Author: Kolome71

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হচ্ছে না যে ভি’টামিনের অভাবে, জেনে নিন

    সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম। স্বাভাবিক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। দিনে ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে তা স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকরে ঘুম হয় না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুম হয় না— এমন মানুষের সংখ্যাও দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে ঘুমের সমস্যা দূর করতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে পারে।

    এদিকে, ভিটামিনের অভাব ঘুম কম হওয়ার একটি বড় কারণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ভিটামিনের অভাবে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

    ভিটামিন ডি
    ভিটামিন ডি হাড়ের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঘুমে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অ্যানিমিয়া বা অনিদ্রার সমস্যা কমে যায়।

    সূর্যালোক ছাড়াও আপনি সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ ও ফলের রস থেকে ভিটামিন ডি পেতে পারেন।

    ভিটামিন ই
    এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা কোষের সুস্থতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন-ই ঘুমের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

    কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি এবং টমেটো থেকে ভিটামিন-ই পাওয়া যায়।

    ভিটামিন সি
    ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা শরীরের বিভিন্ন সমস্যা রোধ করে এবং ভালো ঘুম আনে। পালং শাক, ফুলকপি, সাইট্রাস ফল যেমন— কমলা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সির ভালো উৎস।

    ভিটামিন বি-৬
    এ ভিটামিন অনিদ্রা দূর করতে সাহায্য করে এবং রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

    কলা, গাজর, পালং শাক, আলু, ডিম, চিজ, মাছ এবং গোটা শস্যদানায় প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পাওয়া যায়।

     

    ভিটামিন বি-১২
    এটি মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ঘুমের সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। প্রাণিজ প্রোটিন এবং দুধজাতীয় খাবারে এ ভিটামিন পাওয়া যায়।

  • বারবার ছা’তা হা’রান? কারণ জানলে অ’বাক হবেন

    বারবার ছা’তা হা’রান? কারণ জানলে অ’বাক হবেন

    বর্ষা ও তীব্র রোদে ছাতা আমাদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু প্রয়োজনীয় এই জিনিসটিই সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যায়। বাস, ট্রেন, অফিস, রেস্তোরাঁ, শপিংমল বা বন্ধুর বাড়ি—কোথাও না কোথাও ছাতা ফেলে আসার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। নতুন ছাতা কেনার কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি হারিয়ে ফেলার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়।

    অনেকে বিষয়টিকে নিছক অসাবধানতা বা ভুলে যাওয়ার অভ্যাস মনে করলেও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করে মানুষের মস্তিষ্কের কিছু স্বাভাবিক আচরণগত বৈশিষ্ট্য। মনোযোগের পরিবর্তন, অভ্যাস, আবহাওয়ার প্রভাব এবং কোনো বস্তুর প্রতি মানসিক গুরুত্ব—সব মিলিয়েই তৈরি হয় এই প্রবণতা।

    ‘চোখের আড়াল, মনের আড়াল’
    মনোবিজ্ঞানের একটি বহুল পরিচিত ধারণা হলো ‘Out of Sight, Out of Mind’। অর্থাৎ, কোনো বস্তু চোখের সামনে না থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া কমিয়ে দেয়।

    বৃষ্টির সময় ছাতা মাথার ওপর থাকায় সেটি আমাদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকে। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে বৃষ্টি থেমে গেলে ছাতা ভাঁজ করে পাশে রাখা হয়। তখন মস্তিষ্ক ধরে নেয় কাজ শেষ, ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটির কথা ভুলে যায়।

    কেন মোবাইল নয়, হারায় ছাতা?
    মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা গাড়ির চাবি হারালে আমরা দ্রুত টের পাই। কারণ এসবের সঙ্গে আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্য জড়িয়ে থাকে।

    অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ অবচেতনভাবে মনে করেন, ছাতা হারিয়ে গেলে নতুন একটি কিনে নেওয়া যাবে। তাই মস্তিষ্ক ছাতাকে ‘উচ্চ অগ্রাধিকার’ তালিকায় রাখে না। বের হওয়ার সময় ব্যাগ, ফোন ও মানিব্যাগের কথা মনে থাকলেও ছাতার কথা সহজেই ভুলে যাই।

    আবহাওয়ার পরিবর্তনও বড় কারণ
    বাংলাদেশের আবহাওয়া দ্রুত বদলে যায়। সকালে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে বের হলেও অফিসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে রোদ উঠে যেতে পারে।

    বৃষ্টি থেমে গেলে মস্তিষ্কও পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তখন ছাতার প্রয়োজনীয়তা কমে যায় এবং সেটি বাসের সিটে, অফিসের কোণে বা রেস্তোরাঁর চেয়ারেই পড়ে থাকে।

    ব্যস্ত জীবনের প্রভাব
    বর্তমান জীবনে একসঙ্গে অনেক কাজ সামলাতে হয়। অফিসের চাপ, ফোনকল, মিটিং, কেনাকাটা, যানজট—সব মিলিয়ে মানুষের মনোযোগ বিভিন্ন দিকে বিভক্ত থাকে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ওয়ার্কিং মেমোরি (Working Memory) একসঙ্গে সীমিত সংখ্যক বিষয় মনে রাখতে পারে। তাই ব্যাগ, ফোন, টিকিট বা গন্তব্য নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় ছাতার মতো তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ বস্তু সহজেই স্মৃতি থেকে সরে যায়।

    দামি ছাতা কম হারানোর কারণ
    গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দের, ব্র্যান্ডেড বা তুলনামূলক দামি ছাতা কম হারান।

    এর কারণ, মূল্যবান বা আবেগের সঙ্গে জড়িত বস্তুর প্রতি মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই বেশি মনোযোগ দেয়। তাই নিজের পছন্দের রং, নকশা বা ভালো মানের ছাতা ব্যবহার করলে সেটি মনে রাখার সম্ভাবনাও বাড়ে।

    প্রযুক্তিও হতে পারে সমাধান
    বর্তমানে অনেকেই চাবি বা ব্যাগের মতো ছাতার সঙ্গেও ব্লুটুথ ট্র্যাকার ব্যবহার করছেন। স্মার্টফোনের অ্যাপের মাধ্যমে ছাতার অবস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়। বিদেশের অনেক শহরে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    এ ছাড়া ছাতার হাতলে নিজের নাম ও ফোন নম্বর লিখে রাখলে কেউ পেলে ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

    ছাতা হারানো এড়াতে যা করবেন
    * বের হওয়ার আগে মোবাইল, মানিব্যাগ, চাবির সঙ্গে ‘ছাতা’ যোগ করে একটি মানসিক চেকলিস্ট তৈরি করুন।
    * অন্যের বাড়ি, অফিস বা রেস্তোরাঁয় গেলে ছাতা এমন জায়গায় রাখুন, যেখান দিয়ে বের হওয়ার সময় অবশ্যই চোখে পড়বে।
    * উজ্জ্বল রঙের বা ব্যতিক্রমী ডিজাইনের ছাতা ব্যবহার করুন।
    * সম্ভব হলে ব্যাগে ছোট ভাঁজ করা (ফোল্ডিং) ছাতা রাখুন।
    * ছাতার হাতলে রঙিন ফিতা, স্টিকার বা ট্যাগ লাগান, যাতে সহজে নজরে আসে।
    * বাস বা ট্রেন থেকে নামার আগে অভ্যাস করুন—ফোন, ব্যাগ, ছাতা—এই তিনটি জিনিস একবার দেখে নেওয়ার।

    সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মিডিয়াম, মনোবিজ্ঞানভিত্তিক আচরণগত গবেষণা।

  • প্রতিদিন ডিম খেলে শ’রীরে কী প’রিবর্তন হয়? যা বলছেন বি’শেষ’জ্ঞ

    প্রতিদিন ডিম খেলে শ’রীরে কী প’রিবর্তন হয়? যা বলছেন বি’শেষ’জ্ঞ

    বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ডিম অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার। সহজলভ্য, তুলনামূলক সাশ্রয়ী এবং রান্না সহজ হওয়ায় অনেকেরই প্রতিদিনের খাবারে থাকে ডিম। তবে নিয়মিত ডিম খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে কি না—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

    হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কয়েকটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

    তিনি বলেন, ডিম উচ্চমানের ‘সম্পূর্ণ প্রোটিন’-এর অন্যতম উৎস। একটি ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। তাঁর মতে, একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২ দশমিক ৫ গ্রাম এবং সাদা অংশে প্রায় ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

    চোখের সুরক্ষায় সহায়ক
    ডা. শেঠির মতে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব উপাদান বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং ছানিপড়া (ক্যাটারাক্ট) হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    মস্তিষ্ক ও লিভারের জন্য উপকারী
    ডিমে থাকা কোলিন স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

    কোলেস্টেরল নিয়ে প্রচলিত ধারণা
    ডিম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা হলো এটি কোলেস্টেরল বাড়ায়। তবে ডা. শেঠির দাবি, অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ডিম শরীরের উপকারী বা এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।

    যারা ডিম খান না, তাদের জন্য টোফু ভালো বিকল্প হতে পারে। এতে উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে, যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।

  • বি’ষফো’ড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    বি’ষফো’ড়া কেন হয়, জেনে নিন প্রতিকার

    ত্বকের অন্যতম বেদনাদায়ক এক অনুভূতির নাম ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া। ত্বকে এক বা একাধিক ফোঁড়া দেখা দিলে সে স্থান ও এর আশপাশের জায়গায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু কেন এমন হয় জানেন?

    চিকিৎসাশাস্ত্রে ফোঁড়া দুধরনের। একটি সাধারণ ফোঁড়া অন্যটি বিষফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত স্টাফালোলোকোক্কাস ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রামিত স্থানেই ফোঁড়ার উপস্থিতি দেখা দেয়।

     

    ফোঁড়া বা বিষফোঁড়া

     

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোঁড়া ত্বকের এক কিংবা একাধিক রোমকূপকে কেন্দ্র করেই হয়ে থাকে। ত্বকে একধরনের ব্যাকটেরিয়া (স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিউস) জন্ম নিলে ফোঁড়ার সমস্যা তৈরি হয়।

     

    এ ব্যাকটেরিয়া ত্বকের রোমকূপের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। ত্বকের ভেতরে তৈরি করে ইনফেকশন। এতে শরীরে মৃত কোষ ও ইনফেকশন কোষ মিশে পুঁজ তৈরি হয়ে ‘সোয়েলিং’ শুরু হয়।

     

    একসময় ভেতরের সেই পুঁজ ত্বকের ওপরে উঠে আসে। আর তখনই আমরা ত্বকের ওপরে ফোঁড়ার অস্তিত্ব টের পাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের ওপরে একটি ফোঁড়ার অস্তিত্ব মানেই ত্বকের ভেতরে একাধিক ফোঁড়ার অস্তিত্ব রয়েছে।

     

    ফোঁড়া কেন হয়?

     

    একটি ফোঁড়ার ছোট ছোট মুখ থাকে। সাধারণত কোমর, ঘাড়ে, পিঠে ও কনুইতে বেশি হতে দেখা যায়। তবে ঘাম বেশি হয় এমন স্থানেও ফোঁড়া বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং ফোঁড়া রয়েছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও ত্বকে বাসা বাঁধতে পারে ছোট আকারের এ বিষফোঁড়া।

     

    চিকিৎসকরা বলছেন, কয়েক দিনের যন্ত্রণার পর ফোঁড়া নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে নিজে থেকে ভালো না হলে ফোঁড়ার এ সমস্যা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

     

    তাই ত্বকে ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল যা-ই হোক না কেন, সব সময়ই প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। প্রয়োজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শেরও। আসুন জেনে নিই, ত্বকে কখন ফোঁড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে তার কারণ।

     

     

    ফোঁড়া কাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

     

    মূলত, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, ফোঁড়া তাদেরই বেশি হয়ে থাকে। আবার কোনো সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের দীর্ঘ বা জটিল রোগভোগের পর কিংবা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গেলেও ফোঁড়া হওয়ার শঙ্কা থাকে।

     

    উপসর্গ

     

    ব্যাকটেরিয়া ত্বকের কোনো অংশে ইনফেকশন তৈরি করেছে বা করছে, তা আপনি ত্বকের ওপর থেকে প্রথমে বুঝতে পারবেন না। তাই খেয়াল রাখতে হবে বিশেষ একটি দিক।

     

    বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শরীরে কোনো নির্দিষ্ট অংশের ত্বকের উপরিভাগ কিছুটা শক্ত হয়ে যায় এবং জায়গাটি টিপলে ব্যথা লাগে। এমন অনুভব হলে ওই জায়গাতেই ফোঁড়া বা কার্বাঙ্কল হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

    করণীয়

     

    ফোঁড়ার সমস্যা বেশ কষ্টকর। এ সমস্যা টানা কয়েক দিন আপনাকে ভোগাবে। ফোঁড়ার আকার বড় হলে জ্বরও আসতে পারে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মেনে চলুন বিশেষ কয়েকটি টিপস–

     

    ১। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখার চেষ্টা করুন।

    ২। ফোঁড়া হওয়ার জায়গাটি খোলা রাখতে না পারলে পাতলা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।

    ৩। ত্বকের এক অংশ থেকে অন্য অংশে ফোঁড়া যেন ছড়িয়ে যেতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।

    ৪। পুষ্টিকর সুষম খাদ্য ও তিতা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাইরের তেল চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

     

    ৫। অনেকের ফোঁড়া বা ফুসকুড়ি খোঁটাখুঁটির অভ্যেস রয়েছে। এটা একেবারেই করা যাবে না। কেননা, এতে ব্যাকটেরিয়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের আক্রান্ত করতে পারে।

    ৬। অনেকে জোর করে ফোড়ার পুঁজ বের করার চেষ্টা করেন। এটি করবেন না। কেননা, এতে ত্বকে গভীর ক্ষত তৈরি হতে পারে।

    ৭। ফোঁড়া দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে এন্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।

    ৮। ত্বকের সুস্থতায় এ সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

     

    বিশেষ পরিস্থিতিতে ফোঁড়া রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস এবং শরীরের ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম’-এর ক্ষতি করতে পারে। তাই কয়েক দিনের মধ্যে যদি ফোঁড়া না সারে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • যে ভি’টামিনের অভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন উপকারে আসবে

    যে ভি’টামিনের অভাবে শি’শু ল’ম্বা হয় না, জেনে নিন উপকারে আসবে

    শিশুর বৃদ্ধি (লম্বা হওয়া) সঠিকভাবে না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব। বিশেষ করে, নিম্নলিখিত ৩টি ভিটামিন শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ১. ভিটামিন ডি: এটি হাড়ের বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যায় এবং শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে, যা উচ্চতা বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর প্রধান উৎস হলো রোদ। তাছাড়া ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাত খাবার, মাছ (স্যামন, টুনা)।
     
    ২. ভিটামিন এ: কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ-এর অভাবে শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর উৎস হলো- গাজর, মিষ্টি আলু, দুধ, ডিম, পেঁপে, সবুজ শাকসবজি।

    ৩. ভিটামিন কে: এটি হাড়ের গঠন ও ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন কে-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এর উৎস হলো পালংশাক, ব্রকলি, বাঁধাকপি, সবুজ শাকসবজি, দুধ। অতিরিক্ত কিছু পুষ্টি উপাদান। শুধু এই ভিটামিনগুলোই নয়, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও প্রোটিন-এর অভাবেও শিশুর উচ্চতা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি নাও হতে পারে।

     
    তবে শিশু যদি বৃদ্ধি নিয়ে সমস্যায় থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো। পাশাপাশি, সুষম খাদ্য ও পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ (যেমন ব্যায়াম, খেলাধুলা) শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

  • এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগে

    এনআইডিতে নাম, বয়স, জন্মতারিখ সংশোধনে যেসব কাগজপত্র লাগে

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা, স্বামী-স্ত্রীর তথ্য কিংবা অন্যান্য তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তবে সব ধরনের সংশোধনের জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তার পক্ষে প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

    নাম সংশোধনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয়—

    এসএসসি/জেএসসি/পিএসসি সনদ (যা প্রযোজ্য)

    অনলাইন জন্ম নিবন্ধন

    পাসপোর্ট (যদি থাকে)

    ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে)

    সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ (যদি থাকে)

    কাবিননামা বা বিবাহ সনদ

    স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি

    সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব কাগজপত্রের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামা জমা দিতে হবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন সরেজমিন তদন্তও করতে পারে।

  • অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসলে কোথায় অ’ভিযো’গ করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত

    অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসলে কোথায় অ’ভিযো’গ করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, আগের মাসের তুলনায় তাদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জুন মাসের ব্যবহারের বিপরীতে পাওয়া বিল নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের দাবি, স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিলে অসঙ্গতি মনে হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

    অতিরিক্ত বিলে যা করবেন

    প্রথমে আপনার বিদ্যুৎ মিটারের (ডিজিটাল বা প্রিপেইড) বর্তমান রিডিংয়ের সঙ্গে বিলে উল্লেখ করা রিডিং মিলিয়ে দেখুন। যদি রিডিংয়ে কোনো গরমিল বা ভুল ধরা পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কল সেন্টারে ফোন করে অভিযোগ করুন এবং একটি কমপ্লেইন আইডি (অভিযোগ নম্বর) সংগ্রহ করুন।

    কল সেন্টারে অভিযোগ জানানোর পরও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বিলের কপিসহ নিকটস্থ সাব-জোনাল বা জোনাল বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত অভিযোগ জমা দিন। প্রয়োজনে মিটার পরীক্ষা ও বিল পুনর্মূল্যায়নের আবেদনও করা যেতে পারে।

    যেসব নম্বরে অভিযোগ করবেন

    বিদ্যুৎ বিলসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের জন্য নিচের হটলাইন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে—

    বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় অভিযোগ সেবা: ১৬৯৯৯ (দেশব্যাপী সব গ্রাহকের জন্য)

    বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি): ১৬২০০

    বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি): ১৬৮৯৯

    ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি): ১৬১১৬

    ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো): ১৬১২০

    নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো): ১৬৬০৩

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো): ১৬১১৭

    বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এসব হটলাইন সার্বক্ষণিক চালু রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ বিলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা কোনো ধরনের অসঙ্গতি চোখে পড়লে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ করার সময় বিদ্যুৎ বিল, গ্রাহক নম্বর এবং মিটারের সর্বশেষ রিডিংয়ের তথ্য সঙ্গে রাখলে অভিযোগ নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও সহজ হবে

  • যে ৫ ভু’লে দ্রুত শেষ হয় ফোনের ব্যা’টারি, জেনে রাখুন কাজে লাগবে

    যে ৫ ভু’লে দ্রুত শেষ হয় ফোনের ব্যা’টারি, জেনে রাখুন কাজে লাগবে

    স্মার্টফোনে এখন অসংখ্য ফিচার রয়েছে, তবে সব ফিচার সবসময় চালু রাখার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় এমন কিছু সেটিংস অকারণে সারাক্ষণ চালু থাকে, যার ফলে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে ফোন আগের তুলনায় কম ব্যাটারি ব্যাকআপ দিচ্ছে, তাহলে নিচের ৫টি সেটিংস পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

    ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখবেন না

    ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ ব্যবহার না করলেও যদি এগুলি চালু থাকে, তাহলে ফোন আশপাশের নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস খুঁজতে থাকে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্ক্যানিংয়ের কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাটারি খরচ হয়। তাই প্রয়োজন শেষ হলে ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ করে দিন।

    কুইক শেয়ার বন্ধ রাখুন

    স্যামসাংয়ের কুইক শেয়ার ফিচার বড় ফাইল দ্রুত শেয়ার করতে সাহায্য করে। তবে এটি চালু থাকলে ফোন সবসময় আশপাশের ডিভাইস খুঁজতে থাকে এবং ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ব্যবহার করে। ফলে ব্যাটারি দ্রুত কমতে পারে। ব্যবহার না করলে কুইক শেয়ার সেটিংস থেকে কাওকে ফাইল শেয়ার করার অপশনটি বন্ধ রাখুন।

    হ্যাপটিক ফিডব্যাক বা ভাইব্রেশন কমিয়ে দিন

    কীবোর্ডে টাইপ করা, নম্বর ডায়াল করা বা বিভিন্ন কাজে ফোনে যে ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়, তাকে হ্যাপটিক ফিডব্যাক বলা হয়। প্রতিবার ভাইব্রেশনের জন্য মোটর কাজ করে, যা দীর্ঘ সময়ে ব্যাটারির উপর প্রভাব ফেলে। তাই প্রয়োজন না হলে এই ফিচারটি বন্ধ রাখুন।

    ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ সীমিত করুন

    অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা সিঙ্ক ও আপডেট করতে থাকে। এতে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। তাই যে অ্যাপগুলির ব্যাকগ্রাউন্ডে চলার প্রয়োজন নেই, সেগুলির ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে রেস্ট্রিক্টেড নির্বাচন করুন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ইউজেস বন্ধ করুন।

    লোকেশন সবসময় চালু রাখবেন না

    ডিসপ্লের পর ফোনের সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করে জিপিএস বা লোকেশন সার্ভিসেস। অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার অবস্থান ব্যবহার করে। তাই প্রয়োজন না থাকলে লোকেশন বন্ধ রাখুন এবং শুধুমাত্র নেভিগেশন বা লোকেশন-নির্ভর কাজের সময় এটি চালু করুন।

    এই কয়েকটি সহজ পরিবর্তন করলে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা, স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমানো এবং পাওয়ার সেভিং মোড ব্যবহার করলেও ব্যাটারির আয়ু আরও বাড়ানো সম্ভব।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে অ’তিরি’ক্ত ঘা’ম ঝরে, জেনে রাখুন উপকারে আসবে

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে অ’তিরি’ক্ত ঘা’ম ঝরে, জেনে রাখুন উপকারে আসবে

    তীব্র গরম অথবা বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকলে ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণত ঘামের মাধ্যমে শরীরে জমা টক্সিন বা দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। কিন্তু ঘাম বের হওয়ারও একটা মাত্রা থাকতে হয়। অকারণে অস্বাভাবিক হারে ঘাম হলে তা জটিল কোনো রোগের উপসর্গ বলে ধরে নেওয়া হয়। 

    শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘামঝরার পেছনে ভিটামিন ডি–এর ঘাটতি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে, বিশেষ করে মাথায় ঘাম বেশি হলে। তবে ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম লক্ষণ হিসেবে নবজাতকদের ক্ষেত্রে মাথায় অতিরিক্ত ঘামকে ধরা হয়।

    এছাড়া, ভিটামিন বি–এর অভাব (বিশেষ করে বি১ বা থায়ামিন) থেকেও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, কারণ এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। আবার 
    ভয়, উদ্বেগ বা আতঙ্ক থেকেও অনেক সময়ে ঘাম হয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলেই এই উপসর্গটি প্রকট হয়ে ওঠে।

    অতিরিক্ত ঘাম ছাড়া এই ভিটামনের অভাবে আর কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়?

    হাড়ের ক্ষয়

    হাড় মজবুত ও শক্তিশালী রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম। যার জোগান দেয় ভিটামিন ডি। তবে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকলে ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ভিতর থেকে ক্ষয়ে যেতে থাকে।

    অত্যধিক ক্লান্তি

    শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাবে ঘটলে সব সময়ে একটা ক্লান্তি ঘিরে থাকে। অতি অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়।

    ওজন বৃদ্ধি

    হু হু করে ওজন বাড়ার একটি বড় কারণ কিন্তু হতে পারে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি। শরীরে পরিমাণ মতো ভিটামিন ডি-র অভাব ঘটলে বাড়তে পারে ওজন।

    চুল পড়া

    মূলত পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবেই চুল পড়ে। কিন্তু চুল পড়ার আরও একটি কারণ হলো ভিটামিন ডি-র ঘাটতি। ভিটামিন ডি চুল ভালো রাখতে ব্যাপক সাহায্য করে। ফলে শরীরে ভিটামিন ডি যদি কোনো কারণে কমে যায়, তার একটি লক্ষণ হতে পারে চুল ঝরা।

    ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া

    ভিটামিন ডি শরীরের যেকোনো ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো ক্ষতস্থান না শুকোয়, তা হলে ধরে নেওয়া যেতে পারে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

    তবে ভিটামিনের ঘাটতি ছাড়াও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে নানা কারণে—যেমন হরমোনজনিত সমস্যা, ইনফেকশন, মানসিক চাপ বা হাইপারহাইড্রোসিস।

  • যে ভি’টামিনের অ’ভাবে সারাক্ষণ ঘুম পায়, জেনে নিন উপকারে আসবে

    যে ভি’টামিনের অ’ভাবে সারাক্ষণ ঘুম পায়, জেনে নিন উপকারে আসবে

    সাধারণত, একজন ব্যক্তির জন্য দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম পর্যাপ্ত। কিন্তু সারারাত ঘুমিয়েও সকালে উঠতে অনেকের ক্লান্তি অনুভব হয়। সকালের নাস্তা সারতেই চোখে যেন ঘুম আবারও জেঁকে বসে। ঘুম পাওয়া খুবই স্বাভাবিক, তবে মাত্রাতিরিক্ত ঘুম কী কারণে হয় তা জেনে নিন-

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত দুটি ভিটামিনের অভাবেই এই লক্ষণ দেখা যায়। এর কারণে কাজ করতে ভালো লাগে না। প্রবল আলস্য ঘিরে ধরে শরীরকে। এ থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। 

    মূলত ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে শরীরে এই আলস্য ভাব দেখা যায়। 

    ভিটামিন ডি ও  ভিটামিন বি১২-

    ভিটামিন ডির কমতির জন্য হাড়ের জোর কমে, চুল পড়তে শুরু করে। দীর্ঘদিন যাবৎ রোদে না বের হওয়ার ফলে এই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হতে পারে। ভালো খাবারের অভাবেও এই ঘাটতি দেখা দেয়। তাই এই সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন দুধ, দই বা পনির জাতীয় খাবার পাতে রাখতে হবে, যা থেকে ভালো মাত্রায় ভিটামিন ডি মিলবে।

    ভিটামিন ‘বি’, বিশেষ করে বি-১২ হলো সেই অন্যতম প্রধান ভিটামিন যার অভাবে ক্লান্তি বাড়ে ও ঘুম বেশি পেতে থাকে। এছাড়া, রক্তস্বল্পতার কারণে ক্লান্তি পেতে পারে, যা অতিরিক্ত ঘুমের দিকে পরিচালিত করে। 

    লোহিত রক্তকণিকা এবং ডিএনএ উৎপাদনের জন্য ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য। যখন আপনার শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায় না তখন আপনি সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। এমনকি ঘুম ঘুম বোধ হতে পারে।

    অন্যদিকে সয়াবিন খেলেও ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২ দুটির চাহিদাই পূরণ হয় ভালোভাবে। 

    ভিটামিনের ঘাটতির এই লক্ষণ আগে থেকে দেখে সচেতন না হলে পরে বড় কোনো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    তাই সতর্ক হোন। মনে রাখবেন আমাদের শরীরে এই ভিটামিন তৈরি হয় না। খাদ্য থেকে এটি আহরণ করতে হয় শরীরকে। ভিটামিন বি১২ এর খাদ্য উত্স হলো মাছ, মাংস, ডিম, স্যামন। 

    সূত্র : এবিপি লাইভ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