কতবার চা’ল ধো’য়া উ’চিৎ, বেশি ধু’লে যে ক্ষ’তি হয়, জেনে নিন

ভাত রান্নার আগে চাল পাঁচ-ছয়, এমনকি সাতবার পর্যন্ত ধুয়ে নেওয়া—বাঙালি ও দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবারের পরিচিত অভ্যাস। চাল ধোয়ার পানি একেবারে স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত পানি বদলাতে থাকেন অনেকে। কিন্তু চাল পরিষ্কার করতে সত্যিই কি এতবার পানি ব্যবহার করা দরকার? বিশেষজ্ঞদের তথ্য বলছে, শুধু পানির স্বচ্ছতা দেখেই চাল কতবার ধুতে হবে, তা নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে পানি সংকট ও খরার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পানি সাশ্রয়ে নানা সচেতনতামূলক প্রচার শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দক্ষিণ এশীয় পরিবারগুলোর রান্নাঘরের অভ্যাস নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। সেখানে পাঁচ-সাতবার চাল ধোয়ার পরিবর্তে দুবার ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চালের গায়ে থাকা ধুলো, ময়লা এবং অতিরিক্ত স্টার্চ দূর করাই মূলত চাল ধোয়ার উদ্দেশ্য। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক পরিবারে চাল ধোয়ার সময় বারবার পানি বদলানোর প্রচলন রয়েছে।

পানি ঘোলা থেকে স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত চাল ধুতে থাকেন অনেকে। তবে চালের পানি পুরোপুরি স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত বারবার ধোয়া প্রয়োজন—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই।

সাধারণভাবে দু-তিনবার ভালোভাবে চাল ধোয়া যথেষ্ট হতে পারে। পাঁচ-সাতবার ধুলেই চাল আরও পরিষ্কার বা নিরাপদ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বরং অতিরিক্ত ধোয়ার ফলে চালের পানিতে দ্রবণীয় কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে আয়রন, ফোলেট, থায়ামিন ও নিয়াসিনের মতো পুষ্টি উপাদান পানিতে মিশে কিছুটা বেরিয়ে যেতে পারে।

তবে চাল ধোয়ার ফলে কতটা পুষ্টি কমে, তা চালের ধরন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও নির্ভর করে।

চাল বারবার ধুলেই আর্সেনিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। চালের আর্সেনিক কমানোর ক্ষেত্রে রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে বেশি পানিতে চাল সেদ্ধ করে অতিরিক্ত পানি ফেলে দেওয়ার পদ্ধতি কিছু ক্ষেত্রে চালের আর্সেনিকের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই আর্সেনিকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে শুধু চাল ধোয়ার সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে নিরাপদ রান্নার পদ্ধতিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

চালের পানি স্বচ্ছ হলেই কি চাল পরিষ্কার?
না। চাল ধোয়ার পানিতে কিছুটা ঘোলাভাব থাকা মানেই চাল অপরিষ্কার—এমন নয়। চালের স্বাভাবিক স্টার্চও পানিকে ঘোলা করতে পারে।

তাই পানি একেবারে কাচের মতো স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ-সাতবার চাল ধুতে থাকার প্রয়োজন নেই। দু-তিনবার ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াই সাধারণ রান্নার জন্য যথেষ্ট।

এতে চাল পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পানির অপচয় এবং পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান হারানোর ঝুঁকিও কমানো যায়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *