আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে। কিছু রোগ নিরাময় করা যায় আর কিছুক্ষেত্রে সমাধান থাকে না। আর সে কারণে রোগের লক্ষণের দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হয়। এমনকি যে ক্যানসার নিয়ে মানুষ ভয় পায় ধরেই নেই এই রোগে মৃত্যু সেটাও কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হয়।
বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ক্যানসারে প্রায় ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। স্তন, ফুসফুস, কোলন-রেকটাম ও প্রোস্টেট ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর এই ক্যানসারে আক্রান্ত হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায় বিশেষ করে সকয়ালের দিকে।
যে লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ
ক্রিয়েটিন কি শুধু বডিবিল্ডারদের জন্য? ফাংশনাল নিউট্রিশনে এর গুরুত্ব জানালেন পুষ্টিবিদ
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, সকালে এমন কিছু লক্ষণ দেখা দেয় যেটা দেখলে সাবধান হতে হবে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে সকালে ঘুম ভাঙার পর হালকা কাশি। বেশিরবাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকে এটাকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন সকালে কাশি হয় তাহলে সেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয় বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সকালের কাশি কখনও কখনও গুরুতর কোনো রোগের, এমনকি ক্যানসারেরও সতর্কসংকেত হতে পারে।
কাশি নানা ধরনের রোগের সাধারণ উপসর্গ। সাধারণ ক্লান্তি বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার পাশাপাশি গুরুতর রোগেও কাশি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ধূমপায়ীদের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কাশি বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ আব্বাস কানানি জানিয়েছেন, সকালে কাশি হওয়া ধূমপায়ীদের মধ্যে সাধারণ হলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি চলতে থাকলে তা পরীক্ষা করানো উচিত। বিশেষ করে কেউ যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু কাশি নয়, ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘদিন ধরে গলা ব্যথা বা গলা বসে থাকার মতো সমস্যাও যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং উন্নতির লক্ষণ না থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি সময়ের আগে রোগ
ক্যানসার কেন হয়?
মানবদেহের স্বাভাবিক কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে টিউমার কোষে পরিণত হয়, তখন ক্যানসারের সৃষ্টি হতে পারে। এটি ধীরে ধীরে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রি-ক্যানসারাস অবস্থা থেকে ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে পরিণত হতে পারে।
তামাক ব্যবহার, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং বায়ুদূষণ ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। কিছু দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণও পরবর্তী সময়ে ক্যানসারের কারণ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংথা তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী শনাক্ত হওয়া ক্যানসারের প্রায় ১৩ শতাংশের সঙ্গে ক্যানসার-সৃষ্টিকারী সংক্রমণের সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি, এইচপিভি, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস এবং এপস্টাইন-বার ভাইরাস উল্লেখযোগ্য।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে
জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুষম খাবার খাওয়া, তামাক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির অতিরিক্ত সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে সকালের কাশি মানেই ক্যানসার এমন নয়। ঠান্ডা, অ্যালার্জি, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাতেও কাশি হতে পারে। কিন্তু কোনো কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে ধূমপানের অভ্যাস থাকলে, কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ভালো।

Leave a Reply