Author: Kolome71

  • ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

    বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

    এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন

    পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়।

    ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

    আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

    তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন-

    ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়।

    সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

    আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে।

    বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

    সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    পবিত্র রমজানের ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা বা বোনাস পেতে পারেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। এই ভাতা শতভাগ করা হবে।

    তবে কবে নাগাদ উৎসব ভাতা শতভাগ করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি শিক্ষামন্ত্রী।

    সূত্রটি বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি শতভাগ বোনাস পাবেন শিক্ষকরা। এটা রমজানের ঈদ থেকেও হতে পারে।

    জানা গেছে, নীতিমালায় শতভাগ উল্লেখ করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০০৪ অনুযায়ী, শিক্ষকরা এক মাসের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পান। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বোনাস পান ৫০ শতাংশ।

    বিগত ১৭ বছর ধরে এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

    ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’ জারির পর শতভাগ বোনাস পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শতভাগ উৎসব ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার ‘শিক্ষক ও কর্মচারীদের (স্কুল ও কলেজ) বেতন-ভাতা নির্ধারণ’ অনুচ্ছেদের ১১.৭-এর ‘ঙ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন/বোনাসের নির্ধারিত অংশ/উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ/বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫/সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।’

  • স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

    স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, এই সপ্তাহেই ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এই পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ তারিখের মধ্যেই স্পিকারের নাম চূড়ান্তভাবে ঘোষণা হতে পারে। দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা ও সাংবিধানিক বিষয়ে গভীর জ্ঞান তাকে এই পদের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত এবং বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও আইনি দক্ষতার সমন্বয়ে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যোগ্য মনে করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে, নরসিংদী-২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও সমান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও প্রবীণ এই নেতা এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তাকে স্পিকার পদের জন্য অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে।

    জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা ও বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার বিষয়টিই চূড়ান্ত নির্বাচনে প্রধান বিবেচ্য হতে পারে।

    রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ভিন্নমুখী আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে জয়নুল আবেদীন সংসদ পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। আবার অনেকের মতে, প্রবীণ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে ড. আবদুল মঈন খান স্পিকার পদে ভালো করবেন। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে দলীয় কৌশল ও সংসদীয় সমীকরণের ওপর।

    সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সাধারণত বিদায়ী স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার সেই প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যতিক্রম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির দিকে, যেদিন নির্ধারিত হবে ত্রয়োদশ সংসদের অভিভাবক কে হচ্ছেন।

  • রোজা অবস্থায় পে’টে গ্যা’সের সমস্যা হলে যা করবেন, জেনে নিন

    রোজা অবস্থায় পে’টে গ্যা’সের সমস্যা হলে যা করবেন, জেনে নিন

    পবিত্র মাহে রমজানের রোজা থাকা অবস্থায় পেটে গ্যাস হলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা ভালো। গ্যাসের সমস্যা সাধারণত অতিরিক্ত খাবার বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে হয়, কিন্তু রোজার সময় এটি আরও সমস্যা হতে পারে। 

    যা করবেন
    সঠিক খাবার নির্বাচন করুন: সেহরিতে বা ইফতারে ভারী খাবারের বদলে হালকা, পচনশীল খাবার খান। যেমন- তাজা ফল, সবজি, স্যুপ বা কম তেলে রান্না করা খাবার।

    পানি খান: ইফতার এবং সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করতে সাহায্য করে।

    অ্যালকোহল বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন: চা, কফি বা সফট ড্রিঙ্কের মতো ক্যাফিনযুক্ত পানীয় গ্যাসের সমস্যা বাড়াতে পারে। সেহরি এবং ইফতারে এড়িয়ে চলুন।

    আলাদা করে হালকা খাবার খান: একসাথে বেশি খাবার না খেয়ে, আলাদা আলাদা করে হালকা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

    মৃদু হাঁটাহাঁটি করুন: ইফতার বা সেহরির পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি করতে পারে। এটি পেটের গ্যাস বের করতে সহায়ক হতে পারে।

    অফ-টু-ইন্ডিকেটেড ওষধ: যদি গ্যাস বেশি সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্যাস দূরীকরণের ঔষধ ব্যবহার করতে পারেন।

    গ্যাসের সমস্যা কমাতে রোজায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

  • ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে? জেনে নিন

    ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে? জেনে নিন

    সেহরি খেয়ে রোজা রাখা সুন্নত। হাদিসের ভাষায়, সেহরিতে রয়েছে অসংখ্য বরকত ও কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম)

    রমজান মাসে অনেকেরই এমন পরিস্থিতি হয়—সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়েছে, কিন্তু সেহরির সময় খুব কম, বা ঘুম থেকে দেরিতে ওঠার কারণে তখনই গোসল করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অনেকের মনে প্রশ্ন আসে: গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা হবে?

    গোসল ফরজ হওয়ার কারণ

    সুনির্দিষ্ট চার কারণের যে কোনে একটি সংঘটিত হলেই গোসল ফরজ হয়। তাহলো-

    ১. জানাবাত থেকে অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা হওয়ার গোসল। এটি নারী-পুরুষের যৌন মিলন, স্বপ্নদোষ বা যে কোনো উপায়ে বীর্যপাত হলে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন-

    وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُواْ

    ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত : ৬)

    ২. মাসিক বন্ধ হওয়ার পর নারীদের পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ।

    ৩. সন্তান প্রসবের পর নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে পবিত্র হওয়ার জন্য নারীদের গোসল করা ফরজ।

    ৪. আর জীবতদের জন্য মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া ফরজ।

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবন থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রমজান মাসে সহবাসের ফলে ফরজ গোসল অবস্থায় রাসুল (সা.) সুবহে সাদিক অতিবাহিত করতেন। এরপর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৮২৯)

    উম্মুল মুমিনিন হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে যে গোসল ফরজ অবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং রোজা পালন করতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬)

    সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। এক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা কিংবা গোসলের পরিবেশ নাই মনে করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়। (বাদায়েউস সানায়ে : ১/১৫১)

    عَنْ نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَنْ فَاتَتْهُ الصَّلَاةُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ 
                                                                                                .أَهْلَهُ وَمَالَهُ

    হজরত নওফেল বিন মুআবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল ﷺ বলেছেন, যার নামাজ কাজা হয়ে গেল, যেন তার পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেল।

    (মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৪২)

  • চো’খের পাতা লাফায় কেন, এটি ভালো না ক্ষ’তি, জেনে নিন উপকারে আসবে

    চো’খের পাতা লাফায় কেন, এটি ভালো না ক্ষ’তি, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সাধারণত চোখের পাতা লাফানোকে স্বাভাবিক ধরে নেয়া হয়। যাদের এমনটা হয়, তাদের অধিকাংশেরই ধারণা যে, এটি কোনো কারণ ছাড়াই হচ্ছে এবং নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। ফলে গুরুত্ব দেয়া হয় না। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার ইঙ্গিত বলে মনে করেন। এ কারণে চোখের পাতা টলমল বা লাফানো নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকে।

    চোখের পাতা লাফানো বলতে বোঝায়, চোখের এক অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, চোখের পাতার পেশী বা চারপাশের মুখের কিছু অংশের নড়াচড়া করা। কখনো কখনো চোখের পাতা লাফানো স্বাভাবিক এবং এটি প্রায় সবারই হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রেই এটি সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। চোখের পাতা লাফানোর কারণগুলোকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা যায়। এর মধ্যে কিছু চোখের সঙ্গে সম্পর্কিত, কিছু মুখের স্নায়ু এবং পেশী সংশ্লিষ্ট। চোখের পাতা লাফানোর ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক অর্গানাইজেশন। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

    চোখের পাতা লাফানোর কারণগুলো:
    চোখের পাতা লাফানোর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মূলত নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ওপর নির্ভর করে চোখের পাতা লাফানো। কিছু সাধারণ কারণ থাকে, যা সব ধরনের চোখের পাতা লাফানোর জন্য দায়ী। কিছু বিষয় রয়েছে পাতা লাফানোর বিষয়টি অধিকতর খারাপ করে তুলতে পারে।

    কারণগুলো হচ্ছে- মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, ঘুমের অভাব বা ক্লান্তি, ক্যাফেইনের মতো উত্তেজক গ্রহণ, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বা এর বাইরে ওষুধ ব্যবহার, উজ্জ্বল আলো বা আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা, চোখের টান, নিকোটিন ব্যবহার এবং পুষ্টিজনিত ঘাটতি।

    ফ্যাসিকুলেশন:
    ফ্যাসিকুলেশন সাধারণত সৌম্য (নিরাপদ) হয়। এটি হচ্ছে ত্বকের নিচে পেশীর ছোট, অনিচ্ছাকৃত এবং অনিয়মিত মোচড় বা কাঁপুনি। যা সাধারণত ক্ষণস্থায়ী এবং ব্যথাহীন হয়ে থাকে। এসব বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বিনাইন ফ্যাসিকুলেশন সিনড্রোম। ক্যাফেইনের মতো উদ্দীপক বা অ্যালকোহলের মতো স্নায়ুতন্ত্রের বিষণ্ণতা। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম। অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড গ্রন্থি (হাইপারথাইরয়েডিজম)।

    এছাড়া ভাইরাল সংক্রমণ, এ ক্ষেত্রে ভাইরাস স্নায়ুকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে কিংবা ক্ষতিকারকও হতে পারে, খিঁচুনিরও কারণ হতে পারে। তবে বিরল ক্ষেত্রে ফ্যাসিকুলেশন অধিকতর গুরুতর স্নায়বিক অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এসব এমন অবস্থা হতে পারে, যা স্নায়ু, মস্তিষ্ক বা উভয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এ অবস্থার মধ্যে বেশি পরিচিত হচ্ছে অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্কলেরোসিস, যা লু গেহরিট’স ডিজিজ নামে পরিচিত।

    মায়োকিমিয়া:
    এটি খুবই সাধারণ সমস্যা। চোখের পাতার পেশীর অনিচ্ছাকৃত, আপনাআপনি ও সাময়িক সময়ের জন্য কাঁপুনি বা লাফালাফি। যা প্রায়ই একাধিক কারণের সংমিশ্রণে হয়। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও ক্যাফেইন গ্রহণ। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই মায়োকিমিয়ার নির্দিষ্ট কারণ থাকে। যেমন- ওষুধ (অ্যান্টিসাইকোটিকস, অ্যান্টিসাইজার ড্রাগ) এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের (এমএস) মতো অটোইমিউন এবং স্নায়ুতন্ত্রের অবস্থা বা গ্লিওমাসের মতো টিউমারের কারণে।

    ব্লেফারোস্পাজম বা চোখের পাতার খিঁচুনি:
    ব্লেফারোস্পাজম দুই ধরনের, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক। প্রাথমিক হচ্ছে এটি অন্য কোনো অবস্থা বা সমস্যা ছাড়াই হয়ে থাকে। আর মাধ্যমিক হচ্ছে এটি কোনো কিছুর প্রভাবে বা কারণে হয়।

    এই রোগের সাধারণ প্রাথমিক রূপ হচ্ছে বিনাইন অ্যাসেনশিয়াল ব্লেফারোম্পাজম (BEB)। বিশেষজ্ঞরা জানান, বিইবি স্নায়ু সম্পর্কিত কারণে হয়। তবে তারা এখনো বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝে উঠতে পারেননি যে, এটি কীভাবে এবং কেন হয়। এর পেছনে অন্যান্য কিছু কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে আলোর সংবেদনশীলতা (ফটোফোবিয়া) এবং শুষ্ক চোখ দায়ী হতে পারে।

    ব্লেফারোস্পাজমের ক্ষেত্রে আরও ছোট ছোট কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন- ডাইস্টোনিয়া, মেইন সিনড্রোম (এটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে যে, এ অবস্থায় চোখ লাফায় নাকি পাশাপাশি কিছু হয়।)। টার্ডিড ডিস্কিনেসিয়া, কিছু ওষুধ (বিশেষ করে পার্কিনসন রোগের ওষুধ) এবং খিঁচুনি ও মৃগীরোগ।

    হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম:
    এ ধরনের চোখের মোচড় মস্তিষ্ক, মুখের একপাশের স্নায়ু বা উভয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। এটি যেমন অপ্রত্যাশিত, একইভাবে অনিয়ন্ত্রণহীন। এর প্রাথমিক ও ছোট ছোট কিছু ধরন রয়েছে। প্রাথমিক রূপটি সাধারণত তখনই ঘটে, যখন মুখের রক্তনালীগুলো কুঁচকে যায়, একটি লুপ তৈরি করে এবং স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। সংকুচিত স্নায়ু প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং সংযুক্ত পেশীগুলোকে সংকেত পাঠায়। ফলে মোচড় ও খিঁচুনি হয়।

    গুরুতর অবস্থার দ্বিতীয় প্রভাব হিসেবেও হেমিফেসিয়াল স্প্যাজম হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রমা বা আঘাতের কারণে স্নায়ু বা মস্তিষ্কের ক্ষতি, ডাইস্টোনিয়া (এটি অন্যান্য ধরনের চোখের পাতা লাফানোর সঙ্গেও হতে পারে)। মস্তিষ্কের অংশে ক্ষত, মস্তিস্কের টিউমার (ক্যানসারসহ), প্যারোটিভ গ্রন্থিতে টিউমার (এসব লালা উৎপন্ন করে এবং মুখের উপরি অংশের পেছনের দিকে গালে থাকে)।

    নিস্টাগমাস:
    এটি হচ্ছে চোখের একটি অনিয়ন্ত্রিত দোলন বা নড়াচড়া। এর কয়েকটি স্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত রূপ রয়েছে। চোখ যেভাবে নড়াচড়া করে বা নড়াচড়া অনুসরণ করে, তার কারণে হতে পারে। তবে নিস্টাগমাসের অন্যান্য ধরনের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- যদি ক্লান্ত থাকেন, ক্যাফিন বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন (বিশেষ করে অ্যালকোহল গ্রহণ যদি নেশার জন্য যথেষ্ট থাকে)। এছাড়াও রোগের কারণে হতে পারে। এ অবস্থায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ যদি এমন কিছু সন্দেহ করেন, তাহলে আপনাকে একজন স্নায়ু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

  • স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ২৬ তারিখের মধ্যেই ঘোষণা

    স্পিকারের নাম প্রায় চূড়ান্ত, ২৬ তারিখের মধ্যেই ঘোষণা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার কে হবেন, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবারের সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিভিন্ন মহলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

    আগামী ২৬ তারিখের মধ্যে স্পিকারের নাম ঘোষণা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

    দলীয় ও সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের দীর্ঘ আইনজীবী অভিজ্ঞতা, সাংবিধানিক ও নির্বাচনী আইন বিষয়ে দক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা তাকে স্পিকার পদের আলোচনায় এগিয়ে রাখছে।

    তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। সাংবিধানিক, নির্বাচন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার সমন্বয় বিবেচনায় এনে তার নাম আলোচনায় এসেছে।

    যদিও দলীয়ভাবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

    অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নরসিংদী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রবীণ এ নেতাকে কোথায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে জনমনে।

    আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে ড. মঈন খানও হতে পারেন সংসদের স্পিকার।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য নরসিংদী-২ আসন থেকে মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার বাবাও সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন। অনেকের মতে, প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করা হলে তিনি ভালো করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ। স্পিকার সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালী বিধি প্রয়োগ, সংসদীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সাংবিধানিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হয়।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ পরিচালনায় আইনি ব্যাখ্যা, রুলিং প্রদান এবং বিতর্ক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে অভিজ্ঞ আইনজীবীর ভূমিকা কার্যকর হতে পারে।

    রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমুখী আলোচনা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ হিসেবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। আবার অনেকে বলছেন, স্পিকার পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংসদীয় সমীকরণ ও দলীয় কৌশলের ওপর।

    ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হবেন। সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন স্পিকার নির্বাচনের বিধান থাকলেও এবার তা হচ্ছে না।

  • জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি

    জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি

    জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের একটি সংগঠন। আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। 

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’ নামের সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিল, আর সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিটি পাঠ করেন রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন যে, কোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা কোনো সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। এটা জামায়াতের ঘোষিত নীতিও। 

    তনি বলেন, জামায়াতের এই অবস্থান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ ও ২৮ এর সরাসরি লঙ্ঘন। আরপিও অনুযায়ী, কোনো দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য।

    রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া একটি চরম অসাংবিদানিক আদর্শ। 

    তিনি আরো বলেন, নারীর সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপষের বিষয় হতে পারে না। এমতাবস্থায় আমরা জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ, অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচার নিশ্চিত করা এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে বাধ্য করতে হবে। একইসঙ্গে নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনগত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

  • ৮ উপদেষ্টাকে দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

    ৮ উপদেষ্টাকে দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে?

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টাদের মধ্যে ৮ জনকে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।

    শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

    প্রজ্ঞাপনে অনুযায়ী মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবীর রিজভী আহমেদকে ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

    নতুন এই বণ্টন আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
     

  • ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, প্রথমে পাবেন যারা

    ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা, প্রথমে পাবেন যারা

    দেশে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দেন।

    সেখানে অন্যতম ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

    সে সময় বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য-সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়।

    সভায় কৃষিমিন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হবে। এটি পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

    ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। হতদরিদ্র পরিবার সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

    এরপর দরিদ্র পরিবার পাবে।

    তিনি আরো জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটা কার্যকর কিভাবে করবে, সেটা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    এদিকে, বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।

    সবচেয়ে আগে এতে হতদরিদ্ররা অন্তর্ভুক্ত হবেন।

    জানা গেছে, ইতিমধ্যে ১৫ সদস্যের ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। কমিটি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন করবে।

    এ কমিটির কাজের মধ্যে আরো আছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আটটি বিভাগের প্রতিটিতে একটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না পর্যালোচনা, সুবিধাভোগীদের তথ্যভাণ্ডার প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় খানার তথ্যভাণ্ডার আন্ত যোগাযোগ স্থাপনের ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে আগামী মঙ্গলবারের (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করা।

    সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, রাজনৈতিক বিবেচনায় এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীও থাকবে না। এই কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে যাবে। এটি দেওয়া হলেও চলমান ভাতাগুলো অব্যাহত থাকবে।

    ‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা’ কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে। এর অন্য সদস্যরা হলেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, পরিকল্পনা সচিব ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।