ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচে জি’তবে কে, জানালো সু’পার ক’ম্পি’উটার

বিশ্বকাপের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ শিরোপার মিশনে নামা ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা নরওয়ে। রোববার রাতের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই মাঠের বাইরের স্নায়ুযুদ্ধ জমিয়ে তুলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

পরিসংখ্যান ও ফুটবলীয় ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’-র সুপার কম্পিউটার ২৫ হাজার বার এই ম্যাচের গতিপ্রকৃতি সিমুলেশন (কাল্পনিক ম্যাচ) করেছে। আর সেই কম্পিউটারাইজড ভবিষ্যদ্বাণী বলছে, শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরাই।
 

অপ্টার সুপার কম্পিউটারের চুলচেরা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা সিংহভাগ–৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিপরীতে আর্লিং হল্যান্ডের নরওয়ের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বাকি ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে ম্যাচটি ড্র হয়ে অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারে গড়ানোর আভাস রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যেভাবেই শেষ হোক-না কেন, সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল এগিয়ে আছে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে। আর ইতিহাস গড়ে নরওয়ের শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ মাত্র ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এই ম্যাচে যে দলই জিতবে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকোর বিপক্ষে।
 

সুপার কম্পিউটারের হিসাব বাদ দিলেও ইতিহাসের পাতা ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিলের রেকর্ড এককথায় অবিশ্বাস্য। নিজেদের শেষ ১০টি শেষ ষোলোর ম্যাচের ৯টিতেই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। এই মঞ্চে তাদের সবশেষ তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে, যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল সেলেসাওরা।

অন্যদিকে নরওয়ের জন্য নকআউট পর্বের স্বাদ একদমই নতুন। গ্রুপ পর্বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে আর্লিং হল্যান্ডের নাটকীয় গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে তারা, যা বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে নরওয়ের প্রথম কোনো জয়। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে নকআউট খেললেও দুবারই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

দুই দলই অবশ্য বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে এই পর্বে এসেছে। আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয় পেতে হয়েছে ব্রাজিলকে। কাইশু সানোর গোলে পিছিয়ে পড়ার পর কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে সেলেসাওরা। এরপর ম্যাচ শেষের ঠিক আগমুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির করা দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে তারা।

ওই ম্যাচে মার্তিনেল্লির গোলের জোগানদাতা ছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার চতুর্থ অ্যাসিস্ট (গোলে সহায়তা)। আর এর মাধ্যমেই ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের এক অনন্য কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছেন গিমারায়েস। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের এক আসরে ব্রাজিলের হয়ে তার চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড আছে কেবল পেলের; ১৯৭০ সালের বিখ্যাত বিশ্বকাপে পেলের অ্যাসিস্ট ছিল ৬টি।

পেলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা গিমারায়েস আর ছন্দে থাকা মার্তিনেল্লিদের নিয়ে ব্রাজিল কি পারবে সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করতে? নাকি হল্যান্ডের নরওয়ে তৈরি করবে নতুন কোনো রূপকথা–তার উত্তর মিলবে আজ রাতের মাঠের লড়াইয়েই।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *