ঈদে নতুন জামা পরা হলো না মরিয়মের, চুলা থেকে নি’থর দে’হ উদ্ধার

আর মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। একমাত্র কন্যা শিশুর জন্য কয়েক জোড়া ঈদের নতুন জামা-কাপড় কিনে রেখেছিল তার বাবা-মা। কিন্তু ঈদের সেই নতুন জামা-কাপড় পরার আগেই লাশ হল শিশু মরিয়ম আক্তার (৪)।


বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা। ঈদের আগে এমন ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু মরিয়ম। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একইদিন ইফতারের আগে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলা থেকে মরিয়মের নিথর দেহ উদ্ধার করে স্বজনরা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দোষীদের দ্রুত  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মরিয়মের মামা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাগনীর জন্য ঈদের নতুন জামাকাপড় কিনে ছিলেন তার বাবা-মা। আমিও আজ নতুন জামা কিনতে মার্কেটে গিয়েছিলাম। এমন সময় খবর আসে মরিয়মকে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মরিয়মের গলায় একটি রূপার চেইন ছিল। সেই চেইন ছিনতাই করে নেয়ার সময় চিৎকার শুরু করে মরিয়ম। ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন করতে মরদেহ চুলার ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। আমরা নিষ্পাপ শিশু হত্যার বিচার চাই।’

এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহজনক ওই এলাকার ইয়াছিন মিয়াকে (১৬) আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইয়াছিনের বাবা সাদ্দাম মিয়াকেও (৩৮) হেফাজতে নেয়।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশু মরিয়মের নিথরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির গলায় থাকা রূপার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা থেকে এমন কাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ইয়াছিন মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বাবাকেও পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *