চাকরি ছেড়ে গরুর খামারি : কু’রবা’নির হাট কাঁপাবে মামুনের ১ টনের ‘লাল মিয়া’

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী এলাকার যুবক মো. মামুন হোসেন প্রমাণ করেছেন চাকরিই জীবনের একমাত্র পথ নয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার। যা এখন স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, চাকরি ছেড়ে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন মামুন হোসেন। শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিচালিত এই খামার বর্তমানে একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বর্তমানে খামারটিতে গাভীসহ প্রায় ২৬টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুই নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে লালন-পালন করা হয়। খামারের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে খামারের ২৬টি গরুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘লাল মিয়া’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। শাহিওয়াল জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি), যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।

খামার মালিক মামুন হোসেন বলেন, লাল মিয়াকে আমরা একেবারে স্বাভাবিকভাবে বড় করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি। ঘাস, ভুসি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই তাকে লালন-পালন করা হয়েছে। চার বছর ধরে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে লাল মিয়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এছাড়া খামারে আরও প্রায় ৭টি ষাড় গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকার মধ্যে। খামার কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এবারের কোরবানির ঈদে ভালো বিক্রি হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে গরু পালন করে এমন সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেক তরুণই এখন মামুন হোসেনের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন।

মামুন হোসেন বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করতে পারলে সফল হওয়া সম্ভব। আমি চাই, আমাদের এলাকার তরুণরা এগিয়ে আসুক এবং নিজেরা কিছু করার চেষ্টা করুক।

বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, মামুন ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী। সে চাকরির পেছনে না ছুটে নিজে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছিল। আমরা পরিবার হিসেবে তার পাশে ছিলাম। আল্লাহর রহমতে আজ সে সফল হয়েছে। আমি চাই, আরও তরুণরা এমন উদ্যোগ নিক-তাহলে বেকারত্ব অনেকটাই কমে যাবে।

উল্লেখ্য, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু করেন মামুন হোসেন। ধীরে ধীরে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ছোট সেই খামারটি আজ ২৬টি গরুর একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে বিক্রয়যোগ্য ৮টি ষাঁড় ও ৭টি দুধেল গাভী রয়েছে। প্রতিবছরই খামার থেকে ৪-৬ টি গরু বিক্রি হয়। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই খামারে উৎপাদিত খাঁটি দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

বাবুগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, মামুন হোসেনের খামার আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকি। তার খামারে গরুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবারে লালন-পালন করা হয়, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *