চি’য়া সি’ড খা’ওয়ার আগে জেনে নেবেন যেসব ত’থ্য, না হয় বি’পদ!

আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে বেশ সমৃদ্ধ চিয়া সিড। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই বীজ। এতে রয়েছে ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তবে চিয়া সিডকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা ‘ম্যাজিক’ খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়াই উপকারী।

চিয়া সিড মূলত Salvia hispanica নামের উদ্ভিদের বীজ। বাজারে কালো ও সাদা দুই ধরনের চিয়া সিড পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এ দুটির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ টেবিল চামচ বা ২৮ গ্রাম চিয়া সিডে থাকে প্রায় ১৪০ ক্যালরি, ৪ গ্রাম প্রোটিন, ১১ গ্রাম ফাইবার এবং ৭ গ্রাম অসম্পৃক্ত চর্বি। একই পরিমাণ চিয়া সিড থেকে দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৮ শতাংশ ক্যালসিয়াম পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এটি উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডেরও ভালো উৎস।

হজমে সহায়ক হতে পারে

চিয়া সিডে থাকা ফাইবার হজমের জন্য উপকারী। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিডের চারপাশে জেলির মতো আবরণ তৈরি হয়। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। ফাইবার মলকে নরম ও ভারী করতেও সহায়তা করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী

চিয়া সিডে থাকা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড বা এএলএ এক ধরনের উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ওমেগা-৩ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে শুধু চিয়া সিড খেলেই হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব এমন দাবি করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক জীবনযাপনই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন কমাতে কি চিয়া সিড কার্যকর

ওজন কমানোর খাবার হিসেবে চিয়া সিডের প্রচার থাকলেও এটিকে ‘ম্যাজিক ফুড’ বলা ঠিক নয়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। তবে মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণায় শুধু চিয়া সিড খাওয়ার কারণে নির্দিষ্টভাবে ওজন কমার শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাবার ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি চিয়া সিড খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

কীভাবে খাবেন চিয়া সিড

দই, ওটস, সালাদ বা স্মুদির সঙ্গে চিয়া সিড মিশিয়ে খাওয়া যায়। আবার পানি বা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও এটি নরম হয়ে জেলির মতো হয়ে যায়। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যেতে পারে।

তবে শুকনো চিয়া সিড একসঙ্গে খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করা ঠিক নয়। কারণ চিয়া সিড তরল শোষণ করে দ্রুত ফুলে যেতে পারে। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, শুকনো চিয়া সিড গিলে খাওয়ার পর খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার একটি বিরল ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তাই চিয়া সিড ভিজিয়ে অথবা পর্যাপ্ত তরলযুক্ত খাবারের সঙ্গে খাওয়াই নিরাপদ।

চিয়া সিড নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা কিংবা অলৌকিক স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। চিয়া সিডের পাশাপাশি শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

বিশেষ কোনো শারীরিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে চিয়া সিড খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *