Blog

  • সে’ফটি পিনের পিছনে যে ছি’দ্র থাকে, তার কাজ কী? জেনে নিন

    সে’ফটি পিনের পিছনে যে ছি’দ্র থাকে, তার কাজ কী? জেনে নিন

    দৈনন্দিন জীবনের অগণিত ছোটখাটো বিপদে যে জিনিসটি খুবই প্রয়োজন, তার নাম সেফটি পিন। শাড়ির আঁচল সামলানো থেকে শুরু করে সালোয়ার-কামিজের ওড়না, ছেঁড়া বোতাম, খুলে যাওয়া ব্যাগের চেন কিংবা জুতোর আলগা স্ট্র্যাপ— সব সমস্যারই যেন একমাত্র ভরসা এই ক্ষুদ্র ধাতব বস্তুটি। তাই মা-বোনদের আঁচলে, শাড়ির খুঁটে কিংবা ব্লাউজের কোণে ঝুলতে দেখা যায় সেফটি পিন। কারণ, বিপদে পড়লে যাতে হাতের কাছেই তাকে পাওয়া যায়। খেয়াল করে দেখবেন, এই সেফটি পিনের একেবারে শেষপ্রান্তে ছোট লুপের মতো একটি ছিদ্র থাকে। কেন থাকে? কী তার কাজ, জানেন?

    এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে একটু ইতিহাস ঘাঁটতে হবে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নিজের ঘরে বসে একটি মাত্র তার দিয়ে আজকের সেফটি পিনের মতো একটি যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন ওয়াল্টার হান্ট। তার দেখানো কৌশল মেনে আজও সেফটি পিন তৈরি হয়। ওয়াল্টার একটি ধাতব তারকে বেঁকিয়ে, কুণ্ডলীকৃত করে পিনের আকার দিয়েছিলেন। এই কৌশলে বস্তুটির উপরের দিকে একটি ছোট্ট ক্লিপ তৈরি হয়। কিন্তু ক্লিপের মাথায় তারটিকে না কেটে গোল করে পাকিয়ে দেওয়া হয়। এই ভাঁজ থেকেই তৈরি হয় সেই ছোট্ট ছিদ্রটি। আসলে তারটিকে কেটে দিলে, মুখটা ধারালো হয়ে থেকে যেত। তাতে অসাবধানে হাতে খোঁচা লেগে যেতে পারত। পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও ছিল।

    তবে ব্যবহারিক দিক দিয়েও সেফটি পিনের পিছনে থাকা ছিদ্রটির ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে কিছু আটকানোর সময় সেই চাপ আসলে ক্লিপের উপরে গিয়েই পড়ে। গোল ছিদ্রটিই সেই চাপকে ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। তার ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়লেও পিনটি বেঁকে যায় না। ওয়াল্টার ঠিক এই ভাবেই সেফটি পিন তৈরি করেছিলেন। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও এই যন্ত্রটির নকশা পরিবর্তন করার কখনও প্রয়োজন পড়েনি। 

    উদ্ভাবনী বিশেষজ্ঞদের মত, এই ধরনের অপরিহার্য জিনিসের ক্ষেত্রে, খুব প্রয়োজন না পড়লে নকশা পরিবর্তন করা উচিত নয়। আর সেফটি পিনের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে, এখন এটির নকশা পরবির্তন করলে তার ব্যবহার কমে যেতে যেতে পারে। তাই এই নকশায় রেখে দেওয়া হয়েছে গত দেড় শতাব্দী ধরে।

  • হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অ’ন্ধকার-মা’থা ঘোরা, জেনে নিন কেন হয় এই স’মস্যা

    হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে চোখে অ’ন্ধকার-মা’থা ঘোরা, জেনে নিন কেন হয় এই স’মস্যা

    হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে? এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনও জটিল কারণ। 

    ধরে নিন আপনি বসে রয়েছেন (Sitting), বা শুয়ে (Lie down) রয়েছেন। সেই অবস্থা থেকে আচমকা উঠে দাঁড়ালে (Standing Up) চোখে অন্ধকার (Black Out) নেমে আসে? হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরে (Dizziness)? এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বড় কোনও জটিল কারণ। হতে পারে কোনও শারীরিক সমস্যা। এই সমস্যায় আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। তখন চারিদিক অন্ধকার দেখি। তবে এটি মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্যই স্থায়ী হয়। তাই খুব এখটা মাথা ঘামাই না এই ছোট্ট বিষয়টি নিয়ে। 

    কিন্তু কেন হয় এরকম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটিকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এর ফলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হতে পারে। 

    ১. অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন

    এটিকে পোস্টুরাল হাইপোটেনশনও বলা হয়, এটি হল হেড রাশ যা আপনি কখনও কখনও দাঁড়ানোর সময় অনুভব করেন। এটি যে কারোর সাথে ঘটতে পারে। আপনি যদি নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করেন, তার দীর্ঘদিনের প্রভাবে এরকম হতে পারে। অথবা আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি প্রায়শই ঘটতে পারে।  

    ২. হার্ট অ্যারিথমিয়া

    এই অবস্থা (একটি অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন হিসাবেও পরিচিত) হল যখন আপনার হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, খুব ধীর বা এমনভাবে হয় যা আপনার মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ হ্রাস করে। এগুলোর যে কোনোটিই আপনাকে অজ্ঞান করে দিতে পারে।  

    ৩. ওষুধ

    কোনও ব্যথা, হার্টের অবস্থা এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য নির্ধারিত ওষুধগুলি আপনার সংবহনতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ওষুধগুলির জন্য অনেক সময় মাথা ঘোরাতে পারে। যদি এই সমস্যা বেশি হয়, আপনার ডোজ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

     ৪. ডিহাইড্রেশন 

    পর্যাপ্ত তরল পান না করলে বমি বমি ভাব, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, নিম্ন রক্তচাপ এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আচমকা উঠে বসলে বা দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।  

    ৫. অ্যানিমিয়া বা শরীরে রক্তশূন্যতা

    রক্তশূন্যতা হল আপনার রক্তে স্বাস্থ্যকর লাল রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিনের অভাব, যা আপনার মস্তিষ্ক সহ আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন বহন করে। রক্তাল্পতার বৈশিষ্ট্য হল ক্লান্তি, তবে এটি আপনাকে অজ্ঞান এবং মাথা ঘোরা অনুভব করতে পারে।

    ৬. স্ট্রেস এবং প্যানিক আক্রমণ

    আগে কখনও একটি স্ট্রেস বা উদ্বেগ অ্যাটাক হয়েছিল? যদি সেই ইতিহাস থাকে, তবে এই ধরণের মাথা ঘোরা বা চোখে অন্ধকার দেখার ঘটনা প্রায়ই ঘটতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে সামান্য মাথাব্যথাতেও ভুগতে পারেন আপনি। 

    ৭) বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাদের মধ্যে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর পর মাথা ঘোরা সমস্যা আছে ভবিষ্যতে তাদের ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) হতে পারে

    ৮) এই জাতীয় সমস্যার সঙ্গে নার্ভ বা স্নায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। যারা স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন বেশিরভাগ তাদেরই শোয়া অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘুরে যায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তারা চোখে অন্ধকার দেখেন। তবে এটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়।

    ৯) রক্তচাপ কম থাকলে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোর সময় মাথায় সঠিক পরিমাণে রক্ত পৌঁছায় না যে কারণে মাথা ঘোরার সমস্যাটি হতে পারে। চিকিৎসকদের দাবি ব্লাড প্রেসারের কারণে এই ঘটনাটি ঘটতে পারে আপনার সঙ্গে। আপনার এই সমস্যা থাকলে নিজের ব্লাড প্রেসার চেক করিয়ে নিন।

    কী করবেন

    বিছানা থেকে ওঠার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। দাঁড়ানোর আগে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিছানার প্রান্তে বসুন এবং আপনার শরীরকে সজাগ হতে সময় দিন। হাঁটতে শুরু করার আগে কয়েক সেকেন্ড বসে নিন। একইভাবে, সকালে বা দীর্ঘ সময়ের পরে শুয়ে থাকা, লাঞ্চ বা ডিনারের পরে উঠে দাঁড়ানোর সময়ে ও স্নান করার পরে সতর্ক থাকুন। 

  • তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, আবেদন করতে যা যা লাগবে

    তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ শেষে মিলবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, আবেদন করতে যা যা লাগবে

    নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, যোগ্য পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের ক্ষেত্রে তিন পর্যায়ের কঠোর পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। 

    রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই নতুন উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

    তিনি বলেন, প্রকৃত অভাবী মানুষ যেন এই সুবিধার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতেই এই মাল্টি-লেভেল স্ক্রিনিং বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত পরিবারে নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানো এবং তাদের পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সরকারের এই প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো হতদরিদ্র ও অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকার আওতায় আনা।
    কার্ড বিতরণের পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এতটাই স্বচ্ছ করা হবে, যাতে সেখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। এটি সরাসরি প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

    বিদ্যমান অনেক সামাজিক ভাতার তুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।

    মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এ কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংরক্ষণ

    জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে অনিয়ম, ভুয়া তালিকা ও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে।

    প্রথম ধাপে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।

    আবেদন করতে যা যা লাগবে

    যদিও পূর্ণাঙ্গ আবেদন প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবু আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের নিচের কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—

    ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

    ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

    ৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর

    কোথায় আবেদন করবেন?

