ত্বকে নিখুঁতভাবে মেকআপ করুন না কেন, নাকের ওপর কিংবা থুতনিতে ছোট ছোট কালো দাগের মতো ব্ল্যাকহেডস থাকলে পুরো সাজটাই যেন মাটি হয়ে যায়। বিশেষ করে নাকের দুই পাশে জমে থাকা ব্ল্যাকহেডস দূর করতে অনেকেই নানা ঘরোয়া পদ্ধতি থেকে শুরু করে পার্লারের ট্রিটমেন্ট-সবই চেষ্টা করেন।
কেউ আবার নখ দিয়ে চেপে চেপে ব্ল্যাকহেডস তোলার চেষ্টা করেন। এতে সাময়িকভাবে কিছুটা পরিষ্কার দেখালেও ত্বকে ক্ষত, লালচে ভাব কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তবে প্রথমেই জানা দরকার, ব্ল্যাকহেডস আসলে ময়লা নয়। ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল বা সিবাম বের হলে এবং লোমকূপের মুখে মৃত কোষ জমে ছিদ্র আটকে গেলে সেখানে তেল ও মৃত কোষ জমে যায়। এই উপাদান বাতাসের সংস্পর্শে এসে কালচে হয়ে গেলে সেটিই ব্ল্যাকহেডস হিসেবে দেখা দেয়। এটি এক ধরনের নন-ইনফ্ল্যামেটরি অ্যাকনের সমস্যা।
কোথায় বেশি হয় ব্ল্যাকহেডস?
সাধারণত নাক, নাকের দুই পাশ, কপাল ও থুতনির মতো তেলতেলে অংশে ব্ল্যাকহেডস বেশি দেখা যায়। তৈলাক্ত ত্বকে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য ধরনের ত্বকেও ব্ল্যাকহেডস হতে পারে।
অনেকে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অ্যাডহেসিভ ব্ল্যাকহেড রিমুভাল স্ট্রিপ ব্যবহার করেন। এতে ওপরের অংশের কিছু উপাদান উঠে এলেও ব্ল্যাকহেডস আবার ফিরে আসতে পারে। তাই নিয়মিত ও সঠিক স্কিনকেয়ারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চেপে ব্ল্যাকহেডস তুলবেন না
হাতে বা নখ দিয়ে ব্ল্যাকহেডস চেপে তোলার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ক্ষত তৈরি হতে পারে। পরবর্তীতে সেখানে প্রদাহ, দাগ কিংবা সংক্রমণও হতে পারে।
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড হতে পারে ভরসা
ব্ল্যাকহেডসের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ক্লিনজার বা স্কিনকেয়ার পণ্য উপকারী হতে পারে। এটি ত্বকের মৃত কোষ ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
বেকিং সোডা এবং লেবু
ব্ল্যাক হেডস থেকে মুক্তি পেতে বেকিং সোডা এবং লেবুর প্যাক খুব কার্যকরী। ১ চামচ বেকিং সোডা এবং আধা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি নাকের দুই পাশ, ঠোঁটের নিচ ও আর যেখানে ব্ল্যাকহেডস হয়েছে, সেখানে ব্যবহার করুন। কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে করে ত্বক ব্ল্যাক হেডস কমবে।
ময়েশ্চারাইজারও জরুরি
ব্ল্যাকহেডস আছে বলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার বন্ধ করে দেবেন না। বরং হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে উল্টা তেল উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে।
ব্ল্যাকহেডস রাতারাতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। নিয়মিত কোমলভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা, উপযুক্ত স্কিনকেয়ার ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে ভালো সমাধান।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, মেডিকেল নিউজ টুডে

Leave a Reply