রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু রক্তের গ্রুপের মানুষের কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ‘এ’ রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় রক্তের গ্রুপ ও স্ট্রোকের মধ্যে যোগসূত্রের বিষয়টি উঠে আসে। গবেষণায় ছয় লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ ইস্কিমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত ছিলেন।
গবেষণায় দেখা যায়, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের মানুষের ৬০ বছরের আগেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ‘ও’ গ্রুপের মানুষের তুলনায় বেশি। গবেষকদের মতে, ‘এ’ গ্রুপের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি হতে পারে। অন্যদিকে ‘ও’ গ্রুপকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পাওয়া গেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ‘এ’ গ্রুপের রক্তধারী প্রত্যেক ব্যক্তির স্ট্রোক হবে। বরং রক্তের গ্রুপকে স্ট্রোকের সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো প্রচলিত ঝুঁকিগুলো স্ট্রোকের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কেন হয় স্ট্রোক?
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ইস্কিমিক স্ট্রোক হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
অন্যদিকে মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হলে তাকে হেমারেজিক স্ট্রোক বলা হয়। উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন কারণে এ ধরনের স্ট্রোক হতে পারে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
রক্তের গ্রুপ যাই হোক, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনে সচেতন থাকা জরুরি। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ওজন স্বাভাবিক রাখা, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের কারও স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
হঠাৎ মুখ বা জিহ্বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, এক হাত বা পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ দৃষ্টিতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। কয়েক মিনিটের জন্য এসব উপসর্গ দেখা দিয়ে পরে ঠিক হয়ে গেলেও তা ‘ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক’ বা TIA-এর লক্ষণ হতে পারে, যাকে অনেক সময় ‘মিনি স্ট্রোক’ বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার

Leave a Reply