Category: Uncategorized

  • বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা, জায়গা পেলেন যারা

    বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা, জায়গা পেলেন যারা

    যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের এক মাস আগে সোমবার (১১ মে) আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির বাছাই করা প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে।

    ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিশ্বকাপের জন্য ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছে। এই তালিকা থেকেই কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি শেষ পর্যন্ত ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড বেছে নেবেন, যারা টুর্নামেন্টে যাবে। চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ সময় ৩০ মে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ চোটে পড়লে, ঘোষিত এই প্রাথমিক তালিকা থেকেই তার বদলি নেওয়া হবে।

    এটি প্রাথমিক তালিকা হওয়ায় অনেকেই চূড়ান্ত তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত বাদ পড়বেন। তবে প্রাথমিক দলে কয়েকটি চমকপ্রদ নাম রয়েছে, যাদেরকে কোচিং স্টাফ নজরে রাখলেও, আগে কখনও জাতীয় দলে ডাকেনি।

    ছয় গোলরক্ষকের মধ্যে সান্তিয়াগো বেলত্রানের নাম আছে। রিভার প্লেটের এই তরুণ গোলকিপার তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছেন। তার আগে রয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, মেরেনিমো রুল্লি, হুয়ান মুসো, ওয়াল্টার বেনিতেজ ও ফাকুন্দো কাম্বেসেস। এদের মধ্যে প্রথম তিনজেরই চূড়ান্ত স্কোয়াডে থাকার সম্ভাবনা বেশি। এদের মধ্যে বেলত্রান ছাড়া বাকি সবাই আগেই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন।

     

    ডান প্রান্তে গঞ্জালো মন্তিয়েলের জায়গা প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে। তালিকায় নাহুয়েল মলিনার নামও আছে, যদিও তিনি রোববার (১০ মে) চোট পেয়েছেন এবং তার সেরে উঠতে প্রায় ২১ দিন লাগতে পারে। এই পজিশনে বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে অগাস্টিন গিয়ায়, কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকোলাস কাপালদোর নামও।

    রক্ষণভাগের চমকপ্রদ নামগুলোর মধ্যে আছেন লাউতারো দি লোল্লো, যিনি সম্প্রতি বোকা জুনিয়র্সের নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন। এছাড়া আছেন জাইদ রোমেরো, যিনি বর্তমানে লা লিগায় গেতাফের হয়ে খেলছেন।

    তবে অবাক করার বিষয়, এই তালিকায় জায়গা হয়নি টমাস প্যালাসিওসের, যিনি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডাক পেয়েছিলেন। বাদ পড়েছেন মারিয়ানো ত্রইলোর নামও।

     

    মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগেও কয়েকজন নতুন মুখ আছে, যাদের ওপর কোচের নজর ছিল বলে আগে জানা যায়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মিল্টন দেলগাদো ও টমাস আরান্দা। দুজনই বর্তমানে বোকা জুনিয়র্সের নিয়মিত খেলোয়াড়। দুজনেরই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। টমাস আরান্দাকে সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২০ দলে ডাকা হয়েছিল এবং শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনি সিনিয়র দলের সঙ্গেও অনুশীলন করেছেন।

    লিওনেল স্ক্যালোনি তাকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘সে খুবই আকর্ষণীয় একজন খেলোয়াড় এবং দারুণ এক আবিষ্কার।’

     

    এছাড়া আগের স্কোয়াডে থাকলেও সম্প্রতি গুরুত্ব হারানো কয়েকজনকেও আবার তালিকায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন গুইদো রদ্রিগেজ, যিনি কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। আরও আছেন নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, আনিবাল মোরেনো এবং এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।

    প্রাথমিক তালিকায় আরও জায়গা পেয়েছেন আলেহান্দ্রো গারনাচো, যিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর আর ডাক পাননি। এছাড়া আছেন মাতিয়াস সৌলে, ক্লাউদিও এচেভেরি এবং জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। তবে প্রেস্তিয়ান্নি যদি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে জায়গা পান, তাহলে নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

    বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার প্রাথমিক স্কোয়াড:

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরেনিমো রুল্লি (মার্শেই), হুয়ান মুসো (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রেসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলত্রান (রিভার প্লেট), অগাস্টিন গিয়ায় (পালমেইরাস), গঞ্জালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবার্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট গিলোইসে), লুকাস মার্টিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হেরমান পেজ্জেলা (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালেরদি (মার্শেই), ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), লাউতারো দি লোল্লো (বোকা জুনিয়র্স), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল রোহাস (রেসিং ক্লাব), ম্যাক্সিমো পেরোন (ক্যালসিও কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স), গুইদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়র্স), আলান ভারেলা (এফসি পোর্তো), এজেকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ের লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এজেকুয়েল প্যালাসিওস (বায়ের লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভান্নি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (স্ট্রাসবুর্গ), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (ক্যালসিও কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়নো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ), টমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়র্স), নিকোলাস গঞ্জালেস (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), গিউলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সৌলে (রোমা), ক্লাউদিও এচেভেরি (জিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো ক্যাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতার মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে মানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ) ও মাতেও পেল্লেগ্রিনো (পার্মা ক্যালসিও)
     

  • পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার 

    পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার 

    দেশে পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পুলিশকে ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। যেসব পুলিশ সদস্যরা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন, বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে তাদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়া হতে পারে। কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত এই ভাতা পেতে পারেন। পাশাপাশি পুলিশের জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও এসেছে।

    রোববার (১০ মে) থেকে শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায়’ এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

    এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পুলিশ অডিটরিয়ামে কল্যাণ সভায় যোগ দেন।

    কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের নানা দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের কথা ভাবছে সরকার। এতে পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও অধিক কর্মচাপ বিবেচনায় পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। পুলিশের হাসপাতালগুলোকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

    পুলিশের বিভিন্ন ভবন ও আবাস সমস্যা নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন, কার্যালয় নির্মাণ ও আবাসন সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। এক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

    অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবলরা ৪০ বছর চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেও পরবর্তী পদোন্নতি পান না। সেজন্য বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ড বিবেচনায় অবসরকালীন সময়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে অনারারি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে অনারারি উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং উপপরিদর্শক (এসআই) থেকে অনারারি পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে এই পদোন্নতি দেয়া হবে।’

    ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের পুলিশ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মে নানা কর্ম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শেষ হবে। পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

  • চাকরি ছেড়ে গরুর খামারি : কু’রবা’নির হাট কাঁপাবে মামুনের ১ টনের ‘লাল মিয়া’

    চাকরি ছেড়ে গরুর খামারি : কু’রবা’নির হাট কাঁপাবে মামুনের ১ টনের ‘লাল মিয়া’

    বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী এলাকার যুবক মো. মামুন হোসেন প্রমাণ করেছেন চাকরিই জীবনের একমাত্র পথ নয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার। যা এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

    জানা যায়, চাকরি ছেড়ে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন মামুন হোসেন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খামার বর্তমানে একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    বর্তমানে খামারটিতে গাভীসহ প্রায় ২৬টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুই নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে লালন-পালন করা হয়। খামারের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তবে খামারের ২৬টি গরুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘লাল মিয়া’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি), যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।

    খামার মালিক মামুন হোসেন বলেন, লাল মিয়াকে আমরা একেবারে স্বাভাবিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই তাকে লালন-পালন করা হয়েছে। চার বছর ধরে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

    আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাল মিয়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া খামারে আরও প্রায় ৭টি ষাড় গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। খামার কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এবারের কোরবানির ঈদে ভালো বিক্রি হবে।

    স্থানীয়রা বলছেন, সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক তরুণই এখন মামুন হোসেনের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

    মামুন হোসেন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এগিয়ে আসুক এবং নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করুক।

    বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। আমরা পরিবার হিসেবে তার পাশে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ সে সফল হয়েছে। আমি চাই, আরও তরুণরা এমন উদ্যোগ নিক-তাহলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

    উল্লেখ্য, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মামুন হোসেন। ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ছোট সেই খামারটি আজ ২৬টি গরুর একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে বিক্রয়যোগ্য ৮টি ষাঁড় ও ৭টি দুধেল গাভী রয়েছে। প্রতিবছরই খামার থেকে ৪-৬ টি গরু বিক্রি হয়। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই খামারে উৎপাদিত খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

    বাবুগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, মামুন হোসেনের খামার আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

  • নবম পে-স্কেল: দ্বিগুণ হতে পারে যাদের পেনশন

    নবম পে-স্কেল: দ্বিগুণ হতে পারে যাদের পেনশন

    সরকারি চাকুরেদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল নিয়ে আসছে বড় সুখবর। কেবল কর্মরতরাই নন, নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পেতে যাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও। জাতীয় বেতন কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশ অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। একই সঙ্গে বৈশাখী ভাতা, টিফিন ও শিক্ষা ভাতাতেও আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন।

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এরইমধ্যে পে-স্কেল পুনর্গঠিত কমিটি তাদের সুপারিশমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে, যা দ্রুতই সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেয়া হবে।
     

    পেনশনে বড় স্বস্তি
     

    নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে পেনশনের হার ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এতে অবসর জীবনে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠদের আর্থিক টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
     

    বাড়ছে ভাতার পরিমাণ
     

    প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত মাসিক ২০০ টাকার টিফিন ভাতা বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ এসেছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রেও মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
     

    বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
     

    অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি খসড়া বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাতাগুলো ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। অর্থনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই সরকার ধাপে ধাপে এই নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করার পথে হাঁটছে।

    আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পুনর্গঠিত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

  • মন্ত্রিপরিষদে আসছে ৫ নতুন মুখ

    মন্ত্রিপরিষদে আসছে ৫ নতুন মুখ

    প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি আনতে মন্ত্রিপরিষদে ৫ নতুন মুখ আসতে যাচ্ছে খুব শিগগিরই। যাদের মধ্যে থাকছেন একজন টেকনোক্রেটও। এছাড়া একাধিক মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদেরও ভার কমাতে দফতর বণ্টনের সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে একই সময়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে সময় সংবাদ। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ কমাতে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে জানান তারা।

     

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের কথা ভাবছে সরকার। এ ছাড়াও রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কর্মদক্ষতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

     

    তবে কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে তা নিশ্চিত করে না বলতে পারলেও একাধিক সূত্র বলছে, চলতি মাসের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ ও একাধিক দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ভার কমতে পারে।

     

     

    নতুন মুখ হিসেবে পাঁচজনের যে নাম শোনা যাচ্ছে, তার মধ্যে অন্যতম চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোশাররফ হোসেনের নাম। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহিদুর রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে।

     

    এছাড়া কৃষি ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের দফতর নতুন করে বণ্টন করা হতে পারে।

     
     

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করা হয়। 

  • পে স্কেল নিয়ে প্রথম ধাপে সুখবর পেতে পারে কবে?

    পে স্কেল নিয়ে প্রথম ধাপে সুখবর পেতে পারে কবে?

    দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে পুনর্গঠিত কমিটি ধাপে ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী পাচ্ছেন মাত্র ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন।

    অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল অংকের আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় প্রথম ধাপে সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশের একটি বড় অংশ কার্যকর হতে পারে। 

    সূত্র মতে, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতেই প্রথম কিস্তির বড় অংশ ব্যয় হবে। কমিশন সর্বনিম্ন ধাপের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার যে সুপারিশ করেছে, তার একটি বড় অংশ শুরুতেই কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন।

     
    নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশে সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো পেনশনভোগীদের জন্য বিন্যাস। যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেল কার্যকর করার প্রথম ধাপেই এই ক্ষুদ্র পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অন্যদিকে, যারা উচ্চ অংকের পেনশন পান, তাদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম (৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ) রাখা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।
     
    প্রস্তাবিত কাঠামোতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বিদ্যমান ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি প্রথম ধাপেই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও শুরুর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
     
    সামাজিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরকারি কর্মচারীদের কোনো প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব করেছে কমিশন। অর্থ বিভাগ এ মানবিক প্রস্তাবটিকে প্রথম ধাপেই কার্যকর করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। এটি সরাসরি কার্যকর হলে সরকারি চাকুরিজীবী পরিবারের একটি বিশেষ অংশ সরাসরি উপকৃত হবে।

    কেবল নিম্নস্তর নয়, সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের ধরে রাখতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চপদের বড় অংকের সুযোগ-সুবিধাগুলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

  • দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ

    দোকানপাট খোলা রাখার নতুন সময় নির্ধারণ

    আগামী ১২ মে থেকে দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

    আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।

    এত দিন এসব প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকত। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন এক ভিডিও বার্তায় জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তবে সরকার খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে রাত ১০টা পর্যন্ত।

    পাশাপাশি আমরা যেন অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা বিদ্যুৎ ব্যবহার না করি, সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান হেলাল উদ্দিন।

    জ্বালানি সংকটের কারণে গত ৩ এপ্রিল থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দেয় সরকার। এরপর ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ৫ এপ্রিল থেকে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দোকান বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা করা হয়।

  • নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপে গুরুত্ব পাবেন যারা

    নতুন পে স্কেলের প্রথম ধাপে গুরুত্ব পাবেন যারা

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিপুল অংকের আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় প্রথম ধাপে সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বেতন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ধাপে মূলত নিম্ন আয়ের কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের অভিভাবকদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সূত্রমতে, নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এই অর্থ দিয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোর মূল বেতনের অর্ধেক বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী, মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতেই প্রথম কিস্তির বড় অংশ ব্যয় হবে। কমিশন সর্বনিম্ন ধাপের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার যে সুপারিশ করেছে, তার একটি বড় অংশ শুরুতেই কার্যকর করার চিন্তা রয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন।

    নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশে সবচেয়ে মানবিক দিকটি হলো পেনশনভোগীদের জন্য বিন্যাস। যারা বর্তমানে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের জন্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন স্কেল কার্যকর করার প্রথম ধাপেই এই ক্ষুদ্র পেনশনভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা উচ্চ অংকের পেনশন পান, তাদের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম (৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ) রাখা হয়েছে, যাতে বরাদ্দের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়।

  • সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি নি’র্দেশনা

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি নি’র্দেশনা

    সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। অতিরিক্ত সচিব ও সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিমানে বিদেশ ভ্রমণকালে বিজনেস, ক্লাব বা এক্সিকিউটিভ শ্রেণির পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করতে হবে।

    সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১।

    আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্ব-শাসিত, সংবিধিবদ্ধ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত সচিব বা সমপর্যায়ের সব কর্মকর্তা এই নির্দেশের আওতায় পড়বেন।

    এর আগে, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর অর্থ বিভাগ জারি করা অফিস স্মারকের অনুচ্ছেদ ২১(খ)-এ সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকালে বৈদেশিক মুদ্রায় দৈনিক ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিধান ছিল। নতুন এই আদেশে সেই বিধানের পরিবর্তন এনে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পরবর্তী কোনো আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে জানিয়ে এতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের উপসচিব র. হ. ম. আলাওল কবির আদেশটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

  • তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন

    তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নবম পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পে স্কেল সংক্রান্ত পুনর্গঠিত কমিটি সুপারিশ তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল কার্যকরের সুপারিশ করা হবে বলে জানা গেছে।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে।

     নতুন বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানোর সুপারিশ করার কথা রয়েছে অর্থ বিভাগের। পরিকল্পনা রয়েছে, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত পে স্কেলের প্রায় ৩৩ শতাংশ বাস্তবায়নের।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে কমিটির সদস্যরা ঘোষিত পে স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষেই মত দিয়েছেন। কারণ, এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাপ রয়েছে।

    এদিকে চলতি বাজেটে পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। তবে আগামী বাজেটে এ খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

    জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভা শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফেরার পর পুনর্গঠিত কমিটি এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।

    নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো অর্থের সংস্থান উল্লেখ করে সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বড় বাজেট ঘাটতির বাস্তবতায় এককালীন বাস্তবায়নের পরিবর্তে তিন থেকে চার ধাপে পে স্কেল কার্যকর করাই বাস্তবসম্মত হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।