ড্রা’গন ফলে আছে যেসব ভি’টামিন, কারা খা’বেন আর কারা এড়িয়ে যাবেন, জেনে নিন

এক সময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন বাংলাদেশের বাজারেও সহজলভ্য ড্রাগন ফল। আকর্ষণীয় রঙ আর মিষ্টি স্বাদের কারণে অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই ফল। শুধু স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি বেশ সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সবার জন্য এটি সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। তাহলে কারা নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন, আর কারা এড়িয়ে চলবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ড্রাগন ফলে কী কী পুষ্টি রয়েছে?

ড্রাগন ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১, বি২ ও বি৩, অল্প পরিমাণ ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং প্রচুর খাদ্য আঁশ। এছাড়া এতে বেটালেইন ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

এক কাপ (প্রায় ২২৫ গ্রাম) ড্রাগন ফলে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং পানির পরিমাণ বেশি। তাই এটি হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ধরা হয়।

যাদের জন্য উপকারী হতে পারে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে: ড্রাগন ফলে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে: যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ড্রাগন ফল উপকারী হতে পারে। এতে থাকা খাদ্য আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং মলত্যাগ সহজ করতে ভূমিকা রাখে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে: কম ক্যালরি, বেশি পানি ও পর্যাপ্ত ফাইবার থাকার কারণে ড্রাগন ফল দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের (হার্ট) জন্য: ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। এই ফলের মধ্যে প্রচুর ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: পরিমিত পরিমাণে ড্রাগন ফল খাওয়া বেশিরভাগ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ হতে পারে। এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিমিত পরিমাণে খেলে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য ড্রাগন ফল সাধারণত নিরাপদ। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

যাদের সতর্ক থাকা উচিত

অ্যালার্জি থাকলে: অ্যালার্জি থাকলে এড়িয়ে চলা উচিত।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে: ড্রাগন ফলে পটাশিয়াম রয়েছে। যাদের কিডনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অথবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ফল না খাওয়াই ভালো।

সংবেদনশীল পেট হলে: একসঙ্গে বেশি পরিমাণে ড্রাগন ফল খেলে অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে কারও কারও গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা হতে পারে।

নিম্ন রক্তচাপ থাকলে: ড্রাগন ফল রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়—এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম থাকে বা রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, তারা পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

প্রতিদিন কতটা খাওয়া উচিত?
ড্রাগন ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তবে একটি মাঝারি আকারের ড্রাগন ফল বা প্রায় এক কাপ টুকরো করা ফল একবারে খাওয়া অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত
* ড্রাগন ফল নিয়ে বেশ কিছু প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যার সবই সঠিক নয়।
* এটি অ্যানিমিয়া সারিয়ে দেয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। এতে আয়রন থাকলেও এটি অ্যানিমিয়ার চিকিৎসার বিকল্প নয়।
* ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে—এ দাবিরও যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

সব কিডনি রোগীর জন্য এটি ক্ষতিকর—এটিও সঠিক নয়। মূলত যাদের পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই সতর্কতা প্রয়োজন।

সূত্র: বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *