ফ্যা’টি লি’ভারের স’মস্যা স’মাধা’নে খা’দ্যতা’লিকায় রাখুন এই ৭টি ফল

বর্তমান সময়ে অনেকেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভোগেন। আর এই সমস্যায় খাদ্যতালিকার দিকে বাড়তি নজর দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে পর্যাপ্ত ফাইবার, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকার পাওয়া যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ও হেপাটোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে এমন সাতটি ফলের কথা জানিয়েছেন। তার মতে, এসব ফল ফাইবারসমৃদ্ধ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

১. আপেল

তালিকার প্রথমেই রয়েছে আপেল। ডা. শেঠির মতে, আপেলে রয়েছে পেকটিন, যা এক ধরনের দ্রবণীয় ফাইবার। এটি হজমের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে। আপেলের সঙ্গে বাদাম খেলে সেটা একটি ভালো নাশতা হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা থাকলে কিউই খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। ডা. শেঠি দিনে দুটি কিউই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিউইয়ের খোসাও খাওয়া যায়। তবে খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যাদের কিউইতে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

সবচেয়ে বেশি প্রোটিন কোন ডালে, জানুন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ

৩. রাস্পবেরি

ফাইবারসমৃদ্ধ ফল হিসেবে রাস্পবেরিও রয়েছে তালিকায়। এটি সাধারণ খাবারের সঙ্গে সহজেই যোগ করা যায়। ডা. শেঠির পরামর্শ, রাস্পবেরি সাধারণ গ্রিক দই বা ওটমিলের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। এতে বাড়তি চিনি ছাড়াই খাবারে প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও ফাইবার যোগ হবে।

৪. ব্লুবেরি

তালিকায় রয়েছে ব্লুবেরিও। তাজা ব্লুবেরি পাওয়া না গেলে হিমায়িত ব্লুবেরি ব্যবহার করা যেতে পারে। ডা. শেঠির মতে, হিমায়িত ব্লুবেরিও পুষ্টিগুণের দিক থেকে ভালো বিকল্প এবং অনেক সময় তুলনামূলক সাশ্রয়ী। দই, ওটমিল কিংবা স্মুদির সঙ্গে এটি যোগ করা যায়।

৫. ডালিম

ফ্যাটি লিভারের জন্য ডালিম দারুণ উপকারী। এর দানা সালাদের সঙ্গে যোগ করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ডালিমের দানা সালাদে স্বাদ ও বৈচিত্র্য যোগ করার পাশাপাশি দৈনিক ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

৬. নাশপাতি

ফাইবারের আরেকটি ভালো উৎস নাশপাতি। বিশেষ করে খোসাসহ খেলে এতে ফাইবারের পরিমাণ আরও বেশি পাওয়া যায়। তবে খাওয়ার আগে নাশপাতি ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

৭. অ্যাভোকাডো

অ্যাভোকাডো ফল হলেও অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এর বৈশিষ্ট্য কিছুটা আলাদা। এতে চিনি তুলনামূলক কম এবং স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট রয়েছে। ডা. শেঠি মাখন বা ক্রিম চিজের পরিবর্তে হোলগ্রেইন টোস্টের ওপর অ্যাভোকাডো ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে খাবারে ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ হতে পারে।

 ডা. সৌরভ শেঠি জানান, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট ফল বা খাবারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরের ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপেল, কিউই, রাস্পবেরি, ব্লুবেরি, নাশপাতি, অ্যাভোকাডো ও ডালিমকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে কারও ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা তৈরির আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়াই ভালো।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস  

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *