সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এতো রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। অর্থাৎ, জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে শান মাসুদের দলকে। এমন লক্ষ্য দেয়ার পরেও কিছু রান কম করার আক্ষেপ জানিয়েছেন বাংলাদেশি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি ২০০৩ সালে গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমন এক অবিশ্বাস্য সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে বোলিং দলের পুরোপুরি নির্ভার থাকার কথা থাকলেও, বাংলাদেশ শিবির কিন্তু মোটেও গা ভাসাচ্ছে না।
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম উইকেটের আচরণ এবং দলের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলেন। লিড পাহাড়সম হলেও ব্যাটিংয়ের উপযোগী উইকেটের কারণে আরও কিছু রান তোলার আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে।
তাইজুল বলেন, ‘আমাদের লিডটা আরও একটু লম্বা করতে পারলে হয়তো দলের জন্য ভালো হতো। কারণ, উইকেট এখনো (ব্যাটিংয়ের জন্য) ভালো আছে। আমরা যদি দ্বিতীয় ইনিংসে আরও কিছু ভালো জুটি গড়তে পারতাম, তবে লক্ষ্যটা আরও বড় করা যেতো।’
বাংলাদেশের লিড ৪০০ পার করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের। দ্বিতীয় ইনিংসে অনবদ্য এক সেঞ্চুরি করে ১৩৭ রানে যখন তিনি শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন, তখন তার চোখে-মুখে ছিল চরম হতাশা। এমনকি বাউন্ডারি লাইন পার করার সময় রাগে-ক্ষোভে হেলমেট ছুড়ে মারতেও দেখা যায় তাকে। টিভি ক্যামেরায় সেটি দেখাও যায়। দলের রান আরও বাড়াতে না পারার সেই আক্ষেপের বিষয়টি তাইজুলের কথাতেও স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
মুশফিকের হতাশা ও দলীয় রান প্রসঙ্গে তাইজুল বলেন, ‘আমরা যদি স্কোরবোর্ডে আরও ২০, ৩০ বা ৪০ রান যোগ করতে পারতাম, তাহলে বোলারদের জন্য কাজটা আরও সহজ হতো। তবে এটা নিয়ে খুব বেশি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ ক্রিকেটে সব সময় শতভাগ মনের মতো বা চাওয়া মতো সবকিছু হবে না।’
মুশফিকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৭৭ রানের এক জুটি গড়ার পথে নিজে ২২ রান করেন তাইজুল। দলের স্কোরবোর্ডে কিছু রান কম হয়েছে বলে মনে করায় স্বাভাবিকভাবেই এখন মূল চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে বোলাদের।
চতুর্থ ইনিংসে উইকেট এখনো ব্যাটারদের পক্ষে থাকলেও এত বড় রানের মনস্তাত্ত্বিক চাপ পাকিস্তানের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস তাইজুলের। তবে জয়ের জন্য বোলারদের লাইন-লেন্থ ধরে রেখে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করার ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি।
তাইজুল বলেন, ‘এটা ম্যাচের চতুর্থ ইনিংস। উইকেট এখনো যথেষ্ট ভালো আচরণ করছে। কিন্তু দিন শেষে আমাদের লক্ষ্যটা কত, পাকিস্তানের ব্যাটারদের সেটাও দেখতে হবে। তারা যখন ৪৩৬ রানের এই বিশাল সংখ্যাটা দেখবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মাথায় অনেক মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাজ করতে পারে। উইকেট যেমনই থাকুক, আমাদের মূল কাজ হলো শতভাগ শৃঙ্খলা মেনে লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করে যাওয়া।’

Leave a Reply