Blog

  • বিএনপি ভোট পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ

    বিএনপি ভোট পেয়েছে ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রাপ্ত ভোটের হার প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত হারে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। ২৯০ আসনে দলটির প্রার্থী ছিল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।

    রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার সাংবাদিকদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    এদিকে ভোটের হারে জামায়াতের পর তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে।

    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট।

    এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। হাতপাখা প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।

    ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

    অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

  • জামায়াত আমিরকে যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    জামায়াত আমিরকে যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক শুভেচ্ছা বার্তায় জামায়াত আমিরের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

     

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

     

    বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।’

     

    তিনি বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে—এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

     

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।’

  • মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত রাখতে ইসিতে পাটওয়ারীর আবেদন

    মির্জা আব্বাসের শপথ স্থগিত রাখতে ইসিতে পাটওয়ারীর আবেদন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহুল আলোচিত ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনঃগণনার আবেদন জানিয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সাথে বিজয়ী ঘোষিত বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

    রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদনটি জমা দেন। এর আগে নির্বাচনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম এবং বেআইনি প্রভাব বিস্তারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর এই আবেদন করেন তিনি।

     

    আবেদনে ১২টি কেন্দ্রের ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, মির্জা আব্বাস ও তার পরিবারের সদস্যসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা ভোট রিগিং, ফলাফল আটকে রাখা এবং বাতিলকৃত ভোটকে গণনায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো নির্বাচনী অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।

  • ছায়া মন্ত্রিসভা কী?

    ছায়া মন্ত্রিসভা কী?

    ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত নেতা শিশির মনির ও এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ ঘোষণা দেয়ার পর রাজনীতির আলোচনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, ছায়া মন্ত্রিসভা কী? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটির কার্যকারিতা কী?

     

     

    বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থা পরিচিত ধারণা। বিভিন্ন দেশে বিরোধী দলগুলো নিজেদের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ ঘোষণা করে। এটি মূলত সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, সমালোচনা এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব দেয়ার জন্য গড়ে তোলা একটি কাঠামো।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা থেকে দেখা যায়, সাধারণত সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিরোধীদল থেকে একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ মনোনয়ন করা হয়। এই ছায়া মন্ত্রীদের কাজ হলো সরকারের নীতি ও বাজেট বিশ্লেষণ, সমালোচনা করা এবং প্রয়োজনে বিকল্প নীতি বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনা করার জন্য নয়। এটি বিরোধী দলের জন্য রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

    যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে থেকে দেখা যায়, ছায়া মন্ত্রিসভা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে। অস্ট্রেলিয়াতেও একইভাবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘটনা এ পর্যন্ত ঘটেনি। প্রচলিত কাঠামোতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও নেই। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সময় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে এ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর নীতি পর্যবেক্ষণ জটিল হয়ে ওঠে।

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!