    পাইলট কার্যক্রম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা দিতে একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

    প্রতি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে।

    সরকারের আশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

    এদিকে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা প্রদানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান সংক্রান্ত ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে আরও ১৪ জনকে সদস্য করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

    এ ছাড়া কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পরিকল্পনা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

  • সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুই পদে রদবদল

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ দুই পদে রদবদল

    সেনাবাহিনীর কয়েকটি শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে সেনাসদর থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান।

    এর আগে তিনি আর্টডকের জিওসি ছিলেন। 

    সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বর্তমান প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে রাষ্ট্রদূত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

    এদিকে নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। এর আগে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ছিলেন তিনি।

  • ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে, দেখে নিন

    ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন ? আবেদনে যা লাগবে, দেখে নিন

    দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে আসছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ কার্ডের পরিকল্পনা করেছে নতুন সরকার। 

    ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও লক্ষ্য

    এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহায়তার এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যা নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখবে।

    সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কার্ডের আওতায় সহায়তার পরিমাণ বেশি হবে।

    আবেদন প্রক্রিয়া ও তথ্য সংগ্রহ

    একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে প্রতিটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে সহায়তা বিতরণে অনিয়ম ও মধ্যস্থতা কমবে। প্রাথমিকভাবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

    পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।

    আবেদন করতে যা যা লাগবে

    যদিও আবেদন প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হয়নি, তবে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে নিচের কাগজগুলো সংগ্রহে রাখতে বলা হয়েছে—

    ১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

    ২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

    ৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর।

    আবেদন কোথায় করবেন

    পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এ ছাড়া ঘরে বসে দ্রুত আবেদনের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। প্রতি পরিবারে কেবল একটি কার্ড ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে মাসিক নগদ টাকা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাবে।

  • ফোন ন’ষ্টের বড় কারণ ফ্ল্যা’শলাইট, সর্বোচ্চ যত মিনিট জ্বা’লানো যাবে, জেনে নিন

    ফোন ন’ষ্টের বড় কারণ ফ্ল্যা’শলাইট, সর্বোচ্চ যত মিনিট জ্বা’লানো যাবে, জেনে নিন

    স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট বর্তমানে টর্চলাইট হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও এই ফ্ল্যাশলাইট ফটোগ্রাফির সহায়ক হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সময় এটি জ্বালিয়ে রাখলে ফোনের হার্ডওয়্যারের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।

    ১. ব্যবহারের নিরাপদ সময়সীমা
    সাধারণত একটি স্মার্টফোনের ফ্ল্যাশলাইট একটানা ৫ থেকে ১০ মিনিটের বেশি জ্বালিয়ে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় ব্যবহারের প্রয়োজন হলে প্রতি ৫ মিনিট অন্তর অন্তত ১-২ মিনিটের বিরতি দেওয়া উচিত যাতে উৎপন্ন তাপ প্রশমিত হতে পারে।

    ২. অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন (Overheating)
    ফোনের ফ্ল্যাশলাইট বা LED মডিউলটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্থানে অবস্থিত। দীর্ঘক্ষণ এটি জ্বললে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। যেহেতু ফোনে কোনো কুলিং ফ্যান নেই, তাই এই তাপ সরাসরি ফোনের মাদারবোর্ড এবং ক্যামেরা লেন্সের ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপে ক্যামেরার গ্লাস ঝাপসা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ৩. ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা হ্রাস
    ফ্ল্যাশলাইট ফোনের ব্যাটারি থেকে উচ্চমাত্রার ভোল্টেজ টেনে নেয়। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের ফলে ব্যাটারি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত তাপ অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদী সক্ষমতা (Battery Health) দ্রুত কমিয়ে দেয় এবং ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।

    ৪. LED মডিউলের আয়ুষ্কাল
    স্মার্টফোনের প্রতিটি LED-এর একটি নির্দিষ্ট ‘বার্নিং আওয়ার’ বা জ্বলার ক্ষমতা থাকে। দীর্ঘক্ষণ একটানা জ্বালিয়ে রাখলে LED মডিউলটি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে পরবর্তীতে ফ্ল্যাশলাইটের উজ্জ্বলতা কমে যায় কিংবা স্থায়ীভাবে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

    ৫. কখন দ্রুত বন্ধ করা আবশ্যক
    ফোনের পেছনের অংশ বা ক্যামেরার চারপাশ অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হলে।
    ফোনের চার্জ ২০ শতাংশের নিচে নেমে আসলে।
    উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে (যেমন রোদে বা গরম ঘরে) অবস্থান করলে।

  • কোটের হাতাতে এই অতিরিক্ত বোতাম কেন থাকে, আসল র’হস্য জেনে নিন

    কোটের হাতাতে এই অতিরিক্ত বোতাম কেন থাকে, আসল র’হস্য জেনে নিন

    জিনসের প্যান্টে ছোট্ট সেই পকেটটার কথা নিশ্চয়ই জানেন। আকারে এতটাই ছোট যে ব্যবহারহীন মনে হতে পারে। কিন্তু ঊনবিংশ শতকে এই পকেট রাখা হয়েছিল বিশেষ একটি কারণে—সেটি ছিল পকেট ঘড়ি রাখার জন্য। কৃষক আর শ্রমিকরা তখন জিনস বেশি পরতেন। মাঠে বা কাজে তারা কোট ব্যবহার করতে পারতেন না। তাই জিনসেই বানানো হয়েছিল ঘড়ি রাখার জায়গা।

    তেমনি কোট বা স্যুট জ্যাকেটের নকশাতেও লুকিয়ে আছে এক ইতিহাস। কোটের হাতাতে যে বাড়তি বোতামগুলো দেখা যায়, সেগুলো অনেকের কাছেই কেবল সাজসজ্জা মনে হতে পারে। তবে এর পেছনেও রয়েছে কার্যকারিতা।

    এই বোতামগুলোকে বলা হয় ‘সার্জনস কাফ’। ইতিহাস বলছে, চিকিৎসকরা যখন আধুনিক মেডিকেল পোশাক ব্যবহার করতেন না, তখন তারা স্যুট পরেই রোগী দেখতেন। ফলে হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন হতো আস্তিন গুটিয়ে নেওয়ার। কোটের আস্তিনে বোতাম থাকার ফলে তখন সেটি খোলা যেত, আর সহজেই হাত পরিষ্কার করা সম্ভব হতো।

    ধারণা করা হয়, ঊনবিংশ শতকে কোটের নকশায় এই বোতামের ব্যবহার শুরু হয়। তখন এগুলো কার্যকরভাবেই ব্যবহৃত হতো, ঠিক যেমন শার্টের আস্তিনের বোতাম খোলা যায়।

    তবে এখন সময় বদলেছে। আধুনিক স্যুট জ্যাকেটের আস্তিনে থাকা বোতামগুলো আর খোলা যায় না। সেগুলো কেবল নকশা ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে থেকে গেছে। অতীতের ব্যবহারিক প্রয়োজন আজ রয়ে গেছে ফ্যাশনের ছোঁয়ায়। তাই কোটের আস্তিনে থাকা বাড়তি বোতাম এখন আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেই পরিচিত।

    সূত্র : জিও নিউজ উর্দু

  • কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, করছেন কী?

    কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, করছেন কী?

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস– এ বিষয়ে অনেকেই জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, তিনি কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন যমুনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন।

    জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি এটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে এরইমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপরই গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যমুনা পরিদর্শন করেছে।

     

    অধ্যাপক ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং সাজাচ্ছেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

     

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

     

    ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

     

    তিনি আরও বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন, এছাড়াও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

     

    সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ওপর ভিত্তি করেই নতুন উদ্যোগগুলো নেয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

     

    বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি-এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

     

    যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন প্রতিদিন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়।

     

    সংশ্লিষ্ট আরও একজন বলেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায়, তাদের যেন সুযোগ দেয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

     

    আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

     

    সব কিছু শেষে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকছেন এবং বিকেলে ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

     

    জানা গেছে এরইমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি তার সরকারের মেয়াদকালেই পাসপোর্টটি ছেড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

     

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে এরইমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

     

    স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। বাকিরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

     

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দেশ শাসনের পরে ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ইউনূস।

     

    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন।

  • ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    ইফতারে কাঁচা না সেদ্ধ ছোলা কোনটিতে বেশি পুষ্টি জানালেন পু’ষ্টিবিদ

    রমজান এলেই ইফতারের টেবিলে ছোলার উপস্থিতি প্রায় অবধারিত। সারাদিন রোজা রাখার পর পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অনেকেই ভরসা রাখেন এই সহজলভ্য ডালজাতীয় খাদ্যের ওপর। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ভিজিয়ে কাঁচা ছোলা খাওয়া ভালো, নাকি সেদ্ধ করে? কোনটিতে পুষ্টিগুণ বেশি?

    পুষ্টিবিদরা বলছেন, দুইভাবেই ছোলা খাওয়া উপকারী, তবে শরীরের অবস্থা ও হজমক্ষমতার কথা ভেবে পদ্ধতি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্প্রতি ইমিউনস সাইন্সের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এ তথ্য।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোলা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ডালজাতীয় খাদ্য। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। এসব উপাদান শরীরের শক্তি জোগায়, পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে।

    বিশেষ করে ছোলার উচ্চ ফাইবার উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পুষ্টিবিদদের মতে, ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে এবং হঠাৎ শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। এ কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ছোলা একটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

    এ ছাড়া ছোলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোলা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁচা (ভিজানো) ছোলা কীভাবে খাবেন

    পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁচা ছোলা সরাসরি খাওয়া ঠিক নয়। এতে হজমের সমস্যা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ছোলা খাওয়ার আগে তা অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা, অথবা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করাও সহজ হয়।

    ভিজিয়ে রাখা ছোলা নরম হলে চাইলে এর খোসা ছাড়ানো যায়। এরপর এতে লবণ, কাঁচা মরিচ, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে সহজেই একটি পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এভাবে খেলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি শরীরও পায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

    আপনি কী জানেন কাঁচা ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিনের মাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

    তবে সবার ক্ষেত্রে ভিজানো ছোলা সমানভাবে সহনীয় নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এটি খেলে পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরিমাণ বুঝে খাওয়াই ভালো।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক সেদ্ধ ছোলা কীভাবে খাবেন-

    ছোলা খাওয়ার আরেকটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নেওয়া। এতে ছোলা নরম হয় এবং হজম করতেও সুবিধা হয়। সেদ্ধ করার সময় অল্প লবণ ও সামান্য হলুদ ব্যবহার করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি হজমেও সহায়ক হয়।

    সেদ্ধ ছোলা দিয়ে সহজেই পুষ্টিকর সালাদ তৈরি করা যায়। এতে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে নিলে স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। এভাবে খেলে এটি ইফতারের টেবিলে স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক একটি পদ হয়ে উঠতে পারে।

    আপনি কী জানেন সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    সেদ্ধ ছোলা হজমের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। ভিজিয়ে সিদ্ধ করার ফলে ছোলার দানাগুলো নরম হয়ে যায়, যা পেটের জন্য সহজপাচ্য হয়। এতে গ্যাস্ট্রিক বা পেট ফাঁপার ঝুঁকিও কম থাকে।

    বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে বা কাঁচা ভিজানো ছোলা খেলে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য সেদ্ধ ছোলা নিরাপদ ও উপযোগী একটি বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সেদ্ধ ছোলা খেলে পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার হজমের সমস্যার আশঙ্কাও কম থাকে।

    সবশেষে পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভিজানো ও সেদ্ধ—দুভাবেই ছোলা খাওয়া যায় এবং দুটিই পুষ্টিকর। যারা বেশি শক্তি ও ফাইবার পেতে চান, তাদের জন্য ভিজানো ছোলা ভালো বিকল্প। আর যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা সেদ্ধ ছোলা বেছে নিতে পারেন। তবে যেভাবেই খাওয়া হোক, অতিরিক্ত লবণ বা মশলা এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ছোলা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় সুখবর

    পবিত্র রমজানের ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা বা বোনাস পেতে পারেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। এই ভাতা শতভাগ করা হবে।

    তবে কবে নাগাদ উৎসব ভাতা শতভাগ করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি শিক্ষামন্ত্রী।

    সূত্রটি বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব তাড়াতাড়ি শতভাগ বোনাস পাবেন শিক্ষকরা। এটা রমজানের ঈদ থেকেও হতে পারে।

    জানা গেছে, নীতিমালায় শতভাগ উল্লেখ করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগতে পারে।

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০০৪ অনুযায়ী, শিক্ষকরা এক মাসের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ বোনাস পান। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বোনাস পান ৫০ শতাংশ।

    বিগত ১৭ বছর ধরে এই বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করছেন শিক্ষকরা।

    ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১’ জারির পর শতভাগ বোনাস পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শতভাগ উৎসব ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালার ‘শিক্ষক ও কর্মচারীদের (স্কুল ও কলেজ) বেতন-ভাতা নির্ধারণ’ অনুচ্ছেদের ১১.৭-এর ‘ঙ’ অংশে বলা হয়েছে, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন/বোনাসের নির্ধারিত অংশ/উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ/বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫/সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।’