করে।

    * হাইড্রেশন: এটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে মাথার ত্বক সুস্থ থাকে এবং চুলের গোড়া শক্তিশালী থাকে।

    ২. মানসিক চাপ দূর করুন

    অকাল চুল পেকে যাওয়ার পেছনে নীরব অপরাধীদের মধ্যে একটি হলো দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ। এটি মেলানোসাইট – মেলানিন তৈরি করে এমন কোষগুলোকে প্রভাবিত করে, যা চুলের রঙের জন্য দায়ী রঙ্গক।

    মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়:

    * প্রতিদিন ধ্যান বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস।

    * নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ যেমন হাঁটা বা যোগব্যায়াম।

    * ঘুম এবং বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

    * মানসিক চাপ কমানো কেবল চুল পেকে যাওয়া রোধ করে না বরং সুস্থ চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

    ৩. প্রাকৃতিক তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন

    মাথার ম্যাসাজ কেবল চুলের বৃদ্ধির জন্য রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় না বরং প্রাকৃতিক রঙ সংরক্ষণের জন্য মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে। কিছু তেল চুল পাকার সমস্যা দূর করতে পরিচিত।

    ব্যবহারের জন্য সেরা তেল:

    * আমলকির তেল: ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলকি রঙ্গক ধরে রাখতে কাজ করে।

    * কালোজিরার তেল: কালোজিরার তেলে থাইমোকুইনোন থাকে, যা চুলের ফলিকল রঙ্গককে রক্ষা করে।

    * কারি পাতার তেল: এটি চুলের রঙ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

    * সপ্তাহে কয়েকবার বৃত্তাকার গতিতে আলতো করে ম্যাসাজ করুন এবং তেলটি কয়েক ঘণ্টা বা সারারাত রেখে পরদিন ধুয়ে নিন।

    ৪. যেসব ভিটামিন চুলকে কালো রং দেয়: ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি১২ চুল কালো করে। চুল কালো করতে আপনার খাদ্যতালিকায় ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই অন্তর্ভুক্ত করুন।

    ৫. যেসব ফল চুল কালো করে: কমলা, লেবু, আমলকী, কিউইজাতীয় ফল খেলে চুল কালো হতে পারে। এই ফলের মধ্যে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফলিক এসিডের মতো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

  • সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর ভুলেও যে দুটি জিনিস খাবেন না

    সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর ভুলেও যে দুটি জিনিস খাবেন না

    সকালে শরীরের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে অনেকেই খালি পেটে কাঁচা ছোলা খেয়ে থাকে। তবে এই কাঁচা ছোলার সঙ্গে আর কী খাওয়া উচিত বা খাওয়া উচিত না সেই বিষয়টি মাথায় রাখা খুবই জরুরি। সঠিক তথ্য না জানার জন্য অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। ভালো করতে গিয়ে আপনার শরীরের জন্য তা বিপদ ডেকে আনতে পারে তাই সঠিক তথ্য জানাটা আপনার শরীরের জন্য খুবই জরুরি। অনেকেই শরীর সুস্থ রাখার জন্য সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা ও বাদাম খেয়ে থাকেন। এই ধরনের খাদ্য সঠিক পন্থায় গ্রহণ না করলে আপনার শরীরের জন্য তা কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে তা আপনি জানে কি?

    অনেকেই হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি ও খাদ্য পরিপাকের কথা মাথায় রেখে রাতেই ছোলা ভিজিয়ে দেন ও পরের দিন সকালে সেগুলি খান।কাঁচা ছোলা খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভালো, তা যেমন আপনার শরীরের রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, তেমনি আপনাকে ফিটও রাখে। কিন্তু সকালে ছোলা খাওয়ার পর দুটি জিনিস ভুলেও খাবেন না, সেই দুটি জিনিস কী তা জেনে রাখাটা আপনার জন্য খুবই জরুরি।

    সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর ভুলেও দুটি জিনিস খাবেন না

    প্রায় সময়তেই দেখা যায় ছোলা খাওয়ার কিছুক্ষণ বাদেই জলখাবার খাওয়ার সময় এসে যায়।  এই রকম অবস্থায় জলখাবারে আপনি যদি দুটি জিনিস খান তাহলে আপনার শরীরে অসুখের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আসলে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর এই দুটি জিনিস আপনার শরীরে গেলে তা আপনার শরীরের জন্য বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। তাতে করে শরীরে বিভিন্ন রকম রোগ দানা বাঁধতে পারে।

    ১. সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর ভুলেও কোনও রকম আচার খাবেন না। আসলে আচারের মধ্যে অনেক সময় ভিনিগার দেওয়া হয়, কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর যদি আপনার পেটে ভিনিগার যায় তাহলে তা বিষক্রিয়া করতে পারে।এতে করে কাঁচা ছোলা ও আচার একই সঙ্গে আপনার পেটে গেলে তা উপকারের বদলে অপকার করবে এবং আপনার হার্ট এট্যাক পর্যন্ত হতে পারে।সেই সঙ্গে আপনাকে সহ্য করতে হবে গলা-বুক জ্বালা ও অম্বলের সমস্যা।

    ২. সকালে খালি পেটে কাঁচা ছোলা খাওয়ার পর কখনই করলা খাবেন না, কারণ কাঁচা ছোলাতে যে অক্সাইড পাওয়া যায়, সেই অক্সাইড আপনি পাবেন করলাতে।কিন্তু কাঁচা ছোলাতে যে পরিমাণ অক্সাইড পাওয়া যায় করলাতে তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় অক্সাইড পাওয়া যায়। তাতে করে শরীরের মধ্যে তা প্রবেশ করার পর তা মিলেমিশে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে এই বিষক্রিয়া খুবই ধীরে ধীরে কাজ করে ও পরে তা গভীর অসুখের সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: এনডিটিভি

  • টু’থপে’স্ট টি’উবের নিচে রঙিন দা’গ কেন থাকে? জেনে নিন আসল র’হস্য

    টু’থপে’স্ট টি’উবের নিচে রঙিন দা’গ কেন থাকে? জেনে নিন আসল র’হস্য

    দাঁতের যত্ন সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজারে পণ্যের সারিতে দেখা মেলে বিভিন্ন ধরনের টুথপেস্ট। এসব পণ্য বেছে নেওয়ার সময় অধিকাংশ মানুষ সাধারণত এর উপাদান, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং কখনো কখনো স্বাদের বিষয় বিবেচনা করেন। টুথপেস্টের প্যাকেটে সাধারণত লেখা থাকে—দাঁত সাদা করা, দাঁতের ক্ষয় রোধ, টার্টার নিয়ন্ত্রণ কিংবা মুখের দুর্গন্ধ দূর করার মতো গুণাবলির কথা।

    তবে টুথপেস্টের টিউবের নিচে থাকা রঙিন দাগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে আছে। টিউবের নিচে সাধারণত বিভিন্ন রঙের ছোট চারকোনা দাগ বা বার দেখা যায়। অনেকের ধারণা, এসব রঙ টুথপেস্টের তৈরি উপাদান সম্পর্কে তথ্য দেয়।

    ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া দাবি অনুযায়ী—সবুজ রঙের দাগ মানে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান; নীল রঙ মানে প্রাকৃতিক ও ওষুধযুক্ত উপাদান; লাল রঙ মানে প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ এবং কালো রঙ মানে সম্পূর্ণ রাসায়নিক উপাদান।

    তবে বাস্তবে এই তথ্যের কোনো বৈজ্ঞানিক বা ব্যবহারিক ভিত্তি নেই। টিউবের নিচের রঙিন চিহ্ন টুথপেস্টের ফর্মুলা বা উপাদানের সঙ্গে একেবারেই সম্পর্কিত নয়। মূলত উৎপাদন প্রক্রিয়ার সময় এই চিহ্ন তৈরি করা হয়। প্যাকেজিং মেশিনের আলো শনাক্তকারী সেন্সর এই চিহ্ন পড়ে মেশিনকে সংকেত দেয় যে কোথায় প্যাকেট কাটতে, ভাঁজ করতে বা সিল করতে হবে।

    স্বাস্থ্যবিষয়ক মার্কিন পোর্টাল হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগগুলোর সঙ্গে ভেতরের উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো শুধুই প্যাকেজিংয়ের প্রযুক্তিগত অংশ, যা স্বয়ংক্রিয় মেশিনকে সঠিক স্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোলগেট জানিয়েছে, টুথপেস্টের কালার-কোডিং সিস্টেম বলতে বাস্তবে কিছুর অস্তিত্ব নেই। গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে বা উপাদান লুকাতে কোম্পানিগুলো এসব দাগ ব্যবহার করে না।

    আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস এবং বার্তা সংস্থা এএফপি ফ্যাক্ট-চেক এই দাবিটিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ইন্টারনেট গুজব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্যাকেজিং বিশেষজ্ঞদের মতে, মেশিনের লাইট বিম সেন্সরকে সংকেত দেওয়ার জন্য প্রিন্ট করা এই প্রযুক্তিগত দাগকে শিল্পখাতে ‘আই মার্ক’ বলা হয়ে থাকে।

    আরও পড়ুন

    গ্রামীণ কাঠকয়লা-নিমের ডাল, দাঁতের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী?
    বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান এই গুজবের একটি বড় বৈজ্ঞানিক ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। গুজবে বলা হয় ‘কালো মানে সম্পূর্ণ কেমিক্যাল’। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পৃথিবীর প্রতিটি বস্তু বা উপাদানই এক একটি রাসায়নিক গঠন। তাই প্রাকৃতিক বনাম রাসায়নিকের এই কৃত্রিম বিভাজনটিই সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

    এই ‘আই মার্ক’ শুধু সবুজ, নীল, লাল বা কালো নয়—বিভিন্ন রঙের হতে পারে। সেন্সর মূলত রঙ চেনে না, বরং ব্যাকগ্রাউন্ড ও কালার মার্কের মধ্যকার আলোর তারতম্য মেপে কাজ করে। টিউবের সাদা অংশ থেকে গাঢ় রঙের দাগে আলো পড়া মাত্রই পরিবর্তন শনাক্ত করে সেন্সরটি কাটিং বা সিলিং রোবটকে সংকেত পাঠায়।

    তাই টুথপেস্টের টিউবের নিচের রঙিন দাগের সঙ্গে এর উপাদানের কোনো সম্পর্ক নেই। টুথপেস্টে কী উপাদান রয়েছে তা জানতে টিউব বা প্যাকেটের গায়ে লেখা উপাদানতালিকা পড়া উচিত। টুথপেস্ট কেনার সময় অনুমোদিত সিল, মেয়াদ ও নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।