বাবা-মায়ের বর্ণনায় একমাত্র সন্তানের পদ্মায় ত’লিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য

পদ্মাপাড়ে প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় স্বজনদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের আহাজারিতে ঘাট এলাকায় হৃদয় বিদারক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে বাসডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া দেলোয়ার হোসেন ও নুরনাহার তাদের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। বলছিলেন সেদিন কি ঘটেছিল।

বাসের পেছনের দ্বিতীয় সারিতে জানালার পাশে বসে ছিলেন নুরনাহার। পাশে বসা স্বামী দেলোয়ার হোসেনের কোলে ছিল তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইসরাফিল হোসেন। বাস ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে পড়ে গেলে পেছনের যাত্রীরা ধাক্কা লেগে সামনের দিকে চলে যান। কয়েক সেকেন্ড পর বাস তলিয়ে যেতে থাকে। মুহূর্তেই বাবার হাত থেকে ছিটকে তলিয়ে যায় ইসরাফিল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আহাজারি করতে করতে এভাবেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর কথা বলছিলেন নুরনাহার।

নুরনাহারের বাবার বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। স্বামী দেলোয়ার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। ঈদের ছুটি শেষে পাংশা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁরা ঢাকায় ফিরছিলেন।একমাত্র ছেলেসন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় নুরনাহার। বাসডুবির কিছুক্ষণ পর তিনি ভেসে ওঠেন। কীভাবে বের হয়েছেন জানেন না। ওই সময়ের বর্ণনা দিয়ে নুরনাহার বলেন, ‘বাস তলিয়ে যাওয়ার সময় সবাই বাসের ভেতর ঘুরতে থাকে। কখন কীভাবে বের হয়েছি কিছুই মনে নাই। শুধু কানে চিৎকার শুনতে পেয়েছি। ভেসে ওঠার পর কয়েকজন আমাকে একটা দড়ির সাহায্যে টেনে তোলে। উঠে নৌকার ওপর স্বামীকে দেখতে পাই। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাইনি।’

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছেলে আমার হাত ধরে ছিল। বাসে পানি ঢুকে গেলে সবাই ঘুরতে ঘুরতে তলিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে ছেলে হাত থেকে ছিটকে যায়। ছেলে চিৎকার দিয়ে ডাকে। এরপর কিছু মনে নাই। আমি কীভাবে ভেসে উঠছি তা আল্লাহ জানেন। উঠে দেখি পাশে ছোট নৌকা। অন্য লোকজন তাতে টেনে তোলে।’

উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে বাসটি ওপরে তোলা হয়। ঢাকা অভিমুখে যাওয়া ওই বাসটিতে ৪০ থেকে ৫৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *