আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ নিয়ে তু’মুল বিত’র্কের পর মুখ খু’লল ফিফা

মাঠের খেলায় লড়াইটা হয়েছে অবিশ্বাস্য। আর্জেন্টিনাকে শেষ ষোলো থেকে প্রায় বিদায়ই করে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ মিসর। তবে শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। ২ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয় ৩-২ গোলের।

তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বিতর্কিত ঘটনার জন্যই ম্যাচটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত, রেফারির ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারির (ভিএআর) সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এমনকি মিসর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে।

পুরো ফুটবল বিশ্ব যখন এই ম্যাচ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। তখন চুপ ছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। অবশেষে মুখ খুলেছে তারা। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানাল ফিফা।

বিবৃতিতে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কোনো পক্ষকে ইচ্ছাকৃত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জানেন, বড় ম্যাচে বিতর্ক তৈরি হলে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে বিশ্লেষণ করা জরুরি। সেই কারণে তিনি নিজেই ঘটনাটি একাধিকবার পর্যালোচনা করেছেন।

তার ভাষায়, ‘ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো তিনি দশবারেরও বেশি দেখেছেন। বিভিন্ন ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থামিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং ভিএআর টিমের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও রিপ্লেও খতিয়ে দেখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, কোনো দলকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সত্য যাচাই করতেই এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ফিফা সভাপতির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভিএআর দল ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পক্ষকে সুবিধা দিতে চেয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সমর্থকদের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে এবং ভিন্ন মত থাকা স্বাভাবিক।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি কেন মিসরের সমর্থকেরা হতাশ। একইসঙ্গে এটাও বুঝতে পারি, কেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা মনে করেন সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল। এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে– এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা কঠিন।’

ফিফা কোনো পক্ষকে খুশি করতে চায় না জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফার দায়িত্ব কোনো একটি পক্ষকে খুশি করা নয়। বরং খেলার আইন সবার জন্য সমানভাবে ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করাই ফিফার মূল লক্ষ্য।’

রেফারিং বিভাগ প্রয়োজন মনে করলে ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তগুলো আরও বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো রেফারি বা সিদ্ধান্তই পর্যালোচনার বাইরে নয়।

ফুটবলের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলে আবেগ ও বিতর্ক থাকবে। তবে স্বচ্ছতা, ধারাবাহিকতা এবং জবাবদিহিতাই খেলাটির প্রতি বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *