শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের ছুটি কবে থেকে শুরু, কবে খুলবে?

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সবস্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি শুরু হচ্ছে। আগামী ২৪ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাগুলোতে একযোগে এই ছুটি শুরু হবে। তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে ক্লাসের পরেই লম্বা ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি (ছুটির তালিকা) বিশ্লেষণ করে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের ছুটি কার্যকর হবে ২৪ মে (রোববার) থেকে। কিন্তু তার আগে ২২ মে (শুক্রবার) এবং ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২১ মে বৃহস্পতিবারই হবে প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। অর্থাৎ, ২২ মে থেকেই কার্যত শিক্ষার্থীরা ছুটির আমেজে প্রবেশ করবে।

কবে খুলবে কোন প্রতিষ্ঠান?
ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ২৪ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হবে ৭ জুন (রোববার)। অর্থাৎ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরিতে নির্ধারিত ছুটি থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটিসহ শিক্ষার্থীরা টানা ১৬ দিনের ছুটি ভোগ করবে।

অন্যদিকে, দেশের সব মাদ্রাসায় (আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল) ছুটি কিছুটা দীর্ঘ। মাদ্রাসার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে মাদ্রাসার ক্লাস পুনরায় শুরু হবে ১৪ জুন। অর্থাৎ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের (সাপ্তাহিক ছুটিসহ প্রায় ২৩ দিন) বড় ছুটি পাচ্ছে।

পরবর্তী বড় ছুটি কবে?
জুন মাসে স্কুল-মাদ্রাসা খোলার পর পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ছুটি শুরু হবে জুলাই মাসে। ২৯ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষে একদিনের ছুটি রয়েছে। এরপর ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার সোম্বা এবং ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষেও ছুটি রয়েছে।

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মের তীব্রতা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের অবকাশ যাপনের জন্য সমন্বয় করে শিক্ষাপঞ্জিতে প্রতি বছরই এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *