নিয়মিত আ’দা খেলে শ’রীরে যে পরিবর্তন হয়, জেনে নিন

তরকারির স্বাদ বাড়াতে আদার ব্যবহার বহু পুরোনো। শুধু স্বাদের জন্য নয়, আদায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদানের কারণে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরও অংশ হতে পারে। 

টানা এক মাস প্রতিদিন নিয়মিত আদা খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে?

বমিভাব কমায়

আদার সবচেয়ে পরিচিত গুণগুলোর একটি হলো বমিভাব ও বমির প্রবণতা কমাতে সহায়তা করা। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের বমিভাবের ক্ষেত্রে আদার উপকারিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ আদা রাখলে অনেকের ক্ষেত্রে পেটের অস্বস্তি ও বমিভাব কিছুটা কমতে পারে।

হজমে স্বস্তি

আদা হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। এটি পাকস্থলী থেকে খাবার দ্রুত অন্ত্রে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা বদহজমের মতো কিছু সাধারণ অস্বস্তিতে উপকার মিলতে পারে।

ব্যথা কমায়

আদায় থাকা জিঞ্জেরল ও অন্যান্য যৌগের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিয়মিত আদা খাওয়ার ফলে শরীরের প্রদাহজনিত কিছু প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আদার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে নিয়মিত সেবনে কিছু ধরনের ব্যথা ও পেশির অস্বস্তি কমতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। বিশেষ করে মাসিকের সময়ের ব্যথা নিয়েও আদার সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

পেট পরিষ্কার রাখে

হজমের ওপর ইতিবাচক প্রভাবের পাশাপাশি আদা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও সহায়তা করতে পারে। ফলে নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আদা খেলে কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।

রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের ওপর প্রভাব

আদা নিয়ে কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা ও রক্তের চর্বির মাত্রার ওপর সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুধু এক মাস আদা খেলেই ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন দাবি করার মতো প্রমাণ নেই। এসব ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে খাওয়া যায় আদা

প্রতিদিন আলাদা করে কাঁচা আদার টুকরা চিবিয়ে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। চা, স্যুপ, তরকারি, স্মুদি কিংবা অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়া যেতে পারে। আদার ঝাঁঝালো স্বাদ অনেকের কাছে তীব্র মনে হতে পারে, তাই নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করাই ভালো।

এক মাস প্রতিদিন আদা খেলেই সবার শরীরে একই ধরনের পরিবর্তন হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিমাণে আদা দৈনন্দিন খাবারের একটি উপকারী অংশ হতে পারে। এর সম্ভাব্য উপকারের মধ্যে হজমে সহায়তা, বমিভাব কমানো এবং প্রদাহজনিত অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *