প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে যে বার্তা দিলেন তার অর্থ উপদেষ্টা
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটির সুপারিশের ওপর প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, সরকার গঠিত সচিব কমিটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামোর সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ চালিয়ে যাবে।
Banner
রোববার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সচিব কমিটি পর্যালোচনা শেষে প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ড. তিতুমীর সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো যে প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা, সেভাবেই সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, পে-স্কেলের মূল কাজ সচিব কমিটি করবে। সাধারণত পে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সচিব কমিটি কাজ করে। পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ায় সচিব কমিটি কাজ শুরু করবে এবং সুপারিশ দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তা বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি প্রক্রিয়া থাকে। জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটি ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
নতুন বেতনের সুপারিশে কী আছে
অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করেছিল। গত ২২ জানুয়ারি এই কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে।
সুপারিশ করা বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন ধাপে বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় জানান কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান।

Leave a Reply