যে ভি’টামিনের অ’ভাবে ঘা’ড়ে ব্য’থা হয়, জেনে নিন

আপনার শরীরে দুটি ভিটামিনের যে কোনো একটির অভাব হলেই ঘাড় কিংবা কাঁধের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, কামড়ানো কিংবা অবশ ভাব হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রধানত ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়। এসবের অভাবে ঘাড়ে কামড়ানো বা পেশি শক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আবার কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাবে এ সমস্যা তীব্র হতে পারে। সে জন্য ভিটামিন ডি হাড় ও পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

আবার যদি টানা কয়েক দিন ধরে ঘাড় ব্যথার সমস্যা থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের ভিটামিন ডি ও বি১২ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ এ সমস্যা সমাধানে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত তৈলাক্ত মাছ, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি। এতে আপনার পেশির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

ভিটামিন বি১২ এটি স্নায়ুর সুরক্ষায় কাজ করে থাকে। আপনার শরীরে বি১২-এর অভাব হলে ঘাড়ের স্নায়ুতে চাপ পড়ে বা অবশ ভাব তৈরি হয়, যা সারভাইকাল র্যাডিকুলোপ্যাথির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। 

আবার কখনো কখনো ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলেও ঘাড়ে অসহ্য ব্যথা হয়। আপনার শরীরে পানির ঘাটতি হলেও পেশিতে ক্র্যাম্প ধরে। তবে শুধু পানি খেলেই হবে না, পানিতে সঠিক খনিজ পদার্থ থাকাটাও জরুরি। কারণ সোডিয়াম পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলেও ঘাড় শক্ত হয়ে যেতে পারে। যারা বেশি খেলাধুলা করেন, ঘামের মধ্য দিয়ে তাদের শরীর থেকে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায়। অনেক সময় হঠাৎ করে খুব কঠিন ব্যায়াম করতে গেলেও ঘাড়ের পেশিতে টান লাগে। সে ক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে লবণপানি খেতে বলা হয়। পাশাপাশি শরীরে প্রোটিন কমে যাওয়াও ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার একটি বড় কারণ। 

সেজন্য ডিম, মাছ আর মাংস— এসব খাবারে প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। সে জন্য রুই, কাতলা বা স্যামন মাছের মতো সামুদ্রিক ও দেশি মাছে প্রতি ১০০ গ্রামে ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। নিরামিষের মধ্যে দুধ, পনির, ডাল, শিম, সয়াবিন ও টোফুতেও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। এসবেই আপনার ঘাড় ব্যথা নিরাময় করে। এ ছাড়া ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়াম হাড় মজবুত রাখে।

আবার অনেকের ঘুম থেকে ওঠার সময়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, কারও আবার ঘাড় সামান্য ঘোরালেই ব্যথায় কুঁকড়ে যেতে হয়! অনেকেই মনে করেন, ব্যথার ওষুধ খেলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এটা ঠিক নয়। কারণ এতে সাময়িকভাবে যন্ত্রণা কমলেও কিছু দিন পর আবার ব্যথা শুরু হয়। 

আবার অনেকেই মনে করেন, সূর্যের আলোয় বের হলে শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি হবে না। কিন্তু বিষয়টি এতটাও সহজ নয়। সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পাওয়া যাবে ঠিকই, তবে ত্বক থেকে তা বিভিন্ন প্রক্রিয়ার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার যে পদ্ধতি, তা খুবই ধীর গতিতে হয়। সে ক্ষেত্রে খাবার থেকেই সরাসরি ভিটামিন ডি শরীরে ঢুকতে পারে। যেমন তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে, সামুদ্রিক মাছ, দুগ্ধজাত খাদ্য ও ডিমেও ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়। ইলিশ মাছ, রুই-কাতলার পেটি ও তেল, তেলাপিয়া ও সরপুঁটি, দানাশস্য ও ওটস, ফর্টিফায়েড দুধ ও দইয়ে ভিটামিন ডি মেলে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *