নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে স্কেল অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে চাকরির শুরুতে মূল বেতন হবে ৩২ হাজার টাকা। সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন শুরু হবে ২৪ হাজার টাকা থেকে।
সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দশম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। পুরনো কাঠামোয় এ গ্রেডের শুরুতে মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে তা হবে ২৪ হাজার টাকা।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে আরো ৪ হাজার টাকা করে যোগ হয়ে মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টসহ এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন হারে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হলে একজন নতুন প্রধান শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। পুরনো কাঠামোয় এ গ্রেডের মূল বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা থেকে। নতুন কাঠামোয় শুরুতেই তা হবে ২৪ হাজার টাকা। ইনক্রিমেন্টসহ সর্বোচ্চ মূল বেতন হতে পারে ৫৮ হাজার টাকা। ২০২৮ সাল থেকে নতুন একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে।
তবে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ভর করবে চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন ও ইনক্রিমেন্টের ওপর। চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পর।
প্রসঙ্গত, সদ্য অনুমোদিত নবম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে নতুন করে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি বেতন-ভাতা পাবেন। তবে বর্তমানে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির হিসাব হবে কিছুটা ভিন্ন। চাকরির মেয়াদ, বর্তমান মূল বেতন, প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবে তাদের নতুন বেতন-ভাতার পরিমাণ।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ২০টি গ্রেড রয়েছে। বিসিএস ক্যাডারসহ প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ কর্মকর্তা নবম গ্রেডে যোগ দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি পদে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদ ১৩তম গ্রেডের এবং প্রধান শিক্ষক পদ ১০ম গ্রেডের।
২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে নবম গ্রেডের মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন বেতনকাঠামোয় এ গ্রেডের মূল বেতন দ্বিগুণ হয়ে ৪৪ হাজার টাকা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

Leave a Reply