স’কালে ২–৩টি তু’লসীপা’তা চি’বিয়ে খে’লে যেসব উ’পকার পাবেন

সকালের শুরুটা কী দিয়ে হচ্ছে, তার সঙ্গে দিনের বাকি অভ্যাসেরও কিছুটা সম্পর্ক থাকে। স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে এখন অনেক পুরোনো ঘরোয়া অভ্যাস আবার জনপ্রিয় হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সকালে খালি পেটে কয়েকটি তুলসীপাতা চিবিয়ে খাওয়া। বাড়ির টবে সহজেই বেড়ে ওঠা এই গাছটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যবহারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যচর্চাতেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তুলসীপাতায় রয়েছে নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ

তুলসীর পাতায় ইউজেনল, রোজম্যারিনিক অ্যাসিড ও উরসোলিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এ ছাড়া তুলসীপাতায় ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন এসেনশিয়াল অয়েলও রয়েছে। তবে তুলসীর স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে অনেক গবেষণাই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আবার বেশ কিছু গবেষণায় সরাসরি পাতা নয়, তুলসীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তাই কয়েকটি তুলসীপাতা খেলেই কোনো নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে

তুলসীকে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ শরীরকে মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। কিছু গবেষণায় তুলসীর নির্যাস গ্রহণের সঙ্গে মানসিক চাপ কমা এবং ঘুমের মান উন্নত হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে শুধু কয়েকটি তাজা পাতা খেলে একই ধরনের উপকার পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সর্দি-কাশিতে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে

সর্দি, কাশি বা গলায় অস্বস্তি হলে তুলসী দিয়ে গরম পানীয় খাওয়ার প্রচলন বহু পুরোনো। তুলসীর কিছু উপাদানের প্রদাহনাশক ও জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে সামান্য গলা বা শ্বাসনালির অস্বস্তিতে এটি কিছুটা আরাম দিতে পারে। তবে জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে শুধু তুলসীর ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হজমে সহায়ক হতে পারে

খাবারের পর তুলসী দিয়ে তৈরি গরম পানীয় খাওয়ার প্রচলনও অনেক পুরোনো। তুলসী হজমে সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা রয়েছে এবং এ নিয়ে গবেষণাও চলছে। তবে অ্যাসিডিটি, গ্যাস, বদহজম বা অন্য কোনো হজমের সমস্যা সারানোর চিকিৎসা হিসেবে তুলসীকে ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসার পাশাপাশি এটি সহায়ক হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

তুলসীর পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শরীরের বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তুলসীর উদ্ভিজ্জ যৌগগুলো শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হয়।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

তুলসী নিয়ে করা কিছু গবেষণায় রক্তে শর্করা, এলডিএল কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও প্রদাহের মতো বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব গবেষণার অনেকগুলোতেই তুলসীর নির্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। তাই ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প হিসেবে তুলসীপাতা ব্যবহার করা উচিত নয়।

মুখের স্বাস্থ্যে ব্যবহার

তুলসীর কিছু উপাদানের জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ কারণে মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় ঐতিহ্যগতভাবে তুলসীর ব্যবহার দেখা যায়। মুখের কিছু জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে শুধু তুলসীপাতা চিবিয়ে খেলেই দাঁত ও মাড়ি সুস্থ থাকবে, এমনটা বলা যায় না। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

সকালে ২–৩টি তুলসীপাতা খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে এটিকে কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত ঘুম ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তুলসী খেলে তা একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।

সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *