ডিম আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক কম দাম এবং উচ্চমানের প্রোটিনের কারণে প্রায় সব বয়সি মানুষের খাদ্যতালিকাতেই ডিমের জায়গা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সাধারণ ডিমের পাশাপাশি গাঢ় কমলা বা লালচে কুসুমের ডিমও দেখা যাচ্ছে। এসব ডিমকে অনেক সময় সাধারণ ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর বলে প্রচার করা হচ্ছে। এগুলোকে অনেকে প্যরাগন ডিম নামেও চিনেন।
এতে ভোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে কুসুমের রঙ গাঢ় হলেই কি ডিমের পুষ্টিগুণ বেড়ে যায়? নাকি এটি কেবল মুরগির খাদ্য ও ডিমের বিপণনের সঙ্গে সম্পর্কিত? পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা জানান, শুধু কুসুমের রঙ দেখে কোনো ডিমের সামগ্রিক পুষ্টিমান নির্ধারণ করা যায় না।
কুসুমের রঙ কেন গাঢ় হয়?
ডিমের কুসুমের হলুদ, কমলা কিংবা গাঢ় কমলা রঙের পেছনে মুরগির খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মুরগির খাবারে ভুট্টা, সবুজ শাকপাতা এবং বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েডসমৃদ্ধ উপাদান থাকলে কুসুমে এসব রঞ্জক উপাদানের প্রভাব পড়ে এবং রং তুলনামূলক গাঢ় হতে পারে।
অর্থাৎ, গাঢ় কুসুম মূলত মুরগি কী ধরনের খাবার খেয়েছে তার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। এর ভিত্তিতে ডিমে বেশি প্রোটিন, ভিটামিন বা খনিজ রয়েছে এমনটি মনে করার কোন কারণ নেই। ।
ফিড বদলালে কি ডিমের পুষ্টিগুণ বদলায়?
মুরগির খাদ্য ডিমের পুষ্টিমানকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান মুরগির খাদ্যে যুক্ত করলে ডিমে সেই উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।
উদাহরণ হিসেবে, বিশেষ ধরনের খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। এ ধরনের ডিমকে সাধারণ ডিমের তুলনায় আলাদা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বলা যেতে পারে। তবে সেটি প্রমাণের জন্য কেবল কুসুমের রং যথেষ্ট নয়। উৎপাদনকারীর নির্ভরযোগ্য পুষ্টি-তথ্য, লেবেলিং কিংবা প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
প্যারাগন ডিম কি সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর?
প্যারাগন বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক নাম শুনলেই একটি ডিমকে সাধারণ ডিমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ব্র্যান্ড বা বাজারজাতকরণ নাম নিজে থেকে ডিমের বাড়তি পুষ্টিগুণের প্রমাণ নয়।
কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ডিমে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ আছে কিনা, তা বুঝতে হলে মুরগির খাদ্যে কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, কীভাবে মুরগি পালন করা হয়েছে এবং ডিমের পুষ্টিমান সম্পর্কে প্রস্তুতকারকের নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করতে হবে।
তাই শুধু কুসুম গাঢ় কমলা বা লালচে দেখাচ্ছে বলে সেটিকে সুপারফুড বা সাধারণ ডিমের তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর ভাবার কারণ নেই। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাভিন, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে।
ডিম কেনার সময় কী দেখবেন?
ডিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কুসুমের রঙের চেয়ে ডিমের সতেজতা, আকার, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ডিমকে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন হিসেবে বাজারজাত করা হলে তার প্যাকেটের পুষ্টি-সংক্রান্ত তথ্য ও লেবেলিং দেখা উচিত। একই সঙ্গে ডিম কেনার পর যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিম পুরোপুরি সেদ্ধ বা রান্না করে খেলে খাদ্যবাহিত জীবাণুর ঝুঁকি কমে।

Leave a Reply