থা’ইর’য়েডের স’মস্যা হলে যেসব খা’বার খা’বেন, যেগুলো এ’ড়িয়ে চলবেন

থাইরয়েড গলার সামনের দিকে থাকা প্রজাপতির মতো ছোট একটি গ্রন্থি। শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা রয়েছে। থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি হরমোন তৈরি করলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।

থাইরয়েডের সমস্যায় ওজনের পরিবর্তন, ক্লান্তি, ঠান্ডা বা গরম বেশি লাগা, বুক ধড়ফড়, ঘুমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু খাবারের মাধ্যমে থাইরয়েডের চিকিৎসা সম্ভব নয়। সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

যেসব খাবার রাখতে পারেন খাদ্যতালিকায়

আয়োডিনযুক্ত খাবার:
থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন প্রয়োজন। আয়োডিনযুক্ত লবণ, মাছ, সামুদ্রিক মাছ, ডিম ও দুধ আয়োডিনের ভালো উৎস। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়।

সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:
থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সেলেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। মাছ, ডিম, মাংস, দুধ ও দুধজাত খাবার থেকে এটি পাওয়া যায়।

জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার:
থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে জিঙ্কও প্রয়োজন। মাংস, ডিম, বাদাম ও কুমড়ার বীজ জিঙ্কের উৎস।

ফল ও সবজি:
বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি নিয়মিত খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। পেয়ারা, আমলকি, লেবু, কমলা ও কাঁচামরিচের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

এ ছাড়া পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবারসহ বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা ভালো।

কোন খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

থাইরয়েডের সমস্যা হলেই বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক বা সয়াবিন পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন নয়। এসব খাবার স্বাভাবিক পরিমাণে খাওয়া যায়। বিশেষ করে রান্না করা ক্রুসিফেরাস সবজি অধিকাংশ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করে না।

তবে হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ লেভোথাইরক্সিন গ্রহণের ক্ষেত্রে খাবারের সময়ের ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ওষুধটি খালি পেটে খেতে বলা হয় এবং ক্যালসিয়াম বা আয়রনযুক্ত খাবার/সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যবধান রাখতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

এ ছাড়া ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলা ভালো।

সবচেয়ে জরুরি বিষয়

থাইরয়েডের সমস্যা শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। হাইপোথাইরয়েডিজমে অনেকের নিয়মিত ওষুধ প্রয়োজন হয়, আর হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।

তাই থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী TSH, T4সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *