যারা ভু’লেও পেঁ’পে খা’বেন না, জেনে নিন

পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল হিসেবে পেঁপের বেশ সুনাম রয়েছে। ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ থাকায় নিয়মিত ফলের তালিকায় পেঁপে রাখতে পারেন অনেকেই। বিশেষ করে পাকা পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে।

তবে পেঁপে সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের মতো উপাদানের কারণে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

অবশ্য পেঁপে খেলেই এসব মানুষের সমস্যা হবে—এমনটা নয়। বরং বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থায় বেশি পরিমাণে কিংবা কাঁচা পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

যাদের সতর্ক থাকা ভালো

১. যাদের পেঁপেতে অ্যালার্জি আছে

পেঁপেতে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাওয়ার পর চুলকানি, ফুসকুড়ি, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২. যাদের ল্যাটেক্স অ্যালার্জি রয়েছে

কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্সজাত উপাদান থাকে। যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে খাওয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

৩. যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান

কিছু ক্ষেত্রে পেঁপে বা পেঁপের নির্দিষ্ট উপাদান ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করলে বেশি পরিমাণে পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৪. গর্ভাবস্থায় যারা কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে খেতে চান

কাঁচা ও আধাপাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্সের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। গর্ভাবস্থায় এ ধরনের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। পাকা পেঁপে নিয়ে একই সতর্কতা প্রযোজ্য—এমনটি সরাসরি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

৫. যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে

পেঁপেতে থাকা খাদ্যআঁশ ও প্যাপেইন হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিছু মানুষের পেটের অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি।

৬. যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে

মূল প্রতিবেদনে হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড কম সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রে পেঁপে নিয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পেঁপের কিছু উপাদান থাইরয়েডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে প্রমাণ সীমিত এবং পাকা পেঁপে সাধারণ খাবারের পরিমাণে খেলে থাইরয়েডের রোগীদের সমস্যা হবেই, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে পেঁপে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজে থেকে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

বিশেষ করে লেভোথাইরক্সিনসহ থাইরয়েডের ওষুধ নিয়মিত খেলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত। ওয়েব মেডও বেশি পরিমাণে পেঁপে লেভোথাইরক্সিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পেঁপে কি সবার জন্য ক্ষতিকর?

একেবারেই নয়। সুস্থ মানুষের জন্য পাকা পেঁপে সাধারণ খাদ্য হিসেবে খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। মূল প্রতিবেদনে পেঁপের পুষ্টিগুণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমস্যা মূলত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থায় অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে। তাই পেঁপেকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার কোনো নির্দিষ্ট রোগ থাকলে নিজের মতো করে বেশি পরিমাণে খাওয়াও ঠিক নয়।

পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য মনে রাখুন

পেঁপে নিয়ে সতর্কতার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এটি পাকা নাকি কাঁচা। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে পাকা পেঁপে সাধারণত ফল হিসেবে খাওয়া হয়। তাই কাঁচা পেঁপে নিয়ে সতর্কতার তথ্যকে সরাসরি পাকা পেঁপের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।

পেঁপে খাওয়ার পর অ্যালার্জি হলে কী করবেন?

পেঁপে খাওয়ার পর মুখ বা গলায় চুলকানি, ত্বকে র‍্যাশ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। ল্যাটেক্স অ্যালার্জির গুরুতর প্রতিক্রিয়ায় অ্যানাফাইল্যাক্সিস হতে পারে।

পেঁপে পুষ্টিকর ফল হলেও সবার শরীরের জন্য একইভাবে উপযুক্ত নাও হতে পারে। গর্ভবতী নারী, ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তি, কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারকারীদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

তবে শুধু কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা আছে বলেই পেঁপে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য, খাওয়ার পরিমাণ এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *